August 31, 2025, 5:54 am
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে নৌকাডুবির আশঙ্কায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শঙ্কিত বলে গুঞ্জন বইছে,জনমনেও দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ আলহাজ্ব রুহুল আমিন মাদানী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক ৩বারের মেয়র, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন আলহাজ্ব রুহুল আমিন মাদানী পেলেও প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। অনেকে এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠের একটা বড় অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান আনিছ এর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, প্রচার-প্রচারণায় মাঠ দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন ট্রাক। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীরা বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রুহুল আমিন মাদানী প্রতিহিংসা মূলক রাজনীতি ও বিগত দিনে কর্মী মুল্যায়ন না করার কারণে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান আনিছ এর পক্ষে ট্রাক প্রতীককে জয়যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেনসহ দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা ট্রাক প্রতীকের পক্ষ নিয়ে মাঠ পর্যায় কাজ করে যাচ্ছেন । আওয়ামী লীগের প্রবিন নেতা-কর্মীরা জানান ত্রিশাল আসনে নৌকাডুবির আশঙ্কার মুল কারণ হলো বিগত দিনে তৃর্ণমুল নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন। একারণে এবার আসনটিতে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা।
এদিকে,ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগের সময় ট্রাক প্রতীকে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোট প্রার্থনা করেন প্রার্থীসহ কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী যুদ্ধে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান। স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান বলেন, ত্রিশাল উপজেলাকে মাদকমুক্ত দেখতে চান উপজেলার সাধাারণ মানুষ। শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থারও পরিবর্তন চান মানুষ। সঠিক নেতৃত্ব না থাকার কারণে সৃষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় লোকজনও উপায় খুঁজে পাচ্ছিলো না। এলাকায় পরিবেশ-পরিস্থিতিও খারাপের দিকে যাচ্ছিলো । এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনগণের উন্নয়নের প্রত্যশা পুরুণে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া ভোটাররাও তাঁর পক্ষে আছেন বলে জানান তিনি। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান তিনবার ত্রিশালের মেয়র নির্বাচিত হয়ে পৌর এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করেছেন। তাছাড়া এমপি না হয়েও কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন দুর্যোগে বিপদে-আপদে কঠিন সময়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনগনের মাঝে বিভিন্ন সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে জনগনের পাশে ছিলেন,আগামী দিনেও অসহায় মানুষের পাশে থাকবেন বলে স্বপ্ন দেখছেন। উপজেলাবাসী তাকে ভুলবেন না,তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবিএম আনিসুজ্জামান এর ডাকে সাড়াও দিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব এবিএম আনিসুজ্জামান ব্যক্তি ইমেজ, আদর্শিক-পরীক্ষিত, ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ, কর্মী-জনবান্ধব রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের মাঝে সমান জনপ্রিয় বলে মনে করছেন উপজেলার বেশিরভাগ ভোটাররা।
এদিকে ত্রিশাল আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক মেয়র এবিএম আনিছুজামান জানান, আমি ত্রিশাল পৌরশহরের সর্বোচ্চ উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত করেছি। পৌরসভার এলাকার যে উন্নয়ন প্রয়োজন ছিল তা গত কয়েকবছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করে করেছি। ত্রিশাল বাজারে ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ীক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
আগামী ৭ জানুয়ারি সকল ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ট্রাক মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য আহবান করে তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে উপজেলার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করব। শিল্পণ্ডকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে যুব সমাজের কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। পাশাপাশি ত্রিশাল উপজেলায় সকল রাস্তাঘাট মেরামত ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা করবো।