ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন পটিয়ার আলোচিত ঝুলন হত্যা : গ্রেফতার দুই আসামী

মহিউদ্দীন চৌধুরী,ষ্টাফ রিপোর্টার।।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় গরু চোরদের হাতে খুন হওয়া আলোচিত ঝুলন বৈদ্য হত্যার দীর্ঘ ৭ মাস। থানার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে মিলেনি আসামীদের কোন খদিস। অবশেষে ৭ মাস পর পটিয়া থানার একদল চৌকশ পুলিশের টিম ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন করে। সন্ধান পাই চোর চক্রের।

বুধবার (৬ মার্চ) পটিয়া থানার পুলিশ ঝুলন হত্যার দুই আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

গ্রেফতাররা হলেন, খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার জুলফু মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ সেলিম (৪৫) ও সন্দ্বীপ উপজেলার হারাখাল গ্রামের মো. বাবুলের পুত্র ওমর ফারুক (২৫)।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সাইফুল ইসলাম, সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স এসআই শিমুল চন্দ্র দাস, এসআই আসাদুর রহমান, এএসআই ফয়েজ আহম্মদ, এএসআই অনুপ কুমার বিশ্বাস ও এএসআই মহি উদ্দিন।

জানা যায়, পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ০৮ নং দক্ষিণ হাবিলাসদ্বীপ ওয়ার্ড বাসিন্দা সহজ সরল যুবক ঝুলন বৈদ্য, পেশায় একজন সিএনজি চালক। প্রতিদিন এর মতো গত ১৩.০৯.২৩ রাতে সিএনজি চালিয়ে এসে খাওয়াদাওয়া সেরে নিজ বাড়ীতে ঘুমানোর জন্য শুয়ে ছিলো শুয়ে শুয়ে মোবাইলে ভিডিও দেখছিলেন নিজের রুমে(ঝুলনের ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ের ভাষ্যমতে)। রাত আনুুমানিক ২ টায় দিকে ঘরের জানালা দিয়ে টর্চে আলো দেখে কৌতূহলী হয়ে দরজা খুলে বাহির হয় কে টর্চ মাড়লো দেখতে। বাহির হয়েই পড়েন বিপত্তিতে। সে মনে করছিলো প্রতিবেশী কেউ গরুর গোয়াল ঘরে গরুর পাহারা দিতে বেরিয়েছে। কিন্তু তার ধারনা ভুল ছিলো,- আসলে এসেছিলো ছয়জনের সংঘবদ্ধ গরু চোরের দল।
এখন ঝুলন বৈদ্য (৪০) বেরিয়ে যাওয়াতে চোরের দলের ঘরের পাশের গোয়াল ঘরের গরু চুরি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারনে সংঘবদ্ধ ছয়জনের চোরের দল ঝুলন বৈদ্যকে এলোপাথাড়ি মারতে মারতে নিয়ে যায় তাদের বাড়ীর থেকে কিছুদূরে স্হানীয় হাবিলাসদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের উত্তর পাশের পূর্ব কোনায়। সেখানে তারা ঝুলন বৈদ্যকে ইচ্ছে মতো মারার পর যখন পাড়াপড়শি বেরিয়ে হৈহোল্লা শব্দ করছে তখন চোরেরা ঝুলন বৈদ্য কে ঐখানে ফেলে চলে যায়। পরে তার প্রতিবেশীও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় সেখানে তার অবস্হার অবনতি দেখায় রাতেই তাকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে পাচঁদিন মূমূর্ষ অবস্হায় আইসিইউ’তে থাকার কয়েক ঘন্টা পর চিকিৎসক ঝুলন বৈদ্যকে মৃত ঘোষণা করেন।

এবিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, ঝুলন বৈদ্য হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় তার পরিবার ভেঙ্গে পড়ে। এই ঘটনা ক্লুলেস হওয়ায় পটিয়া থানার বিশেষ আভিযানিক দল রহস্য উদঘাটন করে দুই আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। আসামীদের বুধবার পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ঝুলন হত্যায় জড়িত থাকার সত্যতা শিকার করেন।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা আন্ত জেলা গরু চোর চক্রের অন্যতম চোর। এই চোর চক্রের সাথে জেলার দুই হাজারেও বেশি চোর জড়িত আছে। তাদের গ্রেফতার করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, পটিয়া থানার ওসি জসিম উদ্দিন থানায় আসার পর থেকে গত দুই মাসে ১৮টি গরু, ১টি ছাগল, ৪টি অটোরিক্সা, আগ্নেয়াস্ত্র, চোলায় মদ ও ২১ জন গরু চোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *