গভীর রাতে শী-তার্তদের পাশে পুঠিয়ার এসিল্যান্ড শিবু দাশ 

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শীতার্ত ও অসহায় পরিবারের হাতে কম্বল ও শীতবস্ত্র পৌঁছে দিয়েছেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় অন্তত ২০ থেকে ৩০টি পরিবারের বাড়িতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে তিনি শীতবস্ত্র বিতরণ করেন শীতবস্ত্র পেয়ে বাক্কার নামের এক ব্যক্তি বলেন, রাতে ঘরের মানুষ শীতে কাঁপে, ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। এখনো প্রচুর শীত পড়ে। আগে তো কম্বল চেয়েও পাওয়া যেত না। কিন্তু আজ দেখি স্যার নিজেই আমার বাসায় কম্বল নিয়ে এসেছেন। আজ মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কথা ভাবছে। স্যার আসার পর মনটা খুশিতে ভরে গেল।

রোজিনা নামের আরেক গৃহিণী বলেন, আমাদের ঘরে একটাই কম্বল ছিল, ওটাও পুরনো। নতুন কিনব সেই টাকাও থাকে না। আজ এসিল্যান্ড স্যার নিজে এসে কম্বল দিয়ে গেলেন। আমরা তো এমন মানুষই সবসময় চেয়েছি।নিতাই নামের আরেকজন বলেন, সরকারি জিনিস তো পাওয়া যায় না, লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পাই না। কিন্তু স্যার যেভাবে এলাকার মানুষের কথা ভাবছেন সেটা দেখে ভালো লাগছে। উনি এই রাতে না আসলেও পারতেন। কিন্তু এত কাজ ফেলে আমাদের জন্য এসেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে।এ বিষয়ে এসিল্যান্ড শিবু দাশ বলেন, নির্বাচন নিয়ে খুব চাপ যাচ্ছে। দিনভর নির্বাচনী কাজ সামলাতে হয়। অফিস, লোকাল মার্কেট, মাঠে ঘুরতে হয় সবটাই চাপের মধ্যে। কিন্তু রাতে যখন দেখি কেউ শীতে কাঁপতে কাঁপতে ঘুমানোর চেষ্টা করছে, তখন মনে হয় আমার দায়িত্ব শুধু অফিসের চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন মানুষের কষ্ট দেখলে নিজের ক্লান্তি, নিজের ব্যস্ততা সব ভুলে যাই। আজ অন্তত এই কয়েকটি পরিবার যেন উষ্ণতায় ঘুমাতে পারে এটাই আমার সন্তুষ্টি।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের কর্তব্য। মানুষ যখন কষ্টে থাকে, আমরা যদি সামান্য সাহায্যও দিতে পারি, সেটাও বড় সাহায্য। রাতের এই সময়ে কাজ করা কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু মানুষের জন্য সামান্য সময় বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এ বিষয়ে জানতে চাইলে  বলেন, আজ যখন তাদের চোখে উষ্ণতা আর মুখে হাসি দেখলাম, তখন মনে হলো আমরা সত্যিই তাদের পাশে আছি। আমাদের কাজ শুধু নথি, রিপোর্ট বা কাগজপত্র নয়, মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকা। আমি যতদিন এই এলাকায় আছি, ততদিন এই এলাকার মানুষ নিয়েই আমাকে ভাবতে হবে। 

মাজেদুর রহমান  (মাজদার) 

পুঠিয়া রাজশাহী।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *