August 31, 2025, 7:20 pm
মোঃ কাউছার উদ্দীন শরীফ, ঈদগাঁওঃ
ফুলছড়িতে বন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে চলছে অবাধে বনভূমি দখল নিত্যনতুন পদ্ধতিতে বনের জমি জবর দখল হচ্ছে। কোথাও কোথাও বনভূমি কেটে সমতল করে পাকা দালান থেকে শুরু করে পোলট্রি ফার্ম ও নানা স্থাপনাসহ বনভূমির প্রায় সিংহ ভাগ জায়গায় দখলবাজরা নিয়মিত পাহাড় কেটে পাকা ঘর নির্মাণ ও পাহাড়ি মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করছে।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ এর আওতাধীন নাপিত খালী বিটের এলাকা নাপিত খালীতে বনের জমিতে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণকারী মোঃ ইব্রাহিমকে ২০ হাজার টাকায় অনুমতি দিয়েছে নাপিত খালী বিট অফিসে কর্মরত মোঃ আনিছুর রহমান নামের এক কর্মকর্তা।
বুধবার ৮ ফেব্রুয়ারী বিকালে শাহ ফকির বাজার ব্যবসায়ী মোঃ ইব্রাহিম আনিছুর রহমান নামের কর্মকর্তাকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ী নির্মাণ করেন বলে জানান।
একর্মকর্তা আনিছুর রহমানের সহযোগিতায় ভূমিদস্যুরা নির্বিচারে ধ্বংস করছে বনভূমি। পাহাড় কাটা, পাহাড় দখল ও ভবন নির্মাণসহ খাল থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করে চিহ্নিত ভূমিদস্যুর এসুযোগ কাজে লাগিয়ে আনিছুর রহমান নামের এ কর্মকর্তা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অবগত হলেও অজ্ঞাত কারণে উদাসীনতা প্রদর্শন করে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পূর্ব নাপিত খালী এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে বহতল ভবনটি।
বন বিভাগের নাপিত খালী বিট অফিস সূত্রে জানা যায়,প্রায় তিন মাসে আগে আনিছুর রহমান নামের এ কর্মকর্তা যোগদান করার পর থেকে শুরু হয়েছে বিট এলাকায় চাঁদাবাজির মহোৎসব। তার চাঁদাবাজিতে কেউ বাঁধা প্রধান করিলে তার শক্তিশালী সিন্ডিকেট দিয়ে হুমকি প্রধান করে।
বনবিভাগের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণে চাঁদাবাজির বিষয়টি উঠে আসায় ঘটনা ধামাচাপা দিতে নাপিতখালী বনবিটের অফিসে কর্মরত মোঃ আনিছুর রহমান শুরু করে বাকযুদ্ধ। রহস্যজনক কারণে বনবিট কর্মকর্তাই অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজে উৎসাহ দেন বলে অভিযোগ এই আনিছুর রহমান নামের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এতে জীববৈচিত্রও ধ্বংস হচ্ছে। পরিবেশের এই বিপন্নতা নিয়ে বন বিভাগ একেবারেই উদাসীন। বনজমি দখলদারদের বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্সে থাকার ঘোষনা দিলেও মাঠপর্যায়ে এ ঘোষনা তেমন কার্যকর হচ্ছে না। বনকর্তাদের গুটিকয়েক ভূমিদস্যুদের সাথে আনিছুর রহমানের আতাত করায় বনজমি দখলের হিড়িক আগের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ। চিহ্নিত এই বনভূমি দখলবাজরা ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দিলেও সংশ্লিষ্ট বনকর্তারা তাদের আইন প্রয়োগে রহস্যজনক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
বহুতল ভবন নির্মানের বিষয় জানতে ভবনের মালিক মোঃ ইব্রাহিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আনিছুর রহমান নামের এক কর্মকর্তা আমার দোকানে এসে অফিসের কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে।আর বাড়ী নির্মাণ করতে কোন সমস্যা হবে বলেও জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আনিছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি মোবাইলে কথা বলতে চাইনা আপনি বটতলী আসেন।পরে যোগাযোগ করা জন্য বটুতলী আসলে সে প্রতিবেদক দেখে পালিয়ে যায়।
বিষয়টি জানতে নাপিত খালী বিট কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয় টা তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে জানান।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক প্রান্তোষ চন্দ্র রায় জানান, কাউকেই বন বিভাগের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও আনিছুর রহমান ভূমিদস্যুদের থেকে টাকা নেওয়ার বিষয় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সরকার’র মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে রিচভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার লোকজন জানান, প্রতিটি এলাকায় বন ভূমি দখলকারীরা স্থানীয় বিট অফিসে অসাধু বন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে মোটা অংকের নজরানা দিয়ে বন ভূমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ সহ অবৈধ দখলে নিয়ে থাকেন। তবে এই বিপুল পরিমাণ বেদখলী বনভূমি উদ্ধারে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন বলে বন বিশেষজ্ঞগন মনে করেন।