Author: desk

  • ময়মনসিংহ জেলা পরিষদে গণসংযোগের শেষ মুহুর্তেও প্রচারণায় এগিয়ে আরজুনা কবির

    ময়মনসিংহ জেলা পরিষদে গণসংযোগের শেষ মুহুর্তেও প্রচারণায় এগিয়ে আরজুনা কবির

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ। প্রচারনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি৷ আসন্ন নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২ ( সদর,তারাকান্দা,গৌরীপুর) সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে আবারও জনপ্রিয়তায় শীর্ষে রয়েছেন আরজুনা কবির।

    তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে রাত টানা বিরতিহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    আরজুনা কবির জানান, নির্বাচনী এলাকার সকল জনপ্রতিনিধিদের দ্বারেদ্বারে ঘুরছি। আশা করছি ভোটারদের সমর্থনে আমাকে আবারও সদস্য নির্বাচিত করবেন। এলাকার একজন ভোটার বলেন, আরজুনা কবির এর আগেও সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে,ভোটার ও সাধারণ অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করেছে,যেকোন বিপদে আপদে পাশে রয়েছেন । উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পুনরায় ১৭অক্টোবর নির্বাচনে টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।

    এবার ময়মনসিংহ-২ (সদর-গৌরীপুর-তারাকান্দা) সংরক্ষিত আসন এলাকায় দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সমাজসেবিকা,জনদরদী, গরীবের বন্ধু,উন্নয়নের রুপকার গণমানুষের আস্থার মানুষ নারী নেত্রী আরজুনা কবির। একজন সৎ, যোগ্য, ত্যাগী, গ্রহণযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যক্তিকে ১৭অক্টোবর তারিখ ভোট দিয়ে আবারও সদস্য পদে পেতে চায় নির্বাচনী এলাকার ভোটারা।

    আরজুনা কবির ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক,কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বিগত জেলা পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে। ময়মনসিংহের কয়েকজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এমপি ও মন্ত্রীদের দিকনির্দেশনায় জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে এই সময়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য আরজুনা কবির এর শশুর আব্দুল কাদির কাদু উপজেলার সাবেক ইউনিয়ন কেওয়াটখালি ও বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও স্বামী হুমায়ুন কবির ভুট্টো ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন । ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে ভুট্টো রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সদর -গৌরীপুর ও তারাকান্দা উপজেলাসহ পাশ্ববর্তি এলাকাগুলোতে রয়েছে আরজুনা কবির ও তার স্বামী ভুট্টোর পরিবারের ব্যাপক পরিচিতি ও স্বচ্ছ ভাবমুর্তি।

  • মেঘনা গ্রুপের ডিপোতে ডাকাতির ঘটনায় আরো ১জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি পুলিশ

    মেঘনা গ্রুপের ডিপোতে ডাকাতির ঘটনায় আরো ১জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি পুলিশ

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।
    ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার হাইওয়ে রোডের পাশে বেলতলী নামক এলাকায় মেঘনা গ্রুপের ডিপোতে গত ২২ সেপ্টেম্বর গত রাতে ডাকাতির ঘটনায় জরিত আরো এক ডাকাত কে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম ইন্তাজ আলী (৩৫)।সে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাং-ডিগ্রীরচর (মোল্লাপাড়া) এলাকার মৃত-শকুর আলী @ শুক্কুর এর পুত্র। বৃহস্পতিবার ১৩ই অক্টোবর রাতে
    ময়মনসিংহ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় সদর সার্কেল এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ এর সার্বিক তদারকিতে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে থানার এসআই মিনহাজ উদ্দিন এস আই নিরুপম নাগ এএসআই সুজন সাহার একটি টিম পাশ্ববর্তী গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানার স্টেশন রোড এলাকা হতে টঙ্গী থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে ৩রা অক্টোবর সোমবার জামালপুর ও গাজীপুুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত মো: নজরুল ইসলাম (৩০), আবু সাঈদ সৈকত ওরফে শওকত (২৭), মো: বাদল ওরফে আসলাম (২৮) নামক আরো তিন ডাকাত কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। এনিয়ে মেঘনা গ্রুপের ডিপোতে ডাকাতির ঘটনায় ৪ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সুত্র মতে জানা গেছে- গত ২২শে সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানাধীন হাইওয়ে রোডের পাশে বেলতলী নামক এলাকায় মেঘনা গ্রুপের ডিপোতে একদল ডাকাত কর্মচারী পরিচয়ে ভিতরে প্রবেশ করে পাহারাদের হাত পা বেধে মালামাল লুটে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা হয়( নং-৯২/১০০০ তারিখ-২৩/০৯/২০২২ ইং ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড) রুজু করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে গ্রেফতার কৃত আসামীরা ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে ।

    কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জানান- মেঘনা গ্রুপের ডিপোতে ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অভিযান চালিয়ে এর আগে ৩ডাকাতকে গ্রেফতারের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার স্টেশন রোড এলাকা হতে টঙ্গী থানা পুলিশের সহায়তায় ডাকাতির সহিত জড়িত আসামী জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাং-ডিগ্রীরচর (মোল্লাপাড়া) এলাকার মৃত-শকুর আলী @ শুক্কুর এর পুত্র
    ইন্তাজ আলী (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় সদর সার্কেল এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ এর সার্বিক তদারকিতে অভিযানে অংশগ্রহণ করেন পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন এবং এসআই মিনহাজ উদ্দিন এস আই নিরুপম নাগ এএসআই সুজন সাহা সহ পুলিশের একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি জানান- মেঘনা গ্রুপের ডিপোতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সকল আসামীদের গ্রেফতার আমাদের পুলিশের টিম কাজ করছে।

  • আগৈলঝাড়ায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী জাকির ও মাসুদ গ্রেফতার

    আগৈলঝাড়ায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী জাকির ও মাসুদ গ্রেফতার

    বি এম মনির হোসেনঃ-

    বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করেন। আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃ মাজহারুল ইসলাম জানান উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ও একই গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মাসুদ সরদারকে শুক্রবার বিকেলে নিজ এলাকা থেকে ৫৭পি ইয়াবাসহ এপিবিএন পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলম গ্রেফতার করেন। এঘটনায় শুক্রবার রাতে এসআই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করেন, যার নং-৩। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ১৫-১০-২২ শনিবার বরিশাল আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

  • জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জন্য  ভোট চাইলেন, এডভোকেট আব্দুল মতিন

    জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জন্য ভোট চাইলেন, এডভোকেট আব্দুল মতিন

    হুমায়ুন কবির নেত্রকোণা প্রতিনিধি।
    আগামী ১৭ অক্টোবর নেত্রকোণা জেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে আটপাড়া উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধিদের কাছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ যোদ্ধা অসিত সরকার সজলের আনারস প্রতীকের জন্য ভোট চেয়েছেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এডভোকেট আব্দুল মতিন।
    শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে আটপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ স্থানীয় পাবলিক হলে আয়োজিত এক প্রচারণা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ ভোট প্রার্থনা করেন।
    এ সময় এডভোকেট আব্দুল মতিন বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করে থাকেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অসিত সরকার সজলকে আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানান তিনি।
    এ সময় আরও বলেন, যেহেতু আমাদের নেত্রী অসিত সরকার সজলকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাই তিনি জিতলেই শেখ হাসিনা জিতবেন।
    সভায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অসিত সরকার সজল বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে জীবন যৌবন উৎসর্গ করেছি। জীবনের মায়া ত্যাগ করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদ করেছি। এ জন্য আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে মূল্যায়ন করেছেন। তাই সকল ভোটারদের কাছে আমার সবিনয় আহবান আপনারা আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে সরকারের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখবেন।
    আটপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রানা আঞ্জুর পরিচালনায় সভায় অন্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মো. নজরুল ইসলাম খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম রসুল তালুকদার, নেত্রকোণা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অর্পিতা খানম সুমী প্রমুখ।

  • তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্রের ৬৬ তম জন্মবার্ষিকী রবিবার

    তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্রের ৬৬ তম জন্মবার্ষিকী রবিবার

    মোংলা প্রতিনিধি
    ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা, তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৬৬ তম জন্মবার্ষিকী রবিবার (১৬ অক্টোবর)। বাংলাদেশের কবিতায় অবিস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কবি রুদ্র।
    কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলার মিঠাখালীতে রবিবার
    সকালে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, কুরয়ান খতম, ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রুদ্র স্মৃতি সংসদ। রুদ্রের জন্মবার্ষিকী একযোগে পালন করবে সস্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মোংলা, মোংলা নাগরিক সমাজ, প্রথম আলো বন্ধুসভা মোংলা, মিঠাখালী বাজার বণিক সমিতি, মোংলা সাহিত্য পরিষদ, মোংলা কবিতা পরিষদ, শিরিয়া বেগম মধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাপীঠ, সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমূহ। এ ছাড়া সন্ধ্যায় মিঠাখালী বাজার পাদদেশে রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে কেক কাটা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও রুদ্রের গান পরিবেশিত হবে।
    অকাল প্রয়াত এই কবি নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে। সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্য চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উজ্জ্বল তার কবিতা। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন’ এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন ‘দিন আসবেই- দিন সমতার। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্র প্রতীক’ এ। একইসঙ্গে তার কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। ‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দু’বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কবি রুদ্র।

  • ঝিনাইদহের শৈলকুপায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যাক্তিকে পিটিয়ে হত্যা

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যাক্তিকে পিটিয়ে হত্যা

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহের শৈলকুপার খালকুলা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমজাদ হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ সকাল ৯ টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।শৈলকুপা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার খালকুলা গ্রামের আমজাদ হোসেনের সাথে বাড়ির জমি নিয়ে চাচাতো ভাই মনোয়ারের সাথে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গতকাল সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মনোয়ার সহ কয়েকজন আমজাদ হোসেনের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে। সেসময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয়।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান।

  • অজাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় নওগাঁ’র নৃত্যশিল্পীদের সন্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান ও নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    অজাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় নওগাঁ’র নৃত্যশিল্পীদের সন্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান ও নৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

    নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় ২৫টি ইভেন্টে ৩৫ জন নৃত্য শিল্পীকে সন্মাননা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থা নওগাঁ জেলা শাখা এই সন্মাননা প্রদান করে। বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় নওগাঁ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অঅয়োজিত এ অনুষ্ঠাসে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থা নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি বিশি,ষ্ট নৃত্য শিল্পী মোরশেদা বেগম শিল্পী।
    অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শরিফুল ইসলাম খান, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ কায়েস উদ্দিন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি এ্য্ডা. ডি এম আব্দুল বারীূ, আবৃত্তি পরিষদের সাধারন সম্পাদক রফিকুদ্দৌলা রাব্বী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক মাগফুরুল হাসান বিদ্যুৎ, বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সাধারন সম্পাদক লিজা সুলতান, সদস্য আরিফ উদ্দিন আরিফসহ অন্যরা।
    পরে অনুষ্ঠানে নৃত্য রঙ একাডেমী, নৃত্যাঞ্জলী একাডেমী এবং নৃত্য নিকেতনের শিল্পীরা মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে।
    উল্লেখ্য অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থা ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী’র যৌথ আয়োজিত ঢাকায় অনুষ্ঠিত নৃত্য প্রতিযোগিতায় দলীয়ভাবে ৬টি গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৩৫টি পুরস্কার লাভ করে নওগাঁ জেলা শ্রেষ্ঠ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।#

    রওশন আরা পারভীন শিলা
    নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি।

  • নওগাঁয় প্রভাবশালীর প্রভাবে ৩০ টি পরিবার পানি বন্দি

    নওগাঁয় প্রভাবশালীর প্রভাবে ৩০ টি পরিবার পানি বন্দি

    রওশন আরা শিলা,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
    নওগাঁ সদর উপজেলার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের চকরামপুর গ্রামের মোল্লা পাড়ায় পাকা ড্রেন ও দুইটি সরকারী কার্লভাট ব্রিজ দিয়ে তুলশীগঙ্গা নদীতে পানি প্রবাহিত হতো। কিন্তু গত দুই বছর যাবৎ এলাকার প্রভাবশালি সুরমা মাল্টিপারপাসের চেয়ারম্যান সবেদুল ইসলাম রনি তুলশীগঙ্গা নদীর তীরবর্তী পূর্ব পাশ্বের নদীর নিচু জমি দখল করে মাটি ভরাট করায় ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে জলাবদ্ধতায় হুমকির মুখে প্রায় ৩০টি বাড়ি। সামান্য বৃষ্টিতেই জ্বমে হাটু পানি। রান্না করাসহ সন্তান ও গবাদিপশু নিয়ে পরতে হয় চরম ভোগান্তিতে।
    এর মধ্যেই গ্রামের ২০টি আধাপাকা বাড়ী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ফসলের মাঠে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বিঘা আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। যার কারণে জমিতে ফসলের যায়গায় কচুরিপানায় পরিপূর্ণ।

    গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হল শুভ জানান, ড্রেনের পানি চলাচল বন্ধ হওয়ার জন্য বাচ্চাদের নিয়ে অসুবিধায় পরতে হচ্ছে। তারা পানির কারণে ঠিক মতো স্কুল, কলেজে যেতে পারছে না। খেলা ধুলা করতে পারছে না। সব সময় পানি বন্দী অবস্থায় থাকতে হচ্ছে এতে বাচ্চাদের মেধা বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও পানি জ্বমে থাকার কারণে বড় ও ছোট বাচ্চাদের পায়ে ঘা সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্তের শিকার হচ্ছে।

    গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ রানা বলেন, আমাদের গ্রামের পানি চলাচল ড্রেনের পাশে যারা বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন, তারা সকলেই গ্রামবাসী সুবিধার্থে পাকা ড্রেন নির্মান করে দিয়েছেন। সবেদুল ইসলাম রনি প্রভাবশালী হওয়ায় কারণে ড্রেনের মুখ বন্ধ করে মার্কেট নির্মান করে ড্রেনের পানি নদীতে নিষ্কাশন ব্যাহত করছেন। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানায় অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। তা না হলে গ্রামবাসীর বিভিন্ন জান মালের ক্ষয়ক্ষতি সহ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তা না হলে একসময় বড় ধরনের পানিবাহিত রোগের আসংখ্যা দেখা দিবে। প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা, ভূমি অফিস, পৌরসভার, পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ বিভিন্ন দপ্তরে কিন্তু সবেদুল ইসলাম রনি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কোন সঠিক সুরাহা পাচ্ছে না ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুরমা মাল্টিপারপাসের চেয়ারম্যান সবেদুল ইসলাম রনির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক চিত্র পত্রিকার নওগাঁ জেলার সাংবাদিককে জানায়, আমি আমি কারো জায়গা দখল করে জমি ভরাট করি নাই। আমি আমার নিজ জমি ভরাট করেছি। এখানে কোন ড্রেন বন্ধ করি নাই। আমিতো আমার জায়গার উপর দিয়ে কোন ড্রেন দিবোনা। যদি ট্রেনে প্রয়োজন পড়ে গ্রামবাসীদের বলুন জমির সাইট দিয়ে ড্রেন করে নিতে যদি কোন সাহায্য সহযোগিতা করার প্রয়োজন পরে আমি করব।

    নওগাঁ জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান, পি এএ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#

    রওশন আরা পারভীন শিলা
    নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি।

  • আমাদের সুজানগর সাহিত্য সংকলন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

    আমাদের সুজানগর সাহিত্য সংকলন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ “সাহিত্য সংস্কৃতি বিকাশ ও সমাজ উন্নয়নে” আমাদের সুজানগর সাহিত্য সংকলন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার সাতবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজ অডিটরিয়ামে কৃষি বিজ্ঞানী ড. জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও আখতারুজ্জামানের স ালনায় সংকলন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির। মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা, কবি ও গল্পকার বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিফা আশরাফ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ তরিকুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল হান্নান। অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন কথা সাহিত্যিক এ কে আজাদ দুলাল, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) এর পরিচালক,কবি ও কথাশিল্পী মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান, বিশিষ্ট কবি এ এফ এম মনিরুল ইসলাম তরুন, কবি ও সাতবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল বাছেত, আমাদের সুজানগর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠনের মুখপত্রের সম্পাদক প্রকৌশলী মো.আলতাব হোসেন। অনুষ্ঠানে সুজানগর থেকে প্রকাশিত একমাত্র পত্রিকা সাপ্তাহিক পল্লীগ্রামের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কবি আব্দুস শুকুর, সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, এন এ কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ও সুজানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন,কবি পরেশ চক্রবর্তী, নুরুজ্জামান, রেজাউল করিম সহ উপজেলার অন্যান্য কবি, সাহিত্যিক ও গুণীজন উপস্থিত ছিলেন। কবিতা আবৃত্তি করেন আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে ৩য় স্থান অধিকারী স্থানীয় হাকিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী লুবনা রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির বলেন, ভবিষ্যতে এই উপজেলার লেখকেরা আরও নতুন নতুন গ্রন্থ প্রকাশ করে পাঠকদের সমৃদ্ধ করবেন বলে আশা করি। এ সময় লেখকেরা তাদের বক্তব্যে সবার উৎসাহ নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে ভালো কিছু উপহার দেওয়ার জন্য তাদের প্রেরণা যোগাবে বলে জানান। সংকলন গ্রন্থটিতে সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য,সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, ভ্রমণকাহিনী,ছোটগল্প,প্রবন্ধ, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী সহ উপজেলার বিভিন্ন লেখকের কবিতা ও ছড়া রয়েছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • ১৫  অক্টোবর  খেতুর ধামে শেষ হবে  শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠকুরের তিরোভাব তিথিতে মহোৎসব

    ১৫ অক্টোবর খেতুর ধামে শেষ হবে শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠকুরের তিরোভাব তিথিতে মহোৎসব

    মোঃ হায়দার আলী রাজশাহী থেকেঃ গত ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী খেতুরধামে মহোৎসব। প্রতিবছর ঠাকুর শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠাকুরের তিরোভাব তিথিতে এ মহোৎসবের আয়োজন করা হবে। সারা পৃথিবীতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলাম্বীদের ধামের সংখ্যা মাত্র ছয়টি। এর মধ্যে পাঁচটিই ভারতে অবস্থিত। আর একটি বাংলাদেশের এই খেতুর ধাম।

    মহোৎসব উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মত এবারও দেশ-বিদেশ থেকে ঠাকুর শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠাকুরের এ মহোৎসবে দেশ বিদেশের কয়েক লাখ ভক্তসমবেত হয়েছে এখানে। মহোৎসবকে কেন্দ্র করে বসেছে বড়ধরনের মেলা। এনিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছে গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্টি বোর্ড। আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের সদস্যগন দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের প্রেমতলীর গৌরঙ্গবাড়ীতে খেতুর ধাম অবস্থিত। এই ধামে প্রতিবছর বাংলা কার্তিক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এখানে চলে মেলা ও সংকীর্তন। প্রেমতলীতে গৌরাঙ্গবাড়ি নামে একটি বৈষ্ণবীয় তীর্থস্থান অবস্থিত। এই বাড়িতে ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দের বাংলা মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন ঠাকুর নরোত্তম দাস (১৫৩১-১৫৮৭)। তার তিরোভাব তিথি উপলক্ষে এখানে তিন দিন ব্যাপি মেলা ও মহোৎসবের আয়োজন হয়েছে।

    দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ভক্ত এখানে মহোৎসবে যোগদান করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, মণিপুর ইত্যাদি রাজ্য থেকে বৈষ্ণব ভক্তরা এখানে এসে সমাবেত হয়। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠবে খেতুর ধাম। বৈষ্ণব ভক্তদের সঙ্গে মিলিত হয় সন্ন্যাসী ও বাউল ভক্তরা। আসামের কামাক্ষা থেকে প্রতিবছর এখানে সন্নাসীদের আগমন ঘটে। ভারত ছাড়াও নেপালের পুণ্যার্থীরা এই মেলায় আসে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন)-এর উদ্যোগে ফ্রান্স, আমেরিকা, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশ থেকে ভক্তরা এই মেলায় আসে। হাজার হাজার ভক্তের পদচারণা আর প্রার্থনায় প্রেমতলী আর গৌরাঙ্গবাড়ি মুখরিত হয়ে ওঠে। মেলা উপলক্ষে তৃতীয় দিনে গোদাগাড়ী এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই মেলাকে ‘বৈষ্ণবের মহামিলন’ বলে অভিহিত করা হয়।

    ঠাকুর নরোত্তমের জন্ম সম্পর্কে কিংবদন্তী হলো— ‘একবার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পার্ষদ ভক্তদের নিয়ে নদীয়ায় মহানাম কীর্তন করছিলেন। হঠাৎ মহাপ্রভুর চোখ প্রেমতলীর খেতুর গ্রামের দিকে গেল। মহাপ্রভু তৎক্ষনাৎ ‘নরোত্তম, নরোত্তম’ বলে কেঁদে উঠলেন। এর পর মহাপ্রভু প্রয়াণের বহু বছর পর পদ্মা নদীর তীরে গোপালপুর নগরের রাজা রাজা কৃষ্ণানন্দ ও শ্রী নারায়ণী দেবীর ঘরে মাঘ মাসে শুক্ল পঞ্চমীতে শ্রী নরোত্তম দাস ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। বয়োবৃদ্ধি হলে নরোত্তম ঠাকুর ভক্তমুখে শ্রী গৌরসুন্দর ও নিত্যানন্দের মহিমা শ্রবণ করে পরম আনন্দ অনুভব করলেন। গৌরলীলা স্থান দর্শনের অভিলাষে সংসার ত্যাগ করে বৃন্দাবন ধামে গমন করলেন। সেখানে শ্রী লোকনাথ গোস্বামীর কাছে রাধাকৃষ্ণ মন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করলেন এবং শ্রীল জীব গোস্বামীর কাছে বৈষ্ণব দর্শন শিক্ষা লাভ করলেন। এরপর ঠাকুর এক বিপ্রের ধানের গোলা থেকে গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া বিগ্রহ উদ্ধার করে খেতুরে প্রতিষ্ঠা করলেন।’

    মেলার সময় গৌরাঙ্গ বাড়ির চারিদিক থেকে লোক আসতে থাকে। ভক্তদের অনেকে সদলবলে কীর্তন করতে করতে উৎসব প্রাঙ্গনে ঢোকে। তাদের মধ্যে কেউ মৃদঙ্গ, কেউ করতাল, শঙ্খ, হারমোনিয়াম, বেহালা ইত্যাদি বাজিয়ে নগর কীর্তন করতে করতে উৎসব স্থলে প্রবেশ করে। চার দিন ব্যাপি নামকীর্তন চলে। তৃতীয় দিন হলো অষ্টপ্রহর নামকীর্তনের নির্ধারিত দিন।

    শ্রীচৈতন্য তিরোধানের পাঁচ দশক পর পদাবলী কীর্তনের সূত্রপাত হয়। নরোত্তম ঠাকুর এই প্রথাবদ্ধ পদাবলী গায়নের সূত্রপাত করেন। তিনি ১৫৮৩ মতান্তরে ৮৪ খ্রিস্টাব্দে খেতুরিতে এক বৈষ্ণব মহাসম্মেলনের আয়োজন করেন। এই সম্মেলনে তিনি সর্বপ্রথম গৌরচন্দ্রিকা গায়নসহ প্রণালীবদ্ধভাবে লীলাকীর্তন গাওয়ার প্রস্তাব করেন। এই উৎসবে উপস্থিত বৈষ্ণব কবি, দার্শনিক, রসবেত্তা ও গায়কেরা সেটি অনুমোদন করেন। তখন থেকে খেতুরি উৎসব ব্রজবুলির পদ এবং গৌরচন্দ্রিকা গায়নসহ প্রণালীবদ্ধ লীলাকীর্তনের প্রধান অঙ্গ হয়ে ওঠে। নরোত্তম যে পদাবলীকীর্তন প্রবর্তন করেন তার বৈশিষ্ট্য হলো— লীলাকীর্তনের পূর্বে গৌরচন্দ্রিকা গাওয়া, পরিবেশনের জন্য যে পালা গঠিত হবে তাতে পদকর্তাদের মর্মানুসারী পদ সংকলন, মৃদঙ্গের ব্যবহার, তালছন্দ রচনা এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কীর্তন আলাপের মধ্য দিয়ে কীর্তন পরিবেশন। এভাবে নরোত্তম প্রবর্তিত কীর্তনের একটি আলাদা ঘরানা তৈরী হয়। খেতুরি ছিল রাজশাহীর গড়েরহাটী পরগণার অধীন। উৎস স্থলের নামানুসারে এই কীর্তন ধারার নাম হয় গরানহাটী বা গড়েরহাটী ঘরানা।

    চরিদিক থেকে লোক মেলায় আসতে থাকে। ভক্ত, দর্শনার্থী, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, গবেষক, ব্যবসায়ীর, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ, ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মেলায় আসে। এছাড়া এই মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পেশাজীবী শ্রেণি তাদের উৎপাদিত দ্রব্যাদি বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। মেলা প্রাঙ্গনের চারি দিক ঘিরে থাকে নানা প্রকার দোকান। এক এক দিকে এক এক প্রকার দোকানীদের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায়। কোথাও বাদ্যযন্ত্র বিশেষ করে মৃদঙ্গ, পূজার উপকরণ ও ধর্মীয় গ্রন্থ বিক্রি হয়। এই সব স্থানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে হিন্দু ধর্মের উপর তাদের প্রচারমূলক গ্রন্থ বিক্রি করে। অন্য দিকে থাকে নানা প্রকার খাবারের দোকান। মাছ-মাংসসহ ভাত খাওয়ার হোটেল যেমন দেখা যায় তেমনি নিরামিষ খাবারেরও দোকান লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া অস্থায়ী বিভিন্ন মিষ্টির দোকান গড়ে ওঠে। খেতে পাওয়া যায় চিড়া-দৈ। খাবার হিসেবে ডালপুরি, সিঙ্গাড়া, পিঁয়াজি ইত্যাদি মুখরোচক খাবার তৈরী হয়। একদিকে দেখা যায় চানাচুর, খোরমা, চিনাবাদাম, বাতাসা, খাজা ইত্যাদির দোকান। এই সকল দোকান পেরিয়ে মনোহরী পট্টি। এখানে বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী, খেলনা ইত্যাদির ঘটা দেখতে পাওয়া যায়। কুমারদের দোকানে দেখা যায় হাড়ি, পাতিল, মাটির পুতুল, ব্যাঙ্ক, খেলনা, ফুলদানী, গয়না, টেরাকোটা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। ছুতারেরা বিক্রি করে কাঠের তৈরী জিনিসপত্র। এর মধ্যে পিড়ি, জলচৌকি, খাট, পালঙ্ক, চেয়ার, টেবিল, আলমারী, আলনা, শোকেস, ড্রেসিংটেবিল ইত্যাদি দেখা যায়। ওঠে কামারদের তৈরী জিনিসপত্র। যেমন, দা, কুড়াল, খোন্তা, কোদাল, শাবল, বটি, কাঁস্তে, ছুরি, হাঁসুয়া, চাপাতি, নাঙ্গলের ফলা, নারকেল কোরানী ইত্যাদি। মেলার বাইরের দিকে খোলা মাঠে দেখা যায় সার্কাস প্যাণ্ডেল। এর কিছু দূর গিয়ে দেখা যায় নাগরদোলা।

    পুরো উৎসব স্থল জুড়ে ভক্তরা শুয়ে-বসে কাটায়। অনেক ভক্তদের রান্না করা উপকরণ নিয়ে আসে। এছাড়া মেলায় চাল-ডাল-আনাজ-তরকারী কেনার ব্যবস্থাও থাকে। সেখান থেকে ভক্তরা রান্নার উপকরণ কিনি নিয়ে রান্না করে। আবার মন্দির কর্তৃপক্ষ ভোগের ব্যবস্থা করে। অনেক ভক্ত পূর্বপুরুষের নামে, দেবতার নামে ভোগ উৎসর্গ করে। ভক্তদের খাওয়ায়। সেখান থেকেও দর্শনার্থীদের খাওয়ার যোগান হয়। খাওয়া ছাড়াও ভক্তদের থাকার জন্য বিভিন্ন বিভিন্ন প্যাণ্ডেল তৈরী করে দেওয়া হয়। সেখানে তারা রাত্রি যাপন করতে পারে। আবাসনের স্থানেও গুচ্ছে গুচ্ছে কীর্তন দল দিন, রাত কীর্তন করে। কীর্তনের মধ্যে আছে পালা কীর্তন, নামকীর্তন, গৌর কীর্তন ইত্যাদি।

    মেলার একদিকে আছে ইসকন সাধুদের প্যাণ্ডেল। তারা সেখানে কীর্তন করে ও তাদের প্রকাশিত ধর্মীয় গ্রন্থ, পূজার উপকরণ, জপের মালা, গলার মালা, তিলক মাটি, চন্দন ইত্যাদি বিক্রি করে। এই প্যাণ্ডেলে অনেক বিদেশী ভক্তের আগমন ঘটে। অনেক স্থানে খ্রিস্টান মিশনারীদের উদ্যোগে যিশুর বাণী প্রচার করা হয়। এছাড়া হিন্দু ধর্মের অন্যান্য উপাসক সম্প্রদায়ও এই মেলাকে ধর্ম প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। যেমন, সৎসঙ্গী, মতুয়া এঁদের ধর্মগ্রন্থের দোকানও এই মেলায় লক্ষ্য করা যায়। মূলত খেতুর মেলা ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোত্র নির্বিশেষের একটি মিলন মেলা হিসেবে বর্তমানে সার্বজনীন চরিত্র লাভ করেছে।

    মূলত হিন্দু ধর্মের লোক জনের এ মেলা হলেও এলাকার মসুলমানগণ এ মেলার কার্যক্রম সুন্দর, সুচারুরুপে সম্পূন করা জন্য শত কষ্ট সহ্য করে সাহায্য করে থাকেন। প্রেমতলী ডিগ্রী কলেজ, প্রেমতলী সুকবাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, প্রেমতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এলাকার বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিতে হাজার হাজার গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারিগন তাদের যে কয় দিন অনুষ্ঠান চলে সে কয়দিন আন্তরিকভাবে সহযৌগিতা করে থাকেন।

    এ প্রসঙ্গে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গঁদেব ট্রাষ্ট বোর্ড পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক উপপরিচালক কাষ্টম গোয়েন্দা শ্রী সুনন্দন দাস রতন বলেন, নরোত্তমের সাহিত্যকর্মও মধ্যযুগের পদাবলী সাহিত্যের ইতিহাসে অতুলনীয় সম্পদ। বৈষ্ণব পদাবলী বৈষ্ণব শাস্ত্রেরই রসভাষ্য। প্রধানত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার বিচিত্র পর্যায় বর্ণনাই এর উদ্দেশ্য; নর-নারীর পার্থিব প্রেমের সকাল ভাবানুভবের মধ্যদিয়ে পারমার্থিক প্রেমতত্ত্বের এক অতুলনীয় মহিমা পদাবলী সাহিত্যে বিধত। পর্ববাগ অনুরাগ অভিসার মান. মান. মিলন. বিরহ. প্রার্থনা, আত্মনিবেদন প্রভৃতি ধারাক্রমের মধ্য দিয়ে [রাধাকৃষ্ণ প্রেম বৈষ্ণব পদাবলীতে এমন এব তত্ত্বে উপনীত হয়েছে, যেখানে অক্তের সঙ্গে ভগবানের জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার, সীমার সঙ্গে অসীমের এক মহামিলনের, এক অপার্থির পূর্ণতার অভিপ্রায়ই ব্যক্ত হয়েছে। এজন্য পদাবলী সাহিত্যের আবেদন শুরু ভক্ত বেষ্ণব সমাজের মধ্যেই সীমিত থাকেনি, তা দেশকাল থাকেনি, তা দেশকাল নির্বিশেষে সকল মানুষের আত্মিক আকুতিকেই অভিব্যক্ত করেছে। আমাদের ধর্মে বৈষ্ণব কূলের শ্রেষ্ট বৈষ্ণব বলা হয় শ্রী শ্রী নরোত্তম ঠাকুর মহাশয়কে। প্রেমভক্ত মহারাজা বৈষ্ণব কুলের ছড়া মনি বলাই পদাবলী কীর্তনের সৃষ্টিকারি উনার জন্ম স্থান প্রেমতলী খেতুর ( আতুর ঘর) হিন্দু ধর্মে ৬ টি ধাম আছে, তার মধ্যে ৫ টি ভারতে বিন্দাবন, পুরি, গয়া কাসি, নবদীপ আর ১ টি বাংলাদেশের রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার খেতুর ধাম। দেশের খেতুরী ধাম ধর্মীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত চৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য হচ্ছে নরোত্তম ঠাকুর। তিনি আরো বলেন, হিন্দু ধর্ম মতে, তিন ধাম বিন্দাবন, পুরি, নবদ্বীপ ধামে তিন রাত্রী যাপন করলে যে মাহত (পুন্য) লাভ করা যায় আর এ খেতুর ধামে ১ রাত্রী যাপন করলে সমপরিমান (মাহত) পুন্য লাভ হয়। শ্রী নরোত্তম ঠাকুরের তিরোভাব বড় অনুষ্ঠান। এ উৎসবে দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাবেশ ঘটে, এসব ভক্তদের সেবার জন্য খেতুরী ধামের ট্রাষ্ট বোর্ড সদস্যরা মন্দির চত্তরে থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন এবং মন্দিরের চারিপাশে ৫০ থেকে ৬০ জন গুরুদেব পৃথকভাবে তাদের ভক্তদেরকে নিয়ে এসে পৃথক পৃথক প্যান্ডেল তৈরী ভক্তসহ আগত যাত্রীদের নিজ খরচে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন। এখানে নরোত্তম ঠাকুরের বিচরণ অংশ হিসেবে আরো ৪ টি বিচরণ অংশ রয়েছে। ভজনতুলি যেখানে তিনি ভজন করতেন, খিললতুলি, দন্ততুলি একটি বড় পুকুর আছে সেখানে তিনি স্নান করতেন, মুখ চোখ ধৌত করতেন, তমালতোলা। এগুলি বিচরন স্থান।

    বদ্রীনাথ, দ্বারকা, পুরী ও রামেশ্বরম- এই চার তীর্থক্ষেত্রকে একত্রে ‘চারধাম’ বলে। বিশ্বাস করা হয় যে, এই চার তীর্থ দর্শনে মোক্ষ অর্জন করা সম্ভব। আদি শঙ্করাচার্য এই চারধামের কথা বলে গিয়েছেন। খেয়াস করে দেখুন এই চারটি তীর্থস্থলের অবস্থান ভারতের চারটি ভিন্ন অঞ্চলে। বদ্রীনাথ উত্তরের উত্তরাখণ্ডে, দ্বারকা পশ্চিমের গুজরাটে, পুরী পূর্বের ওড়িষায় এবং রামেশ্বরম দক্ষিণের তামিলনাডুতে অবস্থিত। আদি শঙ্করাচার্য এই চার ধামেই মন্দির স্থাপনা করেছিলেন।

    বদ্রীনাথঃ মনে করা হয়, বিষ্ণুর অবতার নর-নারায়ণ বদ্রীনাথে তপস্যা করার পর থেকে এখানকার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। সে সময় এখানে প্রচুর বেরিগাছ ছিল। সংস্কৃতে বেরিকে ‘বদরি’ বলে। নর-নারায়ণ যেখানে তপস্যা সেখানে তাঁকে বৃষ্টি ও রোদের হাত থেকে বাঁচাতে মা লক্ষ্মী নিজে একটি বড় বদরি গাছে রূপান্তরিত হন। এ সবই সত্যযুগের ঘটনা। তাই বদ্রীনাথ প্রথম ধাম হিসেবে পরিচিতি।

    রামেশ্বরমঃ ত্রেতাযুগে ভগবান রাম ভগবান শিবের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য এখানে শিব লিঙ্গ তৈরি করে পুজো করেছিলেন। রামেশ্বরম কথার অর্থ রামের ঈশ্বর। এটি তাই দ্বিতীয় ধাম।
    দ্বারকাঃ এটি তৃতীয় ধাম। দ্বাপর যুগে মথুরা পরিত্যাগ করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে থাকতে শুরু করেন। সেই থেকে তীর্থক্ষেত্র হিসেবে এর গুরুত্ব বেড়ে যায়।
    পুরীঃ পুরীতে ভগবান জগন্নাথ কলিযুগের অবতার হিসেবে পূজিত হন। পুরীকে তাই চতুর্থ ধাম হিসেবে মনে করা হয়।
    ছোট চারধামঃ বদ্রীনাথ-সহ উত্তরাখণ্ডের আরও তিনটি প্রাচীন তীর্থস্থান যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথকে একত্রে ছোট চারধাম বলা হয়।

    এ প্রসঙ্গে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গঁদেব ট্রাষ্ট বোর্ড পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামাপদ সান্যাল সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৩ অক্টোবর অধিবাস, ১৪ অক্টোবর মূল মহা উৎসব এবং বাসি মহা উৎসব ও মহন্তবিদায় অনুষ্ঠিত হবে।
    মূল কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাব কমিটির মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজগুলি সুন্দর সুচারুভাবে করা হয়েছে। তিন দিন পূর্বে থেকে ভক্তদের সমাগম ঘটে থাকে, সব সময় ২ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি থকে। ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবাই আগত মানুষের সাহায্য করে থাকেন। এলাকার মসুলমান ভাই, বোন নিজেদের অনেক কষ্ট সহ্য করে আগত ভক্তদের সাহায্য করে থাকেন বলে তিনি জানান। গোদাগাড়ী থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের ৫০০ জন সদস্য, ৩০ জন আনসার, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী, চিকিৎসক, ২ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দিনরাত কাজ করে করছেন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারিগন দিনরাত পরিশ্রম করে করছেন। ১৬ টি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকবে ৩০ বিঘা জমির উপর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ মহা উৎসব সুষ্ঠভাবে চলছে সকল কার্যক্রম।

    উল্লেখ্য, ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দে ঠাকুর নরোত্তম দাস তৎকালীন গড়েরহাট পরগণার অন্তর্গত বর্তমানের গোদাগাড়ী উপজেলার খেতুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জমিদার কৃষ্ণ নন্দদন্ত দাস, মা নারায়ণী রাণী। গোপালপুরে শৈশব অতিবাহিত করে ঠাকুর শ্রী শ্রী নরোত্তম দাস বৃন্দাবন অভিমুখে যাত্রা করেন। সেখানে নিখিল বৈষ্ণবকুল লোকনাথ গোস্বামীর শিষ্যত্বগ্রহণ করে ধর্মীয় দীক্ষা লাভ করেন। পরে তিনি খেতুরে ফিরে আসেন। খেতুর মন্দিরে গড়ে তোলেন স্থাপনা। এরপর তিনিই প্রথমে এখানে এ উৎসবের আয়োজন করেন। ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে তার কাছে এসে দীক্ষাগ্রহণ করতে শুরু করেন।

    ১৬১১ খ্রিস্টাব্দের কার্তিকী কৃষ্ণা পঞ্চমী তিথিতে ঠাকুর শ্রী শ্রী নরোত্তম দাসের দেহ সাদা দুধের মতো তরল পদার্থে পরিণত হয়ে গঙ্গাজলে মিলিয়ে যায়। তখন থেকেই নরোত্তমের কৃপা লাভের আশায় প্রতিবছর বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীরা খেতুরীধামে তার তিরোভাব তিথি মহোৎসবে মিলিত হন। দিনে দিনে তার ভক্তের সংখ্যা বাড়ছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    গোদাগাড়ী, রাজশাহী।