মোঃ হামিদার রহমান নীলফামারী প্রতিনিধিঃ ১৮ জুলাই, রোজ মঙ্গলবার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ডোমার চিলাহাটি নীলফামারী বার্ষিক পরিদর্শন করেন গোলাম সবুর পিপিএম,-সেবা, পুলিশ সুপার, নীলফামারী
পুলিশ সুপার গোলাম সবুর পিপিএম,-সেবা, চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে উপস্থিত হলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান মশিউর রহমান, আইসি চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এবং একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে।
এরপর পুলিশ সুপার, নীলফামারীর ডোমার, চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নথিপত্র, মালখানা, অস্ত্রাগার, ফোর্সদের ব্যারাক, ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। এ সময় তদন্ত কেন্দ্র ক্যাম্পাসে একটি বকুল ফুলের চারা রোপন করেন এবং তদন্ত কেন্দ্রের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন আলী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার, ডোমার সার্কেল, নীলফামারী; মাহমুদ উন নবী, অফিসার ইনচার্জ, ডোমার থানা, নীলফামারী; মশিউর রহমান, আইসি চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ডোমার নীলফামারীসহ তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার্স ও ফোর্সবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Author: desk
-

চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার- গোলাম সবুর
-

নড়াইলে পুলিশের অভিযানে স্ত্রী হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বামী গ্রেফতার
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে:
নড়াইলে পুলিশের অভিযানে স্ত্রী হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী গ্রেফতার। নিজ স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর শেখ হেদায়েতকে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল জেলা পুলিশ। তিনি লোহাগড়া থানাধীন পদ্মবিলা গ্রামের মৃত গোলাম রব্বানী শেখের ছেলে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল থেকে জানান,
মগ্লবার (১৮ জুলাই) ভোর রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হত্যা মামলা ছাড়াও সে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় ৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া সে লোহাগড়া ও নড়াইল সদর থানার চুরি মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
জাহাঙ্গীর শেখ হেদায়েত, আঞ্জুয়ারা বেগম নামে এক মহিলাকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। দ্বিতীয় বিবাহের পর থেকেই মূলত পারিবারিক কলহের সৃষ্টি। ২০১২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে জাহাঙ্গীর শেখ হেদায়েত এর ছেলে রবিউল ইসলাম ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে সকালে উঠে বাদী রবিউল ইসলাম তার মাকে দেখতে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুজি করে। এ সময় সে তার বাবার লুঙ্গিতে রক্ত দেখে কারণ জানতে চাইলে গরু জবাই করেছে বলে জানায় তার বাবা। রবিউল ও তার স্বজনেরা খোঁজাখুজি করে পদ্মবিলে মমতাজের গলাকাটা মৃতদেহ দেখতে পায়৷ সেই থেকে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল জাহাঙ্গীর। সাজা থেকে বাচঁতে খুলনার ডুমুরিয়ায় নতুন সংসার বেঁধে আত্মগোপন করেছিল সে, শ্বশুর বাড়িতে থেকে করতো ফল ব্যবসা, আর সুযোগ পেলেই চুরি। নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ দোলন মিয়ার তত্ত্বাবধানে নড়াইল সদর ও লোহাগড়া থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে নড়াইল সদর থানাধীন মালিবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। -

পাইকগাছায় হাতকড়াসহ আসামি পালানোর ঘটনায় এএসআই নাসিরকে প্রত্যাহার
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় হাতকড়াসহ আসামি পালানোর ঘটনায় থানার এএসআই নাসির উদ্দীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১৮ জুলাই মঙ্গলবার সকালে নাসির উদ্দীনকে প্রত্যাহার করে খুলনা পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে বলে থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে ।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় আসামি উপজেলার বিরাশী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলামকে (৪০) সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেন এএসআই নাসির উদ্দীন। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে করে থানায় নিয়ে আসার সময় পৌর সদরের বাজার মোড়ে পুলিশকে আহত করে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান মনিরুল। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বাতিখালীর ওয়াপদা রাস্তার ওপর থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুনরায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ডাকাতি মামলার আসামি মনিরুল হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। পরে ওই আসামিকে অন্য এক স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ ঘটনায় খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ সাইদুর রহমানের এক বার্তায় এএসআই নাসির উদ্দীনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে।ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা,খুলনা। -

পাইকগাছায় হতদরিদ্রের মাঝে নলকূপ ও পানির ট্যাংকি বিতরণ
ইমদাদুল হক,পাইকগাছা, খুলনা।।
বিআরডিবি অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প -৩ এর ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাইকগাছায় ৪৯ জন হতদরিদ্রের মাঝে নলকূপ ও পানির ট্যাংকি বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিআরডিবি অফিস চত্বরে উপজেলার কপিলমুনি ও লতা ইউনিয়নের সুবিধা ভোগীদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে নলকূপ ও পানির ট্যাংকি বিতরণ করেন উপ পরিচালক একেএম আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু ও ইউসিসিএ’র সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ দাশ। এসময়ে ইউডিও’র সঞ্জয় কুমার মন্ডল, তসলিম হুসাইন তাজ, ইউপি সদস্য মোঃ আজিজুল বিশ্বাস, মেরী সরদার, কিংশুক রায় ও শংকর বিশ্বাস, নাজমা কামাল সহ সুবিধা ভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। -

“ অস্পৃশ্য হরিজন সম্প্রদায়ের অভিশপ্ত জীবন”
রওশন আরা শিলা,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ-
পরিচয় একটাই, হরিজন’ এ পরিচয় নিয়ে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গে মেশা তো দূরের কথা, হোটেলে বসে খেতেও পারেন না। সেলুনে বসে চুল কাটার অধিকারও নেই তাদের এ পরিচয় জানলে হয়তো স্কুলেও ভর্তি নেবে না ।একবিংশ শতাব্দীকে এসেও অস্পৃশ্য হরিজন সম্প্রদায়। যেন তারা মানুষ নয়, হরিজন। ভোরের আলো ফোটার আগে যারা নগরকে পরিস্কার করে সৌন্দয্য র্মন্ডিত করে, সেই হরিজনদের জীবনের আঁধারই কাটছে না।হরিজনরা মূলত ঝাড়ুদার,মেথর, ডোম ও নোংরা পরিস্কারের কাজ করে। তবে তারা শিক্ষা, সামাজিক মর্যদা, চিকিৎসা,ভূমি মালিকানা সবদিক থেকেই বৈষ্যম্যের শিকার। মানুষে মানুষে বিভাজনই আসলে হরিজনের জন্ম দিয়েছে।“হরিজন” শব্দটি দিয়ে আসলে আন্দাজ করা মুশকিল যে এই সম্প্রদায় সবর্দা কতটা অবহেলিত ও উপেক্ষিত। অথচ‘ হরিজন’ শব্দটির অর্থ ঈশ্বরের সন্তান (হরিজন)।এই নামটি মূলত মহাত্নগান্ধী এই সমাজের মানুষকে সন্মান দিতে চেয়েছিলেন। তিনি 1933 সালে অস্পৃশ্যদের চিহ্নিত করার জন্য হরিজন শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি চেয়েছিলেন সমাজের চলতি স্রোতে এদের মিশিয়ে দিতে।সমাজের প্রচলিত জাতিভেদ প্রথার কারণেই দেশের সাধারণ মানুষদের থেকে আলাদা হয়েগেছে হরিজন সম্প্রদায়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সনাতন ধর্মাবলন্বীদের মধ্যে জাতিভেদ প্রথাটির বিষবৃক্ষ রোপন করতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী ক্রমাগত সেই জাত-পাতের বিভাজন করেই গেছেন। এই বিভাজ সামাজিক ভাবে এমন নির্যাতনে রুপ নিয়েছিল যে, সমাজে নিন্মবর্ণের মানুষের টেকাই দায় হয়ে উঠেছিল।তাদের অস্তিত্বের সংকট শুরু হয়ে যায় রীতিমতো। বাংলাদেশে এই বিভাজনের মধ্য দিয়ে বিস্তৃতি ঘটে বিভিন্ন ধর্মের। কিন্তু জাতিভেদের সংকট বাংলাদেশ থেকে আজও যায়নি। ইতিহাসে সোনার অক্ষরে নয়, কান্নার নীল হরফে লেখা রয়েছে দলিত সম্প্রদায়ের কথা। তখন তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ছিল সুইপারের চাকরি।দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কমবেশি হরিজনদের বসতি রয়েছে। হরিজনদের ভাষা ভিন্ন হলেও এখন বর্তমানে কাজেকর্মে ও যোগাযোগের সুবিধার্থে তারা বাংলা ভাষার ব্যবহার করেছেন । হরিজনরা একই পুকুরে গোসল করতে পারে না। তাদের স্পর্শ করাও নিষিদ্ধ। যুগের পরযুগ অস্পৃশ্যতার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে প্রতিবেশী বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন তো দুরের কথা, কথা বলতে পর্যন্ত ভয় পায় তারা। হিন্দু বৌদ্ধ, মুসলমান,খৃস্টান- সবার কাছে এরা শুধুই মেথর। হরিজনরাও আমাদের দেশের,সংস্কৃতিরই একটি অংশ। তারপর ওরা অস্পৃশ্য। মঙ্গলবার (18 জুলাই) কবি গুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের পতিসর কাচারি বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে রাস্তার পার্শ্বে টিনের খুপরি ঘরের মধ্যে কাপড়ের বেড়া দিয়ে বউ, ছেলে –মেয়ে নিয়ে বাস করছেন। পতিসর হরিজন হেমন্ত্রী বলেন আমাদের আজ নিজস্ব জায়গা-জমি না থাকায় রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের কাচারি বাড়ির রাস্তার পার্শ্বে বসবাস করছি। এমন কি পানি বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নাই আমরা খুব কষ্টে আছি। নেই কোন চাকুরি । হরিজনদের চাকুরি আজ মুসলমানরা করছে আমরা পাচ্ছি না কর্ম সংস্থান।পাদলিত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা সহ সকল সুবিধা থেতে বঞ্চিত। এবিষয়ে মনিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান সম্রাট হসেন বলেন, আমার ইউনিয়নে রবীঠাকুরের কাচারী বাড়ির রাস্তার পার্শ্বে তারা বসবাস করছে তাদের আবাসন ও কম সংস্থানের খুব প্রয়োজন এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যকটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হয়। এ বিষয়েয় আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকতেখারুল ইসলাম জানান, রবীঠাকুরের এলাকার হরিজনদের আবসনের সংকট, তবে উপজেলা প্রশাসন থেকে হরিজনভাতা প্রদান করা হয়।আবাসন বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।#
-

প্রেমের টানে পাবনার সুজানগরে মালয়েশিয়ান তরুণী
এম এ আলিম রিপন,সুজানগর(পাবনা) ঃ প্রেমের টানে প্রায় আড়াই হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পাবনার সুজানগরে প্রেমিক রায়হান মন্ডলের কাছে ছুটে এসেছেন মালয়েশিয়ান তরুণী নূর শাহীদা(২৬)। সে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর শহরের মোহাম্মদ চিমার উদ্দিনের মেয়ে। প্রেমিক রায়হান মন্ডল পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া নতুনপাড়া গ্রামের মো.সামাদ মন্ডলের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়,মালয়েশিয়ান তরুণী আসার খবর গ্রাম সহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। এর আগে গত রবিবার এক মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন ওই তরুণী। পরে সোমবার প্রেমিক রায়হানের নিজ গ্রামের বাড়িতে আসেন। এ ব্যাপারে রায়হান মন্ডল বলেন,গত ৭ বছর পূর্বে আমি মালয়েশিয়া যাই। মালয়েশিয়ায় থাকার সুবাদে সেখানে পরিচয় হয় মালয়েশিয়ান তরুণী নূর শাহীদার সঙ্গে। পরিচয় থেকে ভালোবাসা। আমাদের দীর্ঘ প্রায় ৩ বছরের সম্পর্ক। সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশে আসার পর গত সোমবার(১৭ জুলাই) আমার গ্রামের বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়ার তারাবাড়িয়া নতুনপাড়ায় দুই পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। বিয়ের দেনমহর নির্ধারণ করা হয় এক লাখ টাকা। কিছুদিন পর আমরা দুইজনই আবার মালয়েশিয়া যাব। স্থানীয় সাতবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছেত বাচ্চু জানান, প্রেম মানে না শাসন-বারণ। প্রেমানুভূতির নেই কোন সীমানা। সাত সাগর তের নদী পেরিয়ে প্রেমিক -প্রেমিকের মিলনেই যেন সার্থকতা। এবারে সে তালিকায় নাম লেখালেন মালয়েশিয়ান তরুণী নূর শাহীদা।ভাঙা ভাঙা বাংলায় মালয়েশিয়ান তরুণী নূর শাহীদা বলেন, রায়হান আমাকে ভালবাসে আমিও রায়হানকে ভালবাসি। বাংলাদেশে এসে আমি আমার পরিবার এবং রায়হানের পরিবারের সম্মতিতে সোমবার দুইজন বিয়ে করেছি। আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। এখনাকার সবাই ভালো ও আন্তরিক। রায়হানের পিতা-মাতাসহ পরিবারের অন্য ভাই ও বোনেরাও আমাকে আপন করে নিয়েছে। আমরা যেন সুখী হতে পারি এজন্য সবার কাছে দোয়া চান মালেশিয়ান তরুণী নূর শাহীদা। রায়হান মন্ডলের পিতা সামাদ মন্ডল বলেন, আমার ছেলের স্ত্রী ভালো মনের মানুষ। আমাদের পরিবার ও আগত মানুষজনের সঙ্গে সহজেই মিশে গেছেন। এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন,এটা আমার উপজেলার ঘটনা। লোকমুখে শুনেছি । তবে সরাসরি দেখা হয়নি।
এম এ আলিম রিপন।।
-

খাগড়াছড়িতে বর্বরোচিত ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন
(রিপন ওঝা,খাগড়াছড়ি)
খাগড়াছড়িতে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ।
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (এমপি) বলেন ১৮ জুলাই বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-জামায়াত এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে অভিযোগ করা হয়।উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করে এহেন ঘটার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের মতো ১৮ ও ১৯ জুলাই সরকারের উন্নয়ন ও সফলতা জনগনের সামনে তুলে ধরার লক্ষে খাগড়াছড়ি আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রাতে বিএনপি-জামাত ও চরমোনাই এর সন্ত্রাসী গুন্ডা বাহিনী বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ৫০ জন নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
উল্লেখ্য, পূর্বের নির্ধারিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার ১৮ জুলাই সকাল ১০.৩০টার দিকে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মুখোমুখি সংঘর্ষে পুরো খাগড়াছড়ি শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মাধ্যমে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা। এতে সাংবাদিক, পুলিশসহ বিএনপি-আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।
এছাড়া উত্তেজিত বিএনপির নেতাকর্মীরা খাগড়াছড়ি পৌর সভায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর মোড়াল পৌর ভবনের গ্লাস, অফিস কক্ষ ও বাহিরে পার্কিংএ রাখা বেশকিছু মোটর সাইকেল ভাংচুর করে এবং প্রায় ৮-১০ টি মোটর সাইকেল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
উক্ত সংবাদ সম্মলনের সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, সদর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সঞ্জীব ত্রিপুরা, সা. সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় দাশ, পৌর সম্পাদক পরিমল দেবনাথ সহ জেলা আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আ”লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী।
বিএনপি কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলায় আহত সকল নেতাদের সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে যান সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।
-

তানোর হাসপাতালে কাঙ্খিত সেবা পেয়ে রোগীরা খুশি
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলা সরকারি হাসপাতালে জনবল সঙ্কট থাকলেও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, বেড়েছে চিকিৎসা সেবার মান। ভাল কিছু করার ইচ্ছে শক্তি থাকলেই শত প্রতিকুলতার মাঝেও ভাল কিছু করা যায় তানোর উপজেলা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সেটা প্রমাণ করেছে। জনবল সঙ্কটের পরেও এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মেলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন পর মানুষ কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলা হাসপাতালে ২৯ জন চিকিৎসক পদের মধ্য ৪ জন চিকিৎসকের পদ শূণ্য রয়েছে। সার্জারি, নাক-কান-গলা, চর্ম-যৌন ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ। এছাড়াও জুনিয়র মেকানিক এক জন, অফিস সহকারী দু’জন, ক্যশিয়ার একজন, মাঠকর্মী ১৩ জন, ইন্সেপক্টর দু’জন, জুনিয়র ফ্যাকো দুটি ও কামারগাঁ ইউপি উপ-স্বাস্থকেন্দ্রে চিকিৎসক একটি পদ শূণ্য রয়েছে। এছাড়াও পুরাতন ভবনের সংস্কার জরুরী হয়ে পড়েছে। কিন্ত্ত এতো প্রতিকুলতার পরে চিকিৎসকদের স্বদিচ্ছার কারণে চিকিৎসা সেবা মান বেড়েছে। এখন প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৬ থেকে ৭শ’ রোগী আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
জানা গেছে,স্থানীয় সাংসদের নির্দেশনায় হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার কঠোর নজরদারি হাসপাতালের পুরো চিত্র বদলে দিয়েছে। এখন আর নেই সেই আগের মতো দালালদের দৌরাত্ম ও চিকিৎসা সেবা নিতে আশা সাধারণ মানুষের হয়রানি। দীর্ঘদিন পর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীসহ এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে বিনামূল্যে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা পাবার বিশস্ত প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে উপজেলা হাসপাতাল। রাজশাহী জেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে তানোর পৌর এলাকার আমশো মহল্লায় উপজেলা হাসপাতালের অবস্থান। এছাড়াও উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ কৃষিজীবী জীবনধারণও সাধারণ। ফলে এসব মানুষ চাইলেও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে জেলা শহরে যেতে পারে না। আবার উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে টাকা দিয়েও সাধারণ মানুষ কাঙ্খিত সেবা পায় না। তবে নিঃখরচায় এসব মানুষের উন্নত স্বাস্খ্য সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ও কাঙ্খিত মাণের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে চলেছে উপজেলা হাসপাতাল। উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিস্ট সরকারি হাসপাতাল এখন উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার বিশস্ত প্রতিষ্ঠান। মফস্বল এলাকায়
উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানে তানোর উপজেলা হাসপাতাল অন্যদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে।
জানা গেছে, উপজেলা হাসপাতালের আধুনিক সুবিধা সংবলিত নতুন ভবন, নিজস্ব বিদ্যুৎ, অক্সিজেন ও পরিবহণ ব্যবস্থা, সার্বনিক একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আল্ট্রসনোগ্রাফি, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ও আধূনিক যন্ত্রপাতি সম্মৃদ্ধ অপারেশন থিয়েটার, দালাল ও ধুমপানমুক্ত উন্নত পরিবেশ, নিয়ম-শৃঙ্খলা, রোগী, ওষুধ, পথ্য-মানসম্মত খাবার সরবরাহ ও স্বজনদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবায় আস্থা ও ভরসার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে উপজেলা হাসপাতাল। ফলে এথানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারীদের সংখ্যা। আবার হাতের কাছে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেয়ে এই জনপদের মানুষও হাসপাতাল নিয়ে খুশি। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা, বার্নাবাস হাসদা বলেন, তারা মানব সেবার প্রত্যয় নিয়ে চিকিৎসক হয়েছেন। তিনি বলেন, তারা সব সময় সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেবার চেস্টা করে যাচ্ছেন,
আগামি দিনেও তাদের এই চেস্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, এখন হাসপাতালের রোগীদের উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এবিষয়ে তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান ও হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে। তিনি বলেন,এর জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা সব করবো ইনশাআল্লাহ্।# -

৩০ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্ট, দ্রুত আলোর মুখ দেখতে চান স্থানীয়রা
মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড় ঃ
পঞ্চগড়ের মানুষদের জীবনমানের উন্নয়নে ৩০ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করছে করতোয়া সোলার লিমিটেড (কেএসএল)। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে কেএসএলের চুক্তির তিন বছর অতিবাহিত হলেও আলোর মুখ দেখেনি প্রকল্পটি। তবে দ্রুত আলোর মুখ দেখার দাবি স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার দুপুরে এক মানববন্ধনের মাধ্যমে এ দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনটি তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের করতোয়া সোলার লিমিটেড সংলগ্ন ময়নাগুড়ি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আশপাশের কয়েক গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
তাদের ভাষ্য- বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে করতোয়া সোলার লিমিটেডের এই প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। ঘন ঘন লোডশেডিং থেকে পরিত্রাণ পেতে এটার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা দরকার। প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখলে উন্নতি হবে অবহেলিত এ অঞ্চলের। একইসঙ্গে সৃষ্টি হবে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান।
স্থানীয় কিছু ভূমি দালালদের অভিযুক্ত করে তারা বলেন, আমরা এতদিনে ৩০ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্টের সুফল পেতে শুরু করতাম। কিন্তু কিছু কুচক্রী ব্যক্তির কারণে প্রতিষ্ঠানটি জমি ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছে। তারা চায় না এখানে সোলার প্ল্যান্ট হোক। কুচক্রীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ দ্রুত পরিবেশ বান্ধব এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি তাদের।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন তেঁতুলিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তারুজ্জামান মুকু। তিনি বলেন, আমাদের পঞ্চগড়বাসীকে বিদ্যুতের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। যদি এই সোলার প্ল্যান্ট থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০ মেগাওয়াট যোগ হয় তাহলে আমাদের এই ভোগান্তি দুর হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আশায় আছি, কিন্তু আলোর মুখ দেখছিনা। জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রকৃত ভূমি মালিকদের সঙ্গে বসে করতোয়া সোলার লিমিটেডকে একটি সুরাহার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে করতোয়া সোলার লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সুজা মিয়া বলেন, বর্তমান সরকারের অঙ্গিকার শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চায়ন, আমরা সেই লক্ষেই কাজ করছি। আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, এ বছরই এখান থেকে পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপন্ন শুরু করতে পারবো বলে আশাবাদি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে করতোয়া সোলার লিমিটেড (কেএসএল) এর সাথে ৩০ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন ও পাওয়ার ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এই চুক্তির ফলে কেএসএলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে বিপিডিবি। করতোয়া সোলার লিমিটেড ১৩০ একর জমির উপর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। -

মোংলায় মুক্তিযোদ্ধার মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেঁচে থাকার আকুতি
মোংলা প্রতিনিধি।
“আমি বহুবার আপনার কাছে পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করেছি। আবেদন প্রেক্ষিতে আমি কিছুই পাই নাই। পেয়েছি শুধু লাঞ্চনা ও বাঞ্চনা। আপনি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করেছেন। সম্মানের পরিবর্তে আমরা পেয়েছি কুকুরের মতো আচরণ। বেচে থেকে লাভ নাই। তাই আপনার কাছে চাই এক বোতল বিষ। বিষ খেয়ে সপরিবারে মারা যাবো। মরার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলার মাটিতে দাফন করিবেন না। আমাকে কুকুরের মতো সাগরে ফেলে দিবেন। মাত্র ১৫ দিন সময়। ১৫ দিনের মধ্যে বিষ না পাঠালে গলায় দাঁড়ি দিয়ে মরবো। কারণ পৃথিবীতে আমার বলতে কিছুই নাই। তাই বাংলার মাটিতে ভিক্ষা করে খেতে হবে। তাই আমি শেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছি” প্রধানমন্ত্রীকে আকর্ষন করে শেষ চিকিৎসা শিরোনামে ফ্যাস্টুন শরীরে জড়িয়ে মানববন্ধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইলাম মুন্সি। মাতৃভূমির জন্য প্রাণপণ লড়াই করে দেশকে স্বাধীন করলেও নিজের নেই মাথা গোঁজার মতো জায়গা। মাস শেষে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা হিসেবে যা পান, তাই দিয়ে চলে স্ত্রী ও সাত সন্তানের সংসার। তাদের নিয়ে থাকেন বাগেরহাটের মোংলার পশুর নদীর পাড়ে গোলপাতার ছাউনিতে। তাতেও আপত্তি! নদীপাড়ের ওই জায়গা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের। যদিও লিজ নিয়ে নিয়মিত খাজনা দিলেও উচ্ছেদে তাকে ছাড়তে হয়েছে সেই জায়গাও। এখন তিনি পরিবার নিয়ে থাকছেন খোলা আকাশের নিচে, অনেকটা মানবেতর জীবন। ৭৫ বছরের অসহায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মো. নুরুল ইসলাম মুন্সী। অনেকটা অপমান ও হেনস্থা করে জোরপূর্বক ওই ভূমি ছাড়তে নুরুল ইসলামকে বাধ্য করা হয়েছে। ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েদের গাছের সঙ্গে বেঁধে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে মানববন্ধনে দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় মোংলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম মুন্সী বলেন, ’১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। দেশ স্বাধীন হলেও আমার নিজস্ব কোনো জমি নেই। তাই ২০০০ সাল থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গা লিজ নিয়ে খাজনা দিয়ে স্ত্রী ও সাত ছেলেমেয়ে নিয়ে সেখানে ঘর তুলে বসবাস করে আসছি। ২০১১ সালে জায়গা বরাদ্দ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলে বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান তাদের জায়গায় বসবাসের অনুমতি দেন। সেই থেকে ওই জায়গা লিজ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত খাজনা দিয়ে পরিবার নিয়ে আমি সেখানেই বসবাস করে আসছিলাম। কিন্তু গত ৪ জুলাই ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তাকর্মীরা আমার ছেলেমেয়েদের গাছের সঙ্গে বেঁধে আমার বসতভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে দেন। এ সময় আমার স্ত্রী রহিমা বেগম তার হাত-পা ধরে আকুতি করলে তাকে গালিগালাজ ও নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে মারধর করে এবং আমার ছেলে রেজাউল ও মেয়ের জামাতা তৌহিদকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে উচ্ছেদের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা ও এলাকাবাসী।
এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম মুন্সী স্ত্রী, নাতীসহ স্থানিয় মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।