Author: desk

  • গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে প্রায়ত ইউপি চেয়ারম্যানকে বিএনপি নেতা আখ্যা দিয়ে সম্মানহানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে প্রায়ত ইউপি চেয়ারম্যানকে বিএনপি নেতা আখ্যা দিয়ে সম্মানহানীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের সদ্য প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কান্তি রায়কে বিএনপি নেতা আখ্যা দিয়ে সম্মানহানীর প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রয়াত চেয়ারম্যানের স্ত্রী শেফালী বেগম।

    আজ শুক্রবার (১৬ জুন) দুপুরে জলিরপাড় গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান মিহির কান্তি রায়ের স্ত্রী শেফালী রায় লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর কিছু দুস্কৃতিকারী ও কুচক্রী মহল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার স্বামীর বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যাচার করছে। মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপি কমিটির ১৩ নম্বর সিরিয়ালে এডিটিং করে আমার মৃত স্বামীর নাম বসিয়ে যুগ্ম-আহবায়ক বানিয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

    তিনি আরো বলেন, এছাড়া আমার স্বামীর মৃতুত্যে অনুষ্ঠিত শোক সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য খন্দকার মঞ্জুরুল হক লাবলুর বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালিয়েছে। তিনি নাকি ওই সভায় আমার স্বামীর স্থলে আমাকে জলিরপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছেন-যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এসব অপপ্রচার করে আমাকে ও আমার মৃত স্বামীকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাই।

    এ সংবাদ সম্মেলনে মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাবির মিয়া, ননীক্ষীর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর রহমান, জলিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কয়েকজন ইউ.পি সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার দুই শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। #

  • গোপালগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান

    গোপালগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ি গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন এক স্কুল ছাত্রী। ওই স্কুল ছাত্রীকে তার প্রেমিক বিয়ে না করলে প্রেমিকের বাড়িতে বসেই আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন।

    আর এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    জানাগেছে, উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান মোল্লার ছেলে ইব্রাহিম মোল্লা (২৫) তার বাড়ির পাশের দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর সাথে ৩ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক করে আসছিল। এ সময় ইব্রাহিম মোল্লা বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই ছাত্রীর সাথে শারিরীক সম্পর্কও গড়ে তোলে।

    সম্প্রতি ইব্রাহিম মোল্লার পরিবার তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য অন্যত্র পাত্রী দেখে। এ খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় ওই স্কুল ছাত্রী ইব্রাহিম মোল্লার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়। ওই স্কুল ছাত্রী ইব্রাহিম মোল্লার বাড়িতে গিয়ে ওঠার পর ইব্রাহিম মোল্লা ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

    বর্তমানে ওই স্কুল ছাত্রী ইব্রাহিম মোল্লার চাচা সিদ্দিক মোল্লার ঘরে অবস্থান করছেন।

    ওই স্কুল ছাত্রী বলেন, গত ৩বছর ধরে ইব্রাহিম মোল্লার সাথে প্রেম করছি। এ সময় সে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ইব্রাহিম মোল্লা আমাকে বিয়ে না করলে এই বাড়িতেই আমি আত্মহত্যা করবো।

    ইব্রাহিম মোল্লার চাচি রাজিয়া বেগম বলেন, মেয়েটি আজ দুইদিন ধরে আমাদের বাড়িতে অবস্থান করছে। তবে এই দুইদিনে সে কিছুই খায়নি। আমরা তাকে খাওয়ানোর অনেক চেষ্টা করেছি। এভাবে সে না খেয়ে থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়বে। আমরা মেয়ের বাবাকে বলেছি, তিনি যেন তার মেয়েকে বুঝিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়।

    ওই ছাত্রীর পিতা বলেন, ইব্রাহিম মোল্লা যে কাজ করেছে তাতে সমাজে আমার মুখ দেখাবার অবস্থা নেই। আমি চাই ইব্রাহিম মোল্লা আমার মেয়েকে বিয়ে করুক। আর সে বিয়ে না করলে আমি আইনের আশ্রয় নিবো।

    ইব্রাহিম ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আলী শেখ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি জেনে সামাজিক ভাবে ফয়সালার চেষ্টা করবো। #

  • গোপালগঞ্জে পিকআপ চাপা দুই শ্রমিক নিহত

    গোপালগঞ্জে পিকআপ চাপা দুই শ্রমিক নিহত

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পিকআপ চাপায় স্থানীয় আকিজ জুট মিলের দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

    আজ শুক্রবার (১৬ জুন) রাতে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই শ্রমিক মারা যান।

    এর আগে বিকাল সাড়ে ৫ টার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার পুরাতন মুকসুদপুর এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।

    মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আবু বকর মিয়া দূর্ঘটনা নিহত হবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    নিহতরা হলেন, মাদারীপুরে রাজৈর উপজেলার থানা রোড এলাকার দোলোয়ার হোসেনের ছেলে মো: মোক্তার হোসেন (৪২) ও যশোর জেলার অভয়নগর নওয়াপাড়ার মশরহাটি গ্রামের আজাহার মোল্যার ছেলে মো: মিজানুর রহমান মিঠু (৪০)।

    ওসি মো: আবু বকর মিয়া জানান, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় আকিজ জুট মিলের দুই শ্রমিক মোক্তার ও মিজানুর পুরাতন মুকসুদপুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন।

    এসময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকাপ (ঢাকা-মেট্রো-ন-১৯৩৯৫৩) ওই দুই শ্রমিককে চাপা দেয়। এতে মারাত্মক আহতাবস্থায় পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

    সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তারা মারা যান।

    ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় স্থানীয় মা ফিলিং ষ্টেশনের সামনে থেকে ঘাতক পিকআপটিকে আটক করা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবেন বলেও জানান ওসি।

    আকিজু জুট মিলের ম্যাকানিক্যাল সুপার ভাইজার তারিকুজ্জামান রাতুল জানান, আমাদের এখানকার দুই কর্মচারী পুরাতন মুকসুদপুর থেকে জুট মিলে আসার পথে একটি পিকআপ ভ্যান তাদের চাঁপা দিয়ে চলে যায়। পরে ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। #

  • গোপালগঞ্জে অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনীতে মুগ্ধ দর্শক

    গোপালগঞ্জে অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনীতে মুগ্ধ দর্শক

    স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : অ্যাক্রোবেটিকে মোহচ্ছনের মত দু’ঘন্টা সময় কেটে গেল। সমাপ্তি ঘোষণার পর তন্ময় দর্শক মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে এমন প্রদর্শনী নিয়মিত দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নির্মল চিত্ত বিনোদনের এই শৈল্পিক মাধ্যম আরো প্রচার প্রসার হওয়া প্রয়োজন বলেও দর্শকরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

    গোপালগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) রাতে শহরের শেখ ফজলুল হক মণি স্মৃতি অডিটোরিয়ামে দেশব্যাপী আক্রোবেটিক প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রধান অতিথি গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম এই প্রদার্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীর শুরুতে সুস্থ্য বিনোদনের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনীর ওপর ধারা বর্ণনা প্রদান করা হয়।

    অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনীতে নানা কসরত প্রদর্শন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক বিভাগের শিশু ও প্রবীণ সদস্যরা। চীন থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যাক্রোবেটিক শিল্পীর চোখ ধাঁধানো নৈপুন্য শেখ ফজলুল হক মণি স্মৃতি অডিটোরিয়ামের বিভিন্ন বয়সের দর্শকের হৃদয় কেড়ে নেয়। মঞ্চের উজ্জ্বল আলোয় মুখে গাঢ় মেকআপ আর যন্ত্র সংগীতের সুরের মুর্ছনায় শিল্পীরা কঠিন পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের ফসল দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফুঁটিয়ে তুলেছিলেন। সেই সাথে মুগ্ধ দর্শক মুহুমুহু করতালি দিয়ে শিল্পীদের উৎসাহ ও প্রেরণা যোগান।

    দর্শক সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, অ্যাক্রোবেটিকে চমৎকার সময় কেটেছে সবার। আমি আমার ২য় শ্রেণি পড়–য়া মেয়েকে নিয়ে এই প্রদর্শনী উপভোগ করেছি। এটি মানসম্পন্ন ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসাথে বিনোদন পাওয়ার মতো একটি মাধ্যম। নির্মল চিত্ত বিনোদনের এই শৈল্পিক মাধ্যম আরো প্রচার প্রসার হওয়া প্রয়োজন। এমন নান্দনিক প্রদর্শনীর জন্য অ্যাক্রোবেটিক দলের সদস্যদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাই।

    জেলা শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার ফারহান কবীর সিফাত বলেন, শিল্পকলার প্রতিটি বিষয়ই মানুষকে উদ্বেলিত করে। বিশেষ করে অ্যাক্রোবেটিকের এই ধরণের আয়োজন শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকল শ্রেণির দর্শককে নির্মল আনন্দ দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এই ধরণের আয়োজন দর্শকরা স্বানন্দে গ্রহন করেছে। আর নিয়মিত এ ধরণের প্রদর্শনীর আয়োজন সমাজকে সংস্কৃতি মুখি করবে এটাই প্রত্যাশা।

    গোপালগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এহিয়া খালেদ সাদী বলেন, শিল্পকলার মহা-পরিচালক লিয়াকত আলী লাকির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনীসহ বিভিন্নভাবে সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে যুব সমাজ আরো বেশি সংস্কৃতিমুখি হচ্ছে। তিনি এই প্রদর্শনীতে গোপালগঞ্জবাসীর এই সহযোগিতার জন্য সাধুবাদ ব্যক্ত করেন।

    গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুববুল আলম বলেন, এ্যাক্রোবেটিক (সার্কাস) শিল্প এদেশের মানুষকে দীর্ঘকাল ধরে সুস্থ্য ও শৈল্পিক বিনোদন দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সময়ে এই শিল্প বিলুপ্ত হতে চলেছে। এই শিল্প ও শিল্পীদের রক্ষায় শিল্পকলা একাডেমি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়ে ২টি অ্যাক্রোবেটিক দল গঠন করেছে। শিল্পীরা কাজের নিশ্চয়তা পেয়েছেন। তারাই সারাদেশে বছর ব্যাপী সুস্থ্য ও শৈল্পিক বিনোদন প্রদর্শন করে দেশবাসীর প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। এ্যাক্রোবেটিক দল ২টির সদস্যদের এই মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী আমাদের হৃদয় কেড়েছে। এই জন্য প্রদর্শনী টিমের সদস্যদের গোপালগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

  • কেমন আছেন আত্রাই হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ

    কেমন আছেন আত্রাই হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ

    রওশন আরা শিলা, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ- ব্রিটিশ আমলের রেলী ব্রার্দাসের পরিতাক্ত দুটি খুপরি ঘরে বাস করে কয়েকটি পরিবার। জায়গার অভাবে একসঙ্গেও ঘুমাতে পারেন না অনেকে। পালা ক্রমে একেক সময় একেকজনকে ঘুমাতে হয়। ঘরের ভেতর পর্দা করে কক্ষ বানাতে হয়। আর এই কক্ষে গাদাগাদি আর ঠাসাঠাসির জীবন, সেখানেই আবার রান্নার চুলা। সব মিলিয়ে এক অসহনীয় জীবন যাপন করছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার রেলী ব্রার্দাস বটতলীর হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা।তাদের কেউঝাড়ুদার, কেউ পরিচ্ছন্নতাকমী। অন্য সব মানুষের মতো তাদের জীবনেও আছে সুখ-দুঃখ, ব্যাথা-বেদনা, আছে চাওয়া-পাওয়া,প্রতিদিন ভোরে ঘর থেকে বের হয়ে ঝাড়ু,বেলচা আর ছেচাট ট্রলি হাতে, অথচ উপজেলার হরিজন জনগোষ্ঠীর নারীরা বঞ্চিত শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও আইনি সুবিধা থেকে। বার‌্যবিবাহ,মাতৃত্বকালীন জটিলতা, মাতৃমৃত্যু,পারিবারিক সহিংসতা,ধষণসহ নানা সহিংসতার মুখোমুখি হতে হয় তাদেররকে।জন্মের পর থেকে মুখোমুখি হতে হয় নানা বৈষম্যের।। রেলী ব্রার্দাসের বচতলী হরিজন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি বাড়ির সামনে কাপড়ের ছড়াছড়ি। কাপড় দেখলেই বুঝা য়ায়, ওই এলাককায় কতো লোকের বসবাস। গত তিন প্রজন্ম ধরেই একই ঘরে একই সাথে বসবাস করে আসছেন বেটি চম্পা রানী। তিনি জানান, একটা ঘরে আমাগো থাকতে হয়। এর মধ্যে একটা রুম,গাদাগাদি করে থাকি। এর মধ্যে বড় বড় পোলাপানও আছে।গৃহিনী——জানান, আমরা কধনো এক সাথে ঘুমাতে পারি না। একসাথে ঘুমানোর জায়গা নাই। আমরা মহিলারা রাতে ঘুমাই আর পুরুষরা সকালে ঘুমায়।ঝাড়ুদার——রানী জানান,আমি যখন ঘুমাই আমার ছেলে বইয়া থাকে,আর ছেলে যখন মুগায় আমি বইয়া থাকি। ছোট বাসাা জায়গা পাইনা। কি করবো। আমাগেতো দেখার কেউ নাই। বিএ পড়াশোনা সাধনা রানী চৌধুরী্।তিনি জানান কাপড়ড় দিয়ে ঘরের মধ্যে ঘর বানাতেত হয় আমাদের। এভাবেই আমরা রাত্রি যাপন করি। ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারি না।এদিকে ঘরে জায়গা না থাকার পরেও জায়গা করে দিতে নয় নববধুকে। এজন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের ঘুমাতে হয় ঘরের বাহিরে।মাধব বাঁসফোর বলেন, বড় ছেলেকে বিয়ে দিয়েছি কিছুদিন হলো ,কিন্তু রুমতো একটাই। তাই মধ্যে পর্দা করে দেই।না হয় আমি আর আমার বউ মিলে বাইরে শুয়ে থাকি। রেলী ব্রার্দাসের বটতলী হরিজন কলোনীর সভাপতি সুধির বলেন, আমরা পরিবার নিয়ে কিছুদিদন আগে রাজশাহী চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলাম। তখন আমার মনে হয়েছে আমাদের হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের থেকে ওই চিড়িয়াখানার জানোয়াররাও ভালোভাবে বসবাস করে। আমাদের এই এলাকা ভেঙ্গে নাকি সরকার বাহাদুর মিনি ষ্টেডিয়াম করা হবে।আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।আর একটা বিষয় হচ্ছে,যদি কখনো এখানে আগুন লাগে, আমরা যে ঘরে থেকে বের হবো এইসুযোগটাওনাই। বাংলাদেশে বতমানে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় মিলিয়নের মতো দলিতদের সংখ্যা।বাঙালি দলিত বলতে সমাজে যারা অস্পৃশ্য তাদের বোঝায়,যেমন কমকার,মালাকার,কামাড়,কুমার, জেলে,পাটনী,কায়পুত্র,কৈবত,ক্ষোরকার মাহাতো রাজবংশী কমকার প্রভূতি।এসব সম্প্রদায় আবার বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত। এবিষয়ে উপজেলার আহসান গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মন্হুরুল আলম বলেন, রেলী ব্রার্দাসের বটতলী হরিজন কলোনীতে আবাসনের তুলনায় তাদের সংখ্যা অনেক বেশি যা তাদের জন্য বসবাসের মতো ঘরবাড়ি নাই। আর সরকার প্রতি উপজেলায় একটি করে মিনি ষ্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তাবনা আছে। যদি হরিজন কলোনীর রেলী ব্রাদারে পরিতাক্ত ওঅবৈধ ভাবে গড়ে উঠা বাড়িঘর উচেছদ করার পর মিনি স্টেডিয়াম করা হয় তবে হরিজন কলোনীর বসবাসকারীদের অন্যস্থানে বাসস্থান তৈরি করে দেয়া হভে। তবে আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হরিজনদেরর সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়।#

  • নড়াইলের এই মাঠে খেলে জাতীয় দলে সুযোগপেয়েছি! শৈশবের খেলার মাঠ সংস্কার কাজের উদ্বোধন কালে মাশরাফি বিন মর্তুজা

    নড়াইলের এই মাঠে খেলে জাতীয় দলে সুযোগপেয়েছি! শৈশবের খেলার মাঠ সংস্কার কাজের উদ্বোধন কালে মাশরাফি বিন মর্তুজা

    উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
    যে মাঠ থেকে ক্রিকেট অঙ্গনে রাজত্ব করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। সেই খেলার মাঠ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করলেন নিজেই। নিজের গড়ে ওঠা খেলার মাঠ সংস্কার করতে পেরে খুশি মাশরাফি বিন মর্তুজা। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ জুন)
    বেলা সাড়ে ১১টায় নড়াইল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন।
    মাশরাফি বিন মর্তুজা আরো বলেন, এই খেলার মাঠেই আমার ক্রিকেট খেলার হাতে খড়ি। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই মাঠকে ঘিরে। নড়াইলের কয়েকটি মাঠ থাকলেও ক্রিকেট খেলার উপযোগী এই মাঠটি। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মাঠটিক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করি। কিন্তু সরকারী মাঠ হওয়ায় কিছু অফিসিয়াল জটিলতার কারনে বিলম্ব হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভালবাসায় আমরা মাঠটির উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫লাখ টাকা দিয়ে শুরু করেছি। মাঠটি পুরোপুরি উন্নয়ন করতে কমপক্ষে এক কোটি টাকার প্রয়োজন। আশা করি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সরকারী সহযোগিতায় মাঠটির উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে। উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার পর খেলার উপযোগী হয়ে বেশ কয়েকমাস সময় লাগবে। খেলার উপযোগী হলে এই মাঠ থেকে আরো নতুন নতুন ক্রিকেটারের জন্ম হবে বলে আমি আশা করি।’ বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মাশরাফি।
    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধূরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন,গোলাম মোর্ত্তুজা স্বপন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক স্বপ্নীল সিকদার নীল উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজশাহী সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগ

    রাজশাহী সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগ

    রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডের ১৯টিতে কাউন্সিলর পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই পরস্পরের মুখোমুখি। এসব ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী প্রার্থী হয়েছেন। ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডে এসব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা বিরোধে লিপ্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে পরস্পরের মধ্যে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাত ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

    জানা গেছে, ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকাউল ইসলামের সন্তান যুবলীগ নেতা আলি রেজা রাজিব। এ দুজনের মধ্যে শক্ত লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন, হাবিবুর রহমান ও যুবলীগ নেতা শামীম হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যুবলীগকর্মী হামিদুল ইসলাম সুজন, আওয়ামী লীগ নেতা কেএম ইফতেখার হামিদ ও বর্তমান কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান কাউন্সিলর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান টুকু ও সৈনিক লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান কাউন্সিলর এসএম মাহবুবুল হক পাভেল, জানে আলম খান জনি, শাহীদ আহমান বারেক ও হারুন অর রশিদ। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ কর্মী মো. টনি, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক আহমেদ রাজন ও সাবেক যুবলীগ নেতা আব্বাস আলী সরদার।

    ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতা সরিফুল ইসলাম বাবু, শিহাব চৌধুরী ও তাঁতী লীগ নেতা মোকশেদ উল আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মমিন ও মহানগর যুবলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ রানা। এ ওয়ার্ডে মোমিনের বিরুদ্ধে মাসুদ রানার কর্মী-সমর্থককে ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ১১ জুন মোমিনের সহযোগীরা মাসুদ রানার নারী সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

    ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনার ও মুরাদ আলী। সম্প্রতি আনারের সমর্থকরা মুরাদের নির্বাচনি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করেছেন। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের (পশ্চিম) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান পরশ ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউন নবী আল মামুন একে অপরের প্রতিপক্ষ। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন মহানগর যুবলীগের সহ-সম্পাদক আজিম শেখ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মুন্তাজ আহমেদ।

    আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের চারজন প্রার্থী ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন-শাহ মখদুম থানা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুয়েল রানা টিটু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের (দক্ষিণ) সহসভাপতি মো. ভুট্টু, থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম ও মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি মোখলেসুর রহমান মিলন।

    ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত বর্তমান কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন ও বর্তমানে মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন বাবু। ইতোমধ্যে এ ওয়ার্ডে কয়েকবার বাবু ও সুমনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা নিযাম উল আযীম ও মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি গোলাম ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যে এ ওয়ার্ডে নিযাম ও ফারুকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মাসুদ রানা, আওয়ামী লীগ নেতা আখতার আহমেদ বাচ্চু, মখলেসুর রহমান খলিল ও মহিউদ্দিন বাবু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা নুরুল হুদা সরকার ও যুবলীগ কর্মী মনিরুজ্জামান মনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

    কাউন্সিলর পদে দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল যুগান্তরকে বলেন, আমরা মেয়র নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছি। কাউন্সিলর পদে কে বা কারা নির্বাচন করছেন সেটি নিয়ে মাথাব্যথা নেই। আমরা মেয়র প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছি।

    মোঃ হায়দার আলী
    রাজশাহী।

  • আম নিয়ে কিছু কথা

    আম নিয়ে কিছু কথা

    লেখকঃ মোঃ হায়দার আলীঃ কি বিষয়ে লিখব, তা চিন্তা করছিলাম, শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম পুরাতন শিক্ষা ব্যবস্থা এসবিএ/ সি.এ উপর শিক্ষকদের বিষয ভিক্তিক প্রশিক্ষণ চলছে আবার নতুন কারিকুলামের শিক্ষকদের প্রশিক্ষন শেষে ৬ ষ্ঠ ও শ্রেণির ধারাবাহিক মূল্যয়ন শেষে চলছে সামষ্টিক মূল্যয়ন শিক্ষা কর্মকর্তাগণ এ বিষয়ে তদারকি জোরদার করেছেন। নতুন শিক্ষাক্রম যদি বাস্তবায়ন করতে তবে পদ্ধতির এসবিএ / সি.এ উপর প্রশিক্ষণ কেন? এ বিষয়ে লিখবো মনে করলাম তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপ ওপেন করলাম এমন সময়, আমার এক পরিচিত লোক আম ব্যবসায়ী মোফাজুল ও শামীম রেজা সাহেব ফোন করে আমার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন। শেষে তিনি বললেন, প্রচন্ড গরমে সব জাতের আম একসাথে পেঁকে যাওয়ায় আমের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাচ্ছে, গরমে আম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এব্যপারে খেলার অনুরোধ জানান, আম বলতে রাজশাহীর বাঘা, চারঘাটে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শিবগজ্ঞ, ভোলাহাটসহ কয়েকটি এলাকায় ভাল জাতের পাঁকা আম বিক্রি হয়েছিল ৩০/৪০ শুরু টাকা থেকে ১৪/২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোন কোন জায়গায় আমের ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ওই বন্ধুর কথায়, শিক্ষার বিষয়ে পরে লিখবো ভেবে লেখার থিমটি পরিবর্তন করে আমের ইতিহাস, প্রকারভেদ, বিভিন্ন আমের নামকরণ, বাংলাদেশে আমের রাজধানী সম্পর্কে লিখার জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে লিখা শুরু করলাম।

    আমের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা, সংস্কৃতে আম্র, বাংলায় আম, ইংরেজিতে ম্যাংগো, মালয় ও জাভা ভাষায় ম্যাঙ্গা, তামিল ভাষায় ম্যাংকে এবং চীনা ভাষায় ম্যাংকাও। আম অর্থ সাধারণ। সাধারণের ফল আম। রসাল বা মধু ফলও বলা হয় আমকে। রামায়ণ ও মহাভারতে আম্রকানন এবং আম্রকুঞ্জ শব্দের দেখা মেলে।
    ধারণা করা হয়।

    আম প্রায় সাড়ে ৬০০ বছরের পুরনো। আমের জন্মস্থান নিয়ে রয়েছে নানা তর্ক-বিতর্ক। বৈজ্ঞানিক ‘ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা’ নামের এ ফল ভারতীয় অঞ্চলের কোথায় প্রথম দেখা গেছে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আমাদের এ জনপদেই যে আমের আদিবাস এ সম্পর্কে আম বিজ্ঞানীরা একমত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭-এ আলেকজান্ডার সিন্ধু উপত্যকায় আম দেখে ও খেয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এ সময়ই আম ছড়িয়ে পড়ে মালয় উপদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ ও মাদাগাস্কারে।

    চীন পর্যটক হিউয়েন সাং ৬৩২ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এ অঞ্চলে ভ্রমণে এসে বাংলাদেশের আমকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করেন। ১৩৩১ খ্রিস্টাব্দ থেকে আফ্রিকায় আম চাষ শুরু হয়। এরপর ১৬ শতাব্দীতে পারস্য উপসাগরে, ১৬৯০ সালে ইংল্যান্ডের কাচের ঘরে, ১৭ শতাব্দীতে ইয়েমেনে, উনবিংশ শতাব্দীতে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে, ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইতালিতে আম চাষের খবর জানা যায়। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মাটিতে প্রথম আমের আঁটি থেকে গাছ হয়। এভাবেই আম ফলটি বিশ্ববাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়।

    জানা যায়, মোগল সম্রাট আকবর ভারতের শাহবাগের দাঁড়ভাঙায় এক লাখ আমের চারা রোপণ করে উপমহাদেশে প্রথম একটি উন্নত জাতের আম বাগান সৃষ্টি করেন। আমের আছে বাহারি নাম বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ। ফজলি, আশ্বিনা, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ, মোহনভোগ, জিলাপিভোগ, লক্ষণভোগ, মিছরিভোগ, বোম্বাই ক্ষীরভোগ, বৃন্দাবনী, চন্দনী, হাজিডাঙ্গ, সিঁদুরা, গিরিয়াধারী, বউভুলানী, জামাইপছন্দ, বাদশভোগ, রানীভোগ, দুধসর, মিছরিকান্ত, বাতাসা, মধুচুসকি, রাজভোগ, মেহেরসাগর, কালীভোগ, সুন্দরী, গোলাপবাস, পানবোঁটা, দেলসাদ, কালপাহাড়সহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাওয়া যায় প্রায় ৩০০ জাতের আম। তবে অনেকগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়।

    বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে আম গাছকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে আম গাছকে নির্বাচন করা হয়। সবচেয়ে দামি ও জনপ্রিয় আমের নাম আলফানসো। ভারতে উৎপাদিত এ জাতের এক কেজি আমের দাম প্রায় ৪০০ রুপি। জাপানের মিয়াজাকি আম সব চেয়ে বেশি দাম, প্রতি কেজি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মিয়ানমারের জনপ্রিয় আম রাঙ্গু দেখতে আকর্ষণীয়, খেতে সুস্বাদু। ভারতের আম গবেষকরা ১৯৭৮ সালে দশহরি ও নিলাম এ দুটি আমের মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে পৃথিবীর বিস্ময়কর জাতের আম উদ্ভাবন করেন; যার নাম আম্রপালি
    আম্রপালি: আম্রপালি আমকে অনেকেই আম রুপালি হিসেবে চিনে। আসলে এই আমটির আসল নাম আম্রপালি। ভারতের গবেষকরা পৃথিবীর বিস্ময়কর এক আম সৃষ্টি করেছেন। এই সেই আম্রপালি। ভারতের শ্রেষ্ঠ নর্তকীর নাম ছিল আম্রপালি।
    এই জাতের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত আমাদের দেশের আবহাওয়ার কারণে উন্নত জাতের আম এক গাছে এক বছর ফলে পরের বছর ফলে না। কিন্তু আম্রপালি প্রতিবছর ফলে।
    বাংলাদেশের মানুষ গ্রীষ্মের দুঃসহ গরম, দরদর ঘাম, সব কিছুর পরেও এ ঋতুর জন্য আমজনতার অপেক্ষার অন্যতম কারণ আম। ফজলি থেকে ল্যাংড়া, গোলাপখাস থেকে হিমসাগর- বাংলার এই বিপুল আমসাম্রাজ্য বহু শতক ধরে বয়ে আনছে এর আভিজাত্য। যেমন গন্ধ, তেমনই তার স্বাদ। কিন্তু জানেন কি, প্রত্যেক আমের নামকরণের নেপথ্যে ঠিক কী ইতিহাস লুকিয়ে আছে?

    ১৮০০ সালে মালড়
    দহঢ়জেলার কালেক্টর রাজভেনশ এই আমের নামকরণ করেন ‘ফজলি’। কথিত, ফজলি বিবি নামক এক প্রৌঢ়া বাস করতেন স্বাধীন সুলতানদের ধ্বংসপ্রাপ্ত গৌড়ের একটি প্রাচীন কুঠিতে। তাঁর বাড়ির উঠোনেই ছিল একটি আমগাছ। ফজলি এই গাছটির খুব যত্ন নিতেন। এলাকার ফকির বা সন্ন্যাসীরা সেই আমের ভাগ পেতেন।
    কালেক্টর রাজভেনশ একবার ফজলি বিবির কুঠিরের কাছে শিবির স্থাপন করেন। তাঁর আগমনের খবর পেয়ে ফজলি বিবি সেই আম নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। রাজভেনশ সেই আম খেয়ে খুবই তৃপ্ত হন। জানতে চান, সেই নামের নাম। কিন্তু ইংরেজি না বুঝে শুধু ‘নেম’ শুনেই নিজের নাম বলে দেন ফজলি বিবি। সেই থেকেই এই আমের নাম হয় ‘ফজলি’।

    ল্যাংড়া:
    মুঘল আমলে দ্বারভাঙায় এই প্রকারের আম চাষ শুরু হয়। কিন্তু তখন কেউ এর নাম নিয়ে মাথা ঘামায়নি। পরে আঠারো শতকে এক ফকির খুব সুস্বাদু এই আমের চাষ করেন। সেই ফকিরের পায়ে কিছু সমস্যা ছিল। সেই থেকেই নাকি ওই আমের নাম হয়ে যায় ‘ল্যাংড়া’।

    লক্ষ্মণভোগ ও গোপালভোগঃ ইংরেজ বাজারের চন্ডীপুরের বাসিন্দা লক্ষ্মণ একটি আম গাছ রোপণ করেন। স্বাদে-গন্ধে সেই আম ছিল তুলনাহীন। লক্ষ্মণ চাষির নাম থেকেই লক্ষ্মণভোগ আমের উৎপত্তি। ইংরেজ বাজারে নরহাট্টার গোপাল চাষির নামে আবার নাম হয় গোপালভোগের।

    গোলাপখাস: এ আম বিখ্যাত তার গন্ধের জন্য। মিষ্টি গোলাপের গন্ধ বহন করে বলে এই আমকে এই নামে ডাকার চল শুরু হয়ে যায়। প্রাচীন বাংলার আমগুলোর মধ্যে গোলাপখাস অন্যতম। এই আমের গায়ে গোলাপের রঙের লালচে আভা থাকে।

    গুটি ও আশ্বিনা: চেহারায় ছো়ট এক প্রকারের আম খেয়ে সেই আঁটি নিজের বাগানে পুঁতেছিলেন মালদহের এক দরিদ্র কৃষক। সেই আঁটি থেকেই জন্ম নিয়েছিল আরেক আমগাছ। কাঁচা অবস্থায় টক। কিন্তু পাকলে খুব মিষ্টি। আঁটি বা গুটি থেকে গাছটি জন্মায় বলে আমের নামও হয়ে যায় ‘গুটি’। এ দিকে আশ্বিন মাসে পাকে যে আম তাকে ‘আশ্বিনা’ বলে চেনে বাংলাদেশের মানুষ।

    কথিত আছে, স্বয়ং গৌতম বুদ্ধকে একটি আম্রকানন উপহার দেওয়া হয়েছিল যেন তিনি তার ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারেন। প্রাচীনকালে আমের কদর আর গুরুত্ব বোঝাতে সংস্কৃতে এর নামকরণ করা হয় আম, যার অর্থ মজুদ খাদ্য বা রসদ। বাংলাদেশে আম একটি জনপ্রিয় ফল। বহু বছর ধরে আভিজাত্য বহন করছে আমের এই অদ্ভুত নামগুলো। কিন্তু প্রত্যেকটি আমের নামকরণের পেছনে রয়েছে ইতিহাস। আসুন জেনে নেই এমন নামের কারণ।

    দশেরি আম: উত্তর প্রদেশের আমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাদশাহি খানদানের ইতিহাস৷ যেমন আমের রাজা দশেরির কথাই ধরা যাক৷ উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষৌ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পার হলে পড়ে মালিহাবাদ নামে একটা জায়গা৷ উন্নত প্রজাতির আম দশেরির জন্য এই এলাকা চিহ্নিত৷ এখানে ৩৫ হাজার হেক্টর জমি জুড়ে আছে আমের বাগান৷ রাজ্যের মোট আমের ফলনের ১২.৫ শতাংশ আম এই মালিহাবাদেই হয়৷ তাই মালিহাবাদকে বলা হয় ‘‘আমের রাজধানী”৷
    স্থানীয় লোকজনদের মতে অবশ্য মালিহাবাদ এবং দশেরি আম নিয়ে নানা গল্পকথা আছে৷ কেউ কেউ বলেন, প্রায় ২০০ বছর আগে ফকির মহম্মদ খান ওরফে গয়া মালিহাবাদির নেতৃত্বে একদল আফ্রিদি পাঠান ভাগ্যান্বেশনে আফগানিস্তানের সীমান্তে খাইবার গিরিপথের এক গ্রাম থেকে পেশাওয়ার হয়ে হিন্দুস্থানে আসে৷ প্রথমে তাঁরা আসে উত্তর প্রদেশের ফারুকাবাদে৷ সেখান থেকে অবধ-লক্ষৌ-এ৷ মহম্মদ খানের বীরত্ব এবং যুদ্ধ বিদ্যার নৈপূণ্য দেখে অবধের নবাব খুশি হন৷ বকশিস হিসেবে মহম্মদ খান ফলের বাগান করার অনুমতি প্রার্থনা করেন নবাব বাহাদুরের কাছে৷ সঙ্গে সঙ্গে তা মঞ্জুর হয়৷ কথিত আছে, মহম্মদ খান প্রথম মালিহাবাদে আমের চারা রোপণ করেন৷
    তবে দশেরি আম বাগান সবই এককালে ছিল নবাবদের৷ পরে অন্যান্যের ইজারা দেয়া হয়৷ বাংলায় আমের খ্যাতি এককালে ছিল মুর্শিদাবাদের নবাব আমলে৷

    এদিকে জানা গেছে, আম্রপলি আমের মিষ্টতার পরিমাণ ল্যাংড়া বা হিমসাগরের চেয়ে বেশি। গাছ বামন আকৃতির। ফলনও বেশি। পাঁচ হাত দূরত্বে এক হেক্টর জমিতে এক হাজার ৫০০ আম্রপালির চারা রোপণ করা যায়। আমের আকার লম্বাটে। আষাঢ় মাসে পাকে। গড় মিষ্টতার পরিমাণ ২৩ শতাংশের বেশি। আঁটি সরু। সুস্বাদু আঁশবিহীন। ১৯৯০ সালে প্রথম আমাদের দেশে আম্রপালির চারা আসে। বর্তমানে দেশে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় আম্রপালির চারা কিনতে পাওয়া যায়। যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা জেলায় আম্রপালির অনেক বড় বড় বাগান রয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য এলাকায়ও এখন প্রচুর পরিমাণে আম্রপালি চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে ১৬ মেট্রিক টন আম্রপালি ফলে। আম্রপালি অনেকটা সবজির মতো। প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ সার দেওয়া প্রয়োজন। ১২-১৪ বছর বয়স হলে গাছ কেটে নতুন চারা লাগালে ভালো হয়। এর কারণ হচ্ছে, বয়সী আম্রপালি গাছের ফল ছোট হয় ও ফলন কমে যায়। আম্রপালি অতুলনীয় মিষ্টি স্বাদযুক্ত একটি আম। এর রং ও গন্ধ অসাধারন। এই আম সাইজে কিছুটা লম্বা ও ছোট। আম রুপালি ওজনে ৭৫ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। কম আঁশ যুক্ত এই আমটির খোসা পাতলা এবং আঁটিও পাতলা। আম্রপালি সাধারনত ফজলি আমের পরে আসে।

    হাড়িভাঙ্গা আম: বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জমিদার বাড়ীর বাগানে প্রজাবাৎসল, উদারমনা ও সৌখিন রাজা তাজ বাহাদুর শিং এর আমলে আমদানিকৃত ও রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির সুগন্ধিযুক্ত ফুল ও সুস্বাদু ফলের বাগান ছিল যা ১৯৮৮ সালের বন্যা ও ভাঙ্গনে যমুনেশ্বরী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ১নং খোরাগাছ ইউনিয়নের তেকানী গ্রামের মৃত নফল উদ্দিন পাইকার, পিতা মৃতঃ তমির উদ্দিন পাইকার আমের ব্যবসা করতেন। তিনি জমিদারের বাগানসহ অন্য আম চাষীদের আম পদাগঞ্জসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতেন। জমিদার বাগানের আমদানীকৃত আমের মধ্যে একটি আম অত্যন্ত সুস্বাদু, সুমিষ্ট ও দর্শনীয় হওয়ায় তিনি উহার একটি কলম (চারা) নিয়ে এসে নিজ জমিতে রোপন করেন। বরেন্দ্র প্রকৃতির জমি হওয়ায় শুকনো মৌসুমে গাছের গোড়ায় পানি দেয়ার সুবিধার্থে একটি হাড়ি বসিয়ে ফিল্টার পদ্ধতিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করেন কিন্তু অল্পদিনের ব্যবধানে কে বা কারা ওই হাড়িটি ভেঙ্গে ফেলেন। কালের বিবর্তনে বৃক্ষটি ফলবান বৃক্ষে পরিণত হয়। মৃত নফল উদ্দিনের পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও ভোক্তাবৃন্দ ওই গাছের আম খাওয়ার পর এত সুস্বাদু আমের উৎস সম্বন্ধে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কে বা কারা যে গাছটির হাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছিল এটি সেই গাছেরই আম। গাছকে সনাক্তকরণের লক্ষ্যে নফল উদ্দিন কর্তৃক উচ্চারিত বা মুখ নিঃসৃত হাড়িভাঙ্গা কথার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে এটি “হাড়িভাঙ্গা” নামে পরিচিত লাভ করে।
    হাড়িভাঙ্গা আম গাছের চেহারা লক্ষ্যণীয় ও আকর্ষণীয়। ডগা বা ছায়ন পূষ্ট ও বলিষ্ঠ। উহার ছায়ন দ্বারা গ্রাফটিং করলে বা ডালে জোড়কলম লাগালের গাছ অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অল্প দিনের মধ্যে ডালপালা বিস্তৃত হয়ে গাছের পরিধি লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে যায়। চারা রোপনের পরবর্তী বছরেই মুকুল আসে, তবে প্রথম বছরে মুকুল ভেঙ্গে দিলে গাছের ডগার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও বলিষ্ঠ হয়ে ওঠে। হাড়িভাঙ্গা আম গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো গাছের ডালপালা উর্ধ্বমূখী বা আকাশচুম্বী হওয়ার চেয়ে পাশে বেশী বিস্তৃত হতে দেখা যায়। ফলে উচ্চতা কম হওয়ায় ঝড়-বাতাসে গাছ উপড়ে পড়েনা এবং আমও কম ঝড়ে পড়ে। আমটির উপরিভাগ বেশী মোটা ও চওড়া, নিচের অংশ অপেক্ষাকৃত চিকন। আমটি দেখতে সুঠাম ও মাংসালো, শ্বাস গোলাকার ও একটু লম্বা। আমের তুলনায় শ্বাস অনেক ছোট, ভিতরে আঁশ নেই। আকারের তুলনায় অন্য আমের চেয়ে ওজনে বেশী, গড়ে ৩টি আমে ১ কেজি হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে একটি আম ৫০০/৭০০ গ্রাম হয়ে থাকে। পুষ্ট আম বেশী দিন অটুট থাকে। চামড়া কুচকে যায় তবুও পঁচে না। ছোট থেকে পাকা পর্যন্ত একেক স্তরে একেক স্বাদ পাওয়া যায়। তবে আমটি খুব বেশী না পাঁকানোই ভাল। এছাড়াও অনেক নামে আম আছে তাঁর নামকরণের সঠিক ইতিহাস আমাদের জানা নেই। তবে অনুসন্ধান চলছে এইসব আমের নামের সঠিক ইতহাস জানা থাকলে আমাদের জানাতে পারেন, আমরা তা তুলে ধরবো বিশ্ব দরবারে। যেমনঃ- খিরসা, অরুনা, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, কাঁচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা, ছাতাপরা, গুঠলি, লখনা, আদাইরা, কলাবতী ইত্যাদি।
    আমাদের দেশে যেসব ফল উৎপন্ন হয় তার মধ্যে আমের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। আমের নানাবিধ ব্যবহার, স্বাদণ্ডগন্ধ ও পুষ্টিমাণের জন্য এটি একটি আদর্শ ফল হিসেবে পরিচিত। তাই আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বাংলাদেশের মাটি, জলবায়ু, আবহাওয়া সবই আমচাষের উপযোগী। দেশের প্রায় সব জেলায়ই আম ফলে। এমনকি উপকূলীয় লবণাক্ত ভূমিতেও এখন মিষ্টি আমের চাষ হচ্ছে। পার্বত্য জেলার জুমচাষ এলাকায়ও উন্নত জাতের আম ফলছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা,সাতক্ষীরা, যশোর আমচাষের শীর্ষে অবস্থান করছে।
    পরিসংখ্যান বিভাগের এক হিসাব অনুযায়ী দেশে ৩২ হাজার হেক্টর অর্থাৎ ৭৮ হাজার ১৯৫ একর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর ফলন হচ্ছে আট লাখ দুই হাজার ৭৫০ টন। বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়। আর আম চাষের এলাকা তো প্রতিবছরই বাড়ছে। উৎপাদনও বাড়ছে। আর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের মাথাপিছু আম উৎপাদনের পরিমাণ দেড় কেজির মতো। ভারতে মাথাপিছু ১১ কেজি, পাকিস্তানে ৬ কেজি, মেলঙ্কাতে ৯ কেজি, ফিলিপাইনে ৬ কেজি, তানজানিয়ায় ৭ কেজি, সুদানে সাড়ে ৭ কেজি, জায়ারে ৫ কেজি এবং হাইতিতে ৫৫ কেজি।

  • তেঁতুলিয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ

    তেঁতুলিয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া প্রতিনিধিঃ তেঁতুলিয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা কৃষি অফিস কার্যালয় চত্বরে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের খরিপ/২০২৩-২৪ মৌসুমে রোপা আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উচ্চ ফলন শীল (উফশী) ধানের এই বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ধান বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী।

    এসময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জীবন ইসলাম, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোতালেব, কৃষি প্রণোদনা গ্রহনকারী ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।

    উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে কৃষকদের মধ্যে ১২শ’ জনকে মাথা প্রতি ৫ কেজি করে উপশী আমন ধানের বীজ, সার ডিএপি-১০ কেজি, এমওপি-১০ কেজি করে বিতরণ করা হয়েছে। এসময় গ্রীষ্মকালীণ পেঁয়াজের বিতরণও দেখানো হয়েছে। এতে ২শ’ জনের মাঝে এই বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষিবান্ধব সরকার এবং শুরু থেকেই কৃষকদের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে কৃষকের কষ্ট লাঘব ও লাভবান করতে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষিপণ্যের রফতানি বৃদ্ধি ও বিশাল ভর্তুকিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে। সেই সঙ্গে কৃষকদের এসব প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। আপনারা এই কৃষি প্রণোদনা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন।’

    মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম।।

  • রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুনার্মেন্ট উদ্বোধন

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুনার্মেন্ট উদ্বোধন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী।। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন বৃহস্পতিবার (১৫জুন) বিকেলে মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রধান অতিথি থেকে খেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্তর সভাপতিত্বে খেলায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সবুজ হাসান,, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম, গোদাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসিদুল গনি মাসুদ, গোগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল, রিশিকুল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলু প্রমুখ।

    উদ্বোধনী খেলায় পরস্পর মোকাবেলা করে গোদাগাড়ী পৌরসভা বনাম মাটিকাটা ইউনিয়ন।

    নির্ধারিত ৫০ মিনিটের খেলায় প্রথমার্ধে গোদাগাড়ী পৌরসভাকে ১ গোল দিয়ে এগিয়ে থাকে মাটিকাটা ইউনিয়ন।

    দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে খেলে মাটিকাটা ইউনিয়নকে ১ গোল দিয়ে খেলায় সমতা আনে গোদাগাড়ী পৌরসভা।

    খেলায় ট্রাইবেকারে ৪-৩ গোলে মাটিকাটা ইউনিয়নকে পরাজিত করে উদ্বোধনী খেলায় বিজয়ী হয় গোদাগাড়ী পৌরসভা।

    সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয় গোদাগাড়ী পৌরসভা দলের ১০ নম্বর জার্সি পরিহত সাজিত আলী।

    মোঃ হায়দার আলী

    রাজশাহী।