হেলাল শেখ: ঢাকার আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামগড়া গফুর মন্ডল রোড (উত্তর পাড়ায়) শতাধিক মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ভাঙচুরসহ লুটপাটের ঘটনা ঘটিছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬ইং) সকালে ঢাকার প্রধান শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ময়লার গাড়ির মালিক বাচ্চু মিয়া ও আলমগীর হোসেনের মধ্যে ২২ হাজার টাকা লেনদেন ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্ব শত্রুতায় প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ভাড়াটে গুন্ডা বাহিনী শতাধিক কিশোর গ্যাং ও মুখোশধারী সন্ত্রাসী দিয়ে পরিকল্পিতভাবে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পর বিএনপি নেতা হাজী খন্দকার তোফাজ্জল হোসেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও তদন্ত শুরু করেন। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) শাহজালাল বলেন,“হামলার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
হামলার শিকার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ দেলোয়ার হোসেন (দুলাল ভান্ডারী) জানান,“আমার কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। আমি খন্দকার সুপার মার্কেটে ব্যবসা করি। বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন ও ফারুক গংদের সঙ্গে আলমগীর হোসেন গংদের কী নিয়ে বিরোধ, তাও আমি জানি না। অথচ তাদের লোকজন শতাধিক মুখোশধারী সন্ত্রাসী আমার দোকানে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর লুটপাট করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই এবং প্রয়োজনে মামলা করবো।”
অন্যদিকে আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন,
“আমার ওপরও হামলা করেছে, মাথায় আঘাত পেয়েছি। চিকিৎসা শেষে আমি ৭ জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”
ময়লা ব্যবসায়ী মোঃ বাচ্চু মিয়া বলেন,“এলাকায় চাঁদাবাজদের চাপে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ারা অতিষ্ঠ। আগে ময়লার বিল রুমপ্রতি ২০-৩০ টাকা নেওয়া হতো, এখন ১০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিটি ময়লার গাড়ি থেকে ১০ হাজার, ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়, চাঁদা দিয়েই ময়লা অপসারণ করতে হয়। বর্তমানে ২২ হাজার টাকা নিয়ে আলমগীর হোসেন ও তার লোকজনের সঙ্গে বিরোধ চলছে। আমি ৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করেছি এবং ন্যায়বিচার চাই।”
বিএনপি নেতা হাজী খন্দকার তোফাজ্জল হোসেন বলেন,
“আওয়ামী লীগের সময় আলমগীর হোসেন তার লোকজন ময়লা ও গ্যাস ব্যবসা দখলে রেখেছিলো। এখন আওয়ামী লীগ নেই, তবুও তারা দখলদারিত্ব বজায় রাখতে মানুষের ওপর নির্যাতন করছে, দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। আমি এর সঠিক বিচার দাবি করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজরা আগে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় অপরাধ করতো, বর্তমানে বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতার আশ্রয়ে কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসী ও মুখোশধারী বাহিনী লালনপালন করে। এলাকায় কোনো তুচ্ছ ঘটনায় যেকোনো পক্ষ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের উপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এটা নতুন কিছু নয়। এর কারণে আশুলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এতে এলাকাবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উক্ত ব্যাপারে আশুলিয়া থানা পুলিশসহ সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ ও র্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার, এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।

Leave a Reply