কেএম সোহেব জুয়েল ঃ
ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক সোলায়মান তুহিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উত্তর পালরদী এলাকার মো. মিজানুর রহমান (নিজাম)-এর শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত খেতে যান সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন ও কসবা এলাকার মো. বাবু মৃধা। দাওয়াত শেষে মোটরসাইকেলে করে ফেরার পথে পৌর এলাকার লাখেরাজকসবা (কাসারু বাড়ি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে ইমরান মোল্লা (৩৫), পিতা—মৃত আব্দুর রাজ্জাক; কামাল সরদার (৩৫), পিতা—মো. অলিল সরদার এবং রাশেদ (৩৬)-এর নেতৃত্বে অজ্ঞাত আরও ২–৩ জন তাদের গতিরোধ করে। এ সময় হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ওই রাতেই মো. মিজানুর রহমান (নিজাম) বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ইমরান মোল্লা, কামাল সরদার ও রাশেদের নেতৃত্বে অজ্ঞাত ১০–১৫ জন সন্ত্রাসী মদিনা স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত সাংবাদিক সোলায়মান তুহিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা দোকানের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ ২৫৭৬৫ টাকা লুট করে নেয়। এতে প্রায় আরও ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার পরপরই থানা পুলিশকে মুঠোফোনে জানানো হলে এসআই মিটুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
হামলার বিষয় মো. ইমরান মোল্লার একাধিক বার ফোন দিলে তিনি রিছিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন,
“ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ায় সাংবাদিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির বলেন,
“ছিনতাই একটি গুরুতর অপরাধ। সেই অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ায় একজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ছিনতাই ও হামলার সঙ্গে জড়িত সকল দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল।
ছিন-তাইয়ের অভিযোগ করায় সাংবাদিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স-ন্ত্রাসী হা-মলা ও লু-টপাট

Leave a Reply