আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার কৃষকরা ফুলকপি বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে রঙিন ফুলকপির বাম্পার ফলন তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এর সাফল্য হিসাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জুবায়রা বেগম সাথীর অক্লান্ত শ্রম আর মেধার প্রশংসা করছেন তারা। কৃষি কর্মকর্তার নিয়মিত খোঁজ খবর ও পরামর্শই তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এমনটাও জানান কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং সুষম সার ব্যবহার ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুবায়রা বেগম সাথীর মেধাবী পরামর্শ নিয়ে চাষাবাদ করার ফলে ফুলকপির ভালো ফলন হয়েছে, বিশেষ করে রঙিন জাতের ভালো ফলন হয়েছে।
কম উৎপাদন খরচ এবং বেশি লাভের কারণে ফুলকপি চাষ এই এলাকায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উৎপাদিত হলুদ ফুলকপি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকরা জানান, তারা ভালো বাজার মূল্য পাচ্ছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও উপজেলার দাপুনিয়া এলাকার আদর্শ কৃষক মাহমুদুল হাসান ৩৩ শতক জমিতে রঙ্গিন ফুলকপি চাষ করে প্রায় লাখ টাকা লাভ করেছেন। এছাড়াও তিনি শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষেও নিয়োজিত রয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ মৌসুমে সদর উপজেলা প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে ভালো ফলন অর্জিত হয়েছে।
উপজেলার কৃষকরা বলেছেন, এ বছর প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও শীতকালীন সবজি, বিশেষ করে
রঙিন ফুলকপি থেকে লাভ তাদের আরও বেশি করে এ ধরনের চাষে উৎসাহিত করেছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জুবায়রা বেগম সাথী বলেন, এ মৌসুমে সদরে ৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি আর কালার কপি চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবার ফুলকপির উৎপাদন অনেক বেশি, আর রঙিন ফুলকপির ভালো ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
কৃষক মাহমুদুল হাসান বলেন, রঙিন ফুলকপি, বিশেষ করে হলুদ বা কমলা জাত বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন ও লাভজনক ফসল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এ জাত, যা প্রায়ই ‘ক্যারোটিনা ইয়েলো’ নামে পরিচিত, এটি প্রচলিত সাদা ফুলকপির তুলনায় বেশি বিটা-ক্যারোটিন ধারণ করে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি। ফলে কৃষকরা স্বল্প সময়ে ভালো লাভবান হচ্ছেন।
এছাড়া উপজেলার কুষ্টিয়া,অষ্টাধর,বোরর চর,পরাণগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরাও রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন। ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় বেগুনি, হলুদ এবং ব্রোকলি জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে।
বোরর চর ইউনিয়নের কৃষক মো: হযরত আলী বলেন, আমি পরীক্ষামূলকভাবে এবছর রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। যেখানে সাদা ফুলকপির দাম প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, সেখানে রঙিন ফুলকপি আমরা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে পারি। তিনি বলেন, আমি এই লাভে খুবই খুশি। আগামী মৌসুমে রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য জমির পরিমাণ আরও বাড়াব। তিনি আরও বলেন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিধ জোবায়রা বেগম সাথী স্যারের সার্বিক সহযোগীতায় আমি সরকার থেকে বিনামূল্যে ফুলকপির বীজ, রাসায়নিক সার, জৈব সার, জৈব আগাছানাশক ও কীটনাশক পেয়েছি। স্যারের পরামর্শে ফুলকপি চাষ করে আমি বাম্পার ফলন পেয়ে খুশী।
ময়মনসিংহ কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, আমরা দেখতে চেয়েছি মাটি ও আবহাওয়া রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য কতটা উপযোগী, যাতে ভবিষ্যতে জমি রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য উপযুক্ত করা যায়।
তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের ফুলকপির বীজ, রাসায়নিক সার, জৈব সার, জৈব আগাছানাশক, কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি। ভালো ফুলকপির বীজ ও সার পাওয়ার পর কৃষকরা সফল হয়েছেন। কৃষকরা ভালো লাভ পেয়েছেন। ফলে স্থানীয় সবজি চাষিরা রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। রঙিন ফুলকপি চাষের সাফল্যে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরও খুবই সন্তুষ্ট। তিনি আরও বলেন, আগামী মৌসুমে যদি কোনো কৃষক রঙিন ফুলকপি চাষ করতে চান, কৃষি অধিদপ্তর সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা করবে। এছাড়া আমরা সবসময় কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকি যাতে রঙিন ফুলকপি চাষ আরও লাভজনক হয়।

Leave a Reply