Author: desk

  • রাজশাহীর পবায় উপজেলায় ১৩ নারী কর্মকর্তা কর্মরত আছেন

    রাজশাহীর পবায় উপজেলায় ১৩ নারী কর্মকর্তা কর্মরত আছেন

    মোঃ হায়দার আলী রাজশাহী থেকেঃ সম্মান ও ভালবাসার মধ্যদিয়ে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের বড় অবদান হচ্ছে নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষুম্য কমিয়ে আনা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ দেশ জাতির সার্বিক কল্যাণে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি কাজ করে চলেছে।

    বর্তমানে সততা ও দক্ষতার সাথে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ১৩ নারী কর্মকর্তা নিজ নিজ দপ্তর পরিচালনা করছেন। সোনার বাংলা বিনির্মাণে মাঠ পর্যায়ে ইতিমধ্যেই তাঁরা নিজ নিজ দপ্তরে অবদান রেখে অর্জন করেছেন সুনাম ও খ্যাতি। পরিচয় দিয়েছেন কর্মদক্ষতার। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে তাঁরা সবাই সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। সরকারের বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছেন উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তর। তাঁদের সম্মিলিত নেতৃত্বে হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। সরকারি এই ১৩ জন নারী কর্মকর্তা ঘর-সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করে ইতিমধ্যে তাঁদের যোগ্যতা ও দক্ষতার স্তর জানান দিয়েছেন।

    এরমধ্যে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লসমী চাকমা : খাগড়াছড়ি জেলা সদরের বাসিন্দা লসমী চাকমা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন এবং ৩৩ তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ২০১৪ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন। ২০২১ সালের অক্টোবর হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পবা, রাজশাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার আগে বাংলাদেশ সচিবালয়ের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এড়াড়াও তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাজশাহীতে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও কাজ করেছেন।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার লসমী চাকমা বলেন, সুখি-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে জনগনের সেবক হিসেবে সরকারি সেবাসমুহু দ্রুত জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই কাজ করছি। এজন্য প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাবেয়া বসরী : ঢাকা সদরের উত্তরার বাসিন্দা ডাঃ রাবেয়া বসরী। শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। ২০১০ সালে বিসিএস (স্বাস্থ্য) এ উত্তীর্ণ হন। ২০১০ সালে পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। এরপর নেত্রকোনা হাসপাতাল ও পরে মুগদা ৫০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন, বর্তমানে পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    ডাঃ রাবেয়া বসরী বলেন, ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও ৪৫/৫০ জন রোগী সবসময় থাকে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ২:৩০ টা পর্যন্ত আউটডোরে সেবা নিতে আসে ৬/৭ শত জন রোগী। করোনা কালীন সময়ে জরুরী বিভাগে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্টাফদের সমন্বয়ে কাজ করেছি। সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জনগণের দোরগড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং সেবার মান আরোও উন্নত করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিভিল সার্জন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন নাহার ভুঁইয়া : ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের বাসিন্দা শামসুন নাহার ভুঁইয়া। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক্স এন্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কৃষিতে ২৯ তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ হন। ২০১১ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে এবং পদোন্নতি পেয়ে ২০১৬ সালে পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে পবা উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

    উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার : রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাসিন্দা শামসুন্নাহার। রাজশাহী কলেজ ভুগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১১ সালে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকতা হিসেবে বাঘা উপজেলায় যোগদান করেন। বর্তমানে পবা উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন।

    উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিমুল বিল্লাহ্ সুলতানা : সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের মেয়ে এবং বর্তমানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা শিমুল বিল্লাহ্ সুলতানা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ও এম এড সম্পন্ন করেন। ২০০১ সালে নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ- শিবগঞ্জ, পাবনা-সাঁথিয়া, নাটোর- সিংড়া উপজেলা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বাঘা, চারঘাট এবং বর্তমানে পবা উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন।
    শিমুল বিল্লাহ্ সুলতানা বলেন, ‘আমাদের সমাজে এখনো অনেক নারী অবহেলিত। প্রতিটি পরিবার থেকে সহযোগিতা পেলে মেয়েরা অনেক কিছু করতে পারবে। এ কারণে নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানো খুব জরুরি।’

    সাবরেজিস্ট্রার আয়েশা সিদ্দিকা : ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা আয়েশা সিদ্দিকা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ প্যাথলজি বিভাগ থেকে এম এস সম্পন্ন করেন। ২৯ তম বিসিএস নন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। ২০১২ সালে মোহনপুর উপজেলায় সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং বর্তমানে পবা উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সততার সহিত দক্ষ নের্তৃত্বে নির্ধারিত সময়ে অফিস পরিচালনা করছেন। সুদক্ষভাবে পরিচালনা করছেন। আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, আমি কাজ করতে ভালোবাসি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে এবং উন্নয়নের সামিল হতে বদ্ধ পরিকর ।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন মাহবুবা : রাজশাহী সদর বোয়ালিয়ার বাসিন্দা শিরিন মাহবুবা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৯৪ সালে মোহনপুর উপজেলায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর সিরাজগঞ্জ সদর, রাজশাহীর দুর্গাপুর, চারঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলায় এবং বর্তমানে পবা উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। ইন্সট্রাক্টর-উপজেলা রিসোর্স সেন্টার মোছা রেহেনা আক্তার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বাসিন্দা রেহেনা আক্তার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি স্নাতক ও প্রানীবিদ্যা বিভাগ থেকে এম.এস.সি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০০৩ সালে উপজেলা রিসোর্স সেন্টার এ ইন্সট্রাক্টর হিসেবে দুর্গাপুর উপজেলায় যোগদান করেন। এরপর রাজশাহীর বোয়ালিয়া, গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায় এবং বর্তমানে পবা উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন।

    উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার অফিসার ইসমোতারা খাতুন : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাসিন্দা ইসমোতারা খাতুন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ৬৩ নং লক্ষী নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে এবং পরে ২০১৮ সালে নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। চাকুরী পরিবর্তন করে ২০২০ সালে বাগমারা উপজেলায় উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং বর্তমানে পবা উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন।

    উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক সিনিয়র অফিসার ও শাখা ব্যবস্থাপক নুরুন নাহার : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা নুরুন নাহার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১১ সালে শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পে উপজেলা সমন্বয়কারী হিসেবে যোগদান করেন। পদোন্নতি হয়ে ২০১৮ সালে অফিসার সাধারণ হিসেবে মোহনপুর উপজেলায় এবং ২০২২ সালে সিনিয়র অফিসার ও শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক পবা উপজেলা শাখায় কর্মরত রয়েছেন।

    রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ব্যবস্থাপক ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা সরকার নাইমুন নাহার : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাসিন্দা সরকার নাইমুন নাহার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকর্ম বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৯৯ সালে কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাজশাহীতে যোগদান করেন। এরপর চাকরি পরিবর্তন করে ২০০০ সালে বিআরসি রিক্রুটমেন্ট থেকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে অফিসার পদে পবা শাখা (নওদাপাড়া) যোগদান করেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে ২০১১ সালে সিনিয়র অফিসার, ২০১৫ সালে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসাবে সেকেন্ড অফিসার এর দায়িত্বে ছিলেন এবং ২০২১ সালে ব্যবস্থাপক (ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা) হিসেবে খড়খড়ি শাখায় কর্মরত রয়েছেন।

    তথ্য সেবা কর্মকর্তা জিনিয়া শারমিন : রাজশাহীর উপশহরের বাসিন্দা জিনিয়া শারমিন। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (স্নাতক) সম্পন্ন করেন। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন শীর্ষক প্রকল্পে ২০১৮ সালে পবা উপজেলায় তথ্যআপা অর্থাৎ তথ্য সেবা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

    উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর (ইউডিএফ) জাকিয়া সুলতানা : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাসিন্দা জাকিয়া সুলতানা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (এমএসএস) সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে ইউনাইটেড স্টেট এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) এ ঢাকায় মনিটরিং অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ২০১৭ সালে উপজেলা গভার্নেন্স এন্ড ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট (ইউজিডিপি) এ উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর (ইউডিএফ) হিসেবে বাগাতিপাড়া ও নাটোর সদরে যোগদান করে বর্তমানে পবা ও চারঘাট উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • বানারীপাড়ায় নাগরিক উদ্যোগের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন

    বানারীপাড়ায় নাগরিক উদ্যোগের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন

    এস মিজানুল ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি।।
    বুধবার ৮ মার্চ বেলা ১১ টায় উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও বেসরকারি সংস্থা নাগরিক উদ্যোগের আয়জনে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। এবারে ” ডিজিটাল প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও জেন্ডার বৈষম্য করবে নিরসন” প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দিপীকা রাণী সেন সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতিমা আজরিন তন্বী। প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক মোঃ জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন,
    উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও এনজিও সমন্বয় পরিষদের সম্পাদক এস মিজানুল ইসলাম, পল্লী দারিদ্রের কর্মকর্তা সেলিনা বেগম, বেসরকারি সংস্থা আভাসের উপজেলা ম্যনেজার সাইদুল ইসলাম, ব্রাকের লিপী ঘরামী প্রমূখ।
    উপস্থিত ছিলেন নাগরিক উদ্যোগের ম্যনেজার মোমহাসিন মিয়া, সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল, আর জে এম এফ এর সদস্য ও কর্মী বৃন্দ। আলোচনার পূর্বে বর্নাঢ্য র‍্যালী করা হয়।#

  • জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে  সিরাজদিখানে অগ্নিকান্ড বিষয়ক মহড়া

    জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে সিরাজদিখানে অগ্নিকান্ড বিষয়ক মহড়া

    মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
    ”স্মাট বাংলাদেশের প্রত্যয় দুর্যোগ প্রস্তুতি সবসময়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র‌্যালী, আলোচনা সভা,ভুমিকম্প ও অগ্নিকান্ড বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে এবং সিরাজদিখান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহযোগীতায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয় আঙিনায় এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আইমিন সুলতানা, সিরাজদিখান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ ফজলুল করিম, সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.রফিকুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা জাহিদ শিকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
    অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, দুর্যোগ বলে কয়ে আসেনা। যে কোন মহুত্বে দুর্যোগ এসে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যাতে ক্ষতি কম হয়। আজকের এই প্রশিক্ষণ বাস্তব জীবনে কাজে লাগালে এবং ক্ষতির পরিমান কম হবে।

  • কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া নার্সিং কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন

    কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া নার্সিং কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন

    মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে,

    আজ দুপুর একটায় ভিক্টোরিয়া নার্সিং কলেজ,কুচাইতলি কুমিল্লায় ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভিক্টোরিয়া নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া,উপস্থিত ছিলেন ওডিট অফিসার রুকুনুজ্জামান মুল্লা,ড.আরিফ বিল্লা ও অত্র কলেজের শিক্ষিকা শেখ সালমা জাহান,মিতু রাণী ভুঁইয়া,নাহিদা আক্তার।

    আরো উপস্থিত ছিলেন ভিক্টোরিয়া নার্সিং কলেজের বি এস সি ইন নার্সিং ও ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের সকল ব্যাচের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা

    অনুষ্ঠানে বক্তারা সকল শিক্ষার্থীদের মানবিক ও দক্ষ নার্স হওয়ার অনুপ্রেরণা প্রদান করেন পাশাপাশি তাদের সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
    সর্বশেষ মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়

  • মনোরম শিক্ষার পরিবেশে দেশসেরা চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

    মনোরম শিক্ষার পরিবেশে দেশসেরা চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

    ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃনিজেদের অর্থে মনোরম শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলায় ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবার দেশসেরা বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে।

    সরকারের আর্থিক অনুদানের দিকে তাকিয়ে না থেকে মনোরম শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরুপ বিদ্যালয়টিকে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ১২ মার্চ ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের হাতে পদক তুলে দেবেন।

    সরজমিনে বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা গেছে, চরভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল নয় একটি শিশুপার্ক।বিদ্যালয়টি চতুর্দিক প্রাচীর ঘেরা। শিশুদের বিদ্যালয় মুখি করতে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ও বাইরে এবং প্রাচীর জুড়ে অংকন করা হয়েছে শিক্ষণীয় ছবি ,বর্ণ ও মনিষীদের বানী, ছড়া, কবিতা, বাণী দিয়ে পাঠদান উপভোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যালয়টি। মুষ্ঠির চাল ও নিজেদের অর্থে মিড-ডে মিল পরিচালনাসহ বসানো হয়েছে পার্কের মতো অসংখ্য খেলনা, দোলনা, স্লিপার, হাঁস। সবজী বাগান, হাঁস মুরগীর খামার, মাছ চাষ করে শিশুদের খাওয়ার তরকারি সরবরাহ করা হয় বিদ্যালয় থেকেই।

    ২০১১ সালে হরিপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা মৌজা সিংহারী গ্রামে বাঁশের বেড়া দিয়ে ধানক্ষেতের পাশে স্থাপন করা হয় চরভিটা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুরুর দিকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করা হয় শিক্ষার্থী। আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠাদান করায় ফলাফল ও প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে পাল্টে যায় বিদ্যালয়ের চিত্র। বেড়ে যায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

    স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি ও পড়াশুনায় মনোযোগী করতে ২০১৪ সালে নিজ উদ্যোগে চালু করা হয় ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি। মিড-ডে মিল কার্যক্রমের পণ্য সরবরাহ পেতে বিদ্যালয়ের জমিতে লাগানো হয় সবজী বাগান। ডিমের চাহিদা মেটাতে গড়ে তোলা হয় হাঁস মুরগীর খামার। আমিষের চাহিদা মেটাতে পুকুরে চাষ করা হয় মাছ। বাড়ি বাড়ি মুষ্ঠির চাল তুলে শুরু করা হয় মিড-ডে মিল। এ সময় ফকির বলেও অনেক শিক্ষককে তিরস্কার করে এলাকার কেউ কেউ। কিন্তু শিক্ষকরা এসব কিছুতে কান না দিয়ে লক্ষ্য পূরণে কাজ করতে থাকেন।

    ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাশের হার শতভাগ। শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ ছাত্রছাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্কুলড্রেস চালু করা হয়।

    ২০১৩ সালে রেজিষ্টার্ড চরভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয় এবং বরাদ্দ মিলে চারকক্ষ বিশিষ্ট এক শ্রেণিকক্ষের। ওই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ও বাইরে অংকন করা হয়েছে শিশুদের শিক্ষিণীয় বর্ণ। শ্রেণিকক্ষের দেওয়ালে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে মনীষিদের বাণী ও ছবি। বঙ্গবন্ধু ও ৭ বীর শ্রেষ্ঠের ছবি, ফুল-ফল, পশু-পাখি বাঘ, হরিণ ইত্যাদি কোনটির কমতি নেই।

    ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে আঁকা হয়েছে মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদির মনোগ্রাম। বারান্দার পিলারে বসানো হয়েছে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, এ থেকে জেড পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি বর্ন , সংখ্যা । এছাড়াও প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে জড়িত পেয়াজ মরিচ আদা, আলু,পটল, ইত্যাদির ছবি সহ বাংলা ও ইংরেজি নাম। এ জন্য স্লিপ বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেদের অর্থে সজ্জিতকরণ করা হয়েছে বিদ্যালয়টি।

    এ ব্যপারে প্রধান শিক্ষক এরফান আলী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মনোরম করে গড়ে তুলতে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ কালে ৪ জন শিক্ষক বকেয়া বেতন হিসেবে যে ৩৬ লক্ষ টাকা পেয়েছিলাম তা দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণ করি। শুধু শিল্পীদের মজুরীতে ব্যয় হয়েছে ৫২ হাজার টাকা।

    কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকলেও এ বিদ্যালয়ে রয়েছে শহীদ মিনার। নিজেদের অর্থে নির্মাণ করা হয়েছে এটি। জমির সীমানায় বসানো হয়েছে হাফ প্রাচীর। প্রাচীরের গায়ে অংকন করা ছবি, কবিতা, ছড়াসহ নানা ধরনের শিক্ষণীয় বিষয়। শিশু-শিক্ষার্থীদের খেলার উপকরণের পাশাপশি বিদ্যলয়ের শিক্ষার পরিবেশ আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে শিশু পার্কের আদলে বসানো হয়েছে হাতি, জিরা, পুকুরে করা হয়েছে নৌ বিহারের ব্যবস্থা। বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখার প্রয়োজনে নির্মাণ করা হয়েছে পুকুরের চারপাশে পায়ে হাঁটা রাস্তা ও বিশ্রামাগার।নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। এজন্য ব্যয় হয়েছে ৩৮ লক্ষ টাকা।

