Author: desk

  • ফুলবাড়িয়ায় লাল মিয়ার  রিকশার প্রথম যাত্রী ইউএনও নাহিদুল করিম

    ফুলবাড়িয়ায় লাল মিয়ার রিকশার প্রথম যাত্রী ইউএনও নাহিদুল করিম

    মো. সেলিম মিয়া ময়মনসিংহ ফুলবাড়িয়া প্রতিনিধি :
    অবশেষে সেই অসহায় পরিবারের দু:খ ঘুচাতে এগিয়ে এসেছে উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব)। একটি নতুন রিকশা প্রদানের মাধ্যমে ঐ পরিবারের কষ্ট লাঘব হয়। শনিবার (১৭ ডিসেম্বর)বেলা ১২টায় ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর হতে এ রিকশা হস্তান্তর করা হয়। উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) এর রিকশা হস্তান্তর করেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ নাহিদুল করিম। রিকশা পেয়ে লাল মিয়া (লালু) দারুন খুশি। দু’হাত তুলে দোয়া ছাড়া কিছুই দেওয়ার নেই তার। হস্তান্তরকালে বীরমুক্তিযোদ্ধা, এমপ্যাথি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। রিকশা হস্তান্তর শেষে রিকশার প্রথম যাত্রী হয়ে উঠেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ নাহিদুল করিম। রিকশা থেকে নেমে শুভেচ্ছা ভাড়া প্রদান এ যাত্রী। নতুন রিকশায় স্যারকে (উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা) যাত্রী হিসেবে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান রিকশাচালক লাল মিয়া (লালু)।
    কয়েক মাস আগে রিকশা রেখে নামাজ পড়তে গিয়ে রিকশাটি চুরি হয়েছিল লালু মিয়ার রিক্সা। তারপর থেকে খুব কষ্টে দিন চলছিল তার। দৈনিক মজুরিতে কাজ সন্ধান করলেও মাঝে মধ্যেই অলস সময় কাটাতে হয় তার। অসহায়ত্বের ঘটনা নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর ‘চোর মানে না ধর্মের কাহিনী’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাজ দেওয়া হয়। সেই লালু মিয়ার রিক্সা ক্রয়ে একটি ফান্ড তৈরি করার চেষ্টা অব্যাহত থাকে। বিষয়টি নিয়ে এমপ্যাথি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফ বিভিন্ন সামাজিক গ্রুপে যোগাযোগ করেন। তাতেও উল্লেখযোগ্য সাড়া পড়েনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি মানবিক মানুষ সাইফ। যোগাযোগ করেন ‘উই আর বাংলাদেশ’ (ওয়াব) নামে সেবামূলক ফেসবুক গ্রুপের সাথে।গ্রুপের এডমিন এস.এম আকবর পেশায় একজন পুলিশ সদস্য। মানবিক কাজ করে তিনি দেশের সেরা প্লাটফর্মে রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে তিনি হয়েছেন মানবতার ফেরিওয়ালা। এস.এম আকবর বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেন। তারা অসহায় পরিবারের সততা যাচাই বাছাই করে ৬ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে তাদের গ্রুপে একটি ভিডিও আপলোড করেন লালু মিয়ার। লালু মিয়ার একটি করুণ আর্তনাদ গ্রæপ সদস্যদের মনে দাগ কাটে। রিক্সা ক্রয়ের বাজেট ফিলাপ হয়ে যায়। চলে ক্রয় পদ্ধতি। জামালপুর থেকে একটি ভালো মানের রিক্সা ক্রয় করা হয়। যা দেখে সবাই অবাক। এত সুন্দর রিকশা।
    এমপ্যাথি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, লাল মিয়ার লালু হারানো রিকশার নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে স্ট্যাটাজটি আমার নজরে পড়ে, বিষয়টি আমি উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) এস এম আকবর স্যারের কাছে যোগাযোগ করি । সম্পকের্ অবগত হয়ে আমার অনেক খারাপ লেগেছে। এরপর থেকে আমি বিভিন্ন জায়গায় নক করি, শেষ পর্যন্ত উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) এর এডমিন শ্রদ্ধেয় এস.এম. আকবর মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখি। তার বিশ^াস ছিল তিনি আলো টেনে নিয়ে আসবেন। অবশেষে তিনি আলো টেনে এনেছেন। পরিবার অনেক খুশি অতএব আমরাও খুশি। কৃতজ্ঞতা জানাই সবার প্রতি।
    হারানো রিকশার স্ট্যাটাজ প্রদানকারী সংবাদকর্মী মো. আব্দুস ছাত্তার বলেন, লালু মিয়া সহজ সরল নামাজী লোক। হঠাৎ একদিন তার রিকশা চুরি হয়ে যাওয়ার কথা আমাকে অবহিত করেন। সতর্কমুলক একটি পোস্ট করা হয়। পরবর্তীতে অনেকে রিকশাটি ক্রয়ে একটি ফান্ড তৈরি করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সেই প্রেক্ষিতে আবেদন জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মহোদয়, এমপ্যাথি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইফ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সাথে একাধিবার কথা হয়। কেউ নিরাশ করেন নি। সর্বশেষ রিকশা ক্রয়ে আলো টেনে নিয়ে আসেন কথা নয় কাজে বিশ্বাসী মানবতার ফেরিওয়ালা দক্ষ পুলিশ অফিসার এস.এম. আকবর। ফুলবাড়িয়া থেকে বিভিন্ন মানুষের প্রদেয় ১৫,৫০০/- টাকা সর্বমোট ৬৫,৫০০/- টাকা দিয়ে একটি নতুন রিক্সা ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছি। আমি মনেকরি পরিবারটির একটি উপায় হয়েছে, তারা স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে। তার বৃদ্ধ মায়ের ঔষধ কিনা হবে। পরিবারটি ভালো থাকুক। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাহায্যকারী সকলকে মহান আল্লাহ তা আলা উত্তম প্রতিদান দান করুন।

  • বিজয় দিবসে রংপুরে সাফল্য পরিবারের পুস্পস্তাবক, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    বিজয় দিবসে রংপুরে সাফল্য পরিবারের পুস্পস্তাবক, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    রংপুর থেকে বিভাগীয় প্রধান আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন । –

    মুজিব শতবর্ষ, বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সাফল্য পারিবার রংপুর পুস্পস্তাবক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। সাফল্য পরিবার এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়িতা নাসরিন নাজ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন, শিক্ষক সুমি আকতার ,টুসি আকতার ,নাসরিন আকতার ,রুপা বেগম ,নাসরিন নাজ। শিক্ষার্থী রিতা,আবির, রাইসা, সাবা, কারিমা, আবিরাহ, বৃষ্টি, সিয়াম প্রমুখ।
    এছাড়াও সাফল্য একাডেমি, সাফল্য সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার বাংলাদেশ,ডাঃ হারুন স্মৃতি পাঠাগার এর সকল স্তরের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • ময়মনসিংহে বিজয় দিবসে রওশনের পক্ষে শহিদদের প্রতি জাপা নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা

    ময়মনসিংহে বিজয় দিবসে রওশনের পক্ষে শহিদদের প্রতি জাপা নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বেগম রওশন এরশাদ এমপির পক্ষে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

    দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে শুক্রবার ( ১৬ডিসেম্বর) জেলা,মহানগর
    জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এ শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

    এর আগে সকালে জাতীয় পার্টির ময়মনসিংহস্থ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে একটি একটি বিজয় র্য়ালী শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক ডাক্তার কে আর ইসলাম, সদস্য সচিব আব্দুল আউয়াল সেলিম,সদর উপজলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবু হানিফ সরকার, সদস্য সচিব আবজাল হোসেন হারুন এর নেতৃত্বে পাটগুদাম ব্রীজ মোড়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সৌধে ১৬ ডিসেম্বর সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এসময় জেলা ও মহানগর জাপার বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • ময়মনসিংহে ওসির নির্দেশনায় জুয়ার আসরে পুলিশের হানা,গ্রেফতার-৩

    ময়মনসিংহে ওসির নির্দেশনায় জুয়ার আসরে পুলিশের হানা,গ্রেফতার-৩

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ জুয়ার আসরে হানা দিয়ে তিন ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরল পুলিশ। ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানার এলাকার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চরহাশা দিয়া নদীরপার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চরহাশা দিয়া গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদীর ধারে নির্জন এলাকায় অস্থায়ী তাঁবু টানিয়ে জুয়ার আসর বসেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালীমডেল থানার পুলিশ অতর্কিতে হানা দেয় সেখানে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যে যার মতো ব্রহ্মপুত্র নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এসময় জুয়ার আসরের বিভিন্ন প্রজার সরঞ্জামাদী পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু জুয়া খেলার সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শনিবার গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। এই ধরনের অভিযান লাগাতার চলবে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শাহ কামাল আকন্দ।

  • বইলরে  বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বিজয়ের ইতিহাস জানানোর আহবান জানালেন চেয়ারম্যান শাহানশাহ

    বইলরে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বিজয়ের ইতিহাস জানানোর আহবান জানালেন চেয়ারম্যান শাহানশাহ

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বইলর ইউনিয়ন পরিষদে আনন্দঘন পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বইলর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মশিউর রহমান শাহানশাহ তার বক্তব্যে বইলর ইউনিয়নে বসবাসরত নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রতি ভালোবাসা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সবসময়ই স্কুলের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া বিশেষ দিবসে প্রতিটি স্কুলেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে যাতে ইউনিয়নে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস সম্পর্ক জানতে পারে ও তাদের মধ্যে দেশপ্রেম গড়ে ওঠতে পারে।

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকালে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন করেন চেয়ারম্যান খন্দকার মশিউর রহমান শাহানশাহ । এরপর তিনি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনেরসহ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা সভায়- চেয়ারম্যান খন্দকার মশিউর রহমান শাহানশাহ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। তিনি এসময় বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও নির্যাতিত দুই লক্ষাধিক মা-বোনদের স্মৃতির প্রতি। এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

    খন্দকার মশিউর রহমান শাহানশাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর সারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন একটি সুখী সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে ও ২০৪১ সালে একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ বিশ্বের কাছে এক রোল মডেল বলে বিবেচিত। বিজয়ের ৫১ বছর পূর্তিতে দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে।

  • বরিশাল-২ আসনের এমপি’র মায়ের ইন্তেকাল – দাফন সম্পন্ন

    বরিশাল-২ আসনের এমপি’র মায়ের ইন্তেকাল – দাফন সম্পন্ন

    এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ সংবাদদাতা: শনিবার ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সংসদের সাবেক সভাপতি, বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শাহে আলমের মা রিজিয়া বেগম (৮৫) ভোর সাড়ে ৪টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাধ্যর্ক জনিত করনে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যবরণ করেন (ইন্না….রাজিউন)। এসময় তিনি ৩ ছেলে ৫ মেয়ে নাতি নাতনী সহ অনেক আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। মরহুমার নামাজে জানাযা বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বাদজোহর দুপুর ২ টায় অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে বানারীপাড়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।
    তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পার্বত্য শান্তি চুক্তির আহ্বায়ক (মন্ত্রী) আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাবিবুর রহমান খান, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ গোলাম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড: মাওলাদ হোসেন সানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতিমা আজরিন তন্বী সহ বানারীপাড়া ও উজিরপুরের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ এমপি মোঃ শাহে আলমের বাড়িতে আসেন তারা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ ছাড়া বানারীপাড়াএনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এটিএম মোস্তফা সরদার, সম্পাদক এস মিজানুল ইসলাম, বানারীপাড়া মানবাধিকারের সভাপতি ও সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি ও সম্পাদক, নতুনমুখের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম মজিবুর রহমান বাবুল, জেলা ও উপজেলা সম্পাদক মোঃ জাহিদ হোসেন প্রমূখ।#

  • নড়াইলেব ঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের অভ্যন্তরে অবস্থিত গণকবরে পুস্পমাল্য অর্পণ

    নড়াইলেব ঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের অভ্যন্তরে অবস্থিত গণকবরে পুস্পমাল্য অর্পণ

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলেব ঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের অভ্যন্তরে অবস্থিত গণকবরে পুস্পমাল্য অর্পণ। নড়াইলে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা আ. লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, এদিন প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসুচির সূচনা করা হয়। সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভ, জেলা জজ আদালতের পার্শ্বে বধ্যভূমি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও পুরাতন বাস টার্মিনালে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের অভ্যন্তরে অবস্থিত গণকবরে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আ. লীগের সভাপতি এড. সুবাস চন্দ্র বোস, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফকরুল হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোলাম কবির ও অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধিগন।
    সকাল সাড়ে ৮টায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদ ষ্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
    এছাড়া বাদ যোহর সকল মসজিদ এবং সুবিধামত সময়ে মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। এদিন দুপুরে হাসপাতাল জেলখানা বৃদ্ধাশ্রম এতিমখানাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
    পৌর সানফ্লাওয়ার প্রিপারেটরি স্কুলে দুপুর আড়াইটায় মহিলাদের অংশগ্রহনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, দুপুর সাড়ে তিনটায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদ ষ্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন বনাম নড়াইল পৌরসভা একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সন্ধ্যা ৭ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান।
    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • সুজানগরে মহান বিজয় দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি

    সুজানগরে মহান বিজয় দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি

    এম এ আলিম রিপন,নিজস্ব প্রতিবেদক,সুজানগর: সুজানগরে যথাযথ মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস-২০২২ পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে শুক্রবার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিজয় র‌্যালি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার,যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সকালে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের নেতৃত্বে বের হওয়া বিজয় দিবসের র‌্যালিতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলাম সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা,পাবনা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(সুজানগর সার্কেল)রবিউল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল ওহাব, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান কল্লোল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মর্জিনা খাতুন, থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাননান, জেলা পরিষদ সদস্য আহমেদ ফররুখ কবির বাবু, কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা আশিকুর রহমান খান সবুজ, দুলাই ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান,নাজিরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান, তাঁতিবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মৃধা, হাটখালী ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ,ভাঁয়না ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল জলিল বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ, আব্দুল হাই, মতিউর রহমান সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ,উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান জর্জ, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ,সাধারণ সম্পাদক শেখ মিলন, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সরদার রাজু আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, যায়যায়দিন প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান,সুজানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এম এ আলিম রিপন,উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তমাল,সাধারণ সম্পাদক শেখ তুষার,পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সোহাগ,এন এ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেদোয়ান নয়ন সহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন। পরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার,যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও প্রেরণায় উজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাঙ্গালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তের ও ২ লক্ষ ৬৯ হাজার মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে যারা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাদের চেতনায় ছিল স্বাধীনতা, হৃদয়ে ছিল বঙ্গবন্ধু ও কণ্ঠে ছিল জয় বাংলা। তাই প্রতিক্রিয়াশীলতা,উগ্রতা,মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ রুখতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো অবতীর্ণ হতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সাথে পরিচিত না। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সহ মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সম্মুখ ধারনা প্রদান করতে হবে। এর আগে ভোরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্মম্ভে পাবনা ২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও মো.তরিকুল ইসলাম, পৌরসভার পক্ষে মেয়র রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা আ,লীগের পক্ষে সভাপতি আব্দুল ওহাব ও সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠন, সুজানগর প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পূষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। শেষে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি

  • নড়াইলে জীবিত কবর খুঁড়ে পুতে রাখা মুক্তিযোদ্ধাদের রাস্ট্রীয় স্বীকৃত চায়

    নড়াইলে জীবিত কবর খুঁড়ে পুতে রাখা মুক্তিযোদ্ধাদের রাস্ট্রীয় স্বীকৃত চায়

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে কবর খুঁড়ে জীবিত পুতে রাখা মুক্তিযোদ্ধাদের রাস্ট্রীয় স্বীকৃত চায়। নড়াইলের বধ্যভূমি পাকবাহিনী ও তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগী আলবদর-রাজাকারদের সৃষ্ট। নড়াইল জেলা জজ আদালতের ২৫ গজ দূরে ডাক অফিসের দ্বিতল বাড়ির পেছনে রয়েছে এই বধ্যভূমি। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে অসংখ্য নারী-পুরুষকে ধরে এনে এই ক্যাম্পে নির্যাতন চালায় পাকবাহিনী। নির্যাতন-ধর্ষণের পর ক্যাম্পের পেছনে দেয়াল ঘেরা জঙ্গলে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হত তাদের, কারো কারো পেট ফেঁড়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হত। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী নারকীয় হত্যাকান্ড, ধর্ষণ, নির্যাতন এর মতো জঘন্য অপরাধ করেছে। নড়াইল জেলার নদীগুলোতে গণহত্যার পর লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হত, পাড়েও ফেলে রাখা হত অসংখ্য লাশ। শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত করা হয়েছে গনকবর,বদ্ধভুমি,স্মৃতিসৌধ। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,
    ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দশ লক্ষাধিক মানুষের বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে স্বাধীনতার যে আহ্বান ছিল নড়াইলের মুক্তিপাগল জনতা তা থেকে পিছপা হয়নি। ওই সময় নড়াইলের এসডিও’র বাসভবনকে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের হাই কমান্ডের সদর দপ্তর করা হয়। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে তৎকালীন নড়াইলের এসডিও কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, এমএনএ খন্দকার আব্দুল হাফিজ, এমপিএ শহীদ আলী খান, আওয়ামী লীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন, বিএম মতিয়ার রহমান লোহাগড়া হাইস্কুলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও নড়াইলের সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের এক করে বিশাল বাহিনী যশোর অভিমুখে পাঠিয়ে দেন।
    এ দিকে নড়াইলের জামায়াত নেতা মাওলানা সোলায়মানের নেতৃত্বে ‘শান্তিবাহিনী গঠিত হয়’। এ বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে দেশ প্রেমিক শত শত মানুষকে ধরে এনে নড়াইল ডাকবাংলোয় আটকে রাখা হত। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ এনে মাওলানা সোলায়মান রেজিস্ট্রারে যাদের নামের পাশে লালকালি দিয়ে ‘রিলিজ ফর ইভার’ লিখে দিত, তাদের গভীর রাতে নড়াইল শহরের লঞ্চঘাটের প্লাটুনের ওপর নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়া হত। এভাবে মাওলানা সোলায়মান চেনা অচেনা সহস্রাধিক মানুষকে গলা কেটে হত্যা করে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।
    মাওলানা সোলায়মানসহ অন্য্যা রাজাকাররা তুলারামপুরের আওয়ামী লীগের সদস্য, নড়াইল ভিসি স্কুলের মাস্টার শহীদ আতিয়ার রহমান তরফদার, শহীদ আ. সালাম তরফদার, শহীদ মকবুল হোসেন সিকদার, শহীদ মাহাতাব তরফদার, শহীদ মোকাম মোল্যা, শহীদ কাইজার মোল্যা, শহীদ আলতাফ হোসেন তরফদার, শহীদ রফিকুল উদ্দিন তরফদার, ও চাচড়া গ্রামের শহীদ ফয়জুর রহমানসহ অনেককে ধরে এনে শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকায় নিয়ে হত্যা করে কবর খুঁড়ে সেখানে পুতে রাখে। যেটা এখন গনকবর হিসাবে চিহ্রিত করে নড়াইল মুক্তদিবস.বুদ্ধিজীবি দিবস,বিজয় দিবস ও স্বাধিনতা দিবসে ফুলের মালা দিয়ে সরকারী ভাবে পালন করা হয়।
    এ বিষয়ে শহীদ মকবুল হোসেন সিকদারের ছোটবোন জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত আরা বলেন, নড়াইল মুক্তদিবস.বুদ্ধিজীবি দিবস,বিজয় দিবস ও স্বাধিনতা দিবসে ফুলের মালা দিয়ে সরকারী ভাবে পালন করা হয়। জীবিত কবর দেওয়া এসব শহীদদের মধ্যে শুধুমাত্র শহীদ রফিকুল উদ্দিন তরফদারকে রাস্ট্রীয় স্বীকৃত দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি যেন অচিরেই বাকী সকল শহীদদের রাস্ট্রীয় স্বীকৃত দেওয়া হয়।
    এছাড়া নকসালরা পেড়লী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ. হামিদ মোল্যা, আবুয়াল হোসেন, নায়েব নজির হোসেনসহ অনেককে হত্যা করে।
    ৬ এপ্রিল সকালে পাক হানাদার বাহিনী দুটি জেট বিমান হতে নড়াইল শহরের ওপর ব্যাপক ভাবে মেশিনগানের গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে প্রচুর ক্ষতি করে। এরপর নড়াইল শহর জন শূন্য হয়ে পড়ে। ১৩ এপ্রিল হানাদার বাহিনীর একটি দল নড়াইল শহরের চৌরাস্তায় রেস্টুরেন্ট মালিক মন্টুকে গুলি করে আহত করে এবং হরিপদ সরদার, ভাটিয়া গ্রামের কালু বোস, সরসপুর গ্রামের প্রফুল্য মিত্রকে ধরে নিয়ে দাইতলা পুলের কাছে গুলি করে ফেলে রেখে চলে যায়।
    এদিকে ক্যাপ্টেন দোহারের উদ্যোগে লোহাগড়ার ইতনা ও আওড়িয়ায় প্রশিক্ষণ শিবির খোলা হয়। এ কারণে মধুমতি-নবগঙ্গা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের ভাটিয়াপাড়াস্থ হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প হতে তাদের দোসরদের সহযোগিতায় গানবোট যোগে ইতনা গ্রামে নৃশংস অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের ৫৮ জন নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যা করা হয়।
    এভাবে শত কষ্টের মাঝেও দেশ হানাদার মুক্ত করার এক দুর্জয় আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মুক্তি বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে সদর থানায় উজির আলী, লোহাগড়া থানায় মোক্তার আলী, কালিয়া থানায় ওমর আলী এবং মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে সদর থানায় শরীফ হুমায়ুন কবীর,শেখ আজিবর রহমান, লোহাগড়া থানায় শরীফ খসরুজ্জামান, কালিয়া থানায় আব্দুল মজিদ সরদারকে নিযুক্ত করা হয়। পরে তারা নড়াইলে প্রবেশ করে।
    অক্টোবর মাস হতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুক্তিপাগল মানুষের মনে এক বিশ্বাস জন্মাতে থাকে যে হানাদার বাহিনী বা তাদের দোসররা আর বেশিদিন টিকতে পারবে না। ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকেই নবগঙ্গা নদীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চল হানাদার মুক্ত হয়ে যায়। লোহাগড়া থানা পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটিকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তি বাহিনীর কমান্ডার গণ আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
    তবে তারা আত্মসমর্পণ না করায় ৮ ডিসেম্বর শরীফ খসরুজ্জামান, দবির উদ্দিন, ইউনুস আহমেদ, লুৎফর মাস্টার, আলী মিয়া, লুৎফর বিশ্বাসসহ আরও অনেক গ্রুপ এক হয়ে সম্মিলিত ভাবে তিন দিক থেকে লোহাগড়া থানা আক্রমণ করে। প্রচন্ড যুদ্ধের পর হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
    এরপর মুক্তিযোদ্ধারা নড়াইলে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী শেখ আজিবর রহমান,এস এম ফজলুর রহমান জিন্নাহের নেতৃত্বে নড়াইল কলেজের দক্ষিণে মাছিমদিয়া গ্রামে সমবেত হয়ে পুলিশ-রাজাকারদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে এই যুদ্ধে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা জয়পুরের মিজানুর রহমান হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন।
    মিজানুর রহমানের মৃতদেহ হানাদার বাহিনীর দোসররা হাত-পা বেঁধে বাঁশে ঝুলিয়ে রাখে। পরে নড়াইল শহর প্রদক্ষিণ করে কৃতিত্ব দেখায় এবং ছবি তোলে। এ ঘটনার পর ৯ ডিসেম্বর রাতে বিজয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কমান্ডার ফজলুর রহমান।

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

  • সুজানগর পৌরসভার উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালিত

    সুজানগর পৌরসভার উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালিত

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর : সুজানগরে যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে সুজানগর পৌরসভার উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস ২০২২ পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্মম্ভে পূষ্পার্ঘ অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র(কম্বল) বিতরণ। এদিন সকালে পৌরসভার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্মম্ভে পূষ্পার্ঘ অর্পণকালে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলাম,পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা,পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম নবী সহ পৌরসভার সকল কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ,বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান,পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।পরে পৌর সভাকক্ষে পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে ও পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম নবীর স ালনায় অনুষ্ঠিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নরুনবী সরকার,সুজানগর পৌরসভা কর্মকর্তা -কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বাবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা প্রমুখ। শেষে অনুষ্ঠিত দোয়া পরিচালনা করেন সুজানগর বাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম। এছাড়া মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সুজানগর পৌরসভার পক্ষ থেকে স্থানীয় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি