Author: desk

  • টানা দশ দিন পর বাংলাবান্ধা চারদেশীয় স্থল বন্দর সচল

    টানা দশ দিন পর বাংলাবান্ধা চারদেশীয় স্থল বন্দর সচল

    মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়;
    ঈদুল ফিতরের টানা ১০দিন বন্ধ থাকার পর চারদেশীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সচল হয়েছে। শনিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে স্থলবন্দরটির (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান) আমদানি-রপ্তানীর কার্যক্রম চালু হয়েছে।

    সকালে বন্দরটির ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, গত ১৯ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটিসহ পবিত্র শবে-ই কদর ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বন্দরের আমদানি-রপ্তানীকারক গ্রুপ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ১০দিন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে পাসপোর্ট ও ভিসাধারী ইমিগ্রেশনের লোকপারাপার স্বাভাবিক ছিল। শনিবার সকাল থেকেই বন্দরে গাড়ি প্রবেশ করছে।

    বাংলাবান্ধা আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা মিলন জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে চারদেশীয় স্থলবন্দর (বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল) আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ১০ দিন সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। শনিবার সকাল থেকে চালু হয়েছে।

    বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম জানান, মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীপারাপার স্বাভাবিক ছিল।

  • ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু

    ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু

    আবু জাহেদ, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার কিসমত সৈয়দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
    পীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) বিদ্যুৎ কুমার চৌধুরী জানান, রাতের আঁধারে কিসমত সৈয়দপুর গ্রামের চৌধুরী অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে এক চোরের মৃত্যু হয়েছে। খুঁটি থেকে নামানো একটি ট্রান্সফরমারসহ ওই ব্যক্তিকে সকালে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। এখন পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।
    উপজেলার কিসমত সৈয়দপুর ইউপি সদস্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

    আবু জাহেদ
    পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

  • বানারীপাড়ায় ব্যাটারীচালিত অটোরিকশায় এসএসসি পরিক্ষার্থীর হাত বিচ্ছিন্ন

    বানারীপাড়ায় ব্যাটারীচালিত অটোরিকশায় এসএসসি পরিক্ষার্থীর হাত বিচ্ছিন্ন

    বরিশাল প্রতিনিধি।
    মেয়েটির নাম সাইমুন আজ তার এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা। কিন্তু ভাগ্যের
    নির্মমতায় এখন হাসপাতালের বেডে কাটা হাত নিয়ে সুচিকিৎসার প্রহর গুনছে। ২৭
    এপ্রিল বিকেলে আউয়ার বাজার সংলগ্ন এলাকায় অটোগাড়ি দূর্ঘটনার স্বীকার হয়
    সাইমুন। দূর্ঘটনার পূর্বে হঠাৎ তার ওড়না পেচিয়ে য়ায় অটোর চাকায়। কিন্তু
    মেয়েটি হাত দিয়ে ওড়না ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই অটোর চাকায় থাকা স্টিলের
    মারগাডের ভিতরে টেনে নিয়ে যায় তার হাত। মূহুর্তেই তার হাত ফিরে আসে
    কিন্তু তার কব্জি আসেনাই, অর্থাৎ কজ্বি আলাদা হয়ে য়ায়। নিয়ে আশা হয়
    বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের
    চৌকস মেডিকেল অফিসার ডাঃ রোমান ইবনে রিফাত তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা
    দিয়ে কাটা হাতের অংশ আইচ বেগিং পদ্ধতিতে প্যাকিং করে ঢাকা মেডিকেলে
    প্রেরণের সমস্ত ব্যবস্থা করেন এবং ঢাকার সার্জারী ডাক্তারের নম্বর
    সরবারহ করেন রোগীর স্বজনদের। বরিশালের বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠির তালাপ্রসাদ
    বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল
    সাইমুনের। এ অবস্থায় সাইমুনের দরিদ্র পিতা দিদিহার গ্রামের মোঃ সাইদুল
    ইসলাম তার মেয়ের চিকিৎসা করানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবান
    সহ সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। ০১৭৫০৭৯১০০১ এটি সাইদুল ইসলামের
    মোবাইল নম্বর। এদিকে তাৎক্ষনিক ভাবে আউয়ার এলাকার যুব সমাজ কর্তৃক
    পরিচালিত ঐক্যতান মানব সেবা ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক সহযোগীতা করে অসহায়
    পরিবারটির পাশে দাড়িয়েছে এলাকার যুবকরা।

  • নড়াইল সদর থানা পুলিশের তৎপরতায় ৮ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

    নড়াইল সদর থানা পুলিশের তৎপরতায় ৮ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে মাদক মামলায় ৮ মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আরমান কাজী (২৩) কে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। সে অত্র উপজেলার মাছিমদিয়া গ্রামের ইরান কাজীর ছেলে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে (শনিবার ২৯ এপ্রিল) ভোরে নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এএসআই (নিঃ) ফিরোজ ইফতেখার সঙ্গীয় ফোর্সসহ আসামির নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নির্দেশনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • নড়াইলে চুরির সরঞ্জাম ও মোটরসাইকেলসহ চোর আটক

    নড়াইলে চুরির সরঞ্জাম ও মোটরসাইকেলসহ চোর আটক

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে ইঞ্জিন চালিত ভ্যান চুরির সময় দিদার লস্কর (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। সে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকল গ্রামের মনির লস্করের ছেলে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, (২৮ এপ্রিল) সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) শিশির কুমার সঙ্গীয় ফোর্সসহ স্থানীয় জনতার সহায়তায় সদর উপজেলার ভওয়াখালি পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের সামনে থেকে ভ্যান চুরির সময় তাকে আটক করে। এ সময় তার নিকট থেকে ১ টি স্কুল ব্যাগ ও ব্যাগে রক্ষিত চুরির কাজে ব্যবহৃত ১ টি কাটার, লোহার শিকল, কাটা ১ টি চায়না তালা ও তার ব্যবহৃত ১ টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

    নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুন নির্দেশনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে ।

  • যুবসমাজকে  বাঁচাতে মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান  জরুরি

    যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান জরুরি

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ কৃষকের ইরি বোরা ধান চাষ করে ধান উৎপাদন করতে সার, বীজ, কীটনাশক, নিড়ানী, কৃষি শ্রমিক ইত্যাদিতে কি পরিমান ব্যয় এবং বর্তমানে ধানের বাজার মূল্যেতে কি কৃষক লাভবান হবেন না ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধান চাষে অগ্রহ হারাবেন না ধান চাষে আগ্রহ ফিরে পাবেন এ সম্পর্কে লিখার জন্য, তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপ ওপেন করলাম এমন সময় রাজশাহীর একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আমার বন্ধু আমার বসায় আসলেন অন্য একটি কাজে, নাস্তা করার পর তিনি বললেন, মাদকের কারণে যুবকের আজ ধ্বংসের পথে, এদের বাঁচাতে না পারলে সমাজ দেশের ব্যপক ক্ষতি হবে। এ ব্যপারে কিছু লিখেন। সে যাই হউক ওই শিক্ষক বন্ধুর কথা শুনে লেখার মাদক সম্পর্কে আল্লাহর নাম নিয়ে লিখা শুরু করলাম।
    দুর্বল অভিযানের কারনে লুকিয়ে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার তালিকাভুক্ত মাদ্রক মাদক ব্যবসায়ী ও সম্রাটরেরা এলাকায় ফিরে এসে বীর দাফটে তাদের অবৈধ মাদক কারবার শুরু করেছেন। প্রভাবশালী কতিপয় অসৎ নেতাদের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগীতায় কারণে এঅবৈধ কারবার চলছে বাধাহীন গতিতে।

    তরুণ প্রজন্ম দেশের সম্পদ। তাদের ওপরই দেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে। দেশের নেতৃত্ব তারাই দেবে। কথাগুলো এখন কথার কথায় পরিণত হয়েছে। দেশের নীতিনির্ধারকরাও বক্তব্য-বিবৃতিতে এসব কথা অহরহ বলেন। বাস্তবে আমরা দেখছি, তাদের এ কথা যুবসমাজের উপর খুব কমই প্রতিফলিত হচ্ছে। তরুণ যুবসমাজ এখন কি অবস্থায় আছে, কি সমস্যা মোকাবিলা করছে, কিভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে, এ নিয়ে যদি তাদের চিন্তা ও বিচলন থাকত, তবে তাদের নিঃশেষ করে দেয়ার মতো মাদকের যে ভয়াবহ গ্রাস চলছে, এ নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা যেত।

    যুবশক্তিকে দেশের অমূল্য সম্পদ বিবেচনা করে এ শক্তির সংরক্ষণ ও পরিচর্যার পদক্ষেপ নেয়া হতো। দুর্ভাগ্য এই যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মূল লক্ষ্য হয়ে গেছে ক্ষমতায় টিকে থাকা ও যাওয়া। এ নিয়ে তারা পারস্পরিক দ্বদ্ব ও বিষোদগারে লিপ্ত। বিদেশীদের পক্ষে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের আড়ালে যে যুবসমাজের একাংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, সেটা তারা খুব একট খেয়াল করছে বলে মনে হচ্ছে না। তারা কি বুঝতে পারছে না, নাকি বুঝতে চাচ্ছে না, তাদের রাজনীতির মুখ্যশক্তি যুবসমাজ মাদকের নীল ছোবলে যে ধীরে ধীরে নিষ্প্রাণ ও অথর্ব হয়ে যাচ্ছে? সংসার, সমাজ এবং দেশের উপর বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? বোঝা স্বরূপ এই মাদকাসক্ত তরুণ সমাজ নিয়েই কি তারা রাজনীতি করবে? যদি তা না হয়, তবে তরুণদের মাদকাসক্তি এবং যেসব মাদক চোরাকারবারিরা তাদেরকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন কোন কথা বলছে না? মাদক চোরাচালান ও চোরাকারবারি চক্র নির্মূলে কেন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না? দেশে মাদকাসক্তির একটি পরিসংখ্যান দিলে বোঝা যাবে, তরুণ যুবসমাজ আজ কোন পথে এবং কিভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাদসাক্তদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ কিশোর ও তরুণ। মাদকসেবীদের শতকরা ৬০ ভাগই এসএসসি পাস করা। ২০ থেকে ৪০ বছরের মাদকসেবীর সংখ্যা শতকরা ৮০ ভাগের বেশি। বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘মাদকের কারণে তরুণ প্রজন্ম সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে। আপনার, আমার, সবার সন্তানই অনিরাপদ।’

    ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায় মাদক দ্রব্যের উপস্থিতি সুপ্রাচীনকাল থেকেই। খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ বছর আগে মেসোপটেমিয়া, এসিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে আফিমের নেনাক প্রমাণাদি পাওয়া যায়
    বাংলার প্রাচীনতম কাব্য চর্চা পদেও তার যথেষ্ট প্রমান রয়েছে। সবচেয়ে প্রাচীন মাদকটির নাম হচ্ছে আফিম গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, সংযোজন হয় ইয়াবা। এ ছাড়া গাঁজা, আফিম, চরশ, বাংলা মদ, গুল, মরফিন, কোকেন, বিয়ার, ওয়াইন, হেরোইন, প্যাথেলিন, মারিজুয়ানা, ডেক্রপরটেন, প্যাথেডিন কোকেন চোলাইমদসহ বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীর তালিকা দিনে দীর্ঘ হচ্ছে। কোন ভাবে থামানো যাচ্ছেনা এ অবৈধ মাদককারবার। ফলে সব চেয়ে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে যুব সমাজ। দেশে মাদকের বিস্তৃতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তরুণ ও যুবসমাজ ব্যাপক হারে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।

    মাদকে আক্রান্ত তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। বর্তমান সমাজে মাদক জন্ম দিচ্ছে একের পর এক অপরাধ। শুধু মাদকের কারনে ছেলের হাতে বাবা মা ভাই ও খুন স্ত্রী হাতে স্বামী, স্বামীর হাতে স্ত্রী, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা, প্রেমিকার হাতে প্রেমিক খুন হওয়ার কথা পত্র পত্রিকায় খবর বের হয়েছে। মাদকের ছোঁয়ায় সম্ভাবনাময় তারুণরা অধঃপতনের চরম শিখরে উপনীত হচ্ছে। মাদক এখন সহজলভ্য। রাজধানী শহর-নগর, গ্রামসহ মফস্বল এলাকায়ও হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। আশির দশকের শেষ দিকে ফেনসিডিলের আবির্ভাব হয়। পর্যায়ক্রমে এটার ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে। নব্বইয়ের দশকে মাদকের জগতে সংযোজন হয় ইয়াবা। এ ছাড়া গাঁজা, আফিম, চরশ, বাংলা মদ, গুল, মরফিন, কোকেন, বিয়ার, ওয়াইন, হেরোইন, প্যাথেলিন, মারিজুয়ানা, ডেক্রপরটেন, প্যাথেডিন কোকেন চোলাইমদসহ রকমারি মাদকের প্রতি তরুণদের আসক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বিধ্বংসকারী মাদকের বিস্তার সমাজে যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে সচেতন অভিভাবক মহল উদ্বিগ্ন।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছরের ওপরে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ মানুষ মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তদের মধ্যে ৮৫ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। না বুঝেই অনেক তরুণ এ পথে পা দিয়ে বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, মাদক সেবনের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৮০ লাখ মানুষ এবং বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ মারা যায়। বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি। মাদকাসক্ত সন্তানের কারণে এক একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকাসক্ত সন্তানকে নিয়ে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়ছে। পথশিশুরাও আজ ভয়াবহ নেশায় আসক্ত হচ্ছে।
    সমাজসেবা অধিদফতরের এক গবেষণায় দেখা যায়, শহর, গ্রাম থেকে নিয়ে স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত হচ্ছে।

    যত্রতত্র চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য। প্রতিনিয়িত বসছে নেশার আড্ডা। অনেকে নেশার টাকা জোগাড় করতে নেমে পড়ছে অপরাধ জগতে। মাদকের চাহিদা মেটাতে তরুণ-তরুণীরা ক্রমেই অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। অনেক শিক্ষার্থী নেশার মোহে পড়ে সম্ভাবনাময় জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে একজন মানুষ যখন অপরাধজগতে পা বাড়ায়, প্রথম সিঁড়িটি হলো মাদকদ্রব্য। সিগারেট হলো মাদকাসক্তির মূল কারণ। একজন মানুষ প্রথমেই কিন্তু মাদক সেবন করে না। প্রথমে যেটা করে সেটা হলো সিগারেটের নেশা। এই নেশা থেকে আস্তে আস্তে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মাদকের নেশায় আসক্ত বেশির ভাগই শুরু হয় বন্ধুবান্ধবের সাহচর্যে। মাদক গ্রহণের ফলে প্রাথমিক সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর মরণ ফাঁদ। এই মরণ ফাঁদে একবার পড়লে স্বাস্থ্যহানি ঘটে, সৃজনীশক্তি শেষ হয়ে যায়। স্বাস্থ্যহানি বলতে কেবলই দৈহিক স্বাস্থ্যের কথা বলা হচ্ছে না। দেহের পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা ও বিধ্বস্ত হয় মনের স্বাস্থ্য, ক্ষয় হয় নৈতিক মূল্যবোধ, মাদক কেড়ে নিচ্ছে তরুণদের একাংশের সুবুদ্ধি ও সুবিবেচনা। যার ফল সমাজ-জীবনে দুর্যোগ নেমে আসে। মাদকাসক্তি দেশে সংঘটিত অপরাধের একাংশের প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    পারিবারিক বিপর্যয়গুলো বিশেষজ্ঞদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে। এই সর্বনাশ মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্রকে মোটেও বিচলিত করে না। তারা কেবলই বোঝে ব্যবসা। তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দিচ্ছে মরণনেশার উপকরণ মাদক। তরতাজা তরুণদের মেধা, বিবেক, লেখাপড়া, মনুষ্যত্ব সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে ইয়াবার ভয়াবহ নেশা। বিনষ্ট করে দিচ্ছে স্নেহ, মায়া, ভালোবাসা, পারিবারিক সুবন্ধন। মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে অহরহ বাবা-মা, ঘনিষ্ঠ স্বজন নির্মম হত্যার শিকার হচ্ছে। নেশাখোর বাবা মাদক সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে কান্ডজ্ঞান হারিয়ে প্রিয় সন্তানকে খুনও করছে অবলীলায়। নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, মাকে জবাই করা, আদরের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটছে।

    এক নজরে বাংলাদেশে মাদকের পরিসংখ্যান বাংলাদেশে প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন মানুষ মাদকাসক্ত। দেশের বেকার জনসংখ্যারও বেশ বড় অংশ মাদকাসক্ত। মোট মাদকাসক্তদের ৪৮ শতাংশ শিক্ষিত এবং ৪০ শতাংশ অশিক্ষিত। মাদকাসক্তদের প্রায় ৫৭ শতাংশ যৌন অপরাধী, যাদের ৭ শতাংশ হলো এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত। সারা দেশে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার মাদক ব্যবসায়ী তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যাঁদের মধ্যে ২৭ হাজার ৩০০ জন মহিলা।
    ২০১৯ সালে গড়ে প্রতিদিন ১১৪ জন রোগী সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০৪ এবং ২০১৭ সালে ৬৯। এটাও অবাক করার মতো বিষয় যে ২০১৯ সালে মহিলা মাদকসেবীদের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। ২০১৮ সালে ৯১ জন মহিলা সরকারি সুযোগ-সুবিধায় চিকিৎসা পেয়েছিলেন। এই সংখ্যা বেড়ে ২০১৯ সালে ৩৬০ হয়েছে। (১৩ জানুয়ারি, ২০২০-এ দ্য ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত)।

    র‌্যাবের সূত্রমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ মাদকসেবী রয়েছে। মাদকসেবীদের শতকরা ৯১ ভাগই কিশোর ও তরুণ। এরমধ্যে ৪৫ দশমিক ৭৪ ভাগ বেকার, ৬৫ দশমিক ১ ভাগ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট, ১৫ ভাগ উচ্চ শিক্ষার্থী, ২২ দশমিক ৬২ ভাগ ব্যবসায়ী, ১০ দশমিক ৬৭ ভাগ চাকরিজীবী, ৬ দশমিক ৬৭ ভাগ ছাত্র এবং ৬ দশমিক ৮০ ভাগ শ্রমিক। এর পেছনে ব্যয় হওয়া টাকার অংশও কম নয়। ৬০ লাখ মাদকসেবীর পেছনে খরচ করে ৯১,১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তন্মধ্যে কেবলমাত্র ফেনসিডিলই বছরে আমদানি হয় ১৭০০ কোটি টাকার, যা সীমান্ত পথে, যশোর, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চারঘাট, বাঘা, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, আখাউড়া ও সিলেট হয়ে দেশে ঢুকছে।

    মাদকাসক্তির বহু কারণের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় অন্যতম। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা, দারিদ্র্যের কষাঘাত, বেকারত্বের নৈরাশ্যও কম দায়ী নয়। মাদক ব্যবহারকারীরা একাধিক উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ করে। তাদের বেশির ভাগকেই বন্ধুবান্ধব-সহপাঠী মাদক সরবরাহ করে। কেউ কেউ মাদক ব্যবসায়ী-চোরাচালানকারীদেরই উৎস
    হিসেবে ব্যবহার করে।

    অল্পসংখ্যক পথশিশু-টোকাইয়ের মাধ্যমে মাদক সংগ্রহ করে এবং অনেকে ডমেস্টিক হেল্পের (সার্ভেন্ট, সিকিউরিটি গার্ড ইত্যাদি) মাধ্যমে ও মাদক পেয়ে থাকে।
    মাদকের ভয়াবহতা মাদকের হাতছানি সারা দেশে। শুধু শহরেই নয়, গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। তার বিষাক্ত ছোবল শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও সম্ভাবনা। সর্বনাশা মাদক ধ্বংস করে একটি মানুষের শরীর, মন, জ্ঞানবিবেক ও তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তার পরিবারের সব স্বপ্নকে এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যেক।

    শুধু পরিবারকে নয়, মাদকের কালো থাবা ধ্বংস করে একটি সমাজকে, একটি জাতিকে এবং পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে এটি বৃহৎ আকার ধারণ করে একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। তরুণ তাজা প্রাণের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ায় পিছিয়ে পড়ছে সমাজ। বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন পথে, মাদক ঢুকে পড়ছে আমাদের সমাজে। আর ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের অবক্ষয়, প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির অসামঞ্জস্যতা, হতাশা এবং মূল্যবোধের অভাবের সুযোগ নিয়ে মাদক তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তরুণসমাজের প্রতি।

    মাদকে তরুণসমাজ ধ্বংস বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ অন্যান্য সূত্রে আমরা প্রতিনিয়ত খবর পেয়ে থাকি, রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী ও বারিধারায় সর্বনাশা ইয়াবা সেবনের ফলে ধনী শ্রেণির দুলাল-দুলালিরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গুলশান, বনানী, বারিধারায় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সর্বনাশা ইয়াবা সেবনের ফলে তাঁদের সন্তানরা পৌঁছে যাচ্ছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। শুধু গুলশান, বনানী নয়, মিরপুর. টোলারবাগ, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদসহ বেশ কিছু এলাকায় দেখা যাচ্ছে মাদকের করাল গ্রাস। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার করেছে। আর এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে—ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ ও বিদেশি মদ, প্যাথেড্রিন, ডিনেচার্ড স্পিরিট, ভাং, বিয়ার, তাড়ি, বুপ্রেনরফিন (টিডি জেসিক ইঞ্জেকশন), কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বায়োজেসিক ইঞ্জেকশন), মরফিন, আইস পিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন।

    পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে সীমান্ত পথে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দেশে ঢুকছে অভিনব পদ্ধতিতে। পেঁয়াজের ভেতরে ইয়াবার চালান আনা হচ্ছে কুমিল্লা থেকে। দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তে মৌসুমি ফল বহনকারী পরিবহন ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য চোরাচালানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তরমুজ ও মোটা বইয়ের মধ্যে মাদক আনা নেযা হচ্ছে।
    নতুন এক উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদকের অপব্যবহার ও চোরাচালানের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ব্যবহার হচ্ছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সন্ত্রাসের প্রসারে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার সীমান্তে ছোট-বড় কারখানা গড়ে উঠেছে। ফান্ড সংগ্রহে এখন জঙ্গিরা মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, ডাকাতি ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়ছে।

    বর্তমানে প্রেসক্রিপশন ড্রাগ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। প্রেসক্রিপশন ড্রাগ একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ড্রাগ, যা আইনিভাবে একটি মেডিক্যাল প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে বিতরণ করার নিয়ম। প্রেসক্রিপশন ড্রাগগুলো মদ্যপান এবং গাঁজার পরে (কোকেইন, হেরোইন এবং মেথামফেটামিনের আগে) তৃতীয় সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত মাদক। এই ওষুধের অপব্যবহার করে সহজেই যে কেউ আসক্ত হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই আরেকজনের প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে বা নির্ধারিত ডোজের বেশি গ্রহণ করে এতে আসক্ত হয়ে পড়ে।

    মাদকের বিস্তারে নারী ও শিশুদের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবার আমদানি, সরবরাহ ও বেচাকেনার জন্য নিরাপদ হিসেবে নারী ও শিশুদের বেছে নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরা ব্যর্থ হওয়ায় তাদের পরিবারের ভাড়া করা নারী ও শিশুদের নামাচ্ছে এ ব্যবসায়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী ও শিশুরা অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য জড়াচ্ছে মাদক ব্যবসায়।

    বর্তমানে দেশে ইয়াবার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে নারীরা একসঙ্গে অনেক ইয়াবা তাদের দেহের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অংশে সহজেই বহন করতে পারে। কিছুদিন ধরে নারীরা ইয়াবার বিশেষ ধরনের থলে পেটের মধ্যে বহন করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শিশুদের স্কুলব্যাগে করেও পাচার করা হচ্ছে মরণনেশা ইয়াবার চালান।
    মাদক নির্মূল কৌশল ও সফলতা মাদক নির্মূলে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়—চাহিদা হ্রাস, সরবরাহ হ্রাস ও ক্ষতি হ্রাস। চাহিদা হ্রাস কৌশলের অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী ডিজিটাল প্রচারের নতুন সংযোজন এলইডি কিওস্ক ডিসপ্লে ডিভাইস, যা প্রতিটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তিনটি করে স্থাপন করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্যবিরোধী সরকারি বা বেসরকারি যাবতীয় কাজের সমন্বয় সাধন, তত্ত্বাবধান, পরামর্শ প্রদান ও মাদকবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাতীয় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচার কমিটির রয়েছে। সব কমিটির কার্যক্রম জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড পবীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে। জাতীয় মাদকবিরোধী কমিটির জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রচারণা কমিটি রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে উপজেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম পর্যালোচনা সমন্বয় সাধনের জন্য প্রতি তিন মাস পর পর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রধান কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    ক্ষতি হ্রাসের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারিভাবে দেশের চারটি নিরাময়কেন্দ্র আছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত বেসরকারি পর্যায়ে ৩০৪টি মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যাতে তিন হাজার ৭৯০টি বেড রয়েছে। টেকসই মাদক নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আন্তর্জাতিক ড্রাগ কনভেনশনগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে জনস্বাস্থ্য, মানবাধিকারসহ

    জাতিসংঘের কার্যপরিকল্পনা অনুসারে অভ্যন্তরীণ মাদক পলিসি প্রবর্তন করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দেশ ও সংস্থার সঙ্গে বেশি বেশি আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ ফলপ্রসূ হতে পারে। দেশের সীমান্তসহ মাদক প্রবেশের যত রুট রয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের উদ্যোগে ভারত-মিয়ানমার-বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ আঞ্চলিক কাঠামো করা মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন করে যেন কোনো শিশু-কিশোর কিংবা উদ্বেলিত তরুণ-তরুণী মাদকের জালে জড়াতে না পারে, তারা যেন কৌতূহল কিংবা এক্সপেরিমেন্টেশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে এবং বন্ধুবান্ধব নির্বাচনে যেন সজাগ থাকে, এ জন্য মাদকের পরিণতি সম্পর্কে আগেই খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। এ ছাড়া খেলাধুলাসহ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সৃজনশীল বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখন থেকেই সব অভিভাবক তথা আমাদের সবাইকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।

    মাদকের ছোবল থেকে দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে বাঁচাতে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি ও মটিভেশনাল প্রোগ্রামসহ মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করতে হবে। তরুণ ও যুবসমাজের মনে মাদকের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে। ইসলামী জীবন যাপনের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা আরো বাড়াতে হবে। মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে মাদক পাচারের সাথে সংশ্লিষ্ট ও ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মাদক পাচার রোধ ও মাদকের সহজপ্রাপ্যতা বন্ধ করতে হবে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

    দেশের অভ্যন্তরে মাদকের উৎপাদন এবং পার্শ্ববর্তী দেশের মাদক চোরাচালানের সব পথ বন্ধ করতে হবে। অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কেবল রাষ্ট্রীয়ভাবে নয়, সামাজিক ও পারিবারিকভাবেও সচেতন হতে হবে।

    মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মাদকের হাত থেকে তরুণদের মুক্ত করা সমাজের দায়িত্ব। আর এজন্য যথাযথ পদক্ষেপের বিকল্প নেই। আমাদের সবাইকে নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। মুক্ত করতে হবে দেশের যুবসমাজকে। মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তির শারীরিক অবস্থারই অবনতি ঘটায় না বরং একটি সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও সভ্যতাকেও ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। তাই আমাদের উচিত মাদকবিরোধী তীব্র আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার মধ্য দিয়ে যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা। নয়ত মাদকের ভয়ঙ্কর থাবায় ধ্বংস হবে আমাদের সমাজব্যবস্থা সর্বোপরি রাষ্ট্রব্যবস্থা।

  • নড়াইলে ঝড়বৃষ্টিতে বিপজ্জনক পারাপারে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

    নড়াইলে ঝড়বৃষ্টিতে বিপজ্জনক পারাপারে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:
    নড়াইলে ঝড়বৃষ্টিতে বিপজ্জনক পারাপারে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের সরশপুর এলাকায় মানুষের পারাপারে শেষ ভরসা ১৮ খুঁটির একটি বাঁশের সাঁকো। বর্ষা এলে বাড়ে দুর্ভোগ। ঝড়বৃষ্টিতে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে সাঁকো পারাপার। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদেরও। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায়ও পোহাতে হয় দুর্ভোগ। বছরের পর বছর একটি ব্রিজের অপেক্ষা এলাকবাসীর। দুই পাশে লোকালয়, হাটবাজার ও স্কুল-কলেজ। মাঝখানে খাল। দু-এক দিন নয়, ৫২ বছর ধরে এ অবস্থা। চার ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকোটি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ১০ ফুট পরপর দুটি করে বাঁশের খুঁটি। এমন ১৮টি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের সাঁকোটি। ধরার জন্য আড়াআড়িভাবে দুই পাশে দুটি বাঁশ বেঁধে রাখা হয়েছে। মরা চিত্রা নামের এ খালের উৎপত্তি মাগুরার শালিখা উপজেলার গড়েরহাট মোড়ে কাজলা নদী থেকে। পরে সেটি নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ও শাহাবাদ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সেখান থেকে চণ্ডীবরপুর ইউনিয়নের রতডাঙ্গা ত্রিমোহনীতে গিয়ে চিত্রা নদীতে মিশেছে এ মরা চিত্রা।
    নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের সরশপুর এলাকায় এই খালের দুই পাড়ে রয়েছে মাইজপাড়া ইউনিয়নের ছয়টি এবং শাহাবাদ ইউনিয়নের আটটি গ্রাম। রয়েছে মাইজপাড়া, সরশপুর, শাহাবাদ ও ধোন্দার মোড়ে চারটি হাটবাজার, একটি কলেজ, তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে ব্যবসায়ী, কৃষক, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসব গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে।
    যাতায়াতের জন্য এলাকাবাসী নিজেরাই সাঁকোটি তৈরি করেছেন বলে জানালেন খালের পশ্চিম পাড়ের চরবিলা গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব মোল্যা এসময় আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, কত নেতারে বল্লাম। কতবার চেয়ারম্যানদের বলছি। এখানে একটা পাকা সেতু বানিয়ে দিলে আমাদের কষ্ট কমে যায়। তারা শুধু বলে দেখতিছি। বুঝার পর থেকে ৫২ বছর শুধু শুনেই গেলাম কিন্তু ব্রিজ আর হলো না।
    দুই পাড়ের কয়েকজন বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশ স্বাধীনের পর এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলাচল করছেন। এ সময়ে খালের দুই পাড়ের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের অনেক ছোঁয়া লেগেছে। বদলে গেছে এলাকার চিত্র। বদলায়নি কেবল বাঁশের সাঁকোটি।
    স্থানীয়রা জানায়, নড়বড়ে এই সাঁকো
    পার হতে অনেক সময়ই শিশুরা পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। স্কুলগামী শিশুদের কথা বিবেচনা করে হলেও খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করার দাবি তাদের।
    এই খালের পূর্ব পাড়ে সরশপুর এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়,তার বাড়ি খালের পশ্চিম পাড়ের আড়ংগাছা গ্রামে। স্কুলে আসার সময় সাঁকো পার হতে ভয় লাগে।
    নড়াইলের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জহির মেহেদী হাসান বলেন, ওই যায়গায় একটি সেতু নির্মাণের কাজ খুব দ্রুত সময়ে শুরু হবে।

  • তানোরে কৃষকের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ

    তানোরে কৃষকের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ

    আলিফ হোসেন,
    তানোর(রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
    রাজশাহীর তানোরে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর পক্ষ থেকে বোরো কাটতে সহায়তাসহ কৃষক এবং শ্রমিকদের মাঝে খাবার স্যালাইন, পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জানা গেছে, ২৯ এপ্রিল শনিবার দিনব্যাপী উপজেলার তালন্দ, চাপড়া, ধানতৈড়, বিলকুমারী বিল, কাশিমবাজার ও কালীগঞ্জহাট এলাকার মাঠে মাঠে কৃষকদের মাঝে এসব খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সাংসদের পক্ষ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদিপ সরকার, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আবু বাক্কার, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও তরুণ শিল্পপতি আলহাজ্ব আবুল বাসার সুজন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব রামিল হাসান সুইটপ্রমুখগণ এসব খাবার বিতরণ করেন। এদিকে সাংসদের পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মীরা যখন সাধারণ কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তখন দলের কথিত শতবর্ষী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম রাব্বানী ভাড়াটিয়াদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউনের নামে আনন্দ র ্যালী করে বির্তকের জন্ম দিয়েছে।#

  • সাংবাদিক নির্যাতনে বিএমএসএস’র মানববন্ধন

    সাংবাদিক নির্যাতনে বিএমএসএস’র মানববন্ধন

    আমজাদ হোসেন রতন।
    সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও মিথ্যা মামলা এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির উদ্যোগে
    চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চেরাগী চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রংপুরে এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক সহ ৪ সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনা, রাজশাহীর পুঠিয়ায় সাংবাদিক সোহানুর রহমান সোহানকে মারধর করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দেয়া সহ বিএমএসএস যশোরের সভাপতি এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক নাসির উদ্দীন নাসিম, মাইটিভির সাংবাদিক সহ ৫ জনের উপর হামলা ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার প্রতিবাদে এবং দেশের বিভিন্ন জেলা -উপজেলায় সাংবাদিকদের উপর হামলা মিথ্যা-হয়রানি মূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
    ২৯ এপ্রিল শনিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চেরাগ পরিষদের সামনে উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মানববন্ধনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি (বিএমএসএস)’র চট্টগ্রামে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভাগীয় সহযোদ্ধা ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিএমএসএস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আনিসুর রহমান ফরহাদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও মো: ইদ্রিস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রায়হান, কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ জুবাইর, সহ-সম্পাদক আনিসুর রহমান।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা এ সময় সাংবাদিক সোহানুর রহমান সোহানের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান এবং যশোরের বিএমএসএস জেলা কমিটির সভাপতি এশিয়ান টেলিভিশনের নাসির উদ্দীন নাসিম সহ ৫ সাংবাদিকের উপর হামলা ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলাটি প্রত্যাহারের দাবী জানান। এ ছারাও বাঘারপাড়ার ঐ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কুশপুত্তলিকা দাহ সহ কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি প্রদান করেন।
    পাশাপাশি রংপুরে এশিয়ান টিভির সাংবাদিক সহ ৪ সাংবাদিকের উপর হামলার বিচার দাবী এবং সারাদেশে সকল সাংবাদিকদের উপর হামলার বিচার নিশ্চিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান সাংবাদিকরা।

  • বানারীপাড়ায় “বঙ্গবন্ধু  স্বপ্নপূরণ, বিনামূল্যে আইনি সেবার দ্বার উন্মোচন” বিষয়ক প্রকল্পের আলোচনা সভা

    বানারীপাড়ায় “বঙ্গবন্ধু স্বপ্নপূরণ, বিনামূল্যে আইনি সেবার দ্বার উন্মোচন” বিষয়ক প্রকল্পের আলোচনা সভা

    এস মিজানুল ইসলাম, বানারীপাড়া ( বরিশাল ) প্রতিনিধি।। শনিবার ২৯ এপ্রিল সকাল ১০ টায় বেসরকারি সংস্থা নাগরিক উদ্যোগের উদ্যোগে “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণ, বিনামূল্যে আইনি সেবার দ্বার উন্মোচন” বিষয়ক প্রকল্পের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বানারীপাড়া উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন নাগরিক উদ্যোগের এরিয়া সমন্বয়কারী মোঃ মহসিন মিয়া, আর জে এম এফ এর সদস্য ফিরোজা বেগম, মোঃ ফারুক বিশ্বাস, কমিনিউটি প্যারালিগ্যাল কমিটির (চাখার) সদস্য পরিতোষ রায়, বাইশারীর মোসা. সুমাইয়া, হিসাব রক্ষক রাজিব, সমাজসেবক কহিনুর, কলেজ শিক্ষার্থী মিতু আক্তার প্রমূখ।#