    প্রধান শিক্ষক এরফান আলী বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবারই বৃত্তি পেয়েছে, পাশের হার শতভাগ, গড়ে তোলা হয়েছে মনোরম পরিবেশ। রয়েছে মিড-ডে মিল। আমাদের মিড ডে মিল কর্মসূচি দেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় সারাদেশে মিড-ডে মিল চালুর প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই থেকে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখার অনুপ্রেরণা থেকে কাজ করি এবং শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা দখল করি।

    সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মন্জুরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক এই বিদ্যালয়টিকে আনন্দময় করতে শিশুদের চাহিদা ও পছন্দের বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে বিদ্যালয়টিকে সজ্জিত করেছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে ভয়ের না হয়ে বিনোদন উপযোগী করে গড়ে তুলেছেন।

    জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আমাদের গর্ব।এ বিদ্যালয়টি এ বছর দেশসেরা নির্বাচিত হয়েছে। ১২ মার্চ ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রধান শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হবে।

    গৌতম চন্দ্র বর্মন
    ঠাকুরগাঁও

  • ঠাকুরগাঁওয়ের সুনাম ধন্য চমখিল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ পুর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা

    ঠাকুরগাঁওয়ের সুনাম ধন্য চমখিল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ পুর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা

    গীতি গমন চন্দ্র রায়।।
    স্টাফ রিপোর্টার।।
    ঠাকুরগাঁও জেলা সদর উপজেলা গড়েয়া চখমিল বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

    জানা যায়,চামখিল উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে ু বিদ্যালয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
    ৯ মার্চ-৩০২৩ দুপুরে এ অনুষ্ঠানে চাখিল স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জালালউদ্দিনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাংসদ শ্রী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি প্রমুখ।

    তাছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ,শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষক -শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানহয়।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ৫০ বছর পুর্তি অনুষ্ঠান সমরহয়।

    গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।।
    স্টাফ রিপোর্টার।।

  • বেতাগীতে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ

    বেতাগীতে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ

    মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্না বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি

    বরগুনার বেতাগীতে সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাবের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার চান্দখালীর শহিদ হাওলাদার (৩০) মাদক মামলায় গ্রেফতার করেন।

    বৃহস্পতিবার ( ৯ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন।গ্রেফতারকৃত শহিদ হাওলাদার উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের চান্দখাালী এলাকার মৃত আব্দুল জব্বার হাওলাদারের ছেলে।বেতাগী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে শহিদকে গাঁজাসহ গ্রেফতার করে বেতাগী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পরে তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়। আদালত ওই মামলায় ২০২২ সালে তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। সাজা এড়াতে শহিদ দীর্ঘদিন পালিয়ে আসছিলেন। বুধবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাশ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি নামক এলাকা থেকে শহিদ হাওলাদারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-০৮। সন্ধ্যায় তাকে বেতাগী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শহিদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। বুধবার বিকেলে থানায় নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • ইটভাটার মালিকরা পরিবেশ আইন ও হাই কোর্টের নির্দেশ মানছেন না-নিরব ভুমিকায় প্রশাসন

    ইটভাটার মালিকরা পরিবেশ আইন ও হাই কোর্টের নির্দেশ মানছেন না-নিরব ভুমিকায় প্রশাসন

    হেলাল শেখঃ ইটভাটার মালিকরা পরিবেশ আইন ও হাই কোর্টের নির্দেশ মানছেন না-সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরব ভুমিকায়। ঢাকার প্রধান শিল্পা ল আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাশে রাঙ্গামাটি এলাকায় (মেসার্স মোল্লা ব্রিকস, জি এম সি) ও (এন বি এম) ও ধামরাইতে শতাধিক ইটভাটা স্থাপন করে ফসলি জমি নষ্ট করছে এবং পরিবেশ দূষণ করার অভিযোগ।
    জানা গেছে, হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করে অবৈধভাবে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ফলের গাছের কাঠ পোড়ানোর কারণে কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এর আগে সাভারে ৬টি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট উইং। এর আগে সাভার উপজেলার নামাগেন্ডা ও বিরুলিয়া এলাকায় বায়ু দুষণকারী এসব ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ। অভিযানের সময় বায়ু দুষণের অপরাধে সাভার পৌরসভা এলাকার নামাগেন্ডা মহল্লার মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকসকে ৫ লাখ, মেসার্স এখলাছ ব্রিকসকে বিশ লাখ, মেসার্স মধুমতি ব্রিকসকে ৫ লাখ, ফিরোজ ব্রিকসকে ৬ লাখ, বিরুলিয়া সাদুল্লাহপুর এলাকার মেসার্স মাহিন ব্রিকসকে বিশ লাখ ও রিপন ব্রিকসকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখতে সেগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কারখানা কার্যক্রম পরিচালনা করায় মধুমতি কেমিক্যালস এবং একটি টায়ার পুড়ানোকারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।
    পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব গণমাধ্যমকে বলেন, হাইকোর্টের রীট পিটিশন নাম্বার ৯১৬/২০১৯ এর প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী বায়ু দুষণ রোধে অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটা এবং প্রতিষ্ঠানসমুহ বন্ধ করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মূলত এসব এলাকায় জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স এবং মাটি কাটার লাইসেন্স না থাকায় ভাটাগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ অভিযানকালে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম তালুকদার,হায়াত মাহমুদ রকিব ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকে।
    জানা গেছে, শুধু একটি এলাকায় অভিযান চালানো হলেও অন্যসব এলাকায় অবাধে চলছে অবৈধ ইটভাটা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশুলিয়ার শিমুলিয়া ও ধামরাইয়ে ইটভাটাগুলোতে শুরু করেছেন ইট পোড়ানো। জানা গেছে, পরিবেশ ও ফসলি জমি রক্ষায় সম্প্রতি এ বিষয়ে হাই কোর্ট নিষিদ্ধ করে ঢাকার আশপাশের ইটভাটা কিন্তু হাই কোর্টের নির্দেশের পরও অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করেছে প্রভাবশালী মালিকরা। আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই ইটভাটা চালাচ্ছে তারা। এসব অবৈধ ইটভাটা পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অল্প উচ্চতার ড্রাম-সিটের চিমনির ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হয় বলে বেশি উচ্চতার ইটভাটার চিমনি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। সরকারের এই আদেশ মানছেন না ইটভাটার বেশিরভাগ মালিক।
    দক্ষিণা লের বরিশাল, উত্তরা লের রাজশাহী, রংপুর, রাজধানী ঢাকার আশপাশের এলাকা সাভার ও আশুলিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে বেশিরভাগ এলাকায় জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ব্যতিত, ইটভাটাগুলোতে ইট প্রস্তুত করছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কৃষি জমিতে গড়ে উঠা ইটভাটার কারণে পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষকদের জমি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে আম গাছ, কাঁঠাল গাছসহ বেশিরভাগ ফলের গাছ নষ্ট করে কাঠ পুড়ানোর কারণে কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ইটভাটার আশপাশে কৃষকের কৃষি জমিতে ফসল ও ফলের গাছ নষ্ট হচ্ছে। এসব ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন জেলা প্রশাসক।
    পরিবেশ আইন-১৪৫ পাতায় “ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩” (গ) জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ব্যতীত, ইট প্রস্তুত করিবার উদ্দেশ্যে মজা পুকুর বা খাল বা বিল বা খাঁড়ি বা দিঘি বা নদ-নদী বা হাওড়-বাওড় বা চরা ল বা পতিত জায়গা হইতে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করা যাইবে না। (ঘ) ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে নির্ধারিত মানমাত্রার অতিরিক্ত সালফার,অ্যাশ, মারকারি বা অনুরূপ উপাদান সংবলিত কয়লা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না। এরপর (ঙ) (১) আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, (২) সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, (৩) কৃষি জমি। (৪) পার্বত্য জেলায় ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে, পার্বত্য জেলার পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। (৫) বিশেষ কোনো স্থাপনা, রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বা অনুরূপ কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠান হইতে কমপক্ষে ১ (এক) কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে হতে হবে। অঙ্গীকার নামাঃ ১৪৪ পাতায় ৪। শর্তাবলিঃ (ক) ইটভাটায় কোনো অবস্থাতেই কোনো প্রকার জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করা যাইবে না। (খ) লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘন বা প্রতিপালন করা হইতেছে কিনা, অথবা আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে কিনা উহা তদারকির জন্য জেলা প্রশাসক স্বয়ং বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বা তাদের মনোনীত কোনো বন কর্মকর্তা (ফরেস্টার পদের নি¤েœ নহে), তারা যেকোনো সময় বিনা নোটিশে ইটভাটায় প্রবেশ ও ভাটা পরিদর্শন করতে পারেন। যে কোনো ইটভাটার মালিক বা ব্যক্তিকে রিমান্ডে বা যে কোনো দলিলাদি তলব করিতে পারেন। আইনে আরও অনেক নিয়ম রয়েছে। জানা গেছে, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর বিভাগ ও ঢাকা বিভাগসহ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় বেশিরভাগ এলাকায় জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ব্যতিত অনেক ইট ভাটায় ইট তৈরি করে পুড়ানো হয়। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযান শুরু করে, এরপরও পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়নি অবৈধ ইটভাটা। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ ২০২৩ইং) ঢাকা জেলার আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে উক্ত ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীগণ ও সচেতন মহল।

  • তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ কোনো ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না-বৈধ গ্রাহকদের চুলাও জ্বলছে না

    তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ কোনো ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না-বৈধ গ্রাহকদের চুলাও জ্বলছে না

    হেলাল শেখঃ তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ কোনো ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না-দালালদের পকেটে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অভিযান অব্যাহত আছে বলে দাবী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে বৈধ গ্রাহকদের গ্যাসের চুলাও জ্বলছে না, মোমবাতির মতো টিপটিপ করে জ্বললে রান্না করা যায়না বলে অনেকেই জানান।
    সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া, ইউসুফ মার্কেট, তাজপুর, অন্যদিকে ইয়ারপুর ইউনিয়নের চিত্রশাইল এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সম্পদ তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগের ছড়াছড়ি। তথ্যমতে, এসব অবৈধ সংযোগ দাতারা হলো, আশুলিয়ার জামগড়া এরাকার নাজিম উদ্দিন, সোহেল মীর, সাঈদ মীর, শামীম, শরীফ, মোস্তফা, সেলিমসহ ১৫-২০জন। তাজপুর এলাকায় হানিফ ও সিরাজসহ ১০-১২ জনের দালাল চক্রসহ আরও অনেকেই তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ। এক একটি অবৈধ সংযোগ থেকে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা কালেকশন করা হয়, পুরো উপজেলায় ৬০ হাজারের বেশি অবৈধ সংযোগ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে দালালদের পকেটে কোটি কোটি টাকা যাচ্ছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ থেকে অগ্নিকান্ডে নারী ও শিশুসহ গত দুই বছরে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, শতাধিক মানুষ দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এদিকে সিলিন্ডার গ্যাসের বোতলের দাম বেড়েই চলেছে, ওষুধের দোকান, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল।
    সরকারের সিদ্ধান্তে দুই শ্রেণীর গ্রাহক সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন, এদের মধ্যে এক শ্রেণির হলো সাভার আশুলিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বাসা বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকেরা। আরেকটি হলো বিভিন্ন আবাসন কোম্পানিগুলো। তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রাহকদের গ্যাসের পাইপলাইনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবাসন কোম্পানির অনেকেই বলেন, এখন গ্যাসের সংযোগ না পেলে তাদের প্লট, জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না। অনেকেই দাবি করেন যে,এখন প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে ইনকাম কম খরচ বেড়েছে এর কারণে মানুষের অভাব বাড়ছে। গ্যাস সংযোগ নতুন করে আর কেউ পাচ্ছেন না, এতে গ্রাহকরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। জানা গেছে, ২০১৮ইং সালে এলএনজি আমদানি শুরুর পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গ্যাসের সংযোগ নতুন করে শুরু হওয়ার কথা নীতিনির্ধারণী মহলেও শুনা যাচ্ছিল। তখন ঢাকা ও সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দেয় দালাল চক্র সিন্ডিকেটগুলো। গ্রাহকদের তারা আশ্বাস দেয়, কিছুদিন পরে গ্যাসের নতুন বৈধ সংযোগ দেওয়া শুরু করলে তারা এগুলোকে বৈধ করে দেবেন কিন্তু এখন সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পালায় এই গ্রাহকদের সংযোগও কাটা পড়ছে। জানা গেছে, সরকারি ভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেশ জোরেসোরেই মাঠে নেমেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
    জানা গেছে, একটি অভিযানে সরকারের লক্ষাধিক টাকা খরচ হচ্ছে, অভিযানের দুইদিন পর আবার সেখানে অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়, আবার অভিযান চালানো হয়, এতে সরকারের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোকে কিছুদিন আগে জ্বালানি বিভাগ উক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে তা বাস্তবায়নের আদেশ দিয়েছে। সূত্র জানায়, ডিমান্ড নোট ইস্যু হওয়া এবং টাকা জমা দেওয়া গ্রাহকদের আবেদনও বাতিল করা হবে। তাদের অর্থ ফেরত দেবে সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলো। বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নতুন সংযোগের জন্য ডিমান্ড নোট ইস্যু হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়া গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখের মতো সারাদেশে। গ্যাস ও খনিজ সম্পদ খাতের নেতৃত্ব প্রদানকারী সংস্থা পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, বৈধ অবৈধ নানা উপায়ে এই শ্রেণির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ হবে।
    দেশে সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আলী ইকবাল মোঃ নুরুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে গত বৃহস্প্রতিবার মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। গৃহস্থালিতে আর গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। যেসব গ্রাহক সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন এবং টাকা জমা দিয়েছেন, তাদের নাম আমাদের তথ্যভান্ডারে রয়েছে। আগামী রবিবার এ বিষয়ে আমরা একটি সভা করে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তৈরি করবো। বিঃ বা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। দেশে গ্যাস বিতরণে নিয়োজিত অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, পশ্চিমা ল গ্যাস কোম্পানি ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি। এই সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আগামী সোমবার সভা করে তারা সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের রূপরেখা ঠিক করবেন। উক্ত ব্যাপারে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাসের অবৈধ সংযোগ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। নানা প্রলোভন দেখিয়ে জনগণকে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিতে বাধ্য করে কিছু দালাল চক্র। আবার অনেক গ্রাহকও নানাভাবে তদবির-প্রচেষ্টায় অবৈধ সংযোগ নেন। এখন স্থায়ীভাবে আবাসিক সংযোগ বন্ধ হওয়ায় নতুন করে অবৈধ সংযোগ নেওয়া অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। জানা গেছে, ঢাকার প্রধান শিল্পা ল আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়িতে প্রায় লক্ষাধিক অবৈধ সংযোগ রয়েছে।
    ঢাকার সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ ব্যবস্থাপক (জোবিঅ) প্রকৌশলী আবু সাদাৎ মোহাম্মাদ সায়েম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত তিন বছরের তেমন মামলা করা হয়নি, সাভার ও আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের বৈধ গ্রাহক সংখ্যা ৫২ হাজারের বেশি হবে। শিল্প গ্রাহক সংখ্যা ১৫০০। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী দালালদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় ৬টি ও আশুলিয়ায় ৪৬টি মামলাসহ প্রায় ৫২টির মতো মামলা করা হয়েছে। গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান। তবে এক স্থানে ৬-৮ বার অভিযান করা হয় বলে সরকারের মোটা অংকের অর্থ হরিলুট হচ্ছে।

  • পরিচয়পত্র নিয়ে সাংবাদিকতা করা সহজ কিন্তু নিজে সংবাদ তৈরি ও প্রকাশ করা এতো সহজ না

    পরিচয়পত্র নিয়ে সাংবাদিকতা করা সহজ কিন্তু নিজে সংবাদ তৈরি ও প্রকাশ করা এতো সহজ না

    হেলাল শেখঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ করা এবং পরিচয়পত্র নিয়ে সাংবাদিকতা করা সহজ হলেও কিন্তু নিজে সংবাদ সংগ্রহ করে নিজে লিখে সংবাদ তৈরি করা ও তা প্রকাশ করা এতো সহজ না। প্রতিদিন একটি করে ভালো কাজ করা যায়, তা মনের ব্যাপার, দেশের প্রকৃত সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করে তার বিনিময়ে কি পাচ্ছেন? প্রকৃত সাংবাদিকরা কি জনগণের প্রয়োজনে প্রিয়জন ?।
    কলম সৈনিক সাংবাদিক দাবিদার নিজেদের মধ্যে যারা শক্রতা সৃষ্টি করছে তারা বেশিরভাগই সংবাদ লিখতে পারেন না, তারা জাতির বিবেক হয় কি করে? সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা, এই পেশাকে যারা ছোট করে দেখে সাংবাদিকদেরকে অপমান করছে তাদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। প্রকৃত সাংবাদিক ও লেখক কখনো কোনো হামলা মামলার ভয় করে না। নেতা বা মেম্বার চেয়ারম্যান, এমপি মন্ত্রী আপনারা যে পেশা থেকেই আসেন না কেন দয়া করে কেউ সাংবাদিকদের অপমান করবেন না। দেশের গণমাধমের প্রকাশক ও সম্পাদকসহ প্রকৃত সাংবাদিকরা অনেকেরই আপনাদের অনেকের প্রকৃত চরিত্র ইতিহাস জানেন যে, কে কেমন প্রকৃতির মানুষ বা কেমন অপরাধ করেছেন? কে কেমন অপরাধী?। রাজধানী ঢাকা, ধামরাই ও সাভার আশুলিয়াসহ সারাদেশেই একের পর এক প্রকৃত সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা-মামলা, হত্যার ঘটনা ঘটেছে, এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতাসহ সচেতন মহল।
    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ) বলেন, সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণে বিভিন্ন হামলা মামলার শিকার হয়ে থাকেন। প্রকৃত সাংবাদিকদেরকে কেউ ভয় দেখাবেন না, কলমের শক্তি দিয়েই তার জবাব দেয়া হবে। আমরা সাংবাদিকরা কোনো কচু পাতার পানি নয় যে, বাতাসে পড়ে যাবো। অনেকেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে হামলা-মামলায় শিকার হয়ে থাকেন, ভয় করবেন না “বৃহত্তর ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য”। সাংবাদিকদের উপর নৃশংস হামলা-মামলা, হত্যার হুমকি’র বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে নিউজ লেখতে হবে সকল সাংবাদিকদেরকে সবার সংশ্লিষ্ট মিডিয়ায় তা প্রকাশ করতে হবে। আমি বলতে চাই ভয় করলে সাংবাদিকতা করা যায় না। নতুনদেরকে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি বইসহ বেশি বেশি বই পড়া জরুরি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকতার মূলধারায় এগিয়ে যেতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরকেও সচেতন করতে প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, হকার বা সোর্স হয়ে কাজ করা আর সাংবাদিকতা একরকম নয়। সাংবাদিক সংগঠন এক একটা ক্লাবে দুই থেকে তিনটি গ্রুপ হয়েছে। এটা সাংবাদিকতা নয়, সাংবাদিকতা করতে কোনো সংগঠন লাগেনা, দলবাজি বা চাঁদাবাজি করতে হয় না, আমরা কেন দলবাজি করবো? সাংবাদিক কারো বাহিনী নয়, সাংবাদিকরা সাংবাদিকতাই করবেন, কারো মিছিলে স্লোগান দিয়ে মহান পেশা সাংবাদিকতাকে অসম্মান করার অধিকার কারো নেই।
    মানুষের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমানবিহীন অপপ্রচার বন্ধ করুন, মানুষের বদনাম করে কি হয়?, ষড়যন্ত্রকারীদের ধ্বংস নিশ্চিত। কলম সৈনিকরা কখনো কারো মিথ্যা সংবাদ লিখে প্রকাশ করে না। যারা কলম হাতে নিয়ে মিথ্যা কোনকিছু লিখে তা প্রচার করে, এটাকে অপপ্রচার বলা হয়, অপপ্রচারকারী মানুষগুলো দেশ ও জাতির শক্র। দেশের ভেতরে যারা দেশ ও জাতিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক বলে দাবী জানান সাংবাদিক নেতারা। প্রকৃত সাংবাদিকদের নিয়ে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্র করছে। গণমাধ্যমে কাজ করতে হলে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক রাখতে হয় তা অনেকেই জানেন না। নতুন সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার আদর্শলিপি বই পড়া প্রয়োজন, প্রকৃত সাংবাদিকতা করলে তা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল হয়, মিথ্যাচার সবার জন্য বিপদজনক। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণেই আজ তারা বিভিন্ন হামলা মামলার শিকার হচ্ছেন। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, সাংবাদিক শব্দ সহজ হলেও এই পেশা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, আবার সম্মানজনক। তবে অপসাংবাদিকতার কারণে বর্তমানে অনেক মানুষ সাংবাদিকদের ভালো চোখে দেখেন না। অনেক সময় সাংবাদিকদেরকে সাংঘাতিক বলে অনেকেই কিন্তু সাংঘাতিক সবাই হতে পারেন না, সাংঘাতিক হতে হলে নিজের পরিবারকে সময় না দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করেন। দুর্নীতিবাজরা লক্ষ লক্ষ টাকা ও কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে লুটপাট করছে আর সাংবাদিকরা যখন তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন তখন সাংঘাতিক হয়ে যায়, চোরের মায়ের বড় গলাবাজি বন্ধ করুন।
    প্রকৃত সাংবাদিকরা না খেয়ে থাকলেও লজ্জায় কারো কাছে হাত পেতে সাহায্য নিতে পারেন না। ৩৬৫ দিনে এক বছর, জীবনে কোনদিন ছুটি নেই সাংবাদিকদের। ৩৬৪ দিন ভালো কাজ করেন আর একদিন একজনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করবেন এতে একটু ভুল হলেই সেই সাংবাদিক খারাপ হয়ে যায়। অপরাধীরা অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে কোনকিছু লেখা যাবেনা, ১দিন যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করছেনতো সাংঘাতিক হবেন সাংবাদিক। সাংবাদিক জাতির বিঊেশ, সেই বিবেককে গালি দিয়ে বলা হয় সাংবাদিকরা খারাপ, এটা কোন ধর্ম আর কোন বিচার ?। অনেকেই নিজেদেরকে বড় মনে করেন, নিজেদের স্বার্থের জন্য শক্রতা সৃষ্টি করেন আর একজন অন্যজনের ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন এটা আমাদের ভুল হচ্ছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বয় করে কাজ করার মধ্যে আনন্দ আছে, “বৃহত্তর ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য”।
    আমাদের লেখার মধ্যেও অনেক ভুল হয়। এই জন্য সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়া দরকার। বিশেষ করে “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক দেশ ও জাতির বিবেক, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, বিশেষ সম্মান অর্জন করার লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে সম্মান অর্জন না হয়ে উল্টো বদনাম হচ্ছে আমাদের। সাংবাদিকতা করতে শুধুমাত্র মানুষের সুখ, দুঃখ, আনন্দ বেদনা, দুর্ঘটনাসহ সকল বিষয়ে জাতির কাছে তুলে ধরতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের অবশ্যই চোখ কান খোলা রেখে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেও কারো মনজয় করতে পারেন না কেন? ছোট একটি ভুল করলেই সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা করা হয়, এমনকি হত্যার শিকার হতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাইকে বলা হয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা করবেন কিন্তু তার উল্টো দেখা যায়, পুলিশ সাংবাদিক কি কখনো বন্ধু হতে পেরেছেন? কেউ কি খবর নিয়েছেন যে, সাংবাদিকরা কেমন আছেন? কোনো সহযোগিতা লাগবে কি না ?। অনেক সাংবাদিক আজকাল মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জনগণের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকেন সাংবাদিকরা, এর বিনিময়ে কি পাচ্ছেন তারা? নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অনেক সাংবাদিক, হয়রানিমূলক মামলার শিকার হচ্ছেন অনেকেই, যার কোনো হিসাব নেই।
    দেশে প্রায় ১৮ কোটি জনগণ, সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক কম, তবুও আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি। ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে যারা মানুষের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। “পুলিশ, সাংবাদিক” আইনজীবি ও জনপ্রতিধিগণ, এই চারটি শব্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলো “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিকতা”। বিশেষ করে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি’র বেশিরভাগ শব্দ আছে যা সাংবাদিকদের জন্য জানা অতি জরুরি-যেমনঃ সংবাদের উৎসহের মত সংবাদের উপাদান কি? মানুষ এবং প্রকৃতি, মানুষের আশা-আকাঙ্খা, আনন্দ, বেদনা, সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাই সংবাদের মূল প্রতিপাদ্য। এর সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয়ই সংবাদের উপাদান। যেমনঃ কুকুর যদি মানুষকে কামড়ায় তা কোনো সংবাদ নয়, আর মানুষ যদি কুকুরকে কামড়ায় বা অপ্রত্যাশিত কিছু অপকর্ম করে তা সংবাদ হয়। নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটনা, অন্যায় অবিচার, যা মানুষের অধিকারকে হরণ করে, এরকম অনেক বিষয়কে সংবাদ বলা যেতে পারে।
    সাংবাদিকরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, এতে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা সহজ হবে বলে অনেকেরই অভিমত। সাংবাদিককে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়তে হবে, সেই সাথে সর্বশেষ সংশোধনীসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ম্যানুয়েল বই এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বইসহ বেশি বেশি বই পড়তে হবে। অনেকেই জানেন না যে, ১/ সাংবাদিক মানে জাতির বিবেক। ২/ সাংবাদিক মানে দেশ প্রেমিক। ৩/ সাংবাদিক মানে কলম সৈনিক। ৪/ সাংবাদিক মানে জাতির দর্পণ। ৫/সাংবাদিক মানে জাতির সেবক। ৬/সাংবাদিক মানে শিক্ষিত জাতি। ৭/সাংবাদিক মানে স্বাধীনভাবে কাজ করা। ৮/সাংবাদিক মানে সম্মানিত জাতি। ৯/ সাংবাদিক মানে তদন্তকারী। ১০/ সাংবাদিক মানে আইন বিষয়ে জানা। ১১/ সাংবাদিক মানে সিস্টেম পরিবর্তন করা। ১২/ সাংবাদিক মানে সকল তথ্য বিষয়ে জানা। ভয়কে জয় করে সাংবাদিকতা করার মধ্যে দেশপ্রেম আছে। সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন বলেই মানুষের ঘরের সুন্দরী নারী ও অর্থ সম্পদ নিরাপদে থাকে, স্বাধীনতা ও সম্মান অর্জন করা অনেক কঠিন। সাংবাদিকরা অনেকেই জানান, বর্তমানে সাংবাদিকতা করা অনেক কঠিন কাজ। বাকিটা ইতিহাস, টাকা দিয়ে পরিচয়পত্র নিয়ে বিভিন্ন ভাবে সুবিধা নেওয়ার নাম সাংবাদিকতা নয়, সাংবাদিকতা করতে হলে নিজ হাতে নিউজ লিখে তা প্রকাশ করুন, প্রকৃত সাংবাদিকদের যাচাই বাছাই করলে শতকরা ২০-৩০ প্রকৃত সাংবাদিক পাওয়া যাবে।