Author: desk

  • রাজারহাটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিবে ৬ শত ৫৮জন শিক্ষার্থী

    রাজারহাটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিবে ৬ শত ৫৮জন শিক্ষার্থী

    এনামুল হক সরকার,রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : তারিখ:২৯-১২-২০২২ ইং।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে দুপুর ১২ ঘটিকা পর্যন্ত সারাদেশে ব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।অনুষ্ঠিতব্য বৃত্তি পরীক্ষায় রাজারহাট উপজেলায় ৬শত ৫৮জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার সরকারি ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৭৩টি জাতীয়করন প্রাথমিক বিদ্যালয়,১৯টি কেজি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬শত৫৮জন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। পরীক্ষা কেন্দ্র রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ টি কক্ষে ২৬জন শিক্ষক পরিদর্শকের দায়িত্বে ২শত ৪৯জন বালক ও ৪ শত ৯ জন বালিকা চার বিষয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব থাকবেন ইউএনও নূরে তাসনীম ।#

    এনামুল হক সরকার
    রাজারহাট কুড়িগ্রাম।

  • তারাগঞ্জে কাগজের ডলারসহ থাই লটারির ২ প্রতারক গ্রেফতার

    তারাগঞ্জে কাগজের ডলারসহ থাই লটারির ২ প্রতারক গ্রেফতার

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার বিশেষ অভিযানে কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর মৌজার হারিকাটা এলাকা থেকে বিদেশি জাল নোটসহ থাই লটারির ২ প্রতারক গ্রেফতার হয়েছে ।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায় , গতকাল বুধবার ভোর ৫টার সময় হারিকাটা এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে এসআই ত্বহাকুল ইসলামের নেতৃত্বে, এসআই আমিনুল ইসলাম ও এএসআই সাইফুল ইসলাম সঙ্গিয় অফিসার ফোর্স ওই দুই প্রতারকে গ্রেফতার করে ।
    গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ঘনিরামপুর হারিকাটা এলাকার অবিনাশ রায়ের ছেলে গুণধর রায় (২১) ও একই এলাকার উপেন্দ্র রায়ের ছেলে কনক রায়(২২)। এ সময় থাই লটারি খেলায় ব্যবহৃত থাইল্যান্ডের জাল মুদ্রা ৮০টি ১ হাজার টাকার নোট (বাথ) উদ্ধার করা হয় । গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২৫ এর এ (বি) ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
    এস আই ত্বহাকুল ইসলাম বলেন, থাই অনলাইনভিত্তিক জুয়া। মূলত এগুলো এক ধরনের লটারি। যারা এই জুয়া খেলে তারা বিভিন্ন প্রকার লটারির টিকিট তৈরি করে কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করে। এই টিকিটগুলোতে বিভিন্ন প্রকার নম্বর থাকে যেগুলোর ওপর বাজি ধরতে হয়। নম্বরের সঙ্গে মিলে গেলে টাকা বিকাশ বা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে ও তুলতে হয়। বেশির ভাগ সময় নম্বর দেওয়ার আগে প্রতারকরা অগ্রিম টাকা বিকাশের মাধ্যমে নিয়ে নেয়। পরে টাকা হাতে এলে ফোন বন্ধ করে দেয়। এভাবে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নম্বর দেওয়ার কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রের সদস্যরা।
    থানাপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতারকরা বিভিন্ন প্রকার লটারির টিকিট বানিয়ে থাইল্যান্ডের লটারি বলে চালিয়ে দেয়। এদের বেশির ভাগ ক্রেতা বা খেলোয়াড় হচ্ছে বাইরের দেশের। তারা জুয়ায় অংশ নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইমো ও ফেসবুকের মেসেঞ্জারকে বেছে নেয়। চোখের সামনে একটি প্রজন্ম জুয়ায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাদের কারণে অনেক প্রবাসী পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে অথচ আমরা কিছু করতে পারছি না। এ ব্যাপারে তিনি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
    তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারাগঞ্জে অনলাইন জুয়ার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানেও নামছি। শুধু পুলিশি অভিযানে এ জুয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য এলাকাভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধও প্রয়োজন।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল মিয়া বলেন, এই জুয়া খেলা যেখানে হবে সেখান থেকে জুয়াড়িদের ধরে আনার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে এলাকার মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

  • বাংলাদেশ ২০৪১ সালে স্মার্ট রাষ্ট্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করবে-প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য

    বাংলাদেশ ২০৪১ সালে স্মার্ট রাষ্ট্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করবে-প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য

    গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।।স্টাফ রিপোর্টার।।জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পুরনে বাংলাদেশকে স্মার্ট রাষ্ট্র হিসেবে পরিনত করতে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তর সূরী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতের ছোয়ায় বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী ট্যানেলের মত বৃহৎ প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। রাজধানী ঢাকা শহরের যানজট মুক্ত করার জন্য মেট্রোরেল স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করে দিলেন-সদিচ্ছা থাকলে সব কিছুই সম্ভব। ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২২-এর সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০৪১ সালের মধ্যে উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির একটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন’।
    ‘পড়িলে বই-আলোকিত হই, না পড়িলে বই-অন্ধকারে রই’-এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বৃহষ্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মণিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে অনুষ্ঠিত লাইব্রেরির সম্প্রসারণ, সংস্কার, শোভাবর্ধন ও নবনির্মিত দ্বিতল ভবনের শুভ উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য (এমপি)।
    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মণিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি কবির হোসেন পলাশের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার মহানায়ক, বাংলাদেশের মহান স্থাপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে আমি রাজনীতি করি। আর বঙ্গবন্ধুর কন্যা সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দশনা মোতাবেক দেশের উন্নয়নে কাজ করে চলেছি। আপনাদের দোয়া ও আর্শীবাদ নিয়ে আমি জননেত্রীর প্রত্যেকটি নির্দেশ অক্ষরে-অক্ষরে পালন করে যাবো। দেশব্যাপি উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যশোর জেলার মধ্যে মণিরামপুর উপজেলাসহ পৌরসভাটি একটি স্মার্ট পৌরসভা। মণিরামপুর প্রত্যেকটি রাস্তা পুন:নির্মাণ ও সংষ্কারের অচিরেই শেষ করা হবে। মণিরামপুরকে সাজাবার দায়িত্ব নিয়ে আমি মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আপনারা আমার সাথে থাকলে সকল বাধা অতিক্রম করে আমি সর্বক্ষেত্রের উন্নয়ন সমুহ বাস্তবায়ন করবো বলে অঙ্গিকার করছি।’
    বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করবেন মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র অধ্যক্ষ আলহাজ্জ্ব কাজী মাহমুদুল হাসান। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক নূরুল হক।
    পাবলিক লাইব্রেরির নির্বাহী সদস্য ও মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক বাবুল আকতারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা খানম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পাবলিক লাইব্রেরির আজীবন সদস্য মোঃ আবু মুছা, লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আলহাজ্জ্ব বাবর আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগনেতা অ্যাড. বশির আহম্মেদ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের আহবায়ক উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী জলি আক্তার, মণিরামপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ বিএম রবিউল ইসলাম ফারুকী, মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আফরোজা মাহমুদ, পাবলিক লাইব্রেরির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্বাস উদ্দীন, সহসম্পাদক এসএম সিদ্দীক, সাহিত্য সম্পাদক হোসাইন নজরুল হক, মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মনিরুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার, শিক্ষা অফিসার সেহেলী ফেরদৌস, প্রভাতী বিদ্যাপিটের প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান, সহসভাপতি দেলায়ার হোসেন দেলো, পৌর কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরুল, বাবুলাল চৌধুরী, আব্দুল কুদ্দুস, সুমন দাস, আয়ুব পাটোয়ারী, পাবলিক লাইব্রেরির আজীবন সদস্য অধ্যাপক প্রবীর কুমার রায় চৌধুরী ব্যালট, ডিজাইনার বিকাশ আনন্দ সেতু, গ্রন্থগারিক জমির উদ্দীন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক, মণিরামপুর সরকারী দফতরের বিভিন্ন কর্মকর্তা/কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, লাইব্রেরির নির্বাহী পরিষদসহ বিভিন্ন স্তরের সদস্য ও সূধীজন।
    অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন লাইব্রেরির সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলিম ও পবিত্র গীতা পাঠ করেন লাইব্রেরির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাংবাদিক অশোক বিশ্বাস।
    আলোচনা শেষে অতিথিদের বই ও লাইব্রেরির আজীবন সদস্যদের সম্মানা ও শুভেচ্ছা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।
    এদিনে প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য (এমপি)-পাবলিক লাইব্রেরি সংলগ্ন সরকারী প্রভাতী বিদ্যাপিঠের বার্ষিক পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশের শুভ উদ্বোধন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান ও পরিচালনা করেন পাবলিক লাইব্রেরির নির্বাহী সদস্য ও চন্ডীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টিএম সাইফুল আলম প্রমুখ।

  • মুন্সীগঞ্জে জেরিন হত্যার বিচার চেয়ে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন

    মুন্সীগঞ্জে জেরিন হত্যার বিচার চেয়ে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন

    মুন্সীগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি : 

    জেরিন হত্যার বিচার চেয়ে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার- নৈরপুকুরপাড় এলাকা বাসীর ব্যানারে এ মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সাড়ে ১১টা হতে ১২টা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধনে অংশ নেন মুসকান ছাড়াও শতাধিক নারী-পুরুষ।

    এ সময় নিহত জেরিন আক্তার (২২) এর একমাত্র শিশু কন্যা মুসকান তার বাবা মো. মুরাদ হোসেন (৩৫) এর ফাঁসি চেয়ে বলেন, আমার বাবায় আরেকটা বিয়ে করতে চাইছিল? এজন্য বাবায় মায়রে মাইরা ফেলাই…ছে। ওড়না দিয়া পেচাঁইয়া যাইত্যা, যাইত্যা, মাইরা ফেলাইছে। আমি আমার বাবার ফাঁসি চাই।

    নিহত জেরিনের মা সাহিদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে প্রথম বাচ্চা নেওয়ার পর জররায়ূতে সমস্যা হয়। ডাক্তার ২য় বাচ্চা নিতে নিষেধ করছিল। কিন্ত ওর স্বামী জোড় করে ২য় বাচ্চা নিতে চায়। এতে আমার মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে পরে। আমরা তাকে মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার অন্য কোথায় উন্নত চিকিৎসা নিতে বলে। আমার মেয়েকে আদ্বদ্বীন হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ১৫দিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাই। সে সময় ডাক্তার বলে মেয়েকে বাচাঁতে হলে জররায়ূ কেটে ফেলতে হবে। ওর স্বামীর সম্মতিক্রমে আমরা জররায়ূ কেটে ফেলি।

    আরও বলেন, কিন্তু আমার মেয়ে বাসায় ফেরার পর ওর শাশুড়ি ননদ সহ অন্যান্য আত্নীয় স্বজনরা বিভিন্ন কুপরমর্শ দেয়। আর বলে ওর আর বাচ্চা হইবো না। তুই আবার বিয়ে কর। তোর ভবিষৎত আছে। ওর মা বোনদের কুপরামর্শে আমার মেয়েকে বিভিন্নভাবে অমানবিক নির্যাতন করতে থাকে।

    ওরা নির্যাতন করে আমার মেয়েকে মাইরা ফেলাইছে। মাইরা ফালানোর পরে ওরা বাথরুমে নিয়া যায়। এ সময় আমার স্বামী মেয়ের মোবাইলে ফোন দিলে আমার নাতিন মুসকান বলে নানা ভাই আমার বাবা আমার মাকে মাইরা ফেলাইছে। পরে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে গেলে ডাক্তার আমার মেয়েকে মৃত ঘোষনা করেন।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকন্ঠ পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই গ্রামের স্বামী গৃহে রহস্যজনক ভাবে মারা যান জেরিন আক্তার (২২)। মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ হাসপাতাল হতে নিহত জেরিনের লাশ উদ্ধার করে। নিহত জেরিন সদর উপজেলার নৈরপুকুর পাড় গ্রামের জামাল ভূইয়ার মেয়ে।

    এ ঘটনায় নিহত জেরিনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে মুরাদ হোসেন, তার বাবা মনির হোসেন, মা উম্মে কুলসুম এবং বোন মনিকা শারমিনকে বিবাদী করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় পুলিশ মুরাদ হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে। বাকি আসামীরা পলাতক রয়েছে।

    এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার (ওসি) মো. তারিকুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলার মূল আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মধ্যেমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত চলছে।

  • জয়পুরহাটে পুনাকের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

    জয়পুরহাটে পুনাকের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

    স্টাফ রিপোর্টারঃ- নিরেন দাস

    জয়পুরহাটে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক ) এর উদ্যোগে ৩ শতাধিক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার(২৯ শে ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪ টায় পুলিশ লাইন্স নারী ব্যারাকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) জেলা কমিটির সভানেত্রী রেশমা আলম, সাধারণ সম্পাদক ঈশাদী নেওয়াজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ফারজানা হোসেন।

    জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরে আলম এর সহধর্মিণী ও পুনাক সভানেত্রী রেশমা আলম বলেন সমাজে অনেক অসহায় গরীব ও ছিন্নমূল মানুষ বসবাস করেন। শীতে তাদের খুব কষ্ট হয়। তাদের কথা চিন্তা করে শীতবস্ত্র বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বৃহৎ পরিসরে এ কার্মসূচী হাতে নেওয়া হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে হতদরিদ্র, অসহায়, ছিন্নমূল ৩ শতাধিক মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

  • আগৈলঝাড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,থানায় মামলা দায়ের স্বামী গ্রেফতার

    আগৈলঝাড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,থানায় মামলা দায়ের স্বামী গ্রেফতার

    বি এম মনির হোসেনঃ-

    বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নির্যাতিতা এক সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর স্বামীকে গ্রেফতার করেছে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। স্বামীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে গৃহবধুর বাবা। ঘটনাস্থর পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আল বেরুণী গৌরনদী সার্কেল।
    আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃ মাজহারুল ইসলাম এজাহারের বরাত দিয়ে দৈনিক নতুনবাজার পত্রিকার প্রতিনিধি বি এম মনির হোসেনকে জানান, বৃহস্পতিবার খুব ভোরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ গৈলা মডেল ইউনিয়নের অশোকসেন গ্রামের বাড়ি থেকে একটি গাছের সাথে এক সন্তানের জননী সুবর্ণা মন্ডলের গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুবর্ণা ওই গ্রামের মৃত মধুসুদন হালদারের ছেলে রাজ মিস্ত্রী সুব্রত হালদারের স্ত্রী ও তিন মাসের এক কন্যা সন্তানের জননী। নিহত সুবর্নার স্বামী সুব্রতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
    সুবর্ণার বাবা রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র শ্যামল মন্ডল জানান, তার মেয়ে সুবর্ণার (২৪) এর সাথে একই উপজেলার অশোকসেন গ্রামের মধুসুদন হালদারের ছেলে রাজ মিস্ত্রী সুব্রতর সাথে দেড় বছর পূর্বে সামাজিকভাবে মেয়ের বিয়ে হয়। বর্তমানে সুবর্ণার তিন মাসের সঞ্জিতা নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।বিয়ের পর থেকেই সুবর্ণাকে শাশুড়ি ঊষা রানী হালদার, সুব্রতর দুলাভাই মতি কির্ত্তুনীয় ও তার ভাগ্নে বিকাশ মল্লিকের প্ররোচনায় স্বামী সুব্রত সুবর্ণাকে বিভিন্ন সময়ে কারনে অকারণে মারধর করাসহ মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে আসছিলো।গত মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে পারিবারিক সামান্য বিষয় নিয়ে সুবর্ণার সাথে স্বামী সুব্রতর ঝগড়াঝাটি ও মনোমালিন্য হয়। এসময় সুব্রতর ভাগ্নে বিকাশ ও দুলাভাই মতি কির্ত্তুনীয়ার প্ররোচনায় সুবর্ণাকে বেদম মারধর করে স্বামী সুব্রত। মারধরের ঘটনা সুবর্ণা তার বাবার পরিবারকে ফোনে জানালে সুবর্ণার মা ও ভাই ওই বাড়িতে গেলে সুব্রত ও তার পরিবার সদস্যরা সুবর্নার মা ও ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তাদের সামনেই স্ত্রী সুবর্ণাকে গলায় রশি দিয়ে মরতে বলে শাশুড়ি ও শ্যালককে সুব্রত বাড়ি ঢুকতে না দিয়ে বের করে দেয়। স্বামীর হাতে মারধরের শিকার সুবর্ণা স্বামী ও শশুর পরিবারের কাছে নিজের মা ও ভাইকে অপমান অপদস্থ করায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরে বুধবার রাত পৌনে দশটার পরে বৃহস্পতিবার ভোর রাত চারটার মধ্যে অশোকসেন গ্রামের সবুজ বিশ্বিাসের বসত বাড়ির রেট্রি গাছের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সুবর্ণা।
    মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই আলী হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত সুবর্ণার লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার দুপুরেই বরিশাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছ। নিহত সুবর্ণার বাবা শ্যামল মন্ডল বাদী হয়ে মেয়ের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী হিসেবে স্বামী সুব্রত হালদার (৩০), সুব্রতর মা ঊষা রানী হালদার (৬৫), ভাগ্নে বিকাশ মল্লিক ও দুলাভাই মতি কীর্ত্তুনীয়াকে (৪৫) আসামী করে বৃহস্পতিবার সকালে ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন, নং-১৩ (২৯.১২.২২)। ওই মামলায় সুবর্ণার স্বামী অভিযুক্ত সুব্রত হালদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

  • শেরপুরে বি সি এস উইমেন নেটওয়ার্ক এর পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    শেরপুরে বি সি এস উইমেন নেটওয়ার্ক এর পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    দেশের নারী বি সি এস ক্যাডারদের নিয়ে গঠিত সংগঠন বি সি এস উইমেন নেটওয়ার্ক এর পক্ষ থেকে শেরপুর জেলার বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসরত শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে নারী বি সি এস ক্যাডার কর্মকর্তাগণ।
    বুধবার (২৮ডিসেম্বর) বিকালে শেরপুরের জেলা জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তারের উদ্যোগে এসব কম্বল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার।

    কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে এক শীতার্ত বলেন, ঘরবাড়ী না থাকায় অনেক কষ্টে আছি। জমিজমা নেই ফসলও নেই। তাই তার আয়-রোজগারও নেই। গ্রামের গরিবদের শীতের কষ্ট দেখার লোক নেই। যারা আমাগের (আমাদের) মতো গরিব মাইনষের খোঁজ নিয়ে শীতের কাপড় (কম্বল) দিচ্ছে তাগরে (তাদের) আল্লাহ বাঁচায় (বাঁচিয়ে) রাখুক। তাদের কামাইতে (আয়-রোজগারে) বেশি বেশি বরকত হোক।’

    শেরপুরের একজন অসহায় বলেন, ‘তীব্র শীতে কম্বলটা খুব উপকারে আসবে। আশীর্বাদ করি
    বি সি এস উইমেন নেটওয়ার্ক আরো বড় হোক। তারা দেশের সব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করুক।’

    কম্বল প্রাপ্ত এক ভিক্ষুকের জীবন চলে ভিক্ষা করে । জমি নেই,ঘর নেই তার, একমাত্র খুপরি ঘরটুকু বিলীন হয়ে যায়। এখন তিনি অন্যের আশ্রয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ‘জাড়কালে (শীতকালে) গরম কাপড়ের অভাবে রাতে বেশি কষ্ট হয়। এই শীতে কম্বল সৃষ্টিকর্তার রহমত হিসেবে উপকার হবে।’

    কম্বল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) জেবন নাহার,
    উপজেলা নির্বাহী অফিসার সদর মেহনাজ ফেরদৌস ,
    এসোসিয়েট প্রফেসর সখিনা আক্তার,মনিরা পারভীন, জেলা প্রশাসক এর কার্যালয় এর কর্মকর্তাবৃন্দ,
    শেরপুর জেলায় কর্মরত নারী ক্যাডার কর্মকর্তাগণ যেমন
    বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকবৃন্দ,মেডিকেল অফিসারবৃন্দ,কৃষি অফিসারবৃন্দ এবং জেলা তথ্য অফিসার এবং স্থানীয় গণ্যমান্যদের অনেকে।

    কম্বল বিতরণের সময় জেলাপ্রশাসক সাহেলা আক্তার
    নারী বি সি এস ক্যাডার কর্মকর্তাগণের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, জেলা প্রশাসন ও বি সি এস উইমেন নেটওয়ার্ক এর পক্ষ থেকে পুরো শীতে অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে শেরপুর জেলা সদর সহ বিভিন্ন উপজেলাতে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শেরপুরের প্রতিটি অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে প্রথম দিনে শেরপুর শহরের বিভিন্ন আশ্রয়ণকেন্দ্রে এ বসবাসরত শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে পাহাড়ী এলাকাসহ অন্যান্য উপজেলায়ও কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।

  • ময়মনসিংহে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন পালিত

    ময়মনসিংহে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিন পালিত

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৮ তম জন্মবার্ষিকী ও ১০৯ তম শুভ জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে ।

    দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বৃহস্পতিবার বিকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বিষয়ক
    আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

    সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইন।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান শাহীনসহ উপজেলার বিভিন্ন পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিবর্গরা।

    সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের সৃষ্টিশীল কর্ম ও চিন্তা চেতনার মধ্য দিয়ে একটি বিকশিত জাতি হিসেবে আমরা আত্মপ্রকাশ করতে পারব। তারা মহান শিল্পীর শততম জন্মদিন উপলক্ষে আযোজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের উদ্দেশ্যে তাঁর কর্মময় জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।
    এসময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে সিরতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু সাঈদ, পরানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হানিফ সরকার,ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য- বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত এই বাঙালি চিত্রশিল্পী, বাংলাদেশে চারুকলার চর্চা ও আন্দোলনের দিশারি বিরল প্রতিভার অধিকারী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা তমিজউদ্দীন আহমেদ ও মা জয়নাবুন্নেছা। বেড়ে উঠেছেন ব্রহ্মপুত্র নদের প্লাবন অববাহিকার শান্ত, সুনিবিড় ও রূপময় প্রাকৃতিক পরিবেশে। শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ছিল প্রবল ঝোঁক। রং-তুলির খেলায় ফুল-ফল, বৃক্ষ, লতাপাতা, মাছ, পাখিসহ নানা বিষয়কে মেলে ধরতেন ক্যানভাসে। আর এই ছবি আঁকার টানেই ১৯৩৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। আশ্রয় নিয়েছিলেন কলকাতায়। সেখানে ভর্তি হন গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এখানেই চলে শিল্পাচার্যের চারুশিক্ষার দীক্ষা। ১৯৩৮ সালে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগ থেকে প্রথম প্রেণিতে প্রথম হয়ে অর্জন করেন স্নাতক ডিগ্রি। ততদিনে শিল্পী হিসেবেও শিল্পরসিকদের স্বীকৃতি অর্জন করে নিয়েছেন। স্থান করে নেন মুষ্টিমেয় আধুনিক ভারতীয় শিল্পীর তালিকায়। এরপর তিনি কলকাতা থেকে চলে আসেন ঢাকায়।

    দেশের শিল্পের ভিত রচনায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জয়নুল আবেদিন। তার হাত ধরেই বিকশিত হয় এ দেশের চারুশিল্প মাধ্যম। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা আর্ট কলেজ (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ)। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আধুনিক শিল্পচর্চার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। আর শুধু আধুনিক শিল্পচর্চার বিকাশসাধন নয়, তিনি চেয়েছিলেন এ দেশের লোকশিল্পের উন্নয়ন এবং এর সঙ্গে আধুনিক শিল্পের মেলবন্ধন। সেই আকাঙ্ক্ষায় ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠা করেন লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন।

    ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অন্যতম উপদেষ্টা মনোনীত হন। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় কংগ্রেস ফর ওয়ার্ল্ড ইউনিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক নিযুক্ত হন এবং আমৃত্যু এই পদে অধিষ্ঠিত থাকেন।

    শিল্পীজীবনে রং-তুলির ছোঁয়ায় জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে এঁকেছেন দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র। ১৯৬৯ সালে তার ক্যানভাসে উঠে এসেছে গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট। ১৯৭০ সালে এঁকেছেন ৬৫ ফুট দীর্ঘ বিখ্যাত চিত্রকর্ম নবান্ন। একই বছরে মনপুরা নামে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের হূদয়স্পর্শী চিত্র সৃজন করেছেন। শিল্পীর এসব কালজয়ী শিল্পকর্ম দেশের সীমা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পেয়েছে ব্যাপক প্রশংসা ও স্বীকৃতি।

    শিল্পীর আঁকা দুর্ভিক্ষের চিত্রমালা ছাড়াও বিদ্রোহী, মুক্তিযোদ্ধা, গুন টানা, সাঁওতাল রমণী, সংগ্রাম, গ্রামীণ নারীর চিত্রমালা শীর্ষক ভাস্কর্য শিল্পকলায় অক্ষয় হয়ে আছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বাংলার প্রকৃতি, জীবনাচার, প্রাচুর্য, দারিদ্র্য ও বাঙালির স্বাধীনতার স্পৃহা তার তুলি আর ক্যানভাসে মূর্ত করে তুলেছিলেন। শিল্পকলার সুবাদে বাঙালি সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন বিশ্বদরবারে। একই সঙ্গে আমৃত্যু সমাজ থেকে রুচির দুর্ভিক্ষ দূর করে সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত করার সাধনায় নিমজ্জিত রেখেছিলেন নিজেকে।

    ১৯৪৬ সালে জয়নুল আবেদিন ঢাকা নিবাসী তৈয়ব উদ্দিন আহমদের মেয়ে জাহানারা বেগমকে বিয়ে করেন। জাহানারা বেগম পরে জাহানারা আবেদিন নামে নিজেকে পরিচিত করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনের ফসল তিন ছেলে। তারা হলেন সাইফুল আবেদিন, খায়রুল আবেদিন ও মঈনুল আবেদিন। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ৬১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন জয়নুল আবেদিন।

  • বাংলাদেশ ক্রাইম জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন ঘাগড়ার চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান

    বাংলাদেশ ক্রাইম জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন সম্মাননা পেলেন ঘাগড়ার চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    দারিদ্র্য বিমোচন ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ক্রাইম জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন সম্মাননা স্মারক-২০২২ প্রদান করা হয়েছে। বুধবার ২৫শে ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগ এলাকার তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা আয়োজিত এক সভায় তাকে এই
    সম্মাননা ও ক্রেস্ট দেওয়া হয় ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ও বাংলাদেশ ক্রাইম জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

    এ খবর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়নে পৌঁছালে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে আনন্দের জোয়াড় শুরু হয়। খুশিতে এলাকাবাসী শুরু করে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল।

    এদিকে আলহাজ্ব সাইদুর রহমান এই সম্মাননায় ভূষিত হওয়ায় ঘাগড়ার সর্বস্থরের মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রথমবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান
    বাংলাদেশ ক্রাইম জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন সম্মাননা স্মারক-২০২২ এ ভূষিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

    ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান বলেন, আমি সব সময় মানুষের পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এ স্বীকৃতি পেয়ে আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। আমি সব সময় আমার ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। তিনি বলেন, এ পুরস্কার আমার না, এটি আপনাদের। এ পুরস্কার আমার ইউনিয়ন পরিষদের সকল ভোটারকে আমি উৎসর্গ করলাম।

  • ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক অনুদান ও শীতবস্ত্র বিতরণে মহালছড়ি জোন

    ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক অনুদান ও শীতবস্ত্র বিতরণে মহালছড়ি জোন

    রিপন ওঝা,মহালছড়ি।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মহালছড়ি জোন কর্তৃক জোনের আওতাধীন এলাকায় আজ ২৯ ডিসেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার
    অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক অনুদান ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

    বিশেষ টহল চলাকালীন প্রত্যন্ত এলাকায় সম্পূর্ণ রূপে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ঘর খুঁজে পায়। টহলরত অবস্থায় জানা যায় প্রায় এক সপ্তাহ পূর্বে অগ্নিকান্ডে ঘরটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় এবং বাড়ির মালিক গৃহহীন হয়ে পড়ে। মহালছড়ি জোন কর্তৃক আর্থিক অনুদান ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

    পাশাপাশি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করে জোন অধিনায়ক পুড়ে যাওয়া ঘরটি পুনঃনির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন।