Author: desk

  • বিট পুলিশিং এর ফলে পুলিশ সেবা এখন হাতের কাছে

    বিট পুলিশিং এর ফলে পুলিশ সেবা এখন হাতের কাছে

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    অনেকটাই বদলে গেছে পুলিশ। সেবা নিতে এখন আর থানায় যেতে হচ্ছে না। সাধারন মানুষ হাতের কাছেই পুলিশি সেবা। প্রতিটি ইউনিয়নেই ১জন উপ-পরির্দশক (এসআই), ১ জন সহকারী উপ-পরির্দশক (এএসআই) ২জন কনস্টবল প্রতিনিয়তই যাচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই কমে গেছে।

    মঙ্গলবার (৭ফেব্রুয়ারী) ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড সাহেব কাচারী এলাকায় বীট পুলিশিং সভায় এসব কথা বলেন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শাহ কামাল আকন্দ।

    ওসি জানা, পুলিশ মহাপরির্দশকের নির্দেশক্রমে জেলা পুলিশ সুপার মাসুম আহমেদ ভূঞা স্যারের সার্বিক তত্বাবধানে বিট পুলিশিং এর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ৩৩টি ওয়ার্ড ও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে স্থান নির্বাচন করে এই বিট পুলিশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের ফলে থানা পুলিশের উপর অনেকটাই চাপ কমে গেছে। ছোট ছোট অভিযোগ গুলো দ্রুত নিস্পত্তি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে অপরাধ প্রবণতাও অনেকটাই কমে গেছে। যেকোন ছোটখাটো সমস্যা এখন বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে সমাধান হচ্ছে। থানায় ওসির দরজা সবার জন্য উম্মুক্ত।

    ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান নগরী হতে ইউনিয়নের দুরত্ব ৩০ কিলোমিটার এর বেশী রয়েছে। ফলে মাদক ব্যবসা, গরু চুরি, বাল্য বিয়ে, জুয়াসহ অপরাধীদের অভয়ারন্য ছিলো। কিন্ত বিট পুলিশের কার্যক্রম চালু হওয়ায় সেখানে অপরাধ প্রবণতা কমে এসেছে।বিট পুলিশিং কার্যক্রমে খুশি এলাকার সাধারন মানুষও। মানুষ এখন অনেকটা চিন্তমুক্ত রাতে ঘুমাতে পারছে। তারা এই কার্যক্রমটাকে অব্যাহতভাবে চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন।

    বোরর চর এলাকার কয়েকজন জানান, দুটি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় আইন বলতে কিছুই ছিল না। সবকিছুই নিয়ন্ত্রন করত প্রভাব শালীরা কিন্তু বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু হওয়ার সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসছে। এখন মনে হচ্ছে আমরা সত্যিকারে বাংলাদেশের বাসিন্দা।

    ওসি শাহ কামাল আকন্দ পরে একই দিনে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এসময় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম রফিক (দুদু),সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর সেলিমা আক্তার,জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির হোসেন বিল্লাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • গোদাগাড়ীতে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা  অনুষ্ঠিত ।

    গোদাগাড়ীতে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ।

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ অডিটারিয়ামে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০ টার সময় উপজেলা পরিষদ অডিটারিয়ামে শিক্ষা প্রধান, সহকারী লাইব্রেরিয়ান নিয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সবুজ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষনা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম।

    এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ দুলাল আলম, একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ আব্দুর রহমান, টীম ম্যানেজার এজাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠান প্রমূখ।
    বক্তাগণ বলেন, এসইডিপি ও স্টেংদেনিং রিডিং হ্যাবিট অ্যান্ড রিডিং স্কিলস অ্যামাং সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস শীর্ষক স্কিম কার্যক্রম পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিতকরণ, শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বইপড়া কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব ও পর্যায়ে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কৌশল অবহিতকরণ, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব সম্পর্কে এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা অবহিতকরণ।
    মানুষের হাজার বছরের চিন্তা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিবরণী কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে থাকে বইয়ের পাতায়। বই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, কাল থেকে কালান্তেরর সেতুবন্ধ রচনা করে। বই পৌঁছে দেয় এক সভ্যতার আর্জিত জ্ঞান পরবর্তী সভ্যতার হাতে। শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, জ্ঞান, আলো ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য বই হোক শ্রেষ্ঠ বন্ধু ও নিত্যদিনের সঙ্গী, ভাল বই পড়া মানে সেরা মানুষের সাথে কথা বলা। শিক্ষকের লক্ষ্য যেমন ছাত্র তৈরী করা তেমনি লাইব্রেরিয়ানের লক্ষ পাঠক তৈরী করা। বই মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু। মোঃ হানিফের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন,
    মহিশালবাড়ী আল ইসলা ইসলামী একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোঃ কোরবান আলী, রাজাবাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত মোঃ মতিয়ার রহমান, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী, গুনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম, গোগ্রাম আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম, দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক মোঃ আতাউর রহমান, কাশিমপুর একে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • ৯৯৯ লাইনের ফোন : যুবকের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

    ৯৯৯ লাইনের ফোন : যুবকের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে ৯৯৯ লাইনের ফোন পেয়ে মেহেদী হাসান সাগর (৩৫) নামে এক যুবকের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে দূর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে।

    আজ বুধবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের হাফিজের দোকানের সামনের সড়কের উপর থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো: আসাদুজ্জামান টিটো বিষযটি নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত মেহেদী হাসান সাগর সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের মৃত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য শাহাদত হোসেন মোল্যার ছেলে। সে ঢাকায় থেকে ফলের ব্যবসা করতো। সে দুই মাস আগে বাড়ীতে আসে। তার দু’টি কন্যা সন্তান রয়েছে।

    নিহতের স্ত্রী রূপা বেগম জানান, মঙ্গলবার রাত মেহেদী হাসান সাগর বাড়ীতে আসে। এসময় তার মোবাইল ফোন একটি ফোন আসলে সে মোবাইল ফোনে চার্জ দিয়ে বের হবার কথা বলে। এরপর সে রাত ১টার দিকে বাড়ী থেকে বের হলে আর ফিরে আসনি।

    তিনি আরো জানান, ভোরে পুলিশ আর এলাকাবাসীর উপস্থিতি থেকে বাড়ীর বাইরে রাস্তায় বের হয়। পরে সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর মরদেহ পড়ে আছে। কি কারনে বা কে হত্যা করছে তা জানি না।

    বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো: আসাদুজ্জামান টিটো জানান, আজ বুধবার ভোরে সড়কের উপর মেহেদী হাসান সাগরের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে ৯৯৯ লাইনে ফোন করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

    তিনি আরো বলেন, নিহতের গলা কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কোপের চিহৃ রয়েছে। কে বা কারা কি কারনে তাকে হত্যা করেছে তা নিহতের পরিবার জানাতে পারেনি। আমরা কারন উদঘাটনের জন্য তদন্তে নেমেছি। #

  • রাজধানীর মতিঝিল থেকে প্রতারক  ছালাম গ্রেফতার

    রাজধানীর মতিঝিল থেকে প্রতারক ছালাম গ্রেফতার

    মোঃ রাসেল সরকার//
    বিভিন্ন ব্যক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতারণা করে প্রায় ৬ কোটি টাকা হাতিয়েছেন মো. হাসান ছালাম (৪১)। এই অর্থে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিসহ বিভিন্ন স্থানে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাসহ বিনিয়োগ করেছেন ফ্ল্যাট ব্যবসায়। সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

    মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ না করা ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করে তা পরিশোধ না করায় অর্থঋণ জালিয়াতি, চেক জালিয়াতি মামলায় ২০২০ সালে ছালামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর থেকে তিনি রাজধানীর ডেমরা, উত্তরা, কেরানীগঞ্জ ও মতিঝিল এলাকায় বিভিন্ন সময় আত্মগোপনে থাকেন। তার বিরুদ্ধে অর্থঋণ জালিয়াতি, চেক জালিয়াতিসহ স্ত্রীর করা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। অবশেষে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ছালাম রাজধানী ঢাকা ও কুমিল্লায় জেমস্ সুপার শপ লিমিটেড, জেমস্ অ্যান্ড জুয়েলার্স, মতিঝিলে মা টেলিকম, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উজির আলী ট্রাভেলস, কুমিল্লা কান্দিরপাড়ে ডায়মন্ড গ্যালারি লিমিটেডসহ যৌথ মালিকানায় মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিক মুনাফার আশায় তিনি একইসময় একাধিক প্রতিষ্ঠানে যৌথ মালিকানার ভিত্তিতে বিনিয়োগ করেন। এতে ভালো মুনাফা হওয়ায় আরও বেশি বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়িক পার্টনারসহ আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিত লোকজনের কাছ থেকে উচ্চহারে মাসিক লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে কোটি টাকার অধিক হাতিয়ে নেন। কিছুদিন লভ্যাংশ দিলেও পরে তা বন্ধ করে দেন। পাওনাদাররা টাকার জন্য নিয়মিত তাগিদ দিতে থাকলে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চেক দিলেও তার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা পাওয়া যায় না এবং ব্যাংক চেক ডিজঅনার করে দেয়। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকিসহ প্রাণনাশের ভয় দেখাতেন। পরে ভুক্তভোগীরা আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা করেন।

    বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও টাকা নেওয়ার কথা জানিয়ে র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ফাইন্যান্স, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ব্র‍্যাক ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউসিবি ব্যাংক, ইবিএল, প্রাইম ব্যাংক এবং প্রিমিয়াম ব্যাংকসহ আরও বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। প্রথমদিকে প্রতিষ্ঠানসমূহের কয়েকটি মাসিক কিস্তি পরিশোধ করলেও পরে তা বন্ধ করে দেন। নিদির্ষ্ট সময়ে ঋণ পরিশোধ না করায় এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাকে বারবার চূড়ান্ত নোটিশ দেয়। পরে আদালতে ঋণ খেলাপির দায়ে মামলা করে প্রতিষ্ঠানগুলো। মামলাগুলোর শুনানিতে হাজিরাও দেননি ছালাম। কৌশলে এসব ঋণের দায় এড়ানোর জন্য তিনি বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং দোকান বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহে জমি কেনেন। পরে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি পান্থপথে তার অভিজাত ফ্ল্যাট বিক্রি করে ডেমরা এলাকায় বন্ধুর বাসায় গা ঢাকা দেন। পলাতক থাকা অবস্থায় মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশ ছেড়ে ইউরোপে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

    এই র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, বসুন্ধরা সিটিতে জেমস্ সুপারশপের পার্টনারশিপে মাসিক ৫০ হাজার টাকা করে লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গিয়াস উদ্দিন নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। পরে গিয়াস উদ্দিন তার কাছে প্রতি মাসের লাভের টাকা চাইলে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করেন। এ অবস্থায় গিয়াস উদ্দিন তার মূলধন ফেরত চান। এতে হাসান মূলধন ফেরত না দিয়ে উল্টো হুমকি দেওয়া ও তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে গিয়াস উদ্দিন ছালামের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেন। ২০২২ সালে হাসান ছালামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

    স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৯ সাল থেকে তিনি আলাদা বসবাস করছে বলেও জানান লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

  • ক্রীড়াই শক্তি, শরীর সুস্থ্য রাখতে ক্রীড়ার কোন বিকল্প নাই- রাজশাহী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

    ক্রীড়াই শক্তি, শরীর সুস্থ্য রাখতে ক্রীড়ার কোন বিকল্প নাই- রাজশাহী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মেধা পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    মঙ্গলবার সকালে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলার ৭ নং দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল উদ্দিন সোহেল।

    প্রধান অতিথি‘র বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, ক্রীড়াই শক্তি, শরীর সুস্থ্য রাখতে ক্রীড়ার কোন বিকল্প নাই। তাই লেখাপড়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই খেলাধুলায় অংশ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, তোমরা মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকবে। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তিনি বলেন, মা-বাবাকে যে সম্মান দিতে হয় ঠিক শিক্ষকদেরও সেই সম্মান দিতে হবে। এসময় তিনি জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ দামকুড়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রদান করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন এবং এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা রাখবেন। বক্তব্যের শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার সহ মেধা পুরস্কার প্রদান করেন।
    বক্তব্য প্রদান করেন ৩ নং দামকুড়াহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা পরিষদের সদস্য ও দামকুড়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত সভাপতি মোঃ তাফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দামকুড়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফেরদৌস আলী। অনুষ্ঠানের সঞ্চলনা করেন সহকারী শিক্ষক মনোয়ার হোসাইন।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • কুড়িগ্রামে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ৭০লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া বিএনপি’র নেতা আটক

    কুড়িগ্রামে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ৭০লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া বিএনপি’র নেতা আটক

    এম এস সাগর,
    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

    কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের মাধ্যমে প্রায় ৩০জন শিক্ষিত বেকারকে নিজস্ব এনজিও এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নাম করে লালমনিরহাটের ধাইরখাতা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে চর কুলাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওয়াহেদ আলী ৭০লাখ টাকা হাতিয়ে আত্মগোপন করে। ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেনের মামলার প্রেক্ষিতে রংপুর র‌্যাব-১৩ অভিযান চালিয়ে গত ৩০জানুয়ারী প্রতারক ওয়াহেদ আলী কে গ্রেফতার করে নাগেশ্বরী থানায় সোপর্দ করেছে। ওয়াহেদ আলীর বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা মামলা চলমান রয়েছে।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদরের কুলাঘাট ইউনিয়নের শীর্ষ বিএনপি নেতা ও কুলাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান, চর কুলাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলীর তত্ত্বাবধানে তার ভাস্তি জামাতা প্রতারক ওয়াহেদ আলী মাস্টারের মাধ্যমে নাগেশ্বরীর রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের মাধ্যমে প্রায় ৩০জন শিক্ষিত বেকারকে নিজস্ব এনজিও এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার কথা বলে নগত, বিকাশ ও ডাচ্ বাংলা হিসাব নম্বর- ৭০১৭৫১৫৬৮৫০৩, ৭০১৭৩১৮০৯৮২২১ মাধ্যমে ৭০লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইমেইলে মাধ্যমে ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়েছেন। এমনকি প্রতারক ওয়াহেদ আলী এনজিও পার্টনার করার কথা বলে ইসমাইল হোসেন মাস্টারের পরিবারের সাথে আত্মীয়তা গড়ে তোলেন এবং যাতায়াতের সুবাদে ওয়াহেদ আলী অতি কৌশলে ইসমাইল হোসেনের মাস্টারের জনতা ব্যাংকের একটি স্বাক্ষরিত চেক বই চুরি করেন। ব্যাংকের হিসাব নম্বর-১০০১৮৩৫১১৬৮২ ও নাগেশ্বরী থানার জিনিস নম্বর-৭২৮। চেক উদ্ধারে ইসমাইল হোসেন গত ২১জানুয়ারি লালমনিরহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে প্রতারক চক্রের মূল হোতা লালমনিরহাট সদরের কুলাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ও চর কুলাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলীর যোগসাজশে তার জামাতা প্রতারক ওয়াহেদ আলী লালমনিরহাট আদালতে ইসমাইলের নামে ৭০লাখ টাকার একটি অসত্য চেক ডিজাইনার মামলা করেন। যাহার মামলা নং- ২৪৮/২২। প্রতারক ওয়াহেদ আলী ৭০লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়নাগেশ্বরী থানার মামলা নম্বর-১২/২৩ এর প্রেক্ষিতে রংপুর র‌্যাব-১৩ এর একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে গত ৩০জানুয়ারী কুলাহাট বাজার থেকে প্রতারক ওয়াহেদ আলী কে গ্রেফতার করে নাগেশ্বরী থানায় সোপর্দ করেছে।

    র‌্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিডিয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লালমনিরহাট সদর থানার মামলা নম্বর-২৮/৭৯, তারিখ-১৮ফেব্রুয়ারী ২০১৩, ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন থানার মামলা নম্বর-২১, তারিখ-২০আগস্ট ২০০৮, লালমনিরহাট জেলার সদর থানার মামলা নং-৪১/১১৮, তারিখ-১৯ফেব্রুয়ারী ২০২০সালের মামলাগুলো বিচারধীন রয়েছে।

    ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা শিক্ষিত বেকার যুবক আমার বিশ্বাস করে ইসমাইল হোসেন মাস্টারের মাধ্যমে চর কুলাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলীর কথামতো ভাস্তি জামাতা ওয়াহেদ আলী মাস্টার এনজিও এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দেয়ার কথা বলে ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়ে আমাদের ৩০জনের কাছে ৭০লাখ টাকা নিয়েছে।

    মামলার বাদী ইসমাইল হোসেন মাস্টার বলেন, ওয়াহেদ আলী আমার মাধ্যমে ৩০জন কে চাকুরি দেয়ার প্রলোভন ও নিয়োগপত্র দিয়ে ৭০লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং আমার বিরুদ্ধে লালমনিরহাট আদালতে ৭০লাখ টাকার চেক ডিজাইনার মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করেন। আমি সব হারিয়ে এক নিঃস্ব। আমার মৃত্যুই একমাত্র পথ। আমি উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

    লমনিরহাট সদরের কুলাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ও চর কুলাহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলীর সাথে মুঠোফোন কথা হলে তিনি জানান, ওয়াহেদ আলী আমার ভাস্তি জামাতা ও আমার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বিষয়গুলো জানি। আদালত থেকে জামিনে বের করে তারপর বিষয়টি আপোষ করার চেষ্টা করবো।

    মাস্টারের মাধ্যমে নাগেশ্বরীর রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের মাধ্যমে প্রায় ৩০জন শিক্ষিত বেকারকে নিজস্ব এনজিও এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার কথা বলে নগত, বিকাশ ও ডাচ্ বাংলা হিসাব নম্বর- ৭০১৭৫১৫৬৮৫০৩, ৭০১৭৩১৮০৯৮২২১ মাধ্যমে ৭০লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইমেইলে মাধ্যমে ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়েছেন।

    নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ নবিউল হাসান বলেন, ওয়াহেদ আলী জেলার হাজতে রয়েছে। মামলা তদন্ত চলছে।

  • শেখ হাসিনা শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে কাজ করছে – বদিউল আলম

    শেখ হাসিনা শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে কাজ করছে – বদিউল আলম

    পটিয়া প্রতিনিধিঃ পটিয়া নির্মাণ শ্রমিক লীগের উদ্যোগে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্রমজীবি মানুষের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পটিয়া থানার হাট কিচেন মার্কেট সংলগ্ন নির্মাণ শ্রমিক লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

    পটিয়া পৌরসভা নির্মাণ শ্রমিক লীগের সভাপতি শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পটিয়া উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসহাক।

    প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ১২ পটিয়া আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মুহাম্মদ বদিউল আলম।

    প্রধান বক্তা ছিলেন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক ডি.এম জমির উদ্দিন।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা নির্মাণ শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আলম কন্ট্রাক্টর, সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ মাঝি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী মফিজুর রহমান, পটিয়া পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ সোহেল ইমরান, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ছৈয়দ, ভাটিখাইন ইউপি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, উপজেলা মৎস্যজীবি লীগের আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক ছোটন সরকার, শ্রমিক লীগ নেতা খোরশেদ আলম, সাইফুদ্দীন ভোলা, সাবেক যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, হাসান শরীফ, ইকবাল হোসেন, মোঃ মহিম, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম শাহীন, মোঃ সাইফুল ইসলাম জুয়েল, মোঃ আরিফ, আবদুল আউয়াল, ছৈয়দ নুর, বাদশা মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসাইন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বদি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে কাজ করছে। কিন্তু একটি মহল এখনো সরকারের বিরুদ্ধে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করতে হবে।

  • রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গরু চুরি বন্ধ হচ্ছে না

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গরু চুরি বন্ধ হচ্ছে না

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১০ লক্ষ মূল্যের চারটি গরু চুরি হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার রামনগর (হলের মোড়) কৃষক গোলাম মোস্তফার গোয়াল ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে দুইটি গাভীও দুইটি বাছুর চুরি করে পিকআপে করে নিয়ে যায়। এ সময় কৃষক মোস্তফার বাড়ীর দরজাতেও তালা দেয় চোররা।

    রামনগর গ্রামের এক নারী বলেন, রাতের বেলায় টয়লেটে যাওয়ার সময় দেখতে পায় যে মোটরসাইকেল ও পিকআপ দাড়ানো ছিল। ৬/৭ জন মেলে গরু গুলি পিকআপে তোলে রাজশাহীর দিকে চলে যায়। নারীর ধারনা মোস্তফা তার গরু বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে বলে ধারনা করে। কৃষক গোলাম মোস্তফা গোদাগাড়ী মডেল থানায় গরু চুরির অভিযোগ দায়ের করেছে।

    গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, গরু চুরি রোধে রাতের বেলা পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ চোরের দলকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং গরু উদ্ধারের পুলিশ চেষ্টা করছে।

    স্থানীয় লোকজন জানান, তিন মাসে আগেও রামনগর গ্রামের সইবুর রহমান তিনটি ও সুলতানগঞ্জ রফিকুল ইসলামের একটি গাভী একই কাদাই চুরি হয়। থানায় অভিযোগ হলেও এসব গরু গুলো এখনো উদ্ধার হয়নি

    স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গরু চুরির ঘটনা ঘটলে চোরদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি রোধে পুলিশের ভূমিকা অনেকটা রহস্যজনক। এভাবে গরু চুরি হতে থাকলে গ্রামের গরিব কৃষি পরিবার গুলো গরু লালন পালন বন্ধ করে দিবে। এতে কৃষি পরিবার ও দেশ দুইটি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং বেকারত্ব আরও বাড়তে থাকবে। এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় গরু চুরি ও প্রতিকার নিয়ে প্রায় আলোচনা হয় কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • ডিজিটাল সাউন্ডের মাধ্যমে পাখির নকল ডাকের ফাঁদে পাখি শিকার

    ডিজিটাল সাউন্ডের মাধ্যমে পাখির নকল ডাকের ফাঁদে পাখি শিকার

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা,খুলনা।। পাইকগাছায় শীত মৌসুমে পাখি শিকারের উৎসবে মেতেছে শিকারীরা।পাইকগাছা এলাকার বিভিন্ন আমন ক্ষেত, খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের থেকে শিকারীরা দেশি ও পরিযয়ী পাখি শিকার করছে।থানা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিকারীদের বিরুদ্ধে দু একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও যথাযথ তদারকি না থাকায় শিকারীরা নানা কৈৗশলে তৎপর রয়েছে পাখি শিকারে।
    উপজেলার বয়রা, কচুবুনিয়া, বাসাখালী, বাইসারাবাদ, তেঁতুলতলা, লতা, হানিমুনকিয়া, বাহিরবুনিয়া, দেলুটি, সোলাদানা, চকবগুড়া, খড়িয়া, অকাইবাসী, ঠাকুনবাড়ী, আমিরপুর, বাইনবাড়ীয়া, কুমখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান ক্ষেত, খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের রয়েছে। এ সব খাল বিলে শীত মৌসুমের শুরুতে কমবেশি পরিযয়ী পাখির আগমন ঘটেছে। সকাল হলেই পাখিরা এসব স্থানে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ সময় ঘেরে এলাকার লোকজন সহ সাধারণ শিকারীরা পূর্ব থেকেই ওই সব স্থানে বিভিন্ন মাছ ও ফড়িং জাতীয় প্রাণীতে বিষ মিশিয়ে ফাদ পেতে রাখে।
    শিকারীরা পাখি শিকারে অভিনব পদ্ধতি বের করেছে। এসব শিকারীরা সাধারণ মানুষের চোখ ফাকি দিতে রাত ৮টার পরে ধান ক্ষেত বা মৎস্য ঘেরে পাখির ডাকের ফাঁদ পেতে রেখে আসে এবং রাত ৪টার দিকে এ ফাঁদ তুলে আনে। ইন্টারনেট থেকে পাখির ডাক রেকর্ড করে সেই পাখির স্বর ধান ক্ষেতে সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে বাজিয়ে পাখি শিকারে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছে। সাউন্ড বক্সে পাখির ডাক শুনে পরিযয়ী ও স্থানীয় পাখিরা ফাঁদে গিয়ে ধরা পড়ছে। তাছাড়া দুই/তিন একর জুড়ে বাঁশ পুতে কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছে। এভাবেই শিকারীরা প্রতিদিন ফাঁদ ও বিষ টোপ দিয়ে পাখি শিকার অব্যাহত রেখেছে।
    পাখি শিকার যা দন্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দন্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে।
    এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তি অতিথি পাখির মাংস ও দেহের অংশ সংগ্রহ করে দখলে রাখে কিংবা বেচা-কেনা করে। তবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
    শীতের তীব্রতা সইতে না পেরে পরিযয়ী পাখিরা তুলনামূলক যে দেশে শীত কম সে দেশে চলে যায়। তাছাড়া তীব্র শীতে খাবারেরও অভাব দেখা যায়। অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে। সেই সাথে তুষারপাত। সব মিলিয়ে পাখিদের থাকা ও খাবার সংগ্রহ করা তুলনামূলক অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এসব পাখি আসে উত্তর মেরু, সাইবেরিয়া ইউরোপ, এশিয়ার কিছু অ ল ও হিমালয়ের আশপাশের কিছু এলাকা থেকে।
    বাড়িতে অতিথি আসলে যে কেউই খুশিতে থাকে। অনটন থাকলেও বাঙালি সর্বোচ্চ চেষ্টায় থাকে অতিথি আপ্যায়নে। তবে অতিথি পাখিদের সাথে ঘটে তার উল্টোটা। বন্দুকের গুলি, বিভিন্ন রকম ফাঁদ, বিষটোপ দিয়ে আমরা আপ্যায়ন করি অতিথিদের। আমরা অতিথি পাখি বললেও তারা মূলত আসে জীবন বাঁচাতে। অপর দিকে আমরা তাদের বাঁচতে না দিয়ে শিকারে মত্ত হই। প্রাণ বাঁচাতে এসে কিছু অসাধু ব্যক্তির হাতে প্রাণ হারাচ্ছে।
    সামান্য মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে পাখি নিধনে মত্ত হয়ে ওঠে। বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। কোনোভাবে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে খুব একটা বেগ পোহাতে হয়না। ২’শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত এসব পাখি বিক্রি হয়ে যায়।এক ধরনের অসাধু ব্যক্তি মুনাফার আশায় আইনকে উপেক্ষা করে এসব কাজ করে চলেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য এসব আইন থাকলেও কার্যকর খুব কম দেখা যায়।
    এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার ওসি মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, থানা পুলিশ পাখি শিকার বন্ধে সবসময় তৎপর রয়েছে এবং পাখি শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাখি শিকার বন্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সচেতন এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান থানা পুলিশের এ কর্মকর্তা।
    পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। পাখিরা শুধু প্রকৃতির শোভা বর্ধনই করে না, ভারসাম্যও রক্ষা করে। পোকামাকড় খেয়ে এরা কৃষকের উপকার করে। তাই পরিযয়ী পাখি শিকার রোধে প্রচলিত আইন জোরদার করা জরুরি। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশানকেও তৎপর থাকতে হবে।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • পাইকগাছায় সাদা ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ

    পাইকগাছায় সাদা ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ

    ইমদাদুল হক, পাইকগাছা,খুলনা।।
    পাইকগাছায় সাদা সাদা ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ। ডালের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফুল আর ফুল। এ সময় সজিনা গাছের পাতা ঝরে পড়ে। তাই পাতা শুন্য ডালে থোকা থোকা সাদা ফুলের শোভা দেখে সকলে মোহিত হচ্ছে।
    উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫ হাজার ৫ শত সজিনা গাছ আছে। প্রতি বাড়ীতে কমপক্ষে ৩/৪ টি গাছ রয়েছে। এসব গাছ বাড়ীর পাশে ও ক্ষেতের আইলে লাগানো। যতœ ছাড়াই এসব গাছ বেড়ে উঠেছে। গাছে ফলনও বেশী হয়। প্রতি বছর সজিনার শাখা বা ডাল রোপন করা হয়েছে। রোপনকৃত ডালের প্রায় ৩০ শতাংশ মারা যায়।
    দেশে ২টি জাত আছে, একটি হালো সজিনা ও আর একটি নজিনা। সজিনার ফুল আসে জানুয়ারীতে আর নজিনা ফুল আসে মার্চ মাস থেকে। তবে সব ফুল থেকে ফল হয় না। একটি থোকায় সর্বাধিক ১৫০টি মত ফুল ধরে। ফুল ৪০ সেঃ মিঃ থেকে ৮০ সেঃ মিঃ পর্যন্ত লম্বা হয়। ফুল ফুটার ২ মাস পর ফল তোলা যায়। একটি বড় গাছে ৪’শ থেকে ৫’শ ফল ধরে। প্রতিটি ফলে ৩০-৪০ টি বীজ হয়। দেশে সাধারণ ডাল কেটে ডাল রোপন করে সজিনা গাছ লাগানো হয়। ভারত থেকে হাইব্রিড সজিনার জাত এদেশে এসেছে। এ জাতের বীজ বপন করে লাগাতে হয়। হাইব্রিড জাতের সজিনা গাছে দু’বার ফুল আসে। ফেব্রুয়ারী-মার্চ ও জুন-জুলাই মাস। গত বছর উপজেলায় ২১ হাজার সজিনার ডাল রোপন করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭ হাজার ডাল জীবিত রয়েছে। সজিনার মৌসুম শেষে এ বছরও ডাল রোপন করা হবে। সজিনা চাষিরা উচ্চ মূল্য পাওয়ায় সজিনার ডাল রোপন করতে উৎসাহিত হচ্ছে। বসতবাড়ীর আশে পাশে রাস্তার ধারে ক্ষেতের আইলে লাগানো সজিনা গাছ যতœ ছাড়াই অবহেলার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। সজিনা পুষ্টি ও ভেজষ গুনে ভরা সবজি হিসাবে খুব দামী। সজিনার ব্যাপক চাহিদা ও উচ্চ মুল্যে বিক্রি হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা এখন পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে সজিনা গাছ লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে।
    সজিনা বিশ্বের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি বৃক্ষ। অলৌকিক গাছ হিসাবে সজিনা পরিচিত। ইংরেজিতে সজিনার নাম “ড্রামস্ট্রিক” যার অর্থ ঢোলের লাঠি। নামটি অদ্ভুত হলেও এটি এমটি অতিপ্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী উদ্ভিদ। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল, ব্যাকল ও শিকড় সবই মানুষের উপকারে আসে। সজিনার পুষ্টি গুন অনেক বেশী। এ গাছের অনেক গুন থাকায়, এ গাছকে যাদুর গাছ বলা হয়। কাঁচা সবুজ পাতা রান্না করে, ভত্তা করে ও বড়া ভেজে খাওয়া যায়। ফল সবজির মত রান্না করে খাওয়া যায়, ফল পাকলে সে সব ফলের বীজ বাদামের মতো ভেজে খাওয়া যায়। সজিনার পাতা, ফল, ফুল, বীজ, ছাল, মুলের ভেজষ গুনও আছে। তাই সজিনা গাছের বিভিন্ন অংশ ভেজষ চিকিৎসায় কাজে লাগে। সজিনার পাতার পুষ্টিগুন বেশী, যেভাবে খাওয়া হোক না কেন তা শরীরে পুষ্টি যোগাবে, আর ঔষধীগুন তো আছেই। সজিনার পাতায় যে পরিমাণ পুষ্টি রয়েছে তা অনেক পুষ্টিকর খাবারেও নেই। যেমন, ডিমের চেয়ে বেশী আমিষ, দুধের চেয়ে বেশী ক্যালশিয়াম, কমলার চেয়ে বেশী ভিটামিন সি, কলার চেয়ে বেশী ক্যালশিয়াম, গাজরের চেয়ে বেশী ভিটামিন এ আছে। তাছাড়া সজিনার পাতা গুড়ো করে খাওয়ায় অন্তত ১৬টি উপকারী কথা জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, চোখ ও মস্তিস্কের পুষ্টি যোগায় প্রভৃতি। সজিনা সবজি যেমন উপদেয় এর ভেজষ গুনও অসাধারণ। মৌসুমী নানা রোগব্যাধী নিরাময় ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে জন্ডিস, বসন্ত, মূত্র সংক্রান্ত সমস্যা প্রাচীনকাল থেকে সজনে নানা ব্যবহার করে আসছে ইউনিয়ানী ও আয়ূর্বেদ চিকিৎসকরা।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঠান্ডা-গরম, লবণ, খরা সহিষ্ণু এ গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। এ উপজেলার লবণাক্ত মাটিতে সজিনা আবাদ ভাল হচ্ছে। উপজেলার প্রতি বাড়ীতে কমবেশি ৫/৬টি করে সজিনা গাছ আছে। এ বছর সজিনা গাছে ব্যাপক ফুল ধরেছে। বড় ধরণের দূর্যোগ না হলে সজিনার বাম্পার ফলন আশা করা যায়। সজিনা পুষ্টিকর সবজি হিসাবে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে সজিনা ক্ষেত গড়ে তোলার জন্য উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে।