সিরাজগঞ্জ-৩, জামায়াতের তৃণমূলে ভা/টা বিএনপির উচ্ছ্বাস

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শায়খ আব্দুস সামাদ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় এ আসনে বিএনপি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ভোটার নিয়ে গঠিত এই আসনে শুরুতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি আয়নুল হক এবং জামায়াতের প্রার্থী ড.শায়খ আব্দুস সামাদ মাঠে সক্রিয় থাকায় নির্বাচনী উত্তাপ বিরাজ করছিল।গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সাংগঠনিক তৎপরতায় দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা চালাচ্ছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের শরিক (মামুনুল হক–খেলাফত মজলিশ) এর প্রার্থী মুফতি আব্দুর রউফ (রিকশা মার্কা) কে সমর্থন জানিয়ে জামায়াতের প্রার্থী ড. শায়খ আব্দুস সামাদ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন।এতে করে এ আসনের রাজনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক থাকলেও নিজেদের প্রার্থী না থাকায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্দীপনা কমে গেছে। অনেকেই খেলাফত মজলিশের নতুন ও অপরিচিত প্রার্থীকে গ্রহণ করতে পারছেন না।প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনায় কিছু নেতাকর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াও জানান।
অন্যদিকে,জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় বিএনপির জন্য ভোটের মাঠ অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি আয়নুল হক রাজপথের পরিচিত নেতা ও কারাবরণকারী হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত।তার মনোনয়নে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়েছে।দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবী করছেন, রায়গঞ্জ,তাড়াশ–সলঙ্গা এলাকা ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। অতীতে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আসনটি দখল করা হয়েছিল বলেও তারা মন্তব্য করেন।এবার বিপুল ভোটে বিজয়ের লক্ষ্যে গ্রাম-পাড়া,মহল্লা, বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গণসংযোগ জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত জোটের বাইরে আরও ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।তারা হলেন,জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক (লাঙ্গল মার্কা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন রবিন (ঘোড়া মার্কা)।তবে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় ভিপি আয়নুল হকের বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কেন্দ্রে কতটা উপস্থিত হন এবং জোটের ভোট কোন দিকে গড়ায় তার উপরে নির্ভর করছে এ আসনের চূড়ান্ত ফল।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *