হেলাল শেখ: সারা বিশ্বে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে। পাশাপাশি বিদেশে তৈরি রেডিমেড স্বর্ণালংকার আমদানির ফলে দেশীয় স্বর্ণশিল্পী শ্রমিকদের কাজ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। কাজ না থাকায় হাজার হাজার দক্ষ স্বর্ণশিল্পী শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্বর্ণশিল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশীয় কারিগরদের তৈরি অলংকারের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা ও কর্মশালা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় যুক্ত শ্রমিকরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, স্বর্ণের প্রচলিত পরিমাপ অনুযায়ী ৬ রতিতে ১ আনা এবং ৯৬ রতিতে ১৬ আনা অর্থাৎ ১ ভরি স্বর্ণ। জুয়েলার্স মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা দরে। এছাড়া-২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা,
এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৩ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “এইভাবে সোনার দাম বাড়তে থাকলে গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য স্বর্ণালংকার কেনা ও ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। স্বর্ণালংকার আজ শুধু বিলাসিতা নয়, এটি ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয়। সঠিক সময়ে স্বর্ণ ব্যবহার বা ক্রয় করলে ভবিষ্যতে তা অধিক মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে স্বর্ণালংকার ব্যবহারের আহ্বান জানাই।”

Leave a Reply