নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জ বাজারে ভেকু দিয়ে ফসলী জমির মাটি উত্তোলন, ‘বি-ক্রির মহোৎসব’

এম এস সাগর,
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের রায়গঞ্জ বাজার থেকে ১০০মিটার পূর্বে রায়গঞ্জ বালিকা স্কুল সংলগ দীর্ঘ দেড় মাস থেকে জাকির হোসেন তার দুই ফসলী জমি থেকে অবাধে এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে গর্ত করে মাটি কেটে বিক্রি করছেন ফারক ব্যাপারীর ইটভাটায়। এতে উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলী জমি। নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে রায়গঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার ভুপাল চন্দ্র কয়েকবার ভেকু বন্ধ করে দেওয়ার পরেও মাটি খেকো চক্র প্রভাবশালী জাকির হোসেন ক্ষমতার দাপটে উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে অবাধে এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে জমির মাটি কেটে বিক্রি করছেন।

জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের প্রান্তিক চাষিরা বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলা করে জমিতে দুইবার ফসল ফলিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটান। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রায়গঞ্জ ইউনিয়নের মাটি উর্বর, এঁটেল দোআঁশ প্রকৃতির। এ মাটিতে পানি নিষ্কাশন কম হয় বলে অল্প সেচেই ভালো ফসল ফলে। ধান, পাট, আখ, ভুট্টা ও শাকসবজি এই অঞ্চলের প্রধান ফসল ফলান কৃষকরা।

রায়গঞ্জ বালিকা স্কুল সংলগ দীর্ঘ দেড় মাস থেকে জাকির হোসেন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে দুই ফসলী জমি থেকে অবাধে এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে গর্ত করে মাটি কেটে বিক্রি করছেন ফারক ব্যাপারীর ইটভাটায়। মাটি খেকো জাকির হোসেন অবৈধভাবে ফসলি জমি কেটে পুকুর বাস্তবায়ন করার নামে ৯হাজার টাকায় ১হাজার মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে৷ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

মাটি খেকো জাকির হোসেন জানান, আমার জমির মাটি আমি ভেকু দিয়ে খুঁড়ে বিক্রি করছি। এতে উপজেলা প্রশাসনে এতো মাথাব্যথা কেন। নাগেশ্বরী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভেকু দিয়ে মাটি করার বিষয়ে লিখিতভাবে আবেদন করেছি। তারা কিছুই বলছেন না। নিউজ করেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না।

নাগেশ্বরী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিশাদ এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে শাস্তি প্রদান করা হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন জাহান লুনা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে ফসলি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *