স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করে সেখানে
কার্যায়লটির ভেতরে টায়ার দিয়ে আগুন ধরিয়ে ভাঙচুর করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস, জাতীয় যুব শক্তির জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপির ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সদস্য মাসুদ রানা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব তৌহিদ আহমেদ এর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল এই ঘটনা ঘটিয়েছে ন্বলে জানা গেছে। এসময় তারা আওয়ামী লীগের চামড়া-তুলে নিবো আমরা,এ্যাকশন-এ্যাকশন ডাইরেক্ট এ্যাকশন, খুনিদের আস্তানা ভেঙে দাও-ঘুরিয়ে দাও,একটা-একটা লীগ ধর-ধইরা ধইরা জবাই কর সহ বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,এর আগেও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের তিনতলা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন জনতা। দীর্ঘদিন ধরে সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের ১০ সদস্যের একটি দল ভাঙা-পোড়া আওয়ামী লীগের কার্যালয়টিতে ঢুকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এ সময় কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতা-কর্মীরা। পরে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে রাত ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও এনসিপি নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় কার্যায়লয়ের ভেতরে টায়ার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ও ভাঙচুর করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা তারাকান্দা থানায় গিয়ে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ দল। তাই কার্যক্রম চালাতে পারবে না। উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে কার্যাক্রম শুরু করেছে দেখে আমরা সেখানে গিয়েছি। স্টিকারগুলো ছিঁড়ে আগুন দিয়েছি, দেয়াল ভেঙেছি। কার্যালয়ের গেটেও তালা দিয়েছি। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের গ্রেপ্তার করতে থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই ঘটনার পর তাদের ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ জয় তার একটি পোস্ট এনসিপির এসব নেতাকর্মীদের চ্যালেঞ্জ ছূড়ে দিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের যুূদ্ধের আহবান জানিয়ে লিখেন-তারাকান্দার এনসিপির যদি এত সক্ষমতা থাকে ডেইট ফিক্সড করুক কবে আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে চায়। দুপক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এলাকায় চরম আতঙ্কের দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তানভীর আহমেদ বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কাজ করতে হয়নি। এর আগেই ধীরে ধীরে আগুন নিভে গেছে। আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম করতে পারবে না, এখানে কোনো ফ্যাসিস্ট দাঁড়াতে পারবে না।
অপরদিকে-তারাকান্দায় আ.লীগের দলীয়কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন জড়িত না এবং ফুলপুর তারাকান্দা বিএনপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে ষড়যন্ত্র আরো হবে অপপ্রচার চলবে এমনটা দাবী করে এবিষয়ে সতর্ক থেকে জনগণের পাশে থাকার আহবান জানিয়েছেন একটি বিবৃতিতে, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি যুগ্ন আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। বিবৃতিতে তিনি দাবী করেন-আ. লীগের দলীয় কার্যালয়ে ঘটনা ঘটালো ১১ দলীয় জোটের কর্মী সমর্থকরা। কিন্তু কিছু বট আইডি মৌখিকভাবে বিএনপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি আরো জানান-১১ দলীয় জোট এমপি হওয়ার পরে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে অসংখ্য ঘটনার জন্ম দিয়েছে ফুলপুর তারাকান্দায় ঢাকুয়া ইউনিয়নে ব্যবসায়িকে দোকানপাট লুটপাট করা হয়েছে এবং বিএনপির কর্মীকে মেরে আহত করা হয়েছে, রহিমগঞ্জ বাড়ি ঘরে হামলা করা হয়েছে, আজকের তারাকান্দা সদর উপজেলায় একটি পার্টি অফিসে অগ্নি সংযোগ। যা জনগণের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফরপুর তারাকান্দায় একটি তাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে ১১ দলীয় জোটের ও কর্মী সমর্থকরা।
মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন-আমি আপনাদের পাশে দুর্দিনে ছিলাম আগামীতেও থাকবো সামনেও থাকবো ইনশাআল্লাহ্। ফুলপুর তারাকান্দার জনগণ আমার আস্থার জায়গা।

Leave a Reply