August 31, 2025, 10:01 pm
ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা)।।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের বিখ্যাত পামজাতীয় উদ্ভিদ হলো গোলপাতা। গোলপাতার ফলকে স্থানীয়ভাবে গোলফল বলা হয়। ফলটি দেখতে তালের মতো না হলেও দেখতে অনেকটা তালের ফলের মতো এবং এর শাঁসও তালের শাঁসের মতোই হয়। এই ফলটি পামজাতীয় গোলপাতার, যা সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে জন্মায়। গোলফল খাওয়া যায় এবং এটি তালের শাঁসের চেয়েও পুষ্টিকর বলে বিবেচিত হয়।
গোলপাতা গাছকে ঘিরে সুন্দরবন অঞ্চলের জনবসতির ইতিহাস–ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। এ গাছের পাতা ঘর ছাউনির কাজে ব্যবহৃত হয়।গোলপাতা দিয়ে একসময় উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন ঘরের ছাউনি দিত। এ পাতার ছাউনি নির্মিত ঘরে গরমের সময় ঠাণ্ডা আর শীতের সময় গরম ভাব অনুভূত হয়। গোলপাতার ছাউনি চার-পাঁচ বছর টেকসই হয়। ঘরের ছাউনি ছাড়াও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়।
সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী উদ্ভিদ গোলপাতা। বিশ্বের প্রায় সব ম্যানগ্রোভ বনেই প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় গোলপাতা গাছ। সুন্দরবন ছাড়াও উপকূলীয় জেলা খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, মুন্সীগঞ্জ, বাগেরহাট জেলার, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও চিতলমারী এলাকার নদীনালা ও খালবিলের পাশেও গোলগাছ দেখা যায়। এ গাছের গোড়ায় জন্ম হয় কাঁদি-কাঁদি গোলফল। মানুষ এখন গোলফল কেটে খুলনা, বাগেরহাট,সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন লোকালয়ে বিক্রি করছে। প্রতিটি ফল ১০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। নতুন ফল হওয়ায় মানুষের মধ্যে এর চাহিদা অনেক। গোলপাতার ফলের বাহিরে শক্ত ভিতরে নরম, তালের শাঁসের চেয়েও পুষ্টিকর।
তালসদৃশ লম্বায় তিন থেকে চার ইঞ্চি ফলগুলো দেখতে কিছুটা ছোট আকৃতির নারকেলের মতো। গোলফলের এক কাঁদিতে প্রায় ৫০-১৫০টির মতো ফল থাকে। শক্ত খোসা কেটে অপরিপক্ব নরম আঁটিগুলোকে খাওয়া হয় ফল হিসেবে। সাদা রঙের আঁটিগুলো স্বাদে অনেকটা তালশাঁসের মতোই। ঘ্রাণ কিছুটা অন্যরকম। একসময় শখের বসেই গোলফল খাওয়ার চল ছিল উপকূলবর্তী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এখন বাজারে ফল বিক্রি হচোছ। খেজুরগাছের মতো গোলগাছের রস থেকে গুড় তৈরি করা যায়।
গোলপাতা সুন্দরবনের স্বল্প ও মধ্যম লবণাক্ত অঞ্চলে জন্মে। এর পাতা প্রায় ৩-৯ মিটার লম্বা হয়। এছাড়াও ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের উপকূলীয় এবং মোহনা এলাকার একপ্রকার পাম জাতীয় উদ্ভিদ, যাদেরকে নিপা পাম নামেও ডাকা হয়।
গোলগাছের পাতা, ফল ও মূল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ফলে শরীরের নানান ব্যথা, ডায়বেটিস, চর্মরোগে ওষুধের কাজ করে। এটি খেলে শরীর ঠান্ডা হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, শক্তি জোগানো এবং হজম উন্নত করে।
উপকূলীয় অঞ্চলের নদী-খালের নোনা জলে জন্মানো গোলপাতা গাছ এখন কৃষকদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই গাছ থেকে উৎপাদিত রস, গুড় ও ফল বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষকরা চর এলাকায় গোলগাছের চাষে ঝুঁকছেন।
প্রেরকঃ
ইমদাদুল হক,
পাইকগাছা খুলনা।