ঝিনাইদহে পুলিশ লাইন্স মাঠে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ও রাজকীয় ক্রীড়া উৎসব

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহে আজ পুলিশ লাইন্স মাঠে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’। পুলিশ লাইন্স মডেল স্কুলের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি যেন শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা আনন্দের এক মহোৎসবে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজ আফজাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেন। সঙ্গে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুনাক ঝিনাইদহের সুযোগ্য সভানেত্রী জনাব মোসফিকা মাহফুজ। অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়ার পর, তারা আকাশজুড়ে রঙিন বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে ২০২৬ সালের এই ক্রীড়া উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পর শুরু হয় মূল আকর্ষণ—ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ক্ষুদে অ্যাথলেটদের ক্ষিপ্রতা আর বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য দেখে মুগ্ধ হন উপস্থিত সকলে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের চোখধাঁধানো কুচকাওয়াজ এবং একের পর এক ইভেন্ট পুরো মাঠকে মাতিয়ে রাখে। প্রধান অতিথি ও সম্মানিত অতিথি মহোদয় দীর্ঘক্ষণ গ্যালারিতে বসে শিক্ষার্থীদের এই নৈপুণ্য উপভোগ করেন এবং তাদের উৎসাহ দেন।এই আনন্দঘন মুহূর্তে আরও উপস্থিত ছিলেন,জনাব শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)।জনাব মোঃ মোসফেকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্)।স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, উৎসুক অভিভাবকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী।ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে অপরিসীম ভূমিকা রাখে। আজকের এই আয়োজন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”পুরো এলাকা আজ ছিল উৎসবের রঙে রঙিন। মাঠের চারপাশের উল্লাস আর শিক্ষার্থীদের রঙিন পোশাকে মনে হচ্ছিল ঝিনাইদহে আজ যেন খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতার শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে এই স্মরণীয় দিনটির সমাপ্তি ঘটে।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের বড় ধামাকা! হারানো ৮৬টি স্মার্টফোন ও হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
বর্তমান সময়ের ডিজিটাল যুগে সাইবার অপরাধীদের যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ‘সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল’। আজ এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৮৬টি হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন এবং বিকাশ-নগদ প্রতারণার মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া ৯০,০০৫/- টাকা প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন ঝিনাইদহের সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাহফুজ আফজাল।ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ শুধু মাঠের অপরাধী নয়, ভার্চুয়াল জগতের অপরাধীদের ধরতেও এখন অপ্রতিরোধ্য। আজকের এই হস্তান্তরের তালিকায় ছিল,৮৬টি দামী স্মার্টফোন যা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।এমএফএস (বিকাশ/নগদ) এর প্রতারণার শিকার হওয়া ৯০,০০৫ টাকা উদ্ধার করে মালিকের পকেটে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ৩২ জন ভিকটিমকে সহায়তাকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়াদের তাৎক্ষণিক আইনি সুরক্ষা। ৪ জন নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে এই টিম।ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজ আফজাল বলেন,”আপনার একটি অসতর্ক ক্লিক কেড়ে নিতে পারে আপনার সব সঞ্চয়। অপরিচিত লিংক বা ওটিপি শেয়ার করবেন না। সাইবার অপরাধের শিকার হলে ভয় পাবেন না, আমরা আপনার পাশেই আছি।” শুধুমাত্র মোবাইল উদ্ধারই নয়, সাইবার সেলের সদস্যরা প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝিনাইদহের বেশ কয়েকটি ক্লু-লেস মার্ডার (রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড) এবং ডাকাতি মামলার জট খুলেছেন। অপহরণ হওয়া ভিকটিমদের উদ্ধার করে আসামীদের শ্রীঘরে পাঠাতে এই সেলটি এখন ঝিনাইদহবাসীর আস্থার শেষ ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে পুলিশ সুপার মহোদয় ৩টি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন:অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করবেন না: কোনো লোভনীয় অফার বা অ্যাপস ডাইনলোড করার আগে সাবধান!পিন ও ওটিপি গোপন রাখুন: আপনার ব্যাংক বা বিকাশ পিন কাউকেও বলবেন না।দ্রুত যোগাযোগ করুন: সাইবার বুলিং বা প্রতারণার শিকার হলে সাথে সাথে নিকটস্থ থানা বা সাইবার সেলে জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জনাব মোঃ মোসফেকুর রহমানসহ সাইবার সেলের চৌকস সদস্যবৃন্দ।

আতিকুর রহমান
ঝিনাইদহ।।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *