মোরেলগঞ্জে জ-লবায়ু সহনশীল কৃষি মেলা নবপল্লব প্রকল্পে কৃষকের আশার আলো

এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির, বিশেষ প্রতিনিধি:বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চা নিয়ে এক ব্যতিক্রমধর্মী মেলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেয়ার বাংলাদেশ-এর নবপল্লব প্রকল্পের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করে।
মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মৎস্য অফিসার রনজিত কুমার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইভানা বিলা ঋতু। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সাধারণ সম্পাদক শিব সজল যিশু ঢালী এবং সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মোসাম্মৎ ফরিদা বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নান্নু শেখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মো. তানভীর হোসেন, গীতা পাঠ করেন শিপল হালদার এবং বাইবেল পাঠ করেন জেমস টনি—যা উপস্থিত সবার মাঝে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
মেলায় নবপল্লব প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন সিনিয়র উপজেলা প্রজেক্ট অফিসার নাজমুল হক রেজওয়ান, সিনিয়র এমঅ্যান্ডডি অফিসার নুসরাত জাহান এবং কমিউনিটি মোবিলাইজেশন ফ্যাসিলিটেটর হিমাদ্রী রায়, রিয়াজ আহমেদ ও আফিয়া সুলতানা। এছাড়া কমিউনিটি সুপারভাইজার হিসেবে মানতারা, আঁখি, জেমস টনি মল্লিক, রুমা, রুকাইয়া খাতুন, সাব্বির হোসেন, আল আমিন ইসলাম, লুৎফুল হাকিম, মিল্টন মন্ডল, খোকন চন্দ্র মজুমদার, রানা হাওলাদার এবং ইতিকা রাণী সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
মেলায় নবপল্লব প্রকল্পের উদ্যোগে ১০টি প্রদর্শনী স্টল স্থাপন করা হয়, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষি উপকরণ হাতে-কলমে প্রদর্শন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে কৃষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা স্থানীয় হাজার হাজার কৃষক-কৃষাণীর জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মাঠে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে তারা আরও লাভজনক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *