Author: desk

  • আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে-মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল

    আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে-মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির ও আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল বলেন, “স্বৈরাচারি ও ফ্যাসীবাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে ময়দানে আপোষহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (১৩ জুন) বিকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১০ নং দাপুনিয়া ইউনিয়ন সাংগঠনিক থানার আয়োজনে ৭ নং ওয়ার্ড, আজমতপুর নয়াবাজারে ঈদুল আজহা পরবর্তী ঈদ পুণর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়নের গণসংযোগ করেন এবং ইউনিয়নের সুহিলা পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদে জুম্মা নামাজ আদায় শেষে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে নসিহা মূলক বক্তব্য রাখেন।

    সুন্দর, বৈষম্যহীন একটি সমাজ ও সদর গড়তে সকলের সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ মহানগরীর আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল বলেন আমাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, আমি আপনাদের সহায়তা নিয়ে একটি সুন্দর সদর গড়তে চাই। জামায়াত কখনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুলুম, নির্যাতন নিজে করে না, কখনো সমর্থন করেনা। সবসময় ন্যায় ও সত্যের পথে কাজ করে। তাই এই সত্য সমাজে, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে তিনি সকলের সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।

    দাপুনিয়া ইউনিয়ন সাংগঠনিক থানার ৭ নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি আব্দুর রওফ মাস্টারের
    সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি ওলিউল্লাহ মুজাহিদ, দাপুনিয়া সাংগঠনিক থানার আমীর দেলোয়ার হোসেনসহ উপজেলা,মহানগর ও দাপুনিয়া ইউনিয়ন সাংগঠনিক থানার নেতৃবৃন্দ।

    তিনি আরও বলেন এবার ইসলাম পন্থি যারা আছেন সকলে এক হয়েছে, দেশের মানুষ বিগত ৫৩ বছর অনেক দলের শাসন দেখেছে, কিন্তু কোন ইসলামি দলের শাসন দেখেনি, এবার সবাই চায় ইসলাম পন্থিদের কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে, তাই যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করে,কথা বলে তাদেরকে সর্বাত্মক সহায়তা করার জন্য আহবান জনিয়ে মওলানা এমরুল সকলকে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করেই কুরআনের আইন চালু করার প্রচেষ্টা চালানো এবং সে অনুযায়ী জীবনযাপন করার চেষ্টা করার আহবান জানান এবং আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে রাজপথে আপোষহীন থাকার পরামর্শ দেন।

    তিনি বলেন, “সরকারের অবৈধ ক্ষমতালিপ্সা দেশকে গভীর সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্বৈরাচারি ও ফ্যাসীবাদী শাসকগোষ্ঠী দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। অবলীলায় বিদেশে রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচার করা হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের মানুষ না খেয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন। তাই একটি আদর্শবাদী সংগঠনের জনশক্তি হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদেরকে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে। মূলত; জামায়াত মানুষকে জান্নাতের দিকে ডাকে। তাই জুলম-নির্যাতন চালিয়ে বা কোন ষড়যন্ত্র করে জামায়াতের অগ্রযাত্রা কোনভাবেই রোধ করা যাবে না। সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই দ্বীনের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি দ্বীন বিজয়ের লক্ষ্যে ময়দানে সকলকে আপোষহীন ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

    মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল বলেন, “জামায়াত ইসলামী এদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। তাই আমরা গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় এদেশে ইসলাম কায়েম করতে চাই। এক্ষেত্রে সহযোগী ভাই ও বোনদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সকলকে বাইয়াত গ্রহণের আহবান জানান।”

  • শাজাহানপুরে অর্থা-ভাবে থমকে আছে শিশু শাফায়াতের চিকিৎসা

    শাজাহানপুরে অর্থা-ভাবে থমকে আছে শিশু শাফায়াতের চিকিৎসা

    মিজানুর রহমান মিলন,
    শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :

    আমার-আপনার একটু সহযোগিতায় হয়ত বাঁচতে পারে ফুটফুটে শিশু শাফায়াত (৫)। সে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলাধীন মাঝিড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাজাপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মামুনুর রশীদ (৩৫) ও সারমিন আক্তার (২৬) দম্পতির একমাত্র ছেলে । অর্থাভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে মৃত্যু প্রহর গুনছে এ অসহায় শিশুটি।
    বেসরকারি একটি এনজিও তে চাকরি করতেন শিশুটির পিতা মামুনুর রশীদ , শাফায়াতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ছুটি না পাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে দিতে হয় তাকে।কষ্টার্জিত জমানো অর্থ দিয়ে চিকিৎসা করানোর পর শেষ পর্যন্ত একমাত্র ছেলের চিকিৎসার জন্য মটর সাইকেল, গরু, এবং স্ত্রীর গহনা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয় তাকে সে এখন অসহায়। শিশুটির বয়স যখন সাড়ে ৩ বছর তখন তার জ্বর হয়, তারপর মাথা ব্যাথা প্রথমে বগুড়া স্হানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয় সেখানে তার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। এ খবর মাথায় যেন বাজ পড়ল,বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে, তার ছেলের ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে । একটি মাএ ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রাজশাহী সহ ঢাকার আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি ।
    ফুটফুটে শিশুটি আজ জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে।

    শিশুটির চিকিৎসা বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যায় হয়েছে । শিশুটির চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন । যা অসহায় পরিবারটির পক্ষে যোগাড় করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। একমাত্র ছেলের জীবন বাঁচাতে এখন দিশেহারা পিতা মামুনুর রশীদ ।
    তাই তার ছেলের সু-চিকিৎসার জন্য দেশের সরকার সহ সমাজের বিত্তশালী, দানশীল, হৃদয়বানদের নিকট সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন । এবং সকলের দোয়া চেয়েছেন । যদি আমরা সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি,
    তাহলে অতি শীঘ্রই সে সু-চিকিৎসা পাবেন বলে আশাবাদী। সকলের সহযোগিতায় ফিরে পেতে পারে শিশুটি স্বাভাবিক জীবনের।
    সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- মোঃ মামুনুর রশীদ , বিকাশ নাম্বার-০১৭৩৭৭৭৮৫৮৮

  • তেঁতুলিয়ায় প্রতিষ্ঠানের অস্তি-ত্ব নেই তবুও অনুদানভুক্ত এরপর তথ্য প্রেরণ

    তেঁতুলিয়ায় প্রতিষ্ঠানের অস্তি-ত্ব নেই তবুও অনুদানভুক্ত এরপর তথ্য প্রেরণ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় নামমাত্র দুই স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার নেই কোনো অস্তিত্ব খুজেও পাওয়া যায়নি গোটা ইউনিয়নে অথচ ওই প্রতিষ্ঠানের এবতেদায়ী প্রধান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তিন বছরের বাস্তবতার তথ্য ছক তৈরি করে পাঠিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে। নামমাত্র ওই স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা দুটি হলেন, উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও ভজনপুর ইউনিয়নের নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা।

    সরেজমিনে খোঁজখবর নেওয়ার পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে গেলে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শওকত আলী বলেন, “স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা আমাদের এখানে এক্টিভিটিস সেভাবে দেখিনি কখনো সঠিকতা তবে কয়েকদিন আগে গত এক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভবত ঢাকা থেকে আসছিলেন বিভাগীয় দায়িত্বে এর মাঝে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ৪টা নাকি ৫টা, পাঁচটা মনে হয় আমার কাছে জানামতে এই পাঁচটার তথ্য ওরা ঠিকঠাক করে ঢাকা থেকে যারা অথরিটি আসছিলেন এসিস্টেন্ট ডাইরেক্টর আামার সাথে দেখাও করেনি মোবাইলে জাস্ট হ্যালো হইছে, আমাকে যাইতেও বলেনি তাঁরা প্রতিনিধি নিয়ে আসছে মাদ্রাসা চার পাঁচটা দেখে শুনে গেছে রিপোর্ট তো তাই। আমি তো ওখানে জাস্ট স্বাক্ষরটা হইতো করে দিছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে একটা স্বাক্ষর চাইছে স্বাক্ষরটা দিয়ে দিছি। আমি চাইছিলাম যে, আমি নিজেই ওখানে থাকবো। এটুকুই বক্তব্য এখন লিখেন আপনি, যদি সমস্যা হয় হবে, ফেস করবো আমরা”

    জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, মাদ্রাসা শাখা-৩ এর বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা থেকে গত মাসের ৫ তারিখ অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার চাহিত তথ্যাদি পত্রে বর্ণিত ওই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন। এরই প্রেক্ষিতে নামমাত্র ওই প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে এমন জালজালিয়াতির মাধ্যমে তথ্য ছক জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরণ করেছেন।

    এ বিষয়ে শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী ক্বারী শিক্ষক গোলজার হোসেন (পূর্বে শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন) বলেন, তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত শিলাইকুঠি বালাবাড়ী ফুরকানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরে মাদ্রাসাটি ১৯৮৪/১৯৮৫ সালের দিকে শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা হিসেবে রেজিস্ট্রেশন হয় এবং স্বতন্ত্র এবতেদায়ীর নামে জমির কাগজপত্র আছে। ওই সময় পাঁচ জন শিক্ষক দিয়ে মাদ্রাসাটির পাঠদান চলতো। রেজিষ্ট্রেশনের পর পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে তিন জনের বেতন হওয়ায় অপর দু’জনের বেতন না হওয়ায় স্বতন্ত্র এবতেদায়ীর সকল কার্যক্রম বন্ধ করে সেটি দাখিল মাদ্রাসায় সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসা করা হয়েছে। বর্তমানে শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী কোনো মাদ্রাসা নেই। একই কথা বলেন ওই প্রতিষ্ঠানের এবতেদায়ী প্রধান মাহফুজার রহমান তিনি বলেন, বর্তমানে যেটি শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী সংযুক্ত শাখা সেটিই ১৯৮৪/১৯৮৫ সালে শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ছিল। যার নামে এই মাদ্রাসায় দলিল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিলাইকুঠি দাখিল মাদ্রাসার এরিয়াভুক্ত সরকারপাড়া মৌজার ৩৮৪৩ ও ৩৮৪৪ নং দাগে শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। পরে ১৯৯৪ সালে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম স্থগিত করে দাখিল মাদ্রাসায় রুপান্তর করা হয়। অত্র এলাকায় শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার কোনো অস্তিত্ব নেই।
    এছাড়া শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্রসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক আলমগীর হোসেন (পূর্বে শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন) বলেন, তিনি শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসায় এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন ৫০০ টাকা বেতন পেতেন। পরে শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাকে দাখিল মাদ্রাসায় সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদ্রাসা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্রসার সুপারিনটেনডেন্ট বদিরুল আলম সরকার বলেন, শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা ১৯৯৪ সালের দিকে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানিয়ে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দাখিল মাদ্রাসা করা হয়েছে।

    এদিকে নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার বিষয়ে ভজনপুর ইউনিয়নের কুরানুগছ গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে হুমাউন কবির, প্রভাষক ইয়াছিন আলীসহ এলাকাবাসী জানান, অনেক আগে এখানে একটি মাদ্রাসাটি ছিল পরে ওই জমিটি নিয়ে মামলা হয়। ইতোপূর্বে যেখানে মাদ্রাসা ছিলেন সেখানে এখন চায়ের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। অস্তিত্ব নেই ভেঙে ফেলা মাদ্রাসার ঘরের আংশিক ইটের ওয়াল দেখা গেলেও সেটিও এখন ব্যক্তি মালিকানার দখলে। এ বিষয়ে মাগুরমারী চৌরাস্তা পমিজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক নুর মোহাম্মদ (পূর্বে নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন) বলেন, তিনি নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসায় তৎকালীন এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ১৯৯৪/১৯৯৫ সালের পর মাদ্রাসাটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর এখন শুনছেন সেটি চালু করার প্রক্রিয়া চলছে।

    শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা পরিচালনাকারী উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের কেয়ারটেকার ও খয়খাটপাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার এবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক আবু তাহের আনসারী বলেন, ‘শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার বিষয়ে তিনি দেখেন এবং ওই মাদ্রাসায় তার মেয়ে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত আছেন। অন্যান্য গুলো যার যার মাদ্রাসা তারাই দেখেন এমনটি জানিয়েছেন তিনি। শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা বাস্তবে নেই কিন্তু সেখানে আপনার(আবু তাহের আসসারী) মেয়ে আছেন কিভাবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনো তো কোনো খবর নাই, চালাচ্ছি কাজ, ভবিষ্যতে যদি করা যায় কাজ।’ এদিকে খাতা-কলমে থাকা শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস মুঠোফোনে বলেন, এই মাদ্রাসার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঘর নেই এবং কোনো পাঠদান চলেনি এখন মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক ঘর নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই মাদ্রাসার প্রধান হলেন আবু তাহের আনসারীর মেয়ে এবং মাদ্রাসার দেখভালের অল ইন অল হলেন আবু তাহের আনসারী।

    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার একটি রিপোর্ট জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর পাঠানোর জন্য অনুরোধ করলে রিপোর্টটি আমাদের অফিস থেকে ফরওয়ার্ড করে পাঠানো হয়েছে।

  • নড়াইলে গৃহবধূর ম-রদেহ উ-দ্ধার স্বামী শহিদুল পলা-তক

    নড়াইলে গৃহবধূর ম-রদেহ উ-দ্ধার স্বামী শহিদুল পলা-তক

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ঘরের পাশ থেকে সালমা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। তবে ঘটনার পর ওই গৃহবধূর স্বামী শহিদুল পলাতক রয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরে উপজেলার নলদী ইউনিয়নের গাবাড়িয়া এলাকার গৃহবধূর বাপের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
    অভিযুক্ত শহিদুল লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামের সালাম মোল্যার ছেলে। নিহত সালমা আক্তার নলদী ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে।
    লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
    নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে সালমা আক্তারের বাপের বাড়ি উপজেলার নলদী ইউনিয়নের গাছবাড়িয়াতে আসেন গৃহবধূর স্বামী শহিদুল। পরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘরের পাশে সালমার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় ও স্বজনরা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নলদী পুলিশ ফাঁড়ি ও লোহাগড়া থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠায়।
    নিহতের স্বজনদের দাবি সালমা আক্তারকে তার স্বামী শহিদুল হত্যা করেছে ফেলে রেখে গেছে। এ ঘটনা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • অরুনি পাঠাগারের ২ সদস্য পেল আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপাঠ’ প্রতিযোগিতায় সেরা দশের পুরস্কার

    অরুনি পাঠাগারের ২ সদস্য পেল আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপাঠ’ প্রতিযোগিতায় সেরা দশের পুরস্কার

    নেছারাবাদ উপজেলা সংবাদদাতা।।

    আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপাঠ’ প্রতিযোগিতায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ে নির্ধারিত বই পাঠ ও লিখন প্রতিযোগিতায় স্বরূপকাঠি থেকে বাংলাদেশের মধ্যে সেরা ১০ এ স্থান পেয়েছে ২জন। এরা হলেন, ঝুমা এবং নাঈম। সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজ এর শিক্ষার্থী ঝুমা এবং আকলম মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম। এরা দু’জনে পাঁচ হাজার টাকা এবং পাঁচ হাজার টাকার বই পুরস্কার পেয়েছেন। এ বছর অরণী পাঠাগার স্বরূপকাঠি থেকে ১৬জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

    শুক্রবার ১২ই জুন সকালে অরনী পাঠাগার এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে ঐ বিজয়ী দুই শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয় এবং অন্যা অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সকলকে সার্টিফিকেট দেয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন স্কুল কলেজ এর শিক্ষক শিক্ষর্থীরা উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।

    আরনী পাঠাগারের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ধীরেন হালদার বলেন, আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপাঠ’ প্রতিযোগিতাটি মুলত গত ২৩সে মে ঢাকার আগারগাঁও এ মুক্তি যুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বই যেমন, স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ‘খুজেফিরি’, কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা “অবরুদ্ধ অশ্রুর দিন” এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে “রাইঠেল রুপি আওরাধ”এই তিনটি পড়ে এবং তার উপর প্রবন্ধ লিখে পুরস্কার পেয়েছে। এবছর
    সারা বাংলাদেশে থেকে মোট ৫০টি পাঠাগার এখানে অংশগ্রহণ করেছিলো। সেরা ১০জনকে ৫ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার টাকার বই পুরস্কার দেয়া হয়। আমার অরনী পাঠাগার এর পক্ষ থেকে মোট ১৬জন শিক্ষর্থী অংশ গ্রহন করেছিলো তাদের মধ্যে সেরা ১০ এ দুইজন শিক্ষর্থী চান্স পেয়েছিলো।

    আমি অসুস্থ থাকার কারনে ওদেরকে নিয়ে ঢাকার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি। তাই ওদের সেই পুরস্কার এবং সার্টিফিকেট গতকাল কামারকাঠি নবকুমার ইনস্টিটিউট মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন আমাদের অরনী পাঠাগার এর অফিসে বসে পুরস্কার দিয়েছি।

    উল্লেখ্য প্রয়াত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি আলী যাকেরের স্মরণে ‘আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপাঠ’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

    আনোয়ার হোসেন
    স্বরূপকাঠি উপজেলা সংবাদদাতা।

  • পাইকগাছা – কয়রা প্রধান সড়কে খা-নাখ-ন্দ, জন দুর্ভো-গ চর-মে

    পাইকগাছা – কয়রা প্রধান সড়কে খা-নাখ-ন্দ, জন দুর্ভো-গ চর-মে

    ইমদাদুল হক ,পাইকগাছা ( খুলনা )।।

    খুলনার ( পাইকগাছা-কয়রা ) প্রধান সড়কে দেবদুয়ার থেকে বড়দল ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিঃ মিঃ পিচের রাস্তা খানা খন্দ সৃষ্টি হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। যেমন তেমন বৃষ্টিতে রাস্তার খানা খন্দে হাটু পানি জমায় পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

    উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কাঁটাখালী বাজার থেকে চাঁদখালী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬কিঃ মিঃ মধ্যে ৩ কিঃ মিঃ সড়কের পিচ, পাথর, ইট, খোয়া উঠে খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে সৃষ্ট খানা খন্দে ময়লা যুক্ত পানি জমে থাকে। প্রতিদিন বাস, ট্রাকসহ শত শত যান্ত্রিক বাহন এ সড়কে চলাচল করে। যাতয়াত করে অসংখ্য পথচারী। খানা খন্দে নোংরা পানি জমে থাকায় পথচারীদের জামা-কাপড় নোংরা হওয়ার পাশাপাশি মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ যানবাহনে দূর্ঘটনা লেগেই আছে।

    সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মন্টু বলেন, এক দিন বৃষ্টি হলে রাস্তায় ময়লাযুক্ত হাটু পানি জমে য়ায়। যা শুকাতে মাসের পর মাস লেগে যায়। একারনে দূর্ঘটনাটা লেগেই থাকে।

    স্থানীয় তোরাব আলী খান জানান, রাস্তার এতোই দুরাবস্থা যে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বলতে গেলে কোন সন্তান সম্ভাবা মহিলাকে উপজেলা সদরের হাসপাতালে নিয়ে আসতে চাইলে রাস্তায় সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাভনা সৃষ্টি হয়।

    নির্বাহী প্রকৌশলী, সওজ, খুলনা মোঃ তানিমুল হক জানান, সড়কের বেহাল দশার খবরটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

    ইমদাদুল হক
    পাইকগাছা,খুলনা

  • তাপদাহে গোদাগাড়ীসহ উত্তাঞ্চলের জনজীবন অতি-ষ্ঠ

    তাপদাহে গোদাগাড়ীসহ উত্তাঞ্চলের জনজীবন অতি-ষ্ঠ

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের জেলার উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে প্রখর তাপদাহ আর তীব্র গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ওয়াটার লেভেল অস্বাভাবিকভাবে নীচে নেমে যাওয়ায় বেশীরভাগ নলকূপে পানি উঠেনা। শ্যালো টিউবল ডিপ টিউবলে পানি কম উঠায় সেচ খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    সূর্য উদয় হচ্ছে আগুনের হল্কা নিয়ে। পুড়ছে মানুষ পুড়ছে প্রকৃতি। বিপর্যস্ত জনজীবন। দুপুরের মধ্যেই আবহাওয়া অসহনীয় হয়ে উঠছে। কদিন ধরেই তাপমাত্রার পারদ উঠছে। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করছে। গতকাল শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ওঠে ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

    দিনের পুরো সময় তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকায় তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। রাতেও প্রায় একই অবস্থা। উপজেলার শ্রমজীবী মানুষজনকে জীবিকার তাগিদে প্রখর তাপদাহ সহ্য করে তাদের দৈনন্দিন কাজ করতে হচ্ছে। অন্যান্যরা প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তীব্র গরমের কারণে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, প্রেমতলী হাসপাতাল স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দুপুর ২টার পর শহর ঘুরে দেখা যায়, প্রচন্ড গরমে শহরের ব্যস্ত জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে যানবাহনসহ মানুষের চলাচল সামান্য দেখা যায়। কাজের প্রয়োজনে যারা বেরিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই ছাতা বা মাথায় গামছা ব্যবহার করছেন। মার্কেটগুলোতে ক্রেতা নেই বললেই চলে। তবে এই অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশী ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকসা চালক রুবেলের সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, গরমে বেহাল অবস্থা পেটের দায়ে বের হয়েছি। কড়া রোদের কারণে ঘামে জামাকাপড় ভিজে যাচ্ছে। গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। তিন চার বারের বেশী ভাড়া মারা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে রিকশা চালাতে হচ্ছে।

    মাটি কাটার কাজ করেন, গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ী মহল্লার মোঃ এনামুল হক, পেটের দায়ে মাটিকাটা ও বালি উঠানোর মত কঠিন কাজ করতে হয়। অত্যাধিক গরমের
    কারণে শ্রমিকগন দিনে কাজ করতে পারছেন না। ভোর রাত থেকে মাটি কাটার কাজ করি এবং সকাল সাড়ে ৭ দিকে বাধ্য হয়ে কাজ ছেড়ে দিতে হয়। আমাদের ইনকাম কমে গেছে।

    শুধু মাটিকাটা শ্রমিক এনামুল রিকসা চালক রুবেল নয়, তাঁর মতো তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অটো-চালক, ভ্যান চালক থেকে শুরু করে সব শ্রেণীর শ্রমজীবী মানুষসহ পথচারীরা। এমনকি গরমে প্রাণীকুলও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
    গরম থেকে স্বস্তি পেতে মানুষ, পদ্মা নদী পুকুর বিলে, গাছের ছাঁয়ায় আশ্রয় নিচ্ছে। অনেকে বাড়ীর ছাঁদে বস্তা বিছিয়ে পানি দিয়ে ভিজয়ে রাখছেন, তালের শাস, আম, শরবত পান করে ক্লান্তি দুর করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন বয়সী মানুষজন গরমের তীব্রতা থেকে বাঁচতে সাফিনা পার্কের সুইমিংপুলে ভিড় জমাচ্ছেন। এ সুযোগে সুইমিং পুলের সংশ্লিষ্টরা সেখানকার টিকিটের মূল্যও বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
    এদিকে প্রখর তাপমাত্রার প্রভাবে গ্রামাঞ্চলে শাক-সবজি আবাদেও ক্ষতি হচ্ছে । বিভিন্ন স্থানে পানির স্তর নীচে নেমে গেছে। চলমান তাপদাহে কৃষি শ্রমিকসহ দিন আয়ের মজুরদের কাজ করা কষ্ট সাধ্য হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিং জনজীবনকে আরও বেকায়দায় ফেলে দিচ্ছে।

    সবচেয়ে বেকায়দায় রয়েছে শ্রমজীবীরা। রিকশাচালক, দিন খেটে খাওয়া মানুষ আগুনের হল্কা মাথায় নিয়েই বের হচ্ছে কাজের সন্ধানে। দুপুরের মধ্যেই মরা পদ্মার বিশাল চর তপ্ত কড়াইয়ে পরিণত হচ্ছে। সেখান থেকে বাতাসে বলিকণার ঝাপটা চোখে মুখে জ্বালা ধরাচ্ছে। সবচেয়ে কষ্টে আছে নদী তীরবর্তী মানুষ। তাদের ছোট্ট ছোট্ট টিনের চালা ও বেড়ার ঘর পরিণত হচ্ছে তপ্ত ওভেনে। তাপ যেন টিন ছুঁইয়ে নামছে ভেতরে। এক দমবন্ধকর অবস্থা। বাড়ির ছাদের উপর পানির ট্যাঙ্কিগুলো গরম পানির আধারে পরিণত হচ্ছে। গরমে রাস্তার পিচ গলে যাওয়ায় চাঁকা পিচে দেবে যাচ্ছে। এখন চলছে মাঠে মাঠে বেরো ধান কাটার শেষ মৌসুম। ধান কাটার শ্রমিকরাও পড়েছে বিপাকে। গেরস্থ চায় দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে। আবহাওয়ার মতি গতি ভালো না। কখন যে ঝড় বৃষ্টি হয়। তাপদাহের প্রভাব পড়েছে আম লিচুর তাড়াতাড়ি পেঁকে যাচ্ছে। তাপদাহের কারণে বাজারে দিনের বেলায় মানুষ আসছে কম। ফলে সেখানেও বেচাকেনায় মন্দা। অসহায় মানুষ চেয়ে আকাশ পানে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টির আশায়।
    বিভিন্ন এলাকায় জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারী হাসপাতাল ও বেসরকারী ক্লিনিকগুলিতে ভীড় বেড়েছে রোগীর। এদের মধ্যে শিশু ও বষস্ক রোগীর সংখ্যাই বেশী।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • ফুলবাড়িয়া  ঐতিহ্যবাহী লা-ঠি খেলা দেখতে  হাজারো মানুষের ঢল

    ফুলবাড়িয়া ঐতিহ্যবাহী লা-ঠি খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ঢল

    সেলিম মিয়া ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি: ঢাক-ঢোলের বাজনায়, গানের তালে তালে যেন এ আনন্দময় উৎসব আয়োজন। ঢাক, ঢোল গায়ে রংঙ্গ বংঙ্গে কাপড় আর কাঁসার ঘন্টার ডোলের তালে তালে চলে লাঠির কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আর রামদা আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও পাল্টা আঘাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাঠিয়ালরা। তাতে উৎসাহ দিচ্ছেন শত শত দর্শক। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিলো উৎসবের আমেজ। ঐতিহ্যবাহী এ খেলা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের হাজারো দর্শক।

    বৃহস্পতিবার (১২ জুন ) বিকেলে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের দুগাঙ্গার পাড় অনির্বাণ ছাত্র সংঘের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার উদ্বোধন করেন রাধাকানাই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আমিনুল এহেসান ( উজ্জ্বল)।

    উপ-পরিচালক বিআইডিএস গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইকোনমিক্স বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আগারগাঁও এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক ড. এ কে এম নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার, বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবদীন।

    লাঠিখেলায় অংশ নেয় রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন থেকে আসা আনুহাদি একতা যুব সংঘ লাঠিবাড়ি ক্লাবের লাঠিয়াল দল ও রঘুনাথপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের দল। লাঠিয়াল নুরুল ইসলাম বলেন, আমার বাপ দাদাকে দেখেছি এই খেলা খেলতে, তাই খেলা শিখেছি। তরুণদের ডাকে সাড়া দিয়ে খেলতে আসছি। কিন্ত গ্রাম বাংলা থেকে লাঠিবাড়ী খেলাটি এখন হাড়িয়ে যাচ্ছে।

    পলাশতলী গ্রামের রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, দীর্ঘদিন পর লাঠিবাড়ী খেলা দেখলাম। আমরা চাই বর্তমান সময়ের ছেলেরা এই ঐতিহ্য ধরে রাখুক। লাঠি খেলাটি এখন গ্রাম বাংলা থেকে বিলুপ্তির পথে। গ্রামের তরুণরা এই খেলার আয়োজন করেছে। আমরা চাই প্রতি বছর এই খেলাটির আয়োজন করা হোক।

    খেলার আয়োজকরা বলেন : অনির্বাণ ছাত্র সংঘের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখা জন্য লাঠিবাড়ী খেলার আয়োজন করা হয়েছে।

  • ধামইরহাট সীমান্তে পু-শইনের সময় নারী আট-ক

    ধামইরহাট সীমান্তে পু-শইনের সময় নারী আট-ক

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

    নওগাঁর ধামইরহাট সীমান্ত দিয়ে পুশইন এর সময় মোসা. আছিয়া বেগম (৫০) নামের একজন নারীকে আটক করেছে বিজিবির সদস্যরা। ১৩ জুন শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার জগদ্দল মাঠের মধ্যে থেকে আটক করা হয় ওই নারীকে। আটককৃত নারী যশোর জেলার ইশবপুর নামক এলাকার রুহুল আমিনের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
    ১৪ বিজিবি জানান, উপজেলার সীমান্ত পিলার ২৭১/৭ এফ এর সীমান্ত দিয়ে মধ্যরাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে বাংলাদেশে পুশইন করেন। সে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা না চিনতে পেরে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরছিল। পরে কালুপাড়া বিওপির সুবেদার আইয়ুব আলীসহ সঙ্গীয় ফোর্স টহল চলাকালীন সময়ে তাকে উদ্ধার করেন। আটক নারী দীর্ঘ ১০ বছর পূর্বে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাইয়ের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সে আয়ার কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
    ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মালেক জানান, ভারত থেকে পুশইন হওয়ায় ওই নারীকে ১৪ বিজিবি থানায় দিয়েছেন। আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাকে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    আবুল বয়ান।।

  • দেবীগঞ্জে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে দূর্ঘ-টনার শিকার, আহত প্রেমিকাকে রেখে প্রেমিক লাপা-ত্তা

    দেবীগঞ্জে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে দূর্ঘ-টনার শিকার, আহত প্রেমিকাকে রেখে প্রেমিক লাপা-ত্তা

     পঞ্চগড় প্রতিনিধি 

    দেবীগঞ্জে প্রেমিকা মৌসুমী (ছন্দনাম) নিয়ে  ঘুরতে আসেন নৌবাহিনীর কোষ্টগার্ডে কর্মরত মামুন ইসলাম। ১১ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে মামুন তার প্রেমিকাকে নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় দূর্ঘটনার শিকার হন।

    দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জের মৌমারী হাকিমপুর এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে। মামুন তার প্রেমিকার সাথে ১৫ দিন আগ থেকে সম্পর্ক গড়ে তোলে। মামুন নিজেকে নৌবাহিনীর কোষ্টগার্ডে চাকুরির কথা বলে সম্পর্কে জড়ায়। মামুন তাকে বিয়ে করারও প্রতিশ্রুতি দেন। ঈদের ছুটিতে এসে মামুন তাকে ঘুড়ানোর কথা বললে ওই কিশোরী রাজি হয়ে তার সাথে বিকেলে বের হন। ওই কিশোরী দেবীগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়াশোনা করছে। 

    সেখানে যাওয়ার পথে দেবীগঞ্জ পুরাতন বাসষ্টান্ড এলাকায় পৌছলে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি অটো চার্জারের সাথে ধাক্কা লেগে তারা রাস্তায় ছিটকে পড়ে। রাস্তায় ছিটকে পড়ে তারা দুজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে মামুন ইসলাম তার প্রেমিকাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে রেখে স্বজনদের সহযোগিতায় এম্বুলেন্স নিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিতে রংপুর সিএমএইচে চলে যান। বর্তমানে মামুনের প্রেমিকা দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছে। পরে ওই কিশোরীর আত্বীয়স্বজনকে খবর দেয়া হয়। তারা এসে ওই মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

    তারা দূর্ঘটনার শিকার হওয়ার পরে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দূর্ঘটনার ভিডিও ধারন করে। ভিডিও ধারন করার সময় মামুন ইসলাম নিজেকে নৌবাহিনীর কোস্টগার্ডের বড় অফিসার পরিচয় দিয়ে সংবাদকর্মীর দিকে রাগান্বিত ভাবে বলেন আমি যদি সুস্থ থাকতাম  তাহলে তোমার কলিজা ছিড়ে ফেলতাম। 

    মামুনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন মেয়েদেরকে ফুসলিয়ে সম্মানহানির অভিযোগ উঠেছিল।

    দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুশফেকা খাতুন রুপা জানান, তারা আহত অবস্থায় দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আসার পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেযা হয়। মেয়েটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। মামুনকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    দেবীগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম দুর্ঘটনায় আহত

    মামুনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করেন। বর্তমানে মোটরসাইকেলটি দেবীগঞ্জ থানা হেফাজতে রয়েছে।