উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা এলাকায় ড্যান্ডি আঠা সেবনের দায়ে মাদকসেবী এক যুবককে ৪৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।( ১৭ এপ্রিল) বিকালে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম আহমেদ এই রায় দেন। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) শিশির কুমার সঙ্গীয় ফোর্সসহ মহিষখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তরিকুল ইসলাম(২৫)কে কৌটা ড্যান্ডি আঠা সেবনরত অবস্থায় আটক করে। সে অত্র এলাকার ইলিয়াস মোল্যার ছেলে। পুলিশ সুপার নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।
Author: desk
-

নড়াইলে ড্যান্ডি আঠা মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড
-

জাতীয় মাছ ইলিশ ও কিছু কথা
লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদ পদ্মার ইলিশ চেনার একটি মোক্ষম উপায় বােল দিয়েছেন আমাদের। ইলিশ রান্নার একটি বইয়ের ভূমিকা লিখতে গিয়ে সেখানে তিনি লিখেছেন- ইলিশ দ্রুত বেগে ছুটতে গিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর উপর নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজের স্প্যানে ধাক্কা খেয়ে ওদের নাক বোঁচা হয়ে যায়। আর নাক ভাঙা সেই ইলিশগুলোই নাকি আসল পদ্মার ইলিশ। ইলিশের প্রতিটি ঝাঁকে কম করে হলেও এক-দুই লাখ মাছ থাকে। অনেক সময় আরো বেশিও থাকতে পারে। এখন তো ইলিশের খরা চলছে।
কবি সতেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯১৫ সালে একটি কবিতা লিখেছিলেন- হালকা হাওয়ায় মেঘের ছাওয়ায়/ইলশে গুঁড়ির নাচ/ইলশে গুঁড়ির নাচন দেখে/নাচছে ইলিশ মাছ। এই ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি নামটা কিন্তু এমনি এমনি হয়নি। অতি সামান্য ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে নদীর পানির সঙ্গে মিশে থাকা ইলিশের একমাত্র খাদ্য ফাইটো প্লাঙ্কটন (সবুজ শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ) পানির উপরের স্তরে ভেসে ওঠে। আর সেগুলো খেতে ইলিশের ঝাঁকও উঠে আসে নদীর উপরে। পদ্মার ইলিশের স্বাদ অতুলনীয় হওয়ার মুখ্য কারণটিই হচ্ছে, বর্ষা-মৌসুমে এই সবুজ শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ পদ্মা নদীতে পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি।
ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম:Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি একটি সামূদ্রিক মাছ, যা ডিম পাড়ার জন্য বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের নদীতে আগমন করে। বাঙালিদের কাছে ইলিশ খুব জনপ্রিয়। এ ছাড়াও ইলিশ খাদ্য হিসেবে ভারতের বিভিন্ন এলাকা যেমন, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আসামেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। ২০১৭-এ বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
বাংলা ভাষা, ভারতের আসাম এর ভাষায় ‘ইলিশ’ শব্দটি পাওয়া যায় এবং তেলেগু ভাষায় ইলিশকে পোলাসা (তেলুগু: పులస Pulasa বা Polasa) আখ্যায়িত করা হয়। পাকিস্তানের সিন্ধ ভাষায় বলা হয় (সিন্দু: پلو مڇي Pallu Machhi), ওড়িয়া ভাষায় (ওড়িয়া: ଇଲିଶି Ilishii) গুজরাটে ইলিশ মাছ মোদেন (স্ত্রী) বা পালভা (পুরুষ) নামে পরিচিত। ইলিশ অর্থনৈতিক ভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ গ্রীষ্মমন্ডলীয় মাছ। বঙ্গোপসাগরের ব-দ্বীপাঞ্চল, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদীর মোহনার হাওরে থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ ধরা হয়। এটি সামুদ্রিক মাছ কিন্তু এই মাছ বড় নদীতে ডিম দেয়। ডিম ফুটে গেলে ও বাচ্চা বড় হলে (যাকে বাংলায় বলে জাটকা) ইলিশ মাছ সাগরে ফিরে যায়। সাগরে ফিরে যাবার পথে জেলেরা এই মাছ ধরে। এই মাছের অনেক ছোট ছোট কাটা রয়েছে তাই খুব সাবধানে খেতে হয়।
আর পদ্মায় সাধারণত তিন রকম ইলিশ পাওয়া যায়। পদ্ম ইলিশ, চন্দনা ইলিশ আর গুর্তা ইলিশ। পদ্ম ইলিশের দেহ চকচকে রুপোলি এবং পিঠের দিকে সবুজ আভা। পদ্ম ইলিশের মধ্যে মেয়েরা পুরুষের চেয়ে আকারে একটু বড়। চন্দনা ইলিশের দেহে রুপোলি হলেও পিঠে কালো, হলুদ ও কমলা রঙের ছটা থাকে। এদের প্রকৃত আবাস সমুদ্রে, তবে নদী মোহনায় এদের কখনো কখনো পাওয়া যায়। কারণ বর্ষাকালে এরা মাঝে মাঝে নদীতে বেড়াতে আসে। আকারে এরা পদ্ম ইলিশের চেয়েও ছোট। ‘গুর্তা ইলিশ’ মূলত এরা উপকূলীয় সাগর এবং সাগর মোহনায় বাস করে।নদীর মোহনা থেকে সাত-আট কিলোমিটারের মধ্যেই এদের চলাফেরা করতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের কাছে চন্দনা ও গুর্তা ইলিশের জীবনযাত্রা এখনো রহস্যজনক।
আর বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন নদী থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়লেও একদল সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতিনিয়তই ইলিশের দাম ওঠা-নামা করে। আর এই সিন্ডিকেট চক্রের জন্যই নাকি ইলিশের প্রকৃত মূল্য পায় না গরিব মৎস্যজীবীরা। লাভবান হন সিন্ডিকেটের হোতারা।এ প্রসঙ্গে একটি গল্প মনে পড়ে গেল, ১২৭২ খিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে রাজা প্রথম অ্যাডওয়ার্ডের রাজত্বকালে একটি রাজকীয় সনদের মাধ্যমে লন্ডন শহরে প্রথম মৎস্য ব্যবসায়ীদের সমিতি করার অনুমতি প্রদান করা হয়। অ্যাডওয়ার্ডের উদ্দেশ্য ছিল মহৎ। তিনি আইন করে দিয়েছিলেন যে মৎস্য ব্যবসায়ীরা এক শিলিং-এ এক পেনির বেশি মুনাফা করতে পারবে না। সেই সঙ্গে বিদেশি কোনো ব্যবসায়ীকেও অংশীদার হিসেবে নিতে পারবে না মৎস্য ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মৎস্যজীবী সমিতি আসলে সমিতির অন্তরালে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাছের ব্যবসায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার শুরু করে দেয়। এক সময় এই সিন্ডিকেট সদস্যরা এতটা বিত্তশালী ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে তাদের কেউ কেউ প্রচুর অর্থ খরচ করে বিভিন্ন শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়ে যায় এবং আরও বেশি করে ক্ষমতা খাটাতে থাকে। আর এ কারণে দ্বিতীয় অ্যাডওয়ার্ড ক্ষমতায় এসেই পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করেন যে, মাছ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউই আর মেয়র হতে পারবে না।
ইংল্যান্ডে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ছিল সেই আট-ন’শ বছর আগে। অথচ আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তির এই একবিংশ শতকেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জন্য বঞ্চিত হচ্ছে, মেহনতি গরিব মৎস্যজীবীরা। পাঠকদের জন্য একটি বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরা হলো।
বিগত বেশ কিছু বছর ধরে ইলিশ মাছের উপর গবেষণা করছেন দিগেন বর্মন নামে এক মৎস্য অনুরাগী। তিনি বঙ্গোপসাগর ও দিঘাতে বেশ কয়েক বছর ধরে ইলিশ মাছ ধরছেন, এমন কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলে অবাক হয়েছেন, যখন তারা তাকে বলেছে- “এবার আমরা সমুদ্রে অনেক ছোট ছোট ইলিশ মাছ ধরেছি। যা আমরা বিগত ২০ বছরের মধ্যে কখনো দেখিনি। কিন্তু সিন্ডিকেট এর কারনে দাম কমছে না কোন ভাবে।
যদিও ইলিশ লবণাক্ত পানির মাছ বা সামুদ্রিক মাছ, বেশিরভাগ সময় সে সাগরে থাকে কিন্তু বংশবিস্তারের জন্য প্রায় ১২০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করে ভারতীয় উপমহাদেশে নদীতে পারি জমায়। বাংলাদেশে নদীর সাধারণ দূরত্ব ৫০ কিমি থেকে ১০০ কিমি। ইলিশ প্রধানত বাংলাদেশের পদ্মা (গঙ্গার কিছু অংশ), মেঘনা (ব্রহ্মপুত্রের কিছু অংশ) এবং গোদাবরী নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এর মাঝে পদ্মার ইলিশের স্বাদ সবচেয়ে ভালো বলে ধরা হয়। ভারতের রূপনারায়ণ নদী, গঙ্গা, গোদাবরী নদীর ইলিশ তাদের সুস্বাদু ডিমের জন্য বিখ্যাত। ইলিশ মাছ সাগর থেকেও ধরা হয় কিন্তু সাগরের ইলিশ নদীর মাছের মত সুস্বাদু হয় না। দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশেও এই মাছ পাওয়া যায়। সেখানে মাছটি পাল্লা নামে পরিচিত। এই মাছ খুব অল্প পরিমাণে থাট্টা জেলায় ও পাওয়া যায়। বর্তমানে সিন্ধু নদীর জলস্তর নেমে যাওয়ার কারণে পাল্লা বা ইলিশ আর দেখা যায় না।
কথায় বলে মাছের রাজা ইলিশ টিভি বিজ্ঞাপনে নব্বই দশকের সাড়া জাগানো একটি স্লোগান পর আজও মানুষের মুখে মুখে। ইলিশ পছন্দ করে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। পদ্মার ইলিশের কথা ভাবতেই অনেকের জিভে পানি এসে যায়। ইলিশ দিয়ে নানা রকম মুখরোচক রান্না হয়।
যেমন সরষে ইলিশ, ইলিশ পোলাও, ইলিশ দোপেঁয়াজো, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ ভাজা, কলা পাতায় ইলিশ, স্মোকড ইলিশ, ইলিশের মালাইকারি, ইলিশের টক ইত্যাদি। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
একটি ইলিশের সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ৬০ সেমি.। বড় আকারের ইলিশের ওজন হয় প্রায় ২.৫ কিলোগ্রাম। স্ত্রী মাছ দ্রুত বাড়ে এবং সচরাচর পুরুষ ইলিশের চেয়ে আকারে বড় হয়। এ মাছ এক থেকে দুই বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ইলিশ সারা বছর সাগরে থাকে। শুধু ডিম পাড়ার সময় নদীতে আসে। নদীর ইলিশ বেশি উজ্জ্বল, কিছুটা রূপালী হয়। সাগরের ইলিশ লম্বা, সরু হয়। সাগরের ইলিশ তুলনামূলক কম উজ্জ্বল হয়।
মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ইলিশ বিষয়কপ্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, সাগর থেকে ইলিশ যখন ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে, মানে উজানে আসে তখন নদীর যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী খায়। ইলিশ মাছ তার কারণে তার শরীর বেটে ও মোটা হয়। নদীর ইলিশ তুলনামূলক স্বাদ ভালো হয়। কারণ, সমুদ্র থেকে ইলিশ নদীতে ঢোকার পরে নদীর উজানে মানে স্রোতের বিপরীতে যখন চলে, সে সময় এদের শরীরে ফ্যাট বা চর্বি জমা হয়। এই ফ্যাট বা তেলের জন্যই ইলিশের স্বাদ হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮৬ শতাংশই বাংলাদেশে আহরণ করা হয়।
আর বাংলাদেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৬০ ভাগ আসে বরিশাল অঞ্চল থেকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯০ হাজার টন। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ সমাপ্ত অর্থবছরে সেই রেকর্ড ভেঙে এখন পর্যন্ত ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ ৩৩ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত ১১ বছরের ব্যবধানে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ।
তথ্যানুযায়ী, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। বর্তমানে ১২৫ থেকে ১৩০টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে ইলিশের অভয়াশ্রম।
ইলিশ উৎপাদনের অব্যাহত প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশকে ইলিশ উৎপাদনের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ রয়েছে প্রথম স্থানে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার কারণে বাংলাদেশে গত তিন বছরে দেশের ইলিশের উৎপাদন আকৃতি ও ওজন বেড়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদন বাড়লেও অন্য দেশগুলোতে কমেছে। উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি ইলিশের গড় দাম গত এক বছরে ২০ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ নানা দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়। ইলিশের জীবনচক্র বেশ বৈচিত্র্যময়। খাদ্য বিষয়ক লেখক শওকত ওসমান জানান, ইলিশ সমুদ্র থেকে এসে নদীতে ডিম ছাড়ার পর বাচ্চা ইলিশ আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। অন্য সব মাছের চেয়ে ইলিশের প্রজনন ক্ষমতা বেশি।
বড় আকারের একটি ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ইলিশ সারা বছর ডিম পাড়লেও সবচেয়ে কম পাড়ে ফেব্রুয়ারি-মার্চে এবং সবচেয়ে বেশি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। ইলিশ নীল-সবুজ শৈবাল, ডায়াটম, ডেসমিড, কোপিপোড, রটিফার ইত্যাদিও খেয়ে থাকে। তবে এদের খাদ্যাভ্যাস বয়স ও ঋতুর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পুষ্টিগুণে ইলিশ অনন্য।
মাছে ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং মাছের আকালে মানুষের পাতে ভাতের সঙ্গে মাছ রাখা কঠিন হয়ে গেছে। জাতীয় মাছ ইলিশ যে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে কিনে খাবেন সে উপায়ও নেই। সাগরের গহিনে নিরাপত্তার অভাবে ভারত ও মিয়ানমারের দিকে মৎস্যসম্পদ চলে যায়। আবার দেশে যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে তার কিছু অংশ পুঁজার উপহার হিসেবে ভারতে পাঠানো হয়। এতে করে দেশের সাধারণ মানুষের ভাতের প্লেটে ইলিশ দূরহ হয়ে পড়ে। কিন্তু মৎস্যবিজ্ঞানীদের সুপারিশ অনুযায়ী ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের ‘প্রজননের সময় ইলিশ ধরা’ নিষিদ্ধ উদ্যোগে সফলতা এসেছে। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করায় এবার ডিম ছেড়েছে ৮৪ শতাংশ মা ইলিশ। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চলতি বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক মা ইলিশ নদীতে ডিম ছেড়েছে। বলা যায় ইলিশ উৎপাদনে এবার বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে।
জানা যায়, নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করায় উপকূলের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে প্রায় ৮৪ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। এরমধ্যে ৫২ ভাগ মা ইলিশ ২২ দিনের মূল প্রজননকালীন সময়ে সম্পূর্ণ ডিম ছাড়ে। পরবর্তী ৭ দিনে বাকি ৩২ শতাংশ ডিম ছেড়েছে। বিভিন্ন নদ-নদীতে তিনটি ধাপে চালানো গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ ফলাফল পেয়েছে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
এদিকে জেলে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী জাটকা রক্ষার অভয়াশ্রম কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে এবার ইলিশ উৎপাদনে এক বিপ্লব ঘটবে। গবেষকেরা বলছেন, ইলিশে আবার সুদিন ফিরছে। মৎস্যবিজ্ঞানীদের দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করায় এবার কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন সম্ভব হবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) এক গবেষণায় বলা হয়, বলেশ্বর নদ দেশের ইলিশের বড় উৎস। সেখান থেকে বছরে আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ইলিশ আহরণ করা সম্ভব। বলেশ্বর নদের মোহনায় বিষখালী, পায়রা, আন্ধারমানিক ও লতাচাপলী নদ-নদী এসে মিশেছে। ওই পথ দিয়ে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ বঙ্গোপসাগর থেকে নদের উজানে প্রবেশ করে। বলেশ্বর নদের সঙ্গে পূর্ব সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খাল যেমন ভোলা নদী, বেতমোরী গাঙ, সুপতি খাল, দুধমুখী খাল ও ছোট কটকা খাল এসব সংযুক্ত। বলেশ্বর নদ হয়ে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ এসব খাল ও নদ-নদীতে প্রবেশ করে।
মৎস্য অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ৩.৮৮ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩.৯৫ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪.৯৭ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫.১৭ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫.৩৩ লাখ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫.৫ লাখ মেট্রিক টন এবং গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৫.৬৫ লাখ মেট্রিক টন।অনেক বাঙালি হিন্দু পরিবার বিভিন্ন পূজার শুভ দিনে জোড়া ইলিশ বা দুই টি ইলিশ মাছ কেনে। সরস্বতী পূজা ও লক্ষ্মী পূজায় জোড়া ইলিশ কেনা খুব শুভ লক্ষন হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু এই প্রথা পূর্ব বাংলার (আজকের বাংলাদেশের) বাঙ্গালী হিন্দুদের মাঝে প্রচলন ছিল এখন যাদের অনেকেই ভারত বিভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে, আসাম ও ত্রিপুরায় বাস করে। তাদের অনেকে লক্ষ্মী দেবীকে ইলিশ মাছ উৎসর্গ করে। অনেকেই ইলিশ উৎসর্গ ছাড়া পূজাকে অসম্পূর্ণ মনে করে।
লেখক: মো. হায়দার আলী।
-

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
বাবুল হোসেন পঞ্চগড়;
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা সোমবার (১৭ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আজাদ জাহান সভায় সভাপতিত্ব করেন।সভায় অব. অধ্যাপক হাসনুর রশিদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সানিউল কাদের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান শেখ, সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রিয়াজউদ্দিন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবধন বর্মণ , মো. সায়খুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী শহীদুল ইসলাম শহীদ বক্তব্য দেন। সভায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জামিল চৌধুরী ডলার, সাংবাদিক সফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এবং ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোকপাত করে বলেন, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের শিক্ষা ও চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা ও শক্তি জোগাবে। মুজিবনগর দিবসের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে আলোচনা সভায় পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এটিএম সারোয়ার হোসেন. সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বক্তব্য দেন। শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এর আগে, দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
-

আরএসপি-৭০ নকশা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় ;
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের সর্দারপাড়া মৌজার নতুন ভূমি জরিপে আরএস নকশায় গড়মিল করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।এ নিয়ে ওই মৌজার অধিবাসীরা সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে আরএসপি-৭০ নকশা বাতিল করে ব্লুপ্রিন্ট নকশা প্রণয়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারের তেঁতুলতলায় ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে ওই মৌজার প্রায় দুই শতাধিক জনগণ উপজেলা অফিসে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহামদুর রহমান ডাবলু সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, আহসান হাবীব, খজিব উদ্দিন আহমেদ, মোজাম্মেল হক, সামিউল করিম প্রমুখ৷ তারা বলেন, ২০০৮ সালে তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় নতুন করে আর এস জরিপ শুরু হয়। এসব মৌজায় পূর্বের এসএ নকশার হুবহু আরএস ব্লুপ্রিন্ট নকশা তৈরি করা হয। এই সময় সর্দারপাড়া মৌজার দুটি নকশার মধ্যে ২নং নকশাতেও ব্লুপ্রিন্ট অনুযায়ী নকশা প্রস্তুত করা হয়। একই সময়ে এই মৌজার ১নং নকশার কাজ শেষ না করেই নকশা কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
২০২০ সালে পুনরায় এই নকশার আরএস কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ব্লুপ্রিন্ট নকশা না করে পি-৭০ শিরোনামের নকশা প্রস্তুত করা হয়। এই নকশায় জমির দাগের গরমিল হয়ে যায়। এসএ নকশার সঙ্গে কোনো মিল না থাকায় নকশায় নিজস্ব জমি চিহ্নিত করতে পারছেন না ভূমি মালিকরা। একটি দাগ ভেঙে অন্য দাগের সঙ্গে মিলিয়ে ৮/১০টি নতুন দাগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে ভূমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে তেঁতুলিয়া সেটেলমেন্ট অফিসে এই মৌজার ৩০ ধারায় আপত্তি গ্রহণ চলছে। আরএস নকশায় গরমিল থাকায় একজন ভূমি মালিককে একটি দাগের বিপরীতে অন্তত ৫/৬টি আপত্তি (ডিসপুট) দাখিল করতে হচ্ছে। আপত্তি দাখিলের সরকারি ফি ৮০ থেকে ১০০ টাকা হলেও প্রতি আপত্তিতে নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। তাই সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তারা।
এদিকে এই মৌজার অধিবাসীরা গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে দিনাজপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে অভিযোগটি করা হয়।
-

নড়াইলে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলে পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ছয়জন। নড়াইলের বিভিন্ন মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভূক্ত আসামিসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, চেক জালিয়াতি মামলায় ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মনিরুল ইসলাম(৪৫) কে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে লোহাগড়া থানা পুলিশ। সে অত্র উপজেলার দেবী গ্রামের জনৈক আব্দুস শুকুরের ছেলে। অপর এক অভিযানে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাহাজান মোল্যাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। সে সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের জনৈক মনা মিয়ার ছেলে। এছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে সদর থানাধীন বল্লারটোপ গ্রামের মুন্না শেখ ওরফে শামীম, কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামের আবু হুরায়রা, নড়াগাতি থানাধীন পার বাঐসোনা গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও কালিনগর এলাকার বাসিন্দা ওহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার নির্দেশনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। -

তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং, উত্তরাঞ্চলের জনজীবন অতিষ্ঠ
মোঃ হায়দার আলী রাজশাহী থেকেঃ রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ছে। ৪২ ডিগ্রী ছুঁই ছুঁই তাপমাত্রায় পুড়ছে মানুষ, সবুজ প্রকৃতি, ফসল, ইরিধান, আম, লিচুসহ শাকসবজির ক্ষেত। রুক্ষ আবহাওয়ায় গাছের পাতাও যেন নড়ছে না। সে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ যাওয়ার পর আসার নাম নেই। রোজা মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাহিল হয়ে পড়েছে। ২১ রমজান, ২৩ রমজান ও রমজানে রাত্রী জাগারণ করতে আশা মুসাল্লীগণ সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়েছেন। বিদ্যুৎ যাওয়ারপর ১ ঘন্টা/ দেড় ঘন্টা পর আসে কিছুক্ষন থাকার পর আবার চলে যায়। মানুষের জামা, পাঞ্জাবীসহ পরিধানের সকল বস্ত্র ভিজে যায়। নফল নামাজ, কুরআর পড়তে পারছেনা। গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী মসজিদ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবলু রাত্রী জাগারণ করতে এসে বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদ থেকে বেরিয়ে ইমামসহ কয়েকজন রাস্তায় দাঁডিয়ে ছিলেন রাত দুটার সময় এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয়। তিনি জানান বিদ্যুৎ আসে ফের চলে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ আসার নাম কথা নেই। অন্তত রাত জাগার দিন বিদ্যুৎ ঠিকভাবে দিলে মানুষ ভালভাবে আল্লাহর প্রার্থনা করতে করতে পারেন। তারাবি, ফরজ নামাজের সময় লোডশেডিং নিয়মে পরিনত হয়েছে। এখান থেকে মানুষ পরিত্রান পেতে চাই। এ বিদ্যুৎ বিভাগসহ সরকারের উদ্ধোর্তন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করি। একই মন্তব্য করেন ইমাম মাও. সৈয়বুর রহমান, মুসাল্লী ইমাম আলি, নাজিমুদ্দিন ও সাদেকুল ইসলাম।
সকালের সূর্য উদয় হচ্ছে আগুনের হলকা নিয়ে। দশটার মধ্যেই উত্তপ্ত হচ্ছে আবহাওয়া। সময় যত গড়ায় তাপদাহ ততই বাড়তে থাকে। এর সাথে মরা পদ্মার বিশাল বালিচর হচ্ছে তপ্ত কড়াই। সেখান থেকে ভেসে আসছে তপ্ত বালি। যা চোখে মুখে জ্বালা ধরাচ্ছে।
সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছে টিনের চালার ঘরের বসবাসকারী মানুষ। তাপ যেন টিন চুইয়ে নীচে নামছে। ফলে ঘরে থাকাও যেন দায় হয়ে পড়েছে। তাপদাহের কারণে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা ঘরে ফিরলেও সেখানও স্বস্তি নেই। বড় বড় দালাকোঠা ছাদের উপরের পানির ট্যাঙ্কিও ফুটন্ত পানির আধারে পরিণত হচ্ছে। রাস্তার পিচ গরমে গলে হালকা ভারী যানবাহনে চাকা পিচে দেবে যাচ্ছে। প্রচন্ড গরমে হাঁসফাস করছে মানুষ, পশু পাখি। একটু স্বস্তি মিলছে না কোথাও। সবাই চেয়ে আছে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টির দিকে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস বলছে, এখন এটি তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে এ অঞ্চলের উপর। ফলে বৃষ্টির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে এ অঞ্চলে। কয়েক দিনের টানা দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এদিকে প্রকৃতিও যেন নীরব হয়ে গেছে। দিনের বেলায় দূরে থাক রাতেও গাছের পাতাও নড়ছে না। বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকায় মাথার ওপরে ফ্যানটাও দিচ্ছে গরম বাতাস। কয়েকদিন ধরেই রাজশাহীর আবহাওয়ার আর তেমন কোনো হেরফের হচ্ছে না। প্রতিদিনই ৪১ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
এদিকে তীব্র দাবদাহের কারণে করোনার মধ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে বেড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা। বিশেষ করে হাসপাতালের তিনটি শিশু ওয়ার্ডে যেন ধাপ ফেলার যায়গা নেই। বেডে ফ্লোরে সবখানেই গরমজনিত কারণে রোগী আর রোগী। একদিকে করোনা অন্যদিকে গরমজনিত রোগীর চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
নাম না প্রকাশ না করা শর্তে একজন এমবিবিএস ডাক্তার জানান, রাজশাহীর তাপমাত্রা কেবলই বাড়ছে। এতে করোনার মধ্যে ঘরে ঘরে আবার ডায়রিয়া, হিটস্ট্রোক, হিস্টিরিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের দুর্ভোগ বেড়েছে এ তীব্র গরমে। তাই এ সময় বয়বৃদ্ধ ও শিশুদের রোদে না বের হয়ে ঠান্ডা পরিবেশের মধ্যে থাকার জন্য বলেন। এছাড়া বিশুদ্ধ পানি, ডাব ও দেশি ফলমূল বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।গোদাগাড়ীর মহিশালবাড়ীর রিকশা চালক এস.কে রুবেল বলেন, রেলগেট থেকে যাত্রী নিয়ে বেলা ১১টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলা পৌঁছান তখন তার মাথা শরীর ঘেঁমে যাচ্ছিল, রোজাদার রিকশাচালক বড় টায়ার্ড । তিনি এবার গরমের কষ্টটা একেবারেই মাত্রাছাড়া, অসহনীয়। তিনি বলেন, ‘একবার খ্যাপ টানলেই গরমে কাহিল হয়ে পড়ি। গরমে রিকশা টানতে গেলেই কলিজা শুকাইয়া যায়। এত গরম আমার জন্মে দেহি নাই। আগে দিনে ৭শ থেকে ১ হাজার টাকা কামাই করতে পারতাম। এখন ৫ শ থেকে ৭শ’ টাকার বেশি হয় না। ভ্যান চালক নয়ন একবার ভাড়া নিয়ে গিয়ে আর একবার খালি ভ্যান নিয়ে আসতে হয় গরমের কারনে মানুষ রাস্তায় বের হয়না।
শুধু রিকশাচালক রুবেল ভ্যানচালক নয়ন নয়, প্রচন্ড এই গরমে এমন আরো অনেকেরই আয় কমে গেছে। কৃষি শ্রমিক এনামুল হক বলেন, কাজ নেই একদিন কাজ পেলে অন্যদিন বসে থাকতে হয়। জমানো টাকাগুর ঘরবাড়ী করার জন্য রেখে ছিলাম তাও শেষ হয়ে গেল। মহিশালবাড়ী ফলের দোকান নিয়ে বসে আছেন সুমন আলী। তিনি বলেন, এই তাপদাহে লোকজন রাস্তা ঘাটে অনেক কম। বেচা-বিক্রি আগের অর্ধেকে নেমে এসেছে। রোজার দিন বলে বিকেলের দিকে কিছুটা বিক্রি হয়। গরমের মধ্যে সারাদিন বসে থেকেও সে রকম ব্যবসা হয় না।
বর্গাদার কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, জমিতে পানি দিতে সারারাত জেগে পানি না পেয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এর কারনে। ডিপটিউবল গুলোতে কৃষকদের লম্বা লাইন, ১০/১২ দিন পর পানি পাচ্ছি, খরার কারনে পানিও বেশী লাগছে। সেচচার্জ বৃদ্ধি পেয়েছে সে সাথে সকল সারের কেজিতে সরকার ৫ টাকা বৃদ্ধি করায় বোঝার উপর সাঁকের আঁটির অবস্থা হয়েছে আমাদের কেন ৫ টাকা বৃদ্ধি হলেও সার ডিলার পর্যায়ে তা বেড়ে ১০/১৫ টাকা হয়ে যাচ্ছে একই মন্তব্য করেন, কৃষক আলহাজ্ব আব্দুল মাতিন, ভাজনপুর এলাকার কৃষক দুলুদেব।
এই রিকশাচালক ও ফল বিক্রেতার মতো কৃষি ও নির্মাণ দিন মজুর তাদের কাজ করা শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ওপর এমন দমবন্ধ তাপমাত্রা অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রচন্ত গরমে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। শ্রমজীবি মানুষের শ্রম কমছে, কৃষিতে সেচ খরচ বাড়ছে, পোকা মাকড়ের আক্রমণ বাড়ছে। এতে উৎপাদন কমার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। তার সারের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে কেজিতে ৫ টাকা এ যেন কৃষকের উপর মারার উপর খাড়ার ঘাঁ।
দেশের ৯০ শতাংশ এলাকাজুড়ে দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আপাতত গরম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে। গত শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গতকাল ঢাকার তাপমাত্রা আরো বেড়েছে। এতে ১৯৬৫ সালের পর অর্থাৎ ৫৮ বছরের মধ্যে গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা কয়েকদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছিল চুয়াডাঙ্গায়। গতকালও জেলাটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গায় নগরিকদের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তীব্র গরমে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পিচ গলে যাচ্ছে। তীব্র গরমের কারণে রাজশাহীসহ সারাদেশের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মাঠ-ঘাটে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগ-ব্যাধিও।
গরমে ক্লান্ত হয়ে শ্রমজীবীরা দিনের বেশির ভাগ সময়ই ধুঁকছে। এতে কমছে কর্মঘণ্টা, কমছে আয়। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ঠেলাগাড়ি ওয়ালা, নির্মাণ শ্রমিক তারা আগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে পারতেন। কিন্তু প্রচন্ডে গরমের কারণে এখন তারা দিনে ৭ থেকে ৮ ঘন্টার বেশি কাজ করতে পারেন না। অনেকে আবার বেশি পরিশ্রম করে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এসি লাগানো মহিশালবাড়ী জামে মসজিদের সরজমিনে দেখা গেল, তাপদাহ থেকে বাঁচার জন্য জোহরের নামাজ আদায় করে মসজিদেই অবস্থান করছেন অনেক মুসাল্লী। তারা শুয়ে, ঘুমে, বসে, কুরআন পড়ে দিন পার করছেন। কিন্তু বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে পড়ছেন মহাবিপদে। বিদ্যুৎ যাওয়ার মসজিদের পরিবেশও প্রচন্ড গরম হয়ে যাচ্চে। এচিত্র এসি লাগানো অন্য মসজিদগুলির।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী। -

সৈয়দপুর পিসি পোল তৈরিতে নিম্নমানের পাথর সরবরাহের অভিযোগ
মোঃ হামিদার রহমান নীলফামারীঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পিসি পোল নির্মাণ প্লান্টে নিন্ম মানের পাথর সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৭ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পিসি পোল তৈরির জন্য নিন্ম মানের পাথর গাড়ী থেকে আনলোড করে শ্রমিকেরা। আনলোডকৃত পাথরের গুণগত মান নিম্ন শ্রেণীর। অভিযোগ উঠেছে পিসি পোল তৈরির জন্য যেসব পাথর ব্যবহার করার কথা তার থেকে নিম্ন মানের পাথর সরবরাহ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাজেদা এন্ড কোম্পানী । পাথর সরবরাহের ওয়ার্ক ওর্ডার ও স্টিমেটে কি পাথর উল্লেখ আছে সে বিষয়ে পিসি পোল নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অস্বীকৃতি জানায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনলোডকারী একাধিক শ্রমিক জানান,‘আনলোডকৃত পাথরগুলোতে অধিকাংশ দেশীয় পাথর মিশ্রিত। যেখানে দরপত্র অনুযায়ী ভুটানের মানসম্মত তোষা পাথর থাকার কথা। পাথরগুলোর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ কালো পাথর আর ২৫ শতাংশ ভুটানের তোষা পাথর মিশ্রিত রয়েছে। যার কারণে এই পাথর গুলো দিয়ে মানসম্মত পিসি পোল তৈরি হবে না বলে জানান তারা।’
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাজেদা এন্ড কোম্পানী এর প্রতিনিধির সাথে কথা হলে ওয়ার্ক ওর্ডারে যা আছে সেই পাথরই সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দপুর পিসি পোল নির্মাণ প্লান্টের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন,‘কোথাকার পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা বিষয় না। পাথরের গুণগত মান কেমন সেটাই মুখ্য বিষয়। আমরা পাথরের স্যাম্পল টেস্টের জন্য বুয়েটে পাঠিয়েছি। পাথর মানসম্মত হলে ব্যবহার করা হবে অন্যথায় ওই পাথরগুলো ফেরত দেওয়া হবে।’ -

বানারীপাড়া ফেরী ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্হাপন
এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি সোমবার ১৭ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫ টায় বানারীপাড়া ফেরী ঘাটে ব্রিজ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্হাপন করেন স্হানীয় এমপি মোঃ শাহে আলম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র এ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল, উপজেলা প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেস্টা সদস্য ডাক্তার খোরশেদ আলম সেলিম, সহ-সভাপতি এটিএম মোস্তফা সরদার, যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ড, সহকারী অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন সরদার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এস মিজানুল ইসলাম কাউন্সিলর মনির হোসেন প্রমূখ।
দক্ষিণ নাজিরপুর হাই স্কুল থেকে মহিষাপোতা আবাসনের সড়কের ফেরী ঘাটে ৯৯ মিটার পিসি গার্ডার ব্রিজ স্হাপিত হচ্ছে। অনেক জটিলতার পরে ১০ কোটি ৭৮ লক্ষ ৬৬ হাজার ২৮১ টাকা ব্যায়ে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে। # -

পানছড়িতে দরিদ্র রোজাদার পরিবারের মাঝে ইফতার ও বিরিয়ানি বিতরণ করলেন সাংবাদিক মিঠুন সাহা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিজ বাড়ি থেকে গতবারের ন্যায় এবারও মুসলিম সম্প্রদায়ের রোজাদার দরিদ্র ২০ জন পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ইফতার ও বিরিয়ানি বিতরণ করলেন দৈনিক আজকের জনবানী পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবসেবা ও শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর সাধারণ সম্পাদক মিঠুন সাহা।
সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল ৩ টার সময় সাংবাদিক মিঠুন সাহার নিজ বাড়ি তালুকদার পাড়া থেকে এই রোজাদার দরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার ও বিরিয়ানি বিতরণ করেন।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন মানবসেবা ও শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর সহ সভাপতি অরুণ শীল, কার্যনির্বাহী সদস্য অমল চন্দ্র রায়সহ প্রমুখ।
এই সময় সাংবাদিক মিঠুন সাহা বলেনঃ দরিদ্র মুসলিম পরিবারের রোজাদারদের মাঝে সামান্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি মাত্র।ভবিষ্যতেও যেকোনো সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।।এই সময় তিনি সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন।
-

মাদক ও অস্ত্রসহ পৃথক মামলায় জয়পুরহাটে ২ জনের যাবজ্জীবন ও ১৭ বছরের কারাদন্ড
স্টাফ রিপোর্টার:- নিরেন দাস
মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন ও অস্ত্র মামলায় দুটি ধারায় আরও একজনের ১৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন জয়পুরহাটের আদালত।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দশনাল গ্রামের আশরাফ আলী আকন্দের ছেলে ছানাউল আকন্দ ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চাকলামা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মুকুল প্রমাণিকের ছেলে রানু প্রামানিক।
সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দিন ও নুর ইসলাম পৃথক দুটি মামলায় এ রায় দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল।
মামলার বিবরনে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাঁচবিবি উপজেলার রামভদ্রপুর এলাকায় ভারত থেকে মাদক পাচার করছিলেন কয়েকজন মাদক কারবারি। এমর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ছানাউলকে ১৩৯ বোতল ফেনসিডিল সহ গ্রেফতার করা হয়।
এ মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।
অপরদিকে ২০০৯ সালের ৭ মার্চ সদর উপজেলার হিচমী বাজার এলাকায় অস্ত্র পাচার করছিলেন রানু প্রামানিক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি মিষ্টির বক্সের ভেতর থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ও ১ রাউন্ড গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলাটি দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত বিজ্ঞ আদালত সোমবার এ রায় দেন।