রাজশাহী-১ আসনে লড়াই হবে দ্বি-মুখী: থাকছে তিনস্তরের নি-রাপত্তা

রাজশাহী মোঃ হায়দার আলীঃ রাত পোহালেই সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে, ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। এবার ৫২ রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনটিতে নির্বাচনে তরুণ ও বিভিন্ন বয়সের ভোটাররা অধীর আগ্রহ নিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন স্তরে নিরাপত্তা বলয় থাকবে। তারা উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এবারে এ আসনটিতে নির্বাচনে লড়ছেন ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন-

বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরীফ উদ্দিন। তার প্রতিক ধানের শীষ। বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার কেল্লাবারুইপাড়া গ্রামে। পিতার নাম ফহীম উদ্দন বিশ্বাস। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী গ্রামে। পিতার নাম সেরাজুল ইসলাম। এবি পার্টির আব্দুর রহমান। তার প্রতিক ঈগল পাখী। বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুর রোডপাড়া শ্যামপুর গ্রামে। গণঅধিকার পরিষদের মির মো. শাহজাহান। তিনি ট্রাক প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তার বাড়ি রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া পদ্মা আবাসিক এলাকায়। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন মো. আল-সাআদ। এসব প্রার্থীর সবাই গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। এবারে তানোর থেকে কোন এমপি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেই। নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আসনটিতে লড়াই হবে দ্বিমুখী। প্রচারণাকালে মাঠ চষে বেড়ানোর চমকে এবং ভোটারদের আলোচনায় ও জনসমর্থনে বেশ এগিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দিনের প্রচারণাও কম নয়। এদিক থেকে মূলত আসনটিতে জামায়াত ও বিএনপি হাড্ডহাড্ডি লড়াই হবে। তবে, অন্য প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে দেখা গেলেও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আল-সাআদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি বলে স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কেউ নেই। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৯টি। এরমধ্যে তানোরে ৬১টি এবং গোদাগাড়ীতে ৯৮টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯১০ জন। আর তানোর উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ জন। গোদাগাড়ীতে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩২ জন। আর নারী ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৫ জন। তানোরে পুরুষ ভোটার ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন। আর নারী ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ৩২৪ জন। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮১টি। এরমধ্যে গোদাগাড়ীতে ৫০টি। তানোর ৩১টি। এ নিয়ে সহকারি পুলিশ সুপার গোদাগাড়ী সার্কেল মির্জা আব্দুস সালাম বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পুলিশ ও আনসারের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এব্যাপারে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তার বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে করতে কেন্দ্র ভিত্তিক সমস্যা চিহিৃত করে প্রয়োনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *