ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা।।
লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে পাইকগাছায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলার ২০, ২১ ও ২৩ নং পোল্ডারে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কৃষি জমিতে লবণ পানি উত্তোলন করে ঘের মালিকরা বানিজ্যিক ভাবে চিংড়ি চাষ করছে। আদালতের রায় অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
সোমবার সকালে উপজেলার কোর্ট সামনে প্রধান সড়কে ভূমিহীন সমিতি ও এলাকাবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে ভূমিহীন আ লিক কমিটির সভাপতি সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল এর সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন, ভূমিহীন সংগঠনের রবিউল ইসলাম গাজী, আশুতোষ মন্ডল, সবিতা ঢালী, রোকেয়া বেগম, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গোলজার রহমান, আফজাল হোসেন, মানবাধিকার কর্মী এড. শফিকুল ইসলাম কচি, কামরুল ইসলাম, সমরেশ চন্দ্র মন্ডল, চিত্তরঞ্জন সরকার ও শিবু প্রসাদ সরকার, নিজেরা করি’র অ ল সমন্বয়ক সাহাদুল ইসলাম ও কর্মী রাশেদুজ্জামান। এসময়ে বক্ততারা লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ, কৃষি জমি রক্ষা করা, অবিলম্বে সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন, স্লুইচ গেট গূলি অবিলম্বে মেরামত ও স্থায়ী বেঁড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন।
Author: desk
-

লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে পাইকগাছায় মানববন্ধন,বিক্ষোভ: স্মারকলিপি প্রদান
-

পাইকগাছা-কয়রার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আসছে
ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা।।
পাইকগাছা-কয়রার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এক গুচ্ছ ব্রিজ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ব্রিজ সহ দুই উপজেলার কয়েকটি ব্রিজ বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে পাইকগাছা-কয়রার যোগাযোগ ব্যবস্থা । প্রস্তাবিত এবং টেন্ডারকৃত এসব ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হলে গোটা এলাকা যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আক্তারুজ্জামান বাবু।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ব্রিজ বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষে প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু’র নেতৃত্বে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা সোমবার সকালে ৩টি এলাকা পরিদর্শন করেন।
যার মধ্যে উপজেলার গড়ইখালী ও সোলাদানা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বেতবুনিয়া-গড়ইখালীস্থ মিনহাজ নদীর উপর প্রস্তাবিত ব্রিজ নির্মাণ এলাকা। এরপর কর্মকর্তারা সোলাদানা, লতা ও দেলুটী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
এর আগে কর্মকর্তারা লস্কর ইউনিয়নের বাইনতলা খেয়াঘাট সংলগ্ন টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রস্তাবিত ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম-সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক মোঃ ভিকারুদ্দৌলা চৌধুরী, সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টার প্লান প্রণয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ লিয়াকত আলী, অতিরিক্ত পরিচালক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মোঃ কুতুব আল হোসাইন, স্প্যানিশ ব্রিজ প্রকৌশলী মালভাডোর আরিজা ভিক্টোরিয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম, সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দীন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ফাহাদ হাসান মুবদী, উপজেলা ভাইস শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী, ওসি জিয়াউর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান খান, ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, আব্দুল মান্নান গাজী, জিএম আব্দুস সালাম কেরু, জেলা পরিষদ সদস্য রবিউল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, দপ্তর সম্পাদক ¯েœহেন্দু বিকাশ, ছাত্রলীগনেতা সাব্বির হোসেন ও রায়হান পারভেজ রনি।
উল্লেখ্য, অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল নিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দুটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই অনুন্নত ছিল। বিগত কয়েক বছরে পাল্টে গেছে নির্বাচনী এলাকা পাইকগাছা কয়রার যোগাযোগ ব্যবস্থার দৃশ্যপট।
ইতোমধ্যে সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রধান সড়ক উন্নয়ন করায় উন্নত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়া দুই উপজেলার অভ্যন্তরিক সড়ক কার্পেটিং ও পাকাকরণ করায় পাল্টে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দৃশ্যপট। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে সাথে দুই উপজেলার নদ-নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করার মাধ্যমে গোটা নির্বাচনী এলাকা যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষে নেওয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা।
ইতোমধ্যে শিববাটী, শিবসা, চাঁদআলী, হাড়িয়া সহ কয়েকটি নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। লস্কর-বাইনতলা-কড়–লিয়া নদীর উপর ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে আরো একটি ব্রিজ। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব এনেছেন সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আক্তারুজ্জামান বাবু।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী কয়রার গিলাবাড়ীতে কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মাণ করা হবে একটি ব্রিজ। দশালিয়ায় কয়রা নদীর উপর নির্মাণ করা হবে আরো একটি ব্রিজ। এছাড়া বেশ কয়েক বছর আগে খুলনার এক জনসভায় পাইকগাছাতে একটি ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেটি নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
এ প্রকল্পের আওতায় সোলাদানা, লতা এবং দেলুটী ইউনিয়নের ৩টি নদীর উপর নির্মাণ করা হতে পারে ৩টি ব্রিজ। এসব ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হলে একদিকে যেমন দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সারাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে। জেলা শহর খুলনার সাথে সহজ হবে যাতায়াত।
অপরদিকে এলাকার উৎপাদিত হিমায়িত চিংড়ি, মৎস্য ও কৃষি ফসল দেশের বিভিন্ন স্থানে খুব সহজেই সরবরাহ করা যাবে। এতে এলাকার মানুষের আর্তসামাজিক উন্নয়ন সহ অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে সুন্দরবন সংলগ্ন অত্র অ লে। এছাড়া অপর সম্ভাবনা তৈরী হবে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের। -

নড়াইলে মহিলাকে জবাই করে হত্যা
উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
নড়াইলের আন্না বেগম (৫০) নামে এক মহিলাকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সে উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আলিম শেখের স্ত্রী। সোমবার দুপুরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের দু’সন্তানের জননী শেফালী বেগম তার মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়ে নাহিদা খানমকে রাতের খাবার দেওয়ার জন্য জা পারুল বেগম সাথে নিয়ে রবিবার রাত ৮ টার দিকে পাশ্ববর্তী মাদ্রাসা খাদিজাতুল কোবরা কওমী মাদ্রাসায় যায়। শেফালী ও তার জা পারুল বেগম সেখান থেকে বাড়ি ফিরে এসে রাতের খাবার শেষে যার যার বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ে।
সোমবার সকালে শেফালী ঘুম থেকে না ওঠায় স্বজনদের সন্দেহ হয় এবং এক পর্যায়ে জা পারুল বেগম ঘরের পেছনের দরজার ছিটকানি বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে শেফালীর রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা বঠি ও সোনার গহনার ৫টি খালি বক্স জব্দ করেছে।
উল্লেখ্য যে, নিহত শেফালী বেগমের স্বামী জাহাজে কর্মরত, বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। নিহত শেফালী বেগমের দেবর আবেদ শেখ (৫০) অভিযোগ করে বলেন, ‘টাকা ও সোনার জন্য আমার ভাবীকে খুন করা হয়েছে, আমরা এ নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
নড়াইলের লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের বিষয়ে জোর তদন্ত চলছে। -

কুকুরের কামড়ে শুধু আহত নয়, আছে নিহত হওয়ার ঘটনাও
মোঃ রাসেল সরকার: ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বছরে প্রায় দেড় লাখ ছুঁই ছুঁই। এর মধ্যে সিংহভাগই আসছেন কুকুরের কামড় খেয়ে। পাশাপাশি বাড়ছে বিড়ালের আঁচড়ের শিকার মানুষের সংখ্যাও। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের জলাতঙ্কে মৃত্যু শূন্যে নামানোর যে লক্ষ্য, সেটি পূরণ হবে কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের তথ্যমতে, বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৪০-৫০ জন রোগীর মৃত্যু হয় জলাতঙ্কে। শুধু মানুষই নয়, প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজার গবাদিপশুও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়। গত দশ বছরের মধ্যে ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ১০৬ জন মানুষ জলাতঙ্কে মারা যান বলে জানায় সিডিসি।
কুকুর-বিড়ালের কামড়ের শিকার হচ্ছেন মূলত দুইভাবে। রাস্তা-ঘাটে বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়ালের মাধ্যমে এবং ঘরে পোষা প্রাণীর মাধ্যমে। তবে বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণের শিকার হওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি।
মহাখালী জাতীয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর উত্তর বাড্ডা থেকে সাড়ে তিন বছরের শিশুসন্তান শিহাবকে কোলে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন শহিদুল ইসলাম শহীদ। শিশু শিহাব বাসার সামনে কুকুরের বাচ্চা নিয়ে খেলা করছিল। মা কুকুর এসে শিহাবের হাতে কামড় দেয়। তিনি বলেন, ছেলেকে নিয়ে তিনদিন টিকা দিতে আসছি। প্রথম দিন দুই হাতে দুটি ও পায়ে একটি, দ্বিতীয় দিনেও তিনটি টিকা দেয়। তৃতীয় দিন দিয়েছে দুটি টিকা।
কুকুরের কামড়ে শুধু আহত নয়, আছে নিহত হওয়ার ঘটনাও। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে রাজধানীর মুগদা থানাধীন মান্ডা প্রথম গলি এলাকায় কুকুরের কামড়ে আলামিন (৩) নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। বাসার সামনে খেলার সময় কুকুর কামড়ায় তাকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালে সারাদেশে জলাতঙ্কের টিকা নেন ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪০৯ জন। একই সঙ্গে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৭টি কুকুরকে টিকার আওতায় আনা হয়। আর একই বছর জলাতঙ্কে মারা যান ৫৭ জন।
২০১৯ সালে টিকা নেন দুই লাখ ৫৩ হাজার ৮৬১ জন। একই সঙ্গে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৫৯টি কুকুরকে টিকার আওতায় আনা হয়। একই বছর জলাতঙ্কে মারা যান ৫৭ জন। ২০২০ সালে টিকা নেন এক লাখ ৫২ হাজার ১৪ জন। একই সঙ্গে তিন লাখ ৬৯ হাজার ৪০৮টি কুকুরকে টিকার আওতায় আনা হয়। একই বছর জলাতঙ্কে মারা যান ২৬ জন।
২০২১ সালে টিকা নেন দুই লাখ ৭৮ হাজার ৬২৩ জন। একই সঙ্গে চার লাখ ১৩ হাজার ৮২৭টি কুকুরকে টিকার আওতায় আনা হয়। জলাতঙ্কে মারা যান ৪০ জন। সবশেষ ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত টিকা নেন ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৬ জন। একই সঙ্গে এক লাখের বেশি কুকুরকে টিকার আওতায় আনা হয়। মারা যান ২৪ জন। গত ১০ বছরে ২৭ লাখ ৯২ হাজার ৮২১ জন মানুষকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকার আওতায় আনা হয়েছে ২৪ লাখ কুকুর।
কুকুরের টিকাদান : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের তথ্যমতে, জলাতঙ্ক রোগের প্রধান বাহক কুকুর। কুকুরের জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ করে মানুষ ও অন্য প্রাণীকে নিরাপদ করা সম্ভব। বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত যে কোনো দেশ বা এলাকায় শতকরা ৭০ শতাংশ কুকুরকে ব্যাপকহারে জলাতঙ্ক টিকা দেওয়া হলে তাদের হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। তিন বছরে সঠিকভাবে পরপর তিন রাউন্ড জলাতঙ্ক টিকা দেওয়া হলে ওই এলাকা বা দেশ জলাতঙ্ক মুক্ত করা সম্ভব। এ ধারণার আলোকে বাংলাদেশের জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কার্যক্রমের প্রাথমিক সময় (২০১২-১৩ সাল) থেকে ব্যাপকহারে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়, তা এখনো চালু আছে।
দেশের সব জেলায় প্রথম রাউন্ড, ২৫টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ড এবং সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, নীলফামারী, পাবনা, গাইবান্ধা ও ঢাকা জেলায় তৃতীয় রাউন্ড টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ডোজ জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে।
কুকুরের বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচি : গত ২৫ জানুয়ারি ‘কুকুর বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচির’ উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এদিন ১০টি কুকুর বন্ধ্যত্বকরণ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ১০টি করে কুকুর বন্ধ্যত্বকরণ করা হবে। বন্ধ্যা কুকুরগুলো চিহ্নিত করার সুবিধার্থে সেগুলোর কান ফুটো এবং ঘাড়ে নীল (স্থায়ী রং) স্প্রে করে দেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে নজর না দেওয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে বলে জানান মেয়র তাপস। তিনি তথ্য দেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে।
কোথায় কীভাবে পাবেন টিকা : বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা দেয় সরকার। হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসক ক্ষতস্থান দেখে টিকা দেন। টিকা নিতে হাসপাতালে যাওয়া লাগে সপ্তাহখানেক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারাদেশের জেলা হাসপাতাল ও কিছু উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ পাঁচটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জলাতঙ্কের আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রায় ৩০ হাজার বেওরারিশ কুকুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২২ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকি আট হাজার কুকুরকেও পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় আনা হবে।
জাতীয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন তিন থেকে চারশ রোগীকে টিকা দেওয়া হয় শুধু এই হাসপাতাল থেকে। সরকারি ছুটির দিনসহ সপ্তাহে সাতদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রতিদিন বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হয়। অন্য প্রাণীর তুলনায় কুকুরে কামড়ানো রোগী বেশি আসে।
-

বানারীপাড়ায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়।। মুজিব বর্ষের আবাসন পরিদর্শণ
এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ সংবাদদাতাঃ বরিশালের নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বানারীপাড়ায় সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তি ও এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি উপজেলার কর্মকর্তাদের উদ্দ্যেশে বলেন, অফিসের সময় সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করার তাগিদ দেন। সরকারের উন্নয়নমূখী কার্যক্রম বাস্তবায়নে সচেতন থেকে দায়িত্ব পালন, বাল্য বিয়ে রোধ, কৃষি, শিক্ষর মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের মণিটরিং করার জন্য বলেন। সোমবার ০৬ ফেব্রুয়ারী বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা আজরিন তন¦ীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সদস্য ডাঃ খোরশেদ আলম সেলিম, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ড, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার আমিনুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, পৌর ছাত্রলফজের সম্পাদক সজল চৌধুরী প্রমূখ। উপস্থিতিদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মৃধা, মোঃ শহীদুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল জলিল ঘরামী, সাইফুল ইসলাম শান্ত, প্রমূখ।
এরপর জেলা প্রশাসক বানরীপাড়া বন্দরের উত্তর পাড় (পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড) মুজিব বর্ষের আবাসন প্রকল্পের নির্মিত ঘর, বাইশারী ইউনিয়নের উত্তরকুল গ্রামের ঘর ও সন্ধ্যা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শণ করেন। এসময় ইউএনও ছাড়া ও তার সাথে ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম, আব্দুল আউয়াল, জনস¦াস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ নিজাম উদ্দিন, সমবায় কর্মকর্তা আবুল বাশার রাঢী প্রমূখ । পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে ৬২ টি ঘর নির্মান করা হয়েছে, নির্মানাধীন রয়েছে ২৪ টি এবং সরকারী ভূমিতে বালু ভরাট কওে আরো ২০০ ঘর, মসজিদ, কবরস্থান নির্মানের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রকল্প কমিটির সদস্য সচিব পিআইও মোঃ মহাসিনুল ইসলাম জানান। একই দিন।বিকেলে জেলা প্রশাসক সদর ইউনিযনের আলতা আবাসন প্রকল্প পরিদর্শষ করেন। # -

মুন্সিগঞ্জে খাল ভরাট করে বাড়ি-ঘর, স্থাপনা
লিটন মাহমুদ,
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
খালটি দিয়ে এক সময় নৌকাচলত। বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার পানি আসত। পানির সঙ্গে পলি এসে বাড়াত জমির উর্ভরতা। এ খাল বেয়েই সরত আশপাশ এলাকার বৃষ্টির পানি। তবে গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় ব্যাক্তিরা খাল দখল করে ভরাট করে ফেলেছে।সেখানে করেছেন বাড়ি-ঘর,রাস্তা। ফলে অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে এ খালের।খালটি মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার দেওভোগ ও শিলমন্দি মৌজায় অবস্থিত।
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা ভূমি অফিস সুত্রে জানাযায়,
খালটি মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার দেওভোগ মৌজার আর এস ম্যাপে ২৯৩ ও শিলমন্দি মৌজার আর এস ২৯২দাগে মধ্যে অস্থিত। তবে মৌজা দুটির সিএস ও এস এ প্ররচায় ব্যাক্তি মালিকানা।খালটি কাটাখালি নামে অন্য একটি খাল থেকে উৎপত্তি হয়ে উত্তর দিকের দেওভোগ মৌজা হয়ে শিলমন্দি মৌজায় এসে মিশেছে।সেখান থেকে মুন্সিগঞ্জ মৎস্য অফিসের দিকে গেছে। খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার।খোঁজ নিয়ে জানাযায়,স্থানীয় আবুল হোসেন,নজরুল ইসলাম,হারুন অর রশিদ গাজী,ইউসুব আলী হাওলাদার,মফিজল হক হালদার,ইয়াসিন মাদবর,গোলাম নবীন নামে কয়েকজন খালটি ভরাট করে নিয়েছেন। এদের মধ্যে আবার হারুন অর রশিদ গাজী ও নজরুল ইসলামরা তাদের পৈত্রিক সম্পদের সঙ্গে খালও বিক্রি করে দিয়েছেন।
রোববার সরেজমিনে গেলে দেওভোগ অংশে খালের অস্তিত্ব চোখে পড়ে।২৫-৩০ ফুট চওড়া খালটির দুপাশ ভরাটের কারনে এখন ১০-১৫ ফুট নালার মত রয়েছে। তবে শিলমন্দি মৌজার সব টুকু খাল একেবারেই দখল হয়েগেছে।কোন কোন অংশে হয়েছে বাড়ি-ঘর। দুই মৌজার সংযোগ স্থলে আবুল হোসেন খাল ভরাট করে দেয়াল নির্মান করে রেখেছেন।
খাল দখলের বিষয়ে আবুল হোসেন বলেন,এটি শুধু মাত্র আরএসএ খাল ছিল।এ খাল আমি একা নই,অসংখ্য মানুষ দখল করেছে। খালটি নাল হয়ে গেছে।কেউ কেউ নামজারি করে বিক্রিও করে দিয়েছেন। সরকার যদি সবারটা উচ্ছেদ করে আমিও ছেড়ে দেব।
আবুল হোসেনের দখল থেকে খালের সীমানা ধরে উত্তর দিকে সামনে এগুতেই দেখা গেল ভরাট করা খালের উপরেই ইউসুব আলী হাওলাদারদের বাড়ি ঘর। মো.শাহ আলম নামে আরো এক ব্যাক্তি বহুতল পাকা ভবন নির্মান করেছেন।
ইউসুব আলী হাওলাদারদের স্ত্রী বলেন,৬-৭ বছর ধরে তারা এখানে বাড়ি করে থাকছেন।তাঁরা কোন খাল দখল করেননি।যে জায়গায় তাদের বাড়ি এটা তার স্বামী পৈত্রিকভাবে পেয়েছেন।
মো.শাহ আলম বলেন, তার খালের উপর বাড়ি করেননি।হারুন অর রশিদ গাজিদের কাছ থেকে জমি জমি কিনেছেন।সেখানেই তাদের দালান করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান,খালটি বৃটিশ শাসন আমলের।২৫-৩০ ফুট চওড়া খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার। মাত্র ১০-১২ বছর আগে এ খাল দিয়ে নৌকা চলত।দেওভোগ, শিলমন্দি, কাটাখালি ও মুন্সিরহাট এলাকার লোকজন নৌকায় করে এ খাল দিয়ে যাতায়াত করত।দেওভোগ মৌজায় নালারমত খালের একটি অংশ আছে, শিলমন্দি প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা ভূমি কর্মকর্তা আবদুল ওয়াহেদ প্রথম আলোকে বলেন,এটি দৃশ্যমান খাল ছিল। আর এস ম্যাপেও খাল। তবে এটি রেকেডিও দভাবে মালিকানা সম্পদ। হয়তো এ বলে আগের ভূমি কর্মকর্তার নামজারি দিয়েছেন। অনেকে নামজারি করে নিয়েছেন। তবে কীভাবে এটি ম্যাপে খাল হওয়া সত্ত্বেও নাল হল এটি আমার জানা নেই।
খাল দখল হওয়া কৃষি কাজে বিরম্বনা
খালটি দখল হওয়ায় শিলমন্দি ও দেওভোগ এলাকার অন্তত ২০০ একর তিন ফসলি কৃষিজমি চাষাবাদ করতে গিয়ে বিরম্বনার শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।
খালটির প্রসঙ্গ তুলতেই দেওভোগ এলাকার কৃষক আব্দুস সাত্তার মুন্সি(৬৫)বলেন, জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দেওভোগ মৌজায় নিজেদের জমিতে কৃষিকাজ করছি। বাপ-দাদারাও এ কাজ করত। জমিতে তিন পর্যায়ে আলু, শাকসবজি, ধান, পাটের চাষাবাদ করতাম। ফসল আবাদে এ খালটি আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল। খালের বিভিন্ন অংশ দখল হওয়ায় বৃষ্টির পানি নামতে পারেনা।এতে আবাদ করা কৃষিপণ্য নষ্ট হয়।
শিলমান্দি এলাকার আলমগীর মোল্লা বলেন,কৃষি ছিল প্রধান পেশা।দুই বছর আগেও নিয়মিত শিলমন্দির চকে(মাঠে) সাড়ে চার একর জমিতে আলু আবাদ করতাম।খাল ভরাট হওয়ায় পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে যায়।বৃষ্টির সময় জমিতে আধাহাত পানি জমে থাকত।এতে অনেক টাকা লোকসান গুনতে হয়।এর পর বাধ্য হয়ে জমির চাষাবাদ ছেড়ে দিয়েছি ।
আরো এক ভুক্তভোগী কৃষক মো. সোহেল বলেন,বর্ষারপর জমি থেকে পানি সরে না। সেলো মেশিন ভাড়ায় এনে জমি থেকে পানি নিস্কাশন করতে হয়।এবার আলু লাগানোর মৌসুমে আলুর আবাদ করতে পারিনি।
এর আগে এ খাল রক্ষায় ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপি দেন স্থানীয় শতাধিক কৃষক।এর পরও খাল উদ্ধারে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি জেলা ও উপজেলা প্রশান।
নদী বাঁচাও ও পরিবেশ আন্দোলন মুন্সিগঞ্জ শাখার সভাপতি এডভোকেট মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, খাসজমি-খাল দখল এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাবশালীরা স্বেচ্ছাচারীভাবে এগুলো দখল করে নিচ্ছে। প্রশাসন থেকে খাল দখল উচ্ছেদের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দখলদারিত্ব দিন দিন আরো বাড়ছে। ফসলি জমি রক্ষার জন্য খালটি উদ্ধারে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া খু্ব জরুরি।
খাল খনন ও উচ্ছেদের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)স্নেহাশীষ দাশ প্রথম আলোকে বলেন, যেসব স্থানে খাল দখল রয়েছে। সেখানে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হবে। খালটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-

নড়াইলে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে ১২জন আহত
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলে অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের সংঘর্ষে ১২জন আহত।
অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলে দুগ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১২জন আহত হয়েছে। আহতদের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, নড়াইল সদর
হাসপাতাল এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৬
ফেব্রুয়ারী সোমবার এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মিটু শরিফ কে তাক্ষনিক খুলনা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, বাবলু শেখকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ও তিলা ফরাজিকে
কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভর্তি করা হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, জানাগেছে, অধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মাউলি
ইউনিয়নের তেলিডাঙ্গা গ্রামের আহাদুর খাকী এবং গফফার শেখের মধ্যে দীর্ঘদিন
যাবত বিরোধ চলে আসছিল এরই জের ধরে আজ সকালে আহাদুর খাকী গ্রুপের লোকজন
গফফার শেখের পক্ষের লোকেরা মো: বাবলু ফকিরকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে
কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাক্তকভাবে আহত করে । পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে
জড়িয়ে পড়ে এতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়।
এ বিষয়ে নড়াগাতি থানার ওসি সুকান্ত জানান, সকালে ঘটনার পরপরই পুলিশ
মোতায়ের করা হয়েছে । এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত । কোন পক্ষ এখনো অভিযোগ
করেনি অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। -

সিরাজদীখানে হাউজিং ব্যবসা নিয়ে দুগ্রুপের সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত-৭
লিটন মাহমুদ,
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে বালুরচর ইউনিয়নে হাউজিং ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুইগ্রুপের সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্র পরিণিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি বেগম বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটনা ঘটে।সংঘর্ষ চলে ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় , এলাকায় হাউজিং ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নুজহা সিটির বাতেন সরকার ও আল ইসলাম এর সাথে দক্ষিনা গ্রীন সিটির সুমন মিয়া ও কামিজুদ্দিন কামু গ্রুপের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধে চলে আসছে । সেই বিরোধের জেরে বাতেন সরকার ও আল ইসলামের লোকজন আজ সকাল ১০ টার দিকে দক্ষিনা গ্রীন সিটির স্থাপনা ভাঙচুর করলে দুগ্রæপের সংঘর্ষে বেধে যায় । দেশিয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪ টি বসত বাড়ী,পুলিশের ৩টি মোটরসাইকেল ও ১ টি পিকআপ ভাঙচুর করে। ৪ জন টেটাবিদ্দ ও শাহিনুর নামে পুলিশের এক কনস্টেবলসহ ৭ আহত হয়েছে । টেটাবিদ্দ আহতরা ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে । আহত কনস্টেবলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে । পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনতে ১৮ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে ।
সিরাজদীখান থানার ওসি একে এম মিজানুল হক ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে বলেন , হাউজিং ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মূলত এ সংঘর্ষ । কয়েকটি বাড়ী ঘর ভাঙচুর হয়েছে আমাদের পুলিশের একজন কনস্টেবল আহত হয়েছে এবং আমাদের পুলিশের ৩টি মোটর সাইকেল ও একটি পিকআপ ভাঙচুর করেছে । পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ১৮ রাউন্ড ফকিা ঘুলি ব্যবহার করতে হয়েছে । বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে ঘটনাস্থলে থেকে দুই শতাধিক টেটা উদ্ধার করা হয়েছে । আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে । -

জয়পুুরহাটে নাশকতা মামলার পলাতক ৩ শিবির কর্মী গ্রেপ্তার
রিদয় হোসেন,আক্কেলপুর(জয়পুুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটে সরকার বিরোধী নাশকতায় পরিকল্পনার মামলার তিনজন শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার (৬ই জানুয়ারী) গভীর রাতে সদর উপজেলার হানাইল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার হানাইল এলাকার কাজী আব্দুল হান্নানের ছেলে ইলিয়াস শওকত একই এলাকার মৃত আব্দুল মুমিনের ছেলে জাবেদ আলী ও জাইদুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৪ ই ডিসেম্বর সকালে ককটেল, লাঠি সহ শহরে নাশকতার উদ্যেশে বামনপুর শগুনা চারমাথায় এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে জামায়েত ও শিবির কর্মীরা। এসময় পুলিশ গিয়ে ৬ টি ককটেল সহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে ও অনন্য জামায়েত ও শিবিরের নেতা কর্মীরা পালিয়ে যায়। ঐ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তিনজন আসামী পলাতক ছিলো। গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
-

ধান রোপণ করে কৃষি জমি দখল – রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা
মোঃ কাউছার উদ্দীন শরীফ, ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ধান রোপণ-করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার( ৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের চান্দের ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, ঈদগাঁও উপজেলার মাছুয়াখালী মৌজার বিএস খতিয়ান নং ৫০,বিএস দাগ নং ১২২৩,১২২৪,১২২৭ এর ৯৩.৩৪ শতক নাল জমির উপর বিজ্ঞ মেজিস্ট্রেট আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং বিবাদীগনকে আগামী ১৩/০৩/২০২৩ ইং পর্যন্ত উক্ত নালিশী ভুমিতে প্রবেশ না করা এবং যাবতীয় নির্মাণ কাজ, রোপণ কাজ,বপন কাজ,খনন কাজ সহ সকল প্রকার কার্যক্রম করা থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। সদর এসিল্যন্ডকে কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দেয়া ও ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ কে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন আদালত। এম আর মামলা নং -১৪৫ /২০২৩ ইং।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী আমান উল্লাহ জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ধান রোপণ শুরু করলে থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ দেন পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার কাজ শুরু করে বিবাদী পক্ষের রমিজ আহমদ,অচিয়র রহমান ও মতিউর রহমানের নেতৃত্বে লোকজন। আদালতের নির্দেশ অমান্যকারী রমিজ আহমদের সাথে কথা হলে ধান রোপণের সত্যতা স্বীকার করেন এবং উক্ত জায়গা তাদের বলে দাবি করেন। ঘটনা স্থল পরিদর্শনকারী পুলিশ এ এস আই গিয়াস উদ্দিন জানান, ঘটনা স্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কবিরের সাথে কথা হলে জানান, কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আবার কাজ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।