পঞ্চগড়ে শিক্ষার্থীশূন্য নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে চা-ঞ্চল্য

মোঃ বাবুল হোসেন . পঞ্চগড়:

নেই কোনো শিক্ষার্থী, নেই নিয়মিত পাঠদান, নেই শিক্ষকদের চাকরি হারানোর কোনো শঙ্কা তবুও মিলছে সরকারি বরাদ্দ। এমনই বিস্ময়কর অভিযোগ ঘিরে পঞ্চগড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের পুকুরীডাঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কোনো শিক্ষার্থী নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়টি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটি সচল দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নেই কোনো শ্রেণিকক্ষ। নেই বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর। পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বলতে শুধু একটি নবনির্মিত গেইট ও একটি জরাজীর্ণ টিনের চালা। নেই বেঞ্চ, নেই ব্ল্যাকবোর্ড, নেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো চিহ্ন।

এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা কার্যক্রম না থাকলেও আসছে সরকারি বরাদ্দ। গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে কোনো শিক্ষার্থী নেই। কাগজে-কলমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও বাস্তবে অচল তবুও কীভাবে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, আমার বাসা এখানেই। বিদ্যালয়টি বহুদিন ধরেই বন্ধ। আমরা কখনো দেখিনি এখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে বা শিক্ষকদের পাঠদান দিতে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
যদিও সরজমিনে দেখা বাস্তবতার সঙ্গে তার বক্তব্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বলেন, তারা আমাদের কাছে ঘর বরাদ্দের আবেদন করেছিল, আমরা তা দেইনি। তবে পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে একটি গেইট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীশূন্য ও নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার সঠিক জানা নেই।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীশূন্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে তা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এলাকাবাসীও বিষয়টি তদন্ত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *