Author: desk

  • ধামইরহাটে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা

    ধামইরহাটে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

    নওগাঁর ধামইরহাটে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সবার জন্য মর্যাদা-স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার’ এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে ডাসকো ফাউন্ডেশন ও ধামইরহাট উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের যৌথ উদ্যোগে ১০ ডিসেম্বর বেলা ১১ টায় চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একটি র‌্যালী ধামইরহাট জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে চকময়রাম এলাকাস্থ্য হাটনগর ব্র্যাক শিশু নিকেতনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। ডাসকো ফাউন্ডেশনের উপজেলা কর্মকর্তা রওনক লায়লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের সহ সভাপতি প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল, আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ মুক্তাদিরুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান, নারী নেত্রী তমা আকতার, কাউন্সিলর আব্দুল হাকিম, পৌর মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন, সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আবু সুফিয়ান হোসাইন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু মুছা স্বপন, সাংবাদিক পাস্কায়েল হেমব্রম, সুফল চন্দ্র বর্মন প্রমুখ।

    আবুল বয়ান
    ধামইরহাট, নওগাঁ।

  • ধামইরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা ও শিক্ষককে মারপিটের মূল আসামীকে গ্রেফতার

    ধামইরহাটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা ও শিক্ষককে মারপিটের মূল আসামীকে গ্রেফতার

    আবুল বয়ান, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

    নওগাঁর ধামইরহাটে খড়মপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা-ভাংচুর ও ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মারুফা আকতারকে মারপিটের মূল আসামীকে গেফতার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ। গত ৮ ডিসেম্বর উমার ইউনিয়নের খড়মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা ও মারপিটের ঘটনায় ৯ ডিসেম্বর থানায় ১১ নং একটি মামলা দায়ের হলে গা ঢাকা দেয় হামলাকারী ও মাদক মামলার আসামী আনোয়ার হোসেন। ১০ ডিসেম্বর ধামইরহাট থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজীর নেতৃত্বে এস,আই মোমিন সহ পুলিশের বিশেষ টিম সাড়াশি অভিযান চালিয়ে আসামীর বাড়ীর পাশে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
    ধামইরহাট থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজী জানান, আইন অমান্যকারী ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলাকারী খড়মপুর গ্রামের মৃত মোজাফফরের ছেলে ও মামলার মূল আসামী আনোয়ারকে গ্রেফতার করে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

    আবুল বয়ান
    ধামইরহাট, নওগাঁ।

  • বরিশালের গৌরনদীতে দুর্নীতি বিরোধী শপথ গ্রহণ

    বরিশালের গৌরনদীতে দুর্নীতি বিরোধী শপথ গ্রহণ

    বি এম মনির হোসেনঃ-

    “দুর্নীতির করাল গ্রাস জাতির জন্য সর্বনাশ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব” শ্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জেলার গৌরনদীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তাসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে শুক্রবার সকালে উপজেলা চত্বরে মানববন্ধন শেষে শহীদ সুকান্ত বাবু মিলনায়তনে আলোচনা সভার শুরুতে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব খন্দকার শাহে আলম মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সী, গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত)মোঃ হেলাল উদ্দিন,দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

  • বানারীপাড়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালন

    বানারীপাড়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালন

    এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ সংবাদদাতা।। শনিবার ১০ ডিসেম্বর বেলা ১১ টায় বেসরকারি সংস্থা নাগরিক উদ্যোগের উদ্যোগে বানারীপাড়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালন পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতি পাদ্য বিষয় “মর্যাদা, ক্ষমা, স্বাধীনতা ও ন্যায় বিচার সবার জন্য” স্লোগানকে সামনে রেখে দিবসটি পালন উপলক্ষে সংস্থার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক দলের সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন মাস্টার। প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা হিউম্যান রাইটস প্লাটফরমের সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম। সংস্থার কমিউনিটি প্যারা লিগ্যাল সদস্য মোঃ মাসুম বিল্লাহর সঞ্চালনায় সভায় আলোচনা করেন আর জে এম এফ সদস্য ফিরোজ বেগম, মোঃ জাহিদ ফারুক, ছাত্রী জেবুন্নেছা, মারজানা প্রমূখ। আলোচনার পূর্বে একটি র‍্যালী বের করে।#

  • পাইকগাছার ৫ নারী পাচ্ছেন জয়িতা সম্মাননা

    পাইকগাছার ৫ নারী পাচ্ছেন জয়িতা সম্মাননা

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে দেশের নারী সমাজ। পুরুষের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিচ্ছে এদেশের নারীরা। কিন্তু খুব সহজেই সব নারীদের জীবনে সফলতা আসেনি। এজন্য করতে হয়েছে সংগ্রাম আর প্রাণপণ চেষ্টা। অনেকের রয়েছে অনেক করুন ইতিহাস।
    সব বাঁধা আর সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে যারা সফল হয়েছে তারাই তো জয়িতা। সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে অথবা ব্যক্তি জীবনে সফলতা পেয়েছে এমন নারীদের মধ্যে সরকার ৫টি ক্যাটাগরীতে জয়িতা সম্মাননা প্রদান করে থাকে। সংগ্রামী নারীদের জন্য এটি বিরল একটি সম্মাননা। সরকার এ সম্মাননা উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে প্রদান করে থাকে।
    প্রতিবছরের ন্যায় এবছর ও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৫জন নারী ৫টি ক্যাটাগরীতে পাচ্ছেন জয়িতা সম্মাননা। ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বেগম রোকেয়া দিবস ও জয়িতা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক দপ্তর থেকে নিবার্চিত ৫ নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ পত্র প্রদান করা হবে।
    এ বছর যে ৫জন নারী মনোনিত হয়েছেন তারা হলেন,
    “শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী” ক্যাটাগরীতে রহিমা সুলতানা বুশরা। তিনি পৌরসভার বাতিখালী গ্রামের জিএম নাহিদুল এহসান মিলন এর সহধমীর্নি। তার পিতা এসএম সহিদুল ইসলাম ও মাতা সাহিদা ইসলাম। রহিমা সুলতানা প্রশাসনের ৩৪তম ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে উপজেলা নিবার্হী অফিসার হিসেবে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন।
    “সফল জননী” ক্যাটাগরীতে আকলিমা আজাদ। তিনি উপজেলার রাড়ুলী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এর সহধমীর্নি। সফল এ জননী’র ৫ সন্তানের মধ্যে ছেলে আমিনুল ইসলাম টুকু সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মোমিনুল ইসলাম মুকুল বিএ পাশ ও প্রাক্তন চাকুরীজীবী, ইনামুল ইসলাম বকুল মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, তারিকুল ইসলাম উজ্জ্বল বান্দরবন জেলা পুলিশ সুপার ও মেয়ে আশরাফুন্নেছা রতœা বিএ পাশ।:
    “নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী” ক্যাটাগরীতে শাহিদা আক্তার। তিনি পৌরসভার বাতিখালী গ্রামের মৃত মেছের আলী ও মৃত ফুলজান বিবির অভাগা মেয়ে। পিতা—মাতা হারা এতিম শাহিদা পালিত ভাই মুনছুর আলীর এখানে থেকে চরম অভাব অনটনের মধ্যে এইচএসসি পাশ করে বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্টানে কর্মরত রয়েছে।
    “অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী” ক্যাটাগরীতে পুতুল রজক। তিনি উপজেলার হরিঢালী গ্রামের গঙ্গাধর রজক ও সন্ধ্যা রাণী রজক এর মেয়ে। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা পুতুল এইচএসসি পাশ করার পর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরুর খামার করে সাবলম্ভী হয়েছেন।
    “ সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী” ক্যাটাগরীতে কাকলী রাণী সরদার। তিনি উপজেলার উত্তর খড়িয়া গ্রামের কমলেশ সরকারের স্ত্রী। তিনি বিএ পাশ করে নারী উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি পুষ্টি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
    উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকতার্ মনিরুজ্জামান বলেন বেগম রোকেয়া দিবস ও জয়িতা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তাদেরকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।
    উপজেলা নিবার্হী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন এধরনের জয়িতা সম্মাননা প্রদান নারীদের জন্য সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নারীদের জন্য এটি জাতীয় সম্মাননা এবং আর্তমযার্দার বিষয়। এবার যারা সম্মাননা পাচ্ছেন তাদের মধ্যে আমার মতো উপজেলা নিবার্হী অফিসার পদমর্যাদার নারী ও রয়েছেন। তাদের সকলকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,(খুলনা)।

  • আজ পাইকগাছার কপিলমুনি মুক্ত দিবস

    আজ পাইকগাছার কপিলমুনি মুক্ত দিবস

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা ( খুলনা )।।
    আজ ৯ ডিসেম্বর খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহাসিক কপিলমুনি রাজাকার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দ্বিতীয় দফার দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টার সম্মুখ যুদ্ধের পর রাজাকারদের আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে পতন ঘটেছিল দক্ষিণ খুলনার সবচেয়ে সমালোচিত ও বড় রাজাকার ঘাঁটিটির। ঐ দিন উপস্থিত হাজার হাজার জনতার রায়ে আত্মসমর্পণকৃত ১৫৫ জন রাজাকারকে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। যুদ্ধকালীন জনতার রায়ে এত সংখ্যক রাজাকারদের এক সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্ভবত সেটাই প্রথম ছিল।
    তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর দোসররা দেশব্যাপী সাধারণ নীরিহ মানুষের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার নির্যাতন চালাতে থাকে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার মত পাইকগাছার সর্বত্র প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে উঠে মুক্তিকামীদের সমন্বয়ে। এ সময় পাক দোসররা ব্যাপক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘাঁটি করে ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনিতে । অত্যাচারের শিকার বহু পরিবার সে সময় ভারতে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়েছিল। আধুনিক কপিলমুনির স্থপতি রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর সুরম্য বাড়িটি পাকিস্তানি দোসররা দখল নিয়ে সেখানে ঘাঁটি গেড়ে বসে। তখন এলাকায় নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণে। প্রতিদিন বিকেল ৪ টা থেকে ভোর ৬ টা নাগাদ কার্পোজারী করা হত এলাকায়। নীরিহ মানুষদের ধরে কপোতাক্ষ নদীর তীরে ফুলতলা নামক স্থানে এনে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে কেটে লবন দেয়া হত। এসব অত্যাচারের বিরুদ্ধে পাইকগাছার রাড়ূলী, বাঁকা, বোয়ালিয়া ও গড়ইখালীতে প্রতিরোধ দূর্গ হিসেবে মুক্তিফৌজের ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সকলের প্রতি হাই কমান্ডের তাগিদ পড়ে কপিলমুনি শত্রু ঘাঁটি পতনের। কারণ খুলনা লের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। সাড়ে ৩ শ’র বেশী পাক সেনা ও তাদের দোসররা অবস্থান নিয়েছিল এখানে। সাধারণদের ভীতসন্ত্রস্থ করতে সর্বক্ষণ ঘাঁটির ছাদের উপর তাক করে রাখা হত ভারী কামান ও মেশিন গান।
    সংগত কারণেই ঘাঁটিটি পতনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এ লক্ষে ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর খুলনা লের সকল মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারগণ একত্রে মিলিত হন তালার মাগুরার শান্তি বাবুর দো’তলায়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, যে কোন মূল্যে কপিলমুনিকে মুক্ত করতেই হবে। ঘাঁটিটি পতনে অবশ্য এর আগে আরো একবার আক্রমন হলেও জনতার অসহযোগিতায় সেবার ব্যর্থ হওয়ায় পাইকগাছার রাড়–লী ও হাতিয়ারডাঙ্গা ক্যাম্প কমান্ডারগণ সমন্বিত যুদ্ধের একটি পরকল্পনা প্রণয়ন করেন। নৌ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী রহমত উল্লাহ দাদু, অ্যাডভোকেট স.ম বাবর আলী, শেখ কামরুজ্জামান টুকু, গাজী রফিকুল ইসলাম, ইউনুস আলী ইনু, ইঞ্জিনিয়ার মুজিবর, শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু, মোড়ল আব্দুস সালাম, আবুল কালাম আজাদের যৌথ নেতৃত্বে অবশেষে ৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে চারিদিক থেকে কপিলমুনি শত্রুঘাঁটি আক্রমন করা হয়। হঠাৎ রাইফেলের গুলির ঠাশ-ঠাশ আওয়াজ মূহুর্মূহু ভারী অস্ত্র কামান, মেশিনগানের বিকট শব্দে গোটা এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আচমকা ঘুম ভেঙ্গে যায় মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের। যার যার মত বাড়ির বারান্দার নীচে পজিশন নেয় প্রাণ ভয়ে। দীর্ঘ যুদ্ধ শেষে ৯ ডিসেম্বর বেলা ১১ টার দিকে নিরস্ত্র হয়ে ১৫৫ জন রাজাকার সাদা পতাকা উড়িয়ে মাইকে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরপর সেখান থেকে সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে ৪ জন পালিয়ে যায়। সাথে সাথে পতন ঘটে খুলনা লের বৃহত্তম শত্রু ঘাঁটির।
    এরপর শত্রুদের বন্দী করে নিয়ে আসা হয় ঘাঁটির সামনের কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরের ঐতিহাসিক ময়দানে। এসময় মুক্তিযোদ্ধারা ঘাঁটির অভ্যন্তরে ঢুকে সেখানে দেয়ালের গায়ে পেরেক বিদ্ধ মাছিয়াড়ার রহিম বক্স গাজীর ছেলে সৈয়দ আলী গাজীর ঝুলন্ত লাশ দেখে সকলে আৎকে উঠেন। এখবর মূহুর্তে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার হাজার হাজার জনতার ঢল নামে সেখানে। উপস্থিত জনতার গণদাবির প্রেক্ষিতে তাদেরকে প্রকাশ্যে জনতার আদালতে গুলি করে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এসময় অধিকতর অপরাধীদের ১১ জনকে চিহ্নিত করে আলাদা ভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ও রাইফেলের বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। ঐ দিন নিহত রাজাকারদের অধিকাংশ পরিবার তাদের লাশ বুঝে নিলেও লজ্জা, ঘৃণা সহ নানা কারণে অনেকের লাশ গ্রহণ করেনি তাদের পরিবার। যাদেরকে মাঠের পশ্চিম প্রান্তে গণকবর দেয়া হয় বলেও সূত্র জানায়। দীর্ঘদিন সেখানে এলাকাবাসী মূত্র ত্যাগ করত। এযুদ্ধে শহিদ হন দু’জন মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে খুলনার বেলফুলিয়ার আনোয়ার হোসেন ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের আনছার আলী গাজী। আহত হন মোহাম্মদ আলী, তোরাব আলী সানা সহ অনেকে।
    তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, স্বাধীনতার ৫১বছরেও ঘটা করে পালিত হয়না কপিলমুনি শত্রুমুক্ত দিবস। ৭ ডিসেম্বর নাকি ৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবস? অনেকে ঐ যুদ্ধে নিহত রাজাকারদের কবরের গায়ে লিখিত তারিখ দেখে নির্ধারণ করতেন কপিলমুনি মুক্ত দিবসের তারিখ। মুক্তিযোদ্ধাদের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ দিবসটি পালিত হত না। তবে ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে ৯ ডিসেম্বরকে কপিলমুনি মুক্ত দিবস ঘোষণায় ঐক্যমতে পৌছান সকলে।

  • সুজানগরের সাড়ে ৫ হাজার কৃষক পেল বিনামূল্যে সার ও বীজ

    সুজানগরের সাড়ে ৫ হাজার কৃষক পেল বিনামূল্যে সার ও বীজ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ সুজানগর উপজেলার সাড়ে ৫ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মাহে আলমের স ালনায় এ সার ও বীজ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান কল্লোল ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মর্জিনা খাতুন। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সুজানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপন, এসএপিপিও আলমগীর হোসেন ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম সহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের রবি মৌসুমে বোরো ধানের হাইব্রিড(এসএল-৮ এইচ) জাতের বীজ ব্যবহারের জন্য কৃষকের মাঝে মিনামূল্যে বীজ সহায়তা,উচ্চ ফলনশীল(উফসী) জাতের বীজ ও সার সহায়তা এবং ব্লক প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের সমলয়ে চাষাবাদ এর নিমিত্ত প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সুজানগর পৌরসভা সহ উপজেলার সাড়ে ৫ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে এ সার ও বীজ বিতরণ করা হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সুজানগরে আ.লীগের বিক্ষোভ

    বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সুজানগরে আ.লীগের বিক্ষোভ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ষড়যন্ত্র, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের অভিযোগে পাবনার সুজানগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বের হওয়া মিছিলটি সুজানগর পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের রোকন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও তাঁতিবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মৃধা,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ও সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন তোফা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আরজু, সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মিলন, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, পৌর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি জুয়েল রানা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তমাল, সাধারণ সম্পাদক শেখ তুষার প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল ওহাব বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন অগ্রযাত্রার মহাসড়কে, সে সময় এ উন্নয়ন ব্যাহত করার চেষ্টা করছে একটি মহল। দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে ৭১-এর পরাজিত শক্তির দোসর বিএনপি-জামায়াত। আমরা সুজানগর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে থেকে এ ষড়যন্ত্র,সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যে রুখে দাঁড়াব।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • সোনাতলা পিটিআই বগুড়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী

    সোনাতলা পিটিআই বগুড়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী

    বগুড়া সোনাতলা প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই) এ বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২.০০মি. পিটিআই হলরুমে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
    প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (পিটিআই), সোনাতলা, বগুড়া এর উদ্যোগে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান-২০২২ এর আয়োজন করা হয়। পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট জনাব মোসাম্মৎ নার্গিস আখতার এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনাতলা উপজেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ জনাব মিনহাদুজ্জামান লীটন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিটিআই সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট জনাব মোঃ মিরাজ হোসেন, সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট জনাব মোঃ ইকবাল রাজ্জাক সিদ্দিকী এবং অন্যান্য ইন্সট্রাক্টরবৃন্দ।
    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ জনাব মিনহাদুজ্জামান লীটন প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন- শিক্ষকরা হচ্ছেন দেশ ও জাতি গড়ার কারিগর। তাঁদের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া সম্ভব। বর্তমান সরকার শিক্ষার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমে। তিনে আরও বলেন শিক্ষকরাই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে বিশে^র বুকে বাংলাদেশকে পরিচিতি লাভ করাতে পারেন।
    অতিথিবৃন্দের বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব মোসাম্মৎ নার্গিস আখতার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সবশেষে অতিথিবৃন্দ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

  • সুজানগরে নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন চলছে সুমির

    সুজানগরে নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন চলছে সুমির

    এম এ আলিম রিপনঃ সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় ১৯৯৬ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পাবনার সুজানগর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার মোছা.শামীমা ফেরদৌস সুমির। সংসার জীবনের সংসার থেকেই পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় সুমিকে সইতে হয়েছিলো স্বামীর নির্যাতন। এক মেয়ে সন্তান জন্মের পর ২০০৫ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। এমতাবস্থায় সন্তানের ভরণ পোষণ দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন শামীমা ফেরদৌস সুমি। কিন্তু অভাব অনটন থেমে রাখতে পারেনি তাকে।স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এখন তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। একজন সফল নারী হিসেবে বেশ কয়েকটি শ্রেষ্ঠ জয়িতার খেতাবও পেয়েছেন এই উদ্যোক্তা।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিবাহ বিচ্ছেদের পর পিতা হারুনর রশীদের বাড়িতে অবস্থান করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সুমি গ্রহণ করেন কারিগরি প্রশিক্ষণ। নিজেকে যুক্ত করেন সেলাই এমব্র্রয়ডারি, জরিক, বাটিকসহ নানান কাজে। একটু একটু করে সুমির জীবনে বয়ে আনে সফলতা। নিজের পাশাপাশি অবহেলিত নারীদের সফলতা বয়ে আনতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন প্রশিক্ষক হিসেবে। প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও খুলে বসেছেন পৌর বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সুমি বিউটি পার্লার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।সুমির প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বেশ কয়েকজন বেকার নারীর। শুধু তাতে থেমে নেই তিনি। নিজেকে সুশিক্ষিত করতে ২০০৬ সালে ভর্তি হয়েছিলেন স্থানীয় মধুপুর হাজী অজেল আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে। পরবর্তীতে এসএসসি পাশের পর ভর্তি হন সুজানগর মহিলা কলেজে। সেখান থেকে এইচএসসি পাশ করে পাবনা কলেজ থেকে স্নাতক অর্জন করেন। এবং বর্তমানে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ের উপর মাস্টার্সে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং তার একমাত্র মেয়ে পড়াশুনা করছেন ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে গড়ে ওঠা ভুক্তভোগী এই নারী উদ্যোক্তা এখন বিরোধিতা করছেন বাল্যবিবাহের।মোছা.শামীমা ফেরদৌস সুমি বলেন, ‘জীবনটা অনেক কষ্টের। হাজারও কষ্ট উপেক্ষা করে আজ আমি এই পর্যায়ে। তবে ভালো লাগে যখন একজন অবহেলিত নারীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে দক্ষ করতে পেরে। তবে সব বাবা মায়ের উচিত নিজেদের মেয়েকে শিক্ষার পাশাপাশি কোন একটা কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া। যাতে স্বামীর সংসারে গিয়ে তারা নিজেরাও কোন কিছু করতে পারে। স্বামীর উপর নির্ভরশীল হতে না হয়। তবে সকল বাবা-মার প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, যেন তাদের ছেলে কিংবা মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত না করে কেউ বিয়ে না দেয়। অল্প বয়সে বিয়ে হলে অনেকে সংসার কি বুঝে উঠতে পারে না।উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো.আফজাল হোসেন বলেন, সুমি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রথমে ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এরপরে তিনি সেলাই মেশিন কিনে বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করেন। বর্তমানে সে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন । অর্জন করেছেন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী হিসেবে উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ জয়িতার পুরস্কার।উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মো.নাজমুল হোসেন বলেন, সুমি আমাদের এখানে একটা উন্নয়নের পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করছে। তাকে দেখে অন্যান্য বেকার যুব মহিলারা উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলাম বলেন, শামীমা ফেরদৌস সুমি তার দুঃখটাকে পরশ পাথর হিসেবে গ্রহণ করে আজকে সে স্বাবলম্বী হয়েছে। তাকে দেখে সুজানগরের পিছিয়ে পড়া নারীরা এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি