রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীতে নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে নগরীর সোনাদিঘির পাড়ে এক একর জমির ওপর নির্মিত নতুন শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

এর আগে তিনি শহীদ মিনার চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিললুর রহমান ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, নগরীর সোনাদীঘি মোড়ের জেলা পরিষদের জায়গায় প্রায় এক একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে স্থায়ী এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে এটি তৈরি করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু।

এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদকের স্মরণ করে রাজশাহীর মানুষ একুশের প্রথম প্রহরে নবনির্মিত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনেকেই খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে স্মরণ করেন। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে ছিল শোক, গর্ব ও আত্মমর্যাদার এক অনন্য আবহ।

এদিকে এবার প্রথমবারের মত শহীদ মিনারে ফুলে দিতে পেরে উচ্ছ্বাসিত রাজশাহীবাসী। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘এতদিন রাজশাহী কলেজে গিয়ে সাধারণ মানুষকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হতো, এতে ভোগান্তিও পোহাতে হতো। স্থায়ীভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চালু হওয়ায় এই সমস্যার সমাধান হলো এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানার জন্য এমন একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’’

বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর সর্বস্তরের পেশাজীবী ছাত্র-জনতার গৌরবময় ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাস এলাকায়। কিন্তু এই শহীদ মিনারের মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তবে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হলো রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নতুন নির্মিত শহীদ মিনারটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *