Author: desk

  • ময়মনসিংহ জেলা আইন শৃঙ্খ-লা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    ময়মনসিংহ জেলা আইন শৃঙ্খ-লা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ময়মনসিংহকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

    রবিবার (১৩ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ময়মনসিংহ জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

    সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নির্মূল, চুরি-ডাকাতি দমন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা জোরদারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এসময় জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন-
    জেলাকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেখানে মানুষ নিরাপদে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখা, জনসাধারণের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সকল প্রকার অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ করা।
    একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জেলা গড়ে তোলার জন্য
    তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি:সচেতনতা ও শিক্ষা:যুব সমাজের ক্ষমতায়ন:দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি:অপরাধ দমন ও প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন। যে কেউ যেন সহজে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারে এবং অপরাধ দমনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায় সেলক্ষ্যে পুলিশের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করারও আহবান জানান ডিসি মুফিদুল আলম। এসময় তিনি মাদক দ্রব্য, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করতে হবে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর আহবান জানিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বাড়াতে এবং শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার জন্য কাজ করতে হবে বলে জানান। তিনি বলেন- জনগণকে আইনি অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করাসহ তরুণ সমাজকে গঠনমূলক কাজে উৎসাহিত করতে হবে এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে একটি জেলাকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

  • কুমিল্লা নগরীর রাজাগঞ্জে ভ্রাম্যমানে ব্যাবসায়ীকে ৫০ হাজার জরি-মানা

    কুমিল্লা নগরীর রাজাগঞ্জে ভ্রাম্যমানে ব্যাবসায়ীকে ৫০ হাজার জরি-মানা

    কুমিল্লা থেকে মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন,

    কুমিল্লা নগরীতে ৯ টাকার একটি ওষুধ ৮০ টাকায় বিক্রি করায় একটি ওষুধ বিক্রয় প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    রোববার (১৩ জুলাই) দুপুরে নগরীর রাজগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে সাহা মেডিকেল হলকে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে এ জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    ভোক্তা অধিকার সূত্রে জানা যায়, সাহা মেডিকেল হলের বিক্রেতারা নির্ধারিত খুচরা মূল্য (এমআরপি) উপেক্ষা করে রোগীদের কাছে অতিরিক্ত দামে ওষুধ বিক্রি করছে। এমন কাজ ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন অভিযান পরিচালনাকারীরা।

    জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া অভিযানে নেতৃত্ব দেন। অভিযানে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    এ সময় অভিযানে সহায়তা করেন কুমিল্লা জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. আবুল কালাম আজাদ, অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি টিম।

    জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদফতরের কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া জানান, ‘এ ধরনের প্রতারণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় আমাদের নিয়মিত তদারকি চলবে।

  • পটিয়ায় হাইদগাঁও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে’র পদত্যা-গের দাবিতে লিফলেট বিতরণ ও প্রতি-বাদ

    পটিয়ায় হাইদগাঁও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে’র পদত্যা-গের দাবিতে লিফলেট বিতরণ ও প্রতি-বাদ

    মহিউদ্দিন চৌধুরী,
    পটিয়া প্রতিনিধি।।
    পটিয়ার উপজেলার হাইদগাঁও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল দের পদত্যাগের দাবিতে ও স্কুলের এসএসসি ২৫ ইং চরম ফলাফল বিপর্যয়, ১২৯ জন শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বঞ্চিত হওয়ায় লিফলেট বিতরণ ও প্রতিবাদ সভা
    ত্রিপুরা দিঘীর হাটে অনুষ্ঠিত হয়।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মহিউদ্দিন চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম বাদল, হাঈদগাও স্কুলের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খায়ের আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক মেম্বার, স্কুল কমিটির সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম তালুকদার, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সংগঠক জয়নাল আবেদীন, মোজাম্মেল হক লিটন, আবুল হোসাইন, মাইমুনুল ইসলাম মামুন, অভিভাবক সদস্য নূর মিয়া, হাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ ইসহাক, মো. আলী আকবর, মফজল সও:, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল মাবুদ, মাহবুবুর রহমান, হারুনুর রশিদ, জসিম উদ্দিন, শামিম, মহিউদ্দীন, আইয়ুব আলী, শফি, সেলিম উদ্দিন, আবদুল মালেক, নুরুল আলম, শফিউল আলম (সুমন) আরিফ মিয়া, নাজিম উদ্দীন, মোহাম্মদ বেলাল, সৈয়দ, জামাল উদ্দিন, রিয়াদ, হাসান, মোরশেদ, সায়েম, আদনান প্রমুখ। এছাড়াও উক্ত মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ক্রীড়া সংগঠন নেতৃবৃন্দ সহ এলাকার মান্যগন্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বক্তারা বলেন, হাইদগাঁও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফ্যাসিষ্ট শ্যামল দের পদত্যাগ, স্কুলের এসএসসি ২৫ ইং শিক্ষার্থীদের চরম ফলাফল বিপর্যয় ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি টাকা না পাওয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

  • বিএনপি নেতার বিরু-দ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমি দ-খল, মা-মলা হাম-লার প্রতি-বাদে সংবাদ সম্মেলন

    বিএনপি নেতার বিরু-দ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমি দ-খল, মা-মলা হাম-লার প্রতি-বাদে সংবাদ সম্মেলন

    বাবুল হোসেন,
    পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
    পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করে মামলা দেয়া ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের হালুয়া পাড়া এলাকায় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
    এসময় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, তরিকুল ইসলাম, ফিরোজ আলম, শফিয়ার রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    এসময় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের হালুয়া পাড়া এলাকায় ভূক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম ও তার বংশীয় লোকজন দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। বিনিময় সূত্রে তারা ৭০০-৭৫০ বিঘা জমির মালিক ছিলেন। কিন্তু বিএনপি নেতা ও সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবিএম আখতারুজ্জামান শাহজাহানের পিতা বদিউজ্জামান কানুনগো হওয়ার সুবাদে জমির কাগজপত্র জাল করে মালিক বনে যান। ভূক্তভোগীরা বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে যোগাযোগ করেও জমির মালিকানা লাভ করতে পারেন নি। তবে ভূক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে ৪০ বিঘা জমি চাষাবাদ করছেন। সে জমিগুলো বিএনপি নেতা শাহজাহান তার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দলীয় নেতাকর্মী দিয়ে ভূক্তভোগীর পরিবারের উপর হামলা করছেন। বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকী দিচ্ছেন। পুলিশ তাদের হয়রানি করছেন। বাসায় থাকতে দেয়া হচ্ছে। এমনক কোথায় কোন বিচার পাচ্ছেন না তারা।

    সংবাদ সম্মেলনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন ভূক্তভোগীরা।

    সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা ও সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবিএম আখতারুজ্জামান শাহজাহান বলেন, আমরা কারো জমি দখল করতে যাইনি। কিংবা কারো উপর হামলা মামলা করিনি। তারাই আমাদের উপর মামলা করেছেন। আমাদের বসার কথা ছিল গত ২৫ জুন কিন্তু তারা আর বসেনি। এখন তারা নানা ঝামেলা তৈরি করছে। কারো কোন কথা মানেনা শোনেনা৷ আমরাও চাই আপনাদের মাধ্যেমে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসুক।

  • ডুমুরিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরো-ধে সুষ্ঠ বিচা-র পাওয়ার দাবি-তে সংবাদ সম্মেলন

    ডুমুরিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরো-ধে সুষ্ঠ বিচা-র পাওয়ার দাবি-তে সংবাদ সম্মেলন

    শেখ তৈয়ব আলী, খুলনা।

    মোঃ শওকত আলী খান খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা। খানশাহাপুর মৌজার এসএ ৩১৮, ৩৪৯, ৩৬৭, ৩১৯, ১১১৪, ৩০৯, ৩৯০, ২৪৭, ১০৭০, ৮৬, ১৩৪, ১০৩১, ১০০৬, ৮৪৬, ১১০৪, ১১০৫, ২৪৭, ৩৮৬, ৩৭৮, ৯১৬ ও ৩৯২ দাগের মালিক ছিলেন আমার পিতা। আমার মাতা হালিমুন্নেছা আমার পিতার তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন। আমার পিতার জীবদ্দশায় ৬৭৯৯/৮৪ দানপত্র দলিলে মোট ৪.৭১ একর জমি আমার ও আমার ভাই মোহাম্মদ আলী খানের নামে হেবা করে দেন। আমার পিতার মৃত্যুর সময় আমার বয়স ছিলো তিন বছর। পিতার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পক্ষের চক্রান্তে আমার মা আমাকে ও তার ভাই মোহাম্মদ আলী খানকে নিয়ে নানার বাড়িতে চলে যায়। সেই থেকে মোহাম্মদ শওকত আলী খান ও আমার ভাই নানা বাড়িতে থেকে অবহেলা আনদরে বেড়ে উঠে। ২০১৬ সালে শওকত আলী খানের পৈত্রিক ভিটায় ফিরে এসে বসবাস করতে থাকে। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় পক্ষগণ একটা ভূয়া দলিল দেখিয়ে শওকত আলীকে তার পিতার নিকট হতে দানীয় সূত্রপ্রাপ্ত জমি ছেড়ে দিতে বলেন। তাদের কথায় রাজি না হওয়ায়। দ্বিতীয় পক্ষগণ স্থানীয় ভূমিদস্যুদের সহযোগিতায় শওকত আলী খান ও অন্যান্য ওয়ারেশ ভাই-বোনের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নেয় (দখলকারীরা হলেন শাহাপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম খান শান্ত) এনামুল মোড়ল, আশরাফুল আলম খান, আইয়ুব আলী খান, আরাফাত খান, আশিকুজ্জামান খান, আব্দুল মান্নান খান (অবসরপ্রাপ্ত সেটেলমেন্ট অফিসার), খান আসাদুজ্জামান, দেব্রত পাড়ৈ, সালাহ উদ্দিন মোড়ল, পিন্টু বিশ্বাস, প্রকাশ মন্ডল, অমিয় বাছাড়, সাগর মন্ডলসহ আরো অনেকে।

  • আমার দেশ সম্পাদকের মায়ের মাগ-ফিরাত কামনায় দোয়া-মিলাদ

    আমার দেশ সম্পাদকের মায়ের মাগ-ফিরাত কামনায় দোয়া-মিলাদ

    বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি-
    বরিশালের বাকেরগঞ্জে খানকায়ে মোহেব্বিয়া ছালেহিয়া দারুসসুন্নাত দীনিয়া মাদ্রাসায় আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানের মমতাময়ী মা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার (১৩ জুলাই) বাদ জোহর বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি দানিসুর রহমান লিমনের আয়োজনে এ দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে মাদরাসার ছাত্রদের মাঝে তাবারক বিতরণ করা হয়।

    দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন, মহাকাল সম্পাদক আহমেদ কাওসার ক্ষৌনিশ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাস, দৈনিক নয়া শতাব্দীর মোঃ মাসুদ সিকদার, আনন্দ টিভির বায়েজিদ বাপ্পি, মাই টিভির মোঃ মিজানুর রহমান, মোহনা টিভির সাখাওয়াত হোসেন, দৈনিক ভোরের ডাকের জাহিদুল ইসলাম, দৈনিক দক্ষিণবঙ্গের এইচ এম কামাল মৃধা, তালাশ বিডির মোঃ আশিকুর রহমান প্রমূখ।

    দোয়া-মিলাদের পূর্বে মরহুমা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের কর্মময় জীবন তুলে উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন বাকেরগঞ্জ খানকায়ে মোহেব্বিয়া ছালেহিয়া দারুসসুন্নাত দীনিয়া মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ আবদুর রহিম।

  • বাকৃবিতে কৃষি অনুষদীয় শিক্ষার্থীদের ১ম ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

    বাকৃবিতে কৃষি অনুষদীয় শিক্ষার্থীদের ১ম ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ২০১৯-২০(সন্মান) ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ১ম ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার(১৩ জুলাই ২০২৫) সকাল ১১.৩০টায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো: শহীদুল হক। কৃষি অনুষদীয় ডিন প্রফেসর ড. জি.এম. মুজিবর রহমান এর সভাপতিত্বে এবং সহকারী প্রফেসর সিনথিয়া আফসানা খেয়া ও লেকচারার তাওসিফ আল আফ এর যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্টার্নশীপ ম্যানেজমেন্ট সেলের কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড. মাসুম আহমাদ। এছাড়াও এই প্রোগ্রাম সমাপ্তকারী দুইজন ছাত্র তাদের অনুভুতি প্রকাশ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া শুরুতে কৃষি অনুষদের প্রথম ইন্টার্নশীপ সফলভাবে সমাপ্ত করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইন্টার্নদের যে অভিজ্ঞতা, মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে এইসব বিষয়ের সমন্বয় ইন্টার্নীদের সমৃদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি অনুষদের ডিন, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা – কর্মচারীসহ যারা এই প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্নকরণে নিরলসভাবে কাজ করেছে তাদেরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।তিনি বলেন বাকৃবি ভাগ্যবান কারণ এখানকার সকল অনুষদই ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামের আওতায় চলে এসেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মনোযোগ দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং গ্রাজুয়েটদেরকে ভবিষ্যতে মাতৃসম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সুনজর বজায় রাখতে আহবান জানান। তিনি সকল ছাত্র-ছাত্রীদের সুন্দর, সার্থক ও কল্যাণময় জীবন কামনা করেন।
    পরে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ছাত্র -ছাত্রীবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, দুইমাস মেয়াদি ৫ ক্রেডিটের এই ইন্টার্নশীপ প্রোগ্রামে ২১টি গ্রুপে ৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ সর্বমোট ৩১৫ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশীপ সম্পন্ন করেছে এবং এ ব্যাপারে কৃষি অনুষদের সাথে সার্বিক সহযোগীতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করেছে।

  • আশুলিয়ায় কিশোর গ-্যাং  জু-য়ারি ও মা-দক কারবা-রিদের কাছে সাধারণ মানুষ জি-ম্মি

    আশুলিয়ায় কিশোর গ-্যাং জু-য়ারি ও মা-দক কারবা-রিদের কাছে সাধারণ মানুষ জি-ম্মি

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং, জুয়ারি ও মাদক সন্ত্রাসীদের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে, এসবের টাকা জোগাড় করতে এলাকায় বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি ডাকাতি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে এসবের সাথে জড়িতরা।
    রবিবার (১৩ জুলাই ২০২৫ইং) জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া মোল্লা বাড়ি মোড়ে মোবাইলের ব্যবসায়ী সোহেল এর দোকান থেকে লক্ষাধিক টাকা চুরি হয়েছে। সোহেল বলেন, কিছুদিন আগে আমার দোকানের তালা ভেঙে নগদ প্রায় লক্ষাধিক টাকাসহ মালামাল চুরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে জুয়ারিরা ও মাদক সেবনকারী মাদক সন্ত্রাসীরা। মাদক সন্ত্রাসীরা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানারকম মাদকদ্রব্য অবাধে বিক্রি করছে আর এদের সহায়তা করে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য। মাদক সেবন করে অনেকেরই অকালে মৃত্যু হয়েছে।
    অনেকেই জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা শক্তিশালী তাই তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চায়না। অনুসন্ধান করে জানা যায়, আশুলিয়ার জামগড়ার মাদক কারবারি ফিরোজা বেগমকে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দড়িসয়া গ্রামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে হাতে নাতে গাঁজাসহ আটকের পর দুই বছরের সাজা প্রদান করেন। গাঁজা সেবন ও নিজ হেফাজতে গাঁজা সংরক্ষণ যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সালের ৩৬ (১) এর ২১ ধারা লঙ্ঘন ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধারা মতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২ (দই) বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়। এদিকে আশুলিয়ার জামগড়া উত্তরপাড়ার শরিফুল ইসলাম শরিফকে ডিবি পুলিশ কতর্ৃক আটক করে তার হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। তিনি ওই মামলায় জামিনে এসে আবারও সক্রিয় মাদক ব্যবসা করছে এবং বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। সেই সাথে জমি ক্রয়-বিক্রয় করা নিয়ে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে জামগড়ার মাদক কারবারি শীর্ষ সন্ত্রাসী শরীফ মোল্লার বিরুদ্ধে। সে স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তার সাথে আরও ৬-৭ জনের গ্রুপ রয়েছে, এর ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না বলে এলাকাবাসী জানায়।
    জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের দড়িসয়া গ্রামের আলী আকবরের স্ত্রী মোছাঃ নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগমের বিরুদ্ধে ঢাকার আশুলিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। এবারের গল্পটাই যেন ভিন্ন: স্বামী একজন রিক্সা চালক আর স্ত্রী বাসা বাড়িতে কাজের বোয়া থেকে এখন বিশাল প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেটের পরিচালনাকারী নারী ফিরোজা বেগম। তিনি এখন টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের দড়িসয়া গ্রামে ইটের দালানকোঠা তৈরি করে বাড়িতে চারসাইড দিয়ে লাগিয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এলাকাবাসীর দাবি-সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দেখে তার বাড়িতে কারা কখন আসছে, প্রতিবেশি কেউ তার বাড়িতে প্রবেশ করলে তাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করাসহ মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। অনেকেরই প্রশ্ন: কি তার উপার্জন আর কি বা তার ব্যবসা? দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে উঠে আসে কে এই নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগম। জানা গেছে, একজন দিনমজুর আলী আকবরের অপ্রতিরোধ্য স্ত্রী ফিরোজা বেগম মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করেন, এরপর এখন ক্ষমতাধরের খাতায় নাম লিখেছে মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকান্ডকে পুঁজি করে। বেশিরভাগ মাদক কারবারির বাড়িতে সিসিটিভি রয়েছে।
    সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইলের দড়িসয়া পাড়া গ্রামের একবেলা খেয়ে আর অন্যবেলা না খেয়ে অনাহরে অর্ধাহারে থাকা সেই দিনমজুর স্বামী আলী আকববসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে ফিরোজা বেগম কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার মোশারফ ম্যানশন নামের একটি বাড়ির কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওই বাড়ির মালিকের বিশাল ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ১০বছর ধরে বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করে আসছিলো। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি এই মাদকের কারবার করে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। এলাকাবাসী জানায়, ফিরোজা বেগমের মাদকের বিশাল শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, দেশের সীমান্ত দিয়ে আসা বিদেশী মদ, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক তার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় চালান পাঠানো হয়। ২০১২ সালে সিরাজগঞ্জ, ২০১৭ সালে আশুলিয়া, ২০২১ইং সালে টাঙ্গাইলে মাদকসহ হাতে নাতে আটক হয় ফিরোজা বেগম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অনেকবার গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে তিনি ও তার দুই ছেলে কৌশলে বেড়িয়ে এসে ক্ষমতা ও টাকার দাপটে অবাধে চালাচ্ছে তাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড।
    এলাকাবাসী-মাদককে না বলে পৃথক ভাবে একাধিকবার মাদক বিরোধী মিছিল ও মানববন্ধনসহ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। মাদক নিমর্ূলের দাবিতে সামাজিক ভাবে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা বন্ধের জন্য সামাজিক প্রতিরোধে এলাকার যুবসমাজকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে দড়িসয়া গ্রামের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুস সামাদ বলেন, পূর্বের ইতিহাস তারা আগে জামগড়ায় থাইকা কাম কাজ করছে। ১৫-১৬ বছর যাবতসেখানেই থাকতো তারা। তার দুই ছেলে বিভিন্ন মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে একাধিকবার, ফিরোজা বেগমও গাঁজাসহ আটক হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে দুই বছরের সাজা দেন। তিনি আরও বলেন, এই ফিরোজা বেগমের পরিবারের লোকজন সবাই এখন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।
    উক্ত বিষয়ে জানতে সরেজমিনে গিয়ে আশুলিয়ার জামগড়া ও টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের দড়িসয়া গ্রামে মোছাঃ নুর জাহান ওরফে ফিরোজা বেগমের বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও র‍্যাব জানায়, অপরাধী সে যেই হোক না কেন তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও কিছু কথিত সাংবাদিক মাদকের সাথে জড়িত থাকার কারণে মাদক সন্ত্রাসীরা অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। আশুলিয়ায় জুয়া কারবারি শাহিন, সাবু, নাঈমসহ অনেকেই জানায়, পুলিশকে ম্যানেজ করেই তারা জুয়া চালায়।
    আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হান্নান বলেন, আমি আশুলিয়ায় নতুন আসছি, দেহব্যবসা, জুয়া ও মাদক কারবারি যেইহোক না কেন ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, অপরাধ করলে অপরাধীকে গ্রেফতার করা হবে। আমাদের অভিযান চলমান আছে।##

  • সংবাদপত্র চালানো ও সংবাদ তৈরি করে সাংবাদিকতা করা এতটা সহজ নয়

    সংবাদপত্র চালানো ও সংবাদ তৈরি করে সাংবাদিকতা করা এতটা সহজ নয়

    সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ): সংবাদপত্র চালানো ও সংবাদ তৈরি করে সেই সংবাদ পরিবেশনসহ সাংবাদিকতা করা এতোটা সহজ নয় এমনই অভিমত প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জয়। তিনি বলেন, সাংবাদিক মানে সমাজের দর্পণ আর সাংবাদিক হলো দেশ ও জাতির বিবেক। দেশে বর্তমানে কাগজপত্রসহ সকল জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও সংবাদপত্রের দাম বাড়েনি এবং সাংবাদিকদের সম্মান বাড়েনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইন পোর্টালে ২৪ ঘন্টা প্রচারণা চলমান থাকায় বর্তমানে প্রিন্ট পত্রিকা পড়তে আগ্রহী না বেশিরভাগ পাঠক। অনেকেই সময় বাঁচাতে অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করছেন। সংবাদপত্রের সাংবাদিক কতটুকুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকতা করছেন তা লিখতে গেলে ইতিহাস হবে। বিবেক ও আবেকময় মন দিয়ে বিচার হয় না। সাংবাদিকরা সবার খবর রাখেন কিন্তু তারা কেমন আছেন এই খবর কে রাখেন?
    মহান পেশা সাংবাদিকতা অথচ নিজেদের ভেতরে বাইরে শক্রতা সৃষ্টি করায় অন্যরা নিচ্ছে সুযোগ সুবিধা আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রকৃত সাংবাদিক। সাংবাদিক ও পুলিশ একে অপরের বন্ধু উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো বাঁধা সৃষ্টিকারীদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে একমত হয়ে সাংবাদিক নেতারা অনেকেই বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা বন্ধ করতে হবে কিন্তু কিছু কথিত সাংবাদিক পরিচয়পত্র নিয়ে ফিটিংবাজি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে, এদের সাথে থাকে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য, তারা তিলকে তাল বানিয়ে অবৈধভাবে ফায়দা লুটছে। দেশের যেসকল সম্পাদক ও সাংবাদিকদের উপর হামলা মামলা ও নির্যাতন করা হয়েছে, সেইসকল ঘটনা ও অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক (হেলাল শেখ), তিনি বলেন, সাংবাদিকদেরকে ঘাঁয়েল করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় একটি মহল। সাংবাদিকদের মহান পেশাকে অসম্মান করার অধিকার কারো নেই। তবে কিছু সম্পাদক সাংবাদিকদের বেতন দেন না, উল্টো প্রতি মাসে প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরকম সত্য কেউ প্রকাশ করতে চায় না কারণ, তাদের স্বার্থে আঘাত লাগবে তাই। এর কারণে অনেক সাংবাদিক এই মহান পেশা সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রিন্ট প্রত্রিকা-সংবাদপত্র নিয়মিত ছাপানো অনেক কঠিন, প্লেট ও কাগজপত্রের দাম বেড়েছে। সাংবাদিকতায় চরম বাঁধা সৃষ্টি করছে যারা তাদের অপকর্ম, অনিয়ম, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। অনলাইন পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার ও সাংবাদিকতায় এক পর্যায়ে কাজ করছে কিছু অসাধু লোকজন, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরী, এতে প্রকৃত সাংবাদিক ও সম্পাদক মহোদয়ের সম্মান রক্ষা হবে। অন্যদিকে কাগজপত্র ও প্লেটের দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে প্রিন্ট পত্রিকা ছাপানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। মাদক সন্ত্রাস, চোর বাটপার ও খারাপ প্রকৃতির ব্যক্তির কারণে প্রকৃত সাংবাদিকতায় চরম বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য লজ্জাজনক। কিছু অসাধু ব্যক্তির অত্যাচারের কারণে অনেকেই মহান পেশা সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্য পেশায় যাচ্ছেন।
    প্রকৃত সাংবাদিক ও লেখক কখনো কোনো হামলা মামলার ভয় করে না। নেতা বা মেম্বার চেয়ারম্যান, এমপি মন্ত্রী আপনারা যে পেশা থেকেই আসেন না কেন, দয়া করে কেউ সাংবাদিকদের অপমান করবেন না, এমনকি যেকোনো পুলিশ অফিসার সাংবাদিকদের অপমান করার অধিকার রাখেন না। আপনাদের ইতিহাস প্রকৃত সাংবাদিকই প্রকাশ করতে পারে। দেশের গণমাধমের প্রকাশক ও সম্পাদকসহ প্রকৃত সাংবাদিকরা আপনাদের অনেকের প্রকৃত চরিত্র ও ইতিহাস জানেন। আপনারা কে কেমন প্রকৃতির মানুষ বা কেমন অপরাধ করেছেন? কে কেমন অপরাধী ? কে কেমন চরিত্রবান তা সাংবাদিকরা জানেন। রাজধানী ঢাকা, ধামরাই ও সাভার আশুলিয়াসহ সারাদেশেই একের পর এক প্রকৃত সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা-মামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতাসহ সচেতন মহল। সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণেই বিভিন্ন হামলা মামলার শিকার হয়ে থাকেন। প্রকৃত সাংবাদিকদেরকে কেউ ভয় দেখাবেন না, কলমের শক্তি দিয়েই তার জবাব দেয়া হবে। আমরা সাংবাদিকরা কোনো কচু পাতার পানি নয় যে, বাতাসে পড়ে যাবো। অনেকেই ষড়যন্ত্রের কারণে হামলা-মামলায় শিকার হয়ে থাকেন। ভয় করবেন না “বৃহত্তর ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য”। সাংবাদিককে অপমান করার অধিকার কারো নেই। সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা-মামলা, হত্যার হুমকি’র বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। বিশেষ করে নিউজ লেখতে হবে সকল সাংবাদিকদেরকে সবার সংশ্লিষ্ট মিডিয়ায় তা নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। ভয় করলে সাংবাদিকতা করা যায় না। বিশেষ করে নতুন সাংবাদিকদের অবশ্যই সাংবাদিকতার আদর্শলিপি বইসহ বেশি বেশি বই পড়া জরুরি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকতার মূলধারায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরকেও সচেতন করতে প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। কলম সৈনিক কখনো কারো মিথ্যা সংবাদ লিখে প্রকাশ করে না। যারা কলম হাতে নিয়ে মিথ্যা কোনকিছু লিখে তা প্রচার করে, এটাকে অপপ্রচার বলা হয়, অপপ্রচারকারীরা দেশ ও জাতির শক্র। দেশের ভেতরে যারা দেশ ও জাতিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক বলে দাবী জানান সাংবাদিক নেতারা।
    সাংবাদিকরা না খেয়ে থাকলেও লজ্জায় কারো কাছে বলতে পারেন না, হাত পেতে সাহায্য নিতে পারেন না আর অভাবি ব্যক্তিরা সাংবাদিকতায় আসা ঠিক না। ৩৬৫ দিনে এক বছর, জীবনে কোনদিন ছুটি নেই সাংবাদিকদের। ৩৬৪ দিন ভালো কাজ করেন আর একদিন একজনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করবেন এতে একটু ভুল হলেই সেই সাংবাদিক খারাপ হয়ে যাবে তাদের কাছে। অপরাধীরা অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে কোনকিছু লেখা যাবেনা, ১দিন যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করছেনতো সাংঘাতিক হবেন। সাংবাদিক জাতির বিবেক, সেই বিবেককে গালি দিয়ে বলা হয় সাংবাদিকরা খারাপ ও সাংঘাতিক, এটা কোন ধর্ম আর কোন বিচার ?। অনেকেই নিজেদেরকে বড় মনে করেন, নিজেদের স্বার্থের জন্য শক্রতা সৃষ্টি করেন আর একজন অন্যজনের ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন এটা আমাদের ভুল হচ্ছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বয় করে কাজ করার মধ্যে আনন্দ আছে, “বৃহত্তর ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য”। আমাদের লেখার মধ্যেও অনেক ভুল হয়। এই জন্য সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়া দরকার। বিশেষ করে “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক দেশ ও জাতির বিবেক, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, বিশেষ সম্মান অর্জন করার লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে সম্মান অর্জন না হয়ে উল্টো বদনাম হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদের। সাংবাদিকতা করতে শুধুমাত্র মানুষের সুখ, দুঃখ, আনন্দ বেদনা, দুর্ঘটনাসহ সকল বিষয়ে জাতির কাছে তুলে ধরতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের অবশ্যই চোখ কান খোলা রেখে কাজ করতে হবে।
    জনগণের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন সাংবাদিকরা, এর বিনিময়ে কি পাচ্ছেন তারা? নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অনেক সাংবাদিক, হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন অনেকেই তার কোনো হিসাব নেই। দেশে প্রায় ১৮ কোটি জনগণ, সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক কম, তবুও আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি। ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে যারা মানুষের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। অনেকেই জানেন না যে, ১/ সাংবাদিক মানে জাতির বিবেক। ২/ সাংবাদিক মানে দেশ প্রেমিক। ৩/ সাংবাদিক মানে কলম সৈনিক। ৪/ সাংবাদিক মানে জাতির দর্পণ। ৫/সাংবাদিক মানে জাতির সেবক। ৬/সাংবাদিক মানে শিক্ষিত জাতি। ৭/সাংবাদিক মানে স্বাধীনভাবে কাজ করা। ৮/সাংবাদিক মানে সম্মানিত জাতি। ৯/ সাংবাদিক মানে তদন্তকারী। ১০/ সাংবাদিক মানে আইন বিষয়ে জানা। ১১/ সাংবাদিক মানে সিস্টেম পরিবর্তন করা। ১২/ সাংবাদিক মানে সকল তথ্য বিষয়ে জানা।

  • নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার কালিশঙ্কর রায়ের বাড়ি আজ তার কিছুই নেই

    নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী প্রভাবশালী হিন্দু জমিদার কালিশঙ্কর রায়ের বাড়ি আজ তার কিছুই নেই

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইল জমিদারীর প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কালিশঙ্কর রায় জমিদারীর প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কালিশঙ্কর রায় নামে প্রভাবশালী হিন্দু। তার পিতার নাম ছিল রূপরাম রায়। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, রূপরাম দত্ত প্রসিদ্ধ গুয়াতলীর মিত্র বংশীয় কৃষ্ণরাম মিত্রের দ্বিতীয় কন্যাকে পরিনয় সূত্রে আবদ্ধ করেন। রূপরামদত্ত নন্দকিশোর, কালীশঙ্কর ও রামনিধি নামে তিন পুত্রের জনক।
    রূপরাম অল্প বয়সে নাটোর রাজ সরকারে চাকুরি নেন। ধীরে ধীরে বিশ্বাসভাজন হয়ে তিনি সরকারের উকিল হিসেবে মুর্শিদাবাদ নবাব দরবারে কাজ করতেন। এই ভাবে তিনি যথেষ্ট অর্থ সম্পাদের মালিক হন। নাটোরের জমিদার রানী ভবানী একদিন রূপরাম রায়কে তাদের উকিল হিসেবে মুর্শিদাবাদের নবাব দরবারে পাঠান। নাটোরের রানী ভবানীর দয়ায় রূপরাম রায় নড়াইলের আলাদাতপুর তালুক কিনে নেন। এই তালুকের মধ্যে নড়াইল নামক স্থানে তিনি বসতবাড়ী নির্মাণ করেন। বসতবাড়ীর কিছুদূরে চিত্রা নদীর তীরে রূপরাম রায় একটি বাজার নির্মাণ করেছিলেন। রূপরামের নামানুসারে বাজারটি রূপগঞ্জ বাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আজও এই বাজারটি শহরের প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধ।
    রূপরাম রায়ের তিন পুত্রের মধ্যে কালিশঙ্কর রায় অতি অল্প বয়সে পিতার সাথে নাটোর রাজ দরবারে প্রবেশ করেন। পিতার মত অল্প বয়সে নাটোরের রাজ সরকারের একজন কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। এই কালিশঙ্কর ছিলেন নড়াইল জমিদারীর প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। কালিশংকর রায় ছিলেন বলিষ্ঠ স্বাস্থের অধিকারী ও একজন সুচতুর ব্যক্তি। নিজে সাফল্য লাভের জন্য ন্যায়-অন্যায় বিচার বিবেচনা তার চরিত্রে ছিলনা। কৌষলে কার্য্যোদ্ধার করতে তিনি সুনিপুন ছিলেন। Westland এর রিপোর্টে তারই প্রতিধ্বনি শোনা যায়। Kalisankar was a man of wonderful energy and ability in business – my regard for truth compels me to say it – he was perfectly unscrupulous” কার্যোদ্ধারে তিনি ন্যায়ান্যায় বিচার করতেন না।
    ১৭৯৩ সালে ভারতবর্ষের গভর্ণর জেনারেল লর্ড কর্ণওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত করলে সে সময় নাটোরের বিশাল জমিদারীর বিপুল অংকের খাজনা বাকী পড়ে। খাজনার দায়ে ভাগে ভাগে নিলামে বিক্রি হতে থাকে জমিদারী। সেই সময় সুচতুর কালিশংকর ও কতিপয় কর্মচারী নাটোরের জমিদারদের বিশ্বাসের অপব্যবহার করে স্বনামে ও বেনামে নাটোর রাজ্যের জমিদারী এলাকাভূক্ত পরগণা নিলামে খরিদ করতে থাকেন। পরগণাগুলো হচ্ছে তেলিহাটি, বিনোদনপুর, রূপপাত, তরফ কালিয়া, তরফ দরিয়াপুর ও অন্যান্য ছোট ছোট তোমিগাতি মহল। নড়াইল মৌজায় কালিশংকর রায় পিতার ছোট বসতবাড়ীতে বড় বড় দালান, কয়েকটি দীঘি, নাট্যমন্দির ও বিশাল রাজবাড়ী নির্মাণ করেন।
    কালিশংকর তার ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য এক বিরাট লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন। এই লাঠিয়াল বাহিনীতে যোগ দেয়া বেশিরভাগ লোক ছিল হিন্দু নিম্নবর্ণের নমশুদ্র সম্প্রদয়ের। কোথাও শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হলে এই লাঠিয়াল বাহিনীকে কাজে ব্যবহার করা হতো। এই লাঠিয়াল বাহিনীর দ্বারা অনেক সময় ব্যবসায়ীদের নৌকার মালামাল লুট করে নেয়া হতো।
    যশোহরের প্রথম জজ ম্যাজিট্রেট হেঙ্কেল সাহেবের আমলে (১৭৮৪ খৃষ্টাব্দ) কালীশঙ্কর ও তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা নন্দকিশোরের নামে লুটতরাজ মামলা দায়ের করা হয়। সম্ভবতঃ কালীশঙ্কর ব্যবসায়ের দেনা পাওনার সূত্রে ক্ষিপ্ত হয়ে মাল ভর্তি একটি নৌকা লুট করে নেয়। হেঙ্কেল সাহেব তাকে ডাকাত নামে অবিহিত করে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করেন। কুতুবুল্লাহ সর্দারের অধীনে কিছু সিপাহীকে পাঠানো হলো কালীশঙ্করকে ধরে আনার জন্য। তাদের সাথে ১৫০০ লাঠিয়ালের এক খন্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ২ জন নিহত এবং কুতুবুল্লাহ সহ ১৫ জন আহত হয়। দ্বিতীয়বার সাহেব অতিরিক্ত সৈন্যদল পাঠালে নন্দকুমার ধরা পড়েন আর কালীশঙ্কর পালিয়ে যান। প্রথমে নাটোর ও পরে কোলকাতায় তিনি লুকায় থাকেন। অনেকদিন পর বহু কষ্টে তাকে কোলকাতা হতে গ্রেফতার করা হয় অতপরঃ মুড়লিতে নিয়ে আসা হয়। দারোগার বিচারে তিনি অব্যাহতি পান।
    কালিশঙ্করের জমিদারী এলাকায় কোন গরু জবাইয়ের ঘটনা জানতে পারলে তিনি তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সাথে সাথে তাকে ধরে নিয়ে যেতন এবং নিষ্ঠুর নির্যাতন চালাতেন। তার বাড়ীর সামনের রাস্তা দিয়ে কোন লোক ছাতা মাথায় এবং জুতা পায়ে হাটতে পারতো না। এই কালিশংকর প্রকৃত নড়াইল জমিদারীর প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ।
    ১৮৭০ খৃষ্টাব্দে ৭০ বছর বয়সে কালিশঙ্কর ধর্ম যাত্রা ও মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে গয়া-কাশী গমণ করেন। কাশীতে দুবৃত্তদের উৎপাতে তীর্থযাত্রীগণ সবসময় সমস্যায় থাকতেন। সে দৃশ্য তিনি সহ্য করতে পারলেন না। তিনি নানারকম কুট কৌশলে অত্যাচারীদেরকে রাজদন্ডে দন্ডিত করে কাশীক্ষেত্রকে নিরূপদ্রব করেন। কাশীকে শান্তিময় অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাশীবাসী এখনও কালীশঙ্কর রায়ের নাম স্মরণ করেন। কালীশঙ্কর ১৮৩৪ সালে ৮৫ বছর বয়সে পবিত্র কাশীধামে পরলোক গমন করেন।
    কালিশঙ্করের দুই পুত্র রামনারায়ণ ও জয় নারায়ণ। গয়া-কাশীতে যাবার আগে দুই ছেলের নিকট তিনি তার সকল সম্পত্তি বুঝিয়ে দেন। কালীশঙ্কর কাশী যাওয়ার পর কয়েক বছরের ব্যবধানে দুই ছেলে মারা যায়। রামনারায়ণ ১৮১৭ সালে এবং জয়নারায়ণ ১৮২২ সালে মারা যান। কলিশঙ্করের বড় ছেলে রামনারায়ণের তিন পুত্র-রামরতন, হরনাথ ও রাধাচরণ। ছোট ছেলে জয়নারায়ণের দুই ছেলে ছিল দুর্গাদাস রায় ও গুরুদাস রায়। রামনারায়ণের তিন পুত্রের তিনজনই কীর্তি পুরুষ ছিলেন।
    দুর্গাদাস রায় ও গুরুদাস রায় নড়াইল থেকে দুই মাইল দক্ষিণে চিত্রা নদীর তীরে হাটবাড়ীয়া নামক গ্রামে বসতি স্থাপন করেন এবং জমিদারী সমান ভাগে পরিচালনা করতে থাকেন। রামনারায়ণের বংশধরগণ নড়াইলেই বসবাস করতে থাকেন। তাই নড়াইলের জমিদার ও জয়নারায়ণের বংশধরগণ ‘হাটবাড়ীয়ার জমিদার’ বলে পরিচিত হন।
    রামনারায়ণের বড় ছেলে রামরতনের নামে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারের ডাকঘরটি স্থাপিত হয়। সেই যুগ থেকে ‘রতনগঞ্জ’ ডাকঘর নামে পরিচিত। আজও এই ডাকঘরের নাম পরিবর্তন হয়নি। রামরতন রায়ের জমিদারী আমলে নলদী পরগণা ও খুলনা জেলার পরগণা দাঁতিয়া অন্তর্ভূক্ত হয়। এ সময় ইংরেজ নীলকর সাহেবরা যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে নীলচাষের জন্য নীলকুঠি স্থাপন করে। জমিদার রামরতন রায় নীল চাষ লাভজনক বলে তিনিও এ ব্যবসা শুরু করেন। তিনি বহু নীল কুঠিও স্থাপন করেন এবং ইংরেজ নীলকর সাহেবদের নিকট থেকেও কিছু কুঠি ক্রয় করেন। রামরতন ছিল খুব সামপ্রদায়িক মনোভাবাপন্ন। যেসব কৃষক নীলচাষ করতে অনীহা প্রকাশ করতো তাদের উপর কঠোর নির্যাতন চালাতো তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে। হিন্দুধর্মের নমশুদ্র সম্প্রদায়ের চেয়ে মুসলিম কৃষকদের উপর তুলনামূলক বেশী অত্যাচার চালাতো। রামরতন রায় সাম্প্রদায়িক মনের ও অত্যাচারী থাকলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে ছিলেন দানশীল। জমিদার রামরতন রায় তৎকালীন ভারত সম্রাজ্ঞী মহারানী ভিক্টোরিয়ার নামে একটি ইংরেজী হাইস্কুল স্থাপন করেন, যা বর্তমানে নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট হাইস্কুল নামে পরিচিত হয়ে তার স্মৃতি বহন করছে। এই স্কুলকে কেন্দ্র করে ১৮৮৬ সালে একই নামে ইন্টারমিডিয়েট কলেজ স্থাপন করা হয়। কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীন এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন কলেজ।
    রতন বাবু একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রতন বাবুর পুত্র কালীপ্রসন্ন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও ধর্মপ্রাণ ছিলেন। রায় বাহাদুর হরনাথ বাবুর পৌত্র কিরণচন্দ্র গর্বণ সেন্ট কর্তৃক ‘রায় বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। তাঁর ভ্রাতাপুত্র ভবেন্দচন্দ্র উচ্চশিক্ষিত ও জনহিতৌষি ব্যক্তি ছিলেন। রাধাচরণ বাবুর পুত্র যোগেন্দ্রনাথ রায় শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান জমিদার ছিলেন। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র যতীন্দনাথ রায় ইংল্যান্ড হইতে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে বহু বছর যাবৎ ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন।
    জমিদার রামরতন রায়ের মৃত্যুর পর তার মেঝে ভাই রায় বাহাদুর হরনাথ জমিদারীর কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমান নড়াইল-যশোর পর্যন্ত যে পাকা রাস্তা দিয়ে আমরা যাতায়াত করি এই পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রথমে তিনিই অনেক টাকা খরচ করেন।
    ১৭৮৬ সালে যশোর একটি জেলা রূপে পরিগণিত হয়। তৎকালীন যশোর জেলা বর্তমানের সমগ্র যশোর, খুলনা ও ভারতের বনগাঁ জেলা এবং কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিলো। ১৭৯৩ সালে নলদী পরগণাসহ ফরিদপুর জেলার পূর্বাঞ্চল যেমন- কাশিয়ানী মোকসেদপুর, কোটালিপাড়া, বোয়ালমারী, গোপালগঞ্জ সে সময় যশোর জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮৪২ সালে খুলনাকে যশোরের একটি মহাকুমায় পরিণত করা হয়। তৎকালীন সময়ে অভয়নগর থানা এবং কালিয়া থানা খুলনা মহাকুমার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮৬১ সালে নীল বিদ্রোহের সময় নড়াইল মহকুমা স্থাপিত হয়। নড়াইলের জমিদারের কারণে মহাকুমার নাম হয় নড়াইল ও মহাকুমা সদর দপ্তর নড়াইলে স্থাপিত হয়। মহাকুমা সদর স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয় প্রথমে গোপালগঞ্জে, পরে ভাটিয়াপাড়া, কালনা, লোহাগড়া, নলদী এবং সবশেষে বর্তমান জেলা শহরের মহিষখোলা মৌজায়।
    নড়াইল জমিদার বাড়ী ছিল একটি বিরাট এলাকা জুড়ে বহু সুরম্য অট্টালিকা, নাট্যমঞ্চ, পূজামন্ডপ, কাচারী ভবন, অতিথিশালা ও বিখ্যাত বাঈজিদের সাময়িক বাসস্থানরূপে ব্যবহৃত বিশ্রামাগার এবং বহু সংখ্যক পুকুর দীঘি। তৎকালীন পূর্ববঙ্গের মধ্যে এত বড় বাড়ী আর কোন জমিদারের ছিল না বলে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতির ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর জমিদারগণ এ দেশ ছেড়ে ভারতের কোলকাতায় চলে যায়। ১৯৫০ এবং ১৯৫২ সালের দিকে কোলকাতা থেকে জমিদারদের কয়েকজন স্বল্প সময়ের জন্য আসলেও পরবর্তীতে আর আসেনি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কারের অভাবে পুরাতন অট্টালিকাগুলি জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে এবং বিভিন্ন মালামাল চুরি ও নষ্ট হতে থাকে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর এখানে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক গঠিত রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এছাড়া সরকারী রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীদের বাসাবাড়ী হিসেবে দীর্ঘকাল দালান বাড়ী ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৯৮৫ সালের দিকে জমিদার বাড়ীর বিশাল দালান মাত্র পাঁচলক্ষ টাকায় সরকার নিলামে বিক্রি করে দেয়। জমিদার বাড়ীর সামনে একটি মন্দির ছাড়া আর কোন স্মৃতি নেই। এখানে গড়ে উঠেছে একটি সরকারী শিশুসদন। এছাড়া জমিদার বাড়ীর প্রায় ১০ একর জমির উপর স্থাপিত হয়েছে জেলা পুলিশ লাইন। জমিদার বাড়ীর পুকুর দীঘি আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। জমিদারদের বিভিন্ন ধরণের কাজের জন্য যেমন- বেহারা (পাল্কিবাহক), রাজমিস্ত্রি, লাঠিয়াল বা ঢালী, পূঁজাঅর্চনার জন্য পুরোহিত এবং নানা প্রকার সেবা কাজের জন্য দাস সমপ্রদায়, জমিদার বাড়ীর দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের গ্রামে বসবাস করত। এই সকল সমপ্রদায়ের বংশধরেরা তাদের পেশা পরিবর্তন করেছে এবং অনেকে এখন লেখাপড়া করে অন্য পেশায় আত্মনিয়োগ করেছে। কালের পরিবর্তনে জমিদারদের ঐশ্বর্য্য ও বিত্তশালী প্রতীক বিশাল জমিদারী ও সুন্দর প্রাসাদ অট্টালিকার স্মৃতি চিহ্ন বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু জমিদারদের অত্যাচারের স্মৃতি নড়াইলের জনপদের মানুষ ভুলে নাই।

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।