Author: desk

  • বর্তমান বিশ্বে দক্ষ শ্রমিকের উপযোগিতা ও কদর বৃদ্ধি পেয়েছে  – প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

    বর্তমান বিশ্বে দক্ষ শ্রমিকের উপযোগিতা ও কদর বৃদ্ধি পেয়েছে – প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

    রওশন আরা শিলা,নওগাঁ প্রতিনিধি: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বলেছেন বর্তমান বিশ্বে অদক্ষ শ্রমিকের কোন বাজার নাই। দক্ষ শ্রমিকের উপযোগিতা এবং কদর বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই উপলব্ধি থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের দক্ষতার উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষে সারা দেশে উপজেলায় উপজেলায় টিটিসি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী রবিবার দুপুর ১২টায় জেলার রানীনগর উপজেলা সদরে নব নির্মিত টিটিসি ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেছেন।

    জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহা-পরিচালক মোঃ শহিদুল আলম এনডিসি’র সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ আত্রাই – রানীনগর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন হেলাল, প্রকল্প পরিচালক উপ-সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা মোঃ জাকির হোসেন, অতিরক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ গাজিউর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান, রাননীগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহাদত হোসেন।

    সরকার দক্ষ কৃষকদেরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রেরন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদেরও দক্ষতার সার্টিফিকেট থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে হবে। তাঁর এই নির্দেশনা মোতাবেক এসব ট্রেনিং সেন্টার নির্মান করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে প্রতিটি উপজেলায় জনগণের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    তিনি বলেন এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে যাতে সে সব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষিত হয়ে বের হয়েই বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়। মন্ত্রী আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষনা করেছিলেন। এখন বাংলাদেশের মানুষ শতভাগ সে সুবিধা ভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে সহযোগিতা দেয়ার আহবান জানান মন্ত্রী।

    সারাদেশে ৪০টি টিটিসি ও ১টি আইএমটি স্থাপন প্রকল্পের আওতায় গণপূর্ত অধিদফতর নওগাঁ মোট ৩৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। ৬ মাস মেয়াদি মোট ৮৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী ৬টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।#

  • সারাদেশে ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসা ও ভেজাল ওষুধ সেবন করে মানুষের রোগ ভালো হচ্ছে না

    সারাদেশে ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসা ও ভেজাল ওষুধ সেবন করে মানুষের রোগ ভালো হচ্ছে না

    হেলাল শেখঃ সারাদেশে প্রায় লক্ষাধিক ভুয়া ডাক্তার চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সেবন করে বেশিরভাগ মানুষের রোগ ভালো হচ্ছে না। এর আগে ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় ফার্মেসী দোকানে অভিযান চালিয়ে বিক্রয় নিষিদ্ধ ২২ ধরনের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেন ওষুধ প্রশাসন। কয়েকজন ভুয়া ডাক্তারকে র‌্যাব-৪ কর্তৃক গ্রেফতার করা হলেও অতি দ্রুত আদালত থেকে জামিনে এসে আবার যা তাই রোগীদের সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছে আশুলিয়ায়।
    জানা গেছে, ব্যাঙের ছাতার মতো ওষুধের দোকান দিয়ে ভেজাল ও নি¤œমানের ওষুধ বিক্রি করে অনেকেই লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেলেও এ ব্যাপারে কারো কোনো মাথা ব্যথা নাই। বেশিরভাগ এলাকায় ভুয়া ডাক্তার কর্তৃক চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও ভেজাল ওষুধের বিক্রির ছড়াছড়ি। গত (১৩ অক্টোবর ২০২১ইং) দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন জামগড়া চৌরাস্তা বাসস্ট্যা-ে সুফিয়া ফার্মেসিতে ওষুধ প্রশাসন কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করা হয়। জানা যায়, বিক্রয় নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ বিক্রির সময় অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকার ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তাগণ। এসময় সুফিয়া ফার্মেসিতে প্রবেশ করেন এবং দোকানের ভেতরে থাকা ২২ ধরনের নিধিদ্ধ ওষুধ জব্দ করা হয়। এই অভিযান শেষে সুফিয়া ফার্মেসির বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রির কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন।
    বিশেষ করে এর আগে বিভিন্ন অনলাইন ও সংবাদপত্রসহ গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। অনুমোদনবিহীন ভেজাল ওষুধ চেনা কঠিন, রাস্তার পাশে হাট-বাজারে নানারকম ওষুধ বিক্রি হওয়ায় সেই ওষুধ সেবন করে বেশিরভাগ রোগীদের রোগ মুক্তি না হয়ে বাড়ছে বিভিন্ন রোগের যন্ত্রনা। ভুয়া ডাক্তার কর্তৃক চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা করা হচ্ছে মানুষের সাথে, সেই সাথে কিছু ডাক্তারের ব্যবহার এতোটাই খারাপ যা কসাইদেরও হার মানাবে তারা। র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও জেলা-উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ মাঝে মধ্যে ২-৪জন ওষুধ ব্যবসায়ীকে আটক ও ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করে জেল জরিমানা করলেও জেল জরিমানা ভোগ করেও তারা ভালো হচ্ছে না, কোনো ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না তাদের চিকিৎসার নামে প্রতারণা। পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না চিকিৎসা সেবায় অনিয়ম দুর্নীতি। ভুয়া ডাক্তার ও ভেজাল ওষুধ দিয়ে অবাধে চলছে চিকিৎসা সেবার নামে নানারকম এইসব প্রতারণা।
    সূত্রমতে জানা গেছে, বাংলাদেশে ভুয়া ডাক্তারের সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। তারা রাজধানীসহ সারাদেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা এবং থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা করছে। সেই সাথে অনুমোদনবিহীন ভেজাল ওষুধ রোগীদের কাছে বিক্রি করে সংশ্লিষ্টরা অবৈধভাবে অর্র্থ কামিয়ে বাড়ি গাড়ি করেছে, রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছে অনেকেই। অন্যদিকে নামী দামি কোম্পানীগুলো ওষুধের গায়ে মূল্য লিখছেন না। ওষুধের গায়ে মূল্য না থাকায় কৌশলে দাম বেশি নিচ্ছেন অনেক ওষুধ দোকানদার। সেই সাথে নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকার কারবার করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এক কথায় চিকিৎসা সেবার নামে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সরকারের বদনাম হচ্ছে। ভেজাল ওষুধে মানবদেহে রোগ ভালো না হয়ে আরও খারাপ পরিণতি হচ্ছে। বেশিরভাগ ওষুধ সেবন করে রোগ ভালো হচ্ছে না। রাস্তা-ঘাটে ও মুদি দোকানেও ওষুধ বিক্রি করতে দেখা যায়। ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে অনেকেই ডাক্তার সেজে ওষুধের দোকান খুলে বসে চিকিৎসা করছে। যাদের ওষুধ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই তারাও এখন কথিত ডাক্তার। এর কারণে চিকিৎসা সেবায় বেশি জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অনেকেই জানায়। শুধু সচেতনতার অভাবে মানুষের শরীর স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
    ঢাকার ধামরাই ও সাভার-আশুলিয়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন থানায় প্রায় ২০ হাজারের বেশি ওষুধের দোকান রয়েছে, তাদের অনেকেরই সঠিক কাগজপত্র নেই। অনেকের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও তার মেয়াদ নেই। সেই সাথে ক্লিনিক ব্যবসায় বিভিন্ন টেস্টের নামে অবৈধ ভাবে ভোক্তাকে ঠকানো হচ্ছে। ব্যাঙের ছাতার মতো ওষুধের দোকান ও ক্লিনিক ব্যবসা জমজমাট ভাবে চলছে। সূত্র জানায়, ঢাকার প্রধান শিল্পা ল আশুলিয়ায় কিছু ক্লিনিক ও হাসপাতালে বাচ্চা নষ্ট করার সুকৌশল রয়েছে।
    র‌্যাব জানায়, ভুয়া চিকিৎসক নিজেকে ডাক্তার হিসেবে উল্লেখ করে আসেন। রোগ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকার কথাও অনেক ব্যবস্থাপত্রে লিখেন এবং অনুমোদনহীন ভেজাল ওষুধ লিখে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে। ক্লিনিক ও হাসপাতালের সামনে ওষুধ কোম্পানির গাড়ী-মটরসাইকেল দেখলে মনে হয় সেখানে মটরসাইকেলের বাজার লেগেছে। উক্ত ব্যাপারে রাজধানী ঢাকার ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক সৈকত কুমার বলেন, ভারতীয় নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করাসহ নিয়মিত অভিযান চলছে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • পঞ্চগড় বাব দাদার পেশা টিকিয়ে রেখেছেন আজাদ ২৮ বছর ধরে

    পঞ্চগড় বাব দাদার পেশা টিকিয়ে রেখেছেন আজাদ ২৮ বছর ধরে

    মোহাম্মদ বাবুল হোসেন :পঞ্চগড় কর্মই আমার ধর্ম ধর্ম ই এবাদত করে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কান পরিষ্কার করছেন আজাদ। কখনো বা কোর্টে কখনো বা রোডে কখনো ফুটপাত স্থল বন্দর পোটে বাপ দাদার এই পেশা ধরে রেখেছেন এভাবেই সংসার চালাচ্ছেন সেবা নিতে আসা অনন্ত বর্মন জানানের আমার কানের ব্যথা ছিল এখন খুব আরাম লাগছে তাই উনার কাছেই কান পরিষ্কার করে নেই বাংলা বান্দা স্থল বন্দরের বাবু একই কথা জানালেন।

  • তানোরের আরাত এগ্রোতে ৪৮০ টাকা কেজি দরে ওজনে গরু বিক্রি

    তানোরের আরাত এগ্রোতে ৪৮০ টাকা কেজি দরে ওজনে গরু বিক্রি

    আলিফ হোসেন,তানোরঃ
    রাজশাহীতে তানোরে আসন্ন ইদুল আযহা (কোরবানি) উপলক্ষে ৪৮০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন মেসার্স আরাত এগ্রো লিমিটেড। তানোরে প্রথম বারের মতো তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া মহল্লায় অবস্থিত আরাত এগ্রো ৪৮০ ট্কা কেজি দরে ওজনে কোরবানীর গরু বিক্রি করছে। সব থেকে বড় সুবিধা এখানে অনলাইনে গরু কেনা ও কোরবানি পর্যন্ত গরু রাখার সুবিধা রয়েছে। আরাত এগ্রোতে কোরবানির জন্য উপযোগী ৫২টি ষাঁড় গরু রয়েছে । যার বাজার মূল্য প্রায় এককোটি ২০ লাখ টাকা। উপজেলায় এবার প্রথম অনলাইনে গরু বিক্রি ও বুকিং নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আরাত এগ্রো । ইতোমধ্যেই সেখানে লাইফওয়েটে গরুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
    আরাত এগ্রো কর্তৃপক্ষ বলছেন, এলাকায় বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশে মাংসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। এছাড়া সারাদেশ থেকে গরু কেনার অর্ডার পাচ্ছেন তারা । অনেকেই কোরবানির জন্য গরু কিনেন ঈদের আগের দিন ও কোরবানির দিনে সকালেও। সেইদিক বিবেচনা করে আরাত এগ্রোর গাড়িতে করে কোরবানির গরু গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। বর্তমানে কোরবানির গরু বুকিং ছাড়াও অনলাইনে অর্ডারের সুযোগ ও রাখা হয়েছে এখানে ।
    রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছে আরাত এগ্রো থেকে। এখানে শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ান ক্রস, দেশি, গ্রির বা নেপালি জাতের ষাঁড় এবছর কোরবানির জন্য বিক্রি করা হচ্ছে। একেকটি গরুর ওজন ৩৫০থেকে ৬০০ কেজি বা তারও উপরে।আকার ও কালার ভেদে দাম নির্ধারন করা হয়েছে।
    রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া মহল্লায় এক বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় আরাত এগ্রো। শুরুতে ৫২টি ষাঁড় পালনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় আরাত এগোর যাত্রা। এখানে ষাঁড়, মহিষ ও ছাগল লালনপালন করা হচ্ছে।
    লাইভ ওয়েট’ দিয়ে গরু বিক্রির কারণ হিসেবে আরাত এগ্রোর স্বত্ত্বাধিকারী
    বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও তরুণ শিল্পপতি আলহাজ্ব আবুল বাসার সুজন বলেন, এই পদ্ধতিতে ক্রেতারা পরিকল্পনা মাফিক গরু কিনতে পারবেন। ফলে ক্রেতার ঠকবেন না বা লোকসান হবে না। এছাড়া আমাদের গরুকে কোনো ধরনের মেডিসিন খাওয়ানো হয় না। সবুজ ঘাস ও ধানের খড় খাওয়ানো হয়।
    তিনি আরো বলেন,লাইভ ওয়েট’ দিয়ে গরু বিক্রিতে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার বিষয় থাকে। তবে এই দাম নির্ধারণ সম্পর্কে তাঁরা ক্রেতাকে পুরো হিসাবই বুঝিয়ে দেন। তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে ঈদের একদিন আগে পর্যন্ত তারা গরু তাদের যত্নে রাখবেন এবং ক্রেতার বাসায় পৌছিয়ে দিবেন।যগরুর খাওয়ানো তাদের দায়িত্বে। কারণ শহরের সুন্দর বাড়িতে অনেকেরই কোরবানির গরু রাখা সমস্যা সে জন্যই তাদের এই চেষ্টা।তিনি বলেন, তাদের ওজন ভিত্তিক গরু বিক্রির কারণ হচ্ছে তারা কেনো একটি ৫ মনের গরুকে ৬ মন বলে বিক্রি করবেন, আর ক্রেতাগণই বা কেনো ঠকবে তাই তারা স্কেলের মাধ্যমে ওজন করে গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগ্রহীদের (০১৭১৩-৭৯৩৯৪১) এই নম্বরে যোগাযোগ করার আহবান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তানোর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা, সুমন মিঞা বলেন গরুর ওজনের হিসাব করে বিক্রি করলে ক্রেতা জানবেন তিনি কত কেজি পর্যন্ত মাংস পাবেন। এ ছাড়া এই পদ্ধতিতে বিক্রি করলে স্বচ্ছতাও থাকে। এটি একটা ভাল উদ্যোগ।এছাড়াও এখানে প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে গরু লালন পালন করা হয়েছে।#

  • স্বামীর পর ছেলে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন গালিবের মা

    স্বামীর পর ছেলে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন গালিবের মা

    মোঃ হায়দার আলী রাজশাহী থেকে।।ফুটবল খেলা শেষে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

    শনিবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মহানগরীর দরগাপাড় এলাকার মৃত গাজী মইদুদ্দিনের ছেলে রিফাত খন্দকার গালিব ও মেহেরচন্ডী এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে সারোয়র সায়েম গোসল করা অবস্থায় পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন।

    দিনভর অভিযান চালিয়েও প্রথমদিন কারো লাশ উদ্ধার করতে পারেনি রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। পদ্মায় নিখোঁজের খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে সায়েম ও গালিবের পরিবারে।

    রিফাত খন্দকার গার্লিব তার পরিবারের একমাত্র সন্তান। বাবা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দিকে হঠাৎ মৃত্যু বরণ করে। এরপর থেকেই একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন মা লাভলী। এসএসসি পাশ করার পর রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি করানো হয়। শনিবার ছুটির দিন থাকায় পদ্মানদীর চরে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলা শেষে নদীতে গোসল করতে নেমে মৃত্যু হয় গালিব ও তার বন্ধু সায়েমের।

    শনিবার পদ্মার পারে দুই পরিবারের স্বজনরা আহাজারি করতে থাকে। গালিব পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় বেশী আহাজারি করতে দেখা যায় তার স্বজনদের। প্রথমদিন লাশ না পেয়ে ফিরে যান বাড়ীতে। পরদিন রোববার সকালে সায়েমের লাশ পাওয়া যায়। ততক্ষণে লাশের সন্ধান মেলেনি গালিবের। এতে করে তার পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে নদীর পারে লাশের অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকে গালিবের মাসহ স্বজনরা।
    প্রচন্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীদের সাথে ছেলের লাশ পাওয়ার আশায় নৌকায় ঘুরতে মা লাভলী। অপরদিকে পদ্মার কিনারে অপেক্ষায় তার স্বজনরা।

    শনিবার ও রোববার গালিবের ফুফু তনিমা বেগমকে আহাজারি করতে দেখা যায়। লাশ পাওয়ার আশায় ছুটে বেড়ান নদীর কিনারের এপাশ থেকে ওপাশে। অপর দিকে মা লাভলী নৌকায় বসে থাকে নির্বাক চোখে। ফুফু তনিমা বেগম আহাজারি করে বলেন, এভাবে কেনো হারিয়ে গেলে বাবা ? তোমার কোন অসুখ হলে ডাক্তার দেখাতাম ভালো হয়ে যেতে ।

    গালিবের ফুফাতো বোন রিক্তা পারভিন বলেন, গালিব পরিবারের একমাত্র সন্তান। বাবা কলেজ শিক্ষক ছিলেন। তিন বছর আগে মৃত্যু বরণ করলে তার মা একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বেঁচে ছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন ছেলেকে নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকার। কিন্তু সেই স্বপ্নও ভেঙে গেলো। কি নিয়ে বেঁচে থাকবে এই পৃথিবীতে এটাই তার বড় চিন্তা। ছুটির দিন হওয়ায় খেলাধূলা করতে যেতে নিষেধ করেননি কলেজ শিক্ষিকা মা লাভলী। কিন্তু এখানে এসেই যে এমন পরিণতি হবে তা জানা ছিলো না।

    দুপুর ১২ টার দিকে গালিবের লাশও উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এই খবর শোনার পর গালিবের মা ও তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আশেপশের বাতাস ভাড়ী হয়ে উঠে আর চিৎকার করে গালিবকে ফিরে পাবার আকুতি করে।

    গালিবের মা লাভলী একরকম বাকরুদ্ধ অবস্থায় বলেন, আমার বেঁচে থাকার শেষ সম্পদ টুকুও শেষ হয়ে গেলো।

    এই ঘটনার পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আশের পাশের লোকজন গালিবের মরদেহ এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমাতে দেখা গেছে।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদর দপ্তরের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের মোট ছয়জন ডুবুরি উদ্ধার কাজ চালিয়ে গালিবের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সাইমের লাশ পাওয়া যায়। গালিবের লাশ পুলিশের মাধ্যমে পরিবারকে বুঝিয়ে দিয়ে উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • হাজার নদীর দেশ বাংলাদেশ, এখন  নদী বিপর্যয়ের দেশ

    হাজার নদীর দেশ বাংলাদেশ, এখন নদী বিপর্যয়ের দেশ

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছিল হিমালয় থেকে ছুটে আসা অসংখ্য নদ-নদীর প্রবাহ থেকে। যে প্রবাহের সাথে বহমান বিন্দু বিন্দু পলিমাটি হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে তুলেছিল পৃথিবীর বৃহত্তম এই ব-দ্বীপ। এ দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা সবকিছুতেই রয়েছে নদীর প্রভাব। একসময় এই নদীর বুকেই ভেসে গিয়েছে বড় বড় বানিজ্যিক জাহাজ। নদীর পাড়ে মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে তৈরী হয়েছে গান, কবিতা, উপন্যাস ও চলচ্চিত্র। মুলত তিব্বতী ভাষায় বঙ্গ অর্থ ভেজা। আবার বাংলায় বঙ্গ শব্দটি বহন এবং ভাঙ্গার সাথে জড়িত। তাই বঙ্গ একসাথে বহন করে উপরের পানি ও পলিমাটি আবার সেটা বিভিন্ন পথে ভাঙ্গনের সৃষ্টি করে। তাই এ দেশের অন্য নাম হল বঙ্গ দেশ।

    তবে সেসব এখন অতীত। বাংলাদেশ এখন নদী বিপর্যয়ের দেশ। দেশের আড়াই শতাধিক ঐতিহ্যবাহী, নান্দনিক নদ নদী মরে গেছে। অনেকগুলো বেদখল হয়েছে। অস্তিত্ব বিপন্ন হয়েছে। এভাবেই দেশের প্রায় ৯৯% নদী তাদের নাব্যতা, গভীরতা, আকার আকৃতি হারাচ্ছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্য।

    হাজার নদীর দেশ বাংলাদেশ। এককালের পঁচিশ হাজার কিলোমিটারের জলপথের বাংলাদেশ। নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। বিস্তৃত অববাহিকা ও জীবন্ত বদ্বীপ দেশটির ঐতিহ্য, সামাজিকতা, সংস্কৃতিকে নদীময় করে রেখেছে। বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এ নদী। হাজার বছরের বাঙালিয়ানার শিকড় গ্রথিত প্রোথিত গভীরে। ঐতিহ্য বহমান নদীর স্রোতের সাথে। এ দেশের মানুষের যা–কিছু ঐতিহ্য, ঐশ্বর্য ইতিহাস, সংস্কৃতি সবকিছুতেই নদীর আশ্রয়–প্রশ্রয় বিমূর্ত। এদেশের সংস্কৃতির ভাষা, ছন্দ ভাটিয়ালি, পল্লীগীতি, জারি–সারি, প্রভৃতি নদীর নান্দনিকতায় ভরা। এসবে নদী প্রধান, নদী জীবন্ত, বিমূর্ত । নদীর জলে নাওয়া, গাওয়া, খাওয়া, পরিশুদ্ধি, চাষবাস এ দেশের মানুষকে প্রকৃতিবান্ধব করে, প্রকৃতির সন্তানে রূপান্তরিত করে। প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে রাখি।
    নদীর তীরে হাট–বাজার, গঞ্জ, নগর, শহর, গড়ে প্রকৃতির ছোঁয়ায় মানুষের সমাজ বিনির্মাণ ও চর্চিত হয়েছে প্রাচীন বাংলার জনপদ থেকে। এদেশের মানুষের আদি পেশা কৃষি। কৃষি এবং মৎস্য শিকারকে সমৃদ্ধ করেছে নদী এবং তার পলি ও পলল ভূমি। নদীর সাথে মানুষের দৈনন্দিন আচার–আচরণ, সংমিশ্রণ, সংশ্লেষণ বাঙালির ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বেদনায়, তাড়নায়, বিসর্জনে, বিহ্বলতায়, বিপদে–আপদে নদীর আশ্রয় গ্রহণ করেছে মানুষ। পানিতে ভাসা, হৃদয়ে জাগা অবিরাম বৃষ্টিপাত, বন্যা খরায় বিভিন্ন ঋতুতে ক্লান্ত–শ্রান্ত বাংলাদেশ। উজানের নদীবাহিত পলি, ভূমির পুষ্টি আমাদের ঐতিহ্যকে পুষ্টিবান করে। সমতল পলিপৃক্ত মাটির বুক চিরে সোহাগে বয়ে যাওয়া মায়াবী নান্দনিক নদীর দেশ, প্রীতি ও স্মৃতির দেশ বাংলাদেশ।

    বাঙালির নারীর চোখের জল বাংলার নদীর জলের সাথে একাকার হয়ে সকাল–সন্ধ্যায় জীবনের সাথে প্রতিবেশের মহামিলন ঘটে এই ভূখণ্ডে। এই ভূখণ্ডে নদী ও নারী, নদী ও জীবন, নদী ও সংস্কৃতি সে কারণে অবিচ্ছেদ্য, অবিভাজিত, পরিপূরক।

    নদীমাতৃক এই দেশকে, এই দেশের প্রতিবেশ–পরিবেশকে করেছে সমৃদ্ধ, ঐতিহ্যময়, বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিচিত্র এ সম্ভার পৃথিবীর আর কোথায় পাওয়া যায়! বিল–ঝিল, হাওড়–বাওর, জলাভূমি, জলমহাল, নদ–নদী, সাগর–মোহনা সবকিছুতেই প্রকৃতির সাথে বাঙালির জীবনের ছুঁয়ে যাওয়া পরশের প্রভাব বিদ্যমান। এভাবেই গড়ে উঠেছে বাঙালিয়ানার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক, সামাজিক পরিমণ্ডল, আবহ।

    গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকেই এ দেশে নদী–ঐতিহ্যে সংকটের সূচনা হয়। নদী কমে এসেছে। বিপন্নতার ধারাবাহিকতায় নদীর সংখ্যা এখন হয়েছে সাড়ে চারশত। ৫৭ টি আন্তর্জাতিক নদীই বিপদাপন্ন। বিপদাপন্নতা এখন আন্ত ও আন্তর্জাতিক বিষয়। নাব্যতা শঙ্কা নিয়ে, দখল–দূষণ নিয়ে, অস্তিত্বের সংকট নিয়ে দেশের নদীগুলো চরমভাবে সংকটাপন্ন। দেশের আভ্যন্তরীণ নদীপথ এখন বর্ষা মৌসুমেই সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি নয়। পঁচিশ হাজার কিলোমিটার থেকে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার!

    দক্ষিণের
    চিত্রা, কীর্তনখোলা, ভৈরব, রুপসা,কপোতাক্ষ;
    উত্তরের করোতোয়া, ইছামতি, নারোদ, বড়াল, তিস্তা, সুরমা, ব্রহ্মপুত্র, কংস, সোমেশ্বরী দূষণের দখলে দারুণভাবে সংকটাপন্ন বিপদাপন্ন। দখলদার ও ভূমি দস্যুদের দুর্দমনীয় প্রতাপে বিলীন হওয়ার পথে দেশের শতাধিক নদ–নদী।

    পাবনার ইছামতি, কিশোরগঞ্জের নরসুন্দর, বগুড়ার করতোয়া, শাহজাদপুরের বড়াল, ছোট করোতোয়া, নাটোরের নারোদ, তাড়াশের বেহুলা, গাইবান্ধার ঘাঘট, রংপুরের শ্যামাসুন্দরী, নেত্রকোণার সোমেশ্বরী, কুমিল্লা গোমতী, জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী– হালদা, বাঁকখালী বিপন্নতায় বিদিশাগ্রস্ত। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য আমাদের নদ–নদী। এদের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেহ লুটপাট হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যে দূষণ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদের জাগতেই হবে।

    নদীর দখলকারীদের চিহ্নিত করে বিশাল তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন প্রকৃতিবাদীরা স্বস্তি পেয়েছে, আশান্বিত হয়েছে। দেশের অনেক নদীকেই একাধিকবার আদালতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। নদীর দেহ লুণ্ঠনকারী শকুনরা থেমে নেই। পৃথিবীর দেশে দেশে নদীকে আইনি সুরক্ষা দেয়ার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে ২০১৭ সাল থেকে।

    আমাদের দেশে নদীসমূহের প্রধান সংকট– দখল, দূষণ, নাব্যতা, প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধভাবে নদীদেহ লুন্ঠন ও সংকোচন। বালি, মাটি উত্তোলন, প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা ।

    অবহেলা, নির্লিপ্ততা আমাদের অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত। কর্ণফুলী আমাদের দেশের অর্থকরী প্রধান নদী।দূষণে, দখলে, উৎপীড়নে নদীটির বিপদাপন্নতা অবর্ণনীয়। আমাদের অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বাণিজ্যের শতভাগ সম্পাদন করার প্রধান মাধ্যম এটি। বিগত প্রায় এক দশক যাবত মহাখনন বা ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের নামে নদীটির উপর যে অত্যাচার– উৎপীড়ন চালানো হয়েছে, তা অবর্ণনীয়।

    তিস্তার পানি প্রবাহ এ এযাবতকালের সর্ব নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তিস্তা ব্যারাজ থেকে দেড়শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত নদী এখন মরা গাঙে পরিণত হয়েছে। স্রোত না থাকায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদী। ১৯৭৭ সালে তিস্তার উজানে গজলডোবা নামক স্থানে ভারত একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে তিস্তার দূর্বার গতিকে থামিয়ে দেয়। ভৈরব এবং কপোতাক্ষ থেকে বের হওয়া নদীগুলো বর্ষার কয়েক মাস পানি থাকে, বাকি সময়গুলো শুকিয়ে যায়। আর নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষ নদীর দু’তীরে দখল করে বসতবাড়ি-মার্কেট তৈরি করছে। পদ্মা নদীর ওপরেই ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করেছিল ব্রিটিশ শাসকরা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমা বর্ষণের ফলে এর কয়েকটি স্প্যান ধসে পড়েছিল।

    ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল। সেই নৌপথ কমতে কমতে এখন প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটারে নেমেছে। শুষ্ক মৌসুমে আরও কমে হয় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। এ তথ্যের উত্স বিআইডব্লিউটিএর নদী সংরক্ষণ বিভাগ।ভারতের কূটনৈতিক আচরণের অভিজ্ঞতা দেখে মনে হয়, বাংলাদেশ অংশে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদীর মৃত্যু ঘটবে।আমাদের দেশে আজকাল গ্রামে গ্রামে টিউবওয়েল বা চাপকল ব্যবহার করা হয় খাবার পানির জন্য, কিন্তু গ্রীষ্ম মৌসুমে অনেক কলেই পানি উঠছে না। বাংলাদেশের জন্য পানির সমস্যাটি এখন খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়।সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, নদীমাতৃক দেশ এখন মরুভূমি হতে চলেছে।আমরা এখনো সজাগ না হলে,নদী দেখতে হয় ভারত নয় বইয়ের পাতায় নদী খুজবে আমাদের পরব্তি বংশধরেরা!যে দেশের পরিচয় দিতে গিয়ে প্রথমেই বলা হতো নদীর কথা, যে দেশটিকে বলা হতো নদীমাতৃক দেশ, সেই নদীমাতৃক দেশেই কি না অনেক নদী শুকিয়ে গিয়ে মরুভূমির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন করছে মানুষ। এর প্রভাব পড়ছে নদীগুলোতে। এই যে নদী তার নাব্যতা হারাচ্ছে, এটাও তো মানুষেরই কারণে। নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ব্যবহারের উপযোগিতা হারাতে হারাতে এখন এ পানিই মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    নদীটি দেশের ব্যবসা ও অর্থকরী মাধ্যম হয়েও চরম অবহেলার শিকারে পরিণত হয়েছে। এভাবে এটি নিজেই ব্যবসার উপাদানে পরিণত হয়েছে। ভূমিদস্যুরা এর দেহ নিয়ে ব্যবসা করছে।

    সংকটের স্বরূপ উদঘাটিত। প্রতিকার নিয়ে নির্লিপ্ততা, নিষ্ক্রিয়তা কিংবা আন্তরিকতার ঘাটতি, সময়োপযোগী পদক্ষেপের অনুপস্থিতি প্রকৃতি পরিবেশ এবং দেশের এই প্রাকৃতিক মূলধনের প্রবাহ নিয়ে আমরা চরমভাবে উদাসীন। আমাদের উদাসীনতা হাজার বছরের এই ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে বসেছে। নদী খোর, নদীর বালি ও মাটিখোরদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
    এখনো সময় আছে, বাংলাদেশের নদীগুলোকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে। মানুষের অত্যাচারও কমাতে হবে। তা না হলে একদিন এমন সবুজ দেশটির জন্য আমাদের আফসোস করতে হবে।

  • নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১

    নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে:

    নড়াইলে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক একজন। ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ আসকান মোল্যা (২৪) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে জানান, শনিবার (১০ জুন) নড়াইল সদর থানাধীন হবখালী ইউনিয়নের সিংগিয়া বসুপাড়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। সে অত্র গ্রামের সামাদ মোল্যার ছেলে।
    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ পরিদর্শক জনাব সাজেদুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) জয়দেব কুমার বসু সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার নিকট থেকে পয়ত্রিশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার নির্দেশনায় মাদকমুক্ত নড়াইল গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

  • পদ্মা নদীতে নিখোঁজ দুই ছাত্রের লাশ উদ্ধার

    পদ্মা নদীতে নিখোঁজ দুই ছাত্রের লাশ উদ্ধার

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী।। পদ্মা নদীতে নিখোঁজ দুই ছাত্রের লাশ উদ্ধার
    নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় রিফাত খ্ন্দকার গালিবের লাশও উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা। রোববার দুুপুর ১২ টার দিকে শ্রীরামপুর টি বাঁধ এলাকার সামনে থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

    গালিবের ফুফাতো বোন রিক্তা পারভিন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার দুর্ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ৫০ গজ পূর্ব দিকে সারোয়ার সাইমের (১৭) লাশ স্থানীয় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।

    শনিবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধারের জন্য সন্ধ্যার পর পর্যন্ত চেষ্টা চালায় ফায়ার সার্ভিস রাজশাহী সদর দপ্তরের দুইটি ডুবুরি ইউনিট। তখন পর্যন্ত নিখোঁজ দুই কলেজ শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    রোববার দ্বিতীয় দিনের মত ফায়ার সার্ভিস ও বিজিবির সমন্বয়ে দুইটি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে দুপুর ১২ টার দিক গালিবের লাশটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত দুইজন রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং তারা দুইজনই বন্ধু।

    স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মোট নয়জন শিক্ষার্থী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মার চরে ফুটবল খেলতে যায়। ফুটবল খেলা শেষ করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা পদ্মায় গোসল করতে নামেন। পদ্মার কিনারায় নামলেও পরে স্রোতের তোড়ে ওই দুই শিক্ষার্থী দূরে ভেসে যান। একপর্যায়ে পরে রিফাত খন্দকার গালিব নদীতে ডুবে যান। রিফাত খন্দকার গালিবকে উদ্ধার করতে যায়, তার বন্ধু সারোয়ার সায়েম। কিন্তু বন্ধু রিফাত খন্দকার গালিবকে বাঁচাতে গিলে তিনিও নদীতে ডুবে যান।

    এ সময় অন্য সহপাঠীরাও নদীতে এগিয়ে যায়, কিন্তু স্রোতের কারণে ওরা দুইজন নদীর আরও দূরে চলে যায়। পরে তার অন্য বন্ধু ও সহপাঠীরা তীরে এসে জাতীয় জরুরি সেবায় ‘৯৯৯’ ফোন দেন। এরপর ফায়ার সার্ভিস রাজশাহী সদর দপ্তরের কর্মী ও ডুবুরিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহী সদর দপ্তরের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের মোট ছয়জন ডুবুরি উদ্ধার কাজ চালিয়ে গালিবের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সাইমের লাশ পাওয়া যায়। গালিবের লাশ পুলিশের মাধ্যমে পরিবারকে বুঝিয়ে দিয়ে উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষনা করা হবে।

    মোঃ হায়দার আলী
    নিজস্ব প্রতিবেদক,
    রাজশাহী।

  • নড়াইল জেলা পুলিশের সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

    নড়াইল জেলা পুলিশের সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
    নড়াইল জেলা পুলিশের সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, রবিবার (১১ জুন) সকাল ৭: ৩০ মিনিটে নড়াইল জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ লাইনসে্ এ মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
    মাস্টার প্যারেডে সালাম গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন মোসাঃ সাদিরা খাতুন, পুলিশ সুপার, নড়াইল। প্যারেড পরিদর্শন শেষে তিনি সকল পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশের মূলনীতি ধারণ করে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি ফোর্সের ডিসিপ্লিন, ড্রেসরুলস্, পেশাদারিত্ব এবং পুলিশি সেবা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। মাস্টার প্যারেডে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • নড়াইলে নগদ টাকা ও জুয়ার সরঞ্জামসহ  তিন জুয়াড়িকে গ্রেফতার

    নড়াইলে নগদ টাকা ও জুয়ার সরঞ্জামসহ তিন জুয়াড়িকে গ্রেফতার

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

    নড়াইল জেলা ডিবি পুলিশ জুয়ার সরঞ্জামসহ তিন জন জুয়াড়িকে গ্রেফতার করেছে।উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, রবিবার (১১জুন) বিকালে নড়াইল সদর থানাধীন সীমাখালী বিলের মধ্য থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ডিবি পুলিশ পরিদর্শক সাজেদুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) জয়দেব কুমার বসু সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার বেদভিটা গ্রামের মৃত ফুল মিয়া শেখের ছেলে বাদশা মিয়া (৫৫) ও একই গ্রামের ওসমান গনি বিশ্বাসের ছেলে বিকুয়ার বিশ্বাস (৪০) ও একই উপজেলার বল্লারটোপ গ্রামের সোবহান শেখের ছেলে শিপলু শেখ (৩৫)। এ সময় জুয়ার আসর থেকে নগদ ছয় হাজার একশত) টাকা, দুই সেট তাস ও জুয়ার আসরে বসার কাজে ব্যবহৃত একটি মাদুর জব্দ করে পুলিশ। পুলিশ সুপার নির্দেশনায় জুয়ামুক্ত নড়াইল গড়ার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।