Author: desk

  • সারাদেশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি ও বিক্রি-স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুসহ সবাই

    সারাদেশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি ও বিক্রি-স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুসহ সবাই

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়াসহ সারাদেশে শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন বেকারী খাদ্যপণ্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করে বিক্রির করার অভিযোগ। বেকারী ও মিষ্টিজাত পণ্যের কারখানার মালিকরা এসব তৈরি করে বাজারজাত করছে।এসব খাদ্যপণ্যের কারখানাগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে মালিকদের দেখা পাওয়া যায় না। একদিকে শিশুদের খাবারে মেডিসিন দেওয়া হয়, অন্যদিকে ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি করে বিক্রি করায় শিশুসহ সকল বয়সের মানুষ অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে শিশুসহ সবাই।
    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বেকারী কারখানা ও মিষ্টির কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করছে। বিশেষ করে বেশিরভাগ মানুষ সকালে চায়ের সাথে বিস্কুট, কেক, রুটিসহ নানারকম বেকারীজাত খাবার খেয়ে থাকেন। সেই সাথে অনেকের প্রিয় মিষ্টি ও মিষ্টিজাত খাবার পছন্দ করেন। এসব খাবারের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া বাসা বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আসলে মেহমানদারিতে এসব খাদ্যপণ্য অন্যতম। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব খাবারের চাহিদাও ব্যাপক ভাবে বেড়েছে। দেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪ জেলা ও উপজেলায় প্রায় এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো বেকারী ও মিষ্টির কারখানা স্থাপন করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করা হয়।
    জানা গেছে, চট্রগ্রাম-নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও আশুলিয়াসহ সারাদেশে এখন অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করে এসব পণ্য বাজারজাত করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এইসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে মানুষের বিভিন্ন রোগ হচ্ছে। ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া, টুইন টাওয়ারের পাশে অবস্থিত ঢাকা বেকারী, কাঠগড়া এলাকায় হজরত শাহজালাল বেকারী, ভাই বন্ধু বেকারীতে সরেজমিনে গিয়ে মালিককে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বরিশাল, ভোলা ও চরফ্যাশন, খুলনা, বাগেরহাট, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, পাবনা, সুজানগর, আমিনপুর, বেড়া কাশিনাথপুর, পাবনার চাটমহর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, তাড়াশ, বগুড়া, সোনাতলা, গাবতলী, গাইবান্ধা, পলাশবাড়ি, রংপুর, দিনাজপুর, অন্যদিকে সিলেট বন্দর বাজার, জিন্দাবাজার, কাজলশাহ, আম্বরখানা, নয়াসড়ক, এদিকে উত্তরাসহ প্রায় সারা দেশের জেলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশিরভাগ বেকারী ও মিষ্টির কারখানাগুলোতে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করে তা হাট-বাজার ও দোকানে বিক্রি করা হয় বলে জানা যায়।
    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা সহকারি পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি ও বিক্রি করা অপরাধ, এ অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না। অফিস সূত্রঃ সতর্কীকরণঃ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসন ভোক্তা-অধিকার সমুন্নত রেখে ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্যাবলী প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। শুধুমাত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন, অভিযান অব্যাহত আছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
    সাম্প্রতিককালে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের গোচরীভূত হয়েছে যে, অধিদপ্তরের নামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নাম রেখে অবৈধ সংগঠন তৈরি করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি সম্মানিত ব্যবসায়ীগণকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাদের সাথে প্রতারকরা প্রতারণা করে। আদালতে শুনানীতে উপস্থিতি হওয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন উপায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ দাবী করা হচ্ছে-যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ-নীয় অপরাধ।
    টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা বলেন, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো অসাধু ব্যক্তি যদি খাদ্যপণ্য তৈরি করে বিক্রি করেন, তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ-নীয় অপরাধ, এ অপরাধ করে কেউ ছাড় পাইবে না। তিনি আরও বলেন, অপরাধী সে যেইহোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে র‌্যাব জানান, র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকের জেল জরিমানা করা হচ্ছে, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুজানগরে পানিতে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু

    সুজানগরে পানিতে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু

    এম এ আলিম রিপনঃ পাবনার সুজানগর উপজেলায় পানিতে ডুবে আপন দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(০৬ এপ্রিল) উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের নওয়াগ্রাম এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মৃত দুইজন হলো স্থানীয় নওয়াগ্রাম এলাকার মো.সাগর খানের ছেলে শাহবুদ্দিন(১০) ও বাকিবিল্লাহর ছেলে হামজা(০৯)। শাহবুদ্দিন ও হামজা আপন দুই চাচাতো ভাই। তারা দুইজনই উদয়পুর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। জানাযায়, দুই চাচাতো ভাই হামজা ও শাহবুদ্দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশে খেলা করতে যায়। খেলার সময় সবার অগচরে পার্শ্ববর্তী পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। নাজিরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুতে স্বজনেরা শোকাহত এবং গ্রামবাসী মর্মাহত। এদিকে দুই শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলাম।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • স্বরূপকাঠির গুয়ারেখা ইপি চেয়ারম্যান  বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব সিকদারের ইন্তেকাল

    স্বরূপকাঠির গুয়ারেখা ইপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব সিকদারের ইন্তেকাল

    স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি//

    স্বরূপকাঠির গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দীর্ঘদিনের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব সিকদারের ইন্তেকাল। তিনি গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় ঢাকার স্কোয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন) মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর।
    গত সোমবার ভোর রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে স্কোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যু কালে স্ত্রী, ২ ছেলে, ৩ মেয়ে রেখে গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার জোহর নামাজ বাদ রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজ মাঠে রাষ্ট্রের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার, উপজেলা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। এরপর জানাজা শেষে পূর্ন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
    তার মৃত্যুতে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী শম রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক, ইউএনও মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার, ওসি জাফর আহম্মেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, গৌতম নারায়ন রায় চৌধূরী, সমীর কুমার বাচ্চু, ফজলুল হক সেন্টু, স্বরূপকাঠি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কাজী সাখাওয়াত হোসেন, মো. হারুন অর রশিদ, স্বরূপকাঠি পৌর সভার মেয়র মো. গোলাম কবির, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈয়দ সহিদুল আহসান, সম্পাদক এসএম মুইদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সকল সদস্য ও সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

  • নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে চোরাই ব্যাটারিচালিত ইজিভ্যানসহ একজন গ্রেপ্তার

    নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে চোরাই ব্যাটারিচালিত ইজিভ্যানসহ একজন গ্রেপ্তার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে চোরাই ব্যাটারিচালিত ইজিভ্যানসহ একজন গ্রেপ্তার। নড়াইল সদর উপজেলার মূলদাইড় এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত একটি চোরাই ইজিভ্যান উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় রবিউল শেখ (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে তার নিজ বাড়ি থেকে চোরাই ভ্যান বিক্রয়ের সময় আটক করা হয়েছে। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার মূলদাইড় গ্রামের মৃত আলতাফ শেখের ছেলে। এ সময় ভ্যানের একটি চার্জার ও একটি চাবি জব্দ করে পুলিশ। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোঃ সাজেদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে বুধবার (৫ এপ্রিল) বিকালে এসআই (নিঃ) মঞ্জুর মোর্শেদ সহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে এই চোরাই ভ্যান উদ্ধার করে। চোরাই ভ্যান রবিউলসহ তার সহযোগীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করে বেচাকেনা করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
    নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার নির্দেশনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশূঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।
    Show quoted text

  • পীরগঞ্জে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত

    পীরগঞ্জে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত

    আবু জাহেদ, পীরগঞ্জ(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জে “সবার জন্য স্বাস্থ্য” এই প্রতিপ্রাদ্যকে নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গুডনেইবারস বাংলাদেশ পীরগঞ্জ সিডিপি আয়োজনে অফিস হলরুমে এই দিবস পালিত হয়।
    আলোচনা সভায় গুডনেইবারস পীরগঞ্জ সিডিপি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিপ্লব বর্ম্মনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, মেডিকেল অফিসার ডা: ফাইজুর রহমান ফাহাদ, সূর্যপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জিয়াউর রহমান, একত্তিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম, গুডনেইবারস হেলথ অফিসার মোতাসম বিল্লাহ প্রমুখ। শেষে হেলথ হাইজিং ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয় প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত হয়।

    আবু জাহেদ
    পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

  • সেখারগাড়ী সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় যেখানে দুপুর হলেই স্কুল ছুটি হয়

    সেখারগাড়ী সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় যেখানে দুপুর হলেই স্কুল ছুটি হয়

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    বুধবার দুপুর দুইটা। ঘটনাস্থল সেখারগাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলের বারান্দায় কাপড় নেড়ে দেওয়া। স্কুলের কক্ষ তালাবদ্ধ। বেলা তিনটা পর্যন্ত স্কুল খোলার কথা থাকলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কেউ নেই। একদল সাংবাদিক স্কুলে পৌছালেন। তারা জানতে পারলেন স্কুলে শিক্ষক আছে চার জন। প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শাহিন মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঠিকমতো ক্লাস করেন না। শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন। ঘটনাটি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার। গ্রামবাসি জানান, দুইটার আগেই স্কুল বন্ধ করে শিক্ষরা চলে গেছেন। প্রধান শিক্ষক সকাল থেকেই আসেননি। সাংবাদিক আসার কথা শুনে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক হাজির হলেন। তিনি আবার বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ খুলে বসলেন। তাকে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিদ্যালয়ের পাশে নতুন ভবন নির্মান কাজ চলছে। সে কারনে তাড়াতাড়ি স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। মহেশপুর উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার আবু হাসান জানান, স্কুল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলার কথা। কিন্তু স্কুল যদি বন্ধ থাকে তাহলে আপনারা রিপোর্ট কুরন, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সরজমিনে দেখা যায় ঐ স্কুলে ৫ম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী আছে মাত্র ৩ জন, কিন্ত খাতা কলমে আছে ৮জন। ৪র্থ শ্রেনীতে শিক্ষার্থী আছে ৭ জন খাতা কলমে ১২জন, ৩য় শ্রেণীতে শিক্ষার্থী আছে ৮জন, খাতা কলমে দেখানো আছে ১৬ জন। হাজিরা খাতায় দেখা যায় গত দুই দিন শিক্ষার্থীদের হাজিরা নেয়া নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসি জানান, যে স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থীই নেই, মানসম্মত ক্লাস হয়না। শিক্ষকরা খেয়াল খুশি মতো আসেন সেখানে সরকার এত টাকা খরচ করে কেন ভবন তৈরি করছেন ? তবে শিক্ষা বিভাগের একটি সুত্র জানায়, এই চিত্র গোটা জেলার। প্রতিটি গ্রামে যেখানে একটি সরকারী প্রাইমারি থাকলেই হয়, সেখানে ২/৩টি করে সরকারী প্রাইমারি স্কুল করা হয়েছে। এতে সরকারের একদিকে যেমন অপচয়, তেমনি শিক্ষার্থীর অভাব রয়েছে।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান।।

  • গোপালগঞ্জে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত

    গোপালগঞ্জে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা যৌথভাবে এ দিবসটি পালন করেছে।

    “স্মার্ট বাংলাদেশ, স্মার্ট ক্রীড়াঙ্গণ, শেখ হাসিনার দর্শন” এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (০৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বেলুন উড়িয়ে এ দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোবাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

    পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ জোবায়ের আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুল কবীর, জেলা ক্রীড়া কমর্কর্তা মো: মনিরুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।

    সভায় বক্তারা, শিশু ও তুরুন প্রজন্মকে মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে বের হয়ে মাঠে আসার আহবান জানান। তারা যেন মাঠে এসে খেলাধূলা করে সে বিষয়ে দৃস্টি রাখার জন্য মা-বাবা প্রতি আহবান জানানো হয়। #

  • গোপালগঞ্জে ব্লাস্ট রোগে নষ্ট হচ্ছে বোরো ধান, দিশেহারা কৃষক

    গোপালগঞ্জে ব্লাস্ট রোগে নষ্ট হচ্ছে বোরো ধান, দিশেহারা কৃষক

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে বোরো ধানে দেখা দিয়েছে ব্লাস্ট রোগ। এতে জমির ধান নস্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উফসি-২৮ জাতের ধানে এর প্রকোপ বেশি। রোগের প্রভাবে ধান চিটা হওয়ায় অর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। সেই সাথে ধান নষ্ট হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় করা হচ্ছে। তবে কৃষকের কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করতে না পারলেও, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

    সদর উপজেলার বোড়াশী গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বোরো মৌসুমে এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় উচ্চ ফলনশীল হাইব্রীড জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। তবে চাল সরু ও খেতে সুস্বাদু হওয়ায় কৃষকেরা হাইব্রীড জাতের পাশাপাশি উফসি-২৮ জাতের বোরো ধানের আবাদ করেন কৃষকেরা। কিন্তু জেলার বিভিন্ন ধানের ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় ধানের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। যেসব জমিতে উফসি-২৮ জাতের ধান রোপন করা হয়েছে সেখানে ধানের শীষ আসার সাথে সাথে তা পুড়ে গিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে ইঁদুর গাছের গোড়া কেটে দেয়ায় নষ্ট হচ্ছে ধান গাছ। এতে ক্ষতি মুখে পড়েছেন জেলার কয়েক হাজার কৃষক। ধার দেনা করে বোরো ধানের আবাদ করেছেন কৃষকেরা। ধান নষ্ট হওয়ায় ধার দেনা শোধ করবেন কিভাবে সেই চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। ধান নষ্ট হওয়ায় সারা বছর খাদ্যের যোগান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানাগেছে, এ বছর জেলায় প্রায় ৮১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৫৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর, উফসি জাতের ২২ হাজার ২’শ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এ বছর প্রায় ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩০৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ধান নষ্ট হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে কৃষি বিভাগ।

    বোড়াশী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো: ফোরকান মোল্যা জানান, এ বছর তিনি সোয়া তিন বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে হাইব্রিডের পাশাপাশি উফসি-২৮ জাতের ধান রোপন করেন। কিন্তু এসব গাছে ব্লাস্ট রোগ হওযায় ধান চিটা হয়ে গেছে। সেই সাথে ভাল জমিতে ইঁদুর গোড়া কেটে দেয়ায় ধান গাছ নষ্ট হচ্ছে গেছে। ফলে তিনি অর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    একই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রেজাউল করিম দাঁড়িয়া বলেন, যে সব জমিতে ২৮ জাতের বোরো ধান রোপন করা হয়েছে যে সব ধানের গাছে শীষ আসার পর ধান ফুলে উঠলে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব জমি থেকে এক ছাটাকও ধান ঘরে তোলা যাবে না। কিন্তু ধান গাছ রোগে আক্রান্ত হলেও কৃষি কর্মকর্তারা কোন ধরনের পরামর্শ দেয়নি। ফলে ক্ষতির পরিমান বেশি হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো: নূর আলম মোল্যা বলেন, আমরা যে ডিলারের কাছ থেকে ধান বীজ কিনেছি তারা কিছুই জানায়নি বীজ ভাল না খারাপ। বীজ খারাপ হওয়ায় ধান ফোলার পর রোগে আক্রান্ত হয়ে তা নষ্ট হয়ে চিটা হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিয়ে কোন উপকার করতে পারবে না। এখন সরকার যদি কোন সাহায্য সহযোগীতা না করে তাহলে আমাদের পথে বসতে হবে।

    টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহাব্বত আলী বলেন, এ বছর ২ বিঘা জমিতে বোরো-২৮ জাতের ধান রোপন করেছি। ধানের শীষ আসার সাথে সাথে তা পুড়ে গিয়ে চিটা হয়ে গেছে। এবছর একটা ধানও ঘরে তুলতে পারবো না। সারা বছর কি খেয়ে বাঁচবো সেই চিন্তায় আছি।

    এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ: কাদের সরদার বলেন, এ বছর জেলায় ৮১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। বেশিভাগ হাইব্রিড ধানের আবাদ হলেও উফসি জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। বোরো-২৮ জাতের ধান গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ জাতের গাছ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যেসব জমিতে ব্লাস্ট রোগ হচ্ছে সেসব জমির ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। ব্লাস্ট রোগ হবার সাথে সাথে আমরা কৃষকদের ছত্রাকনাশক ঔষধ স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি এবং উঠান বৈঠক করা হচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমান নিরুপণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সরকারের উচ্চমহলে পাঠানো হবে। এরপর সরকার কোন প্রণোদনা দেয়ার ব্যবস্থা করলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হবে। #

  • নোয়াখালীতে ড্রেনের পাশ থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধার

    নোয়াখালীতে ড্রেনের পাশ থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধার

    রফিকুল ইসলাম সুমন (নোয়াখালী)
    নোয়াখালীর মাইজদীতে সদর হাসপাতালের পাশে একটি ড্রেনের পাশ থেকে এক ফুটফুটে জীবিত নবজাতক কে উদ্ধার করা হয়েছে। নবজাতক ছেলে শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।৫ এপ্রিল বুধবার দুপুরে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বুধবার সকালে নোয়াখালী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড এবং নোয়াখালী সদর হাসপাতালের পশ্চিম পাশে দিনমজুর সুবল হোসেন বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে মই দিয়ে দেওয়াল টপকে সদর হাসপাতালের এরিয়ার ভেতর থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে। এরপর রক্তমাখা শিশুটিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।

    নোয়াখালী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আলমগীর হোসেন বলেন, দিনমজুর সুবল নবজাতকটিকে দেখতে পেয়ে প্রথমে আমাকে জানায়।কিন্তু কিছু গণমাধ্যম বাচ্চাটিকে সদর হাসপাতালের ওয়ালের পাশে প্রাইভেট হাসপাতালের ডাষ্টবিনে পাওয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে এটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, নবজাতক শিশুটি বর্তমানে ওয়ার্ডে ভর্তি আছে এবং সুস্থ আছে।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ড্রেন থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতকটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে
    চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। শিশুটি সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে কে বা কারা সুযোগ বুঝে বাচ্চা শিশুটি কে ফেলে রেখে গেছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।তবে ইতিমধ্যে নবজাতকটি দত্তক নেওয়ার বিষয়ে অনেকেই ইচ্ছের কথা জানান৷ ওসি জানান এখন ওই শিশুর চিকিৎসা চলছে। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না। সুস্থ হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা করা যাবে।এদিকে নবজাতক শিশুটিকে সুবল নামের যে ব্যক্তি প্রথম উদ্ধার করেছেন, তিনি জানান বাচ্ছাটিকে যদি দত্তক দেওয়া হয় তাহলে যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাকেই দেওয়া হয়।

  • জাতীয় যুব কাউন্সিলে বরিশালের প্রতিনিধি কিশোর বালা

    জাতীয় যুব কাউন্সিলে বরিশালের প্রতিনিধি কিশোর বালা

    খাইরুল ইসলাম মুন্না।

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের অধীনে গঠিত হলো দেশের প্রথম জাতীয় যুব কাউন্সিল। বাংলাদেশের যুবদের অধিকার, আত্মকর্মী তৈরি ও বেকারত্ব নিরসন সহ দক্ষ যুব তৈরিতে এই কাউন্সিলের ভূমিকা হবে অগ্রগণ্য। উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে কাউন্সিলের সাধারণ পরিষদের গেজেট প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এতে বরিশাল জেলার যুব কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দীর্ঘ ১৬ বছরের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন যুব সংগঠক কিশোর চন্দ্র বালা।
    কিশোর বালা ১৯৯৬ সালে বরিশাল শহরে জন্মগ্রহন করেন, তার পিতা রতন চন্দ্র বালা, মাতা মিতা রানী বালা, তিনি শিক্ষা জীবনে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অমৃত লাল দে কলেজ ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রথম বিভাগে স্নাকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
    দূরন্ত এই কিশোর পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই প্রতিবেশি শিশুদের পড়াতে শুরু করেন এবং সাহিত্য পাঠ, সংস্কৃতি চর্চা, সহশিক্ষা মূলক কার্যক্রম অনুশীলনের মধ্য দিয়েই পার করেন বাল্যকাল।
    তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই কাব স্কাউট দলে যোগদান করেন ২০০৩ সাল থেকে অদ্যাবধি স্কাউট আন্দোলনের সাথে জড়িত রয়েছেন। পালন করেছেন বিভিন্ন পদের দায়িত্ব এর মধ্যে PL,SPL,SRM,DSRM, কাব ও স্কাউট লিডার ইন্সট্রাক্টর, রোভার স্কাউট লিডার প্রভূত। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের মনোনয়নে বরিশাল বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ রোভার হিসেবে ইনভেটিভ এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
    এডভেঞ্জার প্রিয় কিশোর মাদক নির্মূল ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে পাঁচ দিনের সফরে পায়ে হেঁটে বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১৬১ কিলোমিটার অতিক্রম করেন। ২৭ বছরের এই জীবনকালে বহু সাংস্কৃতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, এর মধ্যে শালিণ্য স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন নামে একটি যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন  এবং সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ব্রজমোহন কলেজে অধ্যয়নকালে সাংস্কৃতিক সংগঠন উত্তরণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্র ইউনিয়ন কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন। ধ্রুবতারা উউথ ডেভেলপমেন্ট ফাইন্ডেশন বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি, তানসেন সংগীত বিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, বরিশাল শিল্পমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক, মুকুল মিলন খেলাঘর আসরের আহবায়ক, কীর্তনখোলা মুক্ত রোভার দলের রোভার স্কাউট লিডার সহ অর্ধশতাধিত সংগঠনের সাথে রয়েছে সম্পৃক্ততা।
    সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে পদচারণা, বরিশালের ৩২টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের জোট বরিশাল সাংস্কৃতি সংগঠন সমন্বয় পরিষদের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন তিনি। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমন কাহিনী যা প্রকাশিত হয়েছে তারমধ্যে অন্যতম- অপরাজিত বাঙালি, ক্ষুধার দানব, মুক্তি আসবেই, জীবনানন্দের সাথে দেখা, ব্যাকবেঞ্চার, চৈত্রের অভিযাত্রী ইত্যাদি।
    কবিতা লিখতে ও আবৃত্তি করতে পছন্দ করেন। আগামী বই মেলায় তার বই প্রকাশের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক অবক্ষয়, পরিবেশ রক্ষায় দূষণ বিরোধী, দুর্নীতি ও ধর্ষণ বিরোধীসহ সড়ক আন্দোলনের মত বড় বড় আন্দোলনে সামনের সারীতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সোচ্চার রয়েছেন। তিনি অবসরে গ্রামে ঘুরতে ও মানুষের সাথে মিশতে পছন্দ করেন। খুব সাদাসিধে পোশাক বলতে পাঞ্জাবী পড়তে বেশি পছন্দ করেন। তার গোঁফ ও হাসির প্রশংসা রয়েছে পরিচিত মহলে।
    দীর্ঘ ১৬ বছরের সাংগঠনিক জীবনে কয়েক হাজার শিশু ও যুবকে শিখিয়েছেন নানান দক্ষতার পাঠ, পেয়েছেন “জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭”।
    কবিতা আবৃত্তি, দলীয় সংগীত, লেখালেখির পাশাপাশি নাটকের জগতেও বিচরণ রয়েছে তার, ইতোমধ্যে নাটক লেখা ও নির্দেশনা দিয়ে মঞ্চস্থ করেছেন বেশ কয়েকটি নাটক। প্রযোজনা করেছেন পট গানের।  এছাড়াও মঞ্চ নাটক ও টেলিভিশনের পর্দায়ও নাটকে অভিনয় করেছেন কিশোর।
    কর্মজীবনে শিক্ষকতা ও কর্পোরেট জব সহ নানান এনজিওতে ট্রেনিং ফ্যাসিলেটেটর হিসেবে কাজ করছেন তিনি, কিন্তু সবকিছুর অবসরে বরিশালের শিশু ও যুবদের জন্য নিয়মিত কাজ করাই তার একমাত্র লক্ষ্য। প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনসহ স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিকট পরিচিত নাম কিশোর।
    কর্মজীবী নিরক্ষর মায়েদের জন্য তৈরি করেছেন স্যাটেলাইট স্কুল।  সেখানে সপ্তাহে একদিন তিনি নিজেই পাঠদান করেছেন। এছাড়াও বহু দরিদ্র শিক্ষার্থীর শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। চড়ের মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প নানান বিষয়ে সচেতন বার্তা, জীবন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণসহ, ঈদ-কোরবানিতে সহযোহিতার সংস্থান করে যাচ্ছেন তিনি।
    শ্রমজীবী নিপীড়িত দরিদ্র মানুষের অধিকার আদায়ে ও দুঃখ কষ্টের সহমর্মী প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কিশোর। কিশোর জানান তিনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীতি প্রণয়নকারী পরিষদের সদস্য হতে চান এবং কৃষিকাজ ও শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ করতে চান তিনি।