Author: desk

  • মুক্তবিহঙ্গ খাগড়াছড়ি শাখার বার্ষিক বনভোজন ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে

    মুক্তবিহঙ্গ খাগড়াছড়ি শাখার বার্ষিক বনভোজন ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে

    মিঠুন সাহা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

    মুক্তবিহঙ্গ আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আয়োজনে বার্ষিক বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৩ সম্পন্ন হয়েছে।

    শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১ টার সময় খবংপড়িয়া রিভার ভিউ নামক একটি পর্যটন স্পটে সারাদিন ব্যাপি এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে উপস্থিত ছিলেন মুক্তবিহঙ্গ মুক্তচিন্তার আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ এর প্রধান সমণ্বয়ক মুর্তজা পলাশ,আন্তর্জাতিক কমিটির সভাপতিমন্ডলির সদস্য ও বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী আবুল কাশেম,মুক্তবিহঙ্গ খাগড়াছড়ি শাখার নেতৃবৃন্দ আবদুর রহমান,ডাঃশহিদুল্লাহ,
    মোঃজাফর উল্যা, নিয়ন মারমা,নুরুল ইসলাম (টুকু),মিঠুন সাহাসহ প্রমুখ।

    এতে সারাদিন ব্যাপি গান,আবৃত্তি ও বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে বনভোজন এর সমাপ্তি হয়।।

  • বঙ্গোপসাগরে জেলে ট্রলারে ডাকাতের গুলি,  নিখোঁজ ৯ জেলে

    বঙ্গোপসাগরে জেলে ট্রলারে ডাকাতের গুলি, নিখোঁজ ৯ জেলে

    পাথরঘাটা (বরগুনা)প্রতিনিধি : বরগুনার পাথরঘাটা থেকে প্রায় এক’শ কিলোমিটার দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে ১টি মাছ ধরা ট্রলারে সশস্ত্র ডাকাত জলদস্যুদের হামলার খবর পাওয়া গেছে । ট্রলারের ১৯জন জেলের ওপরে অতর্কিত গুলি চালিয়ে এবং ধারালো দেশি অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ৯ জেলেকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেছে ওই জলদস্যুরা।

    গোলাগুলিতে ৩ জেলে গুরুতর আহত হন। তারা হলেন মোঃ খোকন মাঝি (৪২) বরগুনা সদর,মোঃ মধু-(৩০) বরগুনা সদর, মোঃ আব্দুল হক-(৫০) বরগুনা।
    এদের মধ্যে খোকন মাঝির মাথার ডান কান ঘেষে গুলি স্লিপ করে গেছে। মধু মাঝির ডান চোখ গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং
    আব্দুল হকের ডান হাতের দুটি আঙ্গুল কেটে গেছে। আহত জেলেরা বর্তমানে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    এছাড়াও ৯জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজ জেলেরা হলেন,
    কাইউম জোমাদ্দার (৩৫) ইয়াছিন জোমাদ্দার (৩২),
    আবুল কালাম (৫৮),শফিকুল মাঝি (৩৫),খাইরুল ইসলাম (৪০),আবদুল আলীম (৫৫),ফরিদ (৩৮), আবদুল হাই (৪০)।
    নিখোজ জেলেদের বাড়ি বরগুনা-পাথরঘাটা-তালতলী র বিভিন্ন এলাকায়।

    নিখোজ অপর এক জেলের নাম জানা যায়নি।

    ঘটনার সময় জীবন বাঁচাতে গভীর সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে ছেন কমপক্ষে ৯জন জেলে। রাতে এ রিপোর্ট তৈরি কাল তারা নিখোঁজ রয়েছে মর্মে খবর পাওয়া গেছে। দস্যুরা ট্রলারের সকল মালামাল ও রসদ লুটে নিয়ে বীর দর্পে চলে যায় বলে উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানিয়েছেন।

    শনিবার রাতে পাথরঘাটা থেকে আনুমানিক ১’শ কিলোমিটার দক্ষিন-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে পায়রা বন্দর থেকে পশ্চিমে এই দুর্ধর্ষ ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায় ।

    শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে এঘটনা ঘটলেও শনিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন ।

    এদিকে এঘটায় র‌্যাব-৮ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ বলেন, সাগরে জলদস্যুদের আক্রমণের কোনো খবর এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। তবে মৎস্যজীবি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ।

    এদিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় জমখ ৯ জেলেকে উদ্ধারে ট্রলার নিয়ে সমুদ্রাভিমুখে রওয়ানা হয়েছেন তাদের স্বজন সহ মৎস্যজীবীরা ।

    জেলা মতস্যজীবী টলার মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার উদ্দেশে বরগুনার চরকগাছিয়া গ্রামের মনির হোসেনের এফবি ভাই ভাই ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যাত্রা করে ১৯ জেলে। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে জলদস্য ডাকাতের ট্রলার থেকে গুলি ছোড়া হয়। এসময় জেলেদের কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। দস্যুদের হামলার শিকার হয়ে ৯ জেলে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়।

    গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আরও বলেন, প্রত্যেক জেলেই গুলিবিদ্ধ ও কুপিয়ে জখম হয়েছে। এর মধ্যে খোকন, মধু ও আব্দুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    অমল তালুকদার।।

  • রত্নগর্ভা হোসনে আরা বেগমের দাফন সম্পন্ন

    রত্নগর্ভা হোসনে আরা বেগমের দাফন সম্পন্ন

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের (পশ্চিম বোয়ালিয়া) সাবেক সহ-সভাপতি
    বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক আলহাজ্ব আবুল বাসার সুজন ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক আলহাজ্ব আবুল খায়ের সুমনের মা ও আলহাজ্ব আব্দুস সামাদের স্ত্রী রত্নগর্ভা হোসনে আরা বেগম (৫৫) গত ১৭ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেল ৪.৪৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
    এদিকে ১৮ ফেব্রুয়ারী শনিবার বাদ যোহর সপুরা শাহী জামে মসজিদ সংলগ্ন মরহুমের জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। স্বরণকালের সর্ববৃহৎ এই জানাযায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল ও তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নাপ্রমুখ।
    এছাড়াও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গগণ উপস্থিত ছিলেন। এসময় আবুল খায়ের সুমন ও আবুল বাসার জন্য তার আম্মার জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

  • পাইকগাছায় গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি’র পরিচিত সভা ও গ্রাম ডাক্তার সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছায় গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি’র পরিচিত সভা ও গ্রাম ডাক্তার সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
    বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির খুলনার পাইকগাছা উপজেলা কমিটির পরিচিত সভা ও গ্রাম ডাক্তার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার সকালে পাইকগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম।
    মুখ্য আলোচক ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওসি (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র শেখ মাহাবুবর রহমান রঞ্জু, বাংলাদেশ কেমিষ্ট এ্যান্ড ড্রাগিষ্ঠ সমিতির পাইকগাছা-কয়রার সমন্বয়কারী প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক বুলি, কেমিষ্ঠ সমিতির উপজেলা সাধারন সম্পাদক কাজী মিজানুর হোসেন, পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এম মোসলেম
    উদ্দীন আহমেদ, সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ ও যুগ্ম সম্পাদক এন ইসলাম সাগর।
    গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির উপজেলা সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক তৃপ্তি রঞ্জন সেন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শংকর কুমার দেবনাথ, মোঃ মিজানুর রহমান, পুর্ণ চন্দ্র মন্ডল, জয়দেব কৃষ্ণ রায়, গোবিন্দ লাল মন্ডল, মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল, নিজামুল হক, মানষ কুমার মন্ডল, বাসুদেব রায়, লতিফুর রহমান, ইয়াছিন আলী, নিরাঞ্জন মল্লিক, মনোরঞ্জন রায়, রেজাউল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, পীযুষ কান্তি সানা, নরেন্দ্র নাথ রায়, বাসুদেব কবিরাজ, পবিত্র সরকার, আঃ করিম মোড়ল, মোঃ শফিকুল ইসলাম, আাঃ গণি প্রমুখ। আলোচনা সভা পুর্বে একটি বণ্যাঢ্য র‍্যালি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • তেঁতুলিয়ায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ,  অবরুদ্ধ ৯ পরিবার

    তেঁতুলিয়ায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, অবরুদ্ধ ৯ পরিবার

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সরকারি জমিতে (বরেন্দ্রের নালার ধারের উপর দিয়ে) নির্মিত ৯পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার লিখিত অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে ওই পরিবারগুলো। উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের আইড়াখুড়ি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার প্রায় দেড় মাস পর শেষ পর্যন্ত উপায় অন্ত না পেয়ে ৯পরিবারসহ ১৯জন ভুক্তভোগী নিবেদক হয়ে ৬জনকে বিবাদী করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে গত ২৬ জানুয়ারি একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

    বিবাদীরা হলেন, ওই গ্রামের মৃত খাটু মোহাম্মদ ছেলে মোঃ সহর আলী, মোঃ শহর আলী ছেলে মোঃ তরিকুল ইসলাম ও মোঃ তহিদুল ইসলাম, মৃত এজার উদ্দিন ছেলে মোঃ এনামুল হক, আকবর আলী ছেলে মোঃ লিটন এবং পিন্টু।

    সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে বিবাদীদেরকে ৭দিনের ভিতর রাস্তার অবৈধ দখল ছাড়ার জন্য নোটিশ দেয়া হলে তাঁরা আরও উগ্র মেজাজী হয়ে উঠে। এদিকে রাস্তার সাইটে আবাদী জমির আইল দিয়ে চলাচল করলে সেটাও পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। বর্তমানে ভুক্তভোগীগণ তাদের চলাচলের যানবাহন (সাইকেল, অটোভ্যান) অন্যের বাড়িতে রেখে আবার অন্যের আবাদী জমির সরু আইল দিয়ে চলাফেরা করছেন।

    ‘প্রায় ১০/১২ বছর আগে পৈতৃক এবং কিছু জমি কিনে বাড়ি করছি। তখন রাস্তা দেখে জমি কিনি। কিন্তু এখন চলাচলের রাস্তাটি একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অটোভ্যান অন্যের বাড়িতে রেখে বাজার থেকে জিনিসপত্র কিনে তা মাথায় করে অনেক ঘুরে বাড়িতে ঢুকতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের আইড়াখুড়ি গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলী হোসেনের ছেলে আনারুল আক্ষেপ করে এসব কথা বলেন।

    সরকারি ঘরপ্রাপ্ত বিধবা বিলকিস বলেন, আমি বাইরে কাজ করে বাড়িতে আসাতে হয় অন্যের আবাদী জমির সরু আইল দিয়ে। এটা অনেক কষ্টকর। এ যুগেও এ ধরনের আচরণ করে মানুষ, তা ভাবা যায় না। জাহেলিয়াতের যুগের মতো আচরণ করছে তারা। আমরা যে কী মানবেতর জীবনযাপন করছি, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। ’

    কাদের নামে অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কথা বলার জায়গা নেই। ভ্যান চালিয়ে খাই। অনেক হাত-পা ধরেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ওরা দাবি করছে রাস্তার জায়গা ওদের। রাস্তার ওপর বেড়া লাগিয়ে রাস্তা আটকে রেখেছে। মানুষ মরলে লাশ নিয়ে যাওয়ার মতো জায়গা নেই। রাস্তার জমি সরকারি তা তারা মানতে রাজি না।’

    ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী আকালু বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছরের পুরানো রাস্তা এটি। এই রাস্তা দিয়ে আমরা ঈদগাহ ময়দানে যায়। যখন এখানে অবদার কাজ হয় তখন আমি এই অবদাতে কাজ করেছি। অভিযুক্তরা এই অবদার খেসারত খেয়েছে। তিনি আরও বলেন- মৃত খাটু মোহাম্মদের ছেলে শহর আলী, শহর আলীর ছেলে তরিকুল ইসলাম ও তহিদুল এখন রাস্তাটি নিজেদের বলে দাবি করে রাস্তা আটকে দিয়েছেন। এ কারণে আমরা আশপাশের আবাদী জমির সরু আইল দিয়ে যাতায়াত করছি। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ৯-১২টি পরিবারের সদস্যরা বেকায়দায় পড়েছেন।’

    অবরুদ্ধ এসব পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘এখানের প্রায় সবাই খেটে খাওয়া দিনমজুর। সবাই শান্তিপ্রিয় গরিব মানুষ। যারা রাস্তাটি বন্ধ করেছেন, তাঁরা স্থানীয় প্রভাবশালীর বুদ্ধিমত্তায় লাফিয়ে উঠেছেন। প্রায় সময় তাঁরা আামাদের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে আসছেন। এবারে তাঁরা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে আনারুলের ক্রয়কৃত শহর আলীর জবর দখলে থাকা জমি বের করে নেয়ায়, হঠাৎ করে তাঁরা তাদের জমি দাবি করে রাস্তাটি দখল করে নেন। এ কারণে চলাচল করতে পারছি না আমরা।’ এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে অভিযোগ দিয়ে কোন ফলাফল পাইনি।

    অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম বলেন, আনারুল নামে ব্যক্তি এই রাস্তা দিয়ে ১০ বছর ধরে চলাচল করছে। সে আমাদের কাছ থেকে জমি বের করে নিয়েছে তাই আমরা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। কেউ কারো রাস্তা বন্ধ করে দেয়া কেমন দেখায় জিজ্ঞাসায় তিনি বলেন, রাস্তার জমি আমাদের ক্রয়কৃত এবং আমাদের নামে পর্চা হয়েছে। তাই আমরা রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছি।
    উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সর্দারপাড়া মৌজার জে এল নং- ২৪ এর এস.এ ৩৫৪ নং খতিয়ানের এস.এ ৫১৫১, ৫১৬২ ও ৫১৬৩ নং দাগসহ আরও অন্যান্য দাগ মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক এর বিএস রেকর্ডীয় হাল ৬৩৯৮ নং দাগের নালা শ্রেণিভুক্তে ৭৮শতাংশ জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল গণি বলেন, তিনি নোটিশ পেয়ে সরেজমিনে গিয়েছেন। রাস্তা এখনো খুলে দেওয়া হয়নি মর্মে প্রতিবেদনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনারকে জানাবেন।

    এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, অভিযোগ পেয়ে নোটিশ জারী করা হয়েছে। বন্ধকৃত চলাচলের রাস্তার দখল ছেড়ে না দেয়া হলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রতিবেদন পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • রাজশাহী আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিল

    রাজশাহী আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিল

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিএনপি-জামাত অশুভ শক্তির সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, ষড়যন্ত্র এবং অপরাজনীতির বিরুদ্ধে শান্তি মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে।
    জানা গেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারী শনিবার রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক জননেতা আব্দুল ওয়াদুদ দারার নেতৃত্বে একটি বিশাল শান্তি মিছিল
    নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে
    রানীবাজার আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়। শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা। অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জাকিরুল ইসলাম সান্টু, জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ, জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি জিমি কাটার রনি ও সম্পাদক মাহাবুর রহমান মাহামপ্রমুখ।

  • বানারীপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা আবাসনের নিম্মমানের কাজ- দালানে ফাটল

    বানারীপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা আবাসনের নিম্মমানের কাজ- দালানে ফাটল

    এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ সংবাদদাতা।।
    বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার মিস্ত্রির সরকারি আবাসনের দালানটির নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতে ফাটল দেখা দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার মিস্ত্রি এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার মিস্ত্রি সরেজমিনে জানান, গত এক বছর ধরে ঠিকাদার আমার দালানের কাজ শুরু করে। কাজের ক্ষেত্রে অনেক তাল বাহানা করে নিম্মমানের ইট সহ অন্যান্য সরম্জাম দিয়ে কাছ করে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
    বর্তমানে দালানের দুই কোনায় ভাটল দিয়েছে।
    এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন পিআইও এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জগন্নাথ দেবনাথ এবং পিআইও অফিসের ওয়াচার বাবুল তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ত্রুটিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করেন। ঝালকাঠির অগ্রণী ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার মো: সফিকুল ইসলাম (মন্টা) ঐ কাজ ক্রয় করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা তার সহকারী সুবল দাস জানান, আমরা ঠিক মতই কাজ করেছি। ঐ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ সাইটে মালামাল নিতে সমস্য হওয়ায় কিছুটা দেরী হয়েছে।

    ঐ কাজের মূল ঠিকাদার সৈয়দ মুজিবুল ইসলাম টুকু জানান, যে সমস্যা হয়েছে তা ঠিক করার জন্য সফিকুলকে বলা হয়েছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা পিআইও মহাসিনুল হাসান জানান, এর পূর্বে ও আবাসনের মুক্তিযোদ্ধা স্বপন মিস্ত্রি অভিযোগ দিলে আমরা সমাধান করেছি। বতর্মানে যে সমস্য তা ঠিকাদার সম্পন্ন করে দিবে। তাদের কাজ আমরা বুঝে নেইনি। তাদের সিকিউরিটির অর্থ সরকারের কাছে জমা আছে।#

  • দেশের যত উন্নয়ন হচ্ছে তার একমাত্র কান্ডারী জননেত্রী শেখ হাসিনা                                                          – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

    দেশের যত উন্নয়ন হচ্ছে তার একমাত্র কান্ডারী জননেত্রী শেখ হাসিনা – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

    স্বরূপকাঠি(পিরোজপুর প্রতিনিধি।
    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন দেশের যত উন্নয়ন হচ্ছে তার একমাত্র কান্ডারী জননেত্রী শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই দেশের সব সেক্টরে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে । তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হলে জাতিকে একটি উন্নয়নশীল দেশ উপহার দেবেন।
    শনিবার দুপুরে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সুটিয়াকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের তিনতলা একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের শুভ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    সমাবেশে নারী উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জুরি নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন আজকের এ কোমলমতি মেয়েরা আগামি দিনে জাতির নেতৃত্ব দিবে। তাদেরকে সততা ও নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে । তাদেরকে সুশিক্ষা প্রদান করে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারা যেন মাদকাসক্ত ও বিপথে যেতে না পারে সে দিকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের লক্ষ্য রাখার আহবান জানান তিনি।
    বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ,ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন অসীমের সভাপতিত্বে¡ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট এস এম ফুয়াদ ও প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম মিন্টু প্রমুখ। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক, ইউএনও মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার,সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ সার্কেল) মো. রিয়াজ হোসেন পিপিএম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মুইদুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    আনোয়ার হোসেন
    স্বরূপকাঠি।

  • নড়াইলের পারকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে সেই চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার

    নড়াইলের পারকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে সেই চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলের পারকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার সেই চুরি হওয়া নবজাতক ২৪ দিন পর। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেট থেকে চুরি যাওয়া নবজাতকটিকে ২৪দিন পর পুলিশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান রাতে নড়াইল জেলার কালিয়া পারকৃষ্ণপুর গ্রামের এক নি:সন্তান দম্পতির কাছ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।
    নবজাতকটি কিনেছেন এমন দাবি করা লালন মোল্লা ও রানু খানম নামের ওই দম্পতিকেও থানায় আনা হয়েছে। শিশুটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে হাসপাতাল থেকে নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়া অজ্ঞাতনামা নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়
    গত ২৪ জানুয়ারি খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের নিচের প্রধান গেট থেকে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে। নবজাতকের মা রানিমা বেগম জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়। দুপুরের দিকে তিনি সুস্থ ছেলে শিশুর জন্ম দেন। বিকেল পাঁচটার দিকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়। তারা ছাড়পত্র নিয়ে খুমেক হাসপাতালের সামনের গেটে আসেন।
    এ সময় নবজাতকের বাবা তোরাব আলি ও আত্মীয়-স্বজন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা নিয়ে কথা বলছিলেন। অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক ও রোগীর আত্মীয় স্বজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি পর্যন্ত পৌঁছায়। নবজাতকটি ছিলো তার খালার কোলে।
    হাতাহাতি ঠেকাতে সে কোলে থাকা নবজাতককে পাশের এক নারীর কাছে দেয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে শিশুটিকে নিতে গিয়ে দেখে ওই নারী সেখানে নেই। মুহূর্তের মধ্যে পুরো হাসপাতালে শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ উপস্থিত হয় সেখানে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়।
    সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমতাজুল হক জানান, শিশুটি চুরি হওয়ার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রাখে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তারা নড়াইল থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে। যার বয়সের সঙ্গে চুরি যাওয়া শিশুটির বয়সের মিল রয়েছে। তবুও শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত হওযা যাবে। নবজাতক যারা কিনেছেন তাঁরা দাবি করেছেন ঢাকা থেকে শিশুটিকে কেনা হয়েছে। তাদের কথার সত্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
    অপরদিকে শিশুর বাবা তুরাব আলী জানান, তিনি তার আত্মীয় সজনদের মাধ্যমে জানতে পারেন বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইল জেলার কালিয়া পারকৃষ্ণপুর গ্রামে এক নিসন্তান দম্পতির ঘরে একটি নবজাতক রয়েছে। তারা গিয়ে নবজাতক চিনতে পারেন। নবজাতকটি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ওই দম্পতি কিনেছেন বলেও জানিয়েছে তুরাব আলীর কাছে।
    নবজাতকের মামা মো. মোস্তফা বলেন, ভাগ্নেকে পেয়ে তারা খুশি। এখন দ্রুত ডিএনএ টেস্টে করে তাঁদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।

  • ৮ বছর অপেক্ষার পর এমপিওভুক্ত, এখন চাকরি হারাবার আতঙ্কে ৩৫ শিক্ষক-কর্মচারি

    ৮ বছর অপেক্ষার পর এমপিওভুক্ত, এখন চাকরি হারাবার আতঙ্কে ৩৫ শিক্ষক-কর্মচারি

    পঞ্চগড় হতে মোহাম্মদ বাবুল হোসেন ;
    ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়ের পর পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলের প্রবেশ মুখেই গড়ে তোলা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলীম মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এবতেদায়ী শাখার প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন মাহাবুব আলম নামের এক ব্যক্তি। বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে বিনা বেতনেই পাঠদান করাচ্ছেন তিনি। এজন্য তার বাড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দুরের এই মাদ্রাসায় গত ৮ বছর ধরে তিনি বাইসাইকেলেই যাতায়াত করছেন। যোগদান কালে দিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠান প্রধানের শর্তমতে কষ্টার্জিত মোটা অংকের উৎকোচও। এতসব কষ্টের মাঝে মাহবুবের স্বপ্ন ছিলো মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হবে; মাস গেলে মিলবে বেতন, দুর হবে সব কষ্ট। তবে দীর্ঘদিন পর মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত’র মাধ্যমে স্বপ্ন পূরণ হলেও মাহবুবের চোখে মুখে এখন হতাশার ছাপ, রয়েছেন চাকরি হারাবার অজানা আতঙ্কে।
    শুধু মাহাবুব আলম নন, তার মত ওই মাদ্রাসাটির আরও ৩০-৩৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারি এখন চাকরি হারাবার আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। তাদের পরিশ্রমে সাফল্য দেখা মাদ্রাসাটিতে নতুন নিয়োগের পাঁয়তারা করছেন মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক। পুরনো জনবলদের চাকুরিচ্যুত করে নতুন নিয়োগ প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে। শিক্ষক ও কর্মচারির হাজিরা খাতা গায়েব করার অভিযোগসহ মাদ্রাসা পরিচালনাতেও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।
    সম্প্রতি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সভাপতি মফিজার রহমান।
    অভিযোগে তিনি জানান, অধ্যক্ষ তার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে অবৈধভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠণের পাঁয়তারা করছেন। গোপনে তার মনোনীত প্রার্থী নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রায় চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন তিনি। কোন প্রতিদ্বন্দী নেই উল্লেখ করে ম্যানেজিং কমিটি গঠণ করার চেষ্টা করছেন অধ্যক্ষ মোজাম্মেল। অথচ মাদ্রাসার কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারী ও এই মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকগণ এই ম্যানেজিং কমিটি গঠণ বিষয়ে কিছুই জানেননা।
    মফিজার রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, অসত্য তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন করা ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ এর অনুচ্ছেদ ১৭.৩ এর পরিপন্থি। ১৭.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্নাঙ্গ ম্যানেজিং কমিটি গঠণ না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার সভাপতির স্থলে স্বাক্ষর করবেন। কিন্তু এসব নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক কোন ক্ষমতাবলে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের চেষ্টা করছে তা বোধগম্য না। ইতিপূর্বেও এই অধ্যক্ষের বিভিন্ন দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলে ।
    মফিজার রহমান বলেন, আমি ছিটমহল স্বাধীন করে পরবর্তীতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করি। অথচ আমার অগোচরে অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও ষড়যন্ত্র করেই চলছেন। এখনি তার ষড়যন্ত্রের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ভবিষ্যতে এই মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করি।
    জানা গেছে, ছিটমহল বিনিময়ের পর পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলিম মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন ছিটমহল আন্দোলনের নেতা মফিজার রহমান। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে মাদ্রাসাটিতে তার অবদান অসামান্য। এবতেদায়ী, দাখিল ও আলীম স্তরে মোট ৫৪ জন শিক্ষক-কর্মচারি নিয়ে পথচলা শুরু করে মাদ্রাসাটি। সকলের আন্তরিকতায় মাদ্রাসাটি সাফল্য পেতে শুরু করে। প্রতি বছর দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ফলাফল। সম্প্রতি মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়েছে।
    মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক নানান ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পুরনোদের বাদ দিয়ে নতুন করে নিয়োগ বাণিজ্য করতে চাচ্ছেন তিনি। তারা অভিযোগ বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে শুরু থেকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। অথচ অধ্যক্ষ মহোদয় আমাদের সঙ্গে কোন পরামর্শ না করেই একক সিদ্ধান্তে চলেন। আমাদেরকে চাকুরিচ্যুত করার নীল নকশা আটছেন তিনি। আমরা ২০১৫ সাল থেকে কর্মস্থলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আসছি। অথচ গত ১৬ ফেব্রুয়ারী মাদ্রাসায় হাজিরা খাতা না পেয়ে উপস্থিতির স্বাক্ষর করতে পারিনি। শুধু তাই নয় অধ্যক্ষ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানেই আসেননা, শুধু বাইরে থেকে মাদ্রাসাটি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছেন।
    মাদ্রাসার সহকারি মৌলবী শিক্ষক নুর নবী বলেন, পড়ালেখা শেষ করে বড় আশা নিয়ে এখানে যোগদান করেছি। অন্য কোথাও চাকরির চেষ্টা করিনি। শুরু থেকেই সময়, শ্রম এবং অর্থ দিয়ে এখানে লেগে আছি। এখন যদি আমার জায়গায় অন্য কাউকে চাকরি দেয়া হয়, তাহলে বেঁচে থাকাই কঠিন হবে।
    তিনি বলেন, মারাত্মকভাবে হতাশায় ভুগছি। এরমধ্যেও নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসতেছি। চাকরিরও বয়স শেষ যে অন্য কোথাও চেষ্টা করবো। গত একবছর ধরে এসব চিন্তা করতে গিয়ে ঘুমাতেও পারছিনা।
    মাদ্রাসাটির উপাধ্যক্ষ এরশাদ আলী বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে মাদ্রাসাটিতে লেগে আছি। সবার প্রচেষ্টায় আজকে এতদুর আসতে পেরেছি। অধ্যক্ষ মহোদয় তার মন মত চলছেন। আমার সঙ্গেও কোন পরামর্শ করেননা। মাদ্রাসার নতুন কমিটি গঠণের বিষয়েও জানাননি। এ অবস্থায় যদি কোন ষড়যন্ত্র হয়, তাহলে আমরা প্রত্যেকেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবো।
    এ বিষয়ে কথা বলতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হককে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
    পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, এখনো কোন কমিটি অনুমোদন হয়নি। কমিটি চূড়ান্ত করার আগে আমরা প্রতিষ্ঠানে যাবো, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবো। শিক্ষার্থীরা কমিটির বিষয়ে না জানলে ওই কমিটি বাতিল হবে। আর পুরনো শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগের সুযোগ নেই, যদি নিয়োগ দিতে হয় তাহলে এনটিআরসি দিবে।