গোপালগঞ্জের ৩টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন: বা-তিল -১২, স্থগিত -২

কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চারিদিকে নির্বাচনী ডামাডোল আর ভোটের আমেজের মধ্যদিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলাবাসী। সাধারণ ভোটারদের অনেক দিনের আশা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। সরকারি কর্তৃপক্ষ তো বলছেই স্মরণকালের স্মরনীয় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের আয়োজন করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী। এরই মাঝে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সংসদীয় আসন ২১৫ গোপালগঞ্জ-১, ২১৬ গোপালগঞ্জ-২ ও ২১৭ গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

৩ জানুয়ারি সকালে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে (জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ “স্বচ্ছতা’য়) প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় গোপালগঞ্জ-১ আসনের (মুকসুদপুর-কাশিয়ানীর আংশিক) প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। যাচাই-বাছাইয়ে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মোঃ কাবির মিয়া। ঋণ খেলাপির দায়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু তিনি ঋণ পরিশোধ করেন ৩০ ডিসেম্বর। নিয়ম মোতাবেক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই ঋণ পরিশোধ করার কথা। অন্য ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী সঠিকভাবে সামগ্রিক ভোটারের ১% স্বাক্ষর সঠিকভাবে জমা দিতে পারেননি। তারা হলেন আশরাফুল আলম ওরফে শিমুল, নাজমুল আলম ও কাইয়ুম আলী খান। এ আসনে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে যাদের তারা হলেন বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী মোঃ সেলিমুজ্জামান মোল্লা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ মোল্লা, (জাতীয় পার্টি-এরশাদ) সুলতান জামান খান, (জনতার দল) মোঃ জাকির হোসেন, (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, (এবি পার্টি) প্রিন্স আল আমিন, (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) ইমরান হোসেন আফসারি, (কমিউনিস্ট পার্টি) নিরদ বরণ মজুমদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. আনিসুল ইসলাম (ভুলু মিয়া)।

গোপালগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৩ জন। যাচাই-বাছাইয়ে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে যাদের তারা হলেন কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটল (স্বতন্ত্র), মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (স্বতন্ত্র), রনি মোল্লা (স্বতন্ত্র), উৎপল বিশ্বাস (স্বতন্ত্র), মশিউর রহমান (স্বতন্ত্র) এবং সিপন ভুইয়া (স্বতন্ত্র)। মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে যে ৭ জনের তারা হলেন ডাঃ কে এম বাবর (বিএনপি), এম. এইচ খান মঞ্জু (স্বতন্ত্র), তসলিম সিকদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), শুয়াইব ইব্রাহীম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ), অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান (জাকের পার্টি), শাহ মফিজ (গণ ফোরাম) এবং দ্বীন মোহাম্মদ (গণ অধিকার পরিষদ)।

গোপালগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন ১২ জন। যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে দুটি। স্থগিত করা হয়েছে ২টি।বৈধ হয়েছেন এস এম জিলানী (বিএনপি), এম এম রেজাউল করিম ( বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), মোঃ আরিফুল দাঁড়িয়া (এনসিপি), মোঃ মারুফ শেখ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), শেখ সালাউদ্দিন সালু (এনপিপি), আবুল বাশার (গণঅধিকার পরিষদ), আলী আহমদ (খেলাফত মজলিশ) এবং অ্যাডভোকেট. হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র)। স্থগিত করা হয়েছে আব্দুল আজিজ (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ) ও দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের বাছাই কার্যক্রম (গনফোরাম)। যে দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন এস এম জিলানীর সহধর্মিনী রওশন আরা রত্না (স্বতন্ত্র) এবং গোবিন্দ্র চন্দ্র প্রামানিক (স্বতন্ত্র)।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ -উজ-জামান জানিয়েছেন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করতে পারবেন। বৈধ প্রার্থীদের ইসি ঘোষিত প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার দিনে প্রত্যেক প্রার্থী অথবা তাদের মনোনীত প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বৈধ প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফারিহা তানজিন, জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ অলিউল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সোনালী ব্যাংক গোপালগঞ্জ শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ তলবউল্লাহ সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম তারেক সুলতান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুলী বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শোভন সরকার, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ বাবলী শবনম, সহকারী কমিশনার নেজারত (এনডিসি) অনিরুদ্ধ দেব রায়, সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার অনিমেষ কুমার বসু, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান, সদস্য অ্যাডভোকেট এম আলম সেলিম, সদস্য অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কবির দারা, জেলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী সহ জেলায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২১৭ গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্থগিত দুইজনের মধ্যে একজনের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *