Author: desk

  • ভাবখালীতে রাজ উস্তাগার নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপন

    ভাবখালীতে রাজ উস্তাগার নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপন

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নে প্রথমবারের মত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ব্যাপকভাবে পালিত হয়েছে মহান মে দিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে সোমবার (১লা মে) বিকালে রাজ উস্তাগার নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন ভাবখালী ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে র্যালী,আলোচনা সভা ও বিশাল বাউল সঙ্গীতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শেষে বাউল সন্ধ্যার উদ্বোধন করেন ১২নং ভাবখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সাত্তার সোহেল। সভার সভাপতি হিসাবে স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রাজ ওস্তাগার নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, ভাবখালী শাখা সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভাবখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মোবারক হোসেন। এসময় চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার সোহেল বলেন-আমার বাবা ইউনিয়নটিতে চেয়ারম্যান হিসাবে এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে দীর্ঘ দিন সেবা করেছেন, দেনদরবারসহ সামাজিক উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমে সফলতার সাথে কাজ করেছেন। আমিও বাবার মতো আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।

    ভাবখালী পুরাতন বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ সাজ্জাদুল হাসান (সাজু) পৃষ্ঠপোষকতায় ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম,সহ সভাপতি আব্দুল হেকিম, দপ্তর সম্পাদক আল আমিন এর সার্বিক তদারকিতে আয়োজিত বাউল গানের অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার সোহেল আরো বলেন, আজ পহেলা মে, জাতীয় শ্রমি দিবস,এই দিনেই শ্রমিকরা তাদের দাবী আদায়ের লক্ষে আন্দোলন করে অনেকেই জীবন দিয়েছে। এখানে যারা উপস্থিত আছেন সবাই আমার প্রাণ প্রিয় মানুষ। কেউ বাবার বয়সী, কেউ সমবয়সী, কেউ ছোট ভাই। আপনাদের সকলের দোয়া ও সহযোগীতা নিয়ে এলাকার সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কে এগিয়ে নিতে চাই। এসময় তিনি
    বলেন- এলাকা বা দেশের উন্নয়নের মুল চাবিকাঠি শ্রমিক। তাই শরীরের গাম শুকানোর আগে শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। আজ সারা দেশে একযোগে শ্রমিক দিবস পালন করা হচ্ছে। এ শ্রমিক দিবসকে সামনে রেখেই আজ আমরা একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। যারা কাজ করে তাদের মুল্যায়ণ করা সকলের উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন জেলা শাখার অন্যতম নেতা তফাজ্জল হোসেন, আবুল কালামসহ ভাবখালী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • পটিয়ায় নজির আহমেদ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঢেউ টিন বিতরন

    পটিয়ায় নজির আহমেদ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঢেউ টিন বিতরন

    মহিউদ্দীন চৌধুরী,ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    পটিয়া উপজেলার জিরি ও কুসুমপুরা ইউনিয়নে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের মাঝে ঢেউ টিন বিতরন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মানবিক সংগঠন পটিয়া নজির আহমেদ দোভাষ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডক্টর জুলকারনাইন চৌধুরী জীবনের পক্ষ এ ঢেউ টিন বিতরন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া ডালিম, ইউপি মেম্বার মো: নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ কায়সার, মো: জসিম উদ্দিন, কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার খোরশেদ আলম, ফাউন্ডেশনের অর্থ সচিব নজরুল ইসলাম।

  • ঈদে খুন হওয়া দুই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন এসপি মাছুম আহাম্মদ ভুঞা

    ঈদে খুন হওয়া দুই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন এসপি মাছুম আহাম্মদ ভুঞা

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    ময়মনসিংহে ঈদের দিনে পৃথকভাবে খুন হওয়া নিহত অসহায় দুই পরিবারের সদস্যদেরকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন পুলিশ সুপার মাছুম আহমেদ ভূঞা।

    মঙ্গলবার (২ মে) দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে
    খুন হওয়া দুই পরিবারের সদস্যদেরকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

    পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা বলেন, ঈদের দিন ভোরে ময়মনসিংহ নগরীর ডি এন চক্রবর্তী রোডে অটো চালক হাবিবুর রহমান এবং গোহাইলকান্দি পশ্চিম পাড়া রিক্সা চালক সাদেক মিয়াকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। এই দুই খুনের ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক মামলা হয়েছে।

    তাৎক্ষণিক কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ফারুক হোসেন, এসআই নিরুপম নাগ, এসআই শাহ মিনহাজ উদ্দিন, এএসআই সুজন চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তিনজনকে ঘটনার ৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলো, অনন্ত কুমার দে, মামুন ও কাজী মোঃ মাহিন বাদশা। এদের মাঝে অনন্ত ময়মনসিংহের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ও মামুন কমার্স কলেজের ছাত্র। অনন্তের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং- ২০ তাং- ০৯-১২-২০২০, ধারা- ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ এ ধারার অস্ত্র মামলা চলমান রয়েছে।

    অন্য দুই আসামীর বিরুদ্ধেও স্থানীয়ভাবে বিরুপ তথ্য পাওয়া যায় এবং তারা নেশাগ্রস্ত। তারা উভয় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।গ্রেফতারকৃতরা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে রিক্সা ভাড়া করে কৌশলে কাঙ্খিত স্থানে নিয়ে একই ছুরি দিয়ে অটোচালক ও রিক্সাচালক দুইজনকে হত্যা করে তাদের সাথে থাকা টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা বলেন, এ দুটি হত্যা মামলার তদন্তকালে উপার্জনক্ষম এই দুই ব্যক্তির মৃত্যুতে পরিবার দুটির আর্থিক দুরাবস্থা ও মানবেতর অবস্থা পুলিশের চোখে পড়ে। যা আমাদের হৃদয়ে মারাত্মকভাবে নাড়া দেয়। এ প্রেক্ষিতে আমি (পুলিশ সুপার) এবং কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ব্যক্তিগতভাবে একান্ত মানবিক চিন্তা চেতনায় পরিবার দুটির অসহায়ত্বের বিবেচনায় তাদেরকে আর্থিক সহায়তার চিন্তা করি। ঐ দুই পরিবারের সদস্যদের ডেকে এনে পৃথক ভাবে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

    তিনি আরো বলেন, যৎসামান্য এই অর্থ পরিবার দুুটির নামে পৃথকভাবে এফডিআর করে দেওয়া হবে। যা ইতিমধ্যেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। পুলিশ সুপার আরো বলেন, এ ধরনের মানবিক কাজে আমরা সব সময় কাজ করছি। এই পরিবার দুটোকে কিছুটা হলেও সহায়তা করতে পেরেছি।

    এছাড়া পুনাক ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে পরিবার দুটোর সদস্যদেরকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়া হবে। একইসাথে সরকারের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাথে কথা বলে অসহায় এই দুই পরিবারের সদস্যদের জন্য আরো কিছু করার চেষ্টা করবো।

    এ সময় রিক্সা চালক নিহত সাদেক মিয়া ১০ বছরের শিশু কন্যা সাদিয়া আক্তার লিজা পুলিশ সুপারের কাছে দাবি করেন আমাদের চাওয়া শুধু হত্যার বিচার। আমি আমার পিতার হত্যাকারীদের দ্রুত এবং সঠিক বিচার চাই।

    শিশু কন্যার আবেগীয় দাবির প্রতি সমর্থন করে পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো তদন্ত চলছে। আসামীদের যাতে কঠোর বিচার হয়, পুলিশ সেই লক্ষ্যে কাজ করছে।

    পুলিশ সুপারের আর্থিক সহায়তা নিতে নিহত রিক্সা চালক সাদেক মিয়ার স্ত্রী লাভলী আক্তার দুই শিশু সন্তানসহ এবং অটো চালক হাবিবুর রহমানের দুই স্ত্রীর মাঝে ফজিলা খাতুন তার একমাত্র ছেলে সন্তান নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাঃ রায়হানুল ইসলাম, কোতোয়ালি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুল ইসলাম ফকির, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • গোপালগঞ্জে পাইপ লাইনে পানি না পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে জুতা পেটা

    গোপালগঞ্জে পাইপ লাইনে পানি না পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে জুতা পেটা

    বাদল সাহা,

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পাইপ লাইনে পানি সরবরাহ না পেয়ে কুশলী ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সরদারকে জুতা পেটা করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা আর সমালোচনার ঝড়।

    এ ঘটনায় ওই ইউপি চেয়ারম্যান আজ মঙ্গলবার (০২ মে) সকালে টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তিনি কুশলী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ওই ইউনিয়নের খালেক বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, গত ৩ মাস ধরে কুশলী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত সুপেয় পানি ঠিকমতো পাচ্ছিলো না ৬, ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। অথচ পানির বিল বাবদ প্রতি মাসে রশিদের মাধ্যমে ৫০০ টাকা করে ওই সব বাসিন্দাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছিল। ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সরদারকে অভিযুক্ত কামরুল ইসলামসহ এলাকাবাসী একাধিকবার জানালেও কোন সমাধান হয়নি।

    পরে এর জের ধরে গত রোববার (৩০ এপ্রিল) পানি সরবরাহ নিয়ে সন্ধ্যায় খালেক বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের সাথে বাকবিতন্ডা হয় কামরুল ইসলামের। এক পর্যায়ে পায়ের জুতা খুলে ইউপি চেয়ারম্যানকে মারতে শুরু করেন কামরুল। তখন স্থানীয়রা মারামারি ঠেকিয়ে দিলে ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাড়ি চলে যান।

    অভিযুক্ত কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তার স্ত্রী লাইজু বেগম বলেন, চেয়ারম্যানকে জুতা পেটা করা হয়নি। গত তিন মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাইপ লাইনে মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানি আমরা পাচ্ছি না। চেয়ারম্যানের সাথে এই নিয়ে কামরুলের বাকবিতন্ডা হয়েছে। আর এ ঘটনার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় চেয়ারম্যানের ভাই জাহাঙ্গীর সর্দারের ছেলে হৃদয়সহ ১০/১৫ জন লোক আমাদের দোকানের সামনে থাকা কয়েকটি ব্যানার ফেস্টুন ভাংচুর করে। এছাড়া আমার স্বামী ও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

    এ ব্যাপারে কুশলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সর্দার দোকান ব্যানার ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় আমি গাড়ি থেকে নেমে এক আওয়ামী লীগ নেতার কথা বলছিলাম। হটাৎ কামরুল জুতা দিয়ে আমার পিছনে আঘাত করে চলে যায়। পরে আমিও বাড়ি চলে আসি। এছাড়া আমার লোকজনকে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটানোর নির্দেশ দিয়েছি। তারা নিজেদের দোষ ঢাকতে বিভিন্ন রকম মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে পানির সরবরাহ মিটারে সমস্যা হয়েছে। ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে নতুন মিটার কেনা হয়েছে। এখন পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় আমি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

    টুঙ্গিপাড়া থানার পরিদর্শক (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় চেয়ারম্যান আজ মঙ্গলবার (০২ মে) সকালে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত কামরুল ইসলামকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। #

  • মাথায় টোঁকা, হাতে কাস্তে নিয়ে ধান কাটলেন ময়মনসিংহের ডিসি-ইউএনও,ইউপি চেয়ারম্যান

    মাথায় টোঁকা, হাতে কাস্তে নিয়ে ধান কাটলেন ময়মনসিংহের ডিসি-ইউএনও,ইউপি চেয়ারম্যান

    আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
    হঠাৎ গাড়ী বহর নিয়ে ধান ক্ষেতে কৃষকের বেশে ডিসি। চমকে গেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছুক্ষণ পরেই ভুল ভাঙলো তাদের। জানলেন তিনি কৃষক নন ধান কর্তন ও নবান্ন উৎসব উদ্বোধনের প্রধান অতিথি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক।

    হাতে কাস্তে, মাথায় টোঁকা আর কোমরে গামছা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে প্রখর রোধে ধান কাটেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজার রহমান,সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান।

    মঙ্গলবার (২মে) দুপুরে ময়মনসিংহ সদরের ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সুহিলা এলাকায় মাঠে কৃষক সাজে ধান কেটে ও নবান্ন উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলার জনবান্ধব জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজার রহমান , সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান।

    সুহিলা গ্রামের এক কৃষকের জমির ধান কেটে ‘ধান কর্তন ও নবান্ন উৎসব’ উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় ডিসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, নবান্ন উৎসব কৃষকের প্রাণের উৎসব। আগে ঘরে ঘরে পালন করা হতো। সেই দিনে আবার ফিরে যেতে হবে। আর আর পায়েস ছিল লোভনীয় জিনিস। নবান্নের ধান দিয়ে আমার মা-চাচিরা ঢেঁকি দিয়ে ধানের চাল মাড়িয়ে আটা তৈরি করতো। সেই আটা দিয়ে তৈরি হতো হরেক রকমের পিঠা পায়েস। যা ঘ্রাণ ছড়াতো চারপাশ। শুরু হতো নবান্ন উৎসব। সেই পিঠা উৎসব আগামীতে ময়মনসিংহে উদযাপন করা হবে।

    জেলা প্রশাসক বলেন আরও বলেন, ধান ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য। ফড়িয়া বা বিভিন্ন দালালদের মাধ্যমে ধান ক্রয় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের হয়রানি করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কৃষক হয়রানির স্বীকার হলে তাৎক্ষণিক তার নিকট অভিযোগ দায়ের করার আহব্বান জানান তিনি।

    জেলা খামার বাড়ির উপ পরিচালক মতিউজ্জামানের সভাপতিত্বে ধান কর্তন ও নবান্ন উৎসব নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন-উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম,জেলা খামার বাড়ির উপ সহকারী পরিচালক (শস্য) , জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা,ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান।

    এসময় ইউপি সদস্যগণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জয়পুরহাটের কালাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজন আটক

    জয়পুরহাটের কালাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজন আটক

    স্টাফ রিপোর্টার:- নিরেন দাস

    জয়পুরহাটের কালাইয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চার ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডাকাতির প্রস্তুতিকালে কালাই উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ আল মামুন।

    আটককৃতরা হলেন, জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার বড় তারা পশ্চিমপাড়া গ্রামের শেখ সাদীর ছেলে শালিন (২২), বড়তারা মধ্যপাড়া গ্রামের মুনছুর রহমানের ছেলে রাকিব হাসান(২৬),পাঁচবিবি উপজেলার গোড়না বাজারের আব্দুল ওহাবের ছেলে ইব্রাহিম হোসাইন(২৮),বগুড়ার ধুনট উপজেলার জালশুকা গ্রামের খালেক খন্দকারের ছেলে নাফিজ খন্দকার (২০)।

    পরে গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান,আটকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল। সোমবার গভীর রাতে কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার ডাকাতকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি ধারালো চাকু, লোহার তৈরি পাইপ, প্লাষ্টিকের রশিও জব্দ করা হয়।

  • জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন রংপুরের আলা উদ্দিন মিয়া

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন রংপুরের আলা উদ্দিন মিয়া

    রংপুর থেকে বিভাগীয় প্রধান আবু নাসের সিদ্দিক তুহিন। —

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন রংপুরের আলা উদ্দিন মিয়া।
    জাতীয় পার্টি ঢাকাস্থ বনানী কার্যালয়ে গত ২ মে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন রংপুরের কৃতি সন্তান কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ২ বারের নির্বাচিত ভিপি মোঃ আলা উদ্দিন মিয়া। সে রংপুরের স্থানীয় দৈনিক দৈনিক পরিবেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক।
    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি এ দায়িত্ব প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভানেত্রী শেরিফা কাদের এমপি প্রমুখ।

  • তারাকান্দাকে  দৃশ্যমান উপজেলা হিসাবে উপহার দিতে চান ভাইস  চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল

    তারাকান্দাকে দৃশ্যমান উপজেলা হিসাবে উপহার দিতে চান ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল

    ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
    ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, প্রতিটি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামকে আধুনিকায়ন করার প্রত্যয় ও আধুনিক ডিজিটাল উপজেলা পরিষদ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে তাদের পাশে থেকে সেবা করে যেতে চান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলিগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম নয়ন ।

    সেই লক্ষ নিয়ে তিনি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও বিজয় ধরে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজার ও জনবহুল এলাকাগুলোতে দিনরাত গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তিনি তারাকান্দা উপজেলা বাসীর পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে ভোট ও দোয়া প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে প্রতিটি ইউনিয়নের জনসাধারণের মাঝে প্রচার ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে প্রতিটি ইউনিয়ন বাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। উপজেলার সর্বত্র আলোচনার শীর্ষেও উঠে এসেছেন তিনি। সংগ্রামী এই আওয়ামীলীগ নেতাকে আবারও ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চায় উপজেলার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সমর্থকরাও। জানা গেছে তারাকান্দা উপজেলাবাসীর পাশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সাংস্কৃতি ও অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে সমাজসেবা মূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় বিশেষ করে প্রাণঘাতী করোনা কালীন সময়ে প্রতিটি ইউনিয়নের কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে থেকে ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করে অনেক আগেই উপজেলা বাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন নজরুল ইসলাম নয়ন।

    যার ফলে আবারও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের কথা শুনে ইতিমধ্যে ডিজিটাল উপজেলা পরিষদের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে তারাকান্দাবাসী। তারাকান্দা উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, নজরুল ইসলাম নয়ন একজন তুখোড় ছাত্র নেতা। এর আগেও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন সহ দলীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন অত্যান্ত দক্ষতার সাথে। এ রকম একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও পরোপকারী সৎ ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে উপকৃত হবে প্রতিটি ইউনিয়নের সকল সাধারণ জনগন। তারা বলেন- নজরুল ইসলাম নয়ন আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষীত নেতা। তিনি সারাজীবন অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করছেন। জাতির জনকের আদর্শে বেড়ে ওঠা তরুণ এই নেতা তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব ও যোগ্যতা দিয়ে উপজেলা বাসীর সেবা করে যাবে বলেও বিশ্বাস করি।

    ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম নয়ন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আমি আধুনিক ও দৃশ্যমান উপজেলা উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে তারাকান্দার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করে যেতে চাই। আমি জনগণের শাসক হতে চাইনা আমি জনগণের সেবক হতে চাই। ফুলপুর-তারাকান্দা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশ মোতাবেক উনার আর্শিবাদ নিয়ে তার একজন ক্ষুদে কর্মি হিসাবে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে উপজেলাকে আধুনিক ডিজিটাল উপজেলা পরিষদে রূপ দিতে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এসময় উপজেলা বাসীর নিকট দোয়া ও সবাইকে পাশে থাকার আহবানও জানিয়েছেন।

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় ২৫ বছরের রের্কট ভঙ্গ করে নাইঘরে  হত্যা ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় আসামি জেল হাজতে

    ব্রাহ্মণপাড়ায় ২৫ বছরের রের্কট ভঙ্গ করে নাইঘরে হত্যা ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় আসামি জেল হাজতে

    মোঃতরিকুল ইসলাম তরুন,
    কুমিল্লা থেকে,

    কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নাইঘর গ্রামের ২৫ বছরের রের্টট ভঙ্গ করে ব্রাহ্মনপাড়া থানা পুলিশ হত্যা ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামিকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে৷স্থানীয় মেম্বার জানান গত ২৫ বছরে এই গ্রামের কোন মামলা থানায় যায়নি,সকল সমস্যা গ্রামবাসী বসে মিমাংসা করেছি।এবার রের্কড ভঙ্গ করে মামলা হলো।

    মুহুরী জাহাঙ্গীরের পরিবার ও মামলার এজহার সুত্রে জানা যায় গত ২৭ এপ্রিল ৭ টার দিকে উপজেলার নাইঘর উত্তর পাড়া এলাকার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর স্ত্রী আছমা আক্তার কে একই বাড়ির মোঃ জয়নাল আবেদীন এর ছেলে মোঃ আবুল কালাম (৩৫) গলায় সুইচ গিয়ার ( চাকু) দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়৷ পরে তার শরীরের কাপড় খোলার চেষ্টা করে ধর্ষনের উদ্দেশ্য।
    আছমা আক্তার চিৎকার করার চেস্টা করলে আবুল কালাম তার পেটে কামড় মারে৷ এসময় আসামি আছমা আক্তার এর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্হানে হাত দেয়৷
    তার আত্মচিৎকারে তার মেয়ে দৌড়ে ঘটনা স্থলে গেলে পালিয়ে যায় বখাটে আবুল কালাম৷
    পেটে কামড়ের আগাতপ্রাপ্ত আছমা আক্তার কে বাড়ির লোকজন উদ্ধার করা ব্রাহ্মণপাড়া সরকারি স্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ বর্তমানে আছমা আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে৷
    এ বিষয়ে আহতের স্বামী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন চরিত্রহীন লম্পট আবুল কালাম আমার স্ত্রীকে অনেকদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে৷
    তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আবুল কালাম প্রথমে আমার স্ত্রীকে গলায় সুইচ দিয়ে ঠেকিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং পেটে কামড় দেয় যার জন্য সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে৷ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন অভিযুক্ত আবুল কালামকে মঙ্গলবার কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে৷এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা জানান তিনি এবিষয়ে কিছু জানেন না,তিনি ছুটিতে ছিলেন।পরর্বতীতে তিনি আরো জানান তার হাসপাতালে আসমা নামে কোন রোগী ভর্তি নেই।

  • পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমার উপলক্ষে পানছড়িবাসীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানান ভেন.সুদর্শী স্হবির

    পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমার উপলক্ষে পানছড়িবাসীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানান ভেন.সুদর্শী স্হবির

    মিঠুন সাহা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।

    আগামী ৪ মে শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা ২৫৬৭ বুদ্ধাব্দ উপলক্ষে পানছড়িবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার আর্য্যমিত্র বৌদ্ধবিহার,তালতলা (জ্যোতির্ময় কার্বারী) অধ্যক্ষ ভেন.সুদর্শী স্হবির।

    শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি জানান,
    বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র একটি দিন । বৈশাখী পূর্ণিমা দিনটি বুদ্ধের ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত দিন। এই পবিত্র পূর্ণিমা তিথিতে মহামানব গৌতম বুদ্ধ জন্ম গ্রহণ করেছিলেন,এই দিনে বুদ্ধত্ব ( বৌধি জ্ঞান বা সিদ্ধি) লাভ এবং মহা-পরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। মহামানব গৌতম বুদ্ধ ৫৬৩ খ্রিষ্টপূর্ব নেপালে লুম্বিনী কাননে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। গৌতম বুদ্ধের পিতা ছিলেন রাজা শুদ্ধোধন ও মাতা ছিলেন রানী মায়াদেবী। বুদ্ধত্ব লাভের পর মহামানব গৌতম বুদ্ধ পৃথিবীরতে অহিংসার বাণী প্রচার করেছিলেন। বুদ্ধ বলেছেন অহিংসা পরম ধর্ম, ত্যাগই সুখ, ভোগই দুঃখ, জগতে সকল প্রাণী সুখী হোক। বুদ্ধ দর্শন মতে এই জীব জগৎ সংসার দুঃখ,দুঃখের মূল: জন্ম ভব। এই জন্ম ভবের প্রতিত্য সমুৎপাদ মৌলিক দ্ধাদশ নিদান ১. অবিদ্যা ২. সংস্কার ৩.বিজ্ঞান ৪.নামরুপ ৫.ষড়ায়তন ৬.স্পর্শ ৭. বেদনা ৮. তৃষ্ণা ৯. উপাদান ১০. ভব ১১. জন্ম-মৃত্যু ১২. দুঃখের সংজ্ঞা, যেমন-জন্ম দুঃখ,জ্বরা দুঃখ,ব্যাধি দুঃখ,মুত্যু দুঃখ,প্রিয় বিয়োগ দুঃখ,অপ্রিয় সংযোগ দুঃখ ইত্যাদি । এই দুঃখ থেকে মুক্তির পথ অন্বেষন করতে গিয়ে গৌতম বুদ্ধ ছয় বছর কঠোর তপস্যা সাধনা বা ধ্যান করে ছিলেন। এই দুঃখ থেকে মুক্তি লাভের উপায় চারি আয্য সত্য এবং আয্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথ সন্ধান পেলেন। চারি আয্য সত্য দর্শন-১. দুঃখ ২.দুঃখের কারণ ৩. দুঃখ নিরোধ ৪. দুঃখ নিরোধের পথ। বুদ্ধের দর্শন মতে,এই জীব জগৎ ও ৩১ লোকভূমি দুঃখ সমুদ্র, দুঃখ ছাড়া কিছু নাই, এটা চিরন্তন দুঃখ আয্য সত্য। দঃখের কারণ,এই দুঃখের পিছনে মূল কারন খুজতে গিয়ে বুদ্ধ মানুষের-লোভ,দ্ধেষ,তৃষ্ণা,হিংসা,অজ্ঞানতা,অনিয়ন্ত্রিত কামনা-বাসনা এবং ভবসংসারের প্রতি আসক্তিকে দুঃখের মুল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। দুঃখ থেকে নিবৃত্তির জন্য লোভ,দ্ধেষ,তৃষ্ণা,হিংসা,কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করে ধ্যান সাধনার মাধ্যমে দুঃখ নিরোধ জ্ঞান ও দুঃখ নিরোধের আর্য্য অষ্টঙ্গিক মার্গ পথ সন্ধান পান। দুঃখ মুক্তির আর্য্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথ ১.সম্যক দৃষ্টি (সম্যক ধারনা বা চিন্তা)২.সম্যক সংকল্প ৩.সম্যক বাক্য ৪.সম্যক আচারণ ৫.সম্যক জীবিকা ৬. সম্যক প্রচেষ্টা ৭. সম্যক স্মৃতি (মনন) ৮. সম্যক সমাধি (একাগ্রতা)। এই ৮ টি উপায়কে একত্রে বলা হয় আর্য্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথ বা রাস্তা। এই পথ অনুসরণ জন্ম,জ্বরা,ব্যাধি দুঃখ থেকে নির্বাণ প্রাপ্তি সম্ভব। এই চারি আর্য্য সত্য ও অষ্টাঙ্গিক মার্গ পথ ভিক্তি করেই বৌদ্ধ ধর্মের গৃহীদের পঞ্চ নীতি, অষ্টনীতি,শ্রামনের দশ নীতি,ভিক্ষুদের ২২৭ নীতি এবং দান,শীল, ভাবনা।
    বুদ্ধের নীতি শিক্ষা ও ত্যাগ সাধনার ধারা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক স্নেহ,ভালবাসা,আন্তরিকতা, মায়ামমতা, দানশীল ক্ষমা-মৈত্রী,উদারতা সহানুভূতি, সমবেদনাসহ প্রভৃতি সদাচরণ শিক্ষা দেয়। পবিত্র বুদ্ধ পূর্নিমার দিনে জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে জানায় আন্তরিক শুভেচ্ছা। পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমার মধ্যে দিয়ে সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল পরম সুখ ও শান্তি। পৃথিবীতে হানাহানি, মারামারি,অরাজকতা,যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ হয়ে প্রতিটি মানুষ,জাতী,গুত্র সম্প্রদায় একে অপরের প্রতি মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হোক।
    .
    সব্বে সত্ত্বা সুখিতা হোন্তু(জগতের সকল প্রাণী সুখি হোক)

    .
    ভেন.সুদর্শী স্হবির
    অধ্যক্ষঃ আর্য্যমিত্র বৌদ্ধবিহার। তালতলা (জ্যোতির্ময় কার্বারী পাড়া) পানছড়ি,খাগড়াছড়ি
    .সহ-সভাপতি,পার্বত্য ভিক্ষসংঘ বাংলাদেশ। পানছড়ি উপজেলা শাখা,খাগড়াছড়ি পার্বত্যজেলা।