Author: desk

  • দেশে পেঁয়াজের সংকট নেই : ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের  কারসাজিতে দাম বাড়ছে- কৃষি মন্ত্রী

    দেশে পেঁয়াজের সংকট নেই : ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দাম বাড়ছে- কৃষি মন্ত্রী

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগরঃ কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের সংকট নেই, কৃষকের ঘরে যথেষ্ট পেঁয়াজ মজুত আছে। ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়ছে। মঙ্গলবার মঙ্গলবার (২৩ মে) দুপুর ১২ দিকে পাবনার সুজানগর উপজেলার তাতিবন্দ ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিমের বাড়িতে ইয়ার ফ্লো চেম্বার সিস্টেমে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন কালে তিনি আরোও বলেন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কারসাজি করে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, ‘দেশে পেঁয়াজের মজুত পর্যালোচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। কৃষকের ক্ষতি করে পেঁয়াজ আমদানি করা হবেনা বলেও জানান তিনি। কৃষি মন্ত্রী বলেন, আমাদের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন কেন এই আশ্বিন কার্তিক মাস আসলেই পেঁয়াজের ঘাটতি হয়, দাম অস্বাভাবিক হয়? পেঁয়াজ নিয়ে নানা রকম রাজনীতি শুরু হয়? ঈদ এলেই আমাদের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা নানা ষড়যন্ত্র¿ করে, সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। মন্ত্রী বলেন, কৃষকের পেঁয়াজ যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য কৃষক পর্যায়ে দেশীয় পদ্ধতিতে আমরা চেষ্টা করছি পেঁয়াজের সংরক্ষণের সময় বাড়াতে। এ যদি সফল হই তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরাই ভারতে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারব। গত বছরের পেঁয়াজের দাম সমন্ধে মন্ত্রী বলেন, গত বছর আমাদের কৃষক ভাইয়েরা দাম পায় নাই। অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এজন্য এবারে অনেকেই পেঁয়াজ চাষ না করায় ২-৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে। কিন্ত এবারে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে। এদিকে পেঁয়াজের দাম নিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, কৃষকেরও কিন্ত বাঁচতে হবে। আমরা চিন্তা ভাবনা করছি, ৬০ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে পেঁয়াজের দাম নির্ধারন করা যায় কিনা। জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ জানায়, দেশের দি¦তীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকা পাবনা জেলায় এবারে ৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৬৮ মেট্টিক টন পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়েছে। পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হন। কৃষকরা মন্ত্রীকে বলেন, কৃষক মৌসুমের শুরুতে কমদামে পেঁয়াজ বিক্রি করে দেন। এতে করে তারা ক্ষতির সম্মুৃখিন হন। পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে তারা মৌসুমের শেষে ভাল দাম পাবেন। কৃষি বিভাগ আরো জানায়, পেঁয়াজ যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য দেশীয় পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্যও পাবনাসহ পেঁয়াজ সমৃদ্ধ ৩টি জেলায় মডেল প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সুজানগর উপজেলার পোড়াডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন কৃষক পর্যায়ে দেশীয় পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ পদ্ধতি দেখতে আসেন। এসময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসম আব্দুর রহিম পাকন, সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন, পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম,উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এদিন কৃষিমন্ত্রী ইয়ার ফ্লো চেম্বার সিস্টেমে আধুনিক পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার এবং সনাতন পদ্ধতির পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। দুপুরে মন্ত্রী সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জালালপুরে কৃষক রফিকুল ইসলামের ব্রিধান ৮৯ জাতের বোরো ধান কর্তন উৎসবে অংশ নেন।একই সময়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকের মধ্যে ভর্তকী মুল্যে একটি কম্বাইন হার্ভেষ্টার বিতরন করেন। বিকালে কৃষি মন্ত্রী পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিনা উদ্ভাবিত জনপ্রিয় জাত সমুহের পরিচিতি এবং বিদ্যমান শস্য বিন্যাসে অন্তর্ভুক্তিকরন শির্ষক কর্মশালায় অংশ নেন। এসব অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কৃষি সচিব বেগম ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম, পাবনার জেলা প্রশাসক ব্শ্বিাস রাসেল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের পেঁয়াজের রাজধানীখ্যাত সুজানগরে প্রথমবারের মতো ইয়ার ফ্লো চেম্বার সিস্টেমে আধুনিক পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ও উন্নয়ন সংস্থার কারিগরি সহায়তায় উপজেলায় তিনটি ইয়ার ফ্লো চেম্বার সিস্টেমে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।।

  • সুজানগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ অর্থের চেক বিতরণ

    সুজানগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ অর্থের চেক বিতরণ

    এম এ আলিম রিপন,সুজানগর ঃ পাবনার সুজানগর উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মাঝে নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে ক্ষতিগ্রস্থ ৪টি পরিবারের মধ্যে প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ অর্থের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুজানগর পৌর মেয়র রেজাউল করিম রেজা। অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মর্জিনা খাতুন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, দুলাই ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান, নাজিরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান, রাণীনগর ইউপি চেয়ারম্যান জিএম তৌফিকুল আলম পিযুষ, হাটখালী ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ, তাতিবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মৃধা, ভায়না ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন,আহম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া, সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    এম এ আলিম রিপন
    সুজানগর(পাবনা)প্রতিনিধি।

  • নড়াইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৪

    নড়াইলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৪

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে:

    নড়াইল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ১ জন ও ১০০ গ্রাম গাঁজা সহ ১ জন ও গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত সর্ব মোট ১৪ জন আসামি গ্রেফতার। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে জানান, নড়াইল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মগ্লবার (২৩ মে) সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান হতে ১০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ১ জন ও ১০০ গ্রাম গাঁজা সহ ১ জন এবং গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত সর্ব মোট ১৪ জন গ্রেফতারি আসামি গ্রেফতার। এ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানায় দুইটি মাদক মামলা রুজু করা হয়। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার নির্দেশনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের  মিছিল প্রতিবাদ সভা

    পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের মিছিল প্রতিবাদ সভা

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন ;
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কবরস্থানে পাঠানো এবং হত্যার হুমকি দিয়েছে রাজশাহী জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ। গত ১৯ মে শুক্রবার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর হাইস্কুল মাঠে মহানগড় ও জেলা বিএনপি’র রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এমন হুমকি দেন ওই বিএনপি নেতা। পরে রোববার (২১ মে) হুমকি সম্বলিত ওই বিএনপি নেতার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

    এরই প্রতিবাদে পঞ্চগড় বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। বিএনপি-জামাতের দেশব্যাপী ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অপরাজনীতির প্রতিবাদ জানানো হয় প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটের নেতৃত্বে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।

    সোমবার বিকেলে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেরে বাংলা পার্কের মুক্ত মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে জেলা আওয়ামীলীগ কার্য্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ। এ সময় আনোয়ার সাদাত সম্রাট তার বক্তব্যে জানান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। আমাদের প্রানের নেত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। নেত্রীর যদি কিছু হয় পঞ্চগড়ে জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিটি নেতা কর্মী ঘরে বসে থাকবেনা।

    এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু তোয়বুর রহমান, নাইমুজ্জামান ম্ক্তুা, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহ সভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সারোয়ার বকুল ও বিপেন চন্দ্র রায়, উপ-দপ্তর সম্পাদক আকতারুজ্জামান আকতার জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আল তারিক, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর উজ্জল সহ জেলা থানা ও পৌর আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রায় এক হাজার নেতা কর্মী মিছিল প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয়।

  • ঝিনাইদহের ১৪ শিক্ষক জাল সনদে চাকুরী নিয়ে ধরা

    ঝিনাইদহের ১৪ শিক্ষক জাল সনদে চাকুরী নিয়ে ধরা

    আতিকুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে কর্মরত ৬৭৮ জন জাল সনদধারী শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাদের এমপিও বন্ধ করার এবং অবৈধভাবে এমপিও বাবদ ভোগ করা লাখ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফরকে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহসহ জেলার কয়েকটি উপজেলার ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন এই তালিকায়। তারা হলেন-কোটচাঁদপুর এস.ডি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (কম্পিউটার) শাহানা পারভীন হীরা, হরিণাকুন্ডু পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক মইন উদ্দিন, ঝিনাইদহের হাজী আশরাফ আলী কলেজের প্রভাষক (স. বিজ্ঞান) মো. রাশেদুল ইসলাম, ঝিনাইদহ শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক তপন কুমার বিশ্বাস, ঝিনাইদহের ডেফলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের বংকিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মো. মামুন অর রশিদ, কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজ) হাজেরা খাতুন, কোটচাঁদপুর উপজেলার বহরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) মাহফুজা খানম, বহরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) শামিমা আক্তার, ঝিনাইদহের বাসুদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবদুর রহমান, কালীগঞ্জ উপজেলার শহীদ নুর আলী কলেজের প্রদর্শক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) মো. শামছুল হক, কালীগঞ্জ উপজেলার শহীদ নূর আলী কলেজের শিক্ষক (সাচিবিক বিদ্যা) রফিকুল ইসলাম, ঝিনাইদহের লালন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) রাজিয়া খাতুন এবং গুড়দহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মোস্তাফিজুর রহমান।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান।

  • বানারীপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ জন প্রধান এবং ৬২ জন সহকারী শিক্ষকের  পদ শূন্য : শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

    বানারীপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ জন প্রধান এবং ৬২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য : শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

    এস মিজানুল ইসলাম, বিশেষ সংবাদদাতা।।

    বানারীপাড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ জন প্রধান এবং ৬২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূণ্য থাকায় উপজেলার প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যহত হচ্ছে।

    উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের কলাভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এখানে শিক্ষকের ৭ পোষ্টের বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন সহকারী শিক্ষক শারমিন পারভীনকে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে প্রশাসনিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রায়ই তাকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে উপজেলায় দাপ্তরিক কাজে যেতে হয়।

    একই চিত্র বানারীপাড়া উপজেলার ৩৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এসব বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই সেগুলো হলো উপজেলার দিদিহার শেরে বাংলা, পশ্চিম বিশারকান্দি, মধ্য পূর্ব বিশারকান্দি, মধ্য বিশারকান্দি, উত্তর বিশারকান্দি, কলাভিটা, দক্ষিন পশ্চিম উমারেরপাড়, বলদিয়া ইলুহার, মধ্য মলুহার, মলুহার বালীবাড়ী আদর্শ, পশ্চিম মলুহার, বড় করফাকর, নলশ্রী, তালাপ্রসাধ, পূর্ব সৈয়দকাঠী, পশ্চিম সৈয়দকাঠী, বাওয়ালিয়া, চাখার, সলিয়াবাকপুর এ রব, খোদাবকসা, দক্ষিন বাইশারী, নাটুয়ারপাড়, কচুয়া রাড়ীপাড়া, পশ্চিম বাইশারী, গঙ্গামনি, তেতলা মধুরভিটা, উদয়কাঠী ইউনিয়ন প্রগতি, দক্ষিন বিশারকান্দি, ত্রিমূখী কদমবাড়ী মন্ডলপাড়া, উত্তর বিশারকান্দি বটতলা, দক্ষিন ইলুহার, মলুহার, পমধ্য সৈয়দকাঠী-১, উত্তর সৈয়দকাঠী, উত্তর তেতলা ও পূর্ব উদয়কাঠী মহম্মদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষককে অংশ নিতে হয় বিভিন্ন ট্রেনিং ও ক্লাষ্টারসহ মিটিংয়ে । এসময় তিনি ক্লাস নিতে পারেন না। বাকি দু’জন সহকারী শিক্ষককে সামলাতে হয় পুরো বিষয়। এতে ব্যহত হচ্ছে লেখাপড়া।

    এছাড়া উপজেলার ১২৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২ সহকারি শিক্ষকের পদও শুণ্য রয়েছে। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানসহ শিক্ষা কার্যত্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। জানা গেছে, শহর এলাকায় স্কুল গুলোতে অবসরের কারণে পদ শূন্য হলে অন্য এলাকা থেকে বদলি হয়ে পদ পূরণ হয়। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলোতে অবসরে যাওয়ার পর পদ শূন্যই থেকে যাচ্ছে। তাই প্রতিবছরই বাড়ছে প্রধান শিক্ষকের পদশূন্য স্কুলের সংখ্যা।
    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের পদগুলো ৬৫ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ ভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। আবার সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। তাই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। এ ব্যপারে বরিশাল জেলা ও বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে অতিদ্রুত শিক্ষক সংকট দূরীকরণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ বন্ধ থাকায় প্রধান শিক্ষক পদে শুণ্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শুধু পাঠদানই নয় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও অফিসিয়াল তথ্য প্রদানসহ বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। মামলাসহ যেসব জটিলতা রয়েছে তা দূর করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে।
    এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা কমিটি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম ফারুক বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিশুদের শিক্ষার ভিত তৈরি হয়। তাই সেখানে পাঠদান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। #

  • আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত সর্দার ডাকু আলমগীর ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার

    আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত সর্দার ডাকু আলমগীর ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার

    আতিকুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
    দেশের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত ২০ মামলার আসামী আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত সর্দার ডাকু আলমগীরকে গ্রেফতার করেছে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ। সোমবার রাতে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। গ্রেফতারকৃত আলমগীর হোসেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সুর্য্যদিয়া গ্রামের আলম শেখের ছেলে। মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান জানান, গত ২১ জানুয়ারি ও পহেলা ফেব্রæয়ারি ঝিনাইদহের ঘোড়ামারা ও পবহাটি এলাকায় দুর্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হলেও মুল হোতা আলমগীর ডাকাত পলাতক ছিলো। সোমবার রাতে তার অবস্থান শনাক্ত করে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আলমগীর শেখের নামে কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ২০ টি অধিক মামলা রয়েছে।

    ঝিনাইদহ
    আতিকুর রহমান।

  • হুমকিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ

    হুমকিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলী।। একটা সময় এ দেশের মানুষকে বলা হতো মাছে-ভাতে বাঙালি। সে সময় গ্রামাঞ্চলোর জলাশয়গুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। বাড়িতে যদি ভাত নাও থাকত, তবুও মাছের কমতি ছিল না। অনেকের এমনও দিন গেছে যে, ভাত না খেয়ে শুধু মাছ খেয়ে থাকতে হয়েছে তাদের। মৎস্য আহরণ ছিল সহজ ব্যাপার। সেই সময় প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। আজ আমরা এসব মাছ খুব বেশি দেখতে পাই না। যদিও কালেভদ্রে দেখা যায়, সেগুলোর অধিকাংশই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ফলে দেশি মাছের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না।

    নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল-নালা, পুকুর ডোবা, হাওর-বাঁওড়, ধানক্ষেত, পানিবদ্ধ বিলগুলো হচ্ছে- দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রধানতম উৎস। এসব উৎস ধ্বংস, অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং নানাভাবে পরিবেশ দূষণের ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ট্যাংরা, টাকি, চান্দা, মহাশোল, সরপুঁটি, টাটকিনি, বাগাড়, রিটা, পাঙাশ আর চিতল এসব মিঠা পানির মাছের প্রজাতিগুলো চরম হুমকিতে রয়েছে। গত কয়েক দশকে বেশ কয়েক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ এখন আর বাজারে দেখা যায় না। বর্তমানে দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে বিলুপ্ত প্রায় মিঠা পানির মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৬৪টি।
    গত কয়েক দশক ধরে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলাশয়গুলোর আয়তনে সংকোচন, নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবার পানির অপরিমিত ব্যবহার, ডোবা-নালা ভরাট করা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশকে পানির দূষণ এবং অপরিকল্পিতভাবে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের সংখ্যা অনেক কমছে। গত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    বর্তমান প্রজন্ম আজ অনেক দেশি জাতের মাছের কথা ভুলে গেছে। তাদের সঙ্গে যখন দেশি মাছের কথা আলোচনা করা হয়, তখন তারা এমন ভাব করে যেন নামগুলো এই প্রথম শুনছে।
    এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে এই মাছগুলো বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে? আসলে এই মাছগুলো এমনি এমনি বিলুপ্ত হচ্ছে না, বরং বিলুপ্ত করা হচ্ছে। আজ আমরা অধিক ফলনের আশায় জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করছি। এসব কীটনাশক বৃষ্টির পানির মাধ্যমে খাল ও বিলে গিয়ে পৌঁছায়। এর ফলে ওইসব খাল-বিলের মাছ মরে যায়। অন্যদিকে অনেক মাছ ডিম ফুটে বাচ্চা বের করার সময় আহরণ করা হচ্ছে। এর ফলে ওই মাছগুলো ডিমসহ ধরা পড়ছে। এভাবে মাছ ধরার কারণে অনেক মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অতি মাত্রায় পোনা মাছ আহরণ করা হয়, যার ফলে ওই মাছগুলো নিশ্চিত বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে। তাই মানুষকে এভাবে মাছ আহরণ থেকে বিরত রাখা সময়ের দাবি।

    দেশি মাছ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসা উচিত। ইতোমধ্যে কিছু দেশি প্রজাতির মাছ গবেষণার মাধ্যমে বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা গেছে। অন্য যেসব মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, সেসবও রক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে। মাছ আমাদের অন্যতম সম্পদ। পৃথিবীতে মাছ উৎপাদনে আমরা বিশেষ স্থান অধিকার করে আছি। এ ধারা ধরে রাখতে হবে। বিশেষ করে আমাদের দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে বেশি। গবেষকরা এ ব্যাপারে অবদান রাখতে পারেন। সরকারকেও এ কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
    বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্তির পথে ১০০ প্রকারের বেশি দেশীয় মাছ থাকলেও এখনো কোন মাছকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়নি আইইউসিএনের এ সংক্রান্ত নিয়মটি হচ্ছে, সর্বশেষ কোন একটি প্রজাতির মাছের দেখা পাবার পর পরবর্তী ২৫ বছরে যদি সেই প্রজাতির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে সেটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক হোসেন বলছিলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে নান্দিল নামে এক সময় একটি মাছ দেখা যেত, কিন্তু গত ২০ বছরে সেটির অস্তিত্বের কোন প্রমাণ দেখা যায়নি। আবার সিলেট অঞ্চলের পিপলা শোল নামে একটি মাছ দেখা যেত, যা এখন আর দেখা যায় না। গত ১০ বছরে দেখা যায়নি এই মাছ। “দেখা যায়নি, কিন্তু তবু বিলুপ্ত ঘোষণা করার আগে আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। “যদি এর মধ্যে বিপন্ন মাছেদের অস্তিত্বের ব্যপারে কোন তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে হয়ত আইইউসিএনের পরবর্তী জরিপে এগুলোর ব্যপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকতে পারে।”

    আইইউসিএনের ২০১৫ সালের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী কয়েকটি শ্রেণীতে মোট ৬৪ প্রজাতির মাছকে রেড লিস্ট বা লাল তালিকাভুক্ত করেছে, এর মানে হচ্ছে এসব প্রজাতির মাছ হয় প্রায় বিলুপ্ত, মহাবিপন্ন ও বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

    ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘আপডেটিং স্পেসিস রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রকল্পের অধীনে এই তালিকা করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রথম জরিপটি হয়েছিল ২০০০ সালে, সে সময় ৫৪টি প্রজাতিকে রেড লিস্টভুক্ত করা হয়েছিল। জরিপে মূলত স্বাদু পানির এবং আধা লোনা পানির মাছকেই গণনায় ধরা হয়েছিল।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ঐ ‘রেড লিস্ট’ তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশে দেশীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৩০০। এর মধ্যে ২০১৫ সালে আইইউসিএন এর সর্বশেষ মূল্যায়নে ২৫৩ প্রজাতির মাছের ওপর জরিপ চালানো হয়েছিল।তাতে দেখা গেছে সময়ের বিবর্তনে যেসব মাছ বিলুপ্তপ্রায় তার বেশির ভাগই নদীর মাছ মানে স্বাদু পানির মাছ। তবে, ৩০০ প্রজাতির মাছের মধ্যে অন্তত ৪০ প্রজাতির মাছের ব্যাপারে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোন সংস্থার কাছে হালনাগাদ কোন তথ্য নেই। আইইউসিএন কয়েকটি ভাগে মাছের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছিল। এর মধ্যে কিছু মাছ ক্রিটিক্যালি এনডেঞ্জারড বা প্রায় বিলুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ এগুলো সন্ধান ও সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে সেগুলো অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

    বাংলাদেশে বিপন্ন মাছের মধ্যে রয়েছে—পাঙ্গাস, দারি, ককসা, টিলা বা হিরালু, টিলা ককসা, রানি বা বউ মাছ, বেতাঙ্গি, বেটি বা পুতুল মাছ, কালা বাটা, ঘর পোয়া, ঘর পইয়া, ঘোড়া মাছ, এলানগা, কচুয়া পুটি, বোল, চিতল, গজার, টেংরা, রিটা, গাঙ্গিনা বা চাকা মাছ, বট শিং, ঘাউড়া, সাল বাইম। এছাড়া সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে বাও বাইম, চাপিলা, গুতুম, পুঁইয়া, পিয়াসি, জারুয়া বা উট্টি, ছেপ চেলা, গোফি চেলা, বাটা মাছ, নারু মাছ বা গনিয়া, কাচকি, ফলি, শিল বাইলা, বেলে, শিং, আইড়, বোয়াল, তেলি, কুইচ্চা মাছ, বামোস মাছ।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা বলছেন, মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তিনি প্রথমেই জলাশয় কমে যাওয়াকে দায়ী করেন। “শহর ও গ্রাম দুইখানেই নদী-খালসহ সব ধরণের জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কমার সঙ্গে দিনে দিনে কমছে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। “কেবল দেশী জাত ও স্বাদের মাছই নয়, এর সঙ্গে কচ্ছপসহ নানা ধরণের জলজ প্রাণী ও সরীসৃপের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।” সেই সঙ্গে রয়েছে জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, যা বৃষ্টিতে ধুয়ে খাল বিলসহ জলাশয়গুলোতে পড়ে। এর ফলে মাছের মৃত্যু ও প্রজনন হার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আছে কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয়ে ফেলা হয়, তার ফলেও মাছ মরে যায়, বলেন মিজ ফাতেমা। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে প্রজনন-সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, বাংলাদেশ মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক হোসেন জানিয়েছেন, বিদেশী মাছের চাষের কারণেও দেশী প্রজাতির মাছ কমে গেছে।
    দেশের বাজারে এক সময় দেশীয় চাষের মাছের আধিক্য দেখা যেতো। “ধরুন এখানে তেলাপিয়া, কার্পজাতীয় মাছ আনা হয়েছে, আবার এক সময় আফ্রিকান মাগুর আনা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে আনা হলো পিরানহা–এগুলো দেশী মাছের খাবার ও বাসস্থল দখল করতো। অনেক সময় দেশী মাছ খেয়ে ফেলতো কোন কোন বিদেশী প্রজাতি।” যদিও পরে আফ্রিকান মাগুরের চাষ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তারপরেও বিদেশী মাছের প্রজাতির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে না পেরে অনেক মাছ কমে গেছে। বাংলাদেশে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছের হার কমে যাবার প্রেক্ষাপটে গত দুই দশকে কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের মাধ্যমে মাছের সরবারহ বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর সাড়ে ৪২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপন্ন হচ্ছে।

    মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক মানুষ এর মধ্যে নদী, বিল ও হাওরসহ উন্মুক্ত জলাশয় থেকে ২৫ শতাংশ, পুকুর, ডোবার মত বদ্ধ জলাশয় থেকে ৫৭ শতাংশ এবং বাকি অংশ সমুদ্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে ৮ লাখ হেক্টর বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষ হয়। বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিসের কর্মকর্তা বলরাম মহালদার জানিয়েছেন, কৃত্রিম প্রজনন ও চাষের মাধ্যমে বাজারে চাহিদা আছে এমন মাছই বেড়েছে। “কিন্তু বাজারে চাহিদা কম এমন মাছ তো চাষ করছে না কেউ, ফলে সেগুলোর অস্তিত্ব সংকট আগের মতই থাকছে। যেমন খলিশা, চাপিলা, মেনি, ফলি, বাও বাইম, গুতুম, কুইচ্চা মাছ, বামোস ইত্যাদি ধরণের মাছ দেখতে পাবেন না।”

    “এখন বাজারে পাবদা বা গুলশা মাছ বা পাঙ্গাস পাবেন আপনি, সেগুলোর চাহিদা আছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হলে, বিপন্ন মাছের ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।” তবে ফসলি জমি নষ্ট করে দেশে মাছ চাষ করা নিয়ে পরিবেশবাদীদের এক ধরণের বিরোধিতাও রয়েছে।

    তাদের পরামর্শ বিদ্যমান নদী ও পুকুরগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যদিও এখন কৈ, শিং, পাবদা, মাগুর, সর পুটি, চিতলসহ বেশ কয়েকটি প্রজাতির মাছ সহজলভ্য হয়েছে, কিন্তু সেই সব মাছের স্বাদ আগের মত নয়।

    বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে বেশ কয়েক প্রজাতির পরিচিত দেশীয় মাছ বাজার থেকে ‘প্রায় নেই’ হয়ে গেছে। প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন বলছে, এর মধ্যে ‘প্রায় বিলুপ্ত’ হবার পথে বাঘাইর, পিপলা শোল বা বাক্কা মাছ, মহাশোল, নান্দিলা মাছ, চান্দা, ভাঙ্গান বাটা, খরকি মাছ, কালো পাবদা, চেনুয়া মাছসহ বেশ কিছু মাছ রয়েছে।

    ময়মনসিংহে বাংলাদেশের একমাত্র মৎস্য জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা আলী রেজা হোসেন জানিয়েছেন, এই মুহুর্তে দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। “আইইউসিএন বাংলাদেশের বিপন্ন প্রাণীর তালিকা করার জন্য দুটি জরিপ চালিয়েছিল, ২০০০ সালে প্রথম জরিপে ৫৪ প্রজাতির মাছ বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরপর ২০১৫ সালে সর্বশেষ জরিপে তাতে আরো ৬৪ প্রজাতির মাছ যুক্ত হয়।”

    এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছর পর মাছের প্রচন্ড আকাল দেখা দেবে।
    সাধারণত জৈষ্ঠ মাসের মধ্য থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্য পর্যন্ত সকল প্রকার দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুম। জৈষ্ঠ মাসের মধ্যকালে প্রথম বৃষ্টির পর থেকেই এসকল সাদুপানির মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে। যা চলে শ্রাবণ মাসের মধ্য পর্যন্ত। বৃষ্টির পরপরই যখন বিভিন্ন জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, তখন নদ-নদী, খাল-বিল-নালা, হাওড়-বাওড়, ধান ক্ষেতসহ জলাবদ্ধ বিলগুলো জলাজমির সাথে মিশে যায় এবং তখন মুক্ত জলায়শয়ে থেকে ছড়িয়ে যায় মাগুর, শিং, কৈ, টাকী, শৈল, গজাল, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, সরপুঁটি, খলিসা, মলা, বাইন, বোয়াল, গলদা চিংড়ি মাছ। আর তখনই স্থানীয় জনগণ অনুমোদিত ঝাকি জাল, চর পাটা জাল, বেবদি জাল, কারেন্ট জাল, চাইঁ, বরশি, টোটা, কোচ, বর্সাসহ বিভিন্ন রকম হাতে বানানো ফাঁদ পেতে মাগুর, শিং, কৈ, টাকী, শৈল, গজাল, পাবদা, টৈংরা, পুঁটি, সরপুঁটি, খলিসা, মলা, বাইন, বোয়াল, গলদা চিংড়ি এসকল প্রজাতির মাছ নিধন করতে থাকে। যার মধ্যে অধিকাংশ থাকে ডিম ছাড়ার পর্যায়ের ‘মা মাছ’। এসব মা মাছ দেদারসে মারার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ব্যহত হচ্ছে এবং দিন দিন কমে যাচ্ছে।
    তবে এর বিপরীত চিত্র রয়েছে মৎস্য চাষে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, পুকুর ডোবা বা বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য চাষে গত এক দশকে বিপ্লব ঘটেছে। গত এক দশকে কৃষিপণ্য হিসেবে মাছের উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রায় বিলুপ্তির মুখ থেকে ফিরে এসেছে এমন দেশি মাছের সংখ্যাও এখন বাড়ছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওয়াহিদা হক বলেন, দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এর জন্য প্রধানত দায়ী হচ্ছে দেশীয় মাছের উৎস নদী-নালাসহ বিভিন্ন জলাশয় কমে যাওয়া। শহর- গ্রাম সবখানেই নদী-খালসহ সব ধরনের জলাশয়ের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কমার সঙ্গে দিনে দিনে কমছে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মাছের পরিমাণও। কেবল দেশী জাত ও স্বাদের মাছই নয়, এর সঙ্গে কচ্ছপসহ নানা ধরনের জলজ প্রাণী অস্তিত্ব হুমকিতে পড়েছে।

    দ্বিতীয়ত কারণ হচ্ছে জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, যা বৃষ্টিতে ধুয়ে খাল-বিলসহ জলাশয়গুলোতে পড়ে। এর ফলে মাছের মৃত্যু ও প্রজনন হার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া কলকারখানার বর্জ্য নিকটস্থ জলাশয়ে মিশে এর ফলেও মাছ মরে যায়। এর সঙ্গে রয়েছে অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রজনন মৌসুমে প্রজনন-সক্ষম মাছ ও পোনা ধরা, কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংস করাকেও কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন সংশ্লিষ্টরা।

    লেখক : প্রধান শিক্ষক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
    সহঃ সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী জেলা শাখা,
    রাজশাহী।

  • নড়াইলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫ জন

    নড়াইলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫ জন

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে:
    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চালিতাতলা গ্রামে স্থানীয়আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৬ জন গুলিদ্ধিসহ আহত ১৫ জন আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে জানান,
    ঘটনার তিনদিন পর রোববার রাতে কাদের গ্রুপের সমর্থক আকিদুল মোল্যা বাদি হয়ে ২৭ জনের নামে মামলাটি দায়ের করেছেন।
    এর আগে গত শুক্রবারের (১৯ মে) এই ঘটনায় ৬ জন গুলিদ্ধিসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। মারাত্মক আহতরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় কাকা মোল্যার লাইসেন্সকৃত বন্দুকটি জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রামটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
    পুলিশ ও মামলার বিবরণে জানা যায়, কালিয়া উপজেলার ওই গ্রামটিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হমিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাকা মিয়া মোল্যা ও আওয়ামী লীগের সমর্থক কাদের মোল্যা গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চলে আসছে। তারই ধারবাহিকতায় ঘটনার দিন খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার হরিদাশবাটি গ্রামের নেছার আলী মীরের ছেলে সেলিম মীর কাদেরের বাড়িতে একটি জমির ম্যাপ নিতে আসে। ম্যাপ নিয়ে ফেরার পথে কাকা মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সেলিমকে (৩৫) মারপিট করে আহত করলে কাদের গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পরে রাস্তায় পেয়ে কাদের সমর্থকরা জাকির মোল্যা (৪৫) ও আমিনুর শেখ (৩৮) নামে কাকা মোল্যার দুই সমথর্ককে মারধর করে। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলা কালে কাকা মোল্যার ছেলে হোসেন মোল্যা লাইসেন্সকৃত বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়লে বেবী বেগম (৫০),মিকাইল মোল্যা (৪৫), সরোয়ার মোল্যা (৩৫), রমিম মোল্যা (২৫) ও রবি মোল্যা (৩০) গুলি বিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
    আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ঘংঘর্ষের ঘটনায় রোববার রাতে কাদের গ্রুপের সমর্থক আকিদুল মোল্যা বাদি হয়ে কাকা মিয়া গ্রুপের ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া কাকা গ্রুপের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
    দলনেতা কাকা মোল্যা অসুস্থ্য থাকার কারণে দল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তার ছেলে হোসেন মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুরের চেষ্টা চালালে তারা আত্মরক্ষার জন্য বন্দুক দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।
    অপর দলপতি মো.কাদের মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, তার বাড়ি থেকে যাওয়ার পথে সেলিম মীরকে মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে কাকার বাড়িতে কেউ যায়নি। আমার সমর্থকদের ঘায়েল করতে মিথ্যা অজুহাতে হোসেন গুলি করেছে।
    কালিয়া থানার ওসি শেখ তাসমীম আলম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ টহলে রয়েছে। কাকা মোল্যার লাইসেন্সকৃত বন্দুকটি জব্দ করা হয়েছে।

  • নড়াইলে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট

    নড়াইলে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট

    উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে:

    নড়াইলে কৌশলে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছেন ‘ডেভিল ব্রেথ’ চক্রের সদস্যরা। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের রূপগঞ্জ বাজারের ইসলামী ব্যাংকের পাশের গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
    ভুক্তভোগী নারী শিল্পী বেগম যশোরের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি নড়াইল সদরের দক্ষিণ আউড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
    নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিল্পী বেগম সোমবার সকালে বাজার করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রূপগঞ্জ বাজারে আসেন। মুরগি কেনার জন্য বাজারের ভেতরে যাওয়ার পথে দুই যুবক পেছন থেকে শিল্পী বেগমেকে ডাক দেন। সালাম বিনিময়ের পর তাদের মধ্যে একজন শিল্পীকে বলেন, ‘আমাকে সাহায্য করেন আমার মা গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি, অনেক টাকার প্রয়োজন। এই মুহূর্তে আমি টাকার ব্যবস্থা করতে পারছি না।’
    শিল্পী বেগম কোনো সহযোগিতা করতে পারবেন না বলে চলে যেতে চাইলে আবার কাছে গিয়ে কিছু একটা বলেন। কিন্তু কী বলেন সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। এরপর শিল্পী বেগমকে ইসলামী ব্যাংকের পাশের গলিতে ঢেকে নিয়ে তার কাছে থাকা সব জিনিস দিয়ে দিতে বলেন তারা। এ সময় তিনি তার চার আনা ওজনের কানের দুল, গলার চেইন, হ্যান্ড ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোন, সাড়ে ৪ হাজার টাকা কোনো প্রকার জোরাজুরি ছাড়াই তাদের দিয়ে দেন। ঘটনার পর শিল্পী বেগম কেন এমনটা করেছেন কিছুই বলতে পারেন না তিনি।