Author: desk

  • সাঁওতালি ভাষায় শিক্ষা চালু ও শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে খাগড়াছড়ি ডিসির নিকট স্মারকলিপি দিলেন সাঁওতাল নেতৃবৃন্দ

    সাঁওতালি ভাষায় শিক্ষা চালু ও শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে খাগড়াছড়ি ডিসির নিকট স্মারকলিপি দিলেন সাঁওতাল নেতৃবৃন্দ

    মিঠুন সাহা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

    সাঁওতাল শিশুদের জন্য সাঁওতালদের নিজস্ব বর্ণমালা (অলচিকি) দিয়ে বই প্রকাশ, সাঁওতালি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু ও সাঁওতালি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন সাঁওতাল স্টুডেন্টস্ ফোরাম ও সাঁওতাল উন্নয়ন সংসদ।

    বৃহস্পতিবার ( ৯ মার্চ ) সকাল ১১টার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ সহিদুজ্জামান এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই স্মারকলিপি দেন সাঁওতাল স্টুডেন্টস্ ফোরাম ও সাঁওতাল উন্নয়ন সংসদ এর নেতৃবৃন্দ।

    স্মারকলিপিতে যে দাবিগুলো নিয়ে উল্লেখ্য করা হয়েছে তার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

    ঝরে পড়া আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার কথা চিন্তা করে ২০১০ সালের প্রণীত শিক্ষানীতিতে সরকারিভাবে আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার কথা বলা হয়। ২০১৩ সালের শুরুতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হয়ে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে জনসংখ্যার দিক থেকে বেশি প্রচলিত ছয়টি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক তৈরি, শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়। এটি আদিবাসীদের ভাষা ও শিশুদের জন্য সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। আমরা এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

    কিন্তু চাকমা, মারমা, ককবরক, মান্দি ও সাদরি ভাষায় পাঠ্যবই তৈরি হলেও বর্ণমালা বিতর্কের কারণে আটকে যায় সাঁওতালি ভাষার বই। এখনও এর সমাধান হয়নি। এটা সাঁওতালি ভাষা ও সাঁওতাল শিশুদের জন্য দুঃখজনক। বর্ণমালা বিতর্কের কারণ হলো সাঁওতালরা নিজস্ব বর্ণমালা (অলচিকি) দিয়ে সাঁওতালি ভাষার বই প্রকাশের দাবি করলেও খ্রিস্টান মিশনারিরা রোমান বর্ণমালায় বই প্রকাশের দাবি জানায় এবং আর একটি পক্ষ বাংলা বর্ণমালায় বই প্রকাশের দাবি জানায়।

    আপনি জানেন সাঁওতালদের নিজস্ব বর্ণমালা আছে। সাঁওতালদের নিজস্ব বর্ণমালা বা সাঁওতালি বর্ণমালার সাঁওতালি নাম হলো ‘অলচিকি’। ‘অল’ শব্দের বাংলা মানে হলো ‘লেখা’ এবং ‘চিকি’ শব্দের বাংলা মানে হলো ‘বর্ণ’। অর্থাৎ ‘অলচিকি’ শব্দের বাংলা মানে দাড়ায় ‘লেখার বর্ণ’। সাঁওতালদের সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে ১৯২৫ সালে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের সাঁওতাল সাহিত্যিক ও সাঁওতালি ভাষাবিদ পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু সাঁওতালি বর্ণমালা বা অলচিকি আবিষ্কার করেন। সাঁওতালদের সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে মিল

    থাকার কারণে সাঁওতাল শিশুরা খুব সহজে এই বর্ণমালা শিখতে পারে। অলচিকিকে ২০০৮ সালে ইউনিকোড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৮ সালে সাঁওতালি ভাষার উইকিপিডিয়া প্রকাশিত হয় অলচিকি দিয়ে।

    আপনি জানেন সাঁওতালদের বসবাস বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে। তার মধ্যে সাঁওতালদের বৃহৎ অংশ (প্রায় এক কোটি অধিক) বসবাস করে ভারতে। ২০০৩ সালে ভারতের সংবিধানে সাঁওতালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে সাঁওতালি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ রয়েছে। সেখানেও অলচিকি তথা সাঁওতালি বর্ণমালা দিয়ে লেখা-পড়া চলছে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিম্নোক্ত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধীন বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অলচিকি দিয়ে সাঁওতালি ভাষায় লেখা-পড়া চলছে।

    ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বিশ্ববিদ্যালয় (ঝাড়খণ্ড)
    ,রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয় (ঝাড়খণ্ড) কোলহান বিশ্ববিদ্যালয় (ঝাড়খণ্ড),নীলাম্বর পীতাম্বর বিশ্ববিদ্যালয় (ঝাড়খণ্ড) সিধু কানু বিশ্ববিদ্যালয় (ঝাড়খণ্ড),বিনোবা ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় (ঝাড়খণ্ড) বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় (ঝাড়খণ্ড),সিধু-কানু বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় (পশ্চিমবঙ্গ),বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় (পশ্চিমবঙ্গ),বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় (পশ্চিমবঙ্গ),কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (পশ্চিমবঙ্গ),
    বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (পশ্চিমবঙ্গ),রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় (পশ্চিমবঙ্গ) মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় (পশ্চিমবঙ্গ),সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় (পশ্চিমবঙ্গ), নর্থ উড়িষ্যা বিশ্ববিদ্যালয় (উড়িষ্যা)।

    ফলে ভারতে অলচিকি তথা সাঁওতালি বর্ণমালা দিয়ে ব্যাপকভাবে সাঁওতালি সাহিত্য ও গবেষণা সমৃদ্ধি লাভ করছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে যদি সাঁওতালি ভাষার জন্য অলচিকি বাদে ভিন্ন বর্ণমালায় বই প্রকাশ করা হয়, তাহলে এখানকার সাঁওতাল ভারতে গড়ে ওঠা সাঁওতালি সাহিত্য ও গবেষণা থেকে বঞ্চিত হবে। তাছাড়া বাংলাদেশে গড়ে ওঠা সাঁওতালি সাহিত্য ও গবেষণা থেকেও ভারতের সাঁওতাল বঞ্চিত হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যে বিছিন্নতা সৃষ্টি হবে। সাঁওতালি ভাষার জন্য এটা ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে বাংলা ভাষার উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশ দুটি ভিন্ন দেশ হলেও বাংলা ভাষার জন্য ভিন্ন ভিন্ন বর্ণমালা ব্যবহার হয় না। দুই দেশের বাংলা ভাষার জন্য বাংলা বর্ণমালাই ব্যবহার করা হয়।

    তাই আমরা মনে করি যেহেতু আমাদের (সাঁওতালদের) একটি ভাষা রয়েছে এবং নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে, সেহেতু অন্য বর্ণমালায় সাঁওতালি ভাষার বই প্রকাশ করা বা অন্য বর্ণমালা বাংলাদেশের সাঁওতালদের উপর চাপিয়ে দেওয়া মানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষতি করা। আমরা আশা করি আপনি সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যের এই ক্ষতি হতে দিবেন না। আমরা চাই পৃথিবীর সকল সাঁওতাল তাদের মাতৃভাষা তাদের নিজস্ব বর্ণমালা (অলচিকি) দিয়ে চর্চা করুন। সমৃদ্ধ হোক সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্য।

    তাই আপনার নিকট আমাদের দাবি বাংলাদেশ সরকার আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে, সেখানে সাঁওতাল শিশুরা যেন সাঁওতালদের নিজস্ব বর্ণমালা (অলচিকি) দিয়ে লেখা-পড়ার সুযোগ পায়। সাঁওতাল শিশুদের বই যেন সাঁওতালি বর্ণমালা (অলচিকি) দিয়ে প্রকাশিত হয়। সেই সাথে সাঁওতাল শিশুদের পড়ানোর জন্য সাঁওতালি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের দাবিও জানাই।

    বাংলাদেরশের সাঁওতালদের পক্ষে যারা দাবীগুলো তুলে ধরেছেন তারা হলেন: মানিক মুরমু, আহ্বায়ক সাঁওতাল স্টুডেন্টস্ ফোরাম ও সাঁওতাল উন্নয়ন সংসদ,মিন্টু কিস্কু যুগ্ম আহ্বায়ক সাঁওতাল স্টুডেন্টস্ ফোরাম ও সাঁওতাল উন্নয়ন সংসদ,আকাশ মুরমু যুগ্ম আহ্বায়ক সাঁওতাল স্টুডেন্টস ফোরাম ও সাঁওতাল আয়ন সংসদ,ফাল্গুনী সরেন প্রচারক সম্পাদক সাঁওতাল স্টুডেন্টস্ ফোরাম ও সাঁওতাল উন্নয়ন সংসদ।

  • নড়াইল শহরের যেখানে-সেখানে প্রস্রাব করায় পরিবেশের পাশাপাশি মশার উপদ্রব অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে বাসিন্দাদের জনজীবন

    নড়াইল শহরের যেখানে-সেখানে প্রস্রাব করায় পরিবেশের পাশাপাশি মশার উপদ্রব অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে বাসিন্দাদের জনজীবন

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে

    নড়াইল শহরের যেখানে-সেখানে প্রস্রাব করায় পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের মধ্যেও রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে। সড়কের যেসব স্থানে এ ধরনের কাজ হচ্ছে সেখানে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা দূষিত হচ্ছে। আর সড়কের ওই স্থান পার্শ্ববর্তী সড়কের চেয়েও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক গাছ মরে যেতে দেখা যাচ্ছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,
    অপদিকে, নড়াইলে মশায় অতিষ্ঠ নড়াইল শহর। নড়াইল শহরে সন্ধ্যার পর থেকে চলছে মশার উপদ্রব। অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে বাসিন্দাদের জনজীবন। শীতের শেষে উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে শহরবাসী রীতিমতো আতঙ্কিত। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকাকেই মশার উপদ্রবের মূল কারণ বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
    তবে শহরের বেশিরভাগ স্থানেই যত্রতত্র জমে থাকা পানির কারণে কর্তৃপক্ষের নেওয়া মশকনিধন কর্মসূচিতেও মিলছে না স্বস্তি।
    জানা গেছে, নড়াইল সদর পৌরসভা ১৯৯৯ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হওয়া নড়াইল পৌরসভার ওর্য়াড সংখ্যা নয়টি। বর্তমানে বসবাসযোগ্য জনসংখ্যার পরিমাণ প্রায় এক লাখ ষাট হাজার।
    নড়াইল পৌরসভার বাসিন্দা রাজু শেখ জানান, পৌর এলাকায় কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং মানব সৃষ্ট দূষণের কারণে রাত-দিন সবসময়ই মশার উৎপাত। ঘরে-বাইরে সবখানে মশার কামড়ে নাজেহাল নড়াইল শহরবাসী।
    পৌরসভার গৃহিণী মালা বেগম জানান, মশার উপদ্রব এত বেড়েছে কয়েল জ্বালিয়েও মিলছে না প্রতিকার। ঘরে ছোট বাচ্চা রয়েছে, সব সময় মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। তার জন্যে মশাবাহিত রোগ নিয়েও ভয় রয়েছে। এ ব্যাপারে পৌরসভার দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ চান তিনি।
    এ বিষয়ে নড়াইল সদর পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা বলেন, মশকনিধন ওষুধ ছেটানো হচ্ছে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও প্রয়োজন রয়েছে। সে লক্ষ্যে পৌরবাসীকে সচেতন করছেন বলে জানান তিনি।

  • পঞ্চগড়ে সংঘর্ষ: মামলা বেড়ে ১৬, মোট গ্রেপ্তার ১৭৩

    পঞ্চগড়ে সংঘর্ষ: মামলা বেড়ে ১৬, মোট গ্রেপ্তার ১৭৩

    বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
    পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের (কাদিয়ানী) বার্ষিক সালানা জলসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও তিনটি মামলা নিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলার সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬টি। এসব মামলায় গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৮ জনসহ মোট ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
    পঞ্চগড়ের বোদা ও সদর থানায় করা এসব মামলায় নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ১০ হাজারেরও অধিক।
    শুক্রবার (১০ মার্চ) সকালে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার এস. এম সিরাজুল হুদা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
    পুলিশ জানান, শুক্রবার (১০ মার্চ) জুমআর নামাজের পর কোন পরিস্থিতি যেন তৈরি হতে না পারে, এজন্য সকাল থেকেই শহর, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আবাসস্থলের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং তাদের ২ টি মসজিদের আশেপাশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
    এদিকে, উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এখন জেলা জুড়ে বিরাজ করছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক। গ্রেপ্তারের সংখ্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। পুলিশের পাশাপাশি গ্রেপ্তার অভিযান চালচ্ছে র‍্যাব ও বিজিবি।
    তবে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে প্রকৃত জড়িত ব্যক্তি ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
    এর আগে, গত শুক্রবার (৩ মার্চ) আহমদিয়া সম্প্রদায়ের (কাদিয়ানি) বার্ষিক সালানা জলসাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় পঞ্চগড়। জুমআর নামাজের পর আহমদিয়াদের তিন দিনব্যাপী জলসা বন্ধসহ তাদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে জেলা শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে খন্ড খন্ড বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ পরিষদের ডাকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বড় পরিসরে চৌড়ঙ্গী মোড়ের দিকে আসতে থাকে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে তাদের সাথে শুরু হয় সংঘর্ষ। পুলিশের উপর হামলা করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে মুসল্লিরা। এ সময় পুলিশও অসংখ্য টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি অংশ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা পুলিশ ও বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর, ট্রাফিক পুলিশের অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া আরেকটি অংশ পঞ্চগড় বাজারে আহমদিয়াদের চারটি দোকানের মালামাল বের করে আগুনে পুড়ে দেয়। এছাড়া তাদের বেশকিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এঘটনায় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের একজন এবং মুসল্লীদের মধ্যে একজন নিহতও হন। পরে রাত ৯টার দিকে জলসা স্থগিত ঘোষণা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
    এদিকে, শনিবার সন্ধার পর আবারও উত্তপ্ত হয় শহর। ‘আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা দুজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে’- এমন গুজবে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘নারায়ে তাকবির’ ধ্বনি তুলে তারা দুইভাগ হয়ে আহমদনগর ও তুলারডাঙ্গা এলাকার দিকে ছুটতে থাকেন। এ সময় পঞ্চগড় বাজারের কদমতলা এলাকার ওয়াকার শোরুম নামে একটি জুতার দোকানের সাটার ভেঙে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় একদল মানুষ। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় পৌরসভার ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় একটি মাইক্রোবাস পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
    পুলিশ সুপার এস. এম সিরাজুল হুদা বলেন, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জলসাকে কেন্দ্র করে ঘটনায় ১৬টি মামলা রুজু হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে। আসামি গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, ভিডিও ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য, বিভিন্ন স্টিল ছবি যাচাই-বাছাই করে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • নলছিটি ফায়ার ষ্টেশনের আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত

    নলছিটি ফায়ার ষ্টেশনের আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত

    ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ নাঈম মল্লিক

    জনসেবামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়েছে। ২০৩০সনের স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তের তালিকায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকেও রাখা হয়েছে। বিগত বছর তারা বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বীরত্বের সাথে নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে দেশের হয়ে কাজ করেছেন। এতে তাদের বেশ কয়েকজন সদস্য নিজেদের জীবন দিয়ে জনসাধারনের জানমাল রক্ষা করেছেন।

    পদকপ্রাপ্তি উপলক্ষে নলছিটি ফায়ার ষ্টেশনের আয়োজনে শুক্রবার জুমাবাদ এক দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেণ নলছিটি ফায়ার ষ্টেশন সাব অফিসার মো.সালাউদ্দিন মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।

    এসময় নলছিটি ফায়ার ষ্টেশন সাব অফিসার মো. সালাউদ্দিন মিয়া বলেণ,বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রতিটি সদস্য আজ গর্বিত। আমরা আমাাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।

  • অবসর প্রাপ্ত ভাতা বহাল রাখতে উচ্চ আদালতের রিটের নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা

    অবসর প্রাপ্ত ভাতা বহাল রাখতে উচ্চ আদালতের রিটের নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা

    কেএম সোহেব জুয়েল :গ্রামীন ব্যাংকের অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা – কর্মচারীদের মাঝে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাতা বোনাস পুন: স্হাপন রাখতে হাইকোর্টে মামলা দায়েরের খরচের টাকা আত্মশোধ করার অভিযোগে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছেন গ্রামীন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।

    শুক্রবার (১০ মার্চ) সকাল ১০ টায় পটুয়াখালী হাউজিং এস্টেট কল্যান সমিতির কার্যালয়ে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসুচির আয়োজন করা হয়েছে।

    এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অবসর প্রাপ্ত গ্রামীন ব্যাংক কর্মকর্তা মো: আলী আকবর মিয়ার সভাপতিত্বে অবসরপ্রাপ্ত গ্রামীন ব্যাংক কর্মকর্তা আবুহনিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতি আকবর আলী বলেন ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইং ,গ্রামীন ব্যাংকের অবসর প্রাপ্তদের উৎসব , মাসিক চিকিৎসা ভাতা সহ,পেনসন দেয়ার সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করেন অর্থমন্ত্রণালয়।

    কিন্তু গ্রামীন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ আদেশকে কর্নপাত না করায় সমগ্র দেশের অবসরপ্রাপ্ত গ্রামীন ব্যাংক প্রতিনিধীরা একজোটের সিদ্ধান্তক্রমে কমিটি গঠন করেন।এবং সকলের সিদ্ধান্ত ক্রমে জুলফিকার মো: হাবিবুর রহমান, মো: মোসলেম আলী খান পিন্টু ,একেএম রতন আলীকে উচ্চ আদালতে ভাতা চালুর দাবিতে ১ কুটি ৬৫ লক্ষ টাকা খরচের কতৃত্বে রিট করার সর্বস্ব ক্ষমতা ও ব্যায় ভার বহনে বরিশাল বিভাগের পক্ষ থেকে দায়িত্ব অর্পন করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি পটুয়াখালী জেলা সদর কলাতলা এলাকার বটতলার মসজিদ সংলগ্ন মৃত দলিল উদ্দিনের পুত্র মো: জুলফিকার হোসেনকে।

    কিন্তি তিনি (জুলফিকার) মামলা পরিচালনার নামে সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করে টকা আত্মশোধ করেছেন বলে বক্তারা এমনটি উল্লেখ করেছেন।
    বক্তারা আরো বলেন বরিশাল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত গ্রামীন ব্যাংক কর্মকর্তা -কর্মচারিদের কাছ থেকে একক ভাবে ১৩ লক্ষ টাকা মামলা পরিচালনা ও
    সদস্যের রিটে নাম না দেয়া ও গ্রামীন ব্যাংকের যোগসাজশে দায়সারা ভাবে মামলা চালিয়ে গ্রামীন ব্যাংকের কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা উৎকোচ নিয়ে বহুতল ভবন গড়ে তোলেন জুলফিকার এমনটি বলেছেন বক্তারা। এ সময় অন্যান্যদেরতাই এ সকল ব্যাক্তিদের টাকা দ্রুত ফেরত না দিলে জুলফিকারের নামে আইনগত ব্যাবস্হা নিবেন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত গ্রামীন ব্যাংক প্রতিনিধিরা এমনটি জানিয়েছেন তারা।

    এ সময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য দেন মো: সিদ্দিকুর রহমান, মো: নাসিরুদ্দিন মো: শাহআলম মো: আবুহানিফ মিয়া,মো: জাহাঙ্গীর হোসেন মো: সানু মৃধা, আ: রাজ্জাক মৃধা প্রমুখ,। অপরদিকে জুলফিকার হোসেন এই অভিযোগ ভিত্তি হীন ও এর কোন সত্যতা নাই বলে জানিয়েছেন এই প্রতিনিধীকে।

  • কেশবপুরে এক অসহায় হতদরিদ্র পরিবার  আগুনে পুড়ে নিঃস্ব, ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি

    কেশবপুরে এক অসহায় হতদরিদ্র পরিবার আগুনে পুড়ে নিঃস্ব, ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি

    মোঃ জাকির হোসেন, কেশবপুর :
    কেশবপুরের মূলগ্রাম গ্রামের মাঠপাড়ায় একটি অসহায় হতদরিদ্র পরিবারে আগুন লেগে বসতঘরসহ গোয়াল ও রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে পুড়ে মারা গেছে একটি গরু ও একটি ছাগল। আগুন লেগে তাদের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মূলগ্রামের ছকিনা খাতুনের বাড়িতে ৯মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোয়ালঘরের সাজাল থেকে আগুন লেগে টিনের ছাউনির বসতঘর, গোয়ালঘর, রান্নাঘরসহ সকল মালামাল পুড়ে যায়। গোয়ালে থাকা গর্ভবতী একটি গাভী ও একটি ছাগল আগুনে পুড়ে মারা যায়। এছাড়া ঘরে থাকা নগদ টাকাও পুড়ে গেছে। ছকিনার স্বামী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগুন লেগে তাদের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুনে ঘড়বাড়িসহ সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় এখন তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
    কেশবপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর শংকর বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়েই টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। পরিবারটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • মধুপুরে ১ লক্ষ ১০ হাজার  টাকার হিরোইন সহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    মধুপুরে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকার হিরোইন সহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
    টাঙ্গাইলের মধুপুর থানাধীন বোকারবাইদ (নতুনবাজার) এলাকার মৃত জহুর আলীর ছেলে আঃ রহিম বাদশা মিয়া(৪০) এর নিকট হতে ১লাখ ১০ হাজার টাকার হিরোইন উদ্ধার করেছে মধুপুর থানা পুলিশ।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসায়ী রহিমের বসতবাড়ীর পূর্ব পাশে পাকা রাস্তায় মাদক অভিযান পরিচালনা করে তার নিকট হতে মাদকদ্রব্য দুই পোটলা হেরোইন যার মূল্য আনুমানিক ১লক্ষ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এই সংক্রান্তে উক্ত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় নিয়মিত মাদক মামলা রুজু সহ আসামীকে অদ্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • আগৈলঝাড়ায় জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত

    আগৈলঝাড়ায় জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত

    বি এম মনির হোসেনঃ-

    “স্মার্ট বাংলাদেশের প্রত্যয়, দূর্যোগ প্রস্তুতি সব সময়”এই প্রাতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত হয়েছে।
    উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসচি পালন উপলক্ষে ১০মার্চ শুক্রবার সকালে উপজেলা পরিষদ থেকে র‍্যালী বের হয়।
    পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত। অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ মোশারফ হোসেনসহ কর্মকর্তগন।

  • দাম বাড়তি, অর্ধেকে নেমে এসেছে লাহিড়ী পশুর হাটের বিক্রি

    দাম বাড়তি, অর্ধেকে নেমে এসেছে লাহিড়ী পশুর হাটের বিক্রি

    ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃগরু পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লাহিড়ী পশুর হাটে বেড়ে গেছে গরুর দাম। আর এতেই অনেকটা কমেগেছে এ হাটের বেচা কেনা। সপ্তাহে প্রতি শুক্রবার বসা এই ঐতিহ্যবাহী হাটে এক সময় ৫শ গরু বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ৩শর কোটায়। গরু পালনের খরচ বাড়ার কারণে বর্তমানে গড়ে প্রতিটি গরুর দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। তাই আগের মতো বর্তমান বাজারে গরু কেনাবেচা হয় না বলছেন হাট ইজারাদার।

    শুক্রবার (১০ মার্চ) সকালে সরেজমিনে লাহিড়ী গরুর হাটে দেখা যায়, কেউ হেঁটে, কেউ বা গাড়িতে করে এই হাটে গরু নিয়ে আসছেন। বেলা ১১টা বাজতে না বাজতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় গরুর হাট।

    বামুনিয়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় বর্তমান বাজারে গরুর দাম বেশি। আগে ৮০ কেজি ওজনের গরু ৫০-৫৫ হাজার টাকায় কিনতাম, কিন্তু সেই গরু এখন ৬০-৭০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।

    খামারিদের অভিযোগ, গোখাদ্যের দাম অনুযায়ী বর্তমানে গরু পালন করে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না তারা। তারা জানান, দুই কারণে মূলত এখন হাটে বিক্রির জন্য গরু উঠছে কম। প্রথমত, গরু পালনের খরচের তুলনায় হাটে দাম কম। তাই বাড়তি দামের আশায় এখনই বেশির ভাগ খামারি গরু বিক্রি করতে চাইছেন না। দ্বিতীয়ত, কোরবানির হাট সামনে রেখে যাঁরা গরু কিনতেন, তাঁরা এখন গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু কেনার সাহস করছেন না। তাদের ধারণা, এক বছরের ব্যবধানে গরু পালনের খরচ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। ফলে আগেভাগে গরু কিনে তার পেছনে বাড়তি খরচ করে কোরবানির হাটে খুব বেশি লাভ করা যাবে না। ফলে হাটে গরু উঠছে কম।

    তবে গরু বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলছেন, এ মৌসুমে বিয়েসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় গরুর মাংসের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে গরুর দামও বেড়ে গেছে। গরু বিক্রি করতে এসে রশিদুল ইসলাম বলেন, গত ৬ -৭ মাস আগে ৩২ — ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ছোট বাছি (মেয়ে গরু) গরু কিনেছিলাম। ৬ -৭ মাস ধরে লালন পালন করে সেই গরুর দাম আজ বলছে ৩২ -৩৫ হাজার। এতো দিন ধরে গরুটিকে যেগুলো খাওয়াছি ও তার পরিচর্যা করেছি সেটা বৃথা। কিন্তু কি করবো অভাবের সংসার টাকার প্রয়োজনে এই দামেই হয়তো গরুটা বিক্রি করতে হবে।

    গরু বিক্রেতা সুজন আলী বলেন, বর্তমানে জিনিসপত্রের যে দাম। গরুর খাবারেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তো আর আগের মতো মাঠে গরু বাঁধা যায় না, ঘাসও নেই। যা খাওয়াতে হয় তা সব কিনে খাওয়াতে হচ্ছে। আমাদের মতো ছোট ছোট খামারিদের এভাবে গরু পালতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    হাট ইজারাদার আলহাজ্ব মো. আব্দুর রশিদ বলেন, আগের তুলনায় এই হাট এখন সেভাবে জমে না। আগে সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার দিনে দেশি বিদেশি মিলে প্রায় ৪- ৫শ গরু ক্রয় বিক্রয় হতো, এখন কোনো দিন ৩শ গরুও ক্রয়-বিক্রয় হয় না। বাজারের অবস্থা ভালো না। মানুষের হাতে টাকা পয়সা কম, তাই বেচাকেনাও কমে গেছে। তারপরেও বর্তমানে প্রতি হাটে প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকার গরু ক্রয় বিক্রয় হয় এখানে।

    তিনি আরও বলেন, এখানে ৪২- ৮৫ কেজি ওজন থেকে ১১০- ১৩৫ কেজি ওজনের গরু ক্রয় বিক্রয় হয়। তবে বর্তমানে এখন গরুর দাম একটু বেশি। কশাইদের কাছে শুনেছি ৩৫ -৫০ কেজি ওজনের গরু ৩৫- ৪৫ হাজার টাকা করে কিনছেন তারা।

    গৌতম চন্দ্র বর্মন
    ঠাকুরগাঁও

  • পানছড়িতে গাজাসহ ২ জন আসামী আটক

    পানছড়িতে গাজাসহ ২ জন আসামী আটক

    মিঠুন সাহা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

    খাগড়াছড়ির পানছড়িতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ কর্তৃক ১২ কেজি গাজা, ১টি মাহেন্দ্র ও ২জন গাজা ব্যবসায়ীকে সাঁওতাল পাড়া সংলগ্ন মেইন সড়ক হতে আটক করা হয়।

    শুক্রবার ( ১০ মার্চ ) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অফিসার ইনচার্জ এর নের্তৃত্বে এস আই অনিক ও এ এস আই কামরুলের সহায়তায় পানছড়ি থানাধীন সাঁওতাল পাড়া সংলগ্ন মেইন সড়ক হতে তাদের আটক করা হয়।

    আসামীদের মধ্যে রয়েছে ১) খোকন চাকমা (২৬) পিতা: রজনী কুমার চাকমা ২.সুফল চাকমা (১৯) পিতা , রাঙ্গা চান চাকমা উভয়ের গ্রাম চ্যাগাইয়াছড়ি, রাঙ্গামাটি সদর, রাঙ্গামাটি।

    পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশিদ জানান,কোন মাদকব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ অভিযানে এই আসামীদের আটক করা হয়। মামলার প্রক্রিয়া চলমান।