Author: desk

  • মাটি টানা ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে  প্রাণ গেলো স্টোর অফিসারের

    মাটি টানা ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেলো স্টোর অফিসারের

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    মাটি টানা ট্রাক্টরের নিচে পিষ্ট হয়ে মাহমুদুল হাসান মাসুম (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গালিমপুর নামক মোড়ে। জাপান টোবাকো কোম্পানীর স্টোর অফিসার মাসুম যশোরের গদখালী এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ থেকে যশোরে ফিরছিলেন মাসুম। তিনি মটরসাইকেল যোগে কোটচাঁদপুরের গালিমপুর মোড়ে এসে পৌছালে একটি মাটি টানা ট্রক্টরের চাকায় পিষ্ট হন। কোটচাঁদপুর থানার ওসি মঈনুদ্দীন খবরের সত্যতা নিশ্চত করেন।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান

  • মনোয়ার টেলার্সের মালিক যুবদল নেতা  মনোয়ার হোসেন দিপু আর নেই

    মনোয়ার টেলার্সের মালিক যুবদল নেতা মনোয়ার হোসেন দিপু আর নেই

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    ঝিনাইদহ শহরের বিশিষ্ট কাপড় ব্যবসায়ী ও মনোয়ার টেলার্সের মালিক মনোয়ার হোসেন দিপু আর নেই। শুক্রবার ভোরে তিনি নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। মনোয়ার হোসেন সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের আনছার আলী মন্ডলের ছেলে। শহরের পরিচিত মুখ ও নামকরা টেলার মাস্টার মনোয়ার হোসেন দিপুর মৃত্যুতে ঝিনাইদহ শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, বেশ ক’দিন ধরে অসুস্থবোধ করছিলেন মনোয়ার। শুক্রবার ভোরে হঠাৎ বুকে ব্যাথা উঠলে তাকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। শুক্রবার বাদ জুম্মা এক শোকবিধুর পরিবেশে কোলা গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার নামাজে যানাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ গ্রহন করেন। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ বিশ^াস ও যুবলীগ নেতা হারুন অর রশিদসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তারা জানাজায় শরীক হন। তারা মনোয়ার হোসেন দিপুর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

  • বানারীপাড়ায় জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির শীতবস্ত্র বিতরণ

    বানারীপাড়ায় জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির শীতবস্ত্র বিতরণ

    বিশেষ সংবাদদাতা: শুক্রবার বেল ১১ টায় জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। বানারীপাড়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম।সোসাল ইসলামী ব্যাংক এর সহযোগিতায় বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয়
    সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বানারীপাড়া প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা দেলাওয়ার বিন সিরাজ। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সহ সম্পাদক ফয়েজ আহম্মদ শাওন, সাংবাদিক মামুন আহমেদ, রেজাউল ইসলাম বেল্লাল, সাবেক সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম, জাহিন খালাসী, মাইদুল ইসলাম শফিক প্রমূখ।#

  • পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদে মেয়রের সংবাদ সম্মেলন

    পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদে মেয়রের সংবাদ সম্মেলন

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    প্রায় তিন কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের দায়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার ৫টি প্রধান সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রাহকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে নাগরিকদের চলাফেরা করতে হচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় পানির জন্য হাহাকার পড়েছে। জনদুর্ভোগের পাশাপাশি পৌর এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা রয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ সহিদুজ্জামান। শুক্রবার সকালে পৌরসভা মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার সচিব, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌর কাউন্সিলর ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর মেয়র বলেন, কোটচাঁদপুর পৌরসভায় ২ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। যা দায়িত্বভার গ্রহণের আগের বকেয়া। কিন্তু আবাসিক প্রকৌশলী পৌরসভার সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পৌরবাসীর। পৌরসভার যে আয় হয় তা দিয়ে মোট বকেয়া বিল পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিমাসে এক লাখ টাকা করে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে চান কোটচাঁদপুর পৌরসভা। এতে একদিকে যেমন বকেয়া বিল পরিশোধ হবে অন্যদিকে পৌরবাসীরও দুর্ভোগ লাঘব হবে। ঝিনাইদহ ওয়েষ্টজোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান চৌধুরী জানান, কোটচাঁদপুর পৌরসভার পানি ও সড়ক বাতির ১০টি বিদ্যুৎ সংযোগের মধ্যে ৫টি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক বকেয়া আদায়ের জন্য এই সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • শহীদ যায়ান চৌধুরী স্মৃতি টি-১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন

    শহীদ যায়ান চৌধুরী স্মৃতি টি-১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন

    কে এম সাইফুর রহমান, ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ

    শহীদ যায়ান চৌধুরী স্মৃতি টি-১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট -২০২৩ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শহীদ যায়ান চৌধুরী স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বনানীর শহীদ যায়ান চৌধুরী স্মৃতি মাঠে (বনানীর সাবেক খেলার মাঠ) এ টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।

    মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন বাবুল, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান মফিজ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী যুবলীগের নেতা এস.এম.রবিউল ইসলাম সোহেল।

    সন্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমাদ পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ সাব্বির আহমেদ, বাছাড় ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি বাছাড়।

    শহীদ যায়ান চৌধুরী স্মৃতি টি -১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ইমাদ পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেড, বাছাড় ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও প্রবাসী পল্লী গ্রুপ।

    এসময় সাবেক ছাত্রনেতা ফারহান আলম, গাজী তুষার আহমেদ বাঘা ও শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • মরণ বাঁধ ফারাক্কার প্রভাবে অসংখ্য নদী মরে যাচ্ছে

    মরণ বাঁধ ফারাক্কার প্রভাবে অসংখ্য নদী মরে যাচ্ছে

    লেখকঃ মো. হায়দার আলী : নদীর দেশ বাংলাদেশে বর্তমানে নদীর বেহালদশা। পদ্মা নদীসহ শ শ নদী মরে যাচ্ছে, অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে । দেশে জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে । এখন শুধু ইতিহাসের পাতায় লেখা একটি নদীর নাম পদ্মা । এটা কি নদী ? বিশ্বাস করা যায় না । পদ্মার সেই খরস্রোত নেই কেন ? এমন সব প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে একালের শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রীসহ কোন আগন্তুককে । বিশাল-বিস্তৃত ধুধু বালুচর আর পানির ক্ষীণ বিল কিংবা লেকের মতো পদ্মার ঐতিহ্য অস্তিত্বকে এতটা বিপন্ন করেছে।

    ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মিত হয়েছে আবহমানকাল ধরে প্রবাহিত গঙ্গা-পদ্মা নদীর ভারতের অংশ ফারাক্কায় । ১৯৬৮-১৯৬৯ সালে ফরাক্কা ব্যরেজটি একতরফাভাবে নির্মাণ করে ভারত। কিন্তু ভারত কৌশলগতভাবে ব্যারেজটি তখনই চালু করেনি । তখন পাকিস্থানে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথানের ১৯৭০ সালের জেনারেল ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারি এবং সবশেষে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বধীনতা অর্জনের কাল। তারপরেও ভারত অপেক্ষা করে এবং অবশেষে ১৯৭৫ ইং সালের ২১ এপ্রিল ভারত ফারাক্কা চালু করার পর থেকে অব্যাহতভাবে মরণদশা শুরু হয়েছে ।

    নদী আছে পানি নেই, বালু আছে কিন্তু কোথায় যেন কোন মাটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পদ্মার কোলে জেগে উঠা চরে সবুজ ফসল ফলানো সম্ভাব হচ্ছেনা । প্রতি বছর বালু জমতে জমতে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে । পদ্মার ভয়াবহ রুপ দিনে দিনে হারিয়ে ফেলেছে । বিগত বছরগুলোতে এ নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা থাকলেও এ বার তাও নেই । একটা বিলে পরিণত হয়েছে । এখন রেলবাজার ঘাটের সামনে মানুষ সাঁতার দিয়ে নদী পার হতে পারছেন। কয়েক বছর পর নৌকার পরিবর্তে গরুর গাড়ী কিংবা সাইকেলে নদী পার হওয়া যাবে বলে সচেতন মহলের ধারণা।
    ফারাক্কা ব্যরেজের সব কয়টি গেট বন্ধ করে নদী শাসন করে মেরে ফেলা হয়েছে অসংখ্য নদ নদীকে জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে পরিবেশ জীবন জীবিকায় নেমে এসেছে প্রচন্ড ধ্বস। দেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকা ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে । গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নীচে নেমে যাওযায় উত্তাঞ্চলের বেশীর ভাগ নলকূপে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায় । দেখা দেয় তীব্র পানির সংকট । উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনে অভিশাপ বয়ে এনেছে এই ফারাক্কা ব্যারেজ; এসব এলাকার মানুষ যাকে মরণ ফাঁদ বলে জানে ।

    এ ব্যারেজ চালু হওয়ার সময় বলা হয়েছিল এটি উভয় রাষ্টের কল্যাণের প্রতীক। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভরতের বিমাতাসুলভ আচারণের কারণে আজ এ ব্যারেজ দেশের মানুষের জন্য অকল্যাণ। একতরফা পানি প্রত্যাহার করে ভারত তাদের বন্দর, কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখলেও এদেশের কৃষি, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ, জীবন-জীবিকাকে ঠেলে দিয়েছে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে । বিভিন্ন সময়ে পদ্মার পানি বন্টন নিয়ে অনেক আলোচনা মাপজোঁক আর পর্যবেক্ষণ হয়েছে । চুক্তি হয়েছে, চুক্তি নিয়ে সংসদে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়ছে। কিন্ত বাংলাদেশের ভাগ্যে কখনই চুক্তি মোতাবেক পানি জুটেনি । তবে পানি এসেছে সংসদে, টেলিভিশন, রেডিও, প্রিন্ট মিডিয়া, অন লাইন পত্রিকায়, টেলিফোনে। এর ফলে শুধু পদ্মা নয় অভিন্ন ৫৪টি নদ-নদীর পানি ভারত একতরফা প্রত্যাহার করে চলেছে । ফলে এপারের নদ-নদীগুলো মরে যাচ্ছে ।
    পদ্মা নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে শাখা নদী বড়াল, মরাবড়াল, নারোদ, মুছাখান, ইছামতি, চিকনাই, নাগর, ধলাই, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসলা, কাজলা, চিত্রা, সাগোরখালি, চন্দনা, কপোতাক্ষ মরে যাচ্ছে। কালিগঙ্গা, বেলাবত এসব নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে । বর্ষা মৌসুমে কিছু দিনের জন্য এসব নদীতে পানি থাকলেও প্রায় সারা বছর থাকে পানিশূন্য । তাছাড়া এসব নদী মরে যাওয়ার সাথে সাথে দু পার্শ্ব অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে । সরকারী দলের তথা কথিত যারা বালিখোর, টিআর গোর, টেন্ডার বাজ, সরকারী খাদ্য গুদামে গমখোর, খাস পুকুরখোর, তারা ড্রেজার, টলি, ট্রাক, লরি প্রকাশ্যে নামিয়ে নদী থেকে দেদারসে বালি মাটি নিয়ে গিয়ে ইটভাটা, ভরাটসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজ করায় পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীর পাড়, কোটি কোটি টাকার নির্মিত বাঁধ নষ্ট করে দিচ্ছে যা দেখার যেন কেউ নেই। দেশের নদী এতটা বিপন্ন হয়েছে যেন এখন এসব নদীর নাম বইয়ের পাতায় কিংবা মানচিত্রে স্থান পেয়েছে ।

    বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশর কোটি কোটি মানুষ বন্যা, খরা, জলচ্ছাসের কবলে পতিত হয়, সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, দুঃখের সীমা থাকে না । অকালে ঝরে যায় লাখ লাখ মানুষ, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগীর প্রাণ । জলবায়ুর উপর দেখা দেয় বিরুপ প্রভাব। এর অন্যতম প্রধান কারণ মরণ বাঁধ ফারাক্কা । মৃত. মৌলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী ফারক্কা ব্যারেজের বিরুদ্ধে ব্যারেজমূখি ফারাক্কা লং মার্চ করেছিলেন, ব্যরেজটির মারাত্বক পরিণতির কথা বিবেচনা করে । বাংলাদেশ ভাটির দেশ হয়ে এবং তুলনামূলকভাবে ভারতের চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র দেশ হওয়ার কারণে কখনোই তাদের অভিযোগ স্পষ্ট করে বলতে পারেনি। ফারাক্কা ব্যারেজ উজানে পানি প্রত্যাহারের প্রকল্প নয়। এটি একটি শত-সহস্র বছর ধরে প্রবাহমান আন্তজাতিক নদীর গতিপথের সম্পূর্ণ পরিবর্তন যা আন্তজাতিক আইন কানুনের পরিপন্থী।
    প্রতিবছরের মত এবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় একাধিক দফায় হয়েছে। বন্যায় অনিবার্য ছিল নদীভাঙন। বন্যা ও নদীভাঙনে অসংখ্য বাড়ি-ঘর, স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলাদি বিনষ্ট হয়েছে। বন্যা ও নদীভাঙনের কবলে পড়ে লাখ লাখ মানুষ দুঃখ-দুর্ভোগ, বিপদ-বিপন্নতার শিকার হয়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি, জমিজিরাত হারিয়ে পথের ভিখারিতে পরিণত হয়েছে এবং কিছুটা ব্যতিক্রমও দেখা গেছে। যখন বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে, তখন কোনো কোনো এলাকায় অনাবৃষ্টি ও খরার প্রকোপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈপরীত্যের কারণ, জলবায়ুর পরিবর্তন। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রতিক্রিয়া বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। একই দেশে একই সময়ে বৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজাত ফল। এটা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বৃষ্টি হয়েছে সেখানে খুব বেশি হয়েছে। যেখানে হয়নি সেখানে একেবারেই হয়নি। অতীতে এরকমটি কখনো দেখা যায়নি।

    বরাবরই এ দেশে বন্যার প্রধান কারণ দুটি। প্রথমত, টানা প্রবল বর্ষণ এবং দ্বিতীয়ত, সীমান্তের ওপারে থেকে নেমে আসা ঢল। এবারের বন্যার জন্য ওপার থেকে আসা ঢলই বিশেষভাবে দায়ী। বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ এবং বিহারে প্রবল বর্ষণ হয় । বন্যাও হয় । ওপারের ওই বিপুল পানিরাশি সেখানকার নদীনালা-জনপদ ছাপিয়ে হুড়, হুড় করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। এতে যেখানে বন্যা হওয়ার কথা সেখানে তো হয়, যেখানে হওয়ার কথা নয়, তেমন এলাকাতেও হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪টি। এসব নদীর পানির শেষ গন্তব্য বাংলাদেশের ওপর দিয়ে সাগরে। সাগরমুখী এসব নদীর পানি শুধু জনপদে বন্যার তা-বই সৃষ্টি করে না, ভাঙনের বিপর্যয়ও সৃষ্টি করে। প্রতি বছরের মতো এবারও দেখা গেছে, ওপারের পানির চাপ মোকাবিলা করতে না পেরে ভারত বিভিন্ন নদীতে দেয়া বাঁধ একযোগে খুলে দেয় প্রতিবছর এবছর এর ব্যতিক্রম করেনি। বিনা নোটিশে এভাবে পানি ছেড়ে দেয়ায় বাংলাদেশে বন্যা ও নদী-ভাঙনের প্রচন্ডতা ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। এরকম অনাহুত-অনাকাক্ষিত বান-ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাংলাদেশের রেহাই পাওয়ার কোনো উপায় আছে বলে মনে হয় না। ভারতের ‘পানি রাজনীতি’ যতদিন সক্রিয় ও বহাল আছে ততদিন বাংলাদেশকে এই ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করতেই হবে। প্রতি বছরের সাধারণ বাস্তবতা এই যে, শুকনো মওসুমে নদ-নদী, খালবিল প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। সেচ প্রকল্পগুলো অকার্যকর হয়ে যায়। ফসলের আবাদ মারাত্মক অনিশ্চয়তায় পতিত হয়।

    অতীতে আমরা দেখছি, পদ্মার পানির ওপর নির্ভরশীল গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প তিস্তার পানির ওপর নির্ভরশীল তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ অন্যান্য সেচ প্রকল্প তাদের কমান্ড এরিয়ার সামান্য অংশেই কেবল সেচসুবিধা দিতে পারে। বেশিরভাগ জমি সেচ সুবিধার বাইরে থেকে যায়। জমির মালিকরা তাদের মতো করে আবাদ করতে পারলে করে, না পারলে জমি পতিত থাকে। এভাবে সেচ প্রকল্পাধীন এলাকায় চাষাবাদ প্রতি বছরই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং উৎপাদন সম্ভবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। নদীতীরবর্তী এলাকায় নদীর পানি সেচের জন্য ব্যবহার করার কোনো সুযোগ থাকে না, নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ায়। এর বাইরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভও করে যে সেচব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাও অনেক ক্ষেত্রে ব্যাহত হয়। মাত্রাতিরিক্তি পানি তোলার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আর আগের অবস্থানে নেই, বহু নিচে নেমে গেছে। দিনে দিনে পনির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তাও আর্সেনিক বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত থাকে, ফসলের জন্য যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। বলা যায়, শুকনো মওসুমে ফসলের আবাদ-উৎপাদন ক্রমেই সংকটাপন্ন ও অসম্ভবপর হয়ে উঠছে। নদী যখন শুকিয়ে যায়, ভূগর্ভস্থ পানিতে যখন টান পড়ে তখন খালবিল, জলাশয়, পুকুর ডোবায়ও কোনো পানি থাকে না। পানির জন্য দেশজুড়েই হাহাকার পড়ে যায়। এতে আবাদ-উৎপাদনই শুধু ব্যাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, এমনকি পান ও ব্যবহারযোগ্য পানিরও প্রকট অভাব দেখা দেয়। পানির দেশে পানির এই আকাল একইসঙ্গে অকল্পনীয় এবং উদ্বেগজনক।

    কেন এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দেশ ও দেশের মানুষ পতিত হয়েছে, তা কারো অজানা নেই। প্রথমত, নদীনালা, খালবিল, জলাশয়, পুকুর ডোবা ভরাট হয়ে পানি ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্বিতীয়ত, অভিন্ন ৫৪টি
    নদীর উজানে ভারত অসংখ্য বাঁধ, প্রতিবন্ধক নির্মাণ করে পানি সরিয়ে নেয়ায় দেশের শত শত নদী এখন শুকনো মওসুমে পানি শূন্যতার শিকারে পরিণত হয়েছে। পানি না দিয়ে বাংলাদেশকে শুকিয়ে মারার ভারতীয় অভিসন্ধির কারণে নদী স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক ছোট নদী মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। বড় নদীগুলোর অস্তিত্বের সংকটও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। প্রথমেই বলেছি ভাটির দেশ বাংলাদেশ, ভাটির দেশের ক্ষতি হয়, এমন কিছু উজানের দেশের না করার নীতি-বিধানের তোয়াক্কা না করেই ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরিয়ে নিচ্ছে।

    গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এ যাবৎ দুটি চুক্তি হলেও বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী পানি পায়নি। চলমান ৩০ সালা চুক্তি বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। আগের চুক্তিতে যতটুকু নিশ্চয়তা ছিল, এ চুক্তিতে তাও নেই। ফলে পানিবঞ্চনা আরো বেড়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খোলাখুলি বক্তব্য, “শুকনো মওসুমে তিস্তার পানি প্রবাাহ এত কমে আসে, যে, তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজনই মেটে না, বাংলাদেশকে আমরা পানি দেবো কিভাবে?”

    ভারত স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশকে ন্যায়সঙ্গতভাবে পানির হিস্যা দেবে, একথা আর এদেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির সর্বোচ্চ ও সর্বমুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নদীগুলো নাব্য রাখা এবং পানির যে আকাল চলছে তা দূর করার বিকল্প উপায় বা পন্থাও গ্রহণ করতে হবে। ‘নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে,’ এটা নিরেট সত্য।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং সব নদীকে পানি সংরক্ষণাগারে পরিণত করা অত্যাবশ্যক। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করা দরকার। গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের কথা এদেশের মানুষ দশকের পর দশক ধরে শুনে আসছে। ব্যারাজটি এখনও নির্মাণ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের তরফে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের কথা বার বার বলা হলেও এখন শোনা যাচ্ছে, ভারতের বিরোধিতার কারণে সরকার দ্বিধায় পড়ে গেছে। সরকার ভারতের সহযোগিতা নিয়ে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ চায় বলে জানানো হয়েছে। তাতেও কোনো ফলোদয় হয়নি।

    ভারতের একতরফা পানি ছিনতাইয়ের প্রতিক্রিয়া মোকাবেলায় যে প্রকল্প, তার বাস্তবায়নে ভারত কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সাধারণ মানুষের বিচারবুদ্ধিতে তা আসে না। অথচ সরকার ভারতের সহযোগিতার আশায় বসে আছে। তবে দেশে পত্রপত্রিকা টিভিতে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে ফারাক্কার সব গুলি বাঁধ খুলে দেয়া হয়েছে কিন্তু এটা কোন সুখের খবর নয়, তারা বাংলাদেশের ইলিশ মাছ আহরণ ও বাঁধ সংস্কার করার জন্যই এটা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার দেশের অবৈধ ভাবে দখল হয়ে যাওয়া নদীখোরদের নদীর পাড় দখল মুক্ত করছন এটা সত্যি প্রশংসার দাবীদার এবং ধন্যবাদও পাচ্ছেন সরকার। তাই এভাবে সময়ক্ষেপণের কোনো মানে হয় না।
    এ ব্যাপারে সরকারকে অবশ্যই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তা এখনই। গঙ্গা-পদ্মা অভিন্ন নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে, এ কথাটি আমরা স্পষ্ট করে বলতে পারিনা কেন ? আমাদের বলা উচিৎ নয় কি ?

  • রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুরি হওয়া ৪৭ লক্ষ টাকার মেশিন উদ্ধার,  আটক ৪

    রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুরি হওয়া ৪৭ লক্ষ টাকার মেশিন উদ্ধার, আটক ৪

    এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি|| বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে চুরি হওয়া ৪৭ লক্ষ টাকা মূল্যের কয়লা পরীক্ষার মেশিন (BOMB CALORIMETER) উদ্ধার করেছে রামপাল থানা পুলিশ। চুরির ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(০২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী কোনাপাড়স্থ এলাকার দরবার শরীফ রোডের হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন ২ তলা ভবনের ২য় তলা থেকে মেশিনসহ চোরদের আটক করে পুলিশ।

    আটককৃতরা হলো পিরোজপুর জেলা সদরের নরখালী গ্রামের নূরুল আলমের পুত্র দুর্ধর্ষ চোর মো. রাব্বি ইসলাম ওরফে গোলাম রাব্বি (২৪), ফকিরহাট উপজেলার খাজুরা লখপুর গ্রামের শামসুল আলমের পুত্র আ. করিম (২৭), রামপাল উপজেলার চিত্রা গ্রামের প্রকাশ শীলের পুত্র কার্তিক শীল (২৫) ও বর্ণি গ্রামের মো. বাচ্চু শেখের পুত্র মো. বাদশা শেখ (২৩)।

    রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে ৪৭ লক্ষ টাকা মূল্যের কয়লা পরীক্ষার মেশিন (BOMB CALORIMETER) চুরির ঘটনা ঘটে। ১৬ জানুয়ারি রামপাল থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি ও প্রশাসন) মোঃ অলিউল্লাহ।

    রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন শুক্রবার দুপুর ১২ টায় তার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে বলেন, অত্যন্ত মূল্যবান মেশিনটি চুরি যাওয়ার পর রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। আমরা তদন্ত শুরু করি। বাগেরহাটের জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করি। এক পর্যায়ে আমরা প্রাথমিকভাবে কয়েকজন চোরকে সনাক্ত করে তাদের আটক করি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেশিনটি চুরির কথা শিকার করে। এরপর আমরা ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন কোনাপাড়াস্থ এলাকার একটি বাড়ি থেকে মেশিনটি উদ্ধার করে রামপাল থানায় নিয়ে আসি। আসামি ৪ জনকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড চাওয়া হবে। এর সাথে আরও কারা জড়িত আছে সেগুলো নিয়ে আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি।#

  • রাজশাহীতে চুরির অভিযোগে শ্রমিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪

    রাজশাহীতে চুরির অভিযোগে শ্রমিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪

    মোঃ হায়দার আলী, রাজশাহী।। রাজশাহী নগরীতে চুরির অভিযোগে রেজাউল করিম (৪৫) ও রাকিবুল ইসলাম (৩৫) নামের দুই শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ১২টার দিকে নিহত রাকিবুলের স্ত্রী সোমা খাতুন এই মামলা করেন। ইতোমধ্যে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর সপুরা এলাকার বিশাল বিস্কুট ফ্যাক্টরির সামনে আবদুল মালেক হাজির ছেলে মডার্ন ফুড কারখানার মালিক মোহাম্মদ আব্দুল্লার (৩৮) বাড়িতে গত কয়েক দিন ধরে রাকিবুল ইসলাম ও রেজাউল করিম রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। ওই দু’জন রাজমিস্ত্রী নগরীর রাজপাড়া থানার তেরোখাদিয়া ডাবতলা এলাকায় থাকতেন বৃহস্পতিবার দুপুরে আবদুল্লাহর বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে তাদের দু’জনকে বেঁধে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশ নির্যাতনের শিকার দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসকরা একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

    গুরুতর আহত অবস্থায় অপরজনকে হাসপাতালে ভর্তির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার নিহত রাকিবুলের স্ত্রী মামলা দায়ের করেছেন।

    নিহত রাকিবুল ইসলাম (৩৫) চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৈতান্নপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে ও রেজাউল করিম (৪৫) নওগাঁর মান্দা উপজেলার সগুনা গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে।

    বিশাল বিস্কুট ফ্যাক্টরির কর্মচারি প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব বলেন, আমি চিৎকার শুনে বিশাল ফাক্টরির ছাদে গিয়ে ওই দুই শ্রমিককে ৮-১০ জন মিলে নির্যাতন করছে দেখতে পায়। মারতে মারতে লাঠি ভেঙ্গে গেলে ওই বাড়ির নিচে ফ্যাক্টরির জ্বালানী হিসেবে রাখা আমগাছের ডাল নিয়ে তাদের আবার বেধড়ক মারতে থাকে তারা।

    তাদের হাত-পায়ের নখ তোলার সময় তাদের কান্না সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে ৯৯৯ ফোন দিই। পরে রাত ৯টার দিকে পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে। নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ (৩৮), তার শ্বশুর মাসুম রেজা (৫০), চাচাতো শ্যালক মঈন উদ্দিন রিয়াল (১৯) ও মডার্ন ফুডের ম্যানেজার ইমরান হোসেন (২১)। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হবে।

    এছাড়াও দুই শ্রমিককে খুঁটিতে বেঁধে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে নির্যাতনের দুটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • সুনামগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা

    সুনামগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা

    শান্ত তালুকদার প্রতিনিধি:

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বইছে আলোচনা সমালোচনা ঝড়। হাটে, মাঠে ও চায়ের দোকানে জল্পনা কল্পনা চলছে জেলার সবচাইতে বড় নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ-১ আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে রয়েছে সংশয়। নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য দলের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যেই মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। কে হবেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের নৌকার মাঝি? এসব প্রশ্ন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে প্রচারে শীর্ষে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মো. সেলিম আহমদ। যাকে করোনাকালীন সময়ে ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ মহাপ্লাবনে হাজার হাজার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের পকেট থেকে খাদ্য, বস্ত্র জোগিয়েছেন সেই তরুন নেতার পোস্টার, ব্যানারে চেয়ে গেছে পুরো নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতারকর্মী সমর্থকরাই এসব প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। তরুন এ নেতার পক্ষে জেগে উঠেছে যুব সমাজসহ কৃষক,শ্রমিক জনতা। জনপ্রতিনিধি না হয়েও জেলার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়ন দু’হাতে বিলিয়ে দিচ্ছেন আর্থিক অনুদান। ইতিমধ্যে জেলা শ্রমিকলীগ নেতার পরিচিতি পৌঁছে গেছে নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে। তুনমূল থেকে দাবি উঠেছে হাওরপাড়ের সন্তান সেলিম আহমদকে আগামী নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন দেয়ার। হাওরপাড়ের মানুষের ভরসার জায়গা এখন তিনি। এদিকে টানা তিনবারে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম রতন ও পিছু ছাড়ছেন না। আগামীতে তিনি নৌকার মনোনয়ন দৌড়ে অংশগ্রহণ করবেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির টিম সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সচিব বিনয় ভূষণ তালুকদার ভানু। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জোরেশোরেই মাঠে-ঘাটে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। এবং কেন্দ্রেও নৌকা পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে রয়েছেন সিলেট জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
    সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনিত প্রার্থী হিসেবে টানা তিনবার সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছি। এ সরকারের আমলেই বিপুল উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মাঠে আছি, সাধারন জনগনের কল্যাণে কাজ করে যাবো। নতুন করে কিছু বলার নেই। ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ সেলিম আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনে নেতৃত্বের অভাবে অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে গেছে। বর্তমান সংসদ সদস্য বিএনপি-জামাতের লোকজনকে নিয়ে জলমহাল, বালু মহাল ভোগ করছে। আমি তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন চিত্র সাধারন জনগনের মাঝে তুলে ধরছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। জেলার সর্ববৃহৎ নির্বাচনী এলাকা জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগরবাসীর কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।

    শান্ত তালুকদার
    মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ

  • টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ছয় অতিরিক্ত আইজিপি’র শ্রদ্ধা

    টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ছয় অতিরিক্ত আইজিপি’র শ্রদ্ধা

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের পদোন্নতিপ্রাপ্ত ছয় অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।

    আজ শুক্রবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বেলা সাড়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। পরে পবিত্র ফাতেহা পাঠ করে বঙ্গবন্ধুসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লক্ষ শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন।

    এসময় বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কামরুল আহসান, মনিরুল ইসলাম, সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি জামিল আহমদ, হুমায়ুন কবির, ওয়াই.এম বেলালুর রহমান, মীর রেজাউল আলম, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখ, পৌর মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, থানার ওসি আবুল মুনসুর, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জনাব ফোরকান বিশ্বাস সহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। #