Author: desk

  • নয়া দিগন্তের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন স্ম-রণে দোয়া মাহফিল অ-নুষ্ঠিত

    নয়া দিগন্তের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন স্ম-রণে দোয়া মাহফিল অ-নুষ্ঠিত

    তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ২৬ শে অগাস্ট মঙ্গলবার বিকালে,
    কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামি চিন্তা বিদ নাগাইশ দরবার শরিফের পীর মাওলানা মোশতাক ফয়েজী,বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামাতের আমির কাজী দীন মোহাম্মদ,সিঃ সাংবাদিক সাপ্তাহিক অভিবাদনের সম্পাদক আবুল হাসনাত বাবুল,জামাতের
    নায়েবে আমির এমদাদুল হক মামুন,এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী কামরুজ্জামান সোহেল, প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আহসান মানিক,
    সিটিভি নিউজের সম্পাদক ওমরফারুকী তাপস,শহিদুল্লা মিয়াজি, দৈনিক বাংলার কুমিল্লা দঃ জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজের স্টাফ রিপোর্টার তরিকুল ইসলাম তরুন, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিক বৃন্দ।

  • ময়মনসিংহে জো-রপূর্বক  স-ম্পত্তি বেদ–খলের অ-ভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

    ময়মনসিংহে জো-রপূর্বক স-ম্পত্তি বেদ–খলের অ-ভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহে মৃত এডভোকেট মোহাম্মদ আলীর ওয়ারিশানগণের সম্পত্তি বেদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার ছোট ভাই মজিবুর রহমান ও বোন সাহারা বানু।

    মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার চুড়খাই বড়বিলার পাড়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান বলেন, আমার বড় ভাই এডভোকেট মোহাম্মদ আলী ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তার কোন ছেলে সন্তান না থাকায় মুসলিম পারিবারিক আইনে তার সম্পত্তিতে আমি অংশীদার হই। কিন্তু তার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি জবরদখলে নিতে গত পাঁচ বছর যাবত বড় ভাই মোহাম্মদ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রভাবশালী আত্মীয় স্বজনরা আমার ও আমার ছোট বোন সাহারা বানু, মোহাম্মদ আলীর প্রথম স্ত্রী ও বড় মেয়ের বিভিন্ন হুমকি ধমকি ও অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথম স্ত্রী ও তার মেয়েকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার জন্য বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করাসহ আমাদের উপর বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, আমার ভাইয়ের দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রভাবশালী দুই ভাই খন্দকার মাহবুব ও তার ছোট ভাই আবু কায়সার টিটু সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য বিগত পাঁচ বছর যাবত বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, তৎকালীন ওসি শাহ কামাল আকন্দ থাকাকালীন সময়ে অভিযোগ বিহীন আমি ও আমার দুই ছেলেকে প্রভাবশালীদের নির্দেশে থানায় আটকে রেখে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্যও চাপ প্রয়োগ করে। বিভিন্ন সময়ে তাদের নির্যাতনের শিকার হয়ে আমি ও আমার বড় ভাতিজি থানায় জিডি ও অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পায়নি।

    মোহামদ আলীর প্রথম স্ত্রী ও তার এক মেয়ে থাকলেও তাদেরকেও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে তারা তাদের নিজেদের নামে লিখে নিতে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে সাহারা বানু বলেন, প্রভাবশালী খন্দকার মাহবুব ও টিটুর প্রভাবে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ভুয়া ওয়ারিশান সনদ দিয়ে টিটুর বড় বোন, ভাগনী ও তার ভগ্নিপতির নামে নাম খারিজ করে নেয়। এ ব্যাপারে ভূমি অফিসে একাধিক আবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

    অবৈধ ভাবে জমি লিখে নিতে দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার দুই ভাই আবু কায়দার টিটুর লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডা বাহিনী তাদের বিভিন্ন ভাবে ভয় ভিত্তি হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। তার লেলিয়ে দেয়া লাঠিয়াল বাহিনী জসিম, শামছুল, বিল্লাল গং এর অত্যাচারে সার্বক্ষণিক আতংকে দিনাতিপাত করছি। বেশ কয়েক মাস পূর্বে টিটুর নির্দেশনায় জসিম, শামছুল, বিল্লাল গংরা বসত বাড়ীতে জোর পূর্বক তালা ভেঙ্গে দখল করে নেয় যা এখন পর্যন্ত তাদের দখলে রয়েছে এবং বাড়িতে অবৈধভাবে বসবাস করছে। এ ব্যাপারে তারা উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবী করেন।

  • বাগেহাটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বি-রুদ্ধে ষ-ড়যন্ত্রের প্র-তিবাদে সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

    বাগেহাটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বি-রুদ্ধে ষ-ড়যন্ত্রের প্র-তিবাদে সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

    শেখ সাইফুল ইসলাম কবির,বিশেষ প্রতিনিধি :
    প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর ‘প্রকৌশলী অধিকার’ ব্যানারে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রম ও পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং সাত দফা দাবির প্রেক্ষিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদ।

    আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রেরিত হয়।

    স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের বাগেরহাট জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রকৌশলী কৃষ্ণেন্দু বিকাশ সরকার, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহজাহান আলী খান,বাগেরহাট আইডিবি জেলা আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. মারুফ উদ্দিন তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার কাজী মাহমুদুল কবির, প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাঈম হোসেন, মোঃ মোশারফ হোসেন, মোঃ সুমন, অশোক কুমার রায়, রবিউল ইসলাম মুসা, মোঃ রিয়াদ হাসানসহ আরও অনেকে।

    সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, “ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁদের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা একধরনের বৈষম্য ও অন্যায়।” বক্তারা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অযৌক্তিক দাবির প্রতিবাদ জানান এবং এসব বন্ধে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

  • উজিরপুরে স্কুলছাত্রী ধ-র্ষণের ঘ-টনায় আদালতের নি-র্দেশে মাম-লা নিল পুলিশ

    উজিরপুরে স্কুলছাত্রী ধ-র্ষণের ঘ-টনায় আদালতের নি-র্দেশে মাম-লা নিল পুলিশ

    জুনায়েদ খান সিয়াম,
    উজিরপুর(বরিশাল) প্রতিনিধিঃবরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের পূর্ব জয়শ্রী গ্রামের সপ্তম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে জোরকরে দোকান ঘরের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় অবশেষে আদালতে নির্দেশে মামলা নিল পুলিশ। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া থেকে শুরু করে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি সহ স্থানীয় এক শিল্পপতির বিরুদ্ধে। কৃষক লীগের ওই নেতার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাদীসহ ভুক্তভোগী পরিবারটি। পুলিশ আদালতের নির্দেশে মামলাটি রুজু করলেও ধর্ষিতাসহ পরিবারটি নিরাপত্তার কোন দায়িত্ব নেয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ভুক্তভোগী পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৯ জুলাই বিকেল ৪ টার দিকে স্কুলছাত্রী পশ্চিম জয়শ্রী গ্রামের আকবর আলী বিশ্বাসের পুত্র ইমরান হোসেন (২৪) এর দোকানের কাছে গেলে ওই স্কুল ছাত্রীকে জোর করে দোকান ঘরে ঢুকে দোকানের দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী তার পরিবারকে জানালে ছাত্রীর মা থানায় অভিযোগ করলে, বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি ও প্রভাবশালী চাতাল ব্যবসায়ী মোঃ ইসাহাক হাওলাদারের,তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কয়েক লাখ টাকার অর্থ বাণিজ্য করেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়। ধর্ষিতার নানী ও ওই পরিবারে একাধিক সদস্য জানান ঐ কৃষক লীগের নেতা মোঃ ইসাহাক হাওলাদার মামলা তুলে নিতে ধর্ষিতার পিতাকে জয়শ্রী জয় রাইস মিলের অফিস ঘরে শিল্পপতি আব্দুল মজিদ ভূইয়ার কাছে নিয়ে এসে ধর্ষিতার পিতাকে ১ লাখ টাকা নিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন।
    এই ঘটনার পর থেকে ধর্ষিতা সহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আব্দুল মজিদ ভূইয়া বলেন আমার অফিসে বসে উভয় পক্ষ আপোষ মীমাংসা হয়েছে। এরপরে কি হয়েছে আমি জানিনা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আলমগীর হোসেন জানান মামলাটি ২০ আগস্ট আদালতের নির্দেশে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় ধর্ষকসহ ৩ জানতে আসামী করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। অপরদিকে ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়,পুলিশ কৃষক লীগ নেতা ও প্রভাবশালী প্রভাবে আসামীদের পক্ষ নিচ্ছেন এবং কৌশলে আসামি গ্রেফতার করছে না। কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মোঃ ইসহাক হাওলাদার জানান, এ বিষয়ে আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া তার রাইস মিল অফিসে আমাকে ডেকে উভয় পক্ষকে ধমক দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেন, যেহেতু বিষয়টি তাদের গ্রামের এবং অর্থ লেনদেন ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রত্যাহারের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়।
    এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুস সালাম জানান ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে নির্দেশে মামলা দায়ের করা হয়েছে, আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা অতি দ্রুত ধর্ষক কে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

  • নলছিটি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আং-শিক কমি-টি অনুমোদন

    নলছিটি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আং-শিক কমি-টি অনুমোদন

    ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের অনুমোদনে সরকারি নলছিটি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট)  জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ আরিফুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন কে.এম নাঈম হিমেল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ জুবায়ের তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রাকিব আহম্মেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাতুল গাজী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রাতুল সিকদার।

    একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

    এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ সুজন খান বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্বশীল সমন্বয় ও গভীর বিশ্লেষণের পর রাজপথে দলের দুঃসময়ে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেহেতু এটি কলেজ কমিটি, তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানে নেতৃত্বে নতুনত্ব থাকবে। আমি বিশ্বাস করি, জেলা সভাপতি ও সম্পাদক একটি সুন্দর ও যথোপযুক্ত কমিটি উপহার দিয়েছেন।

  • ফুটবলার সো-নালীর বাড়ি প-রিদর্শনে ডিসি, দেয়া হবে পাকা ঘর

    ফুটবলার সো-নালীর বাড়ি প-রিদর্শনে ডিসি, দেয়া হবে পাকা ঘর

    বাবুল হোসেন,
    পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
    ‘আমি ভ্যান চালাই, আমার মেয়ে বিমানে চড়ে দেশ-বিদেশে খেলতে যায়’ বলা ভ্যানচালক ফারুক ইসলামের পরিবারে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। দ্রুতই তার কুঁড়ে ঘরের স্থলে করে দেয়া হবে বিশেষ সুবিধা সম্পন্ন দৃষ্টিনন্দন পাকা ঘর। উপার্জনের ভ্যানের বদলে দেওয়া হবে নতুন ইজিবাইক।
    সোমবার (২৫ আগস্ট) তার বাড়িতে পরিদর্শনে এসে এ আশ্বাস দেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবেত আলী। এ সময় তার বাড়ির সামনের কাঁচা সড়কটিও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
    ফারুক ইসলামের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বনগ্রামে। তিনি জাতীয় নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক ফেরদৌসি আক্তার সোনালীর বাবা।
    সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘আমি ভ্যান চালাই, আমার মেয়ে বিমানে চড়ে বিদেশে খেলতে যায়’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে ফেরদৌসি আক্তার সোনালী ও তার বাবার সংগ্রামী জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়। শিরোনামের বাক্যটিই ছিলো ফারুক ইসলামের গর্বের সুরে বলা অনুভিতি। প্রতিবেদনটি নজরে এলে জেলা প্রশাসক সাবেত আলী তাদের খোঁজ খবর নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন।
    এদিকে, প্রত্যন্ত গ্রামে ডিসির আগমনের খবরে সোনালীর বাড়িতে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন উৎসুক এলাকাবাসী। বাড়ির উঠানে সামান্য আনুষ্ঠানিকতারও আয়োজন করেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ।
    ঘড়িতে তখন সাড়ে ৪টা। জেলা প্রশাসক সাবেত আলী পা রাখেন সোনালীদের ভাঙা কুটিরে। সোনালী ও তার বাবার হাতে তুলে দেন নিয়ে আসা উপহার সামগ্রী। এদিন সোনালীর অনুশীলন প্রতিষ্ঠান টুকু ফুটবল একাডেমিকে এক লাখ টাকা অনুদান এবং তার ওঠে আসার সারথি হাড়িভাসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেয়াল ও সাইকেল গ্যারেজের বরাদ্দ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। পরে তাদের বাড়িতে স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে একটি তেঁতুল গাছের চারা রোপন করেন।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবুল হাসেম, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান বুলবুল, টুকু ফুটবল একাডেমির পরিচালক টুকু রেহমান, ইউপি সদস্য গোবিন্দ চন্দ্র রায়, শফিউল আলম শফিক প্রমুখ।
    উচ্ছ্বসিত ফারুক ইসলাম বলেন, আমার মেয়ের সাফল্যে আজ আমার মত ভ্যানচালকের বাড়িতে ডিসি, ইউএনও আসছে- আমি গর্বিত।
    ফেরদৌসী আক্তার সোনালী বলেন, স্বপ্ন পূরণের জন্য অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বহু প্রতিবন্ধকতা পারি দিয়ে এখানে এসেছি। আজকে নিজেকে অনেকটাই সফল মনে হচ্ছে। যারা একসময় কটুকথা বলতো তারাও আজকে উৎসাহ দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক আমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এটা আমার বড় পাওয়া। আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানাই।
    হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম বলেন, ভ্যান চালক বাবার মেয়ে সোনালী ফুটবলে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে- এটা আমাদের জন্য গর্বের। আজকে তার সাফল্যের প্রতিদান স্বরূপ প্রত্যন্ত গ্রামের জরাজীর্ণ এই বাড়িতে জেলা প্রশাসক মহোদয় এসেছন। তিনি সোনালীর পরিবারের উন্নয়নের পাশাপাশি কাঁচা সড়ক পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং যেই বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সোনালীর ফুটবলে সূচনা হয়, সেই বিদ্যালয়ের উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটা আমাদের অনেক বড় পাওয়া। জাতীয় নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক ইয়ারজানের বাড়িও আমাদের ইউনিয়নে। আমাদের ইউনিয়নের মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ে এলাকাকে তুলে ধরছে এটাও আমাদের বড় গর্ব।
    জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা সোনালী তার অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখছে। দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চেষ্টা করছে। তার পরিবার এবং এই এলাকার মানুষের সাথে আমরাও আনন্দিত। আমরা দেখেছি সোনালী দারিদ্রতা জয় করে এ পর্যন্ত এসেছে, তার বাবা ভ্যান চালিয়ে উপার্জন করে। তাদের বাড়িটিও জরাজীর্ণ। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- তাদের টিনের জরাজীর্ণ ঘরটি সরিয়ে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দিব। আমরা আসার সময় দেখেছি মূল রাস্তা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ধরে তাদের বাড়ি, আমরা এই রাস্তাটিও পাকা করে দিব। জাতীয় নারী ফুটবল দলের আরেক গোলরক্ষক ইয়ারজানের বাড়িও এই এলাকায়। দুজনেরই ফুটবলের সূচনা হয় হাড়িভাসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং টুকু ফুটবল একাডেমিতে। এজন্য আমরা হাড়িভাসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সহায়তা এবং টুকু ফুটবল একাডেমিকেও বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা দিচ্ছি। এদের মাধ্যমে আরো প্রতিভাবানরা উঠে আসবে বলে আশা রাখি।

  • দু-র্ভোগে পখিরা মোল্লা কান্দির মানুষ: রাস্তার উন্ন-য়নের দাবিতে মা-নববন্ধন

    দু-র্ভোগে পখিরা মোল্লা কান্দির মানুষ: রাস্তার উন্ন-য়নের দাবিতে মা-নববন্ধন

    আরিফুর রহমান,মাদারীপুর প্রতিনিধি:
    মাদারীপুরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পখিরা মোল্লা কান্দি এলাকার ভেঙে যাওয়া রাস্তার উন্নয়ন কাজের আশ্বাস বহুবার পাওয়া গেলেও এখনো শুরু হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    এ অবস্থার প্রতিবাদে এবং দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু করার দাবিতে সোম (২৫ আগস্ট ২০২৫) সকাল ১১টায় এলাকাবাসীর আয়োজনে পখিরা মোল্লা কান্দিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

    ভুক্তভোগী স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বারবার আশ্বাস দিলেও উন্নয়ন কাজের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া রাস্তার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, কর্মজীবী মানুষসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ।

    পখিরা যুব কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি শাহ্ মোহাম্মাদ রোমান আহমাদ পখিরা জানান, “আমরা বহুবার বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত দিয়েছি, অনুরোধ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষ মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে নেমেছে। আমরা এলাকাবাসী চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের এই ফটোটি সংস্কার করে মানুষের চলাচলের সুব্যবস্থা করা হোক ।”
    এ সময় মানববন্ধনে অত্র এলাকার ভুক্তভোগী জনসাধারণ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা অংশগ্রহণ করবেন।

    আরিফুর রহমান মাদারীপুর ।।

  • পরিবেশের ভার-সাম্য র-ক্ষায় বরিশালে আনসার ভিডিপি’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    পরিবেশের ভার-সাম্য র-ক্ষায় বরিশালে আনসার ভিডিপি’র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

    এ কে খান ও গোলাম মোস্তফা রাঙ্গা।।
    ​বরিশাল : দেশব্যাপী চলমান ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পরিবেশ রক্ষা এবং সবুজায়নের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের দিক নির্দেশনায় এই বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযান সারা দেশে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে। এরই অংশ হিসেবে ২৫ আগষ্ট বরিশালের কাশিপুর হাই স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
    ​বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাহিনীর বরিশাল রেঞ্জ কমান্ডার মোঃ আবদুস সামাদ পিভিএমএস, বিভিএম। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরিশাল জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ নাহিদ হাসান জনি এবং কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বরিশালে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেঞ্জ কমান্ডার মোঃ আবদুস সামাদ বলেন, “মহাপরিচালক মহোদয়ের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা। আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা রেঞ্জ, ব্যাটালিয়ন, প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় জনগণকে এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করে একে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এই বৃক্ষরোপণ অভিযান শুধু একটি পরিবেশগত কার্যক্রম নয়, এটি একটি মহৎ সামাজিক আন্দোলন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এটি একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তিনি জানান, বাহিনীর এই প্রচেষ্টা তাদের সামাজিক দায়িত্ব পালনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। অনুষ্ঠানে বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা, কর্মচারী, টিআই, ইউনিয়ন দলনেতা, দলনেত্রী, ব্যাটালিয়ান আনসার সদস্যসহ কাশিপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণ মাধ্যম কর্মী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
    ​আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই উদ্যোগ দেশের সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • জুলাই স্মৃ-তি ও শহী-দদের গ্রা-ফিতি মু-ছে ফেলায় সুজানগরে বিক্ষো-ভ

    জুলাই স্মৃ-তি ও শহী-দদের গ্রা-ফিতি মু-ছে ফেলায় সুজানগরে বিক্ষো-ভ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলি ও আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের হামলায় নিহত শহিদদের গ্রাফিতি মুছে ফেলায় আওয়ামী দুর্বৃত্ত ও তাদের দোসরদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবিতে গণমিছিল করেছে ছাত্র-জনতা।
    সোমবার বেলা ১১টায় সাতবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বের হওয়া মিছিলটি স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাজার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ‘আবু সাইদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ, দিয়েছি তো রক্ত আরও দেব রক্ত, আওয়ামী লীগের গুন্ডারা রাজপথে থাকিস না, রাজপথে নামলে পিঠের চামড়া থাকবে না, আওয়ামী লীগের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও পুরিয়ে দাও, ছাত্রলীগের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, ছাত্রলীগ-যুবলীগ হুঁশিয়ার সাবধান, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়, আপস না সংগ্রাম- সংগ্রাম সংগ্রাম সহ নানা ধরণের স্লোগানে দিতে থাকেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা।

    গণমিছিলে সাতবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দন মোল্লা, সাতবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) শরিফুল ইসলাম, সাতবাড়ীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আলাল, জামায়াত নেতা তবিবুর রহমান,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সোহেল রানা মানিক, স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেয়। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সোহেল রানা মানিক, ছাত্র প্রতিনিধি আব্দুল মমিন, আশরাফুল ইসলাম, ইসমাইল হাসান আশিক, ছাত্রদল নেতা আশিকুজ্জামান খান, সঞ্জু, ছাত্র অধিকারের সাবেক সভাপতি ফারুক প্রমুখ।

    সমাবেশে বক্তারা সাতবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাতবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজের দেয়ালে অঁাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ আবু সাইদ ও শহীদ মীর মুগ্ধ মঞ্চের গ্রাফিতিসহ জুলাই স্মৃতির গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। প্রসঙ্গত গত ২৪ আগস্ট রবিবার রাতে ওই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে অঁাকা জুলাই স্মৃতির গ্রাফিতি মুছে কালিলেপন করা হয়। এ ঘটনায় এদিন রাতেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সোহেল রানা মানিক বাদি হয়ে পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ওজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আহমেদ ফিরোজ কবিরসহ ১১জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
    সুজানগর থানার ওসি মজিবর রহমান জানান, মামলার ভিত্তিতে সিসিটিভি দেখে ঘটনায় জড়িত থাকায় তাৎক্ষণিক পুলিশ অভিযান চালিয়ে রনি এবং সাতবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আসাদকে গ্রেফতার করে সোমবার পাবনা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামীদেরকেও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • “আমার ছেলে জাহিদ হ-ত্যার সঠিক ত-দন্ত ও বি-চার চাই” – আ-র্তনাদ রহিমা খাতুন

    “আমার ছেলে জাহিদ হ-ত্যার সঠিক ত-দন্ত ও বি-চার চাই” – আ-র্তনাদ রহিমা খাতুন

    সুমন খান:

    ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের নয়াকান্দা গ্রামে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দিনমজুর জাহিদকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যার এক বছর পার হলেও আজও প্রধান আসামি শাওন গ্রেপ্তার হয়নি। অথচ, শাওন দেশেই অবস্থান করছে এবং নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়।
    কীভাবে ঘটলো ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড? ঘটনা ঘটেছে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন সেখানে,
    বর্ণনা দেন জাহিদের মা রহিমা খাতুন!

    ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে শাওন, কৈলাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি ডয়েসের ভাগিনা, ফোন দিয়ে জাহিদকে ডেকে নেয়। সে জানায়, “আমার মামার দোকানে সিমেন্ট নামাতে হবে।” জাহিদ ও তার বন্ধু নাফিজ বেপারী ওরফে জান্নাত সায় দিলে তাদের বিল্ডিংয়ের কাছে নিয়ে যায়। সেখানেই জানানো হয়, “এই বাড়িতে আগুন দিতে হবে।”
    কাজের মানুষ জাহিদ ও জান্নাত সাফ জানিয়ে দেয়—“আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, এই কাজ করতে পারবো না।” এ কথার পরপরই শাওনসহ মুখোশধারী আরও কয়েকজন জাহিদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জান্নাত পালাতে সক্ষম হলেও জাহিদ পাশের আমবাগানে দগ্ধ অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে। পরে বড় ভাই ও জান্নাত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুর সাথে লড়াই করে মারা যায় জাহিদ।
    পুলিশি তদন্তে গড়িমসি ও অসঙ্গতি,
    শুরু থেকেই মামলার তদন্তে অসংখ্য প্রশ্ন উঠে আসে। দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী আসামীদের সাথে আঁতাতের। নিহত জাহিদের পরিবার দাবি করেছে—
    প্রধান আসামী শাওনকে গ্রেপ্তার না করে চার্জশীট প্রহসনের মতো তৈরি করা হয়েছে।মূল হোতাদের বাদ দিয়ে মামলার দুর্বল চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে।
    যেসব ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেছে তাদের বাদ দিয়ে ভুয়া সাক্ষী বানানো হয়েছে।
    স্থানীয়রা বলছে, আওয়ামী লীগ নেতা মালেক দেওয়ানের ছেলে কায়েতের শ্বশুর বাড়িতে আগুন দেওয়ার ফাঁদ তৈরি করেছিল রতন ও এমদাদুল। তাদের “ডান হাত” শাওনের মাধ্যমে জাহিদকে ফাঁদে ফেলা হয়।
    নিহতের পরিবারের অভিযোগ
    জাহিদের মা রহিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
    আমার ছেলে খেটে খাওয়া মানুষ ছিল। অন্যায় করতে রাজি হয়নি বলেই তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এক বছরেও আসামী ধরা হলো না। পুলিশ টাকা খেয়ে প্রভাবশালীদের বাদ দিয়ে চার্জশীট দিয়েছে। আমার ছেলে মারা গেছে, এখন আবার বড় ছেলেকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাই— আমার জাহিদের হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।
    হুমকি ও আতঙ্কপরিবারের দাবি, জাহিদ হত্যার পর একাধিকবার স্থানীয় প্রভাবশালী মহল থেকে ভয়ভীতি ও সমঝোতার চাপ এসেছে। এমনকি বলা হয়েছে—“এক ছেলে গেছে, যদি মীমাংসা না করো তাহলে বড় ছেলেকেও মরতে হবে।এ মাসের ১৯ তারিখে জামিনে মুক্ত হয়ে এমদাদুল ও রতন স্থানীয় কিশোর গ্যাং নিয়ে জাহিদের বাড়ির সামনে বিজয় মিছিল করে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে।
    তদন্তে প্রভাবশালীদের নাম বাদ!
    জাহিদের পরিবারের দাবি, মামলার চার্জশীটে যেসব নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে:মালেক দেওয়ান নাজমা বেগম,এমদাদুল দেওয়ান,রতন দেওয়ান,মোতালেব শিকদার,রুমন আলী,চয়ন রাব্বি দেওয়ান,মোসলেম উদ্দিন পায়েল
    এছাড়া আরও অনেককে বাদ দিয়ে চার্জশীট দুর্বল করা হয়েছে।গ্রামবাসীর বক্তব্যগ্রামবাসী বলেন—এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও জাহিদ এভাবে প্রাণ হারাবে। প্রভাবশালীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
    অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ প্রমাণ, সাক্ষ্য, ও পারিবারিক বক্তব্যে স্পষ্ট— মামলার তদন্তে চরম গাফিলতি ও প্রভাব খাটানো হয়েছে। প্রধান আসামী শাওন দেশেই থেকে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ তাকে ধরছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশে বিচার প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

    জাহিদের মা রহিমা খাতুনের আর্তি আজ শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক বড় প্রশ্ন।
    তিনি ও গ্রামবাসীর দাবি একটাই—
    “জাহিদ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, প্রকৃত আসামীদের ফাঁসি হোক।”