নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে বাংলাদেশ সাউথ ইষ্ট কমবাইন্ড ওয়ার্কাস ফেডারেশন রেজি নং ০৮ খুলনার আয়োজনে সংগঠন ও উন্নয়ন বিষয়ে এক প্রশিক্ষন কর্মশালার অয়োজন করা হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। শ্রমিক অধিকারের উৎসগুলি কি কি? এবং সেমিনার সম্পর্কে আলোচনা করেন বিএসসিডাবলুএফ এর সভাপতি ওয়ারিশ আহম্মেদ, সকাল ১০ টা থেকে সকাল ১১ পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেন মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ নূর উদ্দীন বাবু, সকাল ১১ টা থেকে সকাল ১২ পর্যন্ত সংগঠন সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা কি কি এবং উত্তরনের কৌশল গুলি তুলে আলোচনা বিস্তর আলোচনা করেন মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের, প্রধান শিক্ষক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, গোদাগাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক, কলামিস্ট মোঃ হায়দার আলী।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২৫ নারী – পুরুষ প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহন করেন।
দুপুর ১২ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রশ্ন উত্তর পূর্বের আয়োজন করা হয়। অংশ গ্রহনকারীদের গ্রুপভিক্তিক আলোচনা হয় সাড়ে ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত। ১ টা ৫ মিনিট থেকে ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত ও উপস্থাপন করেন গ্রুপ লিডার গণ।
প্রশিক্ষনে আলোচনা করা হয় মানুষকে আল্লাহ রাববুল আলামীন সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। তাদের এই শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে আল্লাহ আসমানী কিতাবসহ অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। এ বিধিবিধান আপনা আপনি বাস্তবায়ন হবে না এর জন্য প্রয়োজন হয় আন্দোলনের হয় সংঘবদ্ধ জনসমষ্টির এবং সংগঠিত জনগণকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় সংগঠনের। সংগঠনের গতিশীলতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হ’লে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। একটি সংগঠনকে গতিশীল করতে যে সমস্ত কারণ বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং তা হতে উত্তরণের উপায় কি কি
পরিকল্পনার অভাব: সঠিক ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে কাজের গতি কমে যায়
যোগাযোগের ঘাটতি: দায়িত্বশীলদের সাথে অধঃস্তন কর্মীদের নিয়মিত যোগাযোগের অভাব।
অযোগ্য ও অদক্ষ নেতৃত্ব : প্রকৃত অর্থে আদর্শহীন সংগঠন কোন সংগঠন নয়। আল্লাহ প্রদত্ত অহি-র বিধান ও রাসূল (ছাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতি অনুযায়ী যে সংগঠন পরিচালিত হয়, সেটাকেই আদর্শ সংগঠন বলা যায়। এ ধরনের সংগঠনের অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা হ’ল অযোগ্য নেতৃত্ব। অযোগ্য ও অদক্ষ ড্রাইভার যেমন একটা মোটর গাড়িকে গন্তব্যে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়, তেমনি একজন অযোগ্য ও অদক্ষ নেতা সংগঠনের গতিশীলতায় কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। সেজন্য প্রয়োজন একজন যোগ্য ও দক্ষ নেতার। ]
মূল্যায়নের অভাব: যোগ্য কর্মীদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন না করা । ব্যক্তিগত স্বার্থ ও বিভেদ: সংগঠনের স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা স্বার্থের গুরুত্ব দেওয়া । নেতৃত্বের প্রতি কর্মীদের আনুগত্যহীনতা সংগঠনের গতিশীলতা ও অগ্রগতিতে চরম অন্তরায় সৃষ্টি করে। যে সংগঠনের কর্মীরা নেতার প্রতি যত আনুগত্যশীল সে সংগঠন তত বেশী মজবুত ও গতিশীল।
নেতার উত্তম ব্যবহারের অনুপস্থিতি :কর্মীদের প্রতি নেতার ব্যবহার যদি ভাল না হয়, তাহ’লে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্থ হবে। নেতা ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। নেতার রূঢ় আচরণে কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। সেজন্য নেতাকে উত্তম আদর্শ ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হ’তে হয়। এ বিষয়ের প্রতি নেতার সর্বদা দৃষ্টি রাখা দরকার।
সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকা : সকল পর্যায়ের কর্মী ও দায়িত্বশীলদের সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে সংগঠনের অগ্রগতি আদৌও সম্ভব নয়। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাবে যে কোন সময় যে কোন কর্মী ও দায়িত্বশীল সংগঠন থেকে নিমিষেই ছিটকে পড়তে পারে। তাই বিশেষ করে সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, মূলনীতি ও কর্মসূচী সম্পর্কে প্রত্যেকেরই স্পষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
দায়িত্বশীলদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা : সংগঠনের মধ্যে দায়িত্বশীলদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা হ’লে সংগঠনের অগ্রগতি সম্ভব হয় না। দায়িত্বশীলদের মধ্যে সকলের সমান যোগ্যতা ও মেধা থাকে না। তাদের যোগ্যতা ও মেধানুযায়ী সংগঠনের প্রতি আন্তরিক হয়ে দায়িত্ব পালন করলে তার যথাযোগ্য মূল্যায়ন করা দরকার। তাতে কর্মীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায় এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকে। ফলে সংগঠনের অগ্রগতি সাধিত হয়। সাথে সাথে দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন।
যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব প্রদান না করা :
কর্মীদের যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব প্রদান না করলে সংগঠনের অগ্রগতি সম্ভব নয়। যোগ্য কর্মীকে বাদ দিয়ে অযোগ্য কর্মীকে দায়িত্ব দিলে মানুষ হিসাবে যোগ্য কর্মীর মন ভেঙ্গে যায়। ফলে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়।
ধৈর্য ধারণে অভ্যস্ত না হওয়া : ছবর বা ধৈর্য হ’ল সফলতার চাবিকাঠি। তাই সংগঠনের সকল পর্যায়ের কর্মী ও দায়িত্বশীলদের ধৈর্য ধারণের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। সুখ-শান্তি, দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদে এক কথায় সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের লক্ষণ। ধৈর্যের গুণে গুণান্বিত হতে না পারলে কোন কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সংগঠনের অগ্রগতিতে অর্পিত দায়িত্ব ধৈর্য
অহংকার ও প্রশংসার আকাংখী হওয়া :
অহংকার ধ্বংসের মূল। সকল অসৎগুণের মধ্যে সবচেয়ে বড় অসৎগুণ হচ্ছে অহংকার ও অন্যের প্রশংসার প্রত্যাশী হওয়া। যা শয়তানের কাজ ছাড়া অন্য কিছু নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ أَحَدٌ فِى قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرِيَاءَ ‘যার অন্তরে সরিষাদানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না’।
মানুষের যত প্রকার ত্রুটি আছে তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় ত্রুটি হ’ল নিজেকে বড় মনে করা। আর এটা যখন কারো মধ্যে জাগ্রত হয়, তখন সে নিজকে খুব বড় জ্ঞানী ও গুণসম্পন্ন মনে করে ও অন্যরা তাকে সর্বাপেক্ষা বড় জ্ঞানী ও যোগ্য মনে করুক এটা প্রত্যাশা করে এবং এর থেকে মুক্ত হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়। নেতা ও কমীদের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক না থাকা :
যে সমস্ত কাজ নেতা ও কর্মীদের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধন নষ্ট করে দেয় সে সকল কাজ পরিহার করা সংগঠনের অগ্রগতির জন্য খুবই প্রয়োজন। নেতা সর্বদা নিজ দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করবেন এবং কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখার জন্য সচেষ্ট হবেন। সাথে সাথে কর্মীদেরকেও নেতার আস্থাশীল হওয়ার জন্য অর্পিত দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। তাহ’লে উভয়ের মাঝে সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে ও সংগঠনের অগ্রগতি সাধিত হবে। কোন অবস্থাতেই তৃতীয় পক্ষ চক্রান্ত করে উভয়ের মধ্যে যেন ফাটল সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সাংগঠনিক শৃংখলা বজায় না রাখা : বিশৃংখলভাবে কাজ করার মধ্যে সংগঠনের ক্ষতি অনিবার্য। ঊর্ধ্বতন থেকে অধঃস্তন অনুরূপ অধঃস্তন থেকে ঊর্ধ্বতন সকল ক্ষেত্রে নিয়ম-শৃংখলা (Chain of Command) মেনে কাজ না করলে সংগঠনের অগ্রগতি কোনভাবে সম্ভব নয়। তাই সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও কর্মীদের সর্বাবস্থায় সাংগঠনিক শৃংখলা মেনে চলা একান্ত কর্তব্য।
ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করা : দব্যর্থতার দায় কেউ স্বীকার করতে চায় না। এটা মানুষের স্বভাব। সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনায় সর্বদা সফলতা আশা করা ঠিক নয়। কখনো কখনো ব্যর্থতাও থাকে। একজন কর্মীর বড় সফলতা হ’ল ব্যর্থতার দায় স্বীকার করা ও এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা। আর কুরআন-হাদীছ মোতাবেক পরিচালিত সংগঠনের প্রত্যেক স্তরের নেতা-কর্মীর উচিৎ সংগঠনের অগ্রগতির স্বার্থে খালেছ নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করা। আর সফলতার দায়িত্ব আল্লাহর উপর ন্যস্ত করা। তাতে মনে কোন গ্লানি থাকে না বরং প্রশান্তি আসে।
উত্তরণের কৌশল:
পরিকল্পিত কর্মপন্থা: সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা ।
যোগ্যতানুযায়ী কাজ: জনশক্তির মান ও প্রবণতা অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা ।
নিয়মিত প্রশিক্ষণ: জনশক্তির মান বজায় রাখতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রোগ্রামের আয়োজন ।
মানসিক বন্ধন: কর্মীদের খোঁজ-খবর রাখা এবং ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক সমস্যার সমাধান করা ।
তদারকি জোরদার: কাজের ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ।
সংগঠনকে মজবুত করতে তৃণমূল বা স্থানীয় কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং যেকোনো প্রতিকূলতায় হতাশ না হয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ রোকনুজ্জামান ও শামীমা আক্তার।
মোঃ হায়দার আলী
গোদাগাড়ী,রাজশাহী।।

Leave a Reply