Author: desk

  • পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহে পরিকল্পিতভাবে   হত্যা করে রিয়াজকে

    পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে রিয়াজকে

    নাজিম উদ্দিন রানাঃলক্ষ্মীপুরে (কাঠমিস্ত্রী) ফার্ণিচারের নকশার কারিগর রিয়াজ হোসেন (২৫) হত্যার ঘটনায় কাউছার হোসেন ও রাকিব হোসেন নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। রিয়াজের সঙ্গে কাউছারের স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে সন্দেহে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটনা ঘটানো হয়। এরপর অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে রিয়াজের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অভিযুক্তরা।

    শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে র‍্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। র‍্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পে এ আয়োজন করা হয়।

    এর আগে তদন্ত ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শুক্রবার ভোরে মান্দারী ইউনিয়নের যাদৈয়া এলাকা থেকে কাউছারকে ও চট্টগ্রাম শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। কাউছার যাদৈয়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে ও রাকিব তেয়াওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের বিনোদধর্মপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কাউছার ও ভিকটিম রিয়াজ একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে। এ সুযোগের কাউছারের বাসায় তার আসা যাওয়া ছিল। এতে কাউছারের স্ত্রীর সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। এরমধ্যে কাউছার সন্দেহ করে তার স্ত্রীর সঙ্গে রিয়াজের পরকিয়া সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি অভিযুক্ত রাকিবকে কাউছার জানায়। এতে তারা রিয়াজকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মোবাইলফোনে কল করে মান্দারী বাজার এলাকার উম্মে সালমা ভবনে ভাড়া বাসায় কাউছার তাকে ডেকে নেয়। দুই মাস আগে তারা দুইজন ওই বাসা ভাড়া নেয়। এরপর চেতনানাশক ওষুধ মেশানো খাবার খাইয়ে রিয়াজকে অচেতন করা হয়। পরে হাতগপা বেঁধে মাথায় আঘাত ও নাকে-মুখে গামছা পেঁছিয়ে তাকে হত্যা করে অভিযুক্তরা। এরপরই তারা দরজার বাইরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। শুক্রবার ভোরে ভাড়া বাসা থেকেই রিয়াজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    এদিকে রিয়াজের মা খুরশিদা বেগম তার ছেলে অপহরণের বিষয়ে জানিয়ে র‍্যাবের কাছে সহযোগীতা চায়। তদন্ত ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথমে রিয়াজের সহকর্মী কাউছারকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। একই সঙ্গে হত্যাকান্ডে সহযোগী রাকিবের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে র‍্যাব-৭ ও র‍্যাব ১১ এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    র‍্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। ভিকটিমের মা খুরশিদা বেগমের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের চন্দ্রগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

  • বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির  শ্রদ্ধা নিবেদন

    বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    বিশেষ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।

    শনিবার দুপুরে সমিতির সভাপতি মোঃ মামুন শেখ ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কান্তি জয়ধরের নেতৃত্বে তারা জাতির পিতার সমাধি সৌধ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে পবিত্র ফাতেহা পাঠ করে বঙ্গবন্ধুসহ ৭৫ এর ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন তারা এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য, সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম খান, মাসুদ পারভেজ মিলন ও শেখ সোহেল রানা, কোষাধ্যক্ষ জাকির এইচ তালুকদার,দপ্তর সম্পাদক প্রদীপ কুমার জয়ধর (সুভাষ), জনকল্যাণ সম্পাদক এম শিমুল খান, সহ প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রহিমা খানম।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক পি আর বিশ্বাস ও সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মোশারফ হোসেন

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বিশ্রামাগারে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন।

  • ধর্মপাশায় এনজিও সংস্থা উপমা’র ২দিন ব্যাপী কর্মশালা ও ক্যাম্পেইন

    ধর্মপাশায় এনজিও সংস্থা উপমা’র ২দিন ব্যাপী কর্মশালা ও ক্যাম্পেইন

    শান্ত তালুকদার
    মধ্যনগর(ধর্মপাশা)প্রতিনিধি:

    সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বেসরকারী এনজিও সংস্থা উপমা- উন্নয়ন পরিকল্পনার মানুষ এর উদ্যোগে ২দিন ব্যাপী ছাগল পালন বিষয়ক কর্মশালা ও ক্যাম্পেইন অনুষ্টিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টায় উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে উপমার প্রধান কার্যালয়ে ২ দিন ব্যাপী কর্মশালা অনুষ্টিত হয়। পরিবার ভিত্তিক ছাগল পালন প্রকল্প, সহযোগিতায় বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন, বাস্তবায়নকারী সংস্থা উপমা- উন্নয়ন পরিকল্পনার মানুষ। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপমা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহফুজুর রহমান, সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এম এইচ তালহা চৌধুরীর সঞ্চালনায়, বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান বজলু রশিদ চৌধুরী, কোষাধক্ষ্য আমিনুল হক, নির্বাহী সদস্য মো: মফিল মিয়া, চিকিৎসক মো: বশীর আহমেদ প্রমূখ। অপর দিকে ছাগলের পিপিআর ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন শুভ উদ্ভোধন করেন সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহফুজুর রহমান। নির্বাহী পরিচালক তালহা চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে কাজ করি, যাতে তারা আত্ন কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি করতে পারে। উপমার চেয়াম্যান সৈয়দ মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের সংস্থা দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত দুই যোগ ধরে হাওরাঞ্চলের অসহায় দরিদ্রদের নিয়ে কাজ করে আসছি, কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ।##

    শান্ত তালুকদার
    মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

  • নীলফামারীর সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জে  থাই লটারির নামে চলছে প্রবাসী ঠকানোর প্রতিযোগিতা

    নীলফামারীর সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জে থাই লটারির নামে চলছে প্রবাসী ঠকানোর প্রতিযোগিতা

    খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

    প্রবাসীদের নিঃস্ব করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে নীলফামারী জেলা সদরসহ কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার ২নং কাশিরাম বেলপুকুর ইউপি, ৩নং নিতাই ইউপি, ৪নং বাহাগিলী ইউপি, ৫নং খাতামধুপুর ইউপি‘র অনেক দুষ্কৃতিকারীরা। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্রচলিত অনলাইন ভিত্তিক লটারী প্রতিযোগীতায় বিজয়ী নম্বর প্রদানের নামে সুকৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতানোর পর প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অর্থ আত্মসাধের হাজারো অভিযোগ উঠছে । প্রতারকদের চলাফেরার পরিবর্তন দীর্ঘদিন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তারা প্রতারিত অর্থ দিয়ে সপ্তাহে সপ্তাহে মোটরবাইক ক্রয় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে দামী দামী মোটরসাইকেল ব্যবহার, উন্নত বিল্ডিং বাড়ি নির্মাণ, নেশা দ্রব্য সেবন, অশ্লীল নারীদের নিয়ে আনন্দ ফুর্তি করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে হরহামেষাই ।

    ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সোস্যাল মাধ্যমে বিভিন্ন আকর্ষিত বিজ্ঞাপন বুষ্টিং এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনলাইন লটারির বিজয়ী নম্বর নিশ্চিতের নামে প্রতিশ্রুতিমুলক বক্তব্য দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশী প্রবাসীদের কাছ থেকে। আন্তর্জাতিক এসব জুয়ায় জেতার নির্ভুল ও সঠিক নাম্বার দিতে চেয়ে অগ্রিম অর্থ হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এই ডিজিটাল প্রতারকরা। প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে চক্রটি বিভিন্ন ইমো, হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জার ব্যবহার করে থাকে যার প্রমাণও মিলেছে। টাকা গ্রহণে তারা ভিন্ন নামীয় বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ব্যবহার করে থাকে।

    কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে ছলিমুদ্দির বাজারের অনলাইন ভিত্তিক লটারী- থাই ও টোট খেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে মজনু ইসলাম। এমন নিকৃষ্ট কাজে পিছিয়ে নেই কিশোর কিশোরীরাও। অভাবের সংসারে যেন আলাদিনের চেরাগ জ্বলছে। অবৈধ পথে এভাবে অর্থ আসাতে, পরিবার গুলোর পিতা-মাতারাও সমানতালে উৎসাহ দিচ্ছে।

    অনুসন্ধানে দেখা যায় , মজনু নামের এই ব্যক্তি বিকাশের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে প্রতারিত করছে এবং বিকাশের মাধ্যমে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুষ্টিং দিয়ে আকর্ষিত বিজ্ঞাপন ছাড়ছে আর ফাঁদে ফেলেছে বাংলাদেশ ছেড়ে প্রবাসে থাকা, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জনকারী হাজারও প্রবাসীদের ।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মজনু আরও জানান, প্রবাসীরা নাকি তাকে খুশি হয়ে টাকা দেয়। অন্যরা সবাই বুষ্টিং করে, তাই সেও করে। তাদের অনেকেই এখন এই অবৈধ পেশায় যুক্ত হয়ে উপার্জন করে ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। তার বোন এখন আর শ্বশুর বাড়িতে থেকে না, থাকে তাদের বাড়িতেই এবং প্রতারণার খেলায় তাকে সাহায্য করে। তার বাবা টাকা পেলে মহা খুশি হয়, এজন্য আর পড়াশোনাও করতে হচ্ছে না তাকে।

    মজনু আরও জানায়, আমাদের এলাকায় কেউ প্রশাসনকে ভয় করে না। সবাই সিস্টেম করে চলে। মামলা হওয়ার আগে আমাদের আগাম জামিন হয় হাইকোর্টে। কেউ আমাদের আটকিয়ে রাখতে পারে না। সে জোড় গলায় বলে, তারাগঞ্জ থানায় এজাহারভুক্ত আসামি থাইয়ের রাজা মতিয়ার ভাই, এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত পরশুদিনও মতিয়ারের দেখা হয়েছিল মজনুর সাথে।

    তারাগঞ্জ থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারাগঞ্জ থানায় গত ২৯শে ডিসেম্বর ২০২২ইং তারিখে থাইল্যান্ডের মুদ্রা (বাথ) জাল করে, সেই নোট দিয়ে প্রতারণায় জড়িতদের নামে একটি মামলা হয়। মূলত এসব জাল নোট দিয়ে চমকপ্রদ ও লোভনীয় ভিডিও তৈরি করত। তৈরিকৃত ভিডিও বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় বুস্টিং করে বোকা বানিয়ে নিঃস্ব করে দেয় প্রবাসীদের। প্রতারকদের ধরতে অভিযানও চলছে নিয়মিত ।

    প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের বিস্তারিত বর্ণনা খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্বের সংবাদে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হবে……

  • গমের কাঁচা-পাকা শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

    গমের কাঁচা-পাকা শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

    মোঃ‌লিটন মাহমুদ ,মুন্সীগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

    সবুজ মাঠের দিকে তাকালে দেখা যায়, গমের কাঁচা-পাকা শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। সোনালী রোদে চিকচিক করছে প্রতিটি গমের শীষ। আর কাঁচা-পাকা শীষের সাথে চাষির মন ও শরীরও দোল খাচ্ছে। সবুজ মাঠের দিকে তাকিয়ে কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। এযেন এক অনাবিল তৃপ্তির হাসি। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন পর জমি থেকে চাষিরা গম কাটা শুরু করতে পারবেন। আর তখন কৃষকের স্বপ্ন মিশে যাবে সোনালী গমের শীষে।

    রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম একটি লাভজনক আবাদ হচ্ছে গম। বর্তমানে গমের বাজার ভালো থাকায় গম চাষে লাভের আশা করছেন চাষিরা।

    এ বছর টঙ্গীবাড়ী উপ‌জেলায় গমের বাম্পার ফলন আশা কর‌ছেন কৃষ‌কেরা । গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর গমের ফলন বেশি ভালো হয়েছে। গম ক্ষেতে কোনো ধরণের রোগ-বালাই না হওয়ার কারণে বিঘা প্রতি আগের তুলনায় ফলন বেড়েছে।

    কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে ৪৫০ হেক্টর জমিতে কৃষক গম চাষ করেন। অধিকাংশ জমিতে কৃষক উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে পরিচিত বারি-৩০, ৩২ ও ৩৩ রোপণ করেছেন। এছাড়া বারি-২৫, ২৭ ও ২৮ জাতের গমও চাষ করা হয়েছে। গমের ১০টি প্রদর্শনী প্লটও রয়েছে।

    অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি ও পরামর্শে গম ক্ষেতে কোনো রোগবালাই ছিলো না। তাই গমের বাম্পার ফলন পাওয়ার ব‌্যপা‌রে কৃষক‌েরা খুবই আশাবা‌দি ।

    টঙ্গীবাড়ী উপজেলার যশলং ইউ‌নিয়নের বায়হাল, , নয়াকান্দী,চর বশনাল,ধীপুর ইউ‌নিয়‌নের রায়‌ভোগ,মটুকপুর,বেতকা ইউ‌নিয়‌নের বেতকাচক সহ অন্যান্য ইউনিয়নেও বিক্ষিপ্তভাবে গমের আবাদ হয়েছে। তবে নয়াকান্দী ,আটখান ,বায়হালচ‌কে গমের আবাদি বেশি হয়েছে।

    নয়াকান্দী,চর বশনাল,রায়‌ভোগ গ্রামের গমচাষি ইলিয়াস কাঞ্চন, আব্দুল মতিন, বাবুল, ইসলাম উদ্দিন, আব্দুস সামাদ, আবু তাহের, ইদ্রিসসহ অনেকেই জানান, বিগত সময়ের চেয়ে এবার গমের দানা খুব ভালো এসেছে। প্রতিটি শীষ অনেক বড় হয়েছে। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত গমের অনুকূলে থাকে ও গমের বাজার ভালো থাকে তাহলে চাষিরা লাভবান হবেন।

    গম চাষে বীজ, কীটনাশক ও দিনমজুরসহ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হলেও বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ মণ গম পাবেন বলে জানান চাষিরা। প্রতি মণ গম বর্তমান বাজার দর ১ হাজার ২ শত টাকারও বেশি, তাই বিঘা প্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকার গম বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান কৃষকেরা।

    গম চাষ একটি অধিক লাভজনক আবাদ। গম চাষে তেমন পানি, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না এতে খরচ অনেক কম। আর কম পরিশ্রমে অধিক লাভ করা যায়। এছাড়াও গমে পোকা-মাকড়ের আক্রমণও তেমন একটা হয় না। গম গাছ জ্বালানি ও বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃজয়নুল আলম তালুকদার বল‌েন,গত বছরের চাইতে এবছর হেক্টরপ্রতি ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজার দর ও ফলনও ভালো হয়েছে। তাই চাষীরা অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বেশি লাভবান হবেন। চাষিরাও এবার আশাবাদী।

  • ফারিয়ার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২৩ কক্সবাজার জেলায় অনুষ্ঠিত

    ফারিয়ার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২৩ কক্সবাজার জেলায় অনুষ্ঠিত

    বিশেষ প্রতিনিধিঃ

    কক্সবাজার জেলার ফারিয়ার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল ১৭ ই ফেব্রুয়ারি রোজ শুক্রবার কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এঅনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

    এসময় সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত কক্সবাজার জেলা ফারিয়ার সভাপতি হিসেবে জনাব রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন মোঃ আনসার উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত মোঃ সালে আহমেদ।

    অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফারিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফারিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ শফিক রহমান।

    বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন ফারিয়ার কেন্দ্ৰীয় কমিটির উপদেষ্টা মহিউদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ফারিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া।

    ফারিয়ার কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের এর সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা ফারিয়ার সভাপতি রফিকুল ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফারিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব হাবিবুর রহমান বিশেষ বক্তা ফারিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জুয়েল খান

    সম্মানিত আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলার আর এস এম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পার্থ প্রতিম দাশ এবং কক্সবাজার জেলার আর এস এম এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ প্রমুখ।

  • একুশে পদকে ভূষিত  দৃ‌ষ্টি প্র‌তিবন্ধ‌ি সাইদুল হক চুন্নু

    একুশে পদকে ভূষিত দৃ‌ষ্টি প্র‌তিবন্ধ‌ি সাইদুল হক চুন্নু

    একু‌শে পদক ২০২৩ পদ‌কে ভু‌ষিত হয়েছেন সাইদুল হক চুন্নু‌। তিনি সমাজ সেবা ক্যাটাগরিতে একু‌শে পদক ২০২৩ পদ‌কে ভু‌ষিত হন।
    ১৯৮৫/৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে ভর্তি হয়ে সবচেয়ে বেশি বিস্ময় সৃষ্টি করেন তিনি। কারন শিশুবস্থায় সে তার দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেন। বলতে গেলে একরকম তিনি ছিলেন জন্মান্ধ।
    সকলের বিস্ময়ের কারণ হতে পারে একজন অন্ধ মানুষ লেখাপড়া কিভাবে করে তাও আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। তিনি মূলত ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করেন। সাইদুল হক চুন্নু‌ তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মু্হসিন হলের আবাসিক ছাত্র। ৮০ এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হল যেন ছিলো এক আগ্নেয়গিরি।
    এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, সংগ্রাম, গোলাগুলি, বোমাবাজির মাঝ দিয়েই দুঃসহ কষ্টের জীবন ছিলো চুন্নুর। তার মধ্যেও অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় যারা সবচেয়ে ভাল রেজাল্ট করল তাদের মধ্যে চুন্নু ছিলো অন্যতম। পরবর্তীতে তিনি লেখাপড়া শেষ করে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে সুনাম কুড়িয়েছেন দেশ বিদেশে। এছাড়াও তিনি জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সাবেক সভাপতি ছিলেন। সাইদুল হক চুন্নু‌র প্রতিবন্ধী নিয়ে সারাদেশে কাজ করতে প্রতিষ্ঠা করেছেন বার্ডো (Berdo) নামে একটি সংস্থা যা দেশে দারুন কিছু কাজ করে সুনাম অর্জন করেছেন।

    সাইদুল হক চুন্নু‌র মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন মানুষ।
    তিনি খুবই সাদামাটা। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি
    সমাজ সেবা ক্যাটাগরিতে একু‌শে পদক ২০২৩ পদ‌কে ভু‌ষিত হয়েছেন। তবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের এত বড় সাফল্য লাভ যা ইতিহাসে বিরল ও স্বরনীয় হয়ে থাকবে।

  • পাইকগাছায় রাস্তার মাঝে বৈদ্যুতিক  খুঁটি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

    পাইকগাছায় রাস্তার মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

    পাইকগাছা ( খুলনা। ) প্রতিনিধি ।।
    খুলনার পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ভড়েঙ্গারচক (খড়িয়া মিলন বিথী প্রাথমিক ও খড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ) সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়ক পাকা করা হয়েছে।
    এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। তা ছাড়া বৈদ্যুতিক এ খুঁটি রাস্তার মাঝে হওয়ায় যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য চার মাস আগে সড়কটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। সড়কটির মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
    পাইকগাছা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি জোনাল অফিসের ডিজিএম রেজাায়েত আলী বলেন খুঁটি সরানোর জন্য লিখিত কোনো আবেদন আমরা হাতে পায়নি। নিয়ম মোতাবেক বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য আবেদন করতে হয়। রাস্তা নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো আবেদন করেনি। লিখিতভাবে আবেদন করলে খুঁটি সরানোর ব্যবস্থা নেব।
    এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান খাঁন বলেন বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। অল্প সময়ে খুটিটি অপসারণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী তীর্থক্ষেত্র তাঁরক গোঁসাইয়ের বাড়ি সেজেছে অপরুপ সাজে

    নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী তীর্থক্ষেত্র তাঁরক গোঁসাইয়ের বাড়ি সেজেছে অপরুপ সাজে

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী তীর্থক্ষেত্র তাঁরক গোঁসাইয়ের বাড়ি সেজেছে অপরুপ সাজে। বাংলা কবিগানের অন্যতম পথিকৃৎ কবিয়াল তাঁরক গোসাইয়ের ১০৮ তম তিরোধান দিবস শনিবার। এ উপলক্ষে নড়াইলের লোহাগড়ার কবিধাম জয়পুর গ্রামে দু’দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,
    অনুষ্ঠান মালার মধ্যে রয়েছে শনিবার শুভ অধিবাস ও রবিবার মহোৎসব। তিরোধান দিবস কে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার ভক্ত অনুরাগী কবিধাম জয়পুর গ্রামে আসতে শুরু করেছেন। গোঁসাইবাড়ি সেজেছে অপরুপ সাজে। এ উপলক্ষে গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুুর গ্রামের ‘গোঁসাইবাড়ি’ একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থক্ষেত্র। গোঁসাইবাড়ি দেশের মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে অতি পরিচিত ও পূজনীয় নাম। এমন কোন মতুয়া খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি লোহাগড়ার জয়পুর গ্রামের গোঁসাই বাড়ি দর্শন করেন নাই। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জীবন্ত কিংবদন্তী এই গোঁসাই বাড়ি।
    ইতিহাস থেকে জানা গেছে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। ছোট, শান্ত ও শীর্ণকায় বহমান নবগঙ্গা নদীর উত্তর-পশ্চিম পাড়ে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গোঁসাইবাড়ি। লৌকিক সংস্কৃতির লীলাভূমি এই গোঁসাইবাড়ি। আর এই জয়পুর গ্রামে বাংলা ১৯৫২ সালের ১৫ অগ্রহায়ণ অমাবস্যা তীথিতে জন্মগ্রহণ করেন মতুয়া ধর্মের অন্যতম ধর্মগুরু যোগসিদ্ধ মহাপুরুষ তারক চন্দ্র সরকার। ভক্তকুলে তিনি ‘তারক গোঁসাই’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে ছিলেন।
    তার পিতার নাম কাশীনাথ সরকার ও মাতার নাম অন্নপূর্ণা সরকার। কাশিনাথ ছিলেন একজন পেশাদার শিল্পী। কবিগান গেয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। এজন্য তিনি কবিগানের একটি দল গড়ে ছিলেন। এ গান গেয়ে তিনি বেশ সুনাম কুড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু কাশীনাথ ও অন্নপূর্ণার ঘরে কোন সন্তান ছিল না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। দীর্ঘদিন ধরে কোন সন্তান-সন্ততি না থাকায় কাশীনাথ ‘পুত্রেষ্টী’ যজ্ঞ করেন এবং পরবর্তীতে অন্নপূর্ণার গর্ভে তারক গোসাই জন্মগ্রহণ করেন।
    তারক গোঁসাই ছিলেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। সুদর্শন ও সৌম্যকান্তি তারক গোঁসাই বাল্যকাল থেকেই মানব সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। গায়ক পিতা কাশিনাথ কথনোই চাননি, তারক গায়ক হোক। তিনি চেয়ে ছিলেন, সে লেখাপড়া শিখে অন্য কোন পেশায় নিয়োজিত হোক। এজন্য তারককে পাশের গ্রাম ছাতড়ার পাঠশালাই ভর্তি করা হয়।
    কাশীনাথের বাড়ির সামগ্রীক পরিবেশ পরিস্থিতি ও অন্য কবিয়ালদের আগ্রহে ছোট বেলা থেকেই তারক গোঁসাই সংগীতের সাথে জড়িয়ে পড়েন। আশে পাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তার গানের সুনাম। তিনি বহু কবিগান ও কবিতা রচনা করে ছিলেন। এতদাঞ্চলের নিম্নবর্ণের মানুষের কাছে তিনি ‘দেবদূত’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
    পিতা কাশীনাথ মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরেন তাঁরক গোঁসাই। পুরোপুরি লেগে পড়েন কবিগানের দল নিয়ে। নিজেই দল গড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে কবিগান গাইতে শুরু করেন। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে কবিয়াল তারক গোঁসাইয়ের নাম ও খ্যাতি।
    তিনি শুধু কবিগানই গাইতেন না, তিনি অজগ্র কবিগান রচনা করেছিলেন। নিজের লেখা কবিগান গুলো সুর দিয়ে ছন্দের তালে হৃদয়গ্রাহী করে তোলেন। অপূর্ব সুরের জাদুকরী কন্ঠের অধিকারী ছিলেন তারক গোঁসাই। কবিগানের অন্যতম দিকপাল তারক গোঁসাই রচিত কবিতা ও কবিগানের সংখ্যা দু’সহগ্রাধিক। বাংলা ১৩২১ সালের ১৭ ফাল্গুন শিব চতুদর্শীর রাতে তাঁরক গোসাই ইহলোক ত্যাগ করেন।
    কবি রসরাজ তাঁরক গোঁসাই এর স্মৃতি বিজড়িত জয়পুর পরশমনি মহা শশ্মান ও শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা মন্দির আজও স্ব মহিমায় ভাস্বর। এই দুই তীর্থক্ষেত্রে তীরধান দিবস উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
    জয়পুর মহাশশ্মানের সাধারণ সম্পাদক কানু দাস বলেন, ” এ বছর মহাসাধক তাঁরক গোঁসাইয়ের তিরোধান দিবসে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের আগমন ঘটবে। তাদের সেবায় পরশমণি মহাশশ্মানের স্বেচ্ছাসেবকরা ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে”।
    শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা মন্দির পরিচালনা পর্ষদের প্রচার সম্পাদক কাজল পাল বলেন, ” আগত ভক্ত অনুরাগীদের সেবা দানের জন্য মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে সকল প্রস্ততি
    গ্রহন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারক ধামের অন্যতম কর্ণধার পরীক্ষিত শিকদার বলেন, ‘তারক গোঁসাইয়ের জন্ম ও মৃত্যুতিথীর অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় ভাবে পালনের দাবি জানান।

  • সুজানগরে কোমলমতি শিশুদের নিয়ে যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী  উদযাপন

    সুজানগরে কোমলমতি শিশুদের নিয়ে যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধিঃ দৈনিক যুগান্তর দুই যুগে পদার্পণ উপলক্ষ্যে পাবনার সুজানগরে কোমলমতি শিশুদের নিয়ে কেক কেটে ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। শিশুদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুক্রবার এ ব্যতিক্রম আয়োজন করা হয়। এসময় কেক কেটে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে কোমলমতি শিশুরা। পরে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সভাপতি অধ্যক্ষ নাদের হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত বাচ্চুর স ালনায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের সুজানগর উপজেলা প্রতিনিধি ও স্বজন সমাবেশের উপদেষ্টা এম এ আলিম রিপন। অনুষ্ঠানে আ.লীগ নেতা আব্দুল জলিল বিশ্বাস, এন এ কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল হাশেম,উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, আবুল কাশেম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সানজিদা ইয়াসমিন টুম্পা, সাতবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আসলাম উদ্দিন, সাতবাড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন,যায়যায়দিনের উপজেলা প্রতিনিধি এম.মনিরুজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেহেদী মাসুদ ও মো. রাকিবুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, পৌর কাউন্সিলর জায়দুল হক, কানাডা প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, স্বজন সমাবেশের ক্রীড়া সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন,প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন, অর্থ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম যাদু, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, পাঠচক্র সম্পাদক আলামিন শেখ, আব্দুস সবুরসহ স্বজন সমাবেশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, জীবন বাজি রেখে দেশপ্রেমে আকৃষ্ট হয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা অর্জনে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত নুরুল ইসলামের ত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তার রেখে যাওয়া যমুনা গ্রুপ, যুগান্তর লাখো মানুষের কর্মসংস্থান করে গেছেন তা আজীবন এ দেশের মানুষ মনে রাখবে। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন,দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে আপসহীনভাবে পথ চলে এ পর্যায়ে পৌঁছতে পেরেছে দৈনিক যুগান্তর। আগামী দিনেও সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকবে বলে প্রত্যাশা রাখেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলাম বলেন,‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’ স্লোগানে দৈনিক যুগান্তর দুই যুগের অভিযাত্রায় বি ত মানুষের মুখপত্র হিসেবে অন্যায়, অবিচার, অনিয়মসহ নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছে। সত্য প্রকাশে অবিচল থেকেছে। ফলে শুরু থেকেই যুগান্তর পাঠকের অন্তর জুড়ে ঠাঁই করে নিয়েছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।