Author: desk

  • স্মাট বাংলাদেশ চাইলে নৌকায় ভোটঃ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

    স্মাট বাংলাদেশ চাইলে নৌকায় ভোটঃ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

    (রিপন ওঝা, খাগড়াছড়ি)

    খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে দিনব্যাপি মঙ্গলবার ১৪ মার্চ বেলা ১২ঘটিকায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে আর্থিক অনুদান, চাল বিতরণ ও সংবর্ধনা প্রদান করেছেন।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্মাট বাংলাদেশ চাইলে জনগণকে নৌকায় ভোট দিন উপজাতীয় সরনার্থী বিষয়ক ট্রাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও ২৯৮নং খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা জনগণের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন।

    উপজেলার ২নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নের আয়োজনে পরিষদ মাঠে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) পোগ্রাম ২০২৩-২০২৪ কার্ড হস্তান্তর, চাল বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং বিকেলে রামগড় পৌরসভায় গরীব অসহায় দুস্তদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

    পাতাছড়া ইউনিয়নে ৬১৯টি ভিডব্লিউবি কার্ড ও চাল বিতরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা এবং পৌরসভায় ২০ টি সেলাই মেশিন বিতরণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

    আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে এমপি আরো বলেন, শান্তি চুক্তি মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন হয়েছে। বিএনপি ডিজিটাল বাংলাদেশের বিরোধীতা করেছে আর এখন সাধারণ মানুষ ডিজিটালের সুফল ভোগ করছে। এসব মিথ্যা বলে বিএনপি জনগণের মাঝে বিভ্রান্ত ছড়ায়। তিনি আরো বলেন, স্মাট বাংলাদেশ চাইলে জনগণকে নৌকায় ভোট দিন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করার আহবান জানান সাংসদ।

    অনুষ্ঠানে রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতা আফরিন, পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম কামাল, জেলা পরিষদ সদস্য কল্যান মিত্র বড়ুয়া, জেলা আ.লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আশুতোষ চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক, ওমি মিজানুর রহমানসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    দুপুরে পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী নরুল আলম এর সভাপতিত্বে ও বিকেলে রামগড় পৌরসভায় মেয়র রফিকুল আলম কামাল এর সভাপতিত্বে পৃথক পৃথক ভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।

  • খাগড়াছড়িতে অনুসন্ধানের বর্ষপূর্তি

    খাগড়াছড়িতে অনুসন্ধানের বর্ষপূর্তি

    (রিপন ওঝা,খাগড়াছড়ি)

    খাগড়াছড়ি শহরে “মন্দ এবং ভালোর খোঁজে” মূলমন্ত্রে অনলাইন নিউজ পোর্টাল অনুসন্ধান এর ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে প্রতিনিধি সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

    উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জীতেন কুমার বড়ুয়া ও বিশেষ অতিথি হিসেবে সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, দৈনিক ভোরের কাগজ জেলা প্রতিনিধি শংকর চৌধুরী, চ্যালেল টোয়েন্টি ফোরের জেলা প্রতিনিধি নুরুচ্ছাফা মানিক উপস্থিত ছিলেন।

    সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিতেন কুমার বড়ুয়া প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশার নীতি ও আদর্শ ঠিক রেখে আপোষহীন ভাবে কাজ করে যেতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা আসবে। সকল প্রতিবন্ধকতাকে ন্যায় ও সততার সাথে মোকাবেলা করে সুষ্ঠ ও স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।

    ১৪মার্চ রোজ মঙ্গলবার দুপুর ১২.৩০ ঘটিকায় মোঃ শাহাদাত হোসেন কায়েসের সঞ্চালনায় অনুসন্ধান.কমের সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার সভাপতিত্ব করেন এবং
    আয়োজনে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের নিকট হতে অনুসন্ধান.কমের ডিজিটাল পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।

    প্রসঙ্গত যে, ইতিমধ্যে স্বল্প সময়ের মধ্যেই খাগড়াছড়ি জেলায় আপোষহীন ভাবে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রকাশে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে নিউজ পোর্টাল অনুসন্ধান.কম।

    উক্ত আয়োজনে এডুলাইফ কর্তৃক সকল উপজেলা প্রতিনিধিদের মাঝে ‘আইটি এন্ড স্কিল ডেভলোবমেন্ট’ সেশন পরিচালনার মধ্যে দিয়ে সম্মেলন শেষ হয় এবং সেশন পরিচালনা এডুলাইফের সিইও আমির হোসাইন রুজেল ছিলেন।

    চেঙ্গী স্কয়ারের নিকটস্থ স্বনামধন্য রেস্টুরেন্ট ‘ফোর পয়েন্টে’ কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে সকল উপজেলা প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    এ সময়ে সমাপনী বক্তব্যে অনুসন্ধান.কমের সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, আজকের আয়োজন সফল করার জন্য উপজেলা পর্যায়ের সকল প্রতিনিধিবৃন্দদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং আপনাদের আন্তরিক শ্রম, সৃজনশীল মেধা ও উদ্যমের সমন্বয়ে আগামীর অনুসন্ধান সমৃদ্ধ হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

  • রাজধানীতে ডিজিটাল সিটিজেনশিপ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

    রাজধানীতে ডিজিটাল সিটিজেনশিপ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

    প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

    আজ মঙ্গলবার ঢাকার বারিধারায় একটি হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ফ্রেডরিক নওম্যান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডম’এর যৌথ অর্থায়নে, ডিনেট Lesson Learnt Seminar on Fostering Responsible Digital Citizenship Project শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে। উক্ত সেমিনারে ‘Foster Responsible Digital Citizenship to Promote Freedom of Expression in Bangladesh’ প্রকল্পের অধীনে গৃহীত বিভিন্ন সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক, সচেতনতামূলক ও পরামর্শমূলক উদ্যোগের সফলতা ও শিক্ষণীয় দিকগুলো তুলে ধরে ভবিষ্যতে করণীয় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন খাতের কর্মকর্তা, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীসহ আরও অনেকে। তারা বাংলাদেশে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের নানা সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন এবং অনলাইন মাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার বিষয়ে নানাবিধ পরামর্শ দেন।

    সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহবুবা পান্না, অতিরিক্ত সচিব (এইচআর), বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়, ফরিদ হোসেন, সম্পাদক, ইউএনবি নিউজ এবং ড. সাদিক হাসান, সহযোগী অধ্যাপক, জনপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ফানি ফারমাকি এবং ফ্রেডরিক নওম্যান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডম থেকে নাইরা নিজাম।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় মাহবুবা পান্না বলেন, ‘কোভিড আসার পর যেমন সবার জন্য কোভিড সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক হয়েছিল, বর্তমানে ডিজিটাল সময়ে সবার জন্য এই ডিজিটাল সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করছি না কেন?’

    ড. সাদিক হাসান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের শিষ্টাচারবোধ আসে বাস্তব জীবন যে ধরনের শিষ্টাচার আমরা অভ্যাস করি তার থেকে এবং এই শিক্ষা আমরা পরিবার থেকে পাই। বর্তমানে পরিবার কাঠামোতে পরিবর্তন আসায়, যথাযথ শিষ্টাচারবোধ তৈরি হচ্ছে না যার প্রভাব অনলাইন মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।’

    ফরিদ হোসেন বলেন, ‘ডিজিটাল সিটিজেনশিপ বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত তবে তার আগে ঠিক করা উচিত তাদের কাছে কি যাবে, কারা নিয়ে যাবে, কিভাবে নিয়ে যাবে।’

    সেমিনারে ডিনেটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এম. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘এফআরডিসি প্রকল্পের মাধ্যমে, অসংখ্য তরুণ-তরুণীরা ডিজিটাল জগতে নিরাপদে তাদের অধিকার চর্চার ব্যাপারে অবগত হতে পেরেছে। তরুণ-তরুণীরা যেন আইনের সীমার মধ্যে থেকে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

    এই সেমিনারে আলোচিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত তথ্যসমূহ প্রকল্পের ওয়েবসাইট https://www.digitalcitizenbd.com থেকে পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি এই ওয়েবসাইটে আছে তরুণদের জন্য সমাজবান্ধব বিভিন্ন বিনা মূল্যের কোর্স যা থেকে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল নাগরিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে জানতে পারবেন। পাশাপাশি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা চর্চার পদ্ধতি সম্পর্কে জানবেন। এটি তাঁদের ডিজিটাল দুনিয়ায় বিচরণের ক্ষেত্রে আচরণগত পরিবর্তন আনবে। এভাবে মানুষকে ডিজিটাল নাগরিকে পরিণত হতে সহায়তা করবে।

  • ঢামেকে  চান্স পাওয়ায় রাতুলকে সংবর্ধনা দিল মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়

    ঢামেকে চান্স পাওয়ায় রাতুলকে সংবর্ধনা দিল মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর(পাবনা)ঃ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১৭৬তম হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসি পাশ করা মেধাবী ছাত্র রাতুল হাসানকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ তেকে মেধাবী ওই ছাত্রকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল ওহাব, প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের সহ ওই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। ভর্তি পরীক্ষায় রাতুলের টেস্ট স্কোর ছিল ৮০ দশমিক ২৫ মেরিট স্কোর ২৮০ দশমিক ২৫ । তার ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল পাবনা মেডিকেল কলেজ। রাতুল হাসান সাধারণ এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষক বাবা সহ পরিবারের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকে রাতুলের মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। নিজের চেষ্টায়, পরিবারের সদস্যদের এবং চাচা আনোয়ার হোসেন লিটন ও মামা আব্দুর রাজ্জাক সহ শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় অদম্য মেধাবী এ শিক্ষার্থী নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। কোন বাঁধাই যেন দমিয়ে রাখতে পারেনি প্রত্যন্ত গ্রাম অ লে বেড়ে উঠা রাতুলের শিক্ষা জীবনের পথ চলাকে। অদম্য সেই রাতুল এবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। রাতুল পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অ ল বাড়ইপাড়া গ্রামের এক অতি সাধারণ পরিবারের সন্তান। বাবা মো.মনোয়ার হোসেন পেশায় একজন সাধারণ কৃষক ও মা মোছাঃ রেবেকা খাতুন গৃহিনী । দুই ভাইয়ের মধ্যে রাতুল বড়। ছোটবেলা থেকেই তিনি অদম্য মেধাবী ছিলেন। রাতুল বাড়ইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে প ম শ্রেণীতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০২০ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। এসএসসি পাশ করার পর পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হয়ে ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও তিনি জিপিএ-৫ পান। এছাড়া রাতুল শিক্ষাজীবনে সরকারি বৃত্তি সহ বিভিন্ন মেধা নির্বাচনী পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে। এদিকে সুজানগর উপজেলা থেকে একমাত্র ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থী রাতুলের পরিবার,তার নিজ গ্রামসহ উপজেলায় বইছে আনন্দের বন্যা। ঢাকা মেডিকেল কলেজে উপজেলার একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে রাতুল চান্স পাওয়ায় পুরো উপজেলার সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাকে। রাতুল বলেন, ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় প্রথমেই মহান আল্লাহতায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। আর সেই লক্ষ্যে আমি লেখাপড়া চালিয়ে গিয়েছি। সরকারি মেডিকেলে চান্স পেয়ে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যাতে একজন আদর্শবান ডাক্তার হয়ে নিজ গ্রামসহ আমাদের উপজেলার দরিদ্র অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি। এছাড়া তিনি আরো বলেন,আমি সাধারণ কৃষক পরিবারের একজন সন্তান হওয়ায় নিজে লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঠে বাবার কৃষি কাজেও সহযোগিতা করতাম। তার এই ভাল ফলাফলের পিছনে মা-বাবা, চাচা,মামা ও শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। রাতুল আল্লাহতায়ালার রহমত, তার চাচা ও মামার আর্থিক সহযোগিতা এবং মা-বাবাসহ সকলের দোয়া নিয়ে পড়াশুনা শেষ করে একজন ভাল ডাক্তার হতে চায় বলেও জানান। মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের বলেন, রাতুল খুবই মেধাবী ছাত্র। সে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তার কৃতিত্বে আমরা গর্বিত। এর আগেও প্রত্যন্ত অ লের এ মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করে মেধাবী ছাত্র সেলিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্স পেয়েছিল। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল ওহাব বলেন, রাতুল শুধু তার পরিবার নয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রামবাসীর মুখও উজ্জল করেছে।। তার মা এই বিদ্যালয়েই পড়াশুনা করেছে। এবং বর্তমানে রাতুলের একমাত্র ছোট ভাইও এই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে । তার শ্রেণী রোল ০১। সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ পাবনার উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহফুজুল বারী(বারী স্যার)জানান,রাতুলের সাফল্যে সত্যিই আমরা গর্ববোধ করছি। ছেলের এই সাফল্যে কেঁদেই ফেলেন রাতুলের মা-বাবা। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ছেলের সাফল্যে খুব আনন্দ হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করেছেন। আমাদের ছেলে যাতে ভালো ডাক্তার হয়ে গরিব ও অসহায় মানুষের সেবা করতে পারেন। সে জন্য সকলের দোয়া কামনা করছি। রাতুল হাসানের চাচা আনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, ছোটবেলা থেকেই রাতুল লেখাপড়ায় ছিল অদম্য মেধাবী। অবশেষে আমাদের পরিবারের সকলের প্রচেষ্টা, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ও সর্বোপরি রাতুলের নিজ প্রচেষ্টায় সে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় রাতুলকে অভিনন্দন জানিয়ে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলাম বলেন, রাতুল তার লালিত স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে একজন গর্বিত ডাক্তার হয়ে যেন দেশের সাধারণ মানুষের সেবা করতে পারেন সেই প্রত্যাশা রাখছি।

    এম এ আলিমরিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • পাইকগাছায় সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছায় সরঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    পাইকগাছা(খুলা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম এর সভাপতিত্বে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
    প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, লিপিকা ঢালী। স্বাগত বক্তৃতা করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেনের স ালনায় বক্তৃতা করেন ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোঃ ঈমান উদ্দীন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান, শেখ ফারুক হোসেন, দেবাশীষ দাশ ও ঝংকার ঢালী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোকারেম হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ রায়, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ আলী, মোঃ আঃ খালেক, নরেশ চন্দ্র মন্ডল, শেখ তফিল উদ্দীন, প্রভা রঞ্জন বিশ্বাস, প্রধান শিক্ষক বিএম আক্তার হোসেন, এসকে আসাদুল্লাহ মিঠু, ডিএম শফিকুল ইসলাম, এসএম শফিকুল ইসলাম, আশুতোষ মন্ডল, মিলি জিয়াসমিন, কোহিনুর ইসলাম, সেলিনা পারভীন, অলোক মৃধা, আঃ আলীম, ছন্দা ঘোষ, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, মহাসিনুর আযম, গগণ ঢালী, সংবাদিক আঃ আজিজ, পূর্ণ চন্দ্র মন্ডল, এছাড়া অন্যান্য প্রধান ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ অবসরপ্রাপ্ত ১শত ৭০ জন শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।

    প্রেরকঃ
    ইমদাদুল হক,
    পাইকগাছা,খুলনা।

  • মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৪র্থ পর্যায়ে পাইকগাছায় ৫২ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাবে

    মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৪র্থ পর্যায়ে পাইকগাছায় ৫২ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাবে

    পাইকগাছা(খুলা) প্রতিনিধি।।
    পাইকগাছায় মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার ৪র্থ পর্যায়ে বরাদ্দকৃত গৃহের উপভোগকারী ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ “ক” শ্রেনীর পুনর্বাসিতব্য ৫২ পরিবার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সরাসরি লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বরাদ্দকৃত গৃহের উপভোগকারী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাত হোসেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সমাজসেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আহসান, ইউপি সদস্য শংকর বিশ্বাস, বিষ্ণুপদ রায়, আজিজুল খাঁ, স্মিতা মন্ডল ও জয়ন্তী রাণী বিশ্বাস, এস এম শারাফাত হোসেন সহ ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যাক্তিবর্গ। উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সলুয়া নির্মাণাধীন ঘরের জন্য এবার আবেদন পত্র বরাদ্দকৃতের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় এবং স্বজনপ্রীতি ঠেকাতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে ৫২ ভূমিহীন ও গৃহহীন উপভোগকারীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম।

  • তেঁতুলিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫৬ হাজার অর্থদন্ড

    তেঁতুলিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫৬ হাজার অর্থদন্ড

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম,তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ তেঁতুলিয়ায় পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫৬ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরের দিকে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

    জানা যায়, উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ভজনপুর বাজারের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের বীজ ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতা মেসার্স নাঈম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলামকে সেবা মূল্যের তালিকা সংরক্ষণ এবং প্রদর্শন না করার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারায় ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার রায়সহ সঙ্গীয় ফোর্স।
    অপরদিকে, একই দিনে জেলা প্রশাসক প গড়ের নির্দেশক্রমে বাংলাবান্ধা-তেঁতুলিয়া-প গড় হাইওয়ে সড়কের দুই পার্শ্বে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গার উপর রাস্তার ঢাল দখল করে অবৈধভাবে স্তুপ করে রাখা পাথর, বালু, স্টোন ক্রাশিং ও নেটিং মেশিন অপসারণের লক্ষ্যে তেঁতুলিয়া-প গড় হাইওয়ে সড়কের বুড়িমুটকী বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে হাইওয়ে সড়কের উপর পাথর, বালু, নির্মাণ সামগ্রীর স্তুপ করে রাখার দায়ে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী এক পাথর ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা ও দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় এক ব্যক্তিকে ১ হাজার টাকা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত যানবাহন চালানোর দায়ে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।
    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ জাকির হোসেন এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার রায়সহ সঙ্গীয় ফোর্স।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
    এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

  • পঞ্চগড় আইনজীবি সমিতির নির্বাচন: প্রধান দুই পদে বিএনপি

    পঞ্চগড় আইনজীবি সমিতির নির্বাচন: প্রধান দুই পদে বিএনপি

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
    পঞ্চগড় জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম মনোনীত প্যানেল। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ প্যানেল। সমিতির সৃষ্ট ১১ পদের ৬টিই তাদের দখলে।
    সোমবার (১৩ মার্চ) দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে রাতে এই ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. অখিল চন্দ্র বর্মন।
    জানা গেছে, ১১টি পদের মধ্যে এবার শুধু সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং লিগ্যাল এইড সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। বাকী ৮ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ফলাফল আগেই ঘোষণা করা হয়েছিলো।
    সাধারণ সম্পাদক পদে ১৫৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের আব্দুল বারী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ কামরুজ্জামান পেয়েছেন ৪৬ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ১১৯ ভোট পেয় বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ মনোনীত ফখরুল হাসান তপু। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন পেয়েছেন ৮৫ ভোট। আর লিগ্যাল এইড সম্পাদক পদে ১০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের সোলায়মান হক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হুমায়ুন কবীর বিপ্লব পেয়েছেন ১০০ ভোট।
    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন- সভাপতি পদে গোলাম হাফিজ (বিএনপি), সহ-সভাপতি পদে নজরুল ইসলাম (আ.লীগ), লাইব্রেরী সম্পাদক পদে এ্যাড. জালাল উদ্দীন (আ.লীগ) এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (আ.লীগ)। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন- ইয়াসিনুল হক দুলাল (বিএনপি), জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী (আ.লীগ), মাহবুবুর রশিদ খোকন (আ.লীগ) এবং রওশন আখতার লাভলী (বিএনপি)।
    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. অখিল চন্দ্র বর্মন জানান, তিন পদের নির্বাচনে ২১৩ জন ভোটারের মধ্যে ২০৭ জন ভোট দিয়েছেন। আর তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন- অ্যাড. মনিরুজ্জামান মানিক ও অ্যাড. সোনিয়া আখতার।

  • টানা অনাবৃষ্টির কবলে ঝিনাইদহ

    টানা অনাবৃষ্টির কবলে ঝিনাইদহ

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    প্রায় ৭/৮ মাস ধরে বৃষ্টি নেই ঝিনাইদহ জেলায়। টানা এই অনাবৃষ্টির রেকর্ড আবহওয়াবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে। একশ’ বছরের ইতিহাসে এমন অস্বাভাবিক খরা-অনাবৃষ্টির কবলে পড়েনি দেশ। তাও এবার আগাম খরা। সেই সাথে চৈত্র-বৈশাখের মতোই প্রখর রোদের তেজ অনুভব করা যাচ্ছে। গত নভেস্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত একটানা এই সাড়ে চার মাসে সারা দেশে সার্বিকভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ৯১ দশমিক ৫ শতাংশই কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। অর্থাৎ বৃষ্টি ‘নেই’ হয়ে গেছে। এরমধ্যে গেল ফেব্রয়ারি মাসে ৯৪ দশমিক ৭ ভাগই অনাবৃষ্টি। অথচ মৌসুমের এ সময়ে (নভেম্বর-ফেব্রয়ারি) দেশে বিক্ষিপ্ত হালকা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এতে মাটি থাকে সতেজ। কিন্তু টানা ৭/৮ মাস যাবৎ ‘স্বাভাবিক’ ছিটেফোঁটা বৃষ্টিরও দেখা নেই। চলতি মার্চ (ফাল্গুন-চৈত্র) মাসেও দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি অর্থাৎ খরা-অনাবৃষ্টি অব্যাহত থাকারই পূর্বাভাস দিচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন ২/১ দিনের মধ্যে কালবৈশাখী ও বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। বেশ কয়েকদিন ধরে গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে। দিনে গরম ও রাতে শীতের আমেজ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। আবহাওয়াবিদদের ভাষ্যমতে খরা-অনাবৃষ্টি, তাপদাহ পরিস্থিতি সামনের দিনগুলোতে দীর্ঘায়িত হয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে। শতবছরের মধ্যে রেকর্ড খরার ঝুঁকিতে পড়ছে সমগ্র দেশ। কৃষি জমিতে সেচের পানি ও খাবার পানির ভয়াবহ সঙ্কট আসন্ন। ইতোমধ্যে জেলার অনেক এলাকার নলকুপে পানি উঠছে না। সেচের পানির টানাটানি এবং রোদে পুড়ে ফল-ফসল, শাক-সবজি ক্ষেত বিবর্ণ খাক হয়ে যাওয়ার খবর আসছে। অনাবৃষ্টির পরিস্থিতিতে জেলার কৃষি খাতে পানির সঙ্কট চরম আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। ইতমধ্যে অনেক ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মাছ চাষে পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পুকুর মালিকরা ডিজেল ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অনবরত পানি দিচ্ছেন। এতে মাছ চাষে ঝুকির সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘমেয়াদি অনাবৃষ্টির কারণে ধুলোবালির রাজত্ব কায়েম হয়েছে। রাস্তায় ধুলোর কারণে যেমন হাটাচলা করা যাচ্ছে না, তেমনি রাস্তার ধুলো ঘরে উঠছে। এতে জনস্বাস্থ্যের উপর পড়েছে ক্ষতিকর প্রভাব। জ্বর-কাশি, শ^াসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। ফল-ফসলেও বেড়েছে রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ। আবহাওয়া ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামুদ্রিক ও ভূপৃষ্ঠের আবহাওয়ায় ‘লা নিনা’ থেকে পালাবদলে ‘এল নিনো’র ধাক্কা অর্থাৎ ‘স্বাভাবিক’ বৃষ্টিপাতের ধারা পাল্টে গিয়ে খরতাপের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণেই অকালে খরা-অনাবৃষ্টি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর পেছনে দায়ী আবহাওয়া-জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব। এ অবস্থায় আবহাওয়ার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ও আচরণ এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। রুক্ষ-রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে পরিবেশ ও প্রকৃতি। এ বছর বাংলাদেশসহ বিশ^জুড়ে তাপদাহ হতে পারে আরও অসহনীয়। বাড়বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ। আমেরিকান আবহাওয়া সংস্থা ‘নোয়া’র বরাত দিয়ে অতি সম্প্রতি ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানায়, এবারের গ্রীষ্ম মৌসুম থেকেই খরা-অনাবৃষ্টি পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের কারণে খরা আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ ভরা বর্ষাকাল পর্যন্ত খরা বিলম্বিত হতে পারে। এদিকে এখন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় গরম বাতাসের একটি ‘উষ্ণ বলয়’ তৈরি হয়েছে। যার প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়ায় ‘এল নিনো’ অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর পর এ ধরনের অবস্থা তৈরি হতে দেখা যায়। বসন্ত ঋতুতেই আগাম খরা-অনাবৃষ্টির কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্টক হ্রাস পাচ্ছে। দ্রæত নিচের দিকেই নামছে পানির স্তর। কোথাও ১০ থেকে ১৫ ফুট, কোথাও তা ৩০ থেকে ৫০ ফুটও নিচে নেমে গেছে। নলকুপে পানি উঠছে না। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি রিচার্জ হচ্ছে না। ভূ-উপরিভাগে নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাওড়, জলাশয়, পুকুরসহ পানির উৎসগুলো শুকিয়ে তলানিতে ঠেকেছে। অনেক জায়গায় নদ-নদী মরা খালে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন বসন্তকালেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রির সেলসিয়াসের আশপাশে উঠে গেছে। খরা ও অনাবৃষ্টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আজগার আলী জানান, অনাবৃষ্টির কারণে ঝিনাইদহের কৃষকরা আউস ধানের বীজতলা তৈরী করতে পারছে না। এছাড়া তিল, মুগ ও পাট চাষে ঝুকি সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফল-ফসল, ক্ষেত-খামার, মাছ চাষসহ নানা ক্ষেত্রে সমস্য দেখা দিয়েছে। ভূ-উপরিভাগের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের চাপ বেড়ে গেছে। এরফলে মাটির নিচে পানির স্টক কমে আসছে।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান

  • নড়াইলে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রবাসী ছেলে হেলিকপ্টার চড়িয়ে অজপাড়া গাঁয়ে

    নড়াইলে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রবাসী ছেলে হেলিকপ্টার চড়িয়ে অজপাড়া গাঁয়ে

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলে হেলিকপ্টার চড়িয়ে মায়ের ইচ্ছে পূরণ করলেন ছেলে মায়ের স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টারে চড়া সেটি পূরণ করলেন প্রবাসী ছেলে। হেলিকপ্টারে মাকে নিয়ে ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন ছেলে শরিফুল ইসলাম। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সোমবার (১৩ মার্চ) বিকেলে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউনিয়নের কাঠাদোরা গ্রামে এ দৃশ্য দেখা যায়।
    এদিকে, এমন খবর আগেই প্রচার হয় গ্রামে। দৃশ্যটি দেখতে সহস্রাধিক লোক জড়ো হন প্রবাসীর বাড়ির সামনের মাঠ প্রাঙ্গণে। হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসার পরই মা-ছেলেকে ফুল দিয়ে বরণ করেন গ্রামের মানুষ ও তাদের আত্মীয় স্বজনেরা।
    শরিফুল ইসলাম (৩৮) কালিয়া উপজেলার কাঠাদোরা গ্রামের মৃত সাহেব উদ্দিনের ছেলে। এক যুগের ও বেশি সময় ধরে সৌদিতে থাকেন। সোমবার সকালে ঢাকায় আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
    পরে মা মালেকা বেগমের (৫৫) স্বপ্ন পূরণ করতে হেলিকপ্টার ভাড়া করেন। সোমবার বিকেলের দিকে ঢাকা পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে মাকে নিয়ে কাঠাদোরা গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে মাঠে নামেন শরিফুল ও তার মা মালেকা বেগম।
    গ্রামবাসীরা বলেন, ‘আমাদের অজপাড়া গাঁয়ে এই প্রথম হেলিকপ্টার এসে নামল। হেলিকপ্টার ও শরিফুলের মাকে দেখতে এসেছি, খুব ভাল লাগছে।
    শরিফুলের মা মালেকা বেগম বলেন, আমার আশা ও স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টারে চড়া। সেটা আমার ছেলে শরিফুল পূরণ করেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
    প্রাবসী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল হেলিকপ্টারে গ্রামের বাড়িতে আসবে। মায়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে সেই চেষ্টা করেছি। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে, আনন্দ লাগছে। অনেক দিন পর গ্রামের লোকদের দেখে খুবই ভালো লাগছে। হেলিকপ্টারে আমি, মা,আমার ছেলে, এসেছি।
    শরিফুলের আত্মীয় স্বজনরা ও খুশি হেলিকপ্টারে করে তার মাকে নিয়ে গ্রামে আসায়। তারা বলছেন এটা মায়ের প্রতি ছেলের অন্যরকম ভালোবাসা।