একুশের চেতনায় প্রজন্ম গঠন: চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

বিশেষ সংবাদদাতাঃ

চট্টগ্রাম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. ॥ মহান শহীদ দিবস ও ৭৫তম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা আয়োজনে দিনটি পালন করেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানাধীন চাঁন্দার পাড়া মোড় মেইন রোডস্থ আনন্দ বাজার সংলগ্ন চট্টগ্রাম মডেল স্কুল। অমর একুশের চেতনা নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে ধারণ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় সুন্দর হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পাকিস্তানি শাসকের বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহীদদের প্রতি নীরবতা পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একুশের তাৎপর্য উপলব্ধি করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম নজরুল ইসলাম খান বিশেষ কারণে অনুপস্থিত থাকায় সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ইয়াছমিন ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব (বিজেসি)-এর চেয়ারম্যান ও দৈনিক অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. খলিলুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আজকের মানব সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোসলেহ উদ্দিন বাহার, ক্রাইম পেট্রোল বিডির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মো. আসাদুল ইসলাম এবং দৈনিক অপরাধ অনুসন্ধানের প্রতিনিধি মো. নুর নবী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইলিয়াস, মেহেদী হাসান, সুপন দেবনাথ এবং শিক্ষিকা মোছা. ইয়াছমিন ইসলাম, রুমানা পারভীন, কণিকা দাশ, লাকি দাশ, মোমিনা ও সানজিদা সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা বৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক অভিভাবকও অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি শুধু শোকের দিন নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি তার ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে এবং মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সুন্দর হাতের লেখা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সৃজনশীল উপস্থাপনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। বক্তারা বিদ্যালয়ের এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শেষে সভানেত্রী মোছা. ইয়াছমিন ইসলাম সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *