হেলাল শেখঃ বর্তমানে প্রতারক চক্র সক্রিয়-ঢাকার আশুলিয়ায় প্রতারক চক্র কর্তৃক জাল জালিয়াতি করে চাকরি দেয়া ও কিস্তির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বাংলার বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’র সন্ধ্যান, র্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে ২ প্রতারককে গ্রেফতার করেছেন।
ঢাকার আশুলিয়ায় “বাংলার বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা” নামের একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন আর্থিক সংস্থা এমএলএম ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিম্মি করে প্রতারক চক্র-তাদের কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ আগস্ট ২০২২ইং তারিখ বিকেল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন জিরাবো বাগানবাড়ি এলাকার মোঃ শহিদুল ইসলাম ওরফে মুরগি শহিদের বাড়ির ৩য় তলায় অভিযান পরিচালনা করে “বাংলার বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’র ২৫টি ফরম, বিভিন্ন রেজিস্টার, ৬টি নিয়োগপত্র, ৫৩টি মানি রিসিভ, আইডি কার্ড ও বিভিন্ন কাগজপত্রসহ উক্ত ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ শরিফ মিয়া (৩৬) ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক (৪০) কে গ্রেফতার করেছেন।
র্যাব-৪ জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরা তাদের প্রতারণার কথা স্বীকার করে এবং বিভিন্ন সাধারণ ও নিরীহ লোকজনের নিকট হতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমানের নগদ অর্থ প্রতারণামূলক ভাবে আত্মসাৎ করে আসছিলো। তাদের প্রতারণার কৌশলঃ আশুলিয়া থানাধীন জিরাবো বাগানবাড়ি এলাকায় “বাংলার বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা” একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটি প্রতারণামূলক ভাবে উত্তরা লের গাইবান্ধা জ্বীনের বাদশা এলাকায় এবং আশুলিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় তাদের এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো। র্যাব জানায়, উক্ত ভুয়া প্রতিষ্ঠানটি এ্যাডমিন অফিসার ও বিভিন্ন লোভনীয় পদে চাকুরি দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮০-৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিতেন এবং কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়া হলেও তাদের বেতনের টাকা কখনো দেয়া হতো না। এ প্রতারক চক্রের গাইবান্ধা এলাকায় অবাি ত ঘোষণার পর ঢাকা জেলার জনবহুল এলাকা আশুলিয়ায় শহিদুল ইসলামের নিকট তারা আশ্রয় নেয়।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ ইউনুছ আলী বলেন, র্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, উক্ত প্রতারক চক্রের সাথে যদি আরও কেউ জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়রা জানান, আশুলিয়ায় ১০-১২ জনের একটি প্রতারক চক্র সক্রিয় হওয়ায় বাড়ছে প্রতারণা। সেই সাথে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড। আশুলিয়ায় এই প্রতারক চক্রের ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে এর আগে ১০জনকে গ্রেফতার করে র্যাব-৪। অনেকেই আদালত থেকে জামিনে এসে আবারও সেই অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে বলে সূত্র জানায়। আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকার মজিবুর রহমানের বাড়ীর ভাড়াটিয়া মোঃ রেজাউল করিম (৪০) গণমাধ্যমকে বলেন, বগুড়ার সাড়িয়াকান্দির রৌহদহ এলাকার মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০-১২ জনের একটি প্রতারক চক্র আশুলিয়া এলাকায় থেকে বিভিন্ন কৌশলে আমার কাছ থেকে ৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং ষ্ট্যাম্পে জোরপূর্বক ভাবে সহি স্বাক্ষর নিয়েছে। আমি এ বিষয়ে মামলা করার জন্য আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করিয়েছি। তিনি বলেন, এই চক্রের সাথে আরও ১০-১২ জন প্রতারক আছে, যারা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে থাকে, তার অনেক প্রমান আছে বলে এই ভুক্তভোগী জানান। এ বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর মোহাম্মাদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, আশুলিয়ায় নারী ও পুরুষসহ প্রতারক চক্র বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে, র্যাব কর্তৃক প্রায়ই দুই চারজন গ্রেফতার হচ্ছে, আমরা চেষ্টা করছি অপরাধ দমন করার জন্য। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে দ্রুত আমরা অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের সাথে জড়িতদের আটক করে আইনগত ব্যববস্থা নিবো। র্যাব-১ এর একজন গোয়েন্দা অফিসার জানায়, আশুলিয়ায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড দমন করতে আমরা কাজ করছি, আমাদের এ ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
র্যাব-৪ এর বিশেষ একটি দল এর আগে আশুলিয়া ও কালিয়াকৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০জন প্রতারক ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেফতার করে। ঘটনার দিন রবিবার বিকেলে সাভারের নবীনগর সিপিসি-২, র্যাব-৪ এর কার্যালয়ে ১০জন ভুয়া ডিবি পুলিশকে গ্রেফতারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন কোম্পানি কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খাঁন। এরপর তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। র্যাব-৪ এর কোম্পানী কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খাঁন জানান, আশুলিয়া ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় এই চক্রটি ভুয়া ডিবি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাসা বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানসহ গাড়িতে ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিলো। র্যাব-জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার দিন রবিবার ভোর রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আশুলিয়া ও কালিয়াকৈর পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০জনকে আটক করা হয়। এসময় ডাকাতি কাজে ব্যবহত ১টি প্রাইভেটকার, একটি অটোরিক্সা, তিনটি ওয়াকিটকি, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, একটি বেতের লাঠি, ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, বগুড়ার আশরাফুল (৩২), শেরপুরের রুবেল (৩০), কিশোরগঞ্জের আরিফুজ্জামান শরিফ (৩৮), নেত্রকোণার রফিকুল ইসলাম (৩০), নড়াইল জেলার রুবেল মুন্সী (৩২), শেরপুর জেলার সাকিব (১৯), জামালপুরের ইউসুফ (২৫), কুষ্টিয়ার আবু তাহের (৩৮), টাঙ্গাইলের সুমন মিয়া (২৩)। জানা গেছে, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, উত্তরা, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ৭-৮টি গ্রুপ রয়েছে এই প্রতারক চক্রের। তারা কখনো ভুয়া ডিবি পুলিশ, কখনো ভুয়া সাংবাদিক, কখনো ভুয়া উকিল, কখনো ভুয়া মানবাধিকার কর্মকর্তা সেজে ফিটিংবাজি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এরূপ ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়দানকারী ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে র্যাব-৪ এর জোড়ালো সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Author: desk
-

প্রতারক চক্র সক্রিয়-আশুলিয়ায় ‘বাংলার বন্ধু মাল্টিপারপাসের ২ প্রতারককে গ্রেফতার
-

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ সারা বিশ্বের মানুষ প্রশংসা করেন
হেলাল শেখঃ আগস্ট মাস বাঙ্গালি জাতির শোকের মাস, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের ছোট বড় সবাইকে হত্যা করেছে ঘাতকরা। তাই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করেন জাতি। বিশেষ করে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সারা বিশ্বের মানুষ প্রশংসা করেন। বাঙালির দীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের চুড়ান্ত লড়াইয়ের সূচনা হয়। প্রতিবছর এই দিবস জাতির জীবনে প্রেরণায় উজ্জীবিত হওয়ার নতুন বার্তা নিয়ে আসে।
৭ই মার্চ ও ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে জাতীয় দিবসগুলো পালন করেন জাতি। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে হানাদার বাহিনী বিভীষিকাময় অবস্থার সৃষ্টি করে মেশিনগান মর্টারের গোলায়। এই দিনে প্রথম প্রহরে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা নিরস্ত্র নিরপরাধ বাঙালির বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করলে মুক্তি সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন: পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিত পিলখানায় ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের নিরপরাধ লোকদের হত্যা করেছে। তখনকার সময়ে ঢাকা, চট্রগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছিলো।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে এই দেশ স্বাধীন না হলে আমাদের কোনো স্বাধীনতা থাকতো না, বাঙ্গালি জাতি আমরা বাংলা নববর্ষ পালন করতে পারতাম না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র’ নামে এক নতুন অধ্যায় শুরু করেন তৎকালীন পাকিস্তান বেতারের তিনজন পথপ্রদর্শক শব্দসৈনিক বেলাল মোহাম্মদ, আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক এবং প্রয়াত আবুল কাশেম সন্দ্বীপ। ২৬ মার্চ ১৯৭১ সন্ধাবেলায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে ৮৭০ কিলোওয়াট ট্রান্সমিটার থেকে এই বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ও ২৫ মার্চ ১৯৭১-এ পাঠানো স্বাধীনতার ঘোষণাভিত্তিক তারবার্তার আদলে স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত অনুষ্ঠান ২৬শে মার্চ ১৯৭১ইং সালে কালুরঘাট থেকে সম্প্রচার করেন এম এ হান্নান, সুলতানুল আলম, বেলাল মোহাম্মদ, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, কবি আবদুস সালাম, এবং মাহমুদ হাসান। এসময় তারা বারবার বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া বার্তা পাঠ করেন। এইদিন ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরের আদমজী কলেজ থেকে বন্দী অবস্থায় বঙ্গবন্ধুকে ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়।
পাকহানাদার বাহিনী ঢাকায় দিনরাত কারফিঊ দিয়ে দলে দলে রাস্তায় নেমে ভবন, বস্তি, ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বাসভবনের ওপর ভারি মেশিনগান ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। এলাকার পর এলাকায় আগুন লাগিয়ে ভয়ার্ত নরনারী ও শিশুদেরকে অগ্নিদগ্ধ করে এবং গুলি করে হত্যা করে। বিদেশি সাংবাদিকদের হোটেলের কন্টিনেন্টালে আটক রাখা হয়। এরপর ঘটে যায় অনেক ঘটনা, ৯ মাস যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, ২ লাখ মা-বোনকে নির্যাতন করা হয়। কম্পিউটার বিসিএস প্রিলিমিনারী গাইড সূত্র- ২৬ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস বলা হয় কেন ? ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ নাম ধারণ করে। বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এর জন্যই ২৬ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়। মহান স্বাধীনতার স্মৃতি কথা আমাদের সবাইকে অনেককিছু মনে করে দেয়। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক জনতার। -

পাইকগাছা থানা পুলিশের অভিযানে মাদক সহ বিক্রেতা আটক
পাইকগাছা (খুলনা)প্রতিনিধি।।পাইকগাছা থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক সহ বিক্রেতাকে আটক করেছে। আটক ওই বিক্রেতাকে বৃহষ্পতিবার সকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক রফিকুর ইসলাম জানান, উপজেলার রাডুলী ইউনিয়নের রাড়ুলী (০৩ নং ওয়ার্ড) প্রধান সড়কের পাশে মাদক বেচা কেনা হচ্ছে এমন সংবাদ পাই। এ সময় সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বুধবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় অভিযান চালাই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় রাড়ুলী ইউনিয়নের মৃত্যু বশির শেখের পুত্র আবুল শেখ (৬০) কে আটক করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজ বসতবাড়ীর দেওয়ালে বাহির পাশের চম্বল গাছের গোড়ায় পাতার নিচ হইতে নিজ হাতে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৪০ (চল্লিশ) গ্রাম গাঁজা বের করে দেয়। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউর রহমান জানান আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন মাদক বিক্রি করে আসছিলো। সে মাদকদ্রব্য গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ দখলে রাখিয়া ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ৩৬(১) সারণি এর ১৯(ক) ধারায় অপরাধ করায় তার নামে মাদক আইনে মামলা হয়েছে।ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা,খুলনা। -

আদালতের নির্দেশে ৩২ মাস পর পরিচয় উদ্ধার ঝিনাইদহ কারাগারে বিনা বিচারে আটক
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহ কারাগারে বিনা বিচারে ৩২ মাস ধরে আটক থাকা অজ্ঞাত পরিচয় প্রতিবন্ধির অবশেষে পরিচয় মিলেছে। কোন অভিযোগ ছাড়া কারাগারে আটক ব্যক্তির নাম মৃণাল রায়। তিনি নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ চাওড়া গ্রামের যতিন্দ্র্র রাথ রায়ের বড় ছেলে। দৈনিক নবচিত্র পত্রিকায় এ নিয়ে একটি খবর প্রকাশিত হয়। বিনা বিচারে কারাগারে আটক থাকার বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাস এক আদেশ জারি করেন। নীলফামারি পুলিশ ও ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিস আটক ব্যক্তির পরিচয় উদ্ধারে তদন্ত শুরু করেন। পরিচয় উদ্ধারের পর মৃনাল রায়ের পরিবার ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করেন। এ বিষয়ে বিজ্ঞ বিচারক নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে ফোনে কথা বলে অবিলম্বে আটক ব্যাক্তির পরিচয়ের সমর্থনে কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় মৃনালের মামা চিনেন্দ্র নাথ রায় নিলফামারী থানায় হাজির হয়ে নিশ্চিত করেন ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে আটক ব্যাক্তি তার হারিয়ে যাওয়া ভাগ্নে মৃণাল রায়। তিনি দাবীর সপক্ষে ভাগ্নের জন্ম নিবন্ধন সনদসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট জমা দেন। মামা চিনেন্দ্র নাথ রায় আরো জানান, তার ভাগ্নে প্রায় ৬/৭ বছর যাবৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ। পরিবার বহু জায়গায় খুজেও তাকে পায়নি। ছেলে হারানোর শোকে ইতিমধ্যেই তার গর্ভধারিনী মা সুধা রায় মারা গেছেন। অসুস্থ বাবাও শয্যাশাযী। আদালত সুত্রে জানা গেছে, মৃনালের পরিবার উপযুক্ত কাগজপত্র দাখিল করলে যে কোন দিন সে মুক্তি পাবে। ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান এলাকা থেকে পরিচয়হীন এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ। একটি জিডির ভিত্তিতে এসআই মোহাম্মদ ইউনুচ আলী গাজী অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার জন্য আবেদন জানান। আদালত জেলা কারাগারের নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। সেই ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে কারাগারেই রয়ে গেছেন মৃনাল রায়। জেল সুপার আরও জানান, বিষয়টি ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাসের নজরে আসলে তিনি (বিচারক) স্বউদ্যোগে লোকটির আসল ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। ৩১ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টেকনাফ, কক্সবাজার, উখিয়া ভাসানচর থানার অফিসার ইনচার্জসহ ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছবি পাঠানোর নির্দেশ জারি করেন। একই আদেশে আটক লোকের সঠিক ঠিকানা খুঁজে পেতে নোয়াখালী, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার ও এপিবিএন কমান্ডারদের নির্দেশ দেন তিনি। এর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা তা পরীক্ষা করাতে খুলনা মেডিকেলেও নেওয়া হয় লোকটিকে। ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার হাতের ছাপ গ্রহণ করে বাংলাদেশের নাগরিক কিনা তা যাচাই করা হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, দীর্ঘ দিন মানসিক প্রতিবন্ধী মিনালের জন্ম ১৯৮১ সালের ১১ আগস্ট।
ঝিনাইহে অতিরিক্ত দামে পন্য বিক্রি ৬ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহে অতিরিক্ত দামে ডিম, তেল, সার ও মাংস বিক্রির অপরাধে ৬ টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের নতুন হাটখোলা, হাটের রাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। শহরের বিভিন্ন দোকানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিম ও তেল বিক্রি করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ৬ টি দোকানে ১২ হাজার ৫’শ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেয় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জিয়াউল হক।ঝিনাইদহ
আতিকুর রহমান।। -

স্বরূপকাঠিতে ইউএসএইড গোল্ডস্টারদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
স্বরূপকাঠি উপজেলা প্রতিনিধি //
স্বরূপকাঠিতে ইউএসএইড মার্কেটিং ইউনোভেশনস ফর সাসটেইনেবল হেলথ্ ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট এসএমসি নতুনদিন কমিউনিটি মবিলাইজেশন কার্যক্রমেরর গোল্ড স্টারদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৭ই আগষ্ট বুধবার সকাল ১১ঘটিকায় তাদের অফিস কক্ষে গোল্ড স্টারদের এ মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।মাসিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন।এ সময় প্রধান অতিথি কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট কর্তৃক
পরিচালিত মার্কেটিং ইনোভেশনস্ ফর সাসটেইনেবল হেলথ ডেভেলপমেন্ট (এমআইএসএইচডি) এর আওতাধীন “নতুন দিন” প্রকল্পের কার্যালয় পরিদর্শন করেন। জিএসএমদের মাসিক সম্বনয় সভায় অংশগ্রহন করা গোল্ডস্টারদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং পাশাপাশি প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের জনগণের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থায়িত্ব আনয়নে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য সামগ্রী ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করার বিষয় বর্তমান মাঠ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং তাদের কার্যক্রমের জন্য সন্তুষ্টি
প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এর ধারারবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।এ সময় উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন মোঃ মাহাবুব আলম – পিওসিএম এসএমসি, মোঃ ইকরামুল হাসান -ডিপিএম সিডবিউএফডি, মোঃ মেহেদী হাসান সজীব-ডিটিএল সিডবিউএফডি, স্বপ্না
দত্ত, এফএস সিডবিউএফডি এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বরুপকাঠী উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মোট ২২জন জিএসএম উপস্থিত ছিলেন। -

হুমকিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ
লেখকঃ মোঃ হায়দার আলী।। একটা সময় এ দেশের মানুষকে বলা হতো মাছে-ভাতে বাঙালি। সে সময় গ্রামাঞ্চলোর জলাশয়গুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। বাড়িতে যদি ভাত নাও থাকত, তবুও মাছের কমতি ছিল না। অনেকের এমনও দিন গেছে যে, ভাত না খেয়ে শুধু মাছ খেয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। মৎস্য আহরণ ছিল সহজ ব্যাপার। সেই সময় প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। আজ আমরা এসব মাছ খুব বেশি দেখতে পাই না। যদিও কালেভদ্রে দেখা যায়, সেগুলোর অধিকাংশই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ফলে দেশি মাছের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না।
নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল-নালা, পুকুর ডোবা, হাওর-বাঁওড়, ধানক্ষেত, পানিবদ্ধ বিলগুলো হচ্ছে- দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রধানতম উৎস। এসব উৎস ধ্বংস, অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং নানাভাবে পরিবেশ দূষণের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ট্যাংরা, টাকি, চান্দা, মহাশোল, সরপুঁটি, টাটকিনি, বাগাড়, রিটা, পাঙাশ আর চিতল এসব মিঠা পানির মাছের প্রজাতিগুলো চরম হুমকিতে রয়েছে। গত কয়েক দশকে বেশ কয়েক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ এখন আর বাজারে দেখা যায় না। বর্তমানে দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে বিলুপ্ত প্রায় মিঠা পানির মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৬৪টি।
গত কয়েক দশক ধরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলাশয়গুলোর আয়তনে সংকোচন, নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবার পানির অপরিমিত ব্যবহার, ডোবা-নালা ভরাট করা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশকে পানির দূষণ এবং অপরিকল্পিতভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের সংখ্যা অনেক কমছে। গত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে।বর্তমান প্রজন্ম আজ অনেক দেশি জাতের মাছের কথা ভুলে গেছে। তাদের সঙ্গে যখন দেশি মাছের কথা আলোচনা করা হয়, তখন তারা এমন ভাব করে যেন নামগুলো এই প্রথম শুনছে।
এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে এই মাছগুলো বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে? আসলে এই মাছগুলো এমনি এমনি বিলুপ্ত হচ্ছে না, বরং বিলুপ্ত করা হচ্ছে। আজ আমরা অধিক ফলনের আশায় জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করছি। এসব কীটনাশক বৃষ্টির পানির মাধ্যমে খাল ও বিলে গিয়ে পৌঁছায়। এর ফলে ওইসব খাল-বিলের মাছ মরে যায়। অন্যদিকে অনেক মাছ ডিম ফুটে বাচ্চা বের করার সময় আহরণ করা হচ্ছে। এর ফলে ওই মাছগুলো ডিমসহ ধরা পড়ছে। এভাবে মাছ ধরার কারণে অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অতি মাত্রায় পোনা মাছ আহরণ করা হয়, যার ফলে ওই মাছগুলো নিশ্চিত বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে। তাই মানুষকে এভাবে মাছ আহরণ থেকে বিরত রাখা সময়ের দাবি।দেশি মাছ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসা উচিত। ইতোমধ্যে কিছু দেশি প্রজাতির মাছ গবেষণার মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা গেছে। অন্য যেসব মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, সেসবও রক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে। মাছ আমাদের অন্যতম সম্পদ। পৃথিবীতে মাছ উৎপাদনে আমরা বিশেষ স্থান অধিকার করে আছি। এ ধারা ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে আমাদের দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে বেশি। গবেষকরা এ ব্যাপারে অবদান রাখতে পারেন। সরকারকেও এ কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্তির পথে ১০০র বেশি দেশীয় মাছ থাকলেও এখনো কোন মাছকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়নি আইইউসিএনের এ সংক্রান্ত নিয়মটি হচ্ছে, সর্বশেষ কোন একটি প্রজাতির মাছের দেখা পাবার পর পরবর্তী ২৫ বছরে যদি সেই প্রজাতির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে সেটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক হোসেন বলছিলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে নান্দিল নামে এক সময় একটি মাছ দেখা যেত, কিন্তু গত ২০ বছরে সেটির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ দেখা যায়নি। আবার সিলেট অঞ্চলের পিপলা শোল নামে একটি মাছ দেখা যেত, যা এখন আর দেখা যায় না। গত ১০ বছরে দেখা যায়নি এই মাছ। “দেখা যায়নি, কিন্তু তবু বিলুপ্ত ঘোষণা করার আগে আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। “যদি এর মধ্যে বিপন্ন মাছেদের অস্তিত্বের ব্যপারে কোন তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে হয়ত আইইউসিএনের পরবর্তী জরিপে এগুলোর ব্যপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকতে পারে।”
আইইউসিএনের ২০১৫ সালের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী কয়েকটি শ্রেণীতে মোট ৬৪ প্রজাতির মাছকে রেড লিস্ট বা লাল তালিকাভুক্ত করেছে, এর মানে হচ্ছে এসব প্রজাতির মাছ হয় প্রায় বিলুপ্ত, মহাবিপন্ন ও বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘আপডেটিং স্পেসিস রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রকল্পের অধীনে এই তালিকা করা হয়।
এ সংক্রান্ত প্রথম জরিপটি হয়েছিল ২০০০ সালে, সে সময় ৫৪টি প্রজাতিকে রেড লিস্টভুক্ত করা হয়েছিল। জরিপে মূলত স্বাদু পানির এবং আধা লোনা পানির মাছকেই গণনায় ধরা হয়েছিল।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ঐ ‘রেড লিস্ট’ তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশে দেশীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩০০। এর মধ্যে ২০১৫ সালে আইইউসিএন এর সর্বশেষ মূল্যায়নে ২৫৩ প্রজাতির মাছের ওপর জরিপ চালানো হয়েছিল।তাতে দেখা গেছে সময়ের বিবর্তনে যেসব মাছ বিলুপ্তপ্রায় তার বেশির ভাগই নদীর মাছ মানে স্বাদু পানির মাছ। তবে, ৩০০ প্রজাতির মাছের মধ্যে অন্তত ৪০ প্রজাতির মাছের ব্যাপারে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোন সংস্থার কাছে হালনাগাদ কোন তথ্য নেই। আইইউসিএন কয়েকটি ভাগে মাছের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছিল। এর মধ্যে কিছু মাছ ক্রিটিক্যালি এনডেঞ্জারড বা প্রায় বিলুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ এগুলো সন্ধান ও সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে সেগুলো অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে বিপন্ন মাছের মধ্যে রয়েছে—পাঙ্গাস, দারি, ককসা, টিলা বা হিরালু, টিলা ককসা, রানি বা বউ মাছ, বেতাঙ্গি, বেটি বা পুতুল মাছ, কালা বাটা, ঘর পোয়া, ঘর পইয়া, ঘোড়া মাছ, এলানগা, কচুয়া পুটি, বোল, চিতল, গজার, টেংরা, রিটা, গাঙ্গিনা বা চাকা মাছ, বট শিং, ঘাউড়া, সাল বাইম। এছাড়া সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে বাও বাইম, চাপিলা, গুতুম, পুঁইয়া, পিয়াসি, জারুয়া বা উট্টি, ছেপ চেলা, গোফি চেলা, বাটা মাছ, নারু মাছ বা গনিয়া, কাচকি, ফলি, শিল বাইলা, বেলে, শিং, আইড়, বোয়াল, তেলি, কুইচ্চা মাছ, বামোস মাছ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা বলছেন, মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তিনি প্রথমেই জলাশয় কমে যাওয়াকে দায়ী করেন। “শহর ও গ্রাম দুইখানেই নদী-খালসহ সব ধরণের জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কমার সঙ্গে দিনে দিনে কমছে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। “কেবল দেশী জাত ও স্বাদের মাছই নয়, এর সঙ্গে কচ্ছপসহ নানা ধরণের জলজ প্রাণী ও সরীসৃপের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।” সেই সঙ্গে রয়েছে জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, যা বৃষ্টিতে ধুয়ে খাল বিলসহ জলাশয়গুলোতে পড়ে। এর ফলে মাছের মৃত্যু ও প্রজনন হার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আছে কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয়ে ফেলা হয়, তার ফলেও মাছ মরে যায়, বলেন মিজ ফাতেমা। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে প্রজনন-সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, বাংলাদেশ মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক হোসেন জানিয়েছেন, বিদেশী মাছের চাষের কারণেও দেশী প্রজাতির মাছ কমে গেছে।
দেশের বাজারে এক সময় দেশীয় চাষের মাছের আধিক্য দেখা যেতো। “ধরুন এখানে তেলাপিয়া, কার্পজাতীয় মাছ আনা হয়েছে, আবার এক সময় আফ্রিকান মাগুর আনা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে আনা হলো পিরানহা–এগুলো দেশী মাছের খাবার ও বাসস্থল দখল করতো। অনেক সময় দেশী মাছ খেয়ে ফেলতো কোন কোন বিদেশী প্রজাতি।” যদিও পরে আফ্রিকান মাগুরের চাষ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তারপরেও বিদেশী মাছের প্রজাতির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে না পেরে অনেক মাছ কমে গেছে। বাংলাদেশে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছের হার কমে যাবার প্রেক্ষাপটে গত দুই দশকে কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের মাধ্যমে মাছের সরবারহ বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর সাড়ে ৪২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপন্ন হচ্ছে।মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক মানুষ এর মধ্যে নদী, বিল ও হাওরসহ উন্মুক্ত জলাশয় থেকে ২৫ শতাংশ, পুকুর, ডোবার মত বদ্ধ জলাশয় থেকে ৫৭ শতাংশ এবং বাকি অংশ সমুদ্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে ৮ লাখ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষ হয়। বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিসের কর্মকর্তা বলরাম মহালদার জানিয়েছেন, কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের মাধ্যমে বাজারে চাহিদা আছে এমন মাছই বেড়েছে। “কিন্তু বাজারে চাহিদা কম এমন মাছ তো চাষ করছে না কেউ, ফলে সেগুলোর অস্তিত্ব সংকট আগের মতই থাকছে। যেমন খলিশা, চাপিলা, মেনি, ফলি, বাও বাইম, গুতুম, কুইচ্চা মাছ, বামোস ইত্যাদি ধরণের মাছ দেখতে পাবেন না।”
“এখন বাজারে পাবদা বা গুলশা মাছ বা পাঙ্গাস পাবেন আপনি, সেগুলোর চাহিদা আছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হলে, বিপন্ন মাছের ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।” তবে ফসলি জমি নষ্ট করে দেশে মাছ চাষ করা নিয়ে পরিবেশবাদীদের এক ধরণের বিরোধিতাও রয়েছে।
তাদের পরামর্শ বিদ্যমান নদী ও পুকুরগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যদিও এখন কৈ, শিং, পাবদা, মাগুর, সর পুটি, চিতলসহ বেশ কয়েকটি প্রজাতির মাছ সহজলভ্য হয়েছে, কিন্তু সেই সব মাছের স্বাদ আগের মত নয়।
বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে বেশ কয়েক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ বাজার থেকে ‘প্রায় নেই’ হয়ে গেছে। প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন বলছে, এর মধ্যে ‘প্রায় বিলুপ্ত’ হবার পথে বাঘাইর, পিপলা শোল বা বাক্কা মাছ, মহাশোল, নান্দিলা মাছ, চান্দা, ভাঙ্গান বাটা, খরকি মাছ, কালো পাবদা, চেনুয়া মাছসহ বেশ কিছু মাছ রয়েছে।
ময়মনসিংহে বাংলাদেশের একমাত্র মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা আলী রেজা হোসেন জানিয়েছেন, এই মুহুর্তে দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। “আইইউসিএন বাংলাদেশের বিপন্ন প্রাণীর তালিকা করার জন্য দুটি জরিপ চালিয়েছিল, ২০০০ সালে প্রথম জরিপে ৫৪ প্রজাতির মাছ বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরপর ২০১৫ সালে সর্বশেষ জরিপে তাতে আরো ৬৪ প্রজাতির মাছ যুক্ত হয়।”
এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছর পর মাছের প্রচন্ড আকাল দেখা দেবে।
সাধারণত জৈষ্ঠ মাসের মধ্য থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্য পর্যন্ত সকল প্রকার দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুম। জৈষ্ঠ মাসের মধ্যকালে প্রথম বৃষ্টির পর থেকেই এসকল সাদুপানির মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে। যা চলে শ্রাবণ মাসের মধ্য পর্যন্ত। বৃষ্টির পরপরই যখন বিভিন্ন জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, তখন নদ-নদী, খাল-বিল-নালা, হাওড়-বাওড়, ধান ক্ষেতসহ জলাবদ্ধ বিলগুলো জলাজমির সাথে মিশে যায় এবং তখন মুক্ত জলায়শয়ে থেকে ছড়িয়ে যায় মাগুর, শিং, কৈ, টাকী, শৈল, গজাল, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, সরপুঁটি, খলিসা, মলা, বাইন, বোয়াল, গলদা চিংড়ি মাছ। আর তখনই স্থানীয় জনগণ অনুমোদিত ঝাকি জাল, চর পাটা জাল, বেবদি জাল, কারেন্ট জাল, চাইঁ, বরশি, টোটা, কোচ, বর্সাসহ বিভিন্ন রকম হাতে বানানো ফাঁদ পেতে মাগুর, শিং, কৈ, টাকী, শৈল, গজাল, পাবদা, টৈংরা, পুঁটি, সরপুঁটি, খলিসা, মলা, বাইন, বোয়াল, গলদা চিংড়ি এসকল প্রজাতির মাছ নিধন করতে থাকে। যার মধ্যে অধিকাংশ থাকে ডিম ছাড়ার পর্যায়ের ‘মা মাছ’। এসব মা মাছ দেদারসে মারার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ব্যহত হচ্ছে এবং দিন দিন কমে যাচ্ছে।
তবে এর বিপরীত চিত্র রয়েছে মৎস্য চাষে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, পুকুর ডোবা বা বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য চাষে গত এক দশকে বিপ্লব ঘটেছে। গত এক দশকে কৃষিপণ্য হিসেবে মাছের উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রায় বিলুপ্তির মুখ থেকে ফিরে এসেছে এমন দেশি মাছের সংখ্যাও এখন বাড়ছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওয়াহিদা হক বলেন, দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এর জন্য প্রধানত দায়ী হচ্ছে দেশীয় মাছের উৎস নদী-নালাসহ বিভিন্ন জলাশয় কমে যাওয়া। শহর- গ্রাম সবখানেই নদী-খালসহ সব ধরনের জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কমার সঙ্গে দিনে দিনে কমছে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। কেবল দেশী জাত ও স্বাদের মাছই নয়, এর সঙ্গে কচ্ছপসহ নানা ধরনের জলজ প্রাণী অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।
দ্বিতীয়ত কারণ হচ্ছে জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, যা বৃষ্টিতে ধুয়ে খাল-বিলসহ জলাশয়গুলোতে পড়ে। এর ফলে মাছের মৃত্যু ও প্রজনন হার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয়ে মিশে এর ফলেও মাছ মরে যায়। এর সঙ্গে রয়েছে অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে প্রজনন-সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন সংশ্লিষ্টরা।
-

অজ্ঞানপার্টির কবলে বাসযাত্রী
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটায় ঢাকা থেকে আগত ইসলাম পরিবহনের একটি বাসে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সের এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে ওই অচেতন লোকটিকে পাথরঘাটা বাসষ্ট্যান্ডে পাওয়া যায়। বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকাথেকে পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন রাতের কোনো এক সময় এখানে পৌছে এবং অচেতন ওই বাসযাত্রীকে ফেলে রেখে তারা আবার ভোরে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
পাথরঘাটার ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় রাজু খান এবং অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় ওইব্যক্তিকে পাথরঘাটা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাসের ওই যাত্রীর কাছে কিছুই পাওয়া যায়নি।ধারনা করা হচ্ছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তার সঙ্গে থাকা সবকিছু নিয়ে পালিয়ে গেছে।
সর্বশেষ দুপুরে এরিপোর্ট তৈরীকালে তার চিকিৎসা চলছিল। তার জ্ঞান ফিরে আসলেই হয়তো জানা যাবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য #
অমল তালুকদার।
-

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র্যালি ও শোভাযাত্রা
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বৃহস্পতিবার দূপুরে পীরগঞ্জ কলেজ হাট দূর্গা মন্দির প্রাঙ্গন হতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র্যালি বের করে পীরগঞ্জ পূজা কমিটির আয়োজনে।শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষীণ করে।
শোভাযাত্রায় উপজেলা চেয়ারম্যান আখতারুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব, পীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) বিদ্যুৎ কুমার চৌধুরী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক প্রফুল্ল কুমার শীল, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতুল চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক গোপী কৃষ্ণ রায়,সহ সভাপতি সাংবাদিক বিষ্ণুপদ রায় সহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ভক্ত বৃন্দ অংশ নেয়।
শোভাযাত্রা শেষে পূজা আর্চনা, কীর্তন, প্রদাস বিতরন সহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। -

খাগড়াছড়িতে আওয়ামী মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগ কর্তৃক বিক্ষোভ মিছিল
(খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি)
খাগড়াছড়িতে আজ ১৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় নির্দেশ মোতাবেক আওয়ামী মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগ কর্তৃক বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
উক্ত এ কর্মসূচীতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ২৯৮নং সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সম্মানিত বিশেষ অতিথি সহসভাপতি রণবিক্রম ত্রিপুরা তাতু এবং বিশেষ অতিথি সহসভাপতি কল্যাণমিত্র বড়ুয়া, সহসভাপতি মনির খান, সাধারণ সম্পাদক ও পৌরমেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও খাপাজেপ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ জব্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার দে, উপ প্রচার সম্পাদক নুরল আজম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শামিম, সদস্য নুরুল্লাহ হিরু এডভোকেট, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত রায় দাশ এডভোকেট, জেলা আওয়ামী মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, জেলা যুবলীগ, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগ, জেলা কৃষকলীগ, জেলা শ্রমিক লীগ, জেলা ছাত্রলীগ, উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি/সম্পাদকগণ ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ ইকবাল বাহার ও সাধারণ সম্পাদক মংসাপ্রু মারমা, সাবেক সভাপতি টিকো চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব মহিলা নেত্রী অঞ্জলী ত্রিপুরা, লেখি চাকমা, বেনুকা ত্রিপুরা, বিউটি চৌধুরী, মুন্না চাকমা, মরিউম বেগম, নেন্সি মারমা, লিজা রানী ত্রিপুরা, বর্ষা ত্রিপুরা, টুনটুনি ত্রিপুরা(পাখি), বিনা ত্রিপুরা, তিশা ত্রিপুরা ও অনেক সমর্থকবৃন্দসহ মিডিয়া কর্মী।
জেলা টাউনহল প্রাঙ্গনে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
-

বইলর ইউনিয়ন আ’লীগের উদ্যোগ শোক দিবসের আলোচনা সভা,মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বইলর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ত্রিশাল উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ১৮ই আগষ্ট বিকালে স্থানীয় বইলর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল সংসদীয় আসনের জাতীয় সাংসদ সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ রুহুল আমিন মাদানি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. জালাল উদ্দিন খান, ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি জননেতা আলহাজ্ব আবুল কালাম মোঃ শামছুদ্দিন মহোদয়, বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক জননেতা ইকবাল হোসেন,জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ সরকার,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এ এন এম শোভা মিয়া আকন্দ,আশরাফুল ইসলাম, সহ উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বইলর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তরুণ রাজনীতিবিধ খন্দকার মশিউর রহমান শাহানশাহ এর সার্বিক সহযোগীতায় আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির মন্ডল এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মাঝে
বক্তব্য রাখেন- উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির আকন্দ,ধানীখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ,
সাখুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল নয়ন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোস্তফা কামাল,আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন বাবুল,স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আশিকুল ইসলাম লিটনসহ ত্রিশাল উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সকল সহযোগী সংগঠনের সভাপতি / সাধারণ সম্পাদক ও সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।পরে মিলাদ ও দোয়া শেষে উপস্থিত জনতার মাঝে গণভোজ বিতরণ করা হয়।