আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় পুলিশের ওপর হামলা করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়া ও পুলিশকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গ্রেফতাররা হলেন, সাগর আলী হাজী, তার ছেলে এ কে এম রেজাউল করিম, সুজন মিয়া, তার ভাই নাজিম উদ্দিন, জয়নাল উদ্দিন, খলিলুর রহমান ও নাজিম উদ্দিন। তারা সবাই দিঘারকান্দা এলাকার বাসিন্দা।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় রাতে কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ১৪০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ঘটনার পর একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় কয়েকদিন আগে স্থানীয় রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। রাসেল বর্তমানে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুল। পরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরিফুলকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে আরিফুলকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় আহত পাঁচ ৫ পুলিশ সদস্যকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। জড়িতদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply