গৌরনদীতে সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীর অ-ভিযোগ

কে এম সোহেব জুয়েল ঃ
বৃহস্পতিবার সকালে বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার টরকী বন্দরের অসহায় ব্যবসায়ী রিপন মিত্র অভিযোগ করেছেন, তার দাদা মনোরঞ্জন মিত্র যখন জমির মালিক, তখন তার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্রের কাছ থেকে ওই জমির দলিল গ্রহণ করেছেন চাচা নারায়ন মিত্র। ভুল আর অসঙ্গতিতে ভরা গত ৩৯ বছর পূর্বের এমন একটি দলিল দেখিয়ে গত ৮ মাস ধরে তাদের দুই ভাইয়ের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারাসহ তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করাচ্ছেন ওই চাচা।
এ ঘটনায় অতিষ্ঠ ওই দুই ভাই তাদের চাচার হয়রানির হাত থেকে মুক্তির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি সহযোগিতা চেয়েছেন।
ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দেয়া লিখিত বক্তব্যে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই অসহায় ব্যবসায়ী বলেন, আমার দাদা মনোরঞ্জন মিত্র উপজেলার টরকী বন্দর সংলগ্ন ৬৩ নং সুন্দরদী মৌজায় একটি বাড়িসহ প্রায় ৭-৮ একর জমি রেখে ১৯৯০ সালে মারা যান। এরপর তার ওয়ারিশ থাকেন তিন পুত্র। এরা হলেন, আমার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্র ও আমার দুই চাচা স্বপন কুমার মিত্র এবং নারায়ণ চন্দ্র মিত্র। দাদা মনোরঞ্জন মিত্র মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া ৭-৮ একর জমি আমার বাপ-চাচাদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়। এক পর্যায়ে বাপ চাচারা মিলে ওই মৌজার ১০৪৫ নং খতিয়ানের ১৯৩৪ নং দাগ ভূক্ত পৈত্রিক বাড়ির ৮১ শতাংশ জমি রেখে বাড়ির বাইরের বাকি সব জমি বিক্রি করে দেন। গত প্রায় ৩০ বছর আগে আমাদের মেঝো চাচা স্বপন কুমার মিত্র বসত বাড়িতে তার পাওনা ২৭ শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়ে ভারতে চলে যান। আর ২০ বছর আগে ছোট চাচা নারায়ণ চন্দ্র মিত্র তার ভাগের ২৭ শতাংশ জমি থেকে ২২ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন। বাকি ৫ শতাংশের উপরে তার বসত ঘর রয়েছে। আমার বাবার ভাগের জমিতে থেকে যায় দাদার আমলের বসত ঘর মন্দির ও শ্মশান।
আমার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্র মারা যায় ১৯৯৮ সালে। এরপর আমরা দুইভাই কিছু জমি বিক্রি করি। ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য বাকি জমি ইসলামী ব্যাংক টরকী বন্দর শাখায় বন্ধক রেখে আমরা ১০ লক্ষ টাকা ঋণ করি। এর কিছুদিন পর আমার মা ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ফলে ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা দুই ভাই রিপন মিত্র ও সুমন মিত্র ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি এনজিও ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে টাকা ঋণ ও ধার করি। এক পর্যায়ে ব্যাংক লোনের সুদ, এনজিও ঋনের সুদ এবং মহাজনদের কাছ থেকে আনা ধারের টাকার সুদ মিলে আমরা ঋণের চাপের জর্জরিত হয়ে পড়ি। ব্যাংক আমাদের বাড়ি নিলামে উঠানোর প্রস্তুতি নেয়। উপায় না পেয়ে তখন আমরা আমাদের বসত বাড়ির কিছু জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে গত ৮মাস আগে একদিন রাতে আমার ছোট চাচা নারায়ন মিত্র আমাকে ডেকে একটি দলিলের ফটোকপি দেয়। যার দলিল নং ৫৯৬/৮৬ তারিখ ১৬/২/১৯৮৬ ওই দলিলে উল্লেখ রয়েছে আমার বাবা ব্রজ ও বিলাস মিত্র চাচা নারায়ণ মিত্রের কাছে ১০ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। ওই দলিলে তফসিল বর্ণিত ভূমির যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেখানে লেখা রয়েছে ১০৪৫ নং খতিয়ানে ১৯৩৪ নং দাগ, তার পরের তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে ১০৪৫ নং খতিয়ানে ১৯৪৩ নং দাগের ১০ শতাংশ জমি আমার বাবা বিক্রি করেছেন। তফসিলে বর্ণিত ওই ভূমি ৭৭ জি (1x-1) ৭৫-৭৬ সালের হুকুম দখল মোতাবেক আমার বাবা ব্রজ বিলাস মিত্রের নামে রেকর্ড রয়েছে। মূলত ওই রেকর্ডটি আমার দাদার নামের রেকর্ডকৃত। দাদা মনোরঞ্জন মিত্র তখনও জীবিত। ১৯৯০ সালে তিনি মারা যান। রিপন মিত্র প্রশ্ন রাখেন, দাদা জীবিত থাকতে ১৯৮৬ সালে কি করে আমার বাবা, দাদার নামে রেকর্ডকৃত জমি বিক্রি করেন। আমার বাবা তো তখন ওই জমির মালিকই নন।
তফসিলের অন্য এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে সাব কবলা দলিল মূলে আমার বাবা বিক্রি করেছেন। অথচ ওই দলিলে পীঠ দলিলের কোন নম্বর উল্লেখ করা নেই। দলিলটিতে লেখক দেখানো হয়েছে দুজনকে একজন হলেন শ্রী জিতেন্দ্র নাথ সরকার লাইসেন্স নং ২১২২ ওপর লেখক হলেন স্বপন সরকার লাইসেন্স নং ২২৭৬। রিপন মিত্র বলেন ওটা আমার বাবার দেয়া দলিল নয়। ছোট চাচা নারায়ণ মিত্র একটি খাড়া দলিল করে আমাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি করছে। ##

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *