পরিবর্তনের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহবানে এনসিপি নেতা মাহবুবের লি-ফলেট বিতরণ

আরিফ রববানী ময়মনসিংহ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম নেতা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ময়মনসিংহ-৭ আসনে মনোনীত অ্যাম্বেসেডর ও এন পি এস গনমাধ্যম মানবাধিকার সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবি এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম। এ সময় তিনি ভোটারদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নাগরিক অধিকার, ভোটের গোপনীয়তা ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়-ময়মনসিংহের সদর ও ত্রিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম এর পক্ষ থেকে ভোটারদের মধ্যে একটি তথ্যভিত্তিক লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে ভোটারের অধিকার, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা, অনিয়ম দেখা দিলে অভিযোগ করার নিয়মসহ নানা নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়।

লিফলেটে বলা হয়, প্রত্যেক ভোটারের ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং কোনো ভয়-ভীতি বা বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় ভোটার কাউকে বাধ্য নন তিনি কাকে ভোট দিয়েছেন তা জানাতে। ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গণভোটের প্রশ্ন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর চার দফা প্রসঙ্গে লিফলেটে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক কয়েকটি প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি (হ্যাঁ/না) প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কাঠামো, ভবিষ্যতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ কাঠামো, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মতো প্রস্তাবগুলোর কথাও রয়েছে।

লিফলেটে আরও বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে হয়রানি বা অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিসাইডিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা স্থানীয় নির্বাচন অফিসে অভিযোগ জানাতে হবে। এতে আরও নলা হয়েছে-এক ব্যালটে হবে প্রার্থীর ভোট-গোলাপী ব্যালটে দিবো হ্যা ভোট।

এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম এর প্রচারণায় ভোটারদের উদ্দেশে ভুয়া তথ্য ও গুজব নিয়ে সতর্ক থাকার বার্তাও দেয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে উৎস যাচাই করা জরুরি। নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন ভোটার জানান, লিফলেটের মাধ্যমে ভোটাধিকার, নাগরিক দায়িত্ব এবং গণভোটের বিষয়টি সম্পর্কে সহজ ভাষায় ধারণা পাওয়া গেছে।

প্রচারকারীরা বলছেন, গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়; নির্বাচনের বাইরে কমিউনিটি উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ পর্যবেক্ষণ করাও নাগরিক দায়িত্বের অংশ।

এ বিষয়ে এনসিপি নেতা এডভোকেট এটিএম মাহবুব উল আলম বলেন, ভোটারদের সচেতন করাই আমাদের লক্ষ্য। সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয় এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কার উদ্যোগে সমর্থন জানায়-এটাই আমরা প্রত্যাশা করছি ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *