Author: desk

  • ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় গৃহবধুকে গনধর্ষন অতঃপর মারপিট আহৃত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থানায় মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় গৃহবধুকে গনধর্ষন অতঃপর মারপিট আহৃত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থানায় মামলা

    গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি।।
    স্টাফ রিপোর্টার।।

    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার অন্তর্ভুক্ত চতুরাখোর (পাঠানপাড়া)নামে এক গ্রামে অসহায় গৃহবধু (৩২)কে গণধর্ষন ও মারপিটের প্রেক্ষিতে রুহিয়া থানায় মামলা দয়ের করেন।তবে উক্ত ঘটনায় সম্প্রতি গত বুধবার ঐ এলাকায়র স্থানীয় এক ইউপি সদস্য সহ ৯ জনের নামে মামলা দেন রুহিয়া থানায়।উক্ত মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধু।বিষয়টি ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি বলে জানা যায়।

    মামলার বিবরণে প্রকাশ থাকে যে,সম্প্রতি গত ২০শে এপ্রিল ২০২৩ গৃহবধু তার শ্বশুড়ের ভুট্টা ক্ষেতে পাতা তুলছিলেন সে সময় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার চতুরাখোর গ্রামের (পাঠানপাড়া )এলাকার মো: আকবর আলীর ছেলে মোঃমোস্তাফিজুর রহমান (গাজী)’র নেতৃত্বে ৩ জন লোক পেছন থেকে ঐ গৃহবধুর মুখ চেপে ধরে ধর্ষনের উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়।এ সময় গৃহবধু চিৎকার করার চেষ্টা করলে মোস্তাফিজুর রহমান ও অন্যান্য আসামীরা ধারালো অস্ত্র বের করে গলায় লাগিয়ে চিৎকার করতে নিষেধ করলে পরক্ষনেই আসামীরা ঐ গৃহবধুর মুখে উড়না পেঁচিয়ে মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষন করে।

    সেসময় একই গ্রামের এক নারী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের মানুষ জন ঘটনাস্থলে এসে উল্লেখিত ৩ জন ধর্ষককে আটক করে।সেই সংবাদ আটককৃতদের বাড়িতে পৌছালে তারাও দলবল নিয়ে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র-স্বস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মারপিট শুরু করে গৃহ বধুকে আহত করে এবং ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর জখম করেন।পরে এলাবসীর সহযোগীতায় ঐ গৃহবধু সহ আহতদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে ঐ গৃহবধুর ডাক্তারী পরীক্ষার আলামত সম্পন্ন হয়।

    তবে গনধর্ষণ ও মারপিটের ঘটনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে রুহিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্ত ভোগী আর এ ঘটনার আসামীরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানার চতুরাখোর (পাঠানপাড়া) গ্রামের মোঃআকবর আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (গাজী) ৩৫), মৃত এশরারুল ইসলামের ছেলে আতিকুর রহমান (৩৩), জয়নাল আবেদিনের ছেলে ও আখানগর ইউপির ৯নং- ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃজনি পারভেজ (৩১), মৃত ইশারত খাঁয়ের ছেলে মো: মোকাব্বের আলী, মৃত আজির উদ্দীনের ছেলে মো: হোসেন আলী (৩৮), মোঃআকবর আলীর ছেলে মোঃ মশিউর রহমান (৩৪), মৃত জমি উদ্দীনের ছেলে মোঃআব্দুস সাত্তার (ছত্তর),মোঃআকবর আলীর ছেলে মোঃ মনছুর আলী (৩০), মৃত আজির উদ্দীনের ছেলে মো: আকবর আলী (৫৮)।

  • আশুলিয়ার ইয়ারপুরে প্রকাশ্যে দিবালোকে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর ও বাড়ি ঘর ভাংচুর-আদালতে মামলা

    আশুলিয়ার ইয়ারপুরে প্রকাশ্যে দিবালোকে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর ও বাড়ি ঘর ভাংচুর-আদালতে মামলা

    হেলাল শেখঃ ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর গ্রামের প্রবাসী হযরত আলী’র স্ত্রীকে প্রকাশ্যে বিালোকে মারধর ও বাড়ি ঘর ভাংচুরের ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ইয়াছমিন। এ ব্যাপারে “বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল” সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক অভিযোগ ও আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন এই নারী।
    ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী ও এক পুলিশ সদস্যের মা ইয়াছমিন বলেন, আশুলিয়ার “ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোশারফ হোসেন মুসা’র ছোট ভাই মোঃ নাজিম উদ্দিন মোল্লা (৪০) পিতা- মৃত মুন্নু মোল্লা ও মিয়াজ উদ্দিন (৬০), পিতা-মৃত কিতাব আলী এবং আব্দুল জলিল (৫০), পিতা-মৃত আঃ জব্বার, সর্ব সাং-ইয়ারপুর, থানা-আশুলিয়া, জেলা ঢাকাগন আমাদের একটি জমি অবৈধভাবে দখলের পায়তারা করিতেছে, আমরা বাধা দেয়ায় তারা আমাদের জমি দখল করতে পারে নাই, গত ৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে আমাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে এবং এর পরের দিন ৬ এপ্রিল উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুরা গায়ের জোরে যা ইচ্ছা তাই করে, আইন কানুনের কোনো তোয়াক্কা করেনা, উক্ত বিরোধের জের ধরিয়া অদ্য ইং গত ০৬/০৪/২০২৩ইং তারিখ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে উল্লেখিত বিবাদীগন তাহাদের সঙ্গে আরো ১০-১২ জন সন্ত্রাসী সহযোগীসহ দা, শাবল,হাতুরী, লোহার রড ইত্যাদি অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করিয়া বাড়ির পূর্ব ভিটিতে থাকা তিন রুম বিশিষ্ট ওয়াল কাম টিনশেড বিল্ডিং ভাংচুর করেছে। অনুমান ১,৫০,০০০/ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে সন্ত্রাসীরা। তখন আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করিলে ১নং বিবাদী নাজিম উদ্দিন মোল্লা আমাকে চুল ধরিয়া মাটিতে ফেলিয়া আমাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারিয়া আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা,ফুলা জখম করে। বিবাদী আঃ জলিল আমার ঘরে থাকা আলমারী হইতে নগদ-৭০ হাজার টাকা এবং বিবাদী মিয়াজ উদ্দিন আমার আলমারী হইতে অনুমান ০২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে, যাহার মূল্য অনুমান ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বিবাদীরা ঘরের বারান্দার গ্রীল ভাঙ্গীয়া নিয়া গিয়েছে, যাহার মূল্য অনুমান ২৫,০০০/ টাকা। আমাদের ডাক চিৎকার শুনিয়া আশে-পাশের লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে বিবাদীরা যাওয়ার সময় এই বলিয়া হুমকি দিয়া গিয়াছে যে, তাহারা যেকোনো সময় আমাদের জমি, বাড়ি ঘর দখল করিয়া নিবে। তাহাদেরকে বাধা দিলে আমাকে ও আমার পুত্রকে খুন করিয়া ফেলিবে। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে অনেক কষ্টে লেখা পড়া করিয়েছি, এক ছেলে আল-আমিন এখন বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য, সে মিরপুরে চাকরিরত আছে। আমার ছেলের কিছু হলে আমি বাঁচবো না, আমার পরিবারের লোকজন বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, সঠিক ভাবে তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করাসহ সঠিক বিচার দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন, তাই ঢাকা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে মামলা করেছি, মামলা নং ৬০/২০২৩।
    আশুলিয়া থানায় অভিযোগকারী সাদিয়া আক্তার শিল্পী (২১), পিতা মোঃ মোকছেদ আলী, সাং-ইয়ারপুর, থানা আশুলিয়া, জেলা ঢাকা বলেন, বিবাদী ১। আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে নৌকা মার্কা প্রার্থী ছিলেন মোল্লা মোশারফ হোসেন মুসা’র ভাই মোঃ নাজিম উদ্দিন মোল্লা (৪০), পিতা-মৃত মুন্নু মোল্লা, আরো ১০-১২ জন বিবাদীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি যে, আশুলিয়া থানাধীন মনসন্তোষ মৌজাস্থ জমি যাহার সি এস ২১০, আর এস ৪৬০, ৪৬২, বি আর এস ৭৬৫৭, ৭৬৫৮, দাগে মোট জমির পরিমাণ ২৪ শতাংশ ইহার কাতে ২৪শতাংশ জমি বিগত ১৯৮৬ সাল হইতে আমরা ক্রয় সূত্রে মালিক হইয়া উক্ত জমিতে বাড়ি ঘর নির্মাণ করিয়া বসবাস করিয়া আসিতেছি। বিবাদীগন এলাকার ভূমিদস্যু ও জমি দখলদার। বিবাদীগন ১০ বছর পূর্ব হইতে আমাদের উক্ত জায়গা জোরপূর্বক জবর দখল করার পায়তারা করিয়া আসিতেছে। অদ্য গত ইং ০৬/০৪/২০২৩ইং তারিখ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বিবাদীগনসহ তাহার সহযোগী আরো ১০-১২জন বিবাদীগন আমাদের বাসার পাশে আসিয়া আমার বাবার নাম ধরিয়া গালি গালাজ করিতে থাকে, তখন আমি বিবাদীদেরকে গালিগালাজ করিতে নিষেধ করিলে ১নং বিবাদীসহ সকল বিবাদীগন আমাকে মারপিট করার জন্য বে-আইনী জনতাবদ্ধ অনাধিকার ভাবে আমাদের উক্ত বাড়ি ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়া দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া লাঠি শোডা, দা, চাইনিজ কুড়াল, নিয়া বাড়িঘরের ওয়াল, জানালা, দরজা, চালের টিন বাইরাইয়া ও কুবাইয়া ব্যাপক ভাংচুর করিয়া অনুমান প্রায় ১০,০০,০০০/= টাকার ক্ষতি সাধন করে। এর আগে বিবাদীগন আমাদের বিরুদ্ধে সি আর মামলা দায়ের করেন, যাহার মামলা নং-৫৪৩/২০১০। উক্ত মামলা আমাদের পক্ষে রায় হওয়া সত্ত্বেও বিবাদীগন কোর্টের আইন অমান্য করিয়া আমাদের উক্ত জায়গা দখল করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রহিয়াছেন, সঠিক তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতারসহ কঠিন শাস্তি দাবি করছি।
    বিবাদী নাজিম উদ্দিন মোল্লা’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমি থেকে সরে যাওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা নিয়েছে ইয়াছমিন এর স্বামী হযরত আলী। টাকা নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন তিনি, সেই অর্থে কাগজপত্রে এক লাখ টাকা নেয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বিষয়টি রহস্যজনক। উক্ত বিষয়ে দুই পক্ষ আদালতে প্রায় ১০-১২ বছর দৌড়ঝাপ করেছেন মামলা নিয়ে। বর্তমানে আদালতে একাধিক মামলা চলমান আছে। ইয়াছমিন নিজে বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেছেন, এই মামলাটি চলমান রয়েছে।
    আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভজন চন্দ্র রায় বলেন, ঢাকা জেলার আশুলিয়ার ইয়ারপুর গ্রামে বাড়ি ঘর ভাংচুরের ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় একাধিক অভিযোগ হয়েছে, আমি তদন্ত করেছি, জমিজমা বিষয়ে বসে মিমাংসা করলে ভালো হয়, তা না হলে আদালতে যেতে পারেন তারা। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত (ওসি) স্যারসহ ৩জন (ওসি) স্যার জানেন। উক্ত বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধির হাতে মামলার কাগজপত্রসহ তথ্যবহল সূত্র রয়েছে। পর্যায়ক্রমে “থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসছে”। দুই পক্ষের অভিযোগ ও মামলার তদন্ত করছেন পিবিআই, পুলিশ ও র‌্যাব। উক্ত ঘটনাস্থলে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। উক্ত ব্যাপারে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

  • পানছড়িতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৭ জন পরীক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ মূলক অনুষ্ঠান

    পানছড়িতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৭ জন পরীক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ মূলক অনুষ্ঠান

    খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।

    খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্ভুদ্ধ ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৭ জন পরীক্ষার্থীদের নিয়ে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ মূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।

    শনিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১১ টার সময় তালুকদার পাড়ায় সাংবাদিক মিঠুন সাহার নিজ বাড়ি থেকে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    উক্ত আলোচনা সভা ও উদ্ভুদ্ধ করণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আওয়ামীলীগ নেতা নিখিল চৌধুরী, এই সময় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষানুরাগী ও মানবসেবা ও শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান, সাংবাদিক মিঠুন সাহা, অর্থ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন,কার্যনির্বাহী সদস্য মানিক সাঁওতাল।

    আলোচনা সভা শেষে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

  • নাগেশ্বরীতে রায়গঞ্জ হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

    নাগেশ্বরীতে রায়গঞ্জ হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

    এম এস সাগর,
    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
    নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন গত ১৭নভেম্বর ২০১৬সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান এবং বেতনের জন্য এমপিওভুক্তির আবেদন করে। সনদ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গত ৩০মে ২০২২সালে এমপিওভুক্ত থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে সনদপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্রদি টেম্পারিং করে এমপিওভুক্ত হন। আবুল কালাম আজাদ প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে গত ১৫সেপ্টেম্বর ২০২০সালে অবসর গ্রহণ করার পর থেকে বিধি বহির্ভুতভাবে সোহরাব হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থেকে অবাধে বিভিন্ন অনিয়ম করেই চলছে। গত ১৬মার্চ ২০২৩সালে ম্যানেজিং কমিটি অত্র স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেনের নানা অনিয়ম, স্বাক্ষর জাল ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নাগেশ্বরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নিখিল চন্দ্র বর্মন, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল হক সরকারসহ তিন সদস্য তদন্ত কমিটি করে গত ২০মার্চ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেনের উপস্থিতিতে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। তদন্ত কমিটি গত ২১মার্চ তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করে। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয় যে, রায়গঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন অভিভাবক সদস্যবৃন্দের স্বাক্ষর জাল করে অনলাইনে কতৃপক্ষের কাছে তার বকেয়া বেতনের জন্য আবেদন করে। এমনকি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি ব্যতীত অতি গোপনে চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে চতুর্থ শ্রেণির পদে বিভিন্ন জনকে চাকরীর আশ্বাস দিয়ে জুটিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে মুসলেকা দিয়ে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং গত ২১ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভা-চলাকালীন সময়ে পরিচালনা কমিটির সাথে তিনি অসদাচরণ করে। অবশেষে ম্যানেজিং কমিটি গত ২১মার্চ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেনের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় গত ২২মার্চ তাকে বরখাস্ত করে কমিটি। গত ২৩মার্চ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে সহকারী শিক্ষক এস এম গোলাম মোস্তফা কে দায়িত্ব দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহরাব হোসেন ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ২৯মার্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। যাহার মামলা নং-১৪৮/২০২৩। মামলা চলাকালীন অবস্থায় গত ১৩এপ্রিল তিনি দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ বহাল রেখে একটি নির্দেশনাপত্র নিয়ে আসে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসতে বিভিন্নভাবে পায়তারা করছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম গোলাম মোস্তফা কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য পত্র ইস্যু করা হয়। কিন্তু সোহরাব হোসেন তা না মেনে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।

    সহকারী প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, ম্যানেজিং কমিটি আমাকে অবৈধভাবে অব্যাহতি প্রদান করে। বাধ্য হয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এ বিষয়ে আবেদন করি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩এপ্রিল আমাকে এই পদে বহাল রেখে সেখান থেকে একটি নির্দেশনাপত্র দেয়া হয়।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম গোলাম মোস্তফা বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নির্দেশে গত ২৩মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালাচ্ছি।

    বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হক সরকার বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেনের নানা অনিয়ম, স্বাক্ষর জাল অভিযোগে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তে সহকারী শিক্ষক এস এম গোলাম মোস্তফাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা হয়েছে। দু’পক্ষকেই কাগজপত্র নিয়ে কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টমতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.শামছুল আলম বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন কে বরখাস্ত করে। তদন্ত করে আমাদের দপ্তর থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • আক্কেলপুরে ইটবোঝাই ট্রলি খাদে পড়ে চালকের ভাই নিহত,আরেক ভাই গুরুতর আহত

    আক্কেলপুরে ইটবোঝাই ট্রলি খাদে পড়ে চালকের ভাই নিহত,আরেক ভাই গুরুতর আহত

    রিদয় হোসেন,আক্কেলপুর(জয়পুুরহাট) প্রতিনিধি:

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি ইটবোঝায় ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে মিঠুন হোসেন দয়াল নামে ট্রলি চালকের আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরেক ভাই ট্রলিটির চালক হাসান হোসেন।

    শনিবার(২৯ এপ্রিল)সকালে জেলার আক্কেলপুর উপজেলার কৃষ্ণকোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিঠুন হোসেন দয়াল আক্কেলপুর উপজেলার নওজোর গ্রামের বাবুর ছেলে। আহত হাসান হোসেন মিঠুন হোসেন দয়ালের আপন ভাই।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক জানান,সকালে মিঠুন ও তার ভাই হাসান শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ট্রলিতে ইট নিয়ে আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর থেকে রায়কালীর দিকে যাচ্ছিলেন। মিঠুন সে গাড়ির হেলপার ও তার ভাই হাসান গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পথে কৃষ্ণকোলা এলাকায় ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে দুই ভাই গুরুতর আহত হন। এসময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মিঠুন কে মৃত ঘোষণা করেন। এবং আহত ট্রলি চালক চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে ওসি জানান।

  • রাজশাহী সিটিতে  কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি বিএনপির

    রাজশাহী সিটিতে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি বিএনপির

    মোঃ হায়দার আলী , রাজশাহী থেকেঃ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি বিএনপির
    রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন ২১ জুন। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রাজশাহী বিএনপির নেতারা। তবে রাসিকের ৩০টির মধ্যে অন্তত ২০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    দলটির একাধিক নেতা জানান, কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য তারা দীর্ঘদিন থেকে মাঠে রয়েছেন। ভোটারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন। তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। যে কোনো সমস্যায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। এলাকায় তাদের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এখন নির্বাচেন অংশ না নিলে কর্মী-সমর্থক এবং অনুসারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। নির্বাচনে সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণে ৩০ এপ্রিল তারা (সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা) বৈঠকে বসবেন। সেখানেই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ঠিক করা হবে নির্বাচনি কৌশল।

    কাউন্সিলর পদে অংশ নিতে ইচ্ছুক বিএনপি প্রার্থীদের যুক্তি-এই পদে নির্বাচন দলীয়ভাবে হয় না। থাকে না দলীয় প্রতীকও। কাউন্সিলর নির্বাচনটি অনেকটাই অরাজনৈতিক। এ কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের তেমন কোনো সমস্যা নেই। তাছাড়া নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের ওপর কর্মী-সমর্থকদের চাপ রয়েছে।

    ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাবেক কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টিটো। তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক নেতা। টিটো বলেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

    ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তরিকুল আলম পল্টু। তিনি চাঞ্চল্যকর পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলার আসামি। তবে বর্তমানে তিনি বিএনপি করেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমি এবারও কাউন্সিলর নির্বাচন করব। আগে বিএনপি করতাম। এখন করি না। আর সিদ্ধার্থ হত্যা মামলায় আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।’

    ২০০২ সাল থেকে টানা চারবার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন আনোয়ারুল আমিন আজব। তিনি বলেন, আমি ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা ছিলাম। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করবেন কিনা-এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কাউন্সিলর পদে দলীয় ভোট হয় না। এছাড়া দলীয় প্রতীকও থাকে না। তাই নির্বাচন করতে সমস্যা নেই। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশরাফুল হোসেন বাচ্চু ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি বলেন, আমি বিএনপির কোনো পদে নেই। তবে বিএনপির একজন সমর্থক। কোনো পদে না থাকায় আমার নির্বাচন করতে বাধা নেই।

    রাসিকের দুই নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতা মাহবুব সাঈদ টুকু। এছাড়া এ ওয়ার্ডে জামায়াতের দুজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন-সাবেক কাউন্সিলর নোমানুল ইসলাম নোমান ও মোখলেসুর রহমান। বিএনপি নেতা মাহবুব সাঈদ টুকু বলেন, ‘আমি এর আগে এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলাম। এ কারণে নেতাকর্মীরা চান আমি নির্বাচন করি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য অনেক আগে থেকে কাজ করছি। দল থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। তাই অপেক্ষায় রয়েছি।

    এ ওয়ার্ডে জামায়াত প্রার্থী নোমানুল ইসলাম নোমান বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের চাপ রয়েছে। অংশ নেব এরকমটিই ভাবছি। সবকিছু পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেব।

    তিন নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তাজউদ্দিন আহমেদ সেন্টু। তিনি বলেন, আমি এর আগে চারবার কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে। ৩০ এপ্রিল আমরা সম্ভাব্য প্রার্থীরা বৈঠবে বসব। ওই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ছয় নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতা বদিউজ্জামান বদি। আর সাত নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর সোহরাব হোসেন এবং যুবদল নেতা আতাউর রহমান। এছাড়া সাবেক এমপি আজিজুর রহমানের ছেলে রেজাউল করিম নান্নুও নির্বাচন করবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। দশ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর দিলদার হোসেন। তিনি বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। দিলদার বলেন, দীর্ঘ সময় থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। শেষ মুহূর্তে এসে বিষয়টি নিয়ে বেকায়দায় রয়েছি। আশা করছি, দল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। এছাড়া ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আব্দুস সোবহান বিএনপির সমর্থক। তিনি ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তবে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের আগে বিএনপি করতাম। এখন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমি এবারও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করব। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘লিটন এখনও বিএনপির সমর্থক। আমরা তার সঙ্গে আছি। তার জন্য মাঠে কাজ করছি।’

    রাসিকের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২০০২ সাল থেকে টানা চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন শাহ মখদুম থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি বেলাল আহমেদ। এবারও তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বেলাল বলেন, আমি এখনও কাউন্সিলর পদে রয়েছি। আমার ওয়ার্ডে অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। আবার নির্বাচিত হয়ে সেগুলো শেষ করতে চাই। এছাড়া কাউন্সিলর পদে দলীয়ভাবে নির্বাচন হয় না। দলীয় প্রতীকেও নির্বাচনে অংশ নেন না প্রার্থীরা। তাই নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই বলে আমি মনে করি। এছাড়া এ ওয়ার্ডে লিটন এবং রনি নামে বিএনপির দুজন সমর্থক নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম পচা। তিনি এর আগেও কাউন্সিলর ছিলেন। রাসিকের সাবেক মেয়র বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল যখন রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি ছিলেন, তখন ওই কমিটির সদস্য ছিলেন পচা। বিষয়টি বিএনপি নেতা বুলবুল যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। তবে বিএনপি বা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে পচা বলেন, আমি এবারও নির্বাচন

  • গোপালগঞ্জে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার দায়ে দুই মাটি ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    গোপালগঞ্জে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার দায়ে দুই মাটি ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দুই মাটি ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    আজ শনিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মেহেদী হাসান এ জরিমানা করেন।

    অর্থদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের মৃত রতন কাজীর ছেলে শামীম কাজী (৪৮) ও গোপালগঞ্জ শহরের মাষ্টারপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে বাবুল শিকদার (৩৫)।

    ইউএনও মেহেদী হাসান জানান, কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটছিলেন শামীম কাজী ও বাবুল শিকদার।

    পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে মাটি কাটা অবস্থায় আটক করা হয়। পরে স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে উভয়কে ৫০ হাজার টাকা অনাদায়ে ২ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

    তবে সাজাপ্রাপ্তরা জরিমানার ১ লাখ টাকা প্রদান করায় তাদেরতে ছেড়ে দেয়া হয় বলেও জানান ইউএনও।

  • সাংবাদিক শহিদুল মানুষের সুখ দুঃখের সংবাদ তুলে ধরতেন আজ সে নিজেই দুরারোগে আক্রান্ত

    সাংবাদিক শহিদুল মানুষের সুখ দুঃখের সংবাদ তুলে ধরতেন আজ সে নিজেই দুরারোগে আক্রান্ত

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়;
    পঞ্চগড়ের বরেণ্য মফস্বল সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম শহীদ দীর্ঘদিন থেকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দিন যাপন করছেন। তিনি দূরারোগ্য অগ্নাশয়ে ক্যানসার, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। তাঁর দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। জানা গেছে অগ্নাশয়ে ক্যানসার রোগের অপারেশনের জন্য তাঁকে ভারতে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসক। এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যায়বহুল।

    সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম শহীদ জানায়, পেটের ব্যাথা নিয়ে গত বছরের ২৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রো এন্ট্রোলোজি বিভাগে ভর্তি হন তিনি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজিবুল আলমের তত্ত্বাবধানে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর অগ্নাশয়ে ক্যানসার রোগটি চিহ্নিত হয়। ডাক্তার রাজিবুল আলম তাঁকে ভারতের হায়দারাবাদে এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব গ্রাস্ট্রোএন্ট্রোলজীতে চিকিৎসা এবং অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন । কিন্তু তার সেই সামর্থ্য নেই। শহরে একটি টিনশেড বাড়ি ও একটি মোটরবাইক ছাড়া স্থাবর-অস্থাবর কোন সম্পত্তি নেই। অবসরভাতা আর পত্রিকার সম্মানী দিয়ে সংসার চালাতেই হিশশিম খাচ্ছেন। মেয়ে জাবিতে আন্তর্জাতিক বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়ছে।

    সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম শহীদ দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত। পঞ্চগড়ের সাংবাদিকতা জগতে তিনি কিংবদন্তি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ঝুঁকিপুর্ণ জেনেও তিনি সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি ১৯৮১ সালের শেষ দিকে দৈনিক বাংলার বাণীর মহকুমা সংবাদদাতা হিসেবে যোগ দেন। এর পর দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, বাংলাদেশ অবজারভার, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি দি ডেইলি অবজারভার, দৈনিক দেশরূপান্তর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ বেতারের পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত। তিনি নাট্যদল ভূমিজের উপদেষ্টা। উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য। নজরুল পাঠাগার, ডায়াবেটিক সমিতির জীবন সদস্য। জেলা আইনশৃঙ্খলা ও সার্ভে অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কমিটির সদস্য।

    পঞ্চগড় জেলার উন্নয়নে তার অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে বলে জানান, সচেতন মহল। চিকিৎসার জন্য তিনি দেশবাসী ও সরকারি সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, জেলা পরিষদ, দেশের কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী সংব্দাকর্মী, কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী বন্ধু ও প্রবাসী ছোটভাইসহ আত্বীয়স্বজনরা সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ওষুধ কিনতেই সব শেষ। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি ছয়শ টাকার ওষুধ খেতে হচ্ছে। যা তার পক্ষে দিনে দিনে অসাধ্য হয়ে উঠছে। তাই চিকিৎসার জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।

    একজন নিবেদিত প্রাণ গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে নীতি নৈতিকতা মেনে সাংবাদিকতা করেছেন শহীদুল ইসলাম শহীদ। সত্যের জন্য তিনি জীবন ভর লড়াই করেছেন। হার মানেন নি তিনি। তাহলে আজ জীবন যুদ্ধে তিনি হেরে যাবেন?

  • অবশেষে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত নিশানে মৃত্যু

    অবশেষে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত নিশানে মৃত্যু

    বাবুল হোসেন,পঞ্চগড়,

    পঞ্চগড়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত নিশান (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত নিশান উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোয়াল পাড়া গ্রামের মৃত আলম হোসেনের ছেলে।

    এর আগে ওই দিন বিকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঈদের দিন বিকেলে পঞ্চগর সদরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয় নিশান। বিকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে জগদলে ফেরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয় সে।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই রাতেই তাকে মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের বিষয়টি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-ইমরান নিশ্চিত করেন।

  • ময়মনসিংহে  দুস্থ কৃষকের ধান কেটে দিলেন এইচ এম ফারুক এর নেতৃত্বে যুবলীগ নেতাকর্মীরা

    ময়মনসিংহে দুস্থ কৃষকের ধান কেটে দিলেন এইচ এম ফারুক এর নেতৃত্বে যুবলীগ নেতাকর্মীরা

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    ময়মনসিংহ সদরে কৃষকের জমির বোরো ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এইচ এম ফারুক এর নেতৃত্বে জেলা ও সদর উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার (২৯এপ্রিল) সকালে মধ্যবাড়েড়ার দুস্থ কৃষক বাবুল মুন্সির ৮ কাঠা জমির ধান কেটে তুলে দেয় নেতৃবৃন্দরা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা কাজ করে দুই কৃষকের পাকা ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেন তারা।

    জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কায় জমির পাকা ধান তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষক বাবুল মিয়া। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের জমির বোরো ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক এইচ এম ফারুকের নেতৃত্বে জেলা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের নেতৃবৃন্দরা।

    এসময় জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এইচ এম ফারুক, যুবলীগ নেতা কাজল,একে আকাশ,রাজীবসহ নেতাকর্মীরা।

    কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে ধানগুলা কাটার জন্য মানুষ খুঁজতেছি। আগে দিন হাজিরা ৪০০ টাকা দিয়ে লোক পাওয়া যাইতো এখন সবাই ৭০০ করে টাকা দাবি করছে। আমি এতো টাকা দিয়ে লোক নিয়ে কীভাবে কাটবো সেই চিন্তায় ছিলাম। বিষয়টি যুবলীগ নেতা এইচ এম ফারুক শুনে তারা কয়েকজন আমার ধান কেটে বাড়িতে এনে দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের ভালো করুক।

    এদিকে দরিদ্র দুই কৃষকের পাশে এভাবে এগিয়ে আসায় প্রশংসায় ভাসছেন তারা। আগামীতেও দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক এভাবে অসহায় মানুষের পাশে তারা এমন নির্ভরশীলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবেন বলেই তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

    স্থানীয় কয়েকজন বলেন, সবসময় দেখি নেতারা বিভিন্ন ভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এবার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম দেখছি, নেতারা অসহায় কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। এভাবে আমাদের সবাইকে সবার পাশে দাঁড়ানো উচিত।

    জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এইচ এম ফারুক বলেন, বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি আবার সার বীজ কীটনাশকেরও দাম সব মিলে কৃষক বিপদে আছে। বেশি মজুরিতে শ্রমিক নিয়ে ওই দুই কৃষক তাদের সোনালী স্বপ্ন ঘরে তুলতে পারছিলেন না। তাই কৃষকের কথা ভেবে আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষকের পাশে দাড়াতে। বঙ্গকন্যার নির্দেশনা মোতাবেক আমি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করি। ধান কাটার পর ওই কৃষক খুশি হয়েছেন তাতেই আমাদের আনন্দ। আমরা অতি অসহায় কৃষক খুঁজে খুঁজে আরো ধান কেটে বেব ইনশাআল্লাহ।