আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, হুমকি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল ১১টায় ভালুকা পৌর এলাকার ‘হরিণ’ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব
মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে মোর্শেদ আলম জানান, তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২২ জানুয়ারি থেকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর কর্মী-সমর্থকরা তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের নয়নপুর এলাকায় তাঁর নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
এ ছাড়া ৪নং ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করা হয়। আহতদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উথুরা ইউনিয়নের হাতিবের ভাঙার ভিটা এলাকা এবং রাজৈ ইউনিয়নের মাঠের ঘাট এলাকাতেও তাঁর কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আহত কর্মীকে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয় এবং পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।
আলহাজ্ব মোর্শেদ আলম আরো বলেন,শুক্রবার সন্ধ্যায় ধীতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের প্রতীকের সমর্থকের ২০/২৫ জনের একটি দল রামদা, কুড়াল, লাঠি, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরিণ প্রতীকের অফিস ভাংচুর করে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকি দেন। তাদের হামলা ও মারধরে আমার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে- ভালুকা উপজেলা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নাইমুল হাসান নাঈমকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম এর পক্ষে কথা বলার কারণে মারধর করেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় কর্মী সাজল এর ছেলেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তার উপর মব সৃস্টি করে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি জানান সাজল তার ছেকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও পিঠিয়ে আহত করা হয়। এছাড়াও মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়াডের নয়নপুরে মহিলা কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমের প্রচারণায় গেলে বাচ্চু সমর্থকরা মহিলাদের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে, ১১ নং রাজৈ,ইউনিয়ন রাজৈ নদীর পাড়ের,নাজমুল হককে মারাত্মক ভাবে,যখম,করে ফখরউদ্দিন বাচ্চুর লোকজন।
সুত্র জানিয়েছে স্বতন্ত্রের পক্ষে কাজ করার অপরাধে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে ধীতপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নাইম। সংবাদ সম্মেলনে এসব হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্ত মোলক শাস্তির দাবী করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত মাইক ও অটোরিকশা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। মোর্শেদ আলম বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী উন্মুক্ত থাকলে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হবে না।’তিনি সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে- হামলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তেরী করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
নেতাকর্মীরা জানান- বিগত ১৭ বছর দলীয় নেতাকর্মীদের উপর জুলুম-অত্যাচারের প্রতিবাদে ভালুকা উপজেলা বিএনপি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম এর নেতৃত্ব প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিলো,আজ যখন সুদিন এসেছে তখন সুবিধাবাধীদের দলে স্থান করে দিয়ে ত্যাগীদের উপর জুলুম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তারা জানান- যত নির্যাতন-হামলা-মামলাই হউক ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা আলহাজ্ব মোর্শেদ আলম এর বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফিরতে ঐক্যবদ্ধ আছেন এবং থাকবেন।

Leave a Reply