Author: desk

  • বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেছারাবাদ কমিটিতে আও-য়ামী দোস-রদের স্থান দেয়ায় বিএনপির ক্ষো-ভ

    বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেছারাবাদ কমিটিতে আও-য়ামী দোস-রদের স্থান দেয়ায় বিএনপির ক্ষো-ভ

    নেছারাবাদ উপজেলা সংবাদদাতা।।

    অসীম কর্মকারকে আহবায়ক ও সিদ্ধার্থ মন্ডলকে সদস্য সচিব করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেছারাবাদ উপজেলা পূর্ণাঙ্গ আহবায় কমিটি ঘোষণা করায় বিএনপি নেতা কর্মিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তারা এই কমিটিতে আওয়ামীলীগ ও তার দোসর জাসদ এর লোক পূনর্বাসনের অভিযোগ এনে জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে অনতিবিলম্বে এই কমিটি বাতিল জানিয়েছে।

    এদিকে পূজা ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার যুগ্ন আহবায়ক সুজিত সরকার সোশাল মিডিয়ায় এসে এক বার্তায় জানিয়েছেন। সকলের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে গত ১০/০৭/২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেছারাবাদ উপজেলা একটি কমিটি প্রকাশ করা হয় ঐ কমিটি সম্পর্কে আমি অবগত নয়।

    ঐ নবগঠিত কমিটির একজন সদস্য বিধান মন্ডল বলেন, শুনেছি আমাকে সদস্য রাখা হয়েছে কিন্তু এই কমিটির বিষয়ে আমি কিছু জানিনা এটা একটা আওয়ামীলীগের বানানো কমিটি এই কমিটি আমরা মানিনা। সিদ্ধার্থ মন্ডল সে তো একজন বড় আওয়ামিলীগের নেতা।

    এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব সিদ্ধার্থ বলেন, আসলে যারা কমিটিতে আসতে পারেনাই তারাই মুলত এই অভিযোগটি তুলেছেন। সম্পূর্ন গঠন তান্ত্রিক ভাবেই বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর আমি জাসদের সদস্য ছিলাম আওয়ামিলীগের না।

    ঐ কমিটির আহবায়ক অসীম কর্মকার বলেন, পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট এর আহবায়ক এর উপস্থিতে এবং নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতে এই আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে সুতারং এখানে কারো আপত্তি থাকার কথা না, হয়তো যারা এই কমিটিতে আসতে পারেনায় তারা কথা গুলো বলে বেড়াচ্ছেন। তবে সেদিন উপজেলার সকল মন্দিরের লোকজন উপস্থিত থাকলে ভালো হতো।

    জেলা যুগ্ন আহবায়ক সুজিত সরকার বলেন,এই কমিটিটা আসলে একটা অসাংগঠনিক কমিটি হয়েছে। আমি পিরোজপুর জেলা কমিটিকে আহবান করবো একটা সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদীর আদর্শমনা লোক এই সংগঠনে আসুক কোন আওয়ামিলীগ বা তাদের দোসররা এই কমিটিতে না আসতে পারে সেজন্য এই কমিটি বিলুপ্তি করে সম্মেলনের মাধ্যমে একটা কমিটি উপহার দেউক।

    পিরোজপুর জেলা পূজা ফ্রন্ট এর সভাপতি দীলিপ কুমার মিস্ত্রী বলেন, নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একটা আহবায়ক কমিটি করা হয়েছে। আবার এই কমিটি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করবে এর পর সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা কমিটি গঠন করা হবে।সুতারং এখানে রাগ বা ক্ষোভের কিছু দেখছি না। আমরাও চাই সম্মেলনের মাধ্যমে যখন উপজেলা কমিটি গঠন করা হবে তখন জাতীয়তাবাদী আদর্শের লোকগিলো কমিটিতে আসুক।

    আনোয়ার হোসেন
    নেছারাবাদ উপজেলা সংবাদদাতা।

  • একটানা বৃষ্টিতে পাইকগাছা পৌরসদর পানিতে নিম-জ্জিত

    একটানা বৃষ্টিতে পাইকগাছা পৌরসদর পানিতে নিম-জ্জিত

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা)।।
    নিম্নচাপের প্রভাবে এক টানা প্রবল বৃস্টিতে পাইকগাছা পৌর বাজারের স্বর্ণ পট্টি তলিয়ে গেছে। আষাঢ় মাসের শুরু থেকে একটানা গুড়ি গুড়ি, হালকা ও ভারি বৃষ্টি লেগে আছে। মাঝে একদিন গত শনিবার বৃস্টি হয়নি ছিলো কড়া রোদ। তবে রবিবার ও সোমবার ভারী বৃস্টিতে পাইকগাছা পৌরবাজার, কৃষি অফিস ও আদালত চত্তর, বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানিতে আবারও প্লাবিত হয়েছে। বাজারের পাশ ঘেষে শিবসা নদী ভরাট হয়ে পড়ায় পানি নিঃস্কাশন ঠিকমত হয় না। আবার বৃস্টির সাথে জোয়ারের পানি ওঠার কারণে বাজার তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে বাজারের ব্যবসায়ীরা।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাইকগাছা বাজারের মধ্যে দিয়ে পৌরসভার ড্রেন গিয়ে মিশেছে শিবসা নদীর সাথে। পৌর বাজারের বৃস্টির পানি যেয়ে শিবসা নদীতে পড়ে। আবার ভারি জোয়ারের সময় উক্ত ড্রেন দিয়ে পৌর অভ্যান্তরে প্রবেশ করে।রবিবার ও সোমবার সকালের মূষলধারে বৃস্টিতে স্বর্ণ পট্টি, কাচাবাজার, মাংস ও খুচরা মাছ বাজার, কাঁকড়া ডিপো মার্কেট, কর্মকার পট্টিসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। তাছাড়া উপজেলা কৃষি অফিস ও আদালত চত্তরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে।এবছর বর্ষকালের শুরু আষাঢ় মাসের প্রথম থেকে একটানা গুড়ি গুড়ি, হালকা ও ভারি বৃষ্টি লেগে আছে। কয়েক দিনের মধ্যে কয়েকবার একটানা ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমন ধানের বীজ তলা, সবজি ক্ষেত, মৎস্য লীজ ঘের, নার্সারী, পুকুর, বাগান, রাস্তা ও বসতবাড়ী তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপকূলীয় পাইকগাছার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি আর বাড়ছে জনদূর্ভোগ।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা, খুলনা।

  • সাড়ে ৫শ’ বছর পূর্বে পাইকগাছার কপিলমুনিতে আসেন  পীর হযরত জাফর আউলিয়া (রহঃ)

    সাড়ে ৫শ’ বছর পূর্বে পাইকগাছার কপিলমুনিতে আসেন পীর হযরত জাফর আউলিয়া (রহঃ)

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা ( খুলনা ) ।।

    সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনার দক্ষিণ জনপদে ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রচারক হযরত পীর জাফর আউলিয়া (রহঃ) প্রায় সাড়ে ৫ শ’ বছর পূর্বে কপিলমুনিতে আসেন। তবে জাফর আউলিয়া ঠিক কবে কপিলমুনিতে আসেন তার সঠিক সময় জানা না গেলেও তিনি ছিলেন, হযরত খাজা খান জাহান আলীর শিষ্য। কথিত আছে, সাধক পীর কপিলমুনিতে অবস্থানকালীণ নিজ সাধনা আশ্রমেই মৃত্যু বরণ করেন এবং সেখানেই তাঁর সমাধি ও পরবর্তীকালে মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়।

    কথিত আছে, তাঁর কপিলমুনি আগমনের সময় কপিলমুনি অঞ্চল ছিল ঘণ অরণ্যে ভরা। ইসলাম ধর্ম প্রচার ও বিশ্বাস আনতে কপোতাক্ষ তীরবর্তী বর্তমান সমাধিস্থলে নিজ আশ্রম গড়ে তোলেন। ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি তিনি বহু অলৌকিক ঘটনার জন্ম দিয়ে তৎকালীণ সময়ে একের পর এক চাঞ্চল্যের জন্ম দিলে অল্প সময়েই তার প্রতি বিশ্বাস ও বহু শিষ্য তৈরি হয়। মৃত্যুর পর তার সমাধিকে ঘিরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সন্ধ্যা প্রদীপ প্রজ্জলনের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যায় মানতসহ শুভ কাজের শুরুতে তার মাজার জিয়ারত করেন।

    হযরত পীর জাফর আউলিয়া’র মাজার এর উত্তর পাশে কপিলমুনির আরেক প্রাণ পূরুষ রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু গড়ে তোলেন ভরত চন্দ্র হাসপাতাল, পশ্চিমে কপিলমুনি বাজার (বিনোদগঞ্জ), পূর্বে জাফর আউলিয়া মাদ্রাসা, উত্তর-পশ্চিম কোনে কপিলেশ্বরী কালী বাড়ি (মতান্তরে সিদ্ধেশ্বরী), আর উল্লিখিত সীমানার মধ্য ভাগেই অবস্থিত পীর জাফর আউলিয়া (রহঃ) এর মাজার।

    খুলনা জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত জাফর আউলিয়ার মাজার। কোল ঘেঁষে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ। মাত্র কয়েক গজ ব্যাসের মধ্যে কপিলেশ্বরী কালী মন্দির, সার্ব্বজনীন পূজা মন্ডপ, কপিলেশ্বমুনির আশ্রম, দু’টি মসজিদ, জাফর আউলিয়া মাদ্রাসা, রামকৃষ্ণ মন্দির, বেদ মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন ধর্মের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় অবস্থানেও কারো কোন দিন কোন প্রকার ক্ষতি কিংবা সম্প্রীতি ভঙ্গের কারণ হয়নি। তাই আরেক অর্থে কপিলমুনিকে বলা হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ।

    তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, হযরত খানজাহান আলী (রাঃ) ১৪৫৯ খৃষ্টাব্দের ২৫ অক্টোবর, ৮৬৩ হিজরী ২৬ জিলহাজ্জ্ব) (মাজারশরীফের শিলালিপি অনুযায়ী) ষাট গম্বুজ মসজিদের দরবার গৃহে এশার নামাজ রত অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

    এর আগে হযরত উলুঘ খানজাহান আলী (রাঃ) ১৩৬৯ খ্রিস্টব্দে দিল্লীতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আকবর খাঁ এবং মাতার নাম আম্বিয়া বিবি। খানজাহান আলীর প্রাথমিক শিক্ষা তার পিতার কাছে শুরু হলেও তিনি তার মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন দিল্লীস্থ বিখ্যাত ওয়ালি এ কামিল পীর শাহ নেয়ামত উল্লাহর কাছে। তিনি কুরআন, হাদীস, সুন্নাহ ও ফিকহ শাস্ত্রের উপর গভীর জ্ঞানার্জন করেন।

    খানজাহান আলী ১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দে তুঘলক সেনা বাহিনীতে সেনাপতির পদে কর্ম জীবন আরম্ভ করেন। এরপর অল্প দিনেই প্রধান সেনাপতি পদে উন্নীত হন। ১৩৯৪ খৃষ্টাব্দে মাত্র ২৬/২৭ বছর বয়সে তিনি জৈনপুর প্রদেশের জাবিতান (গভর্ণর) পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সুলতান খানজাহানের নেতৃত্বে ৬০,০০০ সুশিক্ষিত অগ্রবর্তী সেনাদলসহ আরও দুই লক্ষ সৈন্য নিয়ে বাংলা আক্রমণ করলে রাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুরিয়াতেতে আশ্রয় নেন। ১৪১৮ খৃষ্টাব্দে খানজাহান যশোরের বার বাজারে অবস্থান নেন এবং বাংলার দক্ষিণ পশ্চিম অংশে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারে কার্যক্রম শুরু করেন।

    এখানে উল্লেখ্য যে, হযরত খানজাহান আলীর মৃত্যু হয় প্রায় ৫৬৫ বছর আগে। আর হযরত জাফর আউলিয়া খানজাহান আলীর শিষ্য হলে তিনিও প্রায় সাড়ে ৫শ’ বছর আগে কপিলমুনিতে আসেন ইসলাম প্রচারের জন্য।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দিন জাফর আউলিয়ার মাজারটি ছিল অবহেলিত। ১৯৬৯ সালের দিকে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার প্রয়াত শেখ রাজ্জাক আলী তৎকালীণ প্রায় ৮শ’ টাকা খরচ করে মাজারটির সংস্কার ও পর্যায়ক্রমে কয়েক দফায় সরকারি ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে দর্শনীয় পর্যায়ে রুপায়ন করেন। ১৯৫৮ সালে পীরের নামানুসারে স্থানীয় কতিপয় প্রগতিশীল ও শিক্ষানুরাগী মানুষ প্রতিষ্ঠা করেন, জাফর আউলিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা। সাবেক স্পীকার প্রয়াত শেখ রাজ্জাক আলী নিজ ১০ লক্ষ টাকা অর্থায়নে মাজার প্রাঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করেন, জাফর আউলিয়া জামে মসজিদ।

    সেই শ্মরণাতীত কাল থেকে অদ্যাবধি প্রতিদিন পিরের মাজারে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আসে অসংখ্য ভক্তবৃন্দ। সব ধরনের সাম্প্রদায়িকতা ভুলে সব ধরনের ধর্মাবলম্বীরা মানতসহ ও শিরনি নিয়ে আসেন করুণা প্রত্যাশায়। কপিলমুনির কপোতাক্ষ তীরে আরেক সনাতনী সাধক পুরুষ কপিলেশ্বর মুনির (কপিলদের) সিদ্ধীলাভের ক্ষণ প্রতিবছর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে কপোতাক্ষের কালীবাড়ি ঘাটে গঙ্গাস্নান উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বারুণী মেলাও বসে জাফর আউলিয়া মাজার চত্ত্বরে। কপিলমুনি-কাঠামারী সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামানুসারে ‘জাফর আউলিয়া সড়ক’। পীরজাফর আউলিয়াকে (রহঃ) ঘিরে রয়েছে অনেক অলৌকিক কাহিনী।

    কথিত আছে, একদিন তিনি তাঁর অন্যতম শিষ্য ছালাওয়ালা ফকিরসহ দুর্গম এলাকায় যান। সেখানে কিছুদিন অবস্থানকালে জনৈকা বৃদ্ধা তাকে নিজ গরুর ধুধ দিতেন পান করার জন্য। আকষ্মিক একদিন বৃদ্ধার গাভীটি মারা যাওয়ার কারণে দুধ দিতে পারেননি। তবে যথারীতি পীরের শিষ্য ছালাওয়ালা যান বৃদ্ধার বাড়িতে দুধ আনতে। সেখানে গিয়ে বৃদ্ধার গরু মৃত্যুর খবরে হতবাক হয়ে পড়েন। দুধ না হলে হুজুর কি খাবেন? এমতাবস্থায় তিনি বৃদ্ধার কাছ থেকে জেনে নেন মরা গাভীটির কোথায় ফেলা হয়েছে। এরপর ছালাওয়ালা ফকির মরা গাভীটি লেজ ধরে টেনে বলেন, এই গাভী ওঠ। এসময় মরা গাভী উঠে দাঁড়ালে তার থেকে দুধ নিয়ে ফকির খাওয়ান পীর জাফর আউলিয়াকে। বিষয়টি আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে পীর কেবলা অবগত হয়ে ছালাওয়ালাকে ধমকে বলেন, ‘তুই আমাকে মরা গরুর দুধ খাওয়াবি’। সঙ্গে সঙ্গে এহেন অপরাধে অন্য শিষ্যরা ছালাওয়ালাকে বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়। পুরো এলাকায় কানাঘুষা শুরু হয়, পীর কেবলা তার এক শিষ্যকে বস্তাবন্দি করে নদীতে ডুবিয়ে মেরেছে’। হুজুর অলৌকিক শক্তি বলে সম্ভবত তিনি চমক দেওয়ার জন্যই ওই এলাকা ত্যাগ করে কপিলমুনি ফিরে আসেন এবং শিষ্যদের নিয়ে জঙ্গল পরিষ্কার করে তিনি স্থায়ী স্থান তৈরি করেন। তিনি ইসলাম প্রচার কর্মকান্ডের সঙ্গে সঙ্গে আধ্যাত্মিক বলে মানুষের খেদমত শুরু করেন। নদীভাঙ্গন, খালের বাঁধ, বনে বাঘের হাত থেকে রক্ষা পেতে তদবির দিতেন। এ ধরনের অসংখ্য অলৌকিকতার দৃষ্টান্ত জনপদে আজও কথিত আছে।

    মাজারে আসা ভক্তরা বলেন, ‘তারা পূর্ব পূরুষ ধরে পীরের মাজারে আসেন। পীরের দোয়া, আশীর্বাদ, ধুলিমাটিতে এখনো আশান হয় তাদের যাবতীয় মুশকিলসহ মনোবাসনা পূরণ হয়’।

    মাজারের বংশ পরম্পরার খাদেম ইউনুস ফকির জানান ‘আমরা বংশানুক্রমিকভাবে সেই স্মরণাতীতকাল থেকে মাজারের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মাজারে আগত ভক্তদের দানিও পণ্য তারা সেবা হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রতিবছর পৌষ এবং বৈশাখ মাসে আশপাশের কয়েকটি থানার ভক্তবৃন্দের বাড়ি থেকে তারা খাদ্যশস্য ফল-ফলাদী, শাকসবজি এমনকি নগদ অর্থ উপহার হিসেবে সংগ্রহে যান। মাজারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পাঁচটি ফকির পরিবার এই উপঢেীকন সামগ্রী গ্রহণ করেন।

    এলাকাবাসীর দাবি, পীর জাফর আউলিয়ার মাজারটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে দেখভাল করা হোক। জেলার ঐতিহাসিক প্রত্নতত্ত্ব স্থান হিসেবে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অকুকূল পরিবেশ জরুরী। এব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • পীরগঞ্জে হুসেইন মুহাম্মদ এরশদারে মৃ-ত্যু বার্ষিকী পালিত

    পীরগঞ্জে হুসেইন মুহাম্মদ এরশদারে মৃ-ত্যু বার্ষিকী পালিত

    পীরগঞ্জ (ঠাকুরগঁাও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগঁাওয়ের পীরগঞ্জে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ৬ষ্ঠ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার দুপুরে উপজেলা জাতীয় পাটি পীরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক চত্বরে এ দোয়া ও মাহফিলের আয়োজন করেন।

    এ সময় উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি দবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ঠাকুরগঁাও-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক উপাধক্ষ্য ফয়জুল ইসলাম, যুগ্ন সম্পাদক মাসুদুর রহমান,জাপা’র খনগঁাও ইউনিয় সভাপতি মাহাবুব জামিল,বৈরচনা ইউনিয়ন সভাপতি বকুল আলম ডাক্তার, দৈলতপুর ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল মান্নান, সৈয়দপুর ইউনিয়ন সভাপতি হামিদুর রহমান, জাপা’র নেতা সাবেক কাউন্সিলর কামরুজ্জামান, জাপা’র নেতা রিয়াজুল ইসলাম প্রধান ও আনোয়ার হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক,শামীম হোসেন এবং মহিলা নেত্রী নাজমা বেগম, ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান ও শাহালম প্রধান, উপজেলা যুবসংহতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম,ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম,ছাত্রনেতা আক্তারুল ইসলাম,ও সবুজ আলী প্রমুখ।
    পরে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

  • পাইকগাছায় দিনভর টানা ভারীবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজারো মৎস্য ঘের, পুকুর ও ফসলি জমি

    পাইকগাছায় দিনভর টানা ভারীবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজারো মৎস্য ঘের, পুকুর ও ফসলি জমি

    ইমদাদুল হক,পাইকগাছা ( খুলনা ) ।।

    খুলনার পাইকগাছায় সোমবার ভারী বর্ষায় উপকূলীয় নিন্মাঞ্চলপ্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি আর বেড়েছে জনদুর্ভোগ। উপজেলা কৃষি অফিস ও আদালত চত্বরসহ বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি দপ্তর,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

    কয়েক দিনের মধ্যে কয়েকবার একটানা ভারী বর্ষণে পাইকগাছার বিস্তির্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এ বছর বর্ষকালের শুরু আষাঢ় মাসের প্রথম থেকে একটানা গুড়ি গুড়ি, হালকা ও ভারি বৃষ্টি লেগে আছে। এতে আমন ধানের বীজ তলা, সবজি ক্ষেত, মৎস্য লীজ ঘের, নার্সারী, পুকুর, বাগান, রাস্তা ও বসতবাড়ী তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    পাইকগাছার গদাইপুর,হরিঢালী,কপিলমুনি ও রাড়ুলী উঁচু এলাকা হলেও পানিতে তলিয়ে গেছে নার্সারি বাগানে হয়েছে চরম ক্ষতি।বাকী ৬টি ইউনিয়ন নিচু এলাকায় অবস্থিত। সামান্য বৃষ্টি হলে এ সকল এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তবে গত দিনের ভারী বর্ষণে উঁচু এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। পৌর বাজারের স্বর্ণ পট্টি, মাছ বাজারসহ বিভিন্ন রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীন রাস্তাগুলি পানিতে তলিয়ে থাকে। বাড়ির উঠানে পানিতে তলিয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ বিড়াম্বনায় পড়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষরা কাজে যেতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়ে আর্থিক অনাটনের মধ্যে পড়েছে।

    উপজেলার সদর ইউনিয়ন গদাইপুরের কয়েক’শ নার্সারী ক্ষেত পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেত ও আমন ধান ঝড়ো হাওয়ায় পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনের একটানা বৃষ্টিতে মানুষের জনদূর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

    উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এলাকাবাসির একই অভিযোগ, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের পানি নিষস্কাশনের ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। তাছাড়া ব্যক্তি স্বার্থে কিছু মানুষ তার বাড়ির সামনের বা পাশের ড্রেনটি বন্ধ করে রাখায় বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানি ঠিক মত বের হতে পারছে না। এতে করে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

    পাইকগাছা মেইন সড়কের গোলাবাটি,সলুয়া, নতুন বাজার ও জিরো পযেন্ট এলাকার ভাঙ্গা রাস্তা আরো ভেঙ্গে ছোট ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। যানবাহন ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে।

    পাইকগাছা উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নার্সারি ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, ভারী বৃষ্টিতে নার্সারীর বেড ডুবে লক্ষ লক্ষ মাতৃ চারা মরে গেছে। ফলে কোটি কোটি টাকার লোকসান হবে এ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। বৃষ্টি না কমলে আমারা চারা উৎপাদন করতে পারবোনা।

    পৌরসভার কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, সবজি ও ধানের বিজ তলা তলিয়ে গেছে। বাড়ির উঠান পর্যন্ত বৃষ্টির পানি জমে আছে ।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এলাকা প্লাবিত হয়ে আমন ধানের বীজ তলা তলিয়ে গেছে ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের উপসহকারি কর্মকর্তারা ইউনিয়ানে কাজ করছেন। ভারি বৃষ্টির কারনে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

    উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সৈকত মল্লিক বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার পুকুর ও প্রায় পাঁচ হাজার ছোট বড় ঘের তলিয়ে গেছে। যদি আবার এখন ভারী বৃষ্টি না হয় তাহলে অতি দ্রুত পানি সরে যাবে। এতে কোটি টাকার মাছ চলে যাবে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।পানি নিষস্কাশনের জন্য নদীর স্লুইস গেটগুলি উন্মুক্ত রাখাসহ বিভিন্ন পানি নিঃস্কাশনের ড্রেনগুলি পরিস্কার করার জন্য টিমগুলি কাজ করছে।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।।

  • জন্মগত প্রতি-বন্ধী আরিফকে প্রকাশ্যে কু-পিয়ে গুরু-তর জ-খম

    জন্মগত প্রতি-বন্ধী আরিফকে প্রকাশ্যে কু-পিয়ে গুরু-তর জ-খম

    বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মোঃ মহিউদ্দিন খাঁন রানা।।

    বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের উত্তর ভূতেরদিয়া লাশ ঘাটা এলাকায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।

    জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী মো: আরিফ (পিতা: মো: বাবুল হাওলাদার, পেশা: দিনমজুর) আজ দুপুরে কিছু সন্ত্রাসীর হাতে নির্মমভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। জানা গেছে, সন্ত্রাসীরা তাকে রাস্তায় ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, আরিফের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    এখন পর্যন্ত হামলার কারণ স্পষ্ট নয়, তবে এলাকাবাসী এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছেন।

  • পলাশবাড়ীতে এক সন্তানের জননীর মৃ-ত্যু নিয়ে রহস্য,স্বামী,শ্বশুর শ্বাশুড়ি পলা-তক,লা-শ দা-ফন সম্পন্ন

    পলাশবাড়ীতে এক সন্তানের জননীর মৃ-ত্যু নিয়ে রহস্য,স্বামী,শ্বশুর শ্বাশুড়ি পলা-তক,লা-শ দা-ফন সম্পন্ন

    আমিরুল ইসলাম কবির,
    স্টাফ রিপোর্টারঃ

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৫ বছরের এক কন্যা সন্তানের জননী সম্পা আক্তার (২১)’র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে না হত্যা করে মুখে কীটনাশক ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৩ই জুলাই) বিকেলে পৌর এলাকার শিমুলিয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়।

    স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়,পলাশবাড়ী উপজেলার ১নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাতুলী গ্রামের ইসলাম মিয়ার মেয়ে সম্পা আক্তারের সাথে পৌর এলাকার শিমুলিয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে মোনারুল ইসলাম মামুনের সাথে প্রায় ৭ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল।

    এরই মধ্যে তাদের সংসারে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু স্বামী মামুন ক্যাসিনো,জুয়া ও মাদকে আসক্ত হয়ে যৌতুকের টাকার জন্য এবং কারণে অকারণে তাদের সংসারে পারিবারিক কলহসহ অশান্তির সৃষ্টি বলে সম্পার বাবা মা সহ পরিবারের লোকজন দাবী করে । আর ঘটনার দিন বিকেলে গৃহবধু সম্পা আক্তার বাড়ীর সকলের অজান্তে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে বলে তার স্বামী,শ্বশুর শ্বাশুড়ি অপপ্রচার চালায়। কিন্তু এলাকার অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,স্বামী মামুন তার স্ত্রী সম্পা’কে বেদম প্রহার করে। এসময় সম্পা মরণাপন্ন হলে অবস্থা বেগতিক দেখে তার মুখে কীটনাশক ঢেলে দিয়ে হত্যাকে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালায় স্বামী ও স্বামী পরিবার। পরে স্বামী ও শ্বশুর শ্বাশুড়ি সম্পাকে পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তড়িঘড়ি করে লাশ ধুরন্ধর স্বামী ও শ্বশুর শ্বাশুড়ি তাদের বাড়িতে রেখে সবাই পালিয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে,সম্পার মৃত নিশ্চিত হওয়ায় স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ির মূল্যবান মালামাল কৌশলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে বলে এলাকার অনেকেই সহ সম্পার পিতার পরিবার দাবী করেন। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবের জন্য মোটা অংকের নগদ নারায়ণ ইতিমধ্যেই ধুরন্ধর মামুন ও তার পরিবার ঢেলেছেন বলে তারা বিভিন্ন সূত্রে খবর কানে আসছে বলেও জানান।

    খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। থানা অফিসার ইনচার্জ মো.জুলফিকার আলী ভূট্টো বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,সম্পা আত্মহত্যা করেছে না তাকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই তা জানা যাবে।

    সম্পার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও তার পিতা ও পরিবারের লোকজন জানান।

    পরদিন সোমবার সম্পার মরদেহ পিতার বাড়িতে আনলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে ও জানাজা শেষে বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে লা#শ দাফন সম্পন্ন করা হয়।

    এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা না হলেও সম্পার ভাই /পিতা ও নিকটজনরা থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।।

  • ২,৮৫০ পিস ইয়া-বাসহ দুই মাদ-ক পা-চারকারী গ্রে-ফতার

    ২,৮৫০ পিস ইয়া-বাসহ দুই মাদ-ক পা-চারকারী গ্রে-ফতার

    শহিদুল ইসলাম,
    চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

    চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২,৮৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), চট্টগ্রাম মেট্রো উপঅঞ্চল।

    সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএনসি’র উপপরিদর্শক গোপাল কৃষ্ণ দাস। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খোন্দকার।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন—১. রোকসানা বেগম (৪২), স্বামী সামশুল আলম, সাং: দক্ষিণ দিক্কুল, ঝিলংজা, কক্সবাজার সদর। তার কাছ থেকে ২,১৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি আগেও ইয়াবা পাচারের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।২. নুর ইসলাম (২৭), রোহিঙ্গা নাগরিক, সাং: কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়া, কক্সবাজার। তার নিকট থেকে উদ্ধার করা হয় ৭০০ পিস ইয়াবা।

    ডিএনসি সূত্র জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে খাদ্য পরিদর্শক অপহ-রণের সাড়ে ৫ ঘন্টার মধ্যে উ-দ্ধার

    খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে খাদ্য পরিদর্শক অপহ-রণের সাড়ে ৫ ঘন্টার মধ্যে উ-দ্ধার

    শেখ তৈয়ব আলী খুলনা।

    অপহরণের সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে খুলনায় সুকান্ত কুমার মজুমদার নামের একজন খাদ্য পরিদর্শককে উদ্ধার করেছে খুলনা মেট্রোলিটন পুলিশের (কেএমপি) এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ টিম। রাত সাড়ে ১২টায় তাকে জেলার তেরখাদা থানার আজোগড়ার একটি স্কুলের সামনের রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
    রবিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটায় নগরীর খুলনা থানাধীন চার নম্বর ঘাটে এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে কয়েকজন ব্যক্তি।
    পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে এবং সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১৩টার দিকে তাকে উদ্ধার করে। কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এটি নিশ্চিত করেছেন।
    তেরখাদার আজোগড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রহিম বলেন, অপহৃত খাদ্য পরিদর্শককে রাস্তায় পাওয়া যায়। তাকে খুলনা নগর ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিয়ে গেছে।
    এর আগে নগরীর ৪ নম্বর ঘাট এলাকা থেকে রবিবার (১৩ জুলাই) আনুমানিক সন্ধ্যা সাতটার দিকে খাদ্য পরিদর্শক সুশান্ত কুমার মজুমদারকে পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করা হয়।
    পথচারীদের ধারণকৃত মোবাইলের ভিডিওতে এমনটি দেখা যায়। এছাড়া অপহৃত খাদ্য পরিদর্শকের স্ত্রীর দায়েরকৃত একটি অভিযোগ থেকেও এমনটি জানা যায়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় এ অভিযোগটি দায়ের হলে পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে নামে এবং তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
    খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ।
    আপহৃত খাদ্য পরিদর্শকের স্ত্রী মাধবী রানী মজুমদার খুলনা থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, মোঃ রেজা ও বাবু মন্ডল নামের দুই ব্যক্তি এবং সঙ্গে আরও তিনজন তাকে অপহরণ করে।
    সুশান্ত কুমার মজুমদার ৪ নং ঘাটের খাদ্য পরিদর্শক ও ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
    ইতোপূর্বে বাবু মণ্ডল উক্ত পরিদর্শকের নিকট কয়েকবার টাকা দাবি করে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু খাদ্য পরিদর্শক সুশান্ত কুমার মজুমদার উক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

  • কুমিল্লার আলেখারচরে জুলাই গনঅ-ভ্যুত্থানে জুলাই শহীদ স্মৃ-তিস্তম্ভের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন

    কুমিল্লার আলেখারচরে জুলাই গনঅ-ভ্যুত্থানে জুলাই শহীদ স্মৃ-তিস্তম্ভের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন

    কুমিল্লা থেকে তরিকুল ইসলাম তরুন,

    কুমিল্লায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আজ ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ’ এর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হয়।

    কুমিল্লা, ১৪ জুলাই, ২০২৫, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে
    সোমবার কুমিল্লার সদর উপজেলার আলেখার চরে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন, প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লার বীর শহীদদের আত্মত্যাগ ও অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে এই স্তম্ভটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

    এসময় তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং এই স্মৃতিস্তম্ভটি নতুন প্রজন্মের কাছে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্মৃতি স্তম্ভ

    এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পঙ্কজ বড়ুয়া।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবর্গ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।এরকম উদ্যাগে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারি আবু বলেন আগষ্টের ৪ তারিখ ২০২৪ ছিল স্মরনীয়, নির্বিচারে ছাত্র জনতার উপর গুলি করেছিল আওয়ামী লীগের দোসরা,আমরা জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ করেছি মাঠে থেকেছি।আলেখারচর শহীদের মর্যাদার জন্য স্মৃতি স্তম্ভ ভিত্তি স্থাপন হওয়াতে আমি মনে সুন্দর হয়েছে। ঢাকা চট্টগ্রাম যাতায়াতে সহসা মানুষ দেখতে পাবে।ধন্যবাদ জানাই কুমিল্লা জেলা প্রশাসনকে